সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জর্জিয়া

আটলান্টার শিক্ষাকর্মী হাসান জিহাদ ইবন কারিম
ক্যানসার ও গাড়ির আগুন থেকে বেঁচেও রোলার কোস্টারে প্রাণ  গেল জর্জিয়ার শিক্ষক জিহাদের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে মারা গেছেন আটলান্টার শিক্ষাকর্মী হাসান জিহাদ ইবন কারিম। সোমবার, ১২ অক্টোবর বিকেলে ‘গোলায়াথ’ রাইডে এ ঘটনা ঘটে। ৪২ বছর বয়সী কারিম এর আগে ক্যানসার, গুরুতর কোভিড এবং মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের এক বন্ধু। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে।    কব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, বিকেল প্রায় ৩টা ৫৮ মিনিটে পার্কে দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসাররা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা রাইডের নিচে কারিমকে অচেতন ও শ্বাসপ্রশ্বাসহীন অবস্থায় পান। প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মীদের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাইড থেকে ছিটকে পড়ে অন্য কয়েকজন যাত্রীর গায়ে আঘাত করেন। এরপর রাইডের নিচে পড়ে যান।  স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসবি টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনায় আহত আরও চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর রাইডটি থামিয়ে অন্য যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কী কারণে কারিম ছিটকে পড়েছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন।    পরিবারের বন্ধু এলিসিয়া ডে ডব্লিউএসবি টিভিকে বলেন, কারিম জীবনে একাধিক কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে এসেছিলেন। তিনি ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়েছিলেন এবং গুরুতর কোভিড থেকেও সেরে উঠেছিলেন। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে কারিম ও তাঁর মেয়ে গাড়িতে আগুন লাগার একটি ঘটনা থেকে বেঁচে যান। তাঁর আগের অসুস্থতা ও দুর্ঘটনার এসব তথ্য পরিবারের বন্ধুর বক্তব্য থেকে জানা গেছে।  ডে জানান, এমনভাবে কারিমকে হারিয়ে পরিবার ও বন্ধুরা গভীরভাবে শোকাহত। কীভাবে ঘটনাটি ঘটল, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্পষ্ট উত্তর চান তাঁরা। আটলান্টা পাবলিক স্কুলসও তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। কারিম ওয়েসলি ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।    কব কাউন্টি পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিটের পাশাপাশি জর্জিয়ার ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড সেফটি ফায়ার কমিশনারের দপ্তরও ঘটনাটি তদন্ত করছে। সিক্স ফ্ল্যাগস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অতিথি ও কর্মীদের সহায়তা দিচ্ছে। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ‘সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া’ পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে ঝুলে ছিলেন বাবা, ঘটনার বর্ণনা দিলেন সহযাত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টারসংক্রান্ত ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার, ১২ অক্টোবর বিকেলে আটলান্টার কাছে পার্কটিতে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক ব্যক্তি চলন্ত রোলার কোস্টারের আসন থেকে ছিটকে পড়েন। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি।    কব কাউন্টি পুলিশের বিবৃতির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসবি টিভি জানিয়েছে, বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পার্কে দায়িত্বরত পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। ঘটনার পরিস্থিতি তদন্ত করছে পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট।    প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে গলায়াথ রোলার কোস্টারের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে ওই রাইড থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোগান কনর নামের এক যাত্রী জানান, তিনি বাগ্‌দত্তার সঙ্গে রাইডে ছিলেন এবং একজনকে আসন থেকে উঠে বাতাসে ছিটকে যেতে দেখেন।    ঘটনার পর রাইডটি থেমে গেলে অন্য যাত্রীরা আটকা পড়েন। জরুরি সেবাকর্মীরা তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন। ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গলায়াথের ট্র্যাকে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে পুলিশ ও জরুরি সেবার বড় দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।    সিক্স ফ্ল্যাগস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ছয়টি পার্কের নয়টি রোলার কোস্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তদন্তে সহযোগিতা করছে এবং ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দর্শনার্থী ও কর্মীদের সহায়তা দিচ্ছে। রাইডগুলো আবার কবে চালু হবে, তা সংশ্লিষ্ট ঘোষণায় জানানো হয়নি।    কব কাউন্টি বোর্ড অব কমিশনারসের চেয়ারওম্যান লিসা কিউপিড এক বিবৃতিতে জানান, নিহত ব্যক্তির স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ পার্ক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। নিশ্চিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও তথ্য প্রকাশ করবে বলেও জানান তিনি।    নিহতের পরিচয় এবং আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থাকলেও আসন থেকে পড়ে যাওয়ার কারণ বা রাইডের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ায় পাঁচজনের মৃ ত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডগলাস শহরের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাত ১১টা ৯ মিনিটের দিকে টাচটন উডস এলাকার রবিন লেনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পায়। পরে তাঁদের সবার মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। শনিবার, ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে গু লি চলার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ওই বাড়িতে যান। সেখানে পাঁচজনকে গু লি বিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় জানানো হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডগলাস নাউয়ের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি প্রথমে অন্য চারজনকে গু লি করেন এবং পরে নিজেকেও গু লি করেন। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই তথ্যকে প্রাথমিক প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের নাম ও বয়সও জানানো হয়নি। কফি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি তারা সমবেদনা জানাচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের জন্যও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই কঠিন ছিল। ডগলাস শহরটি জর্জিয়ার কফি কাউন্টিতে অবস্থিত। শহরটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের প্রায় ১১৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৫ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৮৬৪। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে টানা তিন সপ্তাহান্তে একাধিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বন্দুক হা মলা কিংবা একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে ভিয়েনা শহরে একটি হোমকামিং উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণে দুজনের মৃ ত্যু হয় এবং আরও ৩৫ জন আহত হন। ডগলাস থেকে প্রায় ৮০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ভিয়েনার ওই ঘটনায় একটি আবাসিক এলাকার চার ব্লকজুড়ে চলা পার্টিতে ভোররাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে গু লি শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার ম্যাকন শহরের ক্যারোলিন ক্রেটন পার্কে ১৮তম জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে গু লি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন কিশোর আহত হয়। ওই ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকেও প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুধু জর্জিয়াতেই নয়, শুক্রবার রাতে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরেও একটি বন্দুক হা মলায় নয়জনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় হা মলাকারীকে বাদ দিয়ে অন্তত চারজন গু লি বিদ্ধ হলে সেটিকে গণগুলিবর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। আহত ও মৃ ত—উভয় ধরনের ভুক্তভোগীই এই সংজ্ঞার আওতায় পড়েন। ডগলাসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃ ত্যু হওয়ায় এটি একাধিক প্রাণহানির গুরুতর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডগলাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। শনিবার আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হলেও প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের পরিচয়, তাঁদের বয়স, ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কফি কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। তদন্তকারীদের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়ির ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, নিহতদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কী ছিল এবং গু লি বর্ষণের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, তা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য হ ত্যা কাণ্ডের পর আ ত্ম হ ত্যার যে বিবরণ এসেছে, সেটিও তদন্তের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আরও তথ্য জানাতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন ইসাইয়াস, আটলান্টায় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা
জর্জিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন ইসাইয়াস, আটলান্টায় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ইসাইয়াস। এর প্রভাবে জর্জিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত, প্রবল দমকা বাতাস, আকস্মিক বন্যা এবং টর্নেডোর তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের আটলান্টা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে উত্তর ও মধ্য জর্জিয়ার আবহাওয়া রাতের দিকে চরম আকার ধারণ করতে পারে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে রবিবারের শুরুর দিক পর্যন্ত কয়েক দফায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে শহরাঞ্চলের নিচু এলাকা, দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা থাকা সড়ক এবং নদী ও খালের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।   আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, উত্তর ও মধ্য জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল বা তারও বেশি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। প্রবল এই বাতাসের কারণে গাছপালা ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।   যদিও হারিকেনের কেন্দ্র সরাসরি আটলান্টায় আঘাত হানার পূর্বাভাস নেই, তবে উপকূলে আছড়ে পড়ার পর এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া ঝড়ের সঙ্গে টর্নেডো সৃষ্টির প্রবল ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। টর্নেডোর সতর্কতা জারি হলে বাসিন্দাদের দ্রুত জানালার কাছ থেকে সরে ভবনের ভেতরের নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধ রাস্তা দিয়ে গাড়ি না চালিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারেরও নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে আটলান্টা ও এর আশপাশে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে অনেকের কেনাকাটা, সামাজিক অনুষ্ঠান বা বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলোতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   জরুরি প্রয়োজনে মুঠোফোন চার্জ করে রাখা, টর্চলাইট প্রস্তুত রাখা এবং স্থানীয় জরুরি সতর্কতাগুলোর (অ্যালার্ট) দিকে নজর রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামার কিছু এলাকাতেও ঝড়ের সম্ভাব্য আঘাতের কারণে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্যের ওপর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হ্যাশট্যাগ:

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের, ছবি ঘিরে বিস্ময়

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিং পেঙ্গুইনের ভিড়ে বিরল একটি হলুদ পেঙ্গুইনের ছবি তুলেছিলেন বেলজিয়ামের বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তোলা ছবিগুলো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের কালো, সাদা ও ধূসর পালকের পরিবর্তে পাখিটির শরীরে ছিল উজ্জ্বল হলুদ ও ক্রিম রঙের পালক। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের রঞ্জক পদার্থের অস্বাভাবিকতার কারণে এমন বিরল রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।   ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামসের নিজস্ব বিবরণ এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দুই মাসের একটি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর দল দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের স্যালিসবারি প্লেন এলাকায় পৌঁছায়। দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চল কিং পেঙ্গুইনের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।   স্যালিসবারি প্লেনের প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক কিং পেঙ্গুইন বসবাস করে। সেখানে পেঙ্গুইনের পাশাপাশি হাজার হাজার ফার সিল ও এলিফ্যান্ট সিলেরও দেখা মেলে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রবল স্রোত এবং বন্যপ্রাণীর ঘন উপস্থিতির কারণে এলাকাটিতে নৌকা ভেড়ানো ও নিরাপদে চলাচল করা বেশ কঠিন।   অ্যাডামস জানিয়েছেন, অভিযানের দিন তাঁরা একটি ছোট নৌকায় করে উপকূলে পৌঁছান। নৌকা থেকে খাবার, তাঁবু ও নিরাপত্তাসামগ্রী নামানোর সময় হঠাৎ পানির মধ্যে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙের একটি পেঙ্গুইন দেখতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। কাছাকাছি আসার পর বুঝতে পারেন, পাখিটির শরীরে সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের পরিচিত কালো পালক নেই।   বিরল পেঙ্গুইনটিকে দেখতে পেয়েই ক্যামেরা হাতে নেন অ্যাডামস। সৌভাগ্যক্রমে পাখিটি তাঁদের কাছেই তীরে উঠে আসে। কিছুক্ষণ সৈকতে ঘোরাফেরা করার পর অন্য পেঙ্গুইনদের দলে মিশে যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হন তিনি।   পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অ্যাডামস জানান, পেঙ্গুইনটির ছবি তোলার জন্য তিনি মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সময় পেয়েছিলেন। বিরল প্রাণীটি কাছে চলে আসায় কোনো বাধা ছাড়াই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে অস্বাভাবিক রঙের একটি পাখিকে আলাদাভাবে দেখতে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।   সাধারণত কিং পেঙ্গুইনের মাথা ও পিঠের বড় অংশ কালো বা ধূসর রঙের হয়। শরীরের সামনের অংশ সাদা এবং মাথা ও ঘাড়ের কাছে উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অ্যাডামসের দেখা পেঙ্গুইনটির কালো অংশগুলো ছিল হলুদাভ কিংবা ক্রিম রঙের। ফলে অন্যান্য পেঙ্গুইনের ভিড়ে সেটি সহজেই চোখে পড়ছিল।   বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীর শরীরে বিভিন্ন রঙ তৈরির পেছনে একাধিক ধরনের রঞ্জক পদার্থ কাজ করে। এর মধ্যে মেলানিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রাণীর পালক, ত্বক ও লোমের কালো এবং বাদামি রঙ তৈরিতে মেলানিনের ভূমিকা রয়েছে। কোনো জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন বা বণ্টনে সমস্যা হলে প্রাণীর স্বাভাবিক রঙ বদলে যেতে পারে।   বিরল হলুদ পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রেও এমন একটি পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক গবেষক এটিকে লিউসিজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিউসিজম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরের কিছু অংশে বা পুরো শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জকের উপস্থিতি কমে যায়। এর ফলে প্রাণীর গায়ের রঙ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে, সাদা কিংবা অন্য রঙের দেখা যেতে পারে।   তবে হলুদ পেঙ্গুইনটির রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে। লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ডি বোয়েরসমা পাখিটির রঙকে লিউসিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কেভিন ম্যাকগ্রো জানান, পাখিটির পালকে মেলানিনের উপস্থিতি ঠিক কতটা রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।   বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিং পেঙ্গুইনের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হলুদ রঞ্জক পদার্থ থাকে। বিরল পেঙ্গুইনটির শরীরে কালো রঙের জন্য দায়ী মেলানিনের ঘাটতি হওয়ায় সেই হলুদ রঙ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ছবি দেখে জিনগত পরিবর্তনের সঠিক ধরন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   এ ধরনের অস্বাভাবিক রঙ প্রাণীর বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত পেঙ্গুইনের গায়ের কালো ও সাদা রঙ পানির মধ্যে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে। ওপর থেকে দেখলে পিঠের গাঢ় রঙ গভীর পানির সঙ্গে মিশে যায়। আবার নিচ থেকে দেখলে সাদা পেট পানির ওপরের আলোর সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে। এতে শিকারি প্রাণীর চোখ এড়ানো তুলনামূলক সহজ হয়।   অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে রঙের পেঙ্গুইন অন্যদের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে শিকারি প্রাণীর কাছে ধরা পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে পাখির স্বাভাবিক রঙ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অ্যাডামসের তোলা ওই পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রে এসব কারণে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   বিরল রঙের পেঙ্গুইন এর আগেও বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ হলুদাভ চেহারার কিং পেঙ্গুইনের ছবি অত্যন্ত বিরল। ২০১৯ সালে সাউথ জর্জিয়া দ্বীপেই অন্য একটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে রঙের কিং পেঙ্গুইনের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অ্যাডামসের দেখা পাখিটিই পৃথিবীর প্রথম অস্বাভাবিক রঙের পেঙ্গুইন, এমন দাবি সঠিক নয়।   ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ভেস অ্যাডামস ছবিগুলো প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনায় সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন এবং লাইভ সায়েন্স পেঙ্গুইনটির ব্যতিক্রমী রঙের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   অ্যাডামসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি পেঙ্গুইন আবার দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে তাঁর উল্লেখ করা লাখে বা মিলিয়নে একটি দেখার সম্ভাবনা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক হিসাব নয়, বরং বিরল অভিজ্ঞতাটি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনুমান।   ২০১৯ সালে ধারণ করা এবং ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া হলুদ পেঙ্গুইনটির ছবিগুলো এখনো বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক রঙের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই প্রজাতির বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি পাখির এমন ব্যতিক্রমী চেহারা প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাণীর শরীরে জিনগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমাদ মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল ১১ অক্টোবর, সবাইকে আমন্ত্রণ

জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মাঠে এসে ফাইনাল উপভোগ করার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্বে প্রথম ম্যাচে বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে এএফসি ও মিডটাউন টার্ফ টাইগার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিকেল সাড়ে ৫টায় খেলবে রেবেলস এফসি ও বিডি ইউনাইটেড। এই দুই ম্যাচের বিজয়ী দল সন্ধ্যা ৭টায় ফাইনালে মুখোমুখি হবে। ফলে দিনব্যাপী ফুটবল আয়োজনের মধ্য দিয়ে লিলবার্নে জমবে বাংলাদেশি কমিউনিটির মিলনমেলা।   আয়োজকদের মতে, এই ধরনের ক্রীড়া আয়োজন শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে তরুণ ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, তাদের মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা এবং বিভিন্ন পরিবারের ও কমিউনিটির মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে এসব আয়োজন। মাঠে একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যেও কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ে।   সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্রীড়াভিত্তিক আয়োজন ঘিরে মানুষের আগ্রহও দেখা গেছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত সাকিব আলী স্মৃতি মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলাগুলো উপভোগ করেন, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং আয়োজন নিয়ে নিজেদের মতামতও শেয়ার করেন। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে তৈরি হওয়া এই অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে হওয়ার আগ্রহের বিষয়টিও সামনে এনেছে।   ফুটবলের এই আয়োজন সেই কমিউনিটি সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বন্ধুত্ব তৈরি করা এবং কমিউনিটির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে এই টুর্নামেন্টে।   টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, লিলবার্নের হারমনি গ্রোভ পার্কে। ঠিকানা ১১৯ হারমনি গ্রোভ রোড, লিলবার্ন, জর্জিয়া। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শকদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। দর্শকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে আয়োজকদের প্রচারপত্রে জানানো হয়েছে।   জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার এই আয়োজন তাই শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবেও এই আয়োজনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
আটলান্টায় আবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় ডিসেম্বরে আবারও কনস্যুলার সেবা, জানালেন সমিতির সভাপতি আরিফিন বাবুল

জর্জিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য আবারও কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সেবার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। জর্জিয়া বা পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত যেসব বাংলাদেশি কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহী, তাদের নির্ধারিত তারিখ দুটি ক্যালেন্ডারে রেখে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   আরিফিন বাবুল আমেরিকা বাংলাকে জানান, কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত দিনে যথাসময়ে সেবাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসার পাশাপাশি আয়োজকদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের সহযোগিতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।   এবারের আয়োজনে শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরিফিন বাবুল জানান, কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।     কনস্যুলার সেবা অনুষ্ঠিত হবে 3150 Holcomb Bridge Road, 1st Floor, Norcross, GA 30071 ঠিকানায়। আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দিন সেখানে মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সেবা দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা এই আয়োজনে পাওয়া যাবে না। এনআইডি সেবার জন্য সংশ্লিষ্টদের মায়ামিতে অবস্থিত কনস্যুলেটে যেতে হবে।   জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডা থেকেও বাংলাদেশিরা এই কনস্যুলার সেবা নিতে পারবেন বলে জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। তিনি বলেন, এসব অঙ্গরাজ্য থেকে যারা আটলান্টায় এসে কনস্যুলার সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্য ভালোভাবে দেখে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেবাকেন্দ্রে আসার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার সেবার বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। তাই সেবা নিতে আগ্রহীদের এখন থেকেই ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ নিজেদের ক্যালেন্ডারে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা গ্রহণ করলে পুরো কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।   কনস্যুলার সেবা আয়োজনসংক্রান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুলের সঙ্গে 404-552-3241 নম্বরে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান শান্তর সঙ্গে 404-542-0717 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জর্জিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিদের নির্ধারিত দুই দিন মনে রাখার এবং কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের নাচ-গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অপারেশনের সময় টিকটকে নাচের ভিডিও, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

অপারেশন টেবিলে রোগী, আর পাশে চিকিৎসক কখনো গান গাইছেন, কখনো নাচছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের এমন একাধিক ভিডিও ২০১৮ সালে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, নাচতে নাচতে অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, এই দাবিটি সঠিক নয়। তাঁর এক রোগী স্থায়ীভাবে গুরুতর মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন, আর অন্য এক রোগীর গুরুতর জটিলতার পর জর্জিয়া কম্পোজিট মেডিকেল বোর্ড তাঁর মেডিকেল লাইসেন্স জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করে।    উইন্ডেল ডেভিস বুটে জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকার লিলবার্নে কসমেটিক সার্জারি করতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি বোর্ড সার্টিফায়েড প্লাস্টিক সার্জন ছিলেন না। আটলান্টা জার্নাল কনস্টিটিউশনের অনুসন্ধানে বলা হয়, তিনি আমেরিকান বোর্ড অব ডার্মাটোলজির মাধ্যমে ডার্মাটোলজিতে বোর্ড সার্টিফায়েড ছিলেন।    ঘটনাটি আলোচনায় আসে তাঁর ক্লিনিক থেকে প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওর কারণে। ভিডিওগুলোতে তাঁকে অস্ত্রোপচার চলাকালে গান গাইতে, নাচতে এবং ক্যামেরার সামনে অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। কিছু ভিডিওতে রোগীর শরীরও দৃশ্যমান ছিল। এগুলো টিকটকের জন্য তৈরি হয়েছিল, এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওগুলো তাঁর ক্লিনিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারণার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।    সবচেয়ে আলোচিত রোগীদের একজন ছিলেন আইসিলমা কর্নেলিয়াস। কসমেটিক সার্জারির পর তাঁর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে সার্বক্ষণিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। চিকিৎসক বুটে অবশ্য আদালতের নথিতে দাবি করেছিলেন, রোগীর জটিলতা তাঁর চিকিৎসার ত্রুটির কারণে হয়নি।    এই ঘটনাসহ একাধিক রোগীর অভিযোগ সামনে আসার পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা, নিরাপত্তা মান না মানা এবং রোগীর গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন সাবেক রোগী মামলা করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ অস্ত্রোপচারের পর বিকৃতি, সংক্রমণ বা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ তোলেন।    তবে জর্জিয়া মেডিকেল বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ আসে ২০১৮ সালের মে মাসের শেষ দিকে আরেক রোগীর গুরুতর জটিলতার পর। ওই নারী বুটের কাছে লাইপোসাকশন, ব্রেস্ট অগমেন্টেশন এবং ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট করিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শ্বাসকষ্ট এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর একটি ফুসফুস ধসে পড়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অ্যানিমিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন।    এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন জর্জিয়া কম্পোজিট মেডিকেল বোর্ড বুটের মেডিকেল লাইসেন্স জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করে। বোর্ডের আদেশে বলা হয়, তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য হুমকি তৈরি করছে। বোর্ড আরও জানায়, সর্বশেষ রোগীর চিকিৎসা ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা মান পূরণ করেনি এবং এর আগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে।    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর লাইসেন্স কেবল অপারেশনের সময় নাচার কারণে স্থগিত করা হয়নি। বোর্ডের সিদ্ধান্তে মূলত রোগীদের চিকিৎসা, গুরুতর জটিলতা এবং একাধিক ঘটনায় চিকিৎসার ন্যূনতম মান বজায় না রাখার অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। নাচ ও গান করার ভিডিওগুলো অবশ্য তাঁর পেশাগত আচরণ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ব্লক পার্টিতে নির্বিচার গোলাগুলি, নিহত ২, আহত ৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ব্লক পার্টিতে নির্বিচার গোলাগুলি, নিহত ২, আহত ৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি ব্লক পার্টিতে ভয়াবহ ও নির্বিচার গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। দুলি কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, আটলান্টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দক্ষিণের ভিয়েনা শহরের পাইন স্ট্রিটে রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি উৎসবমুখর জমায়েত মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে।   দুলি কাউন্টির শেরিফ ক্রেইগ পিভি নিহত দুজনকে শনাক্ত করেছেন। তারা হলেন ২১ বছর বয়সী জ্যাকুভিয়ন জ্যাকসন এবং ২৩ বছর বয়সী ম্যাকক্যালেব জ্যাকসন। এছাড়া আহত ৩৫ জনের বয়স ১৪ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল থেকে শুরু করে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।   শেরিফ পিভি জানান, সপ্তাহান্তের এই ব্লক পার্টিতে প্রায় এক হাজার মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই গুলির শব্দে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   শেরিফ আরও জানান, গোলাগুলি শুরু হওয়ার সময় ব্লক পার্টির দুই প্রান্তেই পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পরপরই আতঙ্কিত জনতার ভিড় ঠেলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হতাহতদের কাছে পৌঁছান, যদিও সে সময় আশেপাশে আরও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।   তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে কী কারণ ছিল বা এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। অপরাধীদের ধরতে এবং ঘটনার পেছনের কারণ জানতে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নতুন নীতিমালার প্রভাবে জর্জিয়ায় হাজারো বৈধ অভিবাসীর মেডিকেইড স্বাস্থ্যসুবিধা হারানোর বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা নতুন নীতিতে

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় নতুন নীতির প্রভাবে বৈধভাবে বসবাসরত হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনগুলো ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য রাজ্যগুলোর কেন্দ্রীয় সহায়তায় পরিবর্তন আনছে। এর প্রভাব যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী, নির্যাতন থেকে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তি এবং যৌন পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ওপরও পড়তে পারে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন ব্যবস্থার অধীনে রাজ্যগুলো মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের জন্য আগের মতো পূর্ণ সমপরিমাণ কেন্দ্রীয় অর্থ পাবে না। জর্জিয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিটি ‘পিচকেয়ার ফর কিডস’ নামে পরিচিত।   জর্জিয়া হেলথ ইনিশিয়েটিভের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই নীতির কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে রাজ্যটিতে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ মেডিকেইড সুবিধা হারাতে পারেন। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ হাজারের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারেন। এসব হিসাব দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্য প্রভাবের পূর্বাভাস হিসেবে দেওয়া হয়েছে।   পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আটলান্টার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মার্সি কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথরিন ললার উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যবিমাহীন এবং প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নন এমন মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। ললারের মতে, মানুষের স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে তারা কম চিকিৎসা নেন। এর ফলে মানুষ কম সুস্থ থাকতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ব্যয়ও বাড়তে পারে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ মেডিকেইডকে দুর্বল না করে এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য কর্মসূচিটিকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করবে। প্রশাসন বলছে, গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাই এর লক্ষ্য।   ট্রাম্প প্রশাসন আরও বলেছে, আইনের মাধ্যমে মেডিকেইড ব্যবস্থায় অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বাদ দেওয়া, কাজের শর্ত কার্যকর করা এবং প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাও নীতির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীরা এই পরিবর্তনের কারণে মেডিকেইড সুবিধা হারাবেন না। ফলে নতুন নীতির প্রভাব সব অভিবাসীর ওপর একইভাবে পড়বে না। কারা সুবিধা হারাতে পারেন, তা তাদের অভিবাসন পরিস্থিতি এবং মেডিকেইড সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   ক্যাথরিন ললার বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের কভারেজের অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, চিকিৎসা নেওয়ার সময় বা জরুরি অবস্থায় গিয়ে যদি কেউ জানতে পারেন যে তার স্বাস্থ্যবিমা আর কার্যকর নেই, তাহলে সেটি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরিবর্তনের বিষয়ে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।   মার্সি কেয়ার স্বাস্থ্যবিমাহীন, আংশিকভাবে বিমাকৃত এবং গৃহহীন মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আসা অনেক মানুষও রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা, চোখের চিকিৎসা, মনোরোগ চিকিৎসা, আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা, শিশু চিকিৎসা এবং ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা দেয়।   ললার জানান, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন, তাদের জন্যও আটলান্টায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাকরি হারানোর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারিয়েছেন, তারাও মার্সি কেয়ারের সেবা নিতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   মার্সি কেয়ার সিস্টার্স অব মার্সির ঐতিহ্য অনুসরণ করে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। সিস্টার্স অব মার্সি ১৮৮০ সালে আটলান্টার প্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা পরে এমোরি সেন্ট জোসেফস হাসপাতাল নামে পরিচিত হয়। বর্তমানে মার্সি কেয়ারের ক্লিনিক ও প্রধান কার্যালয় আটলান্টার ডেকাটুর স্ট্রিটে অবস্থিত।   ললার আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে পরিবর্তন মানুষের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই চাপ মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আটলান্টায় মানুষকে স্বাগত জানানোর যে ঐতিহ্য রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা নীতিতেও সেটির প্রতিফলন থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার জন্য বিশেষ কনস্যুলার সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে আটলান্টায় আসছে কনস্যুলার সেবা, সুবিধা পেতে পারেন আশপাশের অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিরা

জর্জিয়াসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর। আগামী ডিসেম্বরে আটলান্টায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। এতে শুধু জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাই নন, আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে আটলান্টায় আসা প্রবাসীরাও সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এই কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটির ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা ছাড়া অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আটলান্টায় পাওয়া যাবে। এনআইডি-সংক্রান্ত সেবার জন্য প্রবাসীদের মিয়ামি কনস্যুলেটে যেতে হবে।   আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির জন্য মিয়ামি পর্যন্ত গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে। সে কারণে আটলান্টায় কনস্যুলার সেবা আয়োজন হলে জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরাও এর সুবিধা নিতে পারবেন। তবে কনস্যুলার সেবার স্থান এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া প্রেসিডেন্ট আরেফিন বাবুল জানিয়েছেন, স্থান ও বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে তা যথা সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।   তিনি আরও জানান, আগামী ১৯শে ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে এবং অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থান, সময় ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। জর্জিয়া ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখটি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
ঢাকা মেডিকেল থেকে আটলান্টা - তিন দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবায় ডা. আমাতু রাব্বি
ঢাকা মেডিকেল থেকে আটলান্টা - তিন দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবায় ডা. আমাতু রাব্বি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক ডা. আমাতু রাব্বি। আটলান্টায় ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত তিনি বর্তমানে সেন্টার ফর মেডিসিন এলএলসিতে রোগী দেখছেন।   এমোরি হেলথকেয়ার ও নর্থসাইড হাসপাতালের চিকিৎসক প্রোফাইল অনুযায়ী, ডা. রাব্বি ১৯৮৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক ডাউনটাউন হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেন ১৯৯৪ সালে।   এমোরি হেলথকেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তার চিকিৎসা পেশার যাত্রা শুরু হয়। সেই হিসাবে দেশটিতে তার চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা তিন দশকেরও বেশি। তিনি আমেরিকান বোর্ড অব ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক।   আটলান্টাভিত্তিক সেন্টার ফর মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ডা. রাব্বি ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রোফাইলে তার হাসপাতাল অ্যাফিলিয়েশন হিসেবে নর্থসাইড হাসপাতাল ও সেন্ট জোসেফ’স হাসপাতালের নাম উল্লেখ রয়েছে।   নর্থসাইড হাসপাতালের নিজস্ব প্রোভাইডার ডিরেক্টরিতেও ডা. রাব্বিকে ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে নর্থসাইড হাসপাতাল আটলান্টা, চেরোকি, ডুলুথ, ফোরসাইথ ও গুইনেটের সঙ্গে তার অ্যাফিলিয়েশন দেখানো হয়েছে।   এমোরি হেলথকেয়ারের বর্তমান প্রোভাইডার প্রোফাইলেও ডা. রাব্বি ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে তালিকাভুক্ত। সেখানে তার বর্তমান প্র্যাকটিস লোকেশন হিসেবে আটলান্টার সেন্টার ফর মেডিসিন এবং অ্যাফিলিয়েশন হিসেবে এমোরি হেলথকেয়ার নেটওয়ার্কের উল্লেখ রয়েছে।   চিকিৎসক ও হাসপাতালসংক্রান্ত বিভিন্ন পাবলিক ডিরেক্টরিতে ডা. রাব্বির দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য থাকলেও, তার বর্তমান অফিসিয়াল প্রোফাইলগুলোতে মূল স্পেশালিটি হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনকেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এন্ডোক্রাইনোলজি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজমে তার কাজের উল্লেখ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ডিরেক্টরিতে থাকলেও বর্তমান স্পেশালিটি বর্ণনায় ইন্টারনাল মেডিসিনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।   ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশিক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি এবং পরে আটলান্টায় দীর্ঘ চিকিৎসা পেশা - ডা. আমাতু রাব্বির কর্মজীবন এখন তিন দশকের বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে তিনি আটলান্টায় ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
শ্রমজীবী মায়ের মেয়ে নোয়াখালির নাবিলাহ, এখন জর্জিয়ার সিনেটে গড়লেন ইতিহাস
শ্রমজীবী মায়ের মেয়ে নোয়াখালির নাবিলাহ, এখন জর্জিয়ার সিনেটে গড়লেন ইতিহাস

কংগ্রেসের নির্বাচনে প্রথম চেষ্টা সফল হয়নি। তবে দুই বছর পর জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ ইসলাম পার্কস। ২০২২ সালে ডিস্ট্রিক্ট ৭ থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট ছিলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী। তাঁর বেড়ে ওঠা বাংলাদেশ থেকে আসা এক শ্রমজীবী অভিবাসী পরিবারে।    নাবিলাহ নরক্রস ও লরেন্সভিলে বড় হয়েছেন। বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় কাজ করে সংসার চালাতে দেখেছেন তিনি। জর্জিয়া সিনেটের সরকারি জীবনীতে বলা হয়েছে, একাধিক চাকরি করেও তাঁর পরিবারকে অনেক সময় দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সংগ্রাম করতে হয়েছে।    পরিবারের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে প্রভাব ফেলেছে। জর্জিয়া উইন লিস্টের প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, নাবিলাহ হাইস্কুলে পড়ার সময় তাঁর মা ওয়্যারহাউজে কাজ করতে গিয়ে আহত হন। পরিবারের চিকিৎসাসংক্রান্ত সংকট কাছ থেকে দেখার পর হেলথ কেয়ার সহজলভ্য করা ও মেডিকেইড সম্প্রসারণের পক্ষে কাজ শুরু করেন তিনি।    গুইনেট কাউন্টির পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে নাবিলাহ জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় ডিগ্রি অর্জন করেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।    ২০২০ সালে জর্জিয়ার সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি তিনি। এরপর ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যের সপ্তম সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের আসন ও স্টেট সিনেটের আসন দুটি আলাদা নির্বাচনী পদ।    তবে নাবিলাহ বর্তমানে স্টেট সিনেটর নন। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নির্বাচনী প্রচারে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ সিনেট থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর প্রতিনিধিত্ব করা এলাকার মধ্যে ডুলুথ ও পিচট্রি কর্নার্স ছিল।    পরে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির রানঅফে অংশ নেন নাবিলাহ। ১৬ জুনের সেই নির্বাচনে তাঁকে হারিয়ে দলের মনোনয়ন পান জশ ম্যাকলরিন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ২০২২ সালের ঐতিহাসিক সিনেট জয়, যার পর তিনি অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আরও বড় পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু
তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে নতুন সকার দল ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই দলটির অন্যতম লক্ষ্য।   দলের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন জানান, বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স মূলত তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিভাবান তরুণদের জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের একসঙ্গে মাঠে খেলার সুযোগ হলে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি।   আতাহার হোসাইন বলেন, নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে চান তারা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ফুটবল চর্চা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যও রয়েছে দলের।   আগামী দিনে স্থানীয় বিভিন্ন সকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও অন্যান্য দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। যারা দলের হয়ে খেলতে আগ্রহী, তাদের ম্যানেজার আতাহার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উদ্যোক্তারা মনে করেন, খেলাধুলা শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কমিউনিটির মানুষকে একসঙ্গে আসার এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করারও একটি কার্যকর মাধ্যম। পরিবার, বন্ধু ও কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে দলটিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সকার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা।   বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন দলের নতুন যাত্রার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একসঙ্গে নিয়ে আটলান্টায় একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করাই দলের অন্যতম লক্ষ্য।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার বাড়ির লনে হরিণ-খরগোশ, রাস্তায় রাজহাঁস-ময়ূর; প্রকৃতির এমন দৃশ্যে মুগ্ধ প্রবাসীরা
জর্জিয়ার বাড়ির লনে হরিণ-খরগোশ, রাস্তায় রাজহাঁস-ময়ূর; প্রকৃতির এমন দৃশ্যে মুগ্ধ প্রবাসীরা

জর্জিয়ার শহর ও শহরতলির অনেক আবাসিক এলাকায় বাড়ির লনে হরিণ বা খরগোশ, আর আশপাশের রাস্তা ও জলাশয়ের কাছে রাজহাঁস কিংবা ময়ূরের দেখা পাওয়া অনেকের কাছেই এখন পরিচিত দৃশ্য। বিশেষ করে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগে নেইবোহুডের সবুজ লনে হরিণের দলকে ঘাস খেতে দেখা যায়। ব্যস্ত প্রবাসজীবনের মধ্যে হঠাৎ এমন দৃশ্য চোখে পড়লে কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, মেট্রো আটলান্টার শহর ও শহরতলিতে মানুষের বসতি এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল অনেক জায়গায় পাশাপাশি অবস্থান করছে। এ কারণে মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর দেখা হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। সংস্থাটির আরবান ওয়াইল্ডলাইফ প্রোগ্রাম মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন কাউন্টিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিয়ে সচেতনতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে।   বাংলাদেশ থেকে মেয়ের কাছে বেড়াতে আসা নাজমুল হোসেন জর্জিয়ায় এসে এমন দৃশ্য দেখে বিশেষভাবে আনন্দিত। বিকেলে বাড়ি থেকে হাঁটতে বের হলে আশপাশের নেইবোহুডে হরিণের দল দেখতে পান তিনি। কখনো লনের ওপর দাঁড়িয়ে ঘাস খাচ্ছে, কখনো লতা-পাতায় মুখ দিচ্ছে, আবার কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে এসব দৃশ্য দেখা তার কাছে প্রবাসজীবনের অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।   নাজমুল হোসেনের কাছে বিষয়টি বাংলাদেশের জীবনের সঙ্গে তুলনা করার মতো না। তার অভিজ্ঞতায়, বাংলাদেশে বসতবাড়ির আশপাশে এভাবে অবাধে হরিণ ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য একবারেই অসম্ভব। অথচ জর্জিয়ায় বাড়ির লনেই হরিণের দেখা মিলছে। কখনো খরগোশ, কখনো রাজহাঁস, আবার গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ রাস্তা পার হতে দেখা যাচ্ছে ময়ূর। তার কাছে এসব দৃশ্য নতুনত্বের পাশাপাশি প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে মন ভালো করে দেওয়ার মতো একটি অভিজ্ঞতা।   শুধু হরিণ বা খরগোশ নয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, পার্ক ও জলাশয়ের আশপাশেও নানা ধরনের পাখি ও প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়। জর্জিয়া ডিএনআর জানিয়েছে, বিশেষ করে কানাডিয়ান রাজহাঁস শহরতলির পুকুর, পার্ক, অফিস কমপ্লেক্সসহ মানুষের বসতির কাছাকাছি বিভিন্ন পরিবেশে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। ফলে এসব প্রাণীর সঙ্গে মানুষের দেখা হওয়াও অনেক এলাকায় স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠেছে।   তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে জর্জিয়া ডিএনআর। প্রাণীদের খাবার না দেওয়া এবং তাদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা না দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। বিশেষ করে ছোট হরিণ, খরগোশ বা অন্য কোনো প্রাণীকে একা দেখে বাড়িতে নিয়ে আসা উচিত নয়। ডিএনআরের মতে, অনেক সময় মা প্রাণী কাছাকাছিই থাকে।   নাজমুল হোসেনের মতো অনেক প্রবাসীর কাছে তাই জর্জিয়ার এমন দৃশ্য প্রবাসজীবনের ছোট ছোট আনন্দের অংশ হয়ে উঠেছে। বাড়ির লনে হরিণের দল, রাস্তার পাশে খরগোশ বা রাজহাঁস, কিংবা গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া একটি ময়ূর কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও ব্যস্ত জীবনে এনে দেয় স্বস্তি। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে এসব দৃশ্য ভালো উপভোগ্য মনে হয় অনেকের কাছে। জর্জিয়ার প্রকৃতির এই কাছাকাছি থাকা তাই প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে যোগ করছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান
জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান, আইনজীবী হিসেবে শপথ

জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা। নাওয়ারের মায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন পোস্টের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাকে ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।   নাওয়ারের মা তার পোস্টে জানান, গত সপ্তাহে মেয়ে তাদের জানায় যে সে জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর এই সপ্তাহে পরিবারের সদস্যরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে দেখেন। এর মধ্য দিয়ে আইনজীবী হিসেবে নাওয়ারের পেশাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।   মেয়ের এই অর্জনকে পরিবারের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তার মা বলেন, আইনজীবী হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নাওয়ারকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ সেই পথ পেরিয়ে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিতে দেখা বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।   পোস্টে তিনি আরও জানান, মেয়ের আইন পড়া এবং একদিন আইনজীবী হয়ে ওঠা ছিল বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। তবে নাওয়ার সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে পরিণত করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি নাওয়ারের জীবনের আরও অনেক অর্জনের কেবল শুরু।   নাওয়ারের বাবা নাহিদুল হক খান সাহেল জর্জিয়া তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ এবং তিনি জর্জিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক। রাজনৈতিক ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত নাহিদুল হক খান সাহেল। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম পরিচিত সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।   ২০২৫ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানার ৩৯তম সম্মেলনের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাহিদুল হক খান সাহেল।   নাওয়ারের সাফল্যের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিভিন্ন মন্তব্যে নাওয়ারের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি তার বাবা-মাকেও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। একজন বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণীর আইন পেশায় প্রবেশের এই অর্জনকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের জন্য আনন্দ ও গর্বের একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।   জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাওয়ার খান এখন আইন পেশায় তার নতুন যাত্রা শুরু করলেন। পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের এই মুহূর্তে নাওয়ারের সাফল্যে আনন্দিত তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির শুভকামনাও।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ৩০ দিনের জন্য রাজ্যের জ্বালানি কর স্থগিত করেছেন গভর্নর ব্রায়ান কেম্প। ছবি: সংগৃহীত
গ্যাসের দাম বাড়তেই জর্জিয়াবাসীর পাশে সরকার, ৩০ দিনের জন্য স্থগিত গ্যাস ট্যাক্স

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ৩০ দিনের জন্য রাজ্যের জ্বালানি কর স্থগিত করেছেন গভর্নর ব্রায়ান কেম্প। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর স্থগিত কার্যকর হয়েছে এবং ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তা বহাল থাকার কথা।   জর্জিয়ায় বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলে রাজ্যের মোটর জ্বালানি আবগারি কর ৩৩ দশমিক ৩ সেন্ট এবং ডিজেলে ৩৭ দশমিক ৩ সেন্ট। এই কর স্থগিতের ফলে ওই সময়ের মধ্যে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে রাজ্য পর্যায়ের এই আবগারি কর আদায় বন্ধ থাকবে। তবে সব পাম্পে একই সময়ে বা পুরো করের সমপরিমাণ দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   গভর্নরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জর্জিয়ায় নিয়মিত পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৯ ডলার এবং ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৪ ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবার, ব্যবসা ও কৃষকদের ওপর ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   কর স্থগিতের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর রাজ্যের নির্ধারিত ওজনসীমাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমতে পারে এবং মুদি পণ্যসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপর পরিবহন ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে।   তবে কর স্থগিতের ঘোষণা কার্যকর হলেও জর্জিয়ার প্রতিটি জ্বালানি স্টেশনে সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাবে না। কারণ রাজ্যে জ্বালানি কর বিতরণ পর্যায়ে আদায় করা হয়। নতুন সরবরাহ স্টেশনে পৌঁছানোর পর করের পরিবর্তনের প্রভাব খুচরা দামে দেখা যেতে পারে। তাই কোথাও কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমতে পারে, আবার কিছু স্টেশনে পরিবর্তন আসতে আরও সময় লাগতে পারে।   এ ছাড়া বাজারদরের অন্যান্য পরিবর্তনের কারণেও কর স্থগিতের পুরো সুবিধা পাম্পের দামে সরাসরি দেখা নাও যেতে পারে। জ্বালানির পাইকারি দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ একই সময়ে বাড়া বা কমার কারণে খুচরা দামে পরিবর্তনের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।   গভর্নর কেম্পের নির্বাহী আদেশে জরুরি অবস্থার মেয়াদে বাণিজ্যিক যানবাহনের ওজনসীমা স্থগিত করার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানো। রাজ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর প্রভাব মুদি পণ্যসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন পণ্যের সরবরাহ ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।   জর্জিয়ায় জ্বালানি কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘটনা এ বছর নতুন নয়। রাজ্য সরকার এর আগেও ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মোটর জ্বালানি কর আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগের স্থগিতাদেশগুলোও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর ছিল এবং সেগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর আদায় আবার শুরু হয়েছিল।   বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের স্থগিতাদেশ ২৯ অক্টোবর শেষ হবে। এরপর নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ বা আইনগত সিদ্ধান্ত না হলে রাজ্যের মোটর জ্বালানি আবগারি কর আবার কার্যকর হবে। ফলে আপাতত জর্জিয়ার চালকদের জন্য এটি ৩০ দিনের সাময়িক কর-স্বস্তি, স্থায়ী কর প্রত্যাহার নয়।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার কলেজ পার্কের সেই সুপার ৮ হোটেল, যেখানে শি শু পা চা রের ঘটনায় ১৬৪ মিলিয়ন ডলারের রায় হয়েছে
১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে পা চা রের মামলায় হোটেল মালিককে ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দিতে নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি হোটেলে শি শু পা চা রের মামলায় ১৬৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল জুরির সদস্যরা। মামলায় হোটেলটির মালিক প্রতিষ্ঠান লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই সময় মাত্র ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। ২০২০ সালে তাকে পা চা রকারীরা কলেজ পার্কের ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের সুপার ৮ হোটেলে নিয়ে যায়। ২০২০ ও ২০২১ সালে তাকে একাধিকবার ওই হোটেলে রাখা হয়।   মামলায় ভুক্তভোগীকে পরিচয় গোপন রাখতে জে.আর. নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আদালতে জানান, এক পর্যায়ে পা চা রকারীদের কাছ থেকে পালানোর জন্য হোটেলের এক কর্মীর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তার অভিযোগ, ওই কর্মী তাকে সহায়তা করেননি এবং হোটেলের ফোন ব্যবহার করতেও দেননি।   মামলার শুনানিতে সাবেক এক হাউসকিপারও সাক্ষ্য দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেলে শি শু পা চা রের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন লক্ষণ কর্মীদের নজরে আসত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কর্মী পা চা রকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পুলিশের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করতেন।   ফেডারেল জুরি লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে মোট ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার জন্য দায়ী করেন। এর মধ্যে ৪৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ১২০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ। জুরিরা প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করে রায়ে পৌঁছান।   মামলাটি ফেডারেল ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথোরাইজেশন অ্যাক্টের আওতায় করা হয়েছিল। এই আইনে পা চা রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানত বা জানা উচিত ছিল এবং সেখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে—এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মা ম লা করার সুযোগ রয়েছে।   এই হোটেলকে ঘিরে আরও কয়েকটি একই ধরনের মা ম লা বিচারাধীন রয়েছে বলে ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন। এর আগে জর্জিয়ার ডিকাটারের একটি হোটেলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পা চা রের ঘটনায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি জুরি রায় হয়েছিল।   ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের ওই সুপার ৮ হোটেলটি বর্তমানে নতুন মালিকানায় রয়েছে। লিংকন ব্যানকর্পের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে থাকা এলাকাতেও মানব পা চা র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে হোটেল ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পা চা রের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার আলফারেটা শহরে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় এক আরব কমিউনিটি। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ার আলফারেটায় গড়ে উঠেছে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ আরব কমিউনিটি

কিছু শহর তাদের সেরা গল্পগুলো লুকিয়ে রাখে সাধারণ বিপণিবিতানের আড়ালে। আমি হয়তো এটি পুরোপুরি এড়িয়েই যেতাম। গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য থেমেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা সেখানেই কাটিয়ে দিলাম। জর্জিয়ার আর দশটা সাধারণ পার্কিং লটের মতোই দেখতে একটি জায়গা থেকে ভেসে আসছিল গ্রিল করা মাংসের সুবাস। সাইনবোর্ডগুলোতে ইংরেজি ও আরবি ভাষার মিশ্রণ চোখে পড়ার মতো।   বেকারিগুলোতে ওভেন থেকে বের করা গরম রুটি বিক্রি হচ্ছিল। পাশের টেবিলে নানা ভাষায় চলছিল আড্ডা। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত সাবলীল, যেন এটি অন্য যেকোনো সাধারণ দিনের মতোই। জর্জিয়ার একটি শান্ত রাস্তার পাশে এমন কিছু খুঁজে পাব, তা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। দুপুরের খাবার অর্ডার করে শেষ পর্যন্ত তিন ঘণ্টা পর এক ব্যাগ পেস্ট্রি এবং মনে একগাদা নতুন প্রশ্ন নিয়ে সেখান থেকে ফিরলাম। বাইরে থেকে জায়গাটি যেমনই লাগুক না কেন, এর ভেতরের ব্যাপ্তি ও খাবারের স্বাদ যে কাউকে মুগ্ধ করবে।   এই শহরের পরিসংখ্যানগুলো বেশ চমকপ্রদ। এখানকার প্রায় ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের আরব হিসেবে পরিচয় দেন, যেখানে পুরো অঙ্গরাজ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই পার্থক্য মোটেও ছোট নয়। এর অর্থ হলো, জর্জিয়ার গড়ের চেয়ে এখানে আরবদের ঘনত্ব প্রায় সাত গুণ বেশি। ৩০০০৯ জিপ কোডের দিকে তাকালে এই সংখ্যা আরও বাড়ে। সেখানকার প্রায় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ মানুষ আরব ঐতিহ্যের অনুসারী বলে জানিয়েছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ হার। শুধু সংখ্যা দিয়ে কোনো জায়গার আসল অনুভূতি বোঝানো যায় না, তবে মুদির দোকানে কেন তিন ধরনের তাহিনি পাওয়া যায়, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়।   সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে প্রায় ৬৬ হাজার ৮৫৫ জন মানুষের বসবাস। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। বৈচিত্র্যের দিক দিয়েও শহরটি পিছিয়ে নেই। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এশিয়ান, ১১ দশমিক ২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হিস্পানিক। সব মিলিয়ে এই শহরতলি পুরোনো কোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি উত্তর ফুলটন কাউন্টিতে অবস্থিত, যা মেট্রো আটলান্টার অংশ এবং শহরটির নাম আলফারেটা।   জর্জিয়ায় প্রায় ৮০ হাজার আরব আমেরিকানের বসবাস। পীচ ও চিনাবাদামের জন্য পরিচিত একটি অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বেশ বড় একটি সংখ্যা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আরব আটলান্টা এবং এর আশপাশের শহরতলিতে বসবাস করেন। বিশেষ করে উত্তরের শহরতলিগুলোতে এদের বড় একটি অংশ থাকেন। মেট্রো এলাকার অংশ হওয়ার কারণে এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আরব আমেরিকান জনসংখ্যার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।   প্রযুক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পেশাদাররা এখানে আসছেন। এর ফলে এখানে কেবল জনসংখ্যাই বাড়েনি, বরং বেকারির দোকান, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার এবং সপ্তাহান্তের আড্ডার জায়গাও গড়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের কথা উঠলে প্রথমেই আসে লেবানন ও মিসরের নাম। ঐতিহাসিকভাবে জর্জিয়ার আরব আমেরিকান কমিউনিটির বড় অংশই এসেছেন এই দুই দেশ থেকে। এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর মেনুতে লেবানিজ মেজে এবং মিসরীয় ঘরোয়া খাবারের প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তবে জর্জিয়ার এই কমিউনিটিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষেরাও রয়েছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব রান্নার ধরন এবং উৎসবগুলো এখানে নিয়ে এসেছেন। ভাষার ক্ষেত্রেও একই বৈচিত্র্য দেখা যায়। কায়রো, বৈরুত এবং রামাল্লার উপভাষাগুলো একই দোকানে শোনা যায়। নতুন প্রজন্ম এই সবগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। শিশুরা স্কুলে ইংরেজিতে এবং বাড়িতে আরবিতে কথা বলে।   হামজাহ ইসলামিক সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নীরবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করে। এখানে আরবি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের মাতৃভাষা ধরে রাখতে পারে।   গ্রিন অ্যাপল একাডেমি এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ফুলটনের সঙ্গে যুক্ত। একাডেমিটি ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য শিশু যত্ন এবং শিক্ষামূলক পরিষেবা প্রদান করে। এর কার্যক্রমে সাধারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার একটি চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। শিশুরা স্কুলের মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষাও গ্রহণ করে।   প্রার্থনার জায়গাগুলো কেবল উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাউথইস্ট ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার পার্শ্ববর্তী মিল্টন এলাকায় অবস্থিত হলেও এটি বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের সেবা করে। দৈনন্দিন প্রার্থনার পাশাপাশি বিয়ে, ছুটির দিন এবং সামাজিক আহারের মতো বড় আয়োজনগুলোও এখানে হয়ে থাকে। বিশেষ করে রমজান মাসে এখানে মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। নতুন বাসিন্দারা সাধারণত এখানেই তাদের প্রাথমিক সংযোগ গড়ে তোলেন।   খাবারের কথায় এলে প্রথমেই আসে ডেলবার মিডল ইস্টার্নের নাম। ৪১২০ ওল্ড মিল্টন পার্কওয়েতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি ইরানি রান্নার স্বাদ দিয়ে থাকে। পারস্যের রান্না অত্যন্ত নিখুঁত হয়, যা অনেকেরই ধারণার বাইরে। বিশেষ করে তাদের ভাত রান্নার কৌশল একটি ভালো রান্নাঘরকে সাধারণের চেয়ে আলাদা করে। জেরুজালেম বেকারি অ্যান্ড গ্রিল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাজা মধ্যপ্রাচ্যের রুটি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া বাকলাভার মতো নানা ধরনের মিষ্টি খাবারও পাওয়া যায় এখানে।   বিজোরিয়া হাউস অব হামাস নামের আরেকটি রেস্তোরাঁ আলফারেটার মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের চাহিদা মেটায়। এটি সাধারণ দিনগুলোতে খাবার খাওয়ার জন্য বেশ জনপ্রিয়। হামাস, ফালাফেল এবং বিভিন্ন র‍্যাপ বা বাটি খাবার দুপুরের জন্য দারুণ মানানসই। দামও বেশ হাতের নাগালে থাকে।   খাবার সবসময় সংস্কৃতির মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে। একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া অনেক বড় ব্যাখ্যার চেয়েও বেশি কাজ করে। আলফারেটার এই আরব কমিউনিটি কেবল তাদের খাবারই নয়, তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে জর্জিয়ার বুকে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ায় প্রায় ৫ হাজার গাড়ি ঋণগ্রহীতার জন্য আসছে আর্থিক স্বস্তি
৬৯৪ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা, হাজারো গাড়ি ঋণগ্রহীতার জন্য আসছে বড় আর্থিক স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষ গাড়ির ঋণ থেকে আর্থিক স্বস্তি পেতে পারেন। ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স করপোরেশনের সঙ্গে ৪১টি অঙ্গরাজ্যের করা ৬৯৪ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় জর্জিয়ার গ্রাহকদের জন্য নগদ অর্থ প্রদান ও গাড়ি ঋণের কিছু অংশ মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে।   জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার জানিয়েছেন, এই সমঝোতায় জর্জিয়াও অংশ নিয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির গ্রাহকদের জন্য ২৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ ও ঋণ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সব গ্রাহক এই সুবিধা পাবেন না।   এই সমঝোতার পেছনে রয়েছে গাড়ির ঋণ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ। অভিযোগ ছিল, ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স এমন কিছু গ্রাহককে গাড়ির ঋণ দিয়েছিল, যাদের ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই জানত না বা যাদের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সমঝোতায় গ্রাহকদের তথ্য দেওয়ার পদ্ধতি, গাড়ি বিক্রেতাদের ওপর নজরদারি এবং ভোক্তা সুরক্ষার আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স জানিয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়ম স্বীকার না করেই তারা এই সমঝোতায় পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে চলা বিভিন্ন মামলা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয়গুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই চুক্তি করা হয়েছে।   কারা এই সুবিধা পাবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স জানিয়েছে, তাদের সক্রিয় হিসাবের ৩ শতাংশেরও কম এই সমঝোতার আওতায় ঋণ মওকুফের জন্য যোগ্য হবে। অর্থাৎ অধিকাংশ গ্রাহক কোনো ধরনের ঋণ ছাড় পাবেন না এবং তাদের হিসাবেও কোনো পরিবর্তন হবে না।   যোগ্য গ্রাহকদের সঙ্গে ক্রেডিট অ্যাকসেপ্টেন্স অথবা অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে নিয়োগ করা সমঝোতা প্রশাসক সরাসরি যোগাযোগ করবে। ডাকযোগে বা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে জানানো হবে, সমঝোতার আওতায় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের জন্য কী সুবিধা রয়েছে। যোগ্যতা যাচাই করতে গ্রাহকদের আলাদাভাবে আবেদন বা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে না।   প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ফোনে যোগাযোগ করে গ্রাহকেরা নিজেদের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন না। তাই সম্ভাব্য যোগ্য গ্রাহকদের ডাকের ঠিকানা ও ই-মেইল ঠিকানা হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ তাদের কাছে পৌঁছায়।   এদিকে সমঝোতার বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য নন, তাদের ক্ষেত্রে ঋণের কিস্তি পরিশোধ, হিসাব পরিচালনা বা গ্রাহকসেবা নেওয়ার নিয়মে কোনো পরিবর্তন হবে না।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লাম্পকিন কাউন্টিতে একটি স্কুল বাসের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে হাইল্যান্ড ট্রেস অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নামানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, নিয়ম ভেঙে বাসে প্রবেশ করা এবং চালকের কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, কট্রেল এলিমেন্টারি স্কুল থেকে ছেড়ে আসা ২২-৩৬ নম্বর বাসে যাত্রা শুরুর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা চিৎকার, মারামারি ও জিনিসপত্র ছুড়ে বিশৃঙ্খলা করছিল। বাসের চালক ছিলেন একজন বদলি কর্মী, যিনি ওই রুটে নতুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তার নিয়ম মানতে বাধ্য করতে তাকে পথিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাস থামাতে হয়েছিল।   বাসটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের প্রথম স্টপেজে পৌঁছালে, দ্বিতীয় স্টপেজের এক শিক্ষার্থী নেমে পড়ে। চালক তাকে বাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সেখানে উপস্থিত কিছু অভিভাবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।   বাসচালক যখন সব শিক্ষার্থীকে তাদের আসনে বসানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কয়েকজন অভিভাবক সেখানে জড়ো হয়ে তাদের সন্তানদের নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। চালক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নামানোর সুযোগ নেই।   কিন্তু অভিভাবকরা বাইরে থেকে জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী বাসের জরুরি দরজা খুলে দিলে অভিভাবকরা ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক তাদের সন্তানদের নামিয়ে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালককে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাইতে হয়েছিল।   পরবর্তীতে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, চালক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ মিনিট বাসে আটকে রেখেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এসি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে চালকের কোনো অপরাধ বা গাফিলতি পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, পাহাড়ি খাড়া রাস্তায় বাসের ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে কেবল সাময়িকভাবে এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল।   সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাসে প্রবেশ করে চালককে হেনস্তা করার দায়ে এপ্রিল মিশেল ডিসপেইন, টনি রে চ্যাস্টেইন এবং মারিয়া কুইনোনেস নামের ওই তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, বাসের কাজে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০