দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাবিকে অবৈধ বলল যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৪ দেশ
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপ ও এশিয়ার আরও ১২টি দেশ যৌথভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিস্তৃত সামুদ্রিক দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। দেশগুলো ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সমুদ্রসীমা নির্ধারণে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) অনুসরণ করতে হবে এবং ২০১৬ সালের রায় দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধ নিষ্পত্তিতে এখনো প্রাসঙ্গিক।
২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক স্থায়ী সালিশি আদালত ফিলিপাইনের করা মামলায় রায় দেয় যে, দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকায় চীনের তথাকথিত “নাইন-ড্যাশ লাইন” দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তবে চীন ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে এবং শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে যে তারা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতিকে বেইজিংয়ের প্রতি একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখার প্রশ্নে পশ্চিমা ও এশীয় দেশগুলোর অবস্থান আরও জোরালো হচ্ছে।
দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। প্রতিবছর ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্যবাহী জাহাজ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও তাইওয়ান এ অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপ ও সামুদ্রিক এলাকার ওপর দাবি জানিয়ে আসছে, যা দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই শেয়ারবাজার—নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই) ও নাসডাকের মধ্যে তালিকাভুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা নতুন নয়। তবে এবার এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে দেশটির বৈধ গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম ‘অন দ্য মানি’ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় আইনি প্রতিবন্ধকতা শিথিল হতে শুরু করায় গাঁজা কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আনার তোড়জোড় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রাজ্য পর্যায়ে বৈধতা থাকলেও কেন্দ্রীয় কড়াকড়ির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এতদিন ব্যাংকিং সুবিধা এবং মূলধন বাজারে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ নিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের তালিকায় নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে এটি আর হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদক হিসেবে গণ্য না হয়ে চিকিৎসায় ব্যবহারের পথ সুগম হয়। পরবর্তীতে গত এপ্রিলে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ) বিষয়টিকে আইনি রূপ দেয়। নতুন নিয়মে ডিইএ-তে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকছে না। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে ৫০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তালিকায় টানতে মুখিয়ে আছে দুই এক্সচেঞ্জই। এই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে এনওয়াইএসই। ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচভিত্তিক গাঁজা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লাস হাউস ব্র্যান্ডস’ গত ৩০ জুন এনওয়াইএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ফ্লোরিডার প্রতিষ্ঠান ‘ট্রুলাইভ’-কেও নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে তারা। গ্লাস হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, এনওয়াইএসইর সঙ্গে আলোচনার মাঝেই নাসডাকও তাদের দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। সাধারণত এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দ নাসডাক; অন্যদিকে এনওয়াইএসইতে ব্যাংক, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের আধিপত্য বেশি। তবে সম্প্রতি রিটেল জায়ান্ট ওয়ালমার্টকে এনওয়াইএসই থেকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে টেনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে নাসডাক। তালিকাভুক্তির কম খরচও (এনওয়াইএসইতে বার্ষিক প্রায় ৫ লাখ ডলারের বিপরীতে নাসডাকে অর্ধেকেরও কম) নাসডাকের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার প্রস্তুতির পাশাপাশি গাঁজা শিল্প এখন এই দুই এক্সচেঞ্জের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিগগিরই গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ থেকে আরও শিথিল করে ‘শিডিউল ৪’ বা ‘৫’-এ নিয়ে আসবেন। এতে করে এটি পুরোপুরি কার্যকর বৈধতা পাবে এবং সাধারণ বিনোদনমূলক ব্যবহারের পণ্য তৈরিতেও মূলধন বাজারের বিপুল তহবিল ব্যবহারের চূড়ান্ত দ্বার উন্মোচিত হবে।
নিউইয়র্কে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িতে সংঘর্ষ ঘটিয়ে বীমার লাখো ডলার হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক শিক্ষিকা
মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার আইসিই-বিরোধী আন্দোলনকারী
যুক্তরাষ্ট্রে স্নেপ বা ফুড স্ট্যাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। স্নেপ এখনো চালু রয়েছে। তবে নতুন ফেডারেল নিয়ম, কাজের শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো জমা না দেওয়ার কারণে কিছু মানুষের সুবিধা কমতে বা বন্ধ হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্কে নতুন এডাব্লিওডি ওয়ার্ক রুলস নিয়ে সুবিধাভোগীদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। স্নেপ বা সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম হলো নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের খাবার কেনার জন্য দেওয়া ফেডারেল সহায়তা কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি মাসে ইবিটি কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হয়। তাই স্নেপ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন কোনো ঘোষণা নেই। তবে সুবিধা চালু রাখতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণত স্নেপ সার্টিফিকেশন এক বছরের জন্য থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রিসার্টিফিকেশন করতে হয়। অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে ছয় মাসের মাথায় পিরিওডিক রিপোর্ট জমা দেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট বা রিসার্টিফিকেশন জমা না দিলে কেস বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং স্নেপ সুবিধা বন্ধ হতে পারে। নতুন ওয়ার্ক রুলস নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্ক স্টেটের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কিছু সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক এডাব্লিওডি নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে স্নেপ পরিবারের ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু তাদের সঙ্গে বসবাস না করলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এই নিয়মের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সাধারণভাবে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, অনুমোদিত কাজ বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ কিংবা নির্দিষ্ট যোগ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে শর্ত পূরণ করতে হয়। নিয়ম মেনে না চললে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তিন মাসের পর স্নেপ সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে সবাই এডাব্লিওডি নিয়মের আওতায় পড়বেন না। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু একই স্নেপ পরিবারের সদস্য হলে, কেউ গর্ভবতী হলে, শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে না পারলে এবং কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই নিয়ম থেকে ছাড় পাওয়া যেতে পারে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরাও এডাব্লিওডি নিয়মের বাইরে থাকেন। স্নেপ সুবিধার পরিমাণও সবার জন্য এক নয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আয়, খরচ এবং অন্যান্য যোগ্যতার বিষয় বিবেচনা করে সুবিধার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ফেডারেল অর্থবছর ২০২৬ সালে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চার সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ মাসিক স্নেপ বরাদ্দ ৯৯৪ ডলার। ফলে নিউইয়র্কে চার সদস্যের প্রতিটি পরিবার ৯৩৯ ডলার স্নেপ পাবে এমন তথ্য সঠিক নয়। নিউইয়র্কে স্নেপ সুবিধা পাওয়া পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এক্সেস এইচ আর এ অ্যাকাউন্ট নিয়মিত চেক করা, ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং রিসার্টিফিকেশন বা প্রয়োজনীয় রিপোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া। সরকারি কোনো নোটিশ পেলে সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। স্নেপের জন্য আবেদন বা রিসার্টিফিকেশন করতে কোনো দালালকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব কাজ সম্পন্ন করা যায়। নিউইয়র্ক সিটিতে এক্সেস এইচ আর এ-এর মাধ্যমে আবেদন করা, কেসের অবস্থা দেখা এবং রিসার্টিফিকেশন সম্পন্ন করা সম্ভব। সুতরাং, আমেরিকায় স্নেপ বা ফুড স্ট্যাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন খবর সঠিক নয়। তবে নতুন ওয়ার্ক রুলস, রিসার্টিফিকেশন এবং রিপোর্টিংয়ের নিয়ম না মানলে ব্যক্তিগতভাবে কারও স্নেপ সুবিধা বন্ধ হতে পারে। নিজের কেসের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল স্নেপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ডিগ্রি ছাড়াই স্কুলে চাকরি! নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলে নিয়োগ চলছে
হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি, নিহত ৭৮ বছরের বৃদ্ধ
ডে-কেয়ারের খরচ জোগাতে সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে মা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাঁচজনকে একটি ম্যানহোল খুলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে। ওয়ান্টাঘ এলাকার ওয়ান্টাঘ অ্যাভিনিউ ও জেরুজালেম অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে রাত প্রায় ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ম্যানহাটনের পেন স্টেশনের কাছে একই ধরনের ঘটনায় তিনজনকে ম্যানহোল থেকে বের হতে দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা পাঁচ ব্যক্তি একসঙ্গে ম্যানহোলের ভারী ঢাকনা সরান। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একে একে নিচে নেমে যান এবং ঢাকনাটি আবার বন্ধ করে দেন। তাদের গন্তব্য ছিল সড়কের নিচে থাকা স্টর্ম ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ঘটনাটি দেখে দুই প্রত্যক্ষদর্শী নাসাউ কাউন্টি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পরে ওই ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে অনুসন্ধান চালালেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের পরিচয় বা তারা কেন সেখানে ঢুকেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্ক সিটির পেন স্টেশনের কাছে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ আগস্ট ভোরে ৩২তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় হেডল্যাম্প পরা তিনজনকে ম্যানহোল থেকে বের হতে দেখা যায়। স্থানটি পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কাছেই। ওই ঘটনাও এনওয়াইপিডি তদন্ত করছে। নিউইয়র্কের ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থায় এর আগেও মানুষ প্রবেশ বা বের হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত লং আইল্যান্ডের পাঁচজনের সঙ্গে ম্যানহাটনের আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করেননি। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন সতর্ক করে জানিয়েছে, স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে বিষাক্ত বা প্রাণঘাতী গ্যাস, অস্থিতিশীল জায়গা, আকস্মিক বন্যা এবং সংকীর্ণ স্থানের মতো গুরুতর ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণে সাধারণ মানুষকে কোনো পাইপ, ড্রেন, ক্যাচ বেসিন, ম্যানহোল বা আউটফলের ভেতরে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লং আইল্যান্ডের সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তবে ওই পাঁচজন কেন গভীর রাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
৬ হাজার ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কিনছে আইসিই, খরচ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার
ইরানের হুমকি, বাবার ওপর হত্যাচেষ্টা ও চার্লি কার্ক হত্যার পর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প