আমেরিকা

১২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার, ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৭:৪৮
১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা I ছবি: সংগৃহীত
১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ বছর বসবাসের পর হন্ডুরাসের নাগরিক মার্গারিটা মেলগারকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে যেতে হয়েছে ১০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক কন্যাকেও, যে এর আগে কখনো হন্ডুরাসে যায়নি। তবে পরিবারের অপর দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ায় পরিবারটি এখন দুই দেশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পারিবারিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে হন্ডুরাস ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করেন মার্গারিটা মেলগার। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিল দুই কন্যা। এরপর তিনি ম্যাসাচুসেটসে বসবাস শুরু করেন এবং নিয়মিতভাবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে হাজিরা দেন। পাশাপাশি তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং করও পরিশোধ করতেন।

 

পরিবারের আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া তাঁর প্রতিবন্ধী কন্যার দেখভালের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন অভিবাসন আপিল বোর্ডে বিচারাধীন ছিল। সেই সঙ্গে বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করলে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।

 

তবে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো মামলায় পুনর্বিবেচনার আবেদন বিচারাধীন থাকলেই বহিষ্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয় না। আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে পৃথকভাবে স্থগিতাদেশ না থাকলে চূড়ান্ত বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর করা আইনগতভাবে সম্ভব।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মার্গারিটাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি একাই হন্ডুরাসে ফিরবেন, নাকি তাঁর ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে, তাঁর ২০ বছর বয়সী কলেজপড়ুয়া বড় মেয়ে এবং ১৭ বছর বয়সী আরেক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান।

 

পরিবারের বর্ণনায় জানা যায়, বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। ছোট্ট মেয়েটি তার প্রিয় খেলনা ও বিশ্বকাপের স্টিকার বই সঙ্গে নিয়ে অপেক্ষা করছিল, আর পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান।

 

এদিকে, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) অতীতেও জানিয়েছে, তারা পরিবার বিচ্ছিন্ন করার নীতি অনুসরণ করে না। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে কোনো অভিভাবকের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু অভিভাবকের সঙ্গে যাবে নাকি স্বজনদের কাছে থাকবে—সে সিদ্ধান্ত পরিবারের ওপরই নির্ভর করে।

 

অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, বাস্তবে এমন সিদ্ধান্তের কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও সামাজিক প্রভাব পড়ে।

 

মার্গারিটা মেলগারের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নির্দিষ্ট কোডযুক্ত ডিম না খাওয়ার এবং দোকানে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এফডিএ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ১৫ লাখের বেশি ডিম, না খাওয়ার কড়া নির্দেশ দিল এফডিএ

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কায় বাজার থেকে প্রত্যাহার করা ১৫ লাখেরও বেশি ডিমের ওপর সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্লাস ১’ (Class 1) সতর্কতা জারি করেছে। গত জুলাই মাসে এই ডিমগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্থাটি এই কড়া সতর্কতা জারি করে।   গত ১২ আগস্ট এফডিএ-এর পক্ষ থেকে এই সতর্কতা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কা থাকলে সেটিকে ‘ক্লাস ১’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়। এই সতর্কতা থেকে স্পষ্ট যে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ হতে পারে।   এর আগে জুলাই মাসে মিডওয়েস্ট পোল্ট্রি সার্ভিসেস, এল.পি. প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৭টি সাদা এবং বাদামি রঙের খোসাযুক্ত ডিম রয়েছে। এসব ডিম ক্রোগার (Kroger), সিম্পল ট্রুথ (Simple Truth) এবং কান্ট্রি মর্নিং (Country Morning)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করা হয়েছিল।   জানা গেছে, ডিমগুলো মূলত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে উৎপাদন করা হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এই ডিমগুলো ছড়িয়ে পড়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাস।   প্রত্যাহার করা ডিমের কার্টন বা প্যাকেটের বাম অথবা ডান দিকে কালির ছাপ দেওয়া নির্দিষ্ট কোড লেখা রয়েছে। এফডিএ জানিয়েছে, যেসব প্যাকেটে P-1950 বা 0840962 কোড রয়েছে এবং সাথে জুলিয়ান তারিখ (Julian Date) ১৫৭ থেকে ১৮৪ উল্লেখ করা আছে, কেবল সেই ডিমগুলোই এই সতর্কতার আওতায় পড়বে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নির্দিষ্ট ডিমগুলো কেনা গ্রাহকদের তা না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর বদলে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ফেরত দিয়ে পুরো অর্থ বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ডিম খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।   সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত খাবার খেলে সালমোনেলোসিস নামের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দূষিত খাবার খাওয়ার ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, ডায়রিয়া বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই অসুস্থতা এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হলেও বেশিরভাগ মানুষ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২২:৭
টিকাদানের হার কমে যাওয়াকে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে হাম, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

উচ্চ সুদের হার ও বাড়ির দাম আবাসন বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির সবচেয়ে খারাপ সময় এখন? নতুন প্রতিবেদনে যা জানা গেল

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া বুঝে প্রস্তুতি নিলে বাড়তে পারে সফলতার সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে

সন্দেহভাজন ৩৯ বছর বয়সী বন্দুকধারী চাদ হিকম্যান, যার মৃতদেহ পরবর্তীতে উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৫, পরে হামলাকারীরও লাশ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিসাউকি কাউন্টিতে একাধিক স্থানে সংঘটিত গুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজনকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।   মিশিগান স্টেট পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে এপি, আপ নর্থ লাইভ এবং অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগে মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   প্রাথমিক তদন্ত চলাকালে পুলিশ আরও দুটি পৃথক স্থানে মরদেহ খুঁজে পায়। এর মধ্যে একটি মরদেহ হুইটলক লেকের কাছের বনাঞ্চলে এবং আরেকটি একটি পৃথক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এতে নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়।   ঘটনার পর ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যানকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে মিশিগান স্টেট পুলিশ। তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে সতর্কবার্তা দিয়ে এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে হুইটলক লেকের কাছাকাছি তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হলে সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, "এটি শুধু তদন্তকারীদের জন্য নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাব এবং তদন্তে যা সামনে আসবে, সে বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত জানানো হবে।"   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় এবং সন্দেহভাজনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। নিহতদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর পরিচয় জানানো হবে। হামলার উদ্দেশ্যও এখনো স্পষ্ট নয়।   পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং একাধিক অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।   সূত্র: এপি, আপ নর্থ লাইভ, মিশিগান স্টেট পুলিশ।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২০:৪৯
ফ্লোরিডায় ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর আকুতি, আইসিইর হেফাজত থেকে স্বামীকে ফেরত চান তিনি

ফ্লোরিডায় ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর আকুতি, আইসিইর হেফাজত থেকে স্বামীকে ফেরত চান তিনি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩১ বছর বয়সেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের রাজপ্রাসাদ কিনলেন এআই বিজ্ঞানী টনি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩১ বছর বয়সেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের রাজপ্রাসাদ কিনলেন এআই বিজ্ঞানী টনি

যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে সারাজীবনের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্নের বাড়ি, এক মাস পরই ভাঙার নোটিশ পেলেন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে সারাজীবনের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্নের বাড়ি, এক মাস পরই ভাঙার নোটিশ পেলেন দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি অধিগ্রহণের কবলে পড়ে নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি হারাতে বসেছেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এর মধ্যে রয়েছেন মার্ক ও জোন হেনডেল দম্পতি, যারা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেপ কড এলাকায় নিজেদের অবসরের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন।   কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িতে ওঠার মাত্র এক মাসের মাথায় সরকারি এক নোটিশে তাদের জানানো হয়, নতুন সাগামোর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তাদের নবনির্মিত বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে। ‘এমিনেন্ট ডোমেইন’ বা জনস্বার্থে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা হেনডেল দম্পতির মতো আরও অনেক পরিবারকে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।   ২০২৩ সালের শেষের দিকে এই দম্পতি জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের চুক্তি করেছিলেন এবং দূর থেকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তারা নতুন বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর জীবন যখন গুছিয়ে আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের ওই চিঠি তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।   জানা যায়, কেপ কডের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সাগামোর ও বর্ন নামের প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো দুটি জরাজীর্ণ সেতুর বদলে নতুন সেতু নির্মাণের জন্যই এই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ট্রিপ বহনকারী এই সেতুগুলোর ওপর স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা ও হারিকেন থেকে বাঁচতে আশ্রয়প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।   তাই রাজ্য পরিবহন দপ্তরের মতে, অর্থনৈতিক ও বাস্তবিক কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি বাড়ি ও তিনটি বাণিজ্যিক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তত ১১টির মালিকানা ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে চলে গেছে।   আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণের শিকার সম্পত্তির মালিকদের ন্যায্য বাজারমূল্য ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হলেও, বর্তমান তীব্র আবাসন সংকটের যুগে এই ক্ষতিপূরণ মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ম্যাসাচুসেটস একটি 'কুইক টেক' অঙ্গরাজ্য হওয়ায় সরকার চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগেই সম্পত্তির আইনি দখল নিতে পারে, যার ফলে ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে মালিকরা এক ধরনের ঝুলন্ত অবস্থায় পড়েন।   এছাড়া কেপ কড এলাকার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী নতুন নির্মিত বাড়ির ব্যাপক সংকট রয়েছে এবং দামও আকাশছোঁয়া। মার্ক হেনডেলের মতে, সরকার যদি ক্ষতিপূরণ হিসেবে বড় কোনো বাড়িও দেয়, তারপরও বাড়তি সম্পত্তি কর ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বোঝা তাদেরই টানতে হবে, যা তাদের অবসর জীবনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে সারাজীবনের জমানো অর্থে গড়া স্বপ্নের বাড়ি হারানোর এই অপরিসীম মানসিক ও বাস্তবিক ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৭:৩৫
নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে

নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধায় ৩ লাখ ডলারে তৈরি হচ্ছে অজুর স্থান

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধায় ৩ লাখ ডলারে তৈরি হচ্ছে অজুর স্থান

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে প্রোপার্টি ট্যাক্স ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন বাড়ির মালিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে প্রোপার্টি ট্যাক্স ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন বাড়ির মালিকরা

0 Comments