- প্রচ্ছদ
- Topic
জর্জিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় বাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার ওপর মূল ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। ভিলেজ অব টাউন লেক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ২০২০ সালে করা একটি চুক্তির কারণে আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপারের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ২০৪০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকার মূল ডেভেলপার ডেভিড পিয়ারসন ২০২০ সালে নিজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই চুক্তি করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুক্তিটির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু দায়িত্ব পেয়েছে, যেগুলো সাধারণত বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেভেলপারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে বছরে কমপক্ষে ৭৯ হাজার ডলার অথবা বাড়ির মালিক সমিতির মোট বাজেটের ২০ শতাংশ, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়ির মালিকদের দাবি, গত কয়েক বছরে সমিতির বাজেট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এর ফলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পারিশ্রমিকও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষের একটি উদাহরণ হিসেবে একটি বেড়া নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। বাড়ির মালিক জেসন সার্সি জানান, তিনি একটি বেড়া নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করেছিলেন। পরে সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ বা যথাযথ যোগাযোগ পাননি। বাড়ির মালিকদের আরও অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। একজন বাসিন্দা অন্য কয়েকটি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খরচের হিসাব নেন। সেখানে সর্বোচ্চ প্রস্তাবও প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তবে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি বেকি রিপিক এই ব্যবস্থাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের এলাকার ব্যবস্থাপনা কাঠামোটি অন্য সাধারণ বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় আলাদা। তার মতে, সমিতির বোর্ডের দায়িত্বও প্রচলিত বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় সীমিত। তিনি আরও দাবি করেন, অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকায় সন্তুষ্ট এবং যারা আপত্তি তুলছেন তারা সংখ্যায় কম। এদিকে চুক্তির বৈধতা ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জর্জিয়ার বাড়ির মালিক সমিতি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে সহায়তাকারী আইনজীবী র্যান্ডি লিপশুটজ বলেছেন, চুক্তিটি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক নিজেই অবৈধ নাও হতে পারে। তবে বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের ক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আলাদা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার সময় জর্জিয়ায় বাড়ির মালিক সমিতি নিয়ে নতুন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাসিন্দাদের অভিযোগও ভবিষ্যতে ওই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। এলাকার বাড়ির মালিকদের মূল উদ্বেগের জায়গা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা। তাদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত চলমান চুক্তির কারণে বাড়ির মালিক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেভেলপারের প্রভাব সহজে শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থাটিকে স্বতন্ত্র ও বিশেষ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: দ্য কুল ডাউন, ১১অ্যালাইভ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কামিং এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ আল-রহমানের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ক্রয়ে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১,০৩৩,৬১৬ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি কেনার ক্লোজিং সম্পন্ন করতে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ Peachtree Parkway এ ৭.৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ৩০০টির বেশি পার্কিং স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বর্তমান স্থানে জায়গা ও পার্কিং সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়স্কদের জন্য অ্যাক্সেসিবল সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। নতুন মসজিদে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য থাকবে আলাদা কার্যক্রম এবং আউটডোর স্পোর্টসের সুযোগ। নতুন মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ১২৩৫ Peachtree Parkway এ অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে একটি ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমেরিকা বাংলাকে জানানো হয়, এটি কোনো একক দেশের মানুষের মসজিদ নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সমন্বয়ে এখানে একটি বৃহৎ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধ্যমতো দান করার পাশাপাশি যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না, তাদেরও বিষয়টি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রচারাভিযানে ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১,০০০ ডলারকে একটি নামাজের স্থান বা মুসাল্লা, ৬,০০০ ডলারকে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫,০০০ ডলারকে একটি ক্লাসরুমের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও দানের সুযোগ রয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বর্তমান স্থান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্টের ক্লোজিং সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ প্রকল্পটি সরাসরি দেখতে এবং অনুদান দিতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://cummingcommunitycenter.com
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি এসইউভি বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী চালক উইলি এইচ. স্মিথ জুনিয়র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু আগে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ ও উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, স্মিথ একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স এসইউভি নিয়ে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ দিয়ে পূর্বদিকে যাচ্ছিলেন। উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এসে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ১৯০০ ব্লক উডল্যান্ড ড্রাইভের একটি বাড়ির ছাদে গিয়ে আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলেই স্মিথকে চিকিৎসা দেন। পরে তাকে স্থানীয় একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটিতে নেওয়া হলে কাউন্টি করনার লিওন জোনস তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়া এসইউভিটি সরাতে উদ্ধারকারী দলকে ক্রেন ব্যবহার করতে হয়। ঘটনাস্থলের ছবিতে বাড়ির ছাদে গাড়িটির অবস্থান এবং উদ্ধার তৎপরতার দৃশ্য দেখা যায়। তবে ঠিক কী কারণে স্মিথ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার আগে তার কোনো মেডিকেল জরুরি অবস্থা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা এখনো জানাতে পারেননি। দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তারা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেননি। বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসইউভিটি কীভাবে রাস্তা থেকে ছিটকে বাড়ির ছাদে উঠে গেল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো কারণ জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় দুই নারীকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত স্টেসি হামফ্রিসের মৃত্যুদণ্ড আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কার্যকর করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগ জানিয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসনের কাছে অবস্থিত রাজ্যের কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৩ বছর বয়সী হামফ্রিস ২০০৩ সালে আটলান্টার উপকণ্ঠে দুই আবাসন ব্যবসায়ী নারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। হামফ্রিস যে দুই নারীকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন, তারা হলেন ৩৩ বছর বয়সী সিন্ডি উইলিয়ামস ও ২১ বছর বয়সী লরি ব্রাউন। ২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর আটলান্টার প্রায় ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে পাউডার স্প্রিংস এলাকার একটি নতুন আবাসিক প্রকল্পের বিক্রয় কার্যালয়ে দুপুরের দিকে তাদের হত্যা করা হয়। ওই সময় দুই নারী সেখানে আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করছিলেন। মামলার বিচার চলাকালে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, হামফ্রিস ওই বিক্রয় কার্যালয়ে ঢুকে দুই নারীকে জোর করে পোশাক খুলতে বাধ্য করেন এবং তাদের ব্যাংকের গোপন নম্বর নেন। এরপর তিনি তাদের গুলি করে হত্যা করেন। পরে নিহত নারীদের পরিচয়পত্র ও ব্যাংক এবং ঋণ কার্ড নিয়ে তাদের হিসাব থেকে তিন হাজার ডলারের বেশি অর্থ তুলে নেওয়া হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় হামফ্রিস ১৯৯৩ সালের একটি গুরুতর চুরি মামলায় দণ্ড ভোগের পর জামিনের শর্তে বাইরে ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রায় ১৩ মাস পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন, হত্যার সময় নিজের কর্মকাণ্ড তার মনে ছিল না। তবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ হামফ্রিসকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে এমন এক ব্যক্তির কথা জানিয়েছিলেন, যার বর্ণনা হামফ্রিসের সঙ্গে মিলে যায়। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি গাড়িও তার কালো রঙের গাড়ির সঙ্গে মিলে যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে পুলিশ তার বাড়িতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান। এরপর উইসকনসিনে পুলিশের সঙ্গে দ্রুতগতির গাড়ি ধাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে একটি বন্দুকও উদ্ধার করা হয়, যেটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলির সঙ্গে মিলে যায় বলে পুলিশ জানায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, বন্দুকটিতে পাওয়া রক্তের সঙ্গে সিন্ডি উইলিয়ামসের বংশগত উপাদানের মিল পাওয়া যায়। একইভাবে হামফ্রিসের গাড়িতে পাওয়া রক্তের সঙ্গে লরি ব্রাউনের বংশগত উপাদানের মিল পাওয়া যায়। এসব তথ্য মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। হামফ্রিসের মৃত্যুদণ্ড এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আইনজীবীরা ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন শুনানির সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে আবেদন করার পর সেই কার্যক্রম স্থগিত হয়। তাদের দাবি ছিল, ওই দুই কর্মকর্তা মামলার বিচারপর্বে বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এ কারণে তাদের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ফুলটন কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক রবার্ট ম্যাকবার্নি পরে একজন কর্মকর্তাকে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন এবং অন্য কর্মকর্তার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত রয়েছে বলে মনে করেননি। হামফ্রিসের আইনজীবীরা পরবর্তী সময়ে জর্জিয়া সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। আদালত মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেন। সেই আবেদন এখনো বিচারাধীন রয়েছে। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামফ্রিসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে চলতি বছরে রাজ্যটিতে এটিই হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। এর আগে জর্জিয়ায় শেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে রাজ্যটিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার লোগানভিলের ছয় বছর বয়সী জ্যাক্সন মেইসন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ১৩ বছর বয়সী কাজিন মেসন জোন্সের পাশে দাঁড়াতে নিজের মাথার চুল ন্যাড়া করেছে। কাজিনের ক্যানসারের লড়াইয়ে সে একা নয়, এই বার্তা দিতেই দীর্ঘদিনের চুল কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় জ্যাক্সন। তার এই আবেগঘন উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে। জ্যাক্সনের বাবা রডনি মেইসন বাড়িতে ছেলের চুল কাটার দৃশ্য ধারণ করেন। ভিডিওতে জ্যাক্সন জানায়, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা তার কাজিনকে সমর্থন করতেই সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জীবনের পুরো সময় দীর্ঘ চুল রাখা জ্যাক্সন চুল কাটার আগে বাবার কাছ থেকে সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে পারে। কিন্তু সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। জ্যাক্সন বলেন, তিনি কাজিনের জন্যই এটি করতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেসনের ক্যানসার হয়েছে এবং তিনি তাকে দেখাতে চেয়েছেন যে তার পাশে থাকার মতো মানুষ রয়েছে। নিজের চুল কেটে ফেলার মাধ্যমে কাজিনের কঠিন লড়াইয়ে একাত্মতা প্রকাশ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, ১৩ বছর বয়সী মেসন জোন্স বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছে। তার তীব্র মায়েলয়েড লিউকেমিয়া ধরা পড়ে প্রথমবার ১১ বছর বয়সে। বর্তমানে টেক্সাসে তার চিকিৎসা চলছে এবং কঠিন এই সময়ে তার বাবা-মা ক্রিস ও ক্রিস্টিন জোন্স তার পাশে রয়েছেন। জ্যাক্সন নতুন করে চুল কাটার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে মেসনের সঙ্গে কথা বলে। তখন কাজিনের নতুন চেহারা দেখে মেসন আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। মেসন জানান, ঘটনাটি তাকে কাঁদিয়েছে, তবে সেটি ছিল আনন্দের কান্না। জ্যাক্সনকে এমন কিছু করতে হতো না, তবুও সে এটি করেছে, যা তাকে খুব আনন্দ দিয়েছে বলে জানান মেসন। মেসনের পরিবার জানিয়েছে, সন্তানকে দ্বিতীয়বার ক্যানসারের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা সহজ নয়। তার বাবা-মা ক্রিস ও ক্রিস্টিন এই কঠিন সময়ে তার পাশে রয়েছেন এবং তার জন্য প্রার্থনা করছেন। তারা জানিয়েছেন, এটি সহজ কোনো পথ নয় এবং কোনো বাবা-মাই চান না তাদের সন্তানকে একবার, বিশেষ করে দুইবার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে হোক। জ্যাক্সনের এই উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মেসনের চিকিৎসার খরচে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে টেক্সাসে মেসনের বর্তমান চিকিৎসা কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছোট্ট জ্যাক্সনের এই উদ্যোগ মানুষের নজর কেড়েছে। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা কাজিনকে মানসিকভাবে সমর্থন জানাতে নিজের চুল ত্যাগ করে সে যে ভালোবাসা ও একাত্মতার বার্তা দিয়েছে, সেটিই এই ঘটনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পাশের অ্যাপার্টমেন্টের দেয়াল ভেঙে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ঘরে ঢুকে হামলার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হামলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় এবং একাধিকবার আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় ঘরে ৫ ও ৭ বছর বয়সী আরও দুই শিশু ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওবেদ রেয়েস। ৫ আগস্ট রাতে জর্জিয়ার গেইনসভিলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে। গেইনসভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রেয়েস তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টের একটি আলমারির পাশের দেয়ালে বড় একটি গর্ত করে পাশের ইউনিটে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি কিশোরীর ওপর হামলা চালান। পুলিশের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট ও পিপল জানিয়েছে, রেয়েস যে দেয়াল ভেঙেছিলেন সেটি দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝখানে ছিল। দেয়ালটি ভেঙে তিনি পাশের ইউনিটের একটি আলমারিতে ঢোকেন। ওই সময় কিশোরী সেখানে দুই ছোট শিশুর সঙ্গে ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পর রেয়েস কিশোরীকে ধরে ফেলেন এবং তাকে একাধিকবার ঘুষি মারেন। এ সময় তাকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। কিশোরী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে একপর্যায়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে ভবনের বাইরের চলাচলের পথে চলে আসতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ বলছে, রেয়েস তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন। পুলিশ রাত ১০টার কিছু আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলা চলমান অবস্থায় রেয়েসকে দেখতে পায়। পরে কর্মকর্তারা তাকে কিশোরীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গ্রেপ্তার করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝের দেয়ালে তৈরি হওয়া বড় গর্তের ছবিও প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেয়ালের ভাঙা অংশ দিয়ে পাশের ইউনিটে প্রবেশের পথ তৈরি হওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই গর্ত ব্যবহার করেই রেয়েস পাশের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় রেয়েসের বিরুদ্ধে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশ, গুরুতর হামলা, ধর্ষণের চেষ্টা, অপহরণ এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। তবে তার অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, রেয়েসকে হল কাউন্টি কারাগারে কোনো জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এবং মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হবে। গেইনসভিল পুলিশ প্রধান জে প্যারিশ ঘটনায় দ্রুত ৯১১-এ ফোন করা প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আশপাশের মানুষের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণেই পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও ক্ষতি ঠেকাতে পেরেছে। পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘কিছু দেখলে জানানো’ ধরনের নাগরিক সচেতনতা একটি কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মতে, ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরী এই ঘটনার পর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনের মুখোমুখি হতে পারে। পুলিশ প্রধান তার প্রতি কমিউনিটির সমর্থন কামনা করেছেন। ঘটনাটি গেইনসভিলে আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেশী ইউনিটের মধ্যে থাকা দেয়াল ভেঙে একজন ব্যক্তি অন্য অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেয়ালটি কীভাবে ভাঙা হয়েছিল এবং ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পুলিশের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রেয়েসকে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন। ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল। তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে। ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন। ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল। তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে। ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিকেটরে নিজ বাবাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে ডেকাতুরের পেপারডাইন ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ডেকাব কাউন্টি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৬৫ বছর বয়সী জেরোম ওয়াটকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, জেরোমের ছেলে এশাউন সাগস নিজেই তাকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী এই গুলি চালিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির জেরে বাবা ও ছেলের মধ্যে এমন চরম পরিণতি ঘটল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বর্তমানে এশাউন সাগসকে গ্রেপ্তার করে ডেকাব কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে বৃহস্পতিবার আলাবামায় জর্জিয়ার বাসিন্দা জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর জর্জিয়ার কলম্বাসে মায়ের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কামারি। তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে শিশুটির মায়ের সঙ্গে উইলিয়ামসের যোগাযোগ হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘণ্টার যৌন নির্যাতনের বিনিময়ে শিশুটিকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উইলিয়ামসের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা উইলিয়ামসের মুঠোফোনের অবস্থান অনুসরণ করে আলাবামার ফেনিক্স সিটির একটি মোটেলে তাকে তার চাচার সঙ্গে আটক করেন। পরে তার ফোনে ১৩ ডিসেম্বর ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। তদন্তের সূত্র ধরে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির স্টোরেজ কক্ষ থেকে কামারির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০২৪ সালের মার্চে উইলিয়ামস চারটি গুরুতর হত্যার অভিযোগসহ মরদেহ গোপন করা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অপরাধের ভিডিও ধারণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তবে আলাবামার আইনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে জুরি ট্রায়াল বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরবর্তী সময়ে জুরি তিন দিন ধরে সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, ২০০৫ সালে আলাস্কায় নিজের এক মাস বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগও ছিল উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া পাঁচ বছর বয়সী সৎমেয়েসহ আরও কয়েকটি শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। কামারির বাবা কোরি হল্যান্ড মেয়েকে প্রাণবন্ত শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি জানান, কামারি রাজকন্যার সাজ ও বিভিন্ন পোশাক নিয়ে খেলতে ভালোবাসত এবং অন্যদের হাসাত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আলাবামার গভর্নর কে আইভি ঘটনাটিকে ‘অশুভ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অপরাধটির ভয়াবহতাই আলাবামায় মৃত্যুদণ্ডের বিধানের প্রয়োজনীয়তার কারণ। এ ঘটনায় কামারির মা ক্রিস্টি সিপল শিশুটিকে যৌন পাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা এলাকায় পরিচালিত একটি বড় অভিবাসন অভিযানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে দণ্ডিত হয়েছেন। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, "অপারেশন সেফ কমিউনিটি, আটলান্টা" নামে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করা। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের নির্বাহী সহযোগী পরিচালক মার্কোস চার্লস ফক্স নিউজের "ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস" অনুষ্ঠানে বলেন, অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন। তার ভাষায়, "আমরা জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছি। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।" চার্লস আরও বলেন, "এদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ রয়েছে। তারা শুধু অপরাধের সঙ্গেই জড়িত নন, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।" ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যিনি অন্তত ৫০০ গ্রাম মেথামফেটামিন বিতরণের ষড়যন্ত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। আরেকজন এল সালভাদরের নাগরিকের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মার্কোস চার্লস বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইন কার্যকর করতে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার নানা প্রচেষ্টার কারণে আইসিই তাদের অভিযান পরিচালনার কৌশল পরিবর্তন করেছে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এদিকে আইসিইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংস্থাটি প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে, যা তাদের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস জুনে আটক হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। এর আগে ডিএইচএস জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিই বিলুপ্তির দাবিও তুলেছেন। ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, আইসিই ও ডিএইচএসের দেওয়া এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে নিষ্পত্তি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্লেটন কাউন্টির একটি ওয়ালমার্ট স্টোরে অসাবধানতাবশত গুলি ছোড়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এতে কেউ গুরুতর আহত হননি। পুলিশ জানায়, স্টোরের ভেতরে একটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলি ছুটে যায়। পরে তদন্তে অস্ত্র বহনে অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং স্টোরটি সাময়িকভাবে নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ক্রেতাদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অস্ত্রটি নিরাপদভাবে বহন করা হচ্ছিল না। গুলি ছোড়ার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয় বলে মনে হলেও কীভাবে অস্ত্র থেকে গুলি বেরিয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবহেলার কারণে এ ধরনের ঘটনা বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় অবস্থিত স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রিসিলিয়ানো ট্রেজো নামের ২৯ বছর বয়সী এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী আটকে রাখার প্রথা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার সংগঠন 'ডিটেনশন ওয়াচ নেটওয়ার্ক' জানিয়েছে, লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ট্রেজো গত ২৪ জুলাই একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের পক্ষ থেকে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজ থেকে জানা যায়, মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে ট্রেজো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট কাউন্টির ওই বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়। ট্রেজোর চাচাতো বোন জোয়ানি সান্তিয়াগো-হার্নান্দেজ জানান, আইসিই হেফাজতে কাটানো তিন সপ্তাহে তিনি ক্রমশ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিদিন পরিবারকে ভিডিও কল করে তিনি তার শারীরিক যন্ত্রণা, রক্তবমি, শরীরের না-শুকানো ক্ষত এবং চরম মানসিক হতাশার কথা জানাতেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বারবার চিকিৎসা চাওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর গত ১৩ জুলাই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মাত্র দুই দিন পর ১৫ জুলাই ট্রেজো কোমায় চলে গেলে আইসিই কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তার হেফাজতের আইনি দায়িত্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ফেডারেল কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে পরিচালিত স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারটি সর্বশেষ পরিদর্শন করেছিলেন। কেন্দ্রটিকে সে সময় 'গ্রহণযোগ্য' বলা হলেও পরিদর্শকরা সেখানে আত্মহত্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঘাটতিসহ একাধিক গুরুতর ত্রুটি খুঁজে পান। স্থানীয় কাউন্টি করোনার জানিয়েছেন, ওই পরিদর্শনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে একজনসহ মোট দুজন বন্দি সেখানে আত্মহত্যা করেছেন। আইনপ্রণেতা এবং মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই বন্দিশিবিরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং চিকিৎসায় চরম অবহেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। ট্রেজোর মৃত্যুর বিষয়ে আইসিই কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সাভানাহ পুলিশ বিভাগের ছয় কর্মীকে ফ্লক লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহারের অভিযোগে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের জন্য মামলাটি জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (জিবিআই) কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সাভানাহর মেয়র ভ্যান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ছয় কর্মীর মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুজন বেসামরিক কর্মচারী রয়েছেন। অভিযোগ সামনে আসার পরই পুলিশ বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক ছুটিতে থাকবেন। মেয়র বলেন, জনসাধারণের আস্থা কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, ব্যক্তিগত বা অনুমোদনহীন কাজে নয়। তাই অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে ফ্লক ক্যামেরা ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো কর্মীদের পরিচয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। একই দিনে জর্জিয়ার হ্যাবারশাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের বাইরে অন্য উদ্দেশ্যে ফ্লক ক্যামেরা ব্যবস্থায় প্রবেশের অভিযোগে এক ডেপুটিকে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের একাধিক ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত দুই মাসে চেরোকি কাউন্টির তিনজন শেরিফ ডেপুটি, অ্যালবানি পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা এবং রিচমন্ড কাউন্টির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণ ডাটাবেসের অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোরসাইথ কাউন্টির এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী অভিযোগ করেছেন, সড়কে একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি তাকে এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধাওয়া করেন এবং বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদন দায়ের হয়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি। এনআরআই পালসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই বিকেলে জনস ক্রিক ও আলফারেটা এলাকার স্টেট ব্রিজ রোডে ঘটনাটি ঘটে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় একটি সাদা রঙের নিসান সেন্ট্রা গাড়িকে ডান দিকে মোড় নেওয়ার লেনে ঢোকার সুযোগ করে দেন। তার দাবি, এর কিছুক্ষণ পরই ওই গাড়ির চালক জানালার কাচ নামিয়ে এমন একটি হাতের ইশারা করেন, যাতে তার মনে হয় লোকটির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি লেন পরিবর্তন করলেও অভিযুক্ত চালক বারবার তার গাড়ির সামনে আসার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে রাস্তার চিহ্ন অতিক্রম করে তার পথ রোধ করারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওল্ড মিল্টন পার্কওয়ের কাছে একটি লাল বাতিতে গাড়ি থামলে ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করতে থাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, "ভারতে ফিরে যাও। এটা তোমার জায়গা নয়।" পাশাপাশি আরও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও যানজটের কারণে তিনি সেখান থেকে সরে যেতে পারেননি। পরিস্থিতি আরও খারাপ না করতে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তার অভিযোগ, সিগন্যাল ছাড়ার পরও ওই ব্যক্তি তার গাড়িকে অনুসরণ করতে থাকেন। নিজের বাসার অবস্থান প্রকাশ হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি নিজের আবাসিক এলাকায় না গিয়ে উড ব্রিজ অ্যাপার্টমেন্টস এলাকায় যান এবং সেখান থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। তিনি বলেন, "আমার ১২ বছরের মেয়েও গাড়িতে ছিল। আমরা দুজনই খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমি চাইনি সে জানতে পারুক আমরা কোথায় থাকি।" নারীর দাবি, ৯১১-এ কথা বলার সময় তিনি গাড়ির জানালা নামানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে চলে যান। তিনি গাড়িটির কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হলেও নম্বরপ্লেট পুরোপুরি দেখতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নম্বরপ্লেটের শুরুতে ইংরেজি 'C' অক্ষর ছিল। তিনি চালককে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, পরিষ্কার মুখের, শ্বেতাঙ্গ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের কাছের ট্রাফিক ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে তার সঙ্গে কথা বললেও ঘটনাস্থলে কেউ আসেননি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি চলে যাওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদনও করা হয়নি। গত ১২ বছর ধরে আটলান্টা মহানগর এলাকায় বসবাসকারী ওই নারী একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, তিনি সবসময় সতর্কভাবে গাড়ি চালান এবং অন্য নারীদেরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করেন। বর্তমানে তিনি আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে জনস ক্রিক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রথম শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল ছয় বছরের ছোট্ট শিশু এমারসন 'এমি' ব্রিজার্সের। কিন্তু একটি সাধারণ টনসিল অপারেশনের ঠিক আগেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় স্কুল ও কমিউনিটিতে। বার্টো কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, এমির টনসিল সার্জারি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর করা সম্ভব হয়নি। ঠিক কী কারণে অপারেশনের আগেই শিশুটির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। করোনার জোয়েল গায়টন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে এমিকে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে তারা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) ময়নাতদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউহার্লি এলিমেন্টারি স্কুল থেকে কিন্ডারগার্টেন শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল এমি। স্কুল কর্তৃপক্ষের এক আবেগঘন শোকবার্তায় বলা হয়, "এমি ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা, তার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।" অন্যদের প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের কারণে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা মিসেস রোজ ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন 'লিটল মামা'। স্কুলের ওপেন হাউস অনুষ্ঠানের জন্য সে গোলাপের থিমযুক্ত একটি বিশেষ পোশাকও পছন্দ করে রেখেছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের আক্ষেপ, "নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ওর শূন্য আসন এবং না পরা পোশাকটির কথা ভাবাই আমাদের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক।" এমির পরিবারের সহায়তায় খোলা একটি 'গোফান্ডমি' ক্যাম্পেইনের সংগঠক হিদার স্মিথ জানান, মঙ্গলবার শিশুটির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় একটি ফিউনারেল হোম শেষকৃত্যের সব খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। ছোট্ট এমিকে স্মরণ করতে একটি বিশেষ মোটরসাইকেল রাইডের আয়োজন করা হবে, যেখানে তার প্রিয় রঙের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই গোলাপি রঙের পোশাক পরে অংশগ্রহণ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় অ্যাপালাচি হাইস্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনায় হামলাকারী কিশোরের বাবাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছেলেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল কিনে দেওয়ার কথা স্বীকার করার পর, ৫৫ বছর বয়সী কলিন গ্রে-কে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারসহ অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংঘটিত ওই হামলায় দুজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক নিহত হন। উল্লেখ্য, এর মাত্র দুদিন আগে এই হামলার মূল হোতা ১৬ বছর বয়সী কোল্ট গ্রে-কে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ব্যারো কাউন্টি কোর্টহাউসে বিচারক নিকোলাস প্রিম এই রায় ঘোষণা করেন। কলিন গ্রে-র বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার, অনিচ্ছাকৃত হত্যা এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতাসহ ২৭টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার ১০০ বছরের বেশি সাজা হওয়ার কথা ছিল। তবে বিচারক তাকে প্রতিটি সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার অভিযোগের জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন, যা অন্যান্য সাজার সাথে একযোগে চলবে। যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের বন্দুক হামলায় অভিভাবকদের দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বিচারক প্রিম জানান, জর্জিয়াতে এ ধরনের মামলা এটিই প্রথম। বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, ছেলের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ এবং বিপদের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও বাবা তাকে সাহায্য করেননি বা তার কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেননি। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় কলিনের ৮০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ছেলের ঘরে ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ড স্কুল হামলার এক খুনির প্রতি সম্মান জানিয়ে তৈরি করা একটি ‘শ্রাইন’ বা বেদি থাকা সত্ত্বেও তিনি ছেলেকে বড়দিনে একটি এআর-১৫ (AR-15) মডেলের অস্ত্র উপহার দেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে সতর্ক করার পরও তিনি ছেলেকে অস্ত্র থেকে দূরে রাখেননি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১০ বছরের সাজার আবেদন করে বলেন, এটি বাবার অবহেলা হলেও তার কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। কলিন গ্রে নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান যে তিনি তার ছেলের মধ্যে এমন ভয়ংকর কোনো লক্ষণ দেখতে পাননি যা থেকে মনে হতে পারে সে এত বড় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ডেইরি কুইন রেস্তোরাঁয় মিল্কশেক নিয়ে বিতর্কের জেরে এক গ্রাহকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করতে যাচ্ছে পুলিশ। মেট্রো আটলান্টা এলাকার পাউডার স্প্রিংসের অস্টেল-পাউডার স্প্রিংস রোডে অবস্থিত ওই ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় গত মঙ্গলবার দুপুরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১টা ১১ মিনিটের দিকে ড্রাইভ-থ্রু লেনে এক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে এক কর্মীর দিকে পানীয় ও কাপ ছুড়ে মারছেন এবং এরপর দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছেন। ডেইরি কুইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই গ্রাহক তাকে দেওয়া পানীয়টি ‘মিল্কশেক নয়’ দাবি করে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে ম্যানেজারের ওপর এই হামলা চালান। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার মাত্র একদিন পরই পাউডার স্প্রিংস পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, সেবা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা, ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলা বা অর্ডারের ত্রুটি সংশোধনের অনুরোধ করা পুরোপুরি স্বাভাবিক। কিন্তু শুধুমাত্র নিজের দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মীর ওপর হামলা করা কখনোই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে ঠিক কী কী ধারায় অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা প্রকাশ করেনি। এদিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ডেইরি কুইন কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের কর্মীদের প্রতি সাধারণ মানুষের এই সমর্থন ও ভালোবাসা তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর গাছ ও বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন। ঝড়ের সময় একাধিক তীব্র বজ্রঝড়ের সতর্কতার পাশাপাশি দুটি টর্নেডো সতর্কতাও জারি করা হয়। একই সঙ্গে একটি এলাকায় প্রধান পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাসিন্দাদের ফুটিয়ে পানি পান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উত্তর জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা শক্তিশালী বজ্রঝড় বয়ে যায়। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানায়, ঝড়ের সময় উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ, গাছ উপড়ে পড়া এবং বাড়িঘর ও যানবাহনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। বুধবার সকাল পর্যন্ত হ্যাবারশাম কাউন্টিতে ১ হাজার ৫০৩ জন, হোয়াইট কাউন্টিতে ১ হাজার ১৮ জন এবং টাউনস কাউন্টিতে ৯৫০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝড়ের রাতের তুলনায় বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা কিছুটা কমলেও অনেক এলাকায় এখনো পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এদিকে গিলমার কাউন্টিতে ঝড়ের কারণে প্রধান পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিউ হোপ চাপ অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য ফুটিয়ে পানি পান করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি সরবরাহ লাইনের ক্ষতিতে সংরক্ষণ ট্যাংকের পানির স্তর কমে যায় এবং অনেক এলাকায় পানির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ফুটানো বা বোতলজাত পানি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। হ্যাবারশাম কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়া এবং সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অসংখ্য খবর পাওয়া গেছে। আন্ডারউড ফার্ম রোডের একটি বাড়ির ওপর একটি গাছ পড়লেও প্রাথমিক তথ্যে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সড়কে জমে থাকা পানি, উপড়ে পড়া গাছ, ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের লাইন এবং জরুরি সেবা ও মেরামতকর্মীদের উপস্থিতির কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পিচট্রি সিটির এসআর-৭৪ ও এসআর-৫৪ সড়কের ব্যস্ত মোড়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে জর্জিয়া পরিবহন বিভাগ। যানজট কমানো এবং যান চলাচল আরও সহজ করতে এই নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা ৩০ জুলাই রাত থেকে কার্যকর হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ৩ আগস্ট। জর্জিয়া পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসআর-৭৪ সড়কের উত্তর ও দক্ষিণমুখী অংশে বাম দিকে মোড় নেওয়ার জন্য আলাদা লেন চালু করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় এসআর-৫৪ সড়কে বাম দিকে যেতে ইচ্ছুক চালকদের জন্য পৃথক লেন ও পৃথক ট্রাফিক সংকেত থাকবে। একই সময়ে সোজা চলা যানবাহনের পাশাপাশি বাম দিকে মোড় নেওয়ার সুযোগ থাকায় যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জর্জিয়া পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তা জিনা স্নাইডার বলেন, ব্যস্ত সময়ে এই মোড়ে নিয়মিত যানজট তৈরি হয়। তাই নতুন ধরনের এই ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাম দিকে মোড় নেওয়া যানবাহনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে যান চলাচল আরও স্বাভাবিক থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা কমে। কর্তৃপক্ষ জানায়, পিচট্রি সিটির জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরটি প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে কয়েকশ মানুষ বাস করলেও ২০২৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে জনসংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি। ফলে আটলান্টাগামী যাত্রী, কেনাকাটা ও রেস্তোরাঁয় যাতায়াতকারী মানুষ এবং স্কুলগামী যানবাহনের কারণে এই মোড়টি প্রতিদিনই অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। জিনা স্নাইডার আরও বলেন, শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল বিভাগ। কারণ স্কুল খোলার পর কাজটি করতে হলে আরও বেশি যানজট ও জনভোগান্তির আশঙ্কা ছিল। সে কারণেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর কয়েক দিন আগেই নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন লেন ও সংকেত ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রতিদিনের যানজট কমাতে এবং চালকদের যাতায়াত আরও সহজ করতে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এক ব্যক্তি সমুদ্রে হাঙরের আক্রমণ থেকে তার গর্ভবতী বাগদত্তাকে রক্ষা করে আলোচনায় এসেছেন। ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সঙ্গিনীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন। ফক্স ১৩ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে একটি সমুদ্রসৈকতে। ওই নারী পানিতে থাকার সময় হঠাৎ একটি হাঙরের আক্রমণের শিকার হন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তার বাগদত্তা দ্রুত এগিয়ে যান এবং তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আক্রমণের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ওই ব্যক্তি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে গর্ভবতী সঙ্গিনীকে রক্ষা করতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। উদ্ধারের পর আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। মা ও অনাগত শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন থাকলেও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। হাঙরের আক্রমণ সমুদ্র এলাকায় বিরল হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা সমুদ্রে নামার আগে স্থানীয় সতর্কবার্তা মেনে চলা, নির্দিষ্ট এলাকায় সাঁতার কাটা এবং আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। ঘটনার পর ওই ব্যক্তির সাহসিকতার প্রশংসা করছেন অনেকেই। কঠিন মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি যেভাবে তার সঙ্গিনীকে রক্ষা করেছেন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সে চলতি বছরের মার্চে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজনকে জর্জিয়ায় আটক করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী লুইস বেলিসকে জর্জিয়ার লরেন্সভিল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম জাইর হাভিয়ের ভিনসেস-কোবেনা, বয়স ৩৬ বছর। পুলিশ জানায়, গত ১৩ মার্চ সন্ধ্যার দিকে কুইন্সের করোনা এলাকার ৫৫তম অ্যাভিনিউতে নিজ বাসার কাছে অবস্থানকালে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালানো হয়। হামলার সময় তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভিনসেস-কোবেনাকে দ্রুত এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারীরা মোটরচালিত একটি মোপেডে করে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনকে শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় লুইস বেলিসকে জর্জিয়ায় আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসমক্ষে জানানো হবে। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটিতে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।