যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানে সামরিক ড্রোন কর্মসূচিতে ব্যবহারের উপযোগী সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ রপ্তানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের জুরি। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি মাহদি মোহাম্মদ সাদেগি (৪৩), যিনি ইরানে জন্মগ্রহণ করলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানালগ ডিভাইসেসের সাবেক কর্মী ছিলেন।
সোমবার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের ফেডারেল আদালতে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে জুরি পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে সাদেগিকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত আগামী ১৩ অক্টোবর তার সাজা ঘোষণা করবেন। ততদিন তিনি জামিনে মুক্ত থাকবেন।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, সাদেগি ইরানের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবেদিনিনাজাফাবাদির সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ডে একটি ফ্রন্ট কোম্পানি ব্যবহার করা হয় এবং প্রযুক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত তেহরানভিত্তিক এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সামরিক ড্রোন কর্মসূচির জন্য নেভিগেশন সিস্টেম তৈরি করে।
তবে বিচার চলাকালে আদালত ২০২৪ সালে জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার সঙ্গে এই মামলার সরাসরি সম্পর্কিত তথ্য জুরির সামনে উপস্থাপনের অনুমতি দেননি। বিচারক মনে করেন, এমন তথ্য উপস্থাপন করলে জুরিদের ওপর অযাচিত প্রভাব পড়তে পারে। পরে প্রসিকিউটররাও স্বীকার করেন, সাদেগি জানতেন যে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ওই হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনে ব্যবহৃত হবে—এমন প্রমাণ তাদের কাছে নেই।
আদালতে সাদেগির আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি কোনো অবৈধ প্রযুক্তি রপ্তানিতে জড়িত ছিলেন না; বরং একজন পরিচিত ব্যক্তিকে ব্যবসায়িক পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ বাস্তবে ইরানে পৌঁছেছে বা সাদেগি এ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন—এমনও কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি। তবে প্রসিকিউশন বিভিন্ন নথি, বার্তা ও যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয় এবং জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
মামলার আরেক অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবেদিনিনাজাফাবাদি এই বিচারে উপস্থিত ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ইরানে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা এবং ইরানের সামরিক ড্রোন কর্মসূচিতে প্রযুক্তি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে খুন, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ নানা ভয়ংকর অপরাধে জড়িত আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সদস্য নীতিশ কৌশলের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট (সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়া) গত ২৫ জুন, ২০২৬ তারিখে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করে। 'র্যাকেটিয়ার ইনফ্লুয়েন্সড অ্যান্ড করাপ্ট অর্গানাইজেশন' বা সংঘবদ্ধ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ওয়ান্টেড' বা পলাতক আসামি হিসেবে ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নীতিশ কৌশল 'জাগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ' (ভগবানপুরিয়া ওসিজি) নামের একটি দুর্ধর্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত। এই ভয়ংকর অপরাধ চক্রটির উৎপত্তি মূলত ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে। তবে তারা সুকৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন স্থানে নিজেদের অপরাধ সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। চক্রটি পরিকল্পিত হত্যা, মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, নীতিশ কৌশল এই ভগবানপুরিয়া চক্রের হয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ও এর আশপাশের অঞ্চলে বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পরিচালনা করতেন। বিশেষ করে অপহরণ এবং সশস্ত্র হামলার মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে পলাতক এই দুর্ধর্ষ আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি করে নতুন সিনেটর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ডারলাইন গ্রাহাম নরডোন। গত মঙ্গলবার এক জাঁকজমকপূর্ণ ও আবেগঘন পরিবেশে তিনি তার প্রয়াত ভাই, দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হন। মার্কিন সিনেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সিনেটর পদে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তার আপন ভাই বা বোন সেই শূন্য আসনের দায়িত্ব নিয়ে সিনেটর হিসেবে শপথ নিলেন। ডারলাইনের এই আনুষ্ঠানিক যোগদানের মধ্য দিয়ে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান দল আবারও তাদের ৫৩-৪৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হালকা নীল রঙের পোশাকে ডারলাইন গ্রাহাম নরডোন সিনেটর হিসেবে তার শপথবাক্য পাঠ করেন। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটির সাক্ষী হতে সিনেট কক্ষে উপস্থিত ছিলেন অধিকাংশ বর্তমান সিনেটর, বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সিনেটর, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি দল এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও মার্কো রুবিওসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। গত শনিবার ৭১ বছর বয়সে হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় (অর্টিক ডিসেকশন) লিন্ডসি গ্রাহামের আকস্মিক প্রয়াণের পর দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার ডারলাইনকে এই পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। ১৯৯৫ সাল থেকে কংগ্রেসে দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধিত্ব করা লিন্ডসি গ্রাহাম মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শৈশবে ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে মাত্র ১৫ মাসের ব্যবধানে বাবা-মা উভয়কে হারানোর পর লিন্ডসি গ্রাহাম তার চেয়ে আট বছরের ছোট বোন ডারলাইনকে পরম যত্নে আগলে রাখেন এবং আইনিভাবে দত্তক নেন। বর্তমানে ৬২ বছর বয়সী ডারলাইন এতকাল দক্ষিণ ক্যারোলিনায় প্রচারণাবিমুখ ও সাধারণ জীবনযাপন করলেও, ভাইয়ের কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় সবসময় জাতীয় মঞ্চে তার পাশে থেকেছেন। পেশাগত জীবনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে নিয়োজিত থাকা ডারলাইন আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে, লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুর কারণে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের পক্ষে কে পূর্ণ মেয়াদের জন্য লড়বেন, তা নিয়ে দক্ষিণ ক্যারোলিনার রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে জোর গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
কাতারের সহায়তায় বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামি আবদুল্লাহ আনোয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার পর কাতারে গ্রেপ্তার হওয়া ২৮ বছর বয়সী এই অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে, যেখানে তিনি অর্থপাচার, জালিয়াতি এবং আন্তঃদেশীয় চোরাই পণ্য পাচারের মতো একাধিক ফেডারেল অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, টেক্সাসের গারল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আনোয়ারের বিরুদ্ধে ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি চোরাই সম্পদ আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবহনের ষড়যন্ত্র, মেইল জালিয়াতি, ওয়্যার জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। বিচার চলাকালে জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। পরে কাতারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে এবং দুই দেশের সমন্বিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গত ১০ জুলাই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। বর্তমানে তিনি কলিন কাউন্টির হেফাজতে রয়েছেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, আনোয়ার এমন একটি আন্তর্জাতিক অর্থপাচার ও জালিয়াতি চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কার্যক্রমের সঙ্গে গত পাঁচ বছরে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ২০২১ সালে এফবিআই ডালাসের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক অভিযানে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি, চোরাই মোবাইল ফোন ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্যের পাচার, কার্গো চুরি এবং অর্থপাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটির তদন্তে এফবিআই ছাড়াও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ), এটিএফ, আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, ইউএস মার্শালস সার্ভিসসহ একাধিক ফেডারেল সংস্থা অংশ নিয়েছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল করতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এদিকে পাকিস্তানের কয়েকটি গণমাধ্যমে আবদুল্লাহ আনোয়ারকে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার জাতিগত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি; সেখানে তাকে টেক্সাসের গারল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত নয়। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদুল্লাহ আনোয়ার আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।