প্রাক্তন প্রেমিকাকে পথে বসানোর অভিযোগে আদালতে নিউইয়র্কের সেলিব্রিটি জুয়েলার
হলিউড সিনেমা ‘আনকাট জেমস’-এ অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া নিউইয়র্কের ডায়মন্ড ডিস্ট্রিক্টের প্রখ্যাত জুয়েলার মাকসুদ আগাদজানির বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রেমিকাকে চরম হেনস্থা ও তার জীবন ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। ৩৮ বছর বয়সী এই ধনকুবের ট্র্যাক্সএনওয়াইসি (TraxNYC)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। স্নুপ ডগ, কার্ডি বি থেকে শুরু করে মিস্টার বিস্টের মতো তারকারা তার ক্লায়েন্ট। সম্প্রতি ২৭ বছর বয়সী মেলিসা কুল্লা নামের তার এক প্রাক্তন কর্মী ও প্রেমিকা ফেডারেল আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার দুই বছর পর মাকসুদের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মেলিসার ওপর এই অমানবিক মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, মাকসুদ তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে অসংখ্য অকথ্য ও হুমকিমূলক টেক্সট মেসেজ পাঠান। এমনকি মেলিসার আলবেনিয়ান বংশপরিচয় নিয়ে কটূক্তি করে তাকে বারবার 'আলবেনিয়ান মাঙ্কি' এবং 'স্টুপিড মাঙ্কি-ব্রেইনড' বলে চরম বর্ণবাদী গালিগালাজ করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মাকসুদ পুনরায় তাদের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মেলিসা যখন কমেডিয়ান পিট ডেভিডসনের মতো পুরুষ সেলিব্রিটি ক্লায়েন্টদের সাথে পেশাগত কারণে কথা বলতেন, তখন মাকসুদ ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে অকারণে অপদস্থ করতেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর মাকসুদ হঠাৎ বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেলিসা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, আর এরপর থেকেই শুরু হয় এই ভয়ংকর মানসিক নির্যাতন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, গালিগালাজ ও মানসিক চাপের কারণে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মেলিসা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাতেও মাকসুদের প্রতিহিংসা থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাখ লাখ অনুসারীকে ব্যবহার করে তিনি মেলিসাকে ডায়মন্ড ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুরোপুরি বয়কট করার ব্যবস্থা করেন। যেসব ব্যবসায়ী মেলিসার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছেন, তাদেরও প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি। মাকসুদ ইনস্টাগ্রামে তার ৪১ লাখ ফলোয়ারের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা দিয়ে মেলিসার চরিত্র নিয়ে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং তাকে পথে বসানোর প্রকাশ্য হুমকি দেন।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে মেলিসা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং আদালতের কাছ থেকে একটি সুরক্ষা আদেশ (অর্ডার অব প্রটেকশন) লাভ করেন। কিন্তু মাকসুদ আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে মেলিসার রুমমেটকেও হেনস্থা করেন। এমনকি 'মিকি বি' নামের তৃতীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেলিসার অত্যন্ত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত তথ্য ইউটিউবে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। মেলিসার আইনজীবী মিশেল কাইওলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও যত ফলোয়ার বা প্রভাবই থাকুক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ক্রমাগত এমন ভয়ংকর হুমকির কারণে মেলিসা বর্তমানে গভীর বিষণ্নতা ও আত্মঘাতী চিন্তায় ভুগছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথমবার গাড়ি চালাতে নামলে শুধু রাস্তা চিনলেই হয় না। কোথায় কত গতিতে চলবেন, কোন সাইনে পার্কিং নিষিদ্ধ, টোল কীভাবে দিতে হবে - এসব না জানলে জরিমানা ও বাড়তি খরচ হতে পারে। নতুন ড্রাইভারদের জন্য সাতটি বিষয় বিশেষভাবে জরুরি। প্রথমত, স্পিড লিমিটের সাইন দেখুন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে সাইনে ভিন্ন কিছু লেখা না থাকলে সাধারণ স্পিড লিমিট ঘণ্টায় ২৫ মাইল। তবে কিছু এলাকায় এবং স্কুলের কাছে সীমা কম। সব স্কুল জোনের সীমা ১৫ মাইল নয়, তাই নির্দিষ্ট রাস্তার সাইন অনুসরণ করুন। স্কুল জোনের স্পিড ক্যামেরায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি ধরা পড়লে ৫০ ডলারের টিকিট আসতে পারে। ক্যামেরার টিকিটে ড্রাইভার লাইসেন্সে পয়েন্ট যোগ হয় না। দ্বিতীয়ত, পার্কিং সাইন ভালো করে পড়ুন। ‘নো স্ট্যান্ডিং’, ‘নো পার্কিং’ এবং রাস্তা পরিষ্কারের জন্য ‘অল্টারনেট সাইড পার্কিং’ এক নিয়ম নয়। সাইনে লেখা দিন ও সময় দেখে গাড়ি রাখুন। ফায়ার হাইড্র্যান্টের ১৫ ফুটের মধ্যে পার্কিংও নিষিদ্ধ। পার্কিং জরিমানার অঙ্ক নিয়ম ও জায়গাভেদে বদলায়; কোনো নিয়মভঙ্গের জন্য একটিই নির্দিষ্ট জরিমানা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তৃতীয়ত, উবার বা লিফট চালানোর পরিকল্পনা থাকলে আগে লাইসেন্সের শর্ত বুঝুন। ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে যাত্রী পরিবহন শুরু করা যায় না। এর জন্য ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের, সংক্ষেপে টিএলসির, ড্রাইভার লাইসেন্স প্রয়োজন। গাড়ি ও যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাইড দেওয়া হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও টিএলসির নিয়ম প্রযোজ্য। চতুর্থত, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স চালু আছে কি না নিশ্চিত করুন। নিউ ইয়র্কে গাড়ির জন্য নির্ধারিত লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক। প্রিমিয়াম ড্রাইভার ও গাড়িভেদে অনেক বদলায়, তাই নতুন ড্রাইভারের মাসিক খরচ নির্দিষ্ট অঙ্কে বলা যায় না। পলিসি নেওয়ার আগে কয়েকটি কোম্পানির কভারেজ ও কোট তুলনা করুন; মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করুন। পঞ্চমত, টোলের হিসাব রাখুন। ভেরাজানো-ন্যারোজ ব্রিজ ও কুইন্স-মিডটাউন টানেলের মতো পথে টোল লাগে। নিউইয়র্কের ই-জিপাস অ্যাকাউন্টে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ‘টোলস বাই মেইল’-এর চেয়ে কম রেট পাওয়া যায়। তবে ই-জিপাস ট্যাগ সব পদ্ধতিতে বিনা খরচে পাওয়া যায় না; অ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রযোজ্য শর্ত ও ব্যালেন্স দেখে নিন। ষষ্ঠত, আবহাওয়া অনুযায়ী গাড়ি চালান। নিউইয়র্ক স্টেটের ডিএমভির নিয়ম অনুযায়ী বৃষ্টি, তুষার বা কুয়াশার কারণে উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ব্যবহার করতে হলে হেডলাইটও জ্বালাতে হবে। ভেজা বা বরফঢাকা রাস্তায় গতি কমিয়ে সামনে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখুন। সপ্তমত, টিকিট পেলে তার তারিখ দেখুন। পার্কিং বা ক্যামেরার টিকিট পরিশোধ করতে পারেন, কিংবা ভুল মনে হলে শুনানির আবেদন করতে পারেন। নিউ ইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স জানিয়েছে, টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির আবেদন করলে বিলম্বজনিত জরিমানা এড়ানো যায়। টিকিট ফেলে রাখলে বাড়তি জরিমানা যোগ হতে পারে।
কানাডার ম দ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষে ধাজ্ঞা
অভিবাসী-শরণার্থীদের সহায়তায় বরাদ্দ ৮১০ মিলিয়ন ডলার বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের সুদে ছাড় পেতে অটো পে চালুর সময় শেষ বুধবার
কানাডা থেকে নির্দিষ্ট কিছু মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আজ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হয়েছে। চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঘোষিত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর ২০২৫ সালের আমদানিমূল্য প্রায় ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের হিসাব অনুযায়ী। এর ৮৭ শতাংশ মদজাতীয় পানীয়। এটি আগের বছরের আমদানি ধরে করা হিসাব; আজ সীমান্তে আটকে দেওয়া পণ্যের মূল্য নয়। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় তালিকাভুক্ত কানাডীয় পণ্যের আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের মধ্যে রয়েছে দুধ থেকে তৈরি হুইজাতীয় কিছু পণ্য। মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক কুইবেকের প্রতিষ্ঠান বিআরপি জানিয়েছে, তাদের তিন চাকার ক্যান-অ্যাম স্পাইডার ও ক্যানিয়ন মডেল নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। তবে চলতি মৌসুমের বেশির ভাগ উৎপাদন ও চালান শেষ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরের আগে বড় প্রভাব আশা করছে না। বিরোধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের পণ্যে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। জবাবে কানাডা ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক কার্যকর করেছে। কানাডার অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যভেদে সেই শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ। হোয়াইট হাউসের দাবি, মার্কিন মদ, দুগ্ধপণ্য ও যানবাহনের প্রতি কানাডার আচরণ বৈষম্যমূলক। অন্যদিকে কানাডা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবেই তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। দুই দেশের এই বিরোধের মধ্যেই এবার কিছু কানাডীয় পণ্যে শুল্কের বদলে সরাসরি আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো। নিষেধাজ্ঞায় তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে এপিকে জানিয়েছেন বাণিজ্য আইনজীবী প্যাট্রিক চাইল্ড্রেস। তাঁর যুক্তি, তালিকাভুক্ত অনেক পণ্যে আগে থেকেই ৫০ শতাংশ শুল্ক ছিল, যা সেগুলোর আমদানি ব্যয়বহুল করে তুলেছিল। তবে নতুন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ল।
নিউইয়র্কের সরকারি ভবনে প্রায় ৪ হাজার এফোর্ডেবল হাউসিং নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
ট্রাম্প এতই জঘন্য যে, আমার লেখা যেকোনো ভয়ের গল্পের চেয়েও তা ভয়ংকর : স্টিফেন কিং
রেস্তোরাঁয় খেয়ে বিল ফাঁকি: গ্রাহকদের শায়েস্তা করতে সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করছেন নিউইয়র্কের মালিকরা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের স্টেটেন আইল্যান্ডে পার্সেল ডেলিভারি দিতে যাওয়া এক নারীকে বন্দুকের মুখে ধর্ষণের অভিযোগে চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডঙ্গান হিলস এলাকায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই নির্মম যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গত সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, সাঁইত্রিশ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত কিশোর একে অপরের সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। ভয়ংকর এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পুলিশ সন্দেহভাজনের একটি স্কেচ প্রকাশ করে তাকে খুঁজছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে ডঙ্গান হিলস অ্যাভিনিউ এবং জেফারসন স্ট্রিট এলাকায় ওই নারী একটি পার্সেল ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মাস্ক এবং হুডি পরা ওই কিশোর তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। অভিযুক্ত কিশোরের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং ওজন দুইশ পাউন্ডের কাছাকাছি হওয়ায় সে শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল। আচমকা সে ওই নারীর মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করে এবং এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। জঘন্য এই অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই ওই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে ওই নারী ঘটনার সময় নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারি কোম্পানির হয়ে কাজ করছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে বয়স কম হওয়ায় অভিযুক্ত কিশোরের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হামলা, যৌন নিপীড়ন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে ভিসা ইন্টারভিউ, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মা ও তার প্রেমিককে হত্যায় ১৮ বছরের তরুণীর ৫০ বছরের কারাদণ্ড