আন্তর্জাতিক

অভিবাসন ইস্যুতেই গরম হচ্ছে ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১৯:৫১
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আলোচিত প্রার্থীরা
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আলোচিত প্রার্থীরা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী রাষ্ট্র ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি, অর্থনৈতিক দিক-নির্দেশনা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করায় সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে আর প্রার্থী হতে পারছেন না। ফলে ক্ষমতার শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য ফ্রান্স এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেছে, যা প্রধান দলগুলোকে তাদের কৌশল পুনর্গঠনে বাধ্য করছে।

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাধারণত দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সাংবিধানিক সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম দফার ভোট ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জরিপভিত্তিক বিশ্লেষণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে দেশটির সংবেদনশীল ‘অভিবাসন ইস্যু’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন প্রবাহ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

 

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ অভিবাসন ইস্যুকে তাদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনেছে। দলটি নতুন অভিবাসন কমানো, পরিবার পুনর্মিলনের শর্ত কঠোর করা এবং নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও জটিল করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

 

তবে ডানপন্থি শিবিরের মূল নেতৃত্ব নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; দলটির প্রধান মুখ মেরিন ল্য পেন বর্তমানে একটি আইনি আপিল প্রক্রিয়ার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। আদালতের রায়ে তিনি যদি অযোগ্য ঘোষিত হন, তবে দলটির সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব হিসেবে জর্দান বারদেলার নাম সামনে আসছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থি শিবির দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বৈধ অভিবাসন চালু রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারসাম্যপূর্ণ নীতির কথা বলছে এবং বামপন্থি দলগুলো একে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

এই নির্বাচনী টানাপোড়েনের কারণে ফ্রান্সে বসবাসরত বিশাল অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ ও আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিট, নাগরিকত্ব এবং পরিবার পুনর্মিলন সংক্রান্ত নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তাদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

 

তবে ফরাসি প্রশাসনিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে কার্যকর অভিবাসন নীতিই অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে তা যথাযথ আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের ২০২৭ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি কাঠামো নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

 

সূত্রঃ যুগান্তর 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অস্ত তৈরি প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত।
অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ

ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পে যুক্তরাজ্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জোরদার করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিরক্ষা-নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজন—এই তিনটি বিষয় ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যকে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক বলা সঠিক হবে না। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২১–২৫ সময়ে যুক্তরাজ্য প্রধান প্রচলিত অস্ত্রের রপ্তানিতে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে ছিল।   ব্রিটেনের বর্তমান উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা। ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশলে ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যকে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির দিকে যেতে হবে।   এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি গোলাবারুদ, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্র, কামান ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যুদ্ধযান এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করে। কোম্পানিটির অর্ডার-বই ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন অর্ডার পেয়েছে এবং মোট অর্ডার-বই প্রায় ৮৪ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।   বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এ বিএই সিস্টেমস ২০২৬ সালের পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১০–১২ শতাংশে উন্নীত করে। কোম্পানির পণ্য তালিকায় রয়েছে যুদ্ধযান, গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, কামান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি।   ক্ষেত্রবিশেষে ব্রিটেনের সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে। এমবিডিএ যুক্তরাজ্য ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং যুক্তরাজ্যে জটিল ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থা নকশা, উৎপাদন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষাগারেও পরিণত হয়েছে।   ব্রিটেন ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডোসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য ড্রোন সরবরাহ বাড়াতে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং ওই বছর এক লাখ ড্রোন সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।   ২০২৬ সালে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, চালকবিহীন ব্যবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।   যুক্তরাজ্য এখন নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও আরও বাড়াতে চাইছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য নতুন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে।   এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো তুলনামূলক কম খরচে দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা। ২০২৬ সালে ব্রিটিশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর্যায়ে যায়, যেগুলোর লক্ষ্য অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত করা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ে দ্রুত বড় সংখ্যায় তৈরি করা। এই প্রবণতা দেখায়, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে ব্যাপক হারে উৎপাদনযোগ্য ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে।   ড্রোন খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগস্ট ২০২৬-এ ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ইউক্রেনীয় বাহিনীর মাধ্যমে রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার খবর সামনে আসে। ব্রিটিশ সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে এক লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এসব ঘটনা ব্রিটিশ ড্রোন শিল্পকে সামরিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করছে।   তবে ব্রিটেনের অস্ত্রশিল্পকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—দেশটি এখনও সব ধরনের অস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়লেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, উপাদান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বেড়েছে। ২০২১–২৫ সময়ে ইউরোপ বিশ্বের মোট প্রধান অস্ত্র আমদানির ৩৩ শতাংশ গ্রহণ করেছে, যা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ২১০ শতাংশ বেশি।   ব্রিটেন নিজেও বড় অস্ত্র আমদানিকারক হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইউরোপে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের পর যুক্তরাজ্য ছিল প্রধান অস্ত্র আমদানিকারকদের অন্যতম। এর অর্থ হলো ব্রিটেনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিজস্ব সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি প্রযুক্তি ও অস্ত্রের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে।   অন্যদিকে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ। ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় আগামী চার বছরে পারমাণবিক আধুনিকায়নে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে ড্রেডনট শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ, নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো প্রকল্প রয়েছে।   সব মিলিয়ে, “যুক্তরাজ্য অস্ত্র উৎপাদনে একটি শক্তিধর দেশ হয়ে উঠছে”—এই বক্তব্যের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। কিন্তু এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদক বলা যাবে না। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালির মতো কয়েকটি দেশ প্রধান অস্ত্র রপ্তানিতে ব্রিটেনের ওপরে রয়েছে।   বর্তমান প্রবণতা অবশ্য দেখাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট ব্রিটেনকে দীর্ঘদিনের তুলনায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ, বিএই সিস্টেমস ও এমবিডিএর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের অর্ডার বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার এবং নতুন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র প্রকল্প—সব মিলিয়ে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শিল্প আবারও ইউরোপের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সামনে আসছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৬:৪৯
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বড় হুমকি, সহায়তা করলে দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির সতর্কতা

মার্কিন মুদ্রা ছবি:সংগৃহীত

যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন হ্যারি-মেগান, ছয় বছর পর কেন আবার যুক্তরাজ্যে ফিরছেন তারা?

একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি
একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই তেহরানের অনুরোধে নির্দিষ্ট কিছু ইরানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের করা একটি তথ্যের অধিকার (ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্ট বা ফোয়া) সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই গোপন নথিগুলো প্রকাশ্যে আসে।   এতে দেখা যায়, ইসরায়েলে অবস্থিত আইসিই কার্যালয়, কাতার সরকার এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করছিল। এই বিষয়টিকে অনেকেই অত্যন্ত বিতর্কিত বলে মনে করছেন, কারণ যে সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানিদের স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্ত করার কথা বলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই তারা বিরোধী মতাবলম্বীদের একই সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছিল।   নথিগুলো থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইসিই-এর এক কর্মকর্তা ইমেইলে নিশ্চিত করেন যে, ইরান দূতাবাস নির্দিষ্ট তিনজনের জন্য ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করেছে এবং তাদের ২৯ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছে। আইসিই কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বন্দিশিবির থেকে এই ইরানিদের জড়ো করে তেহরানের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন।   সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফেরত পাঠানো এই ইরানিদের মধ্যে প্রকাশ্যে সমকামী এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তিরাও ছিলেন, যা ইরানের আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইমেইলগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সরাসরি হোয়াইট হাউসের নির্দেশে বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। এমনকি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও আইসিই ভুল করে এক ইরানিকে ওই ফ্লাইটে তুলে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল।   ২০২৫ সালের আগস্টে কাতারের মাধ্যমে ইরানিদের ফেরত পাঠানোর একটি পরিকল্পনা করা হলেও দুই দেশের মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শেষে সফলভাবে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক দূতাবাস না থাকায় ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে ইরানি কূটনীতিকরা এসব বিষয় পরিচালনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।   আইসিই-এর হেফাজতে থাকা ইরানিদের অভিযোগ, এক ইরানি কূটনীতিক তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। আইসিই মোট ১০০ জনেরও বেশি ইরানিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল, যাদের মধ্যে অনেককে ইরানে পৌঁছানোর পরপরই সেদেশের গোপন পুলিশ তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করে। সবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৮:৫১
রাশিয়ায় ‘চরমপন্থী’ তকমা পেয়ে ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠীর কার্যক্রম বন্ধ

রাশিয়ায় ‘চরমপন্থী’ তকমা পেয়ে ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠীর কার্যক্রম বন্ধ

স্কটল্যান্ডের ক্যামবাসল্যাং শহরের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণী এরিন ল্যাভেরি I ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারকে হারিয়ে জীবন ফিরে পেয়েছেন, এবার মা হতে চান তরুণী, প্রয়োজন ১০ হাজার ডলার

পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ নি হত ৭

‘সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না’, ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তান I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না’, ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তান

বলিউড সিনেমা বা তথ্যচিত্র বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা কিংবা ইতিহাস বদলে ফেলা একেবারেই অসম্ভব বলে কড়া মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। ভারতের তৈরি ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামক একটি সাম্প্রতিক তথ্যচিত্রের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।   সংস্থাটির দাবি, ভারত তাদের সামরিক ব্যর্থতা ও পরাজয় স্বীকার না করে নাটকীয় ও সিনেমাটিক উপায়ের আশ্রয় নিয়ে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে নতুন রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।   পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মতে, তথাকথিত ওই তথ্যচিত্রে ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত ঘটনার মাধ্যমে নিজেদের একতরফা জয় হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং বাস্তবতাবহির্ভূত। সত্য গোপন করার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই ভিডিওটিকে একই সঙ্গে একটি ট্র্যাজেডি এবং কমেডি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাদের মতে, ভারত মূলত নিজেদের জনগণের কাছে মুখরক্ষার জন্যই বারবার এ ধরনের কল্পকাহিনির আশ্রয় নিচ্ছে।   আইএসপিআর তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ‘মারকা-ই-হক’ এবং পাকিস্তানের পাল্টা পদক্ষেপ ‘অপারেশন বুনিয়ানোম মারসুস’-এর প্রকৃত নথি, বৈশ্বিক প্রতিবেদন এবং ভারতের নিজস্ব স্বীকারোক্তিই ওই যুদ্ধের আসল সত্য তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট। সেখানে ভারতের একাধিক সামরিক বিমান ভূপাতিত করা এবং ২৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার যে ইতিহাস পাকিস্তান রচনা করেছে, তা কখনোই ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।   কোনো ধরনের সিনেমাটিক কারসাজি বা অপপ্রচার চালিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের চরম সত্য ও পরাজয়কে জয়ে রূপান্তর করা যায় না উল্লেখ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে ভারত এমন কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার আরও কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৫:৫৯
‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’, ইসলাম গ্রহণের খবরে রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমাম I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’, ইসলাম গ্রহণের খবরে রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমাম

৭০ বছরের তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে না করায় ১৭ বছরের কিশোরী ২১ মাস ধরে কারাগারে

৭০ বছরের তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে না করায় ১৭ বছরের কিশোরী ২১ মাস ধরে কারাগারে

শিশু হিন্দ রাজাব I ছবি: সংগৃহীত

গাজায় শিশু হিন্দ রাজাব হ ত্যার কথা স্বীকার করল ই সরায়েলি সেনাবাহিনী, শুরু হচ্ছে ফৌজদারি তদন্ত

0 Comments