যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে ২ বছরের শিশুকে গুলি করল ৪ বছরের শিশু
পারিবারিক ছুটি কাটানোর আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল এক চরম ট্র্যাজেডিতে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি অবকাশকালীন ভাড়াবাড়ির (এয়ারবিএনবি) সামনে গাড়ির ভেতরে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা বন্দুক খুঁজে পেয়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে তার চার বছর বয়সী এক শিশু আত্মীয়। অসসেওলা কাউন্টিতে গত রোববার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। জর্জিয়া থেকে আসা একটি পরিবার তাদের জন্য নির্ধারিত অবকাশকালীন আবাসস্থলে পৌঁছানোর পরপরই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হয়, যা পুরো এলাকায় গভীর শোক ও স্তব্ধতার সৃষ্টি করেছে।
কাউন্টি শেরিফ ক্রিস ব্ল্যাকমন জানিয়েছেন, পরিবারটি গাড়ি থেকে নেমে তখনো বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেনি। ঠিক সেই মুহূর্তে চার বছর বয়সী শিশুটি কোনো কারণে আবার গাড়িতে ফিরে যায় এবং সেখানে অসতর্কভাবে রাখা একটি হ্যান্ডগান খুঁজে পায়। কোনো হোলস্টার বা নিরাপত্তা কভার ছাড়াই বন্দুকটি গাড়ির ভেতরে পড়ে ছিল। খেলার ছলে শিশুটি বন্দুকের ট্রিগার চেপে দিলে তা সরাসরি দুই বছর বয়সী ওই অবোধ শিশুর গায়ে লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং শিশুটি মারা যায়।
বন্দুকের মালিকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং আগ্নেয়াস্ত্রটি অরক্ষিত রাখার কারণে কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা দায়ের করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করতে তদন্ত কর্মকর্তারা বর্তমানে স্টেট অ্যাটর্নি অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন। শেরিফ ব্ল্যাকমন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "একবার ট্রিগার চেপে দিলে গুলি কোথাও না কোথাও আঘাত করবেই, আর এই গুলিটি একটি দুই বছরের শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে।" এই ঘটনার পর তিনি সকল আগ্নেয়াস্ত্র মালিকদের প্রতি তীব্র আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দুকের লক ব্যবহার করা এবং অস্ত্র সবসময় নিরাপদ ও সুরক্ষিত স্থানে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই। এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন। অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে নেভি জাহাজে নারী ইঞ্জিনিয়ারকে ধর্ষণ! ‘কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা’ হিসেবে আদালতে বিবেচনা
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি ট্রাম্পের! ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদে এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে
নিউইয়র্কে ইংরেজিতে কথা বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতা বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বিনামূল্যে বিভিন্ন ক্লাস করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ও অনলাইনে এসব ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। কিছু কর্মসূচিতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসীবিষয়ক দপ্তরের ‘উই স্পিক এনওয়াইসি’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নিউইয়র্কবাসী বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার সুযোগ পান। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর বিভিন্ন স্থানে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনেও শেখার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতেও বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার বিভিন্ন ক্লাস চালু রয়েছে। একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাস রয়েছে। কিছু ধারাবাহিক ক্লাসে ভর্তি হওয়ার আগে ইংলিশ দক্ষতার মূল্যায়ন করা হতে পারে। আবার কিছু ক্লাসে নির্দিষ্ট বয়স এবং নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে বসবাস, কাজ বা পড়াশোনার সম্পর্কের শর্ত থাকতে পারে। তাই সব ক্লাসের যোগ্যতা এক নয়। নাগরিকত্বের প্রস্তুতির জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিষয়ক ক্লাসে দেশটির ইতিহাস, সরকারব্যবস্থা, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রশ্ন এবং নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় ইংলিশ অনুশীলন করানো হয়। কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতেও বিভিন্ন পর্যায়ের ইংলিশ ভাষার ক্লাস রয়েছে। এসব ক্লাস সরাসরি এবং ভার্চুয়াল দুইভাবেই করা যায়। সাধারণভাবে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ইংলিশ যাদের মাতৃভাষা নয়, তারা এসব ক্লাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট ক্লাসের যোগ্যতা আলাদা হতে পারে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির যুব ও কমিউনিটি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ইংলিশ ও সাক্ষরতা শিক্ষার বিভিন্ন বিনামূল্যের কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বয়সের পাশাপাশি আয়, শিক্ষাগত অবস্থা বা অন্য কিছু যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা বয়সের ভিত্তিতে সব ক্লাসে ভর্তি হওয়া যাবে এমন নয়। কোন ক্লাসে কারা আবেদন করতে পারবেন, ক্লাসটি সরাসরি নাকি অনলাইনে হবে, কখন শুরু হবে এবং আসন খালি আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরি বা কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য দেখে নিশ্চিত হওয়া উচিত। ইংলিশ শেখার আগ্রহীরা নিজেদের কাছের পাবলিক লাইব্রেরিতে যোগাযোগ করতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও বিনামূল্যের ইংলিশ ক্লাস, নাগরিকত্বের প্রস্তুতি এবং অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ক্লাসের সময়সূচি, বয়সসীমা, ভর্তি প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
৯/১১ হামলার দায় ইসরায়েলের, বিন লাদেনের লেখা পড়ার পরামর্শ: সেই স্কুল গাইড সরাল মার্কিন মুসলিম সংগঠন কেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কামিং এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ আল-রহমানের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ক্রয়ে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১,০৩৩,৬১৬ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি কেনার ক্লোজিং সম্পন্ন করতে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ Peachtree Parkway এ ৭.৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ৩০০টির বেশি পার্কিং স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বর্তমান স্থানে জায়গা ও পার্কিং সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়স্কদের জন্য অ্যাক্সেসিবল সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। নতুন মসজিদে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য থাকবে আলাদা কার্যক্রম এবং আউটডোর স্পোর্টসের সুযোগ। নতুন মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ১২৩৫ Peachtree Parkway এ অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে একটি ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমেরিকা বাংলাকে জানানো হয়, এটি কোনো একক দেশের মানুষের মসজিদ নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সমন্বয়ে এখানে একটি বৃহৎ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধ্যমতো দান করার পাশাপাশি যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না, তাদেরও বিষয়টি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রচারাভিযানে ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১,০০০ ডলারকে একটি নামাজের স্থান বা মুসাল্লা, ৬,০০০ ডলারকে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫,০০০ ডলারকে একটি ক্লাসরুমের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও দানের সুযোগ রয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বর্তমান স্থান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্টের ক্লোজিং সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ প্রকল্পটি সরাসরি দেখতে এবং অনুদান দিতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://cummingcommunitycenter.com
মাতৃমৃত্যু কমাতে নিউইয়র্কের নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ থেকে সিটি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত হচ্ছে প্রসূতি সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ হাজার ডলারের নিষিদ্ধ মাদক, গ্রেপ্তার দুই