দুই বছর আত্মগোপনের পর নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে দেখা মিলল শামীম ওসমানের
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত ও পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেখা মিলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে এলেন নারায়ণগঞ্জের এই সাবেক দাপুটে নেতা। তার আকস্মিক উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার স্থানীয় ফটোসাংবাদিক নেহের সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শামীম ওসমানের একটি ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত উদাসী ভঙ্গিতে ধূমপান করছেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের আড়ালে থাকা এই নেতার এমন ভিন্ন রূপের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ ছাড়ার পর গত দুই বছর তিনি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে আত্মগোপন করেছিলেন, তা নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে শামীম ওসমানকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা যায়। ওই ছবিতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন তিনি। পতিত সরকারের একজন পলাতক ও আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্যের এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শাহ মো. আরদি নামের এক বাংলাদেশি তরুণ আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই তরুণের দেশের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একজন আইটি পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নিউইয়র্কের মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আরদি। পথিমধ্যে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে পৌঁছালে তিনি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ প্রাণ। নিহত শাহ মো. আরদি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে। নিজের ও পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় তিনি দেশটিতে কর্মরত ছিলেন। তরতাজা এই তরুণের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তাঁর নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে ইতালিতে ১৩ হাজার ডলারে বাড়ি, নতুন ঠিকানায় মার্কিন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ
কলেজে না পড়েও যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২ লাখ ডলার আয়, খুলছে নতুন ক্যারিয়ার পথ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কার্যক্রম সমন্বয় করতে নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে “সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স”। এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং প্রযুক্তিটির সুফল সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। টাস্কফোর্সে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, পেন্টাগনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একই সঙ্গে ব্যাপক বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এআই উন্নয়নে স্বনিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে একটি স্বেচ্ছামূলক সমঝোতার কথাও সামনে এসেছে। নতুন টাস্কফোর্স শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে না। ট্রাম্পের ঘোষণায় ভোক্তা, জনস্বার্থবিষয়ক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও জাতীয় সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়েও ফেডারেল পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভার্জিনিয়ায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘অমানুষ’, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় প্রথমবার তমালিকা ও সাঈদ বাবু
মেরিল্যান্ডে বাড়িভাড়ার চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, ২১ শতাংশ দারিদ্র্যের পেছনে আবাসন ব্যয়
জিম্মি উদ্ধারে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগ ট্রাম্পের, দায়িত্ব পেলেন বেলারুশে সফল আলোচক জন কোয়েল
বাংলাদেশের পরিচিত শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্নেকহেড’ নামে পরিচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এই মাছ কিনে বা মাছ ধরে খেয়ে থাকেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নেকহেড মাছ খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। আসলে যুক্তরাষ্ট্রে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়া কি নিষিদ্ধ, নাকি বিষয়টি অন্য কিছু? সরকারি তথ্য বলছে, বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে খাবার হিসেবে মাছটি এবং জীবিত স্নেকহেড মাছ নিয়ে পরিবেশগত আইনকে আলাদা করে দেখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএর সিফুড তালিকায় বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। এ মাছের গ্রহণযোগ্য বাজারজাত নাম হিসেবে ‘Channa’ ও ‘Snakehead’ উল্লেখ রয়েছে। একই তালিকায় ‘Shoil’ নামটিও এই প্রজাতির সঙ্গে পরিচিত নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের শোল মাছ এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত স্নেকহেডের মধ্যে সরাসরি প্রজাতিগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে ‘স্নেকহেড’ একটি সাধারণ নাম, এর অধীনে একাধিক প্রজাতির মাছ রয়েছে। যেমন Northern Snakehead-এর বৈজ্ঞানিক নাম Channa argus, আর বাংলাদেশের শোল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Channa striata। তাই কোনো স্নেকহেড মাছ দেখেই সেটিকে বাংলাদেশের শোল মাছ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাছের প্রজাতি শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্নেকহেড মাছ কি যুক্তরাষ্ট্রে খাওয়া নিষিদ্ধ? এফডিএর বর্তমান সিফুড তালিকায় Channa striata খাবার হিসেবে বাজারজাত হওয়া মাছের তালিকায় রয়েছে। তাই ‘যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড মাছ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ এমন সাধারণ দাবি সরকারি তথ্যের সঙ্গে মেলে না। তবে স্নেকহেড মাছের ক্ষেত্রে খাবারের নিরাপত্তা এবং জীবিত মাছ নিয়ে পরিবেশগত নিয়ম আলাদা বিষয়। স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ অবস্থায় না খাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মিঠাপানির মাছের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নির্দিষ্ট পরজীবী পাওয়া যায়, সেখানকার মিঠাপানির মাছ কাঁচা বা কম রান্না করে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মাছের ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রান্না করা নিরাপদ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। শুধু লবণ দেওয়া, ধোঁয়ায় শুকানো বা আচার করার মতো পদ্ধতিকে পরজীবী ধ্বংসের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা উচিত নয়। ফলে শোল বা স্নেকহেড মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে ভালোভাবে রান্না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার বিষয়। আর যারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেরাই মাছ ধরে খান, তাদের জন্য আরও একটি বিষয় জানা জরুরি। মাছটি কোন জলাশয় থেকে ধরা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা বলছে, বিভিন্ন হ্রদ ও নদীর মাছের মধ্যে পারদ ও পিসিবির মতো দূষক থাকতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে ধরা মাছ খাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার বিষয়ে কোনো সরকারি সতর্কতা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। জর্জিয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস বলছে, রাজ্যে স্নেকহেড মাছের যেকোনো প্রজাতি আমদানি, পরিবহন, বিক্রি, হস্তান্তর বা নিজের কাছে রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণী লাইসেন্সের নিয়ম রয়েছে। তাই কেউ মাছ ধরে ফেললে সেটিকে অন্য কোথাও জীবিত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া বা স্থানান্তর করার আগে রাজ্যের নিয়ম জানা জরুরি। এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য মাছটির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা, খাবার হিসেবে মাছটি বিষাক্ত—এমন ঘোষণা নয়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘স্নেকহেড মাছ খাওয়া যায় না’ ধরনের সরল দাবি দিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের শোল মাছ যুক্তরাষ্ট্রে স্নেকহেড নামে পরিচিত এবং এফডিএর সিফুড তালিকায় Channa striata রয়েছে। তবে মাছটি কাঁচা বা আধাসেদ্ধ না খাওয়া, যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না করা এবং নিজে মাছ ধরলে সংশ্লিষ্ট জলাশয়ের মাছ খাওয়ার সরকারি সতর্কতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মূল সতর্কতাটি তাই আতঙ্কের নয়, সচেতনতার। শোল মাছ খাওয়ার আগে মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়াই নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নিজে ধরা মিঠাপানির মাছের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারি মাছ খাওয়ার পরামর্শও বিবেচনায় রাখা উচিত।
খাওয়া-ঘোরা আর সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার চাকরি, ১০ দিনেই মিলবে ১০ হাজার ডলার
সোশ্যাল সিকিউরিটির নতুন আপডেট আসছে অক্টোবরে, ভাতার সঙ্গে বদলাবে আয়ের লিমিটও