৩০ বছরে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত, চীনের সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নানজিং শহরের একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন অঞ্চলের সাবেক কর্মকর্তা ইয়াং ইউলিনকে প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ঘুষ গ্রহণসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। প্রায় তিন দশক ধরে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সোমবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।
চীনের জিয়াংসু প্রদেশের চাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট জানিয়েছে, ইয়াং ইউলিন ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যবসায়িক সুবিধা, জমি বরাদ্দ এবং অর্থায়নের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ ও সম্পদ অবৈধভাবে গ্রহণ করেন।
আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধের পাশাপাশি তিনি আত্মসাৎ, সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে ফেরত আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত বলেছে, দুর্নীতির পরিমাণ, দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধ সংঘটন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর এর গুরুতর প্রভাব বিবেচনায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুনানির শেষ পর্যায়ে ইয়াং ইউলিন নিজের অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলেও আদালত জানিয়েছে।
ইয়াং ইউলিনের বিরুদ্ধে মামলাটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
চীনে দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও এ ধরনের সাজা তুলনামূলকভাবে বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অত্যন্ত বড় অঙ্কের দুর্নীতি বা গুরুতর আর্থিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এ ধরনের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, ভালো চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২২ সালে ভারত থেকে শিকাগোতে এসেছিলেন অনন্যা জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স শেষ করে কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে বিজ্ঞানী হিসেবেও চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু এইচ-১বি স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং তার অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি শেষ হয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় তাকে। এখন জার্মানিতে নতুন করে ক্যারিয়ার ও জীবন গড়ছেন ২৬ বছর বয়সী এই ভারতীয় বিজ্ঞানী। বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোশি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন একদিনে ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে অনেকটা খারাপ স্বপ্ন থেকে হঠাৎ জেগে ওঠার মতো ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করতে পারেননি। নিউ দিল্লিতে বেড়ে ওঠা জোশির যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসার স্বপ্নের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাও জড়িয়ে ছিল। তার বাবা নিজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আর্থিক কারণে সেই সুযোগ পাননি। পরে মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াতে বছরের পর বছর অর্থ সঞ্চয় করেন তিনি। ভারতে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর ২০২২ সালে ইলিনয়ে আসেন জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স করেন এবং ২০২৪ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি ল্যাবে তৈরি মাংস বা কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে ছয় মাসের গবেষণা প্রোগ্রামে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সেই সুযোগ ফুল টাইম চাকরিতে পরিণত হয়। সেখানে বায়োপ্রসেস বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি কাল্টিভেটেড মিটের উৎপাদন বড় পরিসরে নেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন। বিজনেস ইনসাইডারের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৭৫ হাজার ডলার। ইভানস্টনে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। চাকরি, বন্ধুদের সঙ্গে রোড ট্রিপ এবং শিকাগো এলাকার জীবন মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনাই করেছিলেন জোশি। কিন্তু তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছিল এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে যুক্ত ওপিটি ওয়ার্ক অথরাইজেশনের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য ওপিটি ব্যবহার করতে পারেন। নির্দিষ্ট স্টেম ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য স্টেম ওপিটি এক্সটেনশনের সুযোগ পান। জোশির ক্ষেত্রে সমস্যাটি তৈরি হয় তার নিয়োগকর্তাকে ঘিরে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে এইচ-১বি স্পনসর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কোম্পানি জানায়, প্রয়োজনীয় ই-ভেরিফাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় তার ওপিটি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না এবং শেষ পর্যন্ত এইচ-১বি স্পনসরশিপ থেকেও প্রতিষ্ঠানটি সরে আসে। তার ওপিটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় জোশি মে মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে জানান, নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সময় প্রয়োজন এবং তিনি চাকরি ছাড়তে অথবা পার্ট টাইম কাজ করতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিনই তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার এবং কাজ করার সুযোগ ধরে রাখতে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে শুরু করেন তিনি। একই সময়ে জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন। চাকরি হারানোর দিনই সেই সুযোগের বিষয়ে জানতে পারেন এবং জুলাইয়ে তার ওপিটি শেষ হওয়ার সময় জার্মানি থেকে চাকরির অফার পান। শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্পনসর খোঁজার ঝুঁকিপূর্ণ পথের বদলে জার্মানির চাকরিটি গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি জার্মানির রস্টকে চলে যান। সেখানেও একই ধরনের কাল্টিভেটেড মিট শিল্পে কাজ করছেন তিনি। জোশির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়গত পার্থক্য রয়েছে। তার ওপিটি শেষ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এইচ-১বি নীতির ১ লাখ ডলারের পেমেন্ট ব্যবস্থা আসে এর প্রায় দুই মাস পরে। ফলে ওই ফি সরাসরি জোশির চাকরি হারানো বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কারণ ছিল না। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রোক্লেমেশন সই করেন, যার অধীনে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি পিটিশনের সঙ্গে ১ লাখ ডলার পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যবস্থা কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে। এটি আগে ইস্যু হওয়া এইচ-১বি ভিসা বা সাধারণ রিনিউয়ালের ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ওই ১ লাখ ডলারের ব্যবস্থা আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখে। একই সঙ্গে এইচ-১বি আবেদন যাচাই, নিয়োগকর্তার সাম্প্রতিক ছাঁটাই এবং উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিষয়েও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে ছোট স্টার্টআপ এবং সীমিত বাজেটের প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি স্পনসর করার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত এক বছরে একাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন নাকি অন্য দেশে সুযোগ খুঁজবেন, সেই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করছেন। জোশিও এখন সেই দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছেন। জার্মানিতে স্থিতিশীল চাকরি পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ফেলে আসতে হয়েছে তার বন্ধু, সম্পর্ক এবং কয়েক বছরে গড়ে তোলা জীবন। তার প্রেমিক এখনো যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেননি জোশি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতে নিজের ব্যবসা শুরু করার কথাও ভাবছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ডিগ্রি এবং ভালো চাকরি পাওয়াই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার গড়তে হলে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ এবং ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মামদানির নেতৃত্বে প্রথম বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে
নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সরকারি ডলার গায়েব, দোষ স্বীকার সিআইএ কর্মকর্তার
নিউইয়র্কে চাকরির বড় সুযোগ, প্রকাশিত ৪১ হাজারের বেশি পদ
হাসপাতালের বিছানায় বসে ল্যাপটপে শিক্ষার্থীদের গ্রেডের কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের শিক্ষক আলেহান্দ্রো নাভারো। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি প্রতিবেদনের নম্বর প্রস্তুত করার চিন্তা ছিল তাঁর। মেয়ে সান্দ্রা ভেনেগাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলার পরদিনই মারা যান তিনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ছবিটি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ডেল রিও শহরের এই গণিত শিক্ষকের বয়স ছিল ৬৬ বছর। সান্দ্রা জানান, হাসপাতালে যেতে হবে জেনেই তাঁর বাবা ল্যাপটপ ও চার্জার সঙ্গে নিয়েছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের গ্রেডের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। সান্দ্রার বর্ণনা অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা নাভারোর পরীক্ষা করছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আবার গ্রেডের কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের বিছানায় বাবার সেই মুহূর্তের ছবিটি সান্দ্রা ফেসবুকে প্রকাশ করেন ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ছবির সঙ্গে দেওয়া লেখায় সান্দ্রা শুধু বাবার দায়িত্ববোধের কথাই বলেননি, শিক্ষকতার বাইরে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাবার বাড়িতে শেষবার দেখা করতে গিয়ে যে দুই ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন, তখনও তাঁর বাবা কাজ করছিলেন। এখন তাঁর মনে হয়, ল্যাপটপ বন্ধ করে সেই সময়টা একসঙ্গে কাটাতে পারলে ভালো হতো। শিক্ষকদের কাজের মূল্য দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কর্মঘণ্টার সীমা বজায় রাখতে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করার আহ্বান জানান সান্দ্রা। শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, কর্মক্ষেত্রে কাউকে দিয়ে আপনার জায়গা পূরণ করা গেলেও পরিবারে তা সম্ভব নয়। বাবার শেষ সময়ের ছবির সঙ্গে তিনি রেখে যান কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে এই কথাটিও। সূত্র: ইউনিভিশন, এল ইউনিভার্সো
ক্যালিফোর্নিয়ার নিউয়ার্কে বিপজ্জনক চালনা ঠেকাতে নতুন কর্মসূচি নিচ্ছে পুলিশ
ফ্লোরিডায় বাড়ির করের চেয়ে হোম ইন্স্যুরেন্স নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন মালিকেরা
নিউ জার্সিতে ভিডিও কলে সাজানো এফবিআই অফিস দেখিয়ে প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্কতা
স্বামীর সঙ্গে তর্কের পর তাঁর কাছ থেকে একটি চ্যাটজিপিটি কথোপকথন পান লিজা ভিলনিটস। স্বামী নিজের রাগ ও কথার সুর সামলাতে সেখানে পরামর্শ চেয়েছিলেন। বিষয়টি প্রথমে লিজাকে বিরক্ত করলেও পুরো কথোপকথন পড়ার পর তিনি স্বামীর উদ্যোগটিকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেন। মঙ্গলবার বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন। লিজার বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর স্বামী চ্যাটজিপিটিকে জানান, কিছু পরিস্থিতিতে তিনি দ্রুত মেজাজ হারান এবং এমন কথা বলে ফেলেন, যা পরে বলা উচিত হয়নি বলে মনে হয়। এমন ছয়টি পরিস্থিতি চিহ্নিত করে প্রতিক্রিয়া বদলানোর উপায় জানতে চান তিনি। জবাবে চ্যাটজিপিটি তাঁকে কথার সুর নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩০ দিনের একটি পরিকল্পনা দেয়। প্রথমে লিজার মনে হয়েছিল, স্বামী নিজের আচরণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার পরিবর্তে তৈরি করা উত্তর খুঁজছেন। কিন্তু কথোপকথনটি পড়তে গিয়ে তিনি দেখেন, স্বামী কোন পরিস্থিতিতে কেন উত্তেজিত হন, তা বোঝার চেষ্টাও সেখানে রয়েছে। চ্যাটজিপিটির দেওয়া ব্যাখ্যাগুলো তাঁকে নিজেদের কথাবার্তার কিছু পুরোনো ধরন নিয়েও ভাবিয়েছে বলে লেখেন তিনি। পরিকল্পনায় উত্তেজনা তৈরি করা পরিস্থিতি চেনা, সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে প্রশ্ন করা এবং শান্তভাবে কথা বলার মতো পরামর্শ ছিল। পরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। লিজার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে স্বামীর নিজের আচরণে সমস্যা স্বীকার করা এবং তা বদলাতে সাহায্য চাওয়ার উদ্যোগটি। এটি একটি দম্পতির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। লিজা তাঁর লেখায় দাবি করেননি যে চ্যাটজিপিটি দাম্পত্য সমস্যার নিশ্চিত সমাধান দিয়েছে। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কথোপকথন তাঁদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে সাহায্য করেছে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
মেডিকেয়ারের ৯০ ডলার ব্যাংকে বা চেকে পাচ্ছেন ২ কোটির বেশি, বাদ পড়ছেন প্রায় ৪ কোটি
আইসিইবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারে ট্রাম্পের চাপের অভিযোগ সাবেক এফবিআই কর্মকর্তার