ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বরখাস্ত হলেন মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা হ্যান্ডারসন
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাউন্স কাউন্টির শেরিফ কেনেথ হ্যান্ডারসনকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা পেশাগত অসদাচরণ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ঠিক এক দিন পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প গত শনি ও রোববার পর পর দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে শেরিফ হ্যান্ডারসনকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত জানান।
গভর্নরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার শেরিফ হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই শনিবার প্রথম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে গভর্নর কেম্প একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কারসহ দুজন অভিজ্ঞ কাউন্টি শেরিফকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠনের মাত্র এক দিন পরই রোববার গভর্নর দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটি জারি করেন। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক সুপারিশের ভিত্তিতেই শেরিফ কেনেথ হ্যান্ডারসনকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আইন অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন বাড়ানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, শেরিফ হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৫ সালেও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা, শারীরিক নির্যাতন এবং পদের শপথ ভঙ্গের মতো গুরুতর অপরাধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে গভর্নর কেম্প জানিয়েছেন, এবারের নতুন অভিযোগগুলো আগের অপরাধের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
জর্জিয়ার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শেরিফ হ্যান্ডারসনের বরখাস্তের মেয়াদ চলাকালীন কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এই তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা স্থায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সরকারি কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ গ্রহণকারী পিতামাতার মৃত্যুর পর পারিবারিক বাড়ি রক্ষা করা অনেক উত্তরাধিকারীর জন্যই এক জটিল ও স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মেডিকেইডের ‘এস্টেট-রিকভারি’ বা সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতির কারণে বাড়িটির ওপর সরকারি লিয়েন বা দেনার দাবি তৈরি হয়। তবে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ, বিশেষ ছাড় ও এস্টেট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছরের কম হলে কিংবা সন্তান যদি অন্ধ বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হন, তবে মেডিকেইড সেই বাড়ি বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে না। এছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি পিতামাতাকে সেবাদানকারী হিসেবে অন্তত দুই বছর ওই বাড়িতে অবস্থান করেন, তিনিও বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন। এর বাইরেও উত্তরাধিকারীরা ‘আনডিউ হার্ডশিপ ওয়েভার’ বা চরম আর্থিক সংকটের অজুহাতে বিশেষ মওকুফের আবেদন করতে পারেন। রাজ্য মেডিকেইড সংস্থার নোটিশ পাওয়ার সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই আবেদনটি করতে হয়। যদি প্রমাণ করা যায় যে, বাড়িটি নিয়ে নিলে উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বেন বা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হবেন, তবে কর্তৃপক্ষ ছাড় দিতে পারে। জাতীয় অধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস ইন এজিং’-এর মতে, মেডিকেইডের এই সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতি মূলত স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ একটি পারিবারিক বসতভিটাই প্রায়শ তাদের একমাত্র সম্বল। আইনি পরামর্শ ও সম্পদ রক্ষার সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেকেই নিজেদের বাড়ি হারিয়ে আবাসন সংকটে পড়েন, যা প্রজন্মগত সম্পদ গড়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়। এদিকে উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির বন্ধকি ঋণ এবং হোমওনার্স ইনস্যুরেন্স বা গৃহবীমা নিয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পিতামাতার মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এস্টেটের এক্সিকিউটর বা প্রতিনিধি নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরাধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে চায় না। তবে বীমা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পিতামাতার মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে অবহিত করা উচিত। অন্যথায় অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হলে বীমা কোম্পানি দাবি নাকচ করে দিতে পারে। ফ্লোরিডার উইল ও ট্রাস্ট বিষয়ক আইনজীবী বার্ট স্কোভিলের মতে, গৃহবীমা পলিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মালিকের নামে স্থানান্তরিত হয় না। তাই আইনি জটিলতা ও বাড়ি ফাঁকা থাকার কারণে বীমা সুবিধা বাতিল হওয়া এড়াতে দ্রুত পলিসি হালনাগাদ করা এবং একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া অপরিহার্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে সারাজীবনের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্নের বাড়ি, এক মাস পরই ভাঙার নোটিশ পেলেন দম্পতি
নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধায় ৩ লাখ ডলারে তৈরি হচ্ছে অজুর স্থান
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি কর (প্রোপার্টি ট্যাক্স) ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং রাজ্যটি এখন এই চরম সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত বছর কর সংকট চরমে পৌঁছানোর পর রাজ্য সরকার কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও এর ভয়াবহ পরিণতি এখনও স্পষ্ট। জুন মাসে কুইয়াহোগা কাউন্টি রেকর্ড ১৮ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া সম্পত্তি করের ঋণ বিক্রি করেছে, অন্যদিকে মাহোনিং কাউন্টির অডিটর ২৪ হাজারের বেশি বকেয়া পার্সেলের তালিকা প্রকাশ করেছেন। বাড়িঘরের ক্রমবর্ধমান মূল্য, পুনর্মূল্যায়ন এবং অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি রাজ্যের বাড়ির মালিকদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত বসন্তে মাহোনিং কাউন্টিতে কর খেলাপির হার ১৮ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে বকেয়া করের পরিমাণ ছিল ৭০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ইয়াংস্টাউনের কিছু এলাকায় প্রতি তিনজন বাড়ির মালিকের মধ্যে একজন কর দিতে পিছিয়ে পড়েছেন। কুইয়াহোগা কাউন্টিতে পুনর্মূল্যায়নের পর বাড়ির দাম গড়ে ৩২ শতাংশ লাফিয়ে বাড়ে, যার ফলে বকেয়া ব্যালেন্স এক ধাক্কায় ৬০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। কাউন্টি অডিটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ওহাইওর সভাপতি ম্যাট নোলান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী বছরগুলোতে বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি কর আরও ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্তমানে সম্পত্তি করের বোঝার দিক থেকে ওহাইও পুরো যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম স্থানে রয়েছে, যা নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়েও বেশি; অথচ পারিবারিক গড় আয়ের দিক থেকে রাজ্যটির অবস্থান ৪০তম। ওহাইওর বিভিন্ন শহর যেমন কলম্বাস ও ক্লিভল্যান্ডে ব্যাপক উন্নয়ন এবং আবাসন খাতে বুম বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই মূলত করের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। রাজ্যটিতে প্রতি ছয় বছর পরপর সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন করা হয়, যার ফলে কোভিড-১৯ মহামারির পর অনেকেই তাদের প্রথম পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি হয়েছেন। এই কাঠামোগত কারণেই করের বিল বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইনপ্রণেতারা এই হতাশার কথা স্বীকার করলেও কোনো কার্যকর সমাধান এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে একটি তৃণমূল আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যারা সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। ‘সিটিজেন্স ফর প্রোপার্টি ট্যাক্স রিফর্ম’ নামক সংগঠনের অন্যতম আয়োজক বেথ ব্ল্যাকমার জানান, যখন তিনি নিজের বাড়ির পুনর্মূল্যায়ন বিলটি হাতে পেয়েছিলেন, তখন তা দেখে রীতিমতো মেঝেতে বসে পড়েছিলেন। তার বাড়ির মূল্যায়ন প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি আরও জানান, অনেক বাড়ির মালিকের বর্তমান করের পরিমাণ তাদের মূল বন্ধকি ঋণের কিস্তির চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। বর্তমানে ‘এক্স দ্য ট্যাক্স’ (Ax the Tax) নামের একটি প্রচারণার মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য আইনসভায় করের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হয়েছে এবং গভর্নর মাইক ডিওয়াইন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। তবে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হ্যাশট্যাগ:
জর্জিয়ার ডিকেটরে ৬৫ বছর বয়সী বাবাকে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের ছেলে
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে ওয়ালমার্টের টমেটো সুপ প্রত্যাহার
ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যস্ত মহাসড়কগুলোর ক্লান্তিকর যানজট এড়িয়ে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করার জন্য দারুণ এক সুযোগ করে দিচ্ছে অ্যামট্রাকের ‘ক্যাপিটল করিডোর’ ট্রেন সার্ভিস। ওবার্ন থেকে শুরু হয়ে সান হোসে পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৭০ মাইলের এই রেলরুটটি মাত্র তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে যাত্রীদের ঐতিহাসিক গোল্ড কান্ট্রি, সবুজ কৃষিজমি এবং প্রশান্ত জলসীমার মধ্য দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে পৌঁছে দেয়। মোট ১৮টি স্টেশনকে সংযুক্ত করা এই রুটটি সম্প্রতি পর্যটকদের কাছে একটি দারুণ ও তুলনামূলক কম আলোচিত রোমাঞ্চকর ভ্রমণপথ হিসেবে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই নয়নাভিরাম রেলযাত্রার সূচনা হয় ঐতিহাসিক গোল্ড রাশ ও মনোরম হাইকিং ট্রেইলের জন্য পরিচিত ওবার্ন শহর থেকে। এরপর রকলিন ও রোজভিল পেরিয়ে ট্রেনটি ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রামেন্টোতে প্রবেশ করে, যেখানে যাত্রীরা নেমে ঐতিহাসিক স্টেট ক্যাপিটল ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পান। সেখান থেকে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যাত্রীরা জানালার পাশে বসে উপভোগ করতে পারেন বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মনোরম দৃশ্য। এরপর ট্রেনটি কারকিনেজ প্রণালী ছুঁয়ে মার্টিনেজ ও রিচমন্ডের উপকূলরেখা ঘেঁষে এগিয়ে যায়, যা সান পাবলো উপসাগরের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখের সামনে মেলে ধরে। স্থানীয়দের কাছে এই রুটটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৫ অর্থবছরে ক্যাপিটল করিডোরে প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা থেকে রেল কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। রুটটির পশ্চিম অংশে ট্রেনটি বিখ্যাত বাইকবান্ধব শহর ডেভিস, বার্কলে এবং ওকল্যান্ডের জ্যাক লন্ডন স্কয়ারের মতো প্রাণবন্ত ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় যাত্রা বিরতি দেয়। এরপর দক্ষিণ বে অঞ্চলের সান হোসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামের কাছাকাছি একটি স্টপেজে থামে, যা সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিনাইনার্সের ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের যানজট এড়ানোর মোক্ষম সুযোগ দেয়। যাত্রার শেষ প্রান্ত সান হোসেতে রয়েছে ঐতিহাসিক জাপানটাউন, বিখ্যাত রোজিক্রুশিয়ান ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম এবং সান্তা ক্রুজ পর্বতমালার হাতছানি। যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ক্যাপিটল করিডোরের বগিগুলোতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। প্রশস্ত কোচ সিট, কাজের জন্য টেবিল, বৈদ্যুতিক প্লাগ পয়েন্ট ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের পাশাপাশি এতে সার্বক্ষণিক বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা ও খাবারের জন্য ক্যাফে কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দ্রুতগতির এই ট্রেন ভ্রমণ কেবল দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকেই সহজ করেনি, বরং ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস ও প্রকৃতির আসল রূপ দেখার এক দুর্দান্ত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার