সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নদীতে কোটি কোটি গ্যালন বর্জ্য, বন্ধ হয়ে গেল আমেরিকার জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১০:১৭
পর্যটকদের সুরক্ষায় বন্ধ প্লাম আইল্যান্ড সমুদ্রসৈকত | ছবি: সিবিএস
পর্যটকদের সুরক্ষায় বন্ধ প্লাম আইল্যান্ড সমুদ্রসৈকত | ছবি: সিবিএস

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের হ্যাভারহিল শহরের ম্যারিম্যাক নদীতে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি গ্যালন অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য (কাঁচা মলমূত্র) গিয়ে মিশছে। এই ভয়াবহ দূষণের কারণে পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিকটবর্তী প্লাম আইল্যান্ড সমুদ্রসৈকত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

 

নিউবেরিপোর্ট শহরের জনস্বাস্থ্য পরিচালক কেলেচি ওবিকা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ম্যারিম্যাক নদীর উজানে একটি পাম্পিং স্টেশনের কাছে ৪২ ইঞ্চির একটি প্রধান পয়ঃনিষ্কাশন লাইনে দুটি বড় ফাটল দেখা দেয়। এর ফলেই এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সৈকতে মানুষের নামা বা গোসল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

হ্যাভারহিল গণপূর্ত বিভাগের পরিচালক রবার্ট ওয়ার্ড জানিয়েছেন, মূল লাইনের ফাটল মেরামত করতে একটি অস্থায়ী বাইপাস লাইন তৈরির কাজ চলছে। তবে এই মেরামত কাজ শেষ হতে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তত দিন পর্যন্ত প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নদীতে পড়া অব্যাহত থাকবে।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মলমূত্র মিশ্রিত এই দূষিত পানির সংস্পর্শে এলে মানুষের বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, চোখের জ্বালাপোড়া এবং কানের ব্যথাসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় সতর্কতা জারি করে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, পুরো এলাকায় তীব্র এবং অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতার চাকরি ও ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ দেয় বিশেষায়িত এইচ-১বি ভিসা। ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসায় ক্যারিয়ার গড়েও পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা!

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতার চাকরি ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দেয় এইচ-১বি ভিসা। কিন্তু এই ভিসায় কাজ করা অনেক বিদেশি কর্মীর কাছে চাকরির পাশাপাশি বাড়ি কেনা, পরিবার নিয়ে স্থায়ী পরিকল্পনা করা কিংবা নতুন শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সোমবার প্রকাশিত বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে এই অনিশ্চয়তার চিত্র উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনটির জন্য এইচ-১বি ভিসা পাওয়া বা এ পথে যাওয়ার চেষ্টা করা ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে বিজনেস ইনসাইডার। তাঁদের একজন মধুর মেহতা। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছরে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, অ্যামাজনে চাকরি পেয়েছেন এবং এইচ-১বি ভিসার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবু তিনি ও তাঁর বাগদত্তা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাঁর বাগদত্তার কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এইচ-১বি নির্বাচনের আর একটি সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   চাকরি বদলের ক্ষেত্রেও হিসাব করতে হয় এই ভিসায় থাকা কর্মীদের। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য এইচ-১বি কর্মী নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যেতে পারেন। তবে নতুন নিয়োগকর্তাকে তাঁর জন্য আবেদন জমা দিতে হয়। চাকরির অবস্থান বা দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলেও প্রয়োজন হতে পারে সংশোধিত আবেদন।   বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানিয়েছেন, ভিসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের চাকরি বদল, পদোন্নতি বা অন্য শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। কারও জন্য প্রশ্নটি আরও বড়: যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন কত দূর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে পরিকল্পনা করা সম্ভব?   এইচ-১বি ভিসা অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত সুযোগের পথ খুলে দেয়। তবে প্রতিবেদনটিতে উঠে আসা অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার বিষয়টি সব সময় একসঙ্গে আসে না।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১০:২৪
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও উপাদানে শূন্য শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড় দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

জর্জিয়ার কলেজ পার্কের সেই সুপার ৮ হোটেল, যেখানে শি শু পা চা রের ঘটনায় ১৬৪ মিলিয়ন ডলারের রায় হয়েছে

১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে পা চা রের মামলায় হোটেল মালিককে ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দিতে নির্দেশ

ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোসে বাংলাদেশি ফলের গাছে ভরা প্রকৌশলী জলিল খানের বাড়ির আঙিনা

হাজার মাইল দূরে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক টুকরো বাংলাদেশ, দেশীয় ফলের সাম্রাজ্য গড়েছেন ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান

৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
রিপাবলিকানরা জিতলে ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন বার্তা

প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবারও কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তার প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এই অর্থপ্রদান এখনো কোনো কার্যকর সরকারি কর্মসূচি নয় এবং বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।   ট্রাম্পের প্রস্তাবটি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামে পরিচিত। তার দাবি, শুল্কনীতি থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আসছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া সম্ভব হবে। সোমবার তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে এই অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।   তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, কবে অর্থ দেওয়া হবে এবং ঠিক কোন উৎস থেকে পুরো অর্থের জোগান দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।   প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড়। বিশ্লেষকদের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এ কারণে অর্থের উৎস এবং ফেডারেল বাজেটের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   ট্রাম্প এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী সম্মেলনে প্রথমবার এই প্রতিশ্রুতির কথা বলেন। তখন তিনি জানান, রিপাবলিকানরা নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই জয় ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে।   প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকায় এ ধরনের অর্থপ্রদানের জন্য আইনগত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে আইন আনার কথা বলেছেন।   অর্থের উৎস নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প শুল্ক থেকে আসা রাজস্বের কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু শুল্কের রাজস্ব দিয়ে ৫ হাজার ডলারের এই কর্মসূচির পুরো ব্যয় মেটানো কঠিন হবে। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অর্থের ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।   এর আগে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় শুল্ক থেকে ২ হাজার ডলার এবং সরকারি ব্যয় কমিয়ে ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের ধারণার কথা বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এবারও ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবটি কংগ্রেসের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।   তাই বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলারের কোনো নিশ্চিত পেমেন্ট চালু হয়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের সিদ্ধান্তসহ আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৮:৪০
নিউ জার্সি থেকে নিউইয়র্কের দিকে হাডসন নদীর নিচে নতুন রেল টানেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে

হাডসন টানেলের ট্রেন সংযোগ প্রকল্পে খননযন্ত্র চালু, যুক্ত হবে নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক

ব্রুকলিনের ইউটিকা অ্যাভিনিউ সাবওয়ে স্টেশনে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের দৃশ্য।

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে ব্যাগ আটকে ট্রেনের সঙ্গে টেনে নেওয়ায় ১ যাত্রীর মৃ ত্যু

নিউ ইয়র্কে নতুন ড্রাইভার? প্রথম সপ্তাহেই জেনে নিন এই ৭ নিয়ম

কানাডার পণ্যে নতুন মার্কিন নিষে ধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে
কানাডার ম দ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষে ধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের ম দ, কিছু দুগ্ধপণ্য এবং মোটরসাইকেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষে ধাজ্ঞা মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ সেপ্টেম্বর এসব আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, কানাডা মার্কিন দুগ্ধ, অটোমোবাইল ও ম দজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পরই ওয়াশিংটন নতুন এই পদক্ষেপ নেয়।   নতুন ব্যবস্থায় বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম, টেকিলা, ব্র্যান্ডি ও অন্যান্য ম দজাত পানীয়ের বেশির ভাগই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে হুই প্রোটিনসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং মোলাসেসের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। ৮০০ সিসির বেশি ইঞ্জিনযুক্ত কিছু মোটরসাইকেল ও মোপেডও তালিকায় রয়েছে।   কানাডার ম দ শিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ম দ রপ্তানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞায় বিশেষ করে ছোট উৎপাদকদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।   দুই দেশের মধ্যে এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন মার্কিন পদক্ষেপের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও খাতগুলো বাস্তব চাপের মুখে পড়বে। তবে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের তুলনায় নিষে ধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বছরে প্রায় ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়।   এদিকে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা এখনো স্থবির। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর তাড়া নেই। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ সহজে কাটছে না।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পদক্ষেপের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দুই বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক ও উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৬:২৪
অভিবাসী ও শরণার্থীদের সহায়তার তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের সুদে ছাড় পেতে অটো পে চালুর সময় শেষ বুধবার

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের সুদে ছাড় পেতে অটো পে চালুর সময় শেষ বুধবার

কানাডার মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেলে মার্কিন আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর

কানাডার মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেলে মার্কিন আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর

0 Comments