আমেরিকা

ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বরখাস্ত হলেন মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা হ্যান্ডারসন

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৯:৩৯
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শেরিফ কেন হেনডারসন | ছবি: টাউনস কাউন্টি শেরিফ অফিস
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শেরিফ কেন হেনডারসন | ছবি: টাউনস কাউন্টি শেরিফ অফিস

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাউন্স কাউন্টির শেরিফ কেনেথ হ্যান্ডারসনকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা পেশাগত অসদাচরণ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ঠিক এক দিন পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প গত শনি ও রোববার পর পর দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে শেরিফ হ্যান্ডারসনকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত জানান।

 

গভর্নরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার শেরিফ হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই শনিবার প্রথম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে গভর্নর কেম্প একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কারসহ দুজন অভিজ্ঞ কাউন্টি শেরিফকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

তদন্ত কমিটি গঠনের মাত্র এক দিন পরই রোববার গভর্নর দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটি জারি করেন। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক সুপারিশের ভিত্তিতেই শেরিফ কেনেথ হ্যান্ডারসনকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আইন অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন বাড়ানো হতে পারে।

 

উল্লেখ্য, শেরিফ হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৫ সালেও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা, শারীরিক নির্যাতন এবং পদের শপথ ভঙ্গের মতো গুরুতর অপরাধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে গভর্নর কেম্প জানিয়েছেন, এবারের নতুন অভিযোগগুলো আগের অপরাধের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।

 

জর্জিয়ার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শেরিফ হ্যান্ডারসনের বরখাস্তের মেয়াদ চলাকালীন কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এই তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই হ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা স্থায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে) এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখিকা ই. জিন ক্যারল (ডানে) | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ই. জিন ক্যারল মামলায় ট্রাম্পের আপিল নিল না সুপ্রিম কোর্ট, বহাল থাকল ৫০ লাখ ডলারের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাংবাদিক ও লেখক ই. জিন ক্যারলের দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকছে এবং এই মামলায় ট্রাম্পের আপিলের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেল।   মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালে। ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌনভাবে নির্যাতন করেন। ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগটি অস্বীকার করে আসছেন এবং প্রকাশ্যে ক্যারলের বক্তব্যকে অসত্য বলে দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগও যুক্ত করেন।   ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন এবং মানহানির জন্য দেওয়ানি মামলায় দায়ী বলে রায় দেয়। একই সঙ্গে ক্যারলকে মোট ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি কোনো ফৌজদারি মামলা ছিল না; বরং একটি দেওয়ানি মামলা, যেখানে প্রমাণের মানদণ্ড ফৌজদারি মামলার তুলনায় ভিন্ন।   রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, বিচার চলাকালে অন্য কয়েকজন নারীর অভিযোগসংক্রান্ত সাক্ষ্য এবং অতীতের কিছু প্রমাণ গ্রহণের ফলে বিচারকাজ পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, এসব কারণে রায় বাতিল করে নতুন করে বিচার হওয়া উচিত। তবে নিম্ন আদালত সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আগের রায় বহাল রাখে।   এরপর ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আপিলের আবেদন করেন। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশে কোনো বিচারপতি প্রকাশ্যে ভিন্নমতও জানাননি। ফলে ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল।   এদিকে ই. জিন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেকটি পৃথক মানহানি মামলায়ও জয়ী হয়েছেন। ২০২৪ সালে ওই মামলায় জুরি ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেয়। সেই রায়কে ঘিরে ট্রাম্পের আইনি লড়াই এখনও চলমান রয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখছেন আইন বিশ্লেষকরা। কারণ, দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল গ্রহণ না করায় ২০২৩ সালের দেওয়ানি রায় বহাল থাকল। তবে ট্রাম্প বরাবরই ক্যারলের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তার আইনজীবীরা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১০:৪৬
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায় আজ | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের দুই গুরুত্বপূর্ণ নীতির ভাগ্য আজ সুপ্রিম কোর্টে, নজরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

পর্যটকদের সুরক্ষায় বন্ধ প্লাম আইল্যান্ড সমুদ্রসৈকত | ছবি: সিবিএস

নদীতে কোটি কোটি গ্যালন বর্জ্য, বন্ধ হয়ে গেল আমেরিকার জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত!

বিশ্বকাপের ফ্যান জোন সান পেদ্রো স্কয়ারে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ১ | ছবি: গেটি ইমেজেস

ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্যান জোনে গুলিতে নিহত ১, আশঙ্কাজনক আরও ১; নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

অনলাইন প্রোপার্টি জালিয়াতির শিকার জেরেলিন চার্লসটন | ছবি: সিবিএস নিউজ
অনলাইনে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে ৩০ লাখ ডলার জালিয়াতি, ফাঁদ পাতছে এআই!

যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টা এলাকায় অনলাইনে ভাড়ার জন্য ভুয়া বাসার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এই প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। অলাভজনক সংস্থা 'বেটার বিজনেস ব্যুরো' (BBB) সতর্ক করে জানিয়েছে, গত এক বছরে শুধু এই এলাকাতেই আবাসন সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রাহকরা ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি খুইয়েছেন।   প্রতারণার শিকার হওয়া জেরেলিন চার্লসটন নামের এক নারী জানান, কলেজ পার্ক এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখেন। প্রতারকরা তাকে একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি কোড দেয়, যা দিয়ে তিনি নিজেই লক খুলে পুরো বাসাটি ঘুরে দেখেন। সবকিছু আসল মনে হওয়ায় তিনি চালানের মাধ্যমে ৩,২০০ ডলার পরিশোধ করেন। কিন্তু মালামাল নিয়ে ওঠার দিন যখন তিনি সেই এজেন্টের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন দেখেন তার নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। টাকা ও বাসা দুটোই হারিয়ে বর্তমানে তিনি গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।   বেটার বিজনেস ব্যুরোর কর্মকর্তা জশুয়া হেয়ারস জানান, স্ক্যামাররা মূলত আসল আবাসন ব্যবসার ওয়েবসাইট থেকে ছবি এবং তথ্য চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। তারা বাসা বিক্রির জন্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানির দেওয়া ডিজিটাল এক্সেস কোডগুলো কৌশলে হাতিয়ে নেয়। এরপর সেই কোড সাধারণ ভাড়াটিয়াদের দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে এবং অগ্রিম ডিপোজিট নিয়ে উধাও হয়ে যায়।   তিনি আরও জানান, প্রতারকরা এখন ফোন কলে কাস্টমারদের সাথে কথা বলার জন্য এবং দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য জাল ডকুমেন্ট তৈরি করতে 'এআই এজেন্ট' বা রোবটিক কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ, যারা সস্তায় বাসা খুঁজছেন, তারাই এই চক্রের প্রধান টার্গেট হচ্ছেন। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে যেকোনো লেনদেনের আগে সরকারি ট্যাক্স রেকর্ডের মাধ্যমে বাসার আসল মালিকানা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৯:৫০
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শেরিফ কেন হেনডারসন | ছবি: টাউনস কাউন্টি শেরিফ অফিস

ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বরখাস্ত হলেন মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা হ্যান্ডারসন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ব্যক্তি’ বললেন বাইডেন, তুললেন অহমিকা ও দুর্নীতির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ ১৯ বছর বয়সী মার্লি কিনির মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত চলছে

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রেস্তোরাঁয় গাছ ভেঙে বাবার মৃত্যু, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে পরিবারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে একটি বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় গাছ ভেঙে চাপা পড়ে চার সন্তানের জনক কার্ক ফয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে অস্টিনের গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ রেস্তোরাঁর খোলা প্যাটিওতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী কার্ক ফয়েল। এ সময় এলাকায় ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি বড় পেকান গাছ গোড়া থেকে ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   মামলায় গাছটিকে ‘উইডো মেকার’ বা প্রাণঘাতী গাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও গাছটি পাশের একটি সম্পত্তিতে ছিল, এর বড় অংশ গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর খোলা বসার জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল।   পরিবারের অভিযোগ, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এবং পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অ্যাসপেন হ্যাটারের মালিকরা গাছটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জানতেন অথবা যথাযথ তদারকি করলে জানতে পারতেন। কিন্তু তারা গাছটি পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ বা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেননি। একই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্যও কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।   মামলায় গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পচন, রোগ এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছিল। সাধারণ পরিদর্শনেই এর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। তবুও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি।   ট্রাভিস কাউন্টির ডেপুটি মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাছের বড় ডালের আঘাতে সৃষ্ট গুরুতর আঘাতেই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর দাবি, দুর্ঘটনার রাতে গাছটিতে বজ্রপাত হয়েছিল এবং সেটিই গাছ ভেঙে পড়ার কারণ।   তবে ফয়েলের পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বজ্রপাত নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়েলের মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর গাছটি যে সম্পত্তিতে ছিল, সেই সম্পত্তির মালিকরা ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের একটি ডিড অব ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন সম্পন্ন করেন।   পরিবারের দাবি, বিবাদীরা চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। তাই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু, পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং আইনি ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ১০ লাখ ডলার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ ও অ্যাসপেন হ্যাটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৫:৪৯
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প পুরোপুরি ব্যর্থ: নিউজার্সির গভর্নর

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দুর্গা টেম্পলের পিকনিক যেন প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলা

ছবি সংগৃহীত

টিপিএসধারী অভিবাসীদের স্থায়ী মর্যাদা না পেলে দেশে ফিরতে হবে: ট্রাম্প প্রশাসন

0 Comments