টেক্সাসে প্রকাশ্যে পাঁচ সন্তানের জননীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, দুই বোনসহ তিন নারী গ্রেপ্তার; তদন্ত অব্যাহত
টেক্সাস প্রতিনিধি:
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে প্রকাশ্য দিবালোকে পাঁচ সন্তানের জননী ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ডেল রিও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ব্যস্ত সড়কের পাশে ওই নারীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ২১ বছর বয়সী এক নারী, তার ১৯ বছর বয়সী বোন এবং তাদের ২১ বছর বয়সী এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনের বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে কাজ করছেন।
নিহত নারীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, তিনি অত্যন্ত সহৃদয় ও পরোপকারী ছিলেন। পাঁচ সন্তানের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের প্রয়োজনেও সবসময় এগিয়ে আসতেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও পরিচিতদের গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের একজনের হাসিমুখে পুলিশের গাড়িতে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে হপকিন্স শহরের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুসহ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা, যেখানে এক বাবা তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। নিহত তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হপকিন্সের টাইলার এভিনিউ নর্থের ২০০ ব্লকে অবস্থিত একটি বাড়ির ডে-কেয়ারে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক অভিভাবক তার সন্তানকে ডে-কেয়ারে নামিয়ে দেওয়ার সময় এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান এবং আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিশুদের চোখের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে মোট সাতজন শিশু উপস্থিত ছিল। তবে নিহত শিশুটি এই সাতজনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। স্বস্তির বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারটি ছাড়া সেখানে থাকা অন্য কোনো শিশুর শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ নিজ বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। মিনিয়াপোলিসের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হপকিন্স শহরতলির এই ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার এক বক্তব্যে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই হামলাকে একটি "সংকটজনক ঘটনা" (ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমাদের হৃদয় ও প্রার্থনা হপকিন্সের মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।" তিনি ইতোমধ্যে হপকিন্সের মেয়র হ্যানলনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং এই সংকটময় মুহূর্তে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে
চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বাবার, পুলিশকে ফোন করে নিজেই জানালেন
ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: ‘বাইডেনের জন্য আমার খারাপ লাগে না, সহানুভূতির দরকার নেই’
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিডিয়ান রেন্টও বেড়ে ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ম্যানহাটনে প্রায় সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনে একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া এখন ৪ হাজার ৮৮ ডলার। এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার, দুই বেডরুমের ৮ হাজার ৫৪ ডলার এবং তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ১২ হাজার ২২৮ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্টুডিওর ভাড়া ৮ শতাংশ এবং এক বেডরুমের ভাড়া ৭ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে ১২ শতাংশ। স্টুডিও, এক বেডরুম ও দুই বেডরুমের গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে গড় ভাড়ার পাশাপাশি মিডিয়ান রেন্টের হিসাবটি ম্যানহাটনের সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাজারের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে মিডিয়ান রেন্ট ছিল ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ভাড়ার অর্ধেক এর চেয়ে বেশি এবং অর্ধেক কম। ম্যানহাটনের ভাড়া বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি আবাসনের সীমিত সরবরাহ। নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্যাকেন্সি রেট মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। সাধারণভাবে ৫ শতাংশের নিচে ভ্যাকেন্সি রেটকে বাড়িওয়ালাদের অনুকূলে থাকা বাজার হিসেবে দেখা হয়। একদিকে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে হাজার হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। বাড়িওয়ালাদের দেওয়া স্টেট রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট খালি ছিল। এটি নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার মোট অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কেন এত ইউনিট খালি রয়েছে, তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও টেন্যান্ট অ্যাডভোকেটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে না ছেড়ে খালি রাখছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের দাবি, ২০১৯ সালের রেন্ট আইন সংস্কারের পর পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নির্ধারিত ভাড়ায় আবার বাজারে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘিরেও রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক চলছে। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটের ভাড়া স্থির থাকলে বাড়িওয়ালাদের বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়াদের ওপর পড়তে পারে। তবে এই বক্তব্য মূলত রিয়েল এস্টেট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন। ভাড়া স্থগিত রাখার নীতিই ম্যানহাটনের বর্তমান রেকর্ড ভাড়ার কারণ, এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। আবাসনের ঘাটতি, কম ভ্যাকেন্সি রেট, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসনের চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহসহ একাধিক বিষয় নিউইয়র্কের রেন্টাল মার্কেটে চাপ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দ্য করকোরান গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যারি ম্যালিন বলেন, শহর ও স্টেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হাউজিং নীতি রেন্টাল হাউজিংয়ের সরবরাহ সীমিত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামদানি প্রশাসনের পিয়েদ-আ-তের কর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও রিয়েল এস্টেট খাতে আলোচনা চলছে। শহরে মূল বাসস্থানের বাইরে দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের ওপর বাড়তি কর আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর এড়াতে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ার দিকে ঝুঁকলে উচ্চমূল্যের রেন্টাল মার্কেটে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেটও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়ি বা কনডো কিনতেন, তাদের একটি অংশ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে রেন্টাল মার্কেটেই থেকে যাচ্ছেন। এতে সীমিত সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। গড় মাসিক ভাড়া ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং মিডিয়ান রেন্ট ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছানো নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর
'মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে আমাদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে'
৯ বছরের মেয়েকে হত্যা করে, লাশ লুকিয়ে রেখে ‘অপহরণের’ গল্প সাজিয়েছিলেন বাবা!
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে মিশিগানে বসবাসরত ৬৮ বছর বয়সী এক অভিবাসীর ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের আদেশ দেওয়া হলেও পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগই সেই আদেশ কার্যকর স্থগিত রেখেছিল। এখন দেশ না ছাড়ার কারণ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন তিনি। এমলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তার অসুস্থ স্ত্রীর প্রধান দেখাশোনাকারী। তার স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে ওই অভিবাসীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ২০১২ সালে ডিপোর্টেশনের আদেশ হওয়ার পরও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার রিমুভাল স্থগিত করেছিল। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান। কিন্তু চলতি বছর তাকে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এর ভিত্তিতেই তার ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়। ডেট্রয়েটের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রিম খ্রাইজাত ওই ব্যক্তির পক্ষে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের সঙ্গে তার স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের চিঠিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ওই নারী তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল এবং স্বামীই তার প্রধান পরিচর্যাকারী। তবে আইনজীবীর দাবি, আইসিই আপিলে তুলে ধরা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই জরিমানার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে, তখন পরবর্তী সময়ে সেই একই সময়ের জন্য তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা কতটা যৌক্তিক। এ ঘটনা শুধু মিশিগানের একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপের নীতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে এসব জরিমানা মওকুফ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইসিই ডিপোর্টেশন অর্ডারের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক লাখ তিন হাজারের বেশি জরিমানার নোটিশ দিয়েছে। এসব জরিমানার সম্মিলিত পরিমাণ ৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ উৎসাহিত করতে সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জরিমানা মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও আইনজীবীদের একটি অংশ এই জরিমানা নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে। তাদের অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সংবিধানের অতিরিক্ত জরিমানা নিষিদ্ধ করার বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা চলছে। মিশিগানের ওই অভিবাসীর ঘটনা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ নীতির বাস্তব প্রভাবের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের পুরোনো ডিপোর্টেশন অর্ডার রয়েছে কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এ ধরনের জরিমানার নীতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
স্কুল খোলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড, ৩৫ বছরের সংক্রমণ সর্বোচ্চ
দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত