যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বৈভব ভাস্কর নামের এক শিক্ষার্থী হাইস্কুলে ব্যতিক্রমী রুটিন অনুসরণ করে অবিশ্বাস্য ১১.৯৯ জিপিএ অর্জন করেছেন। তার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর স্থানীয় স্কুলগুলো তাদের কোর্সের মান মূল্যায়নের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। পাম বিচ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈভব বর্তমানে ফিন্যান্স ও ইকোনমিকস পড়ার জন্য ডিউক ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এই অভাবনীয় ফলাফল ফ্লোরিডার পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ১১.৮৪ জিপিএর রেকর্ড ভেঙে রাজ্যে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
নিজের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য বৈভব একটি হোয়াইটবোর্ডের সাহায্য নিতেন। দ্য পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দশম গ্রেডে পড়ার সময়ই তিনি তার রুমে থাকা হোয়াইটবোর্ডে হাইস্কুল জীবনের পাঁচটি মূল লক্ষ্য লিখে রেখেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল 'ভ্যালিডিকটোরিয়ান' (সেরা শিক্ষার্থী) হওয়া এবং 'রাজ্যের জিপিএ রেকর্ড ভাঙা'। লক্ষ্য নির্ধারণের পর তার কাজ করার দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে যায়। তিনি জানান, যেকোনো মূল্যে লক্ষ্যগুলো অর্জনের মানসিকতা তৈরি করার পর পুরো বিষয়টি কেবল ধৈর্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে তিনি জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তার এই দীর্ঘ একাডেমিক যাত্রায় ৪৪টি অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট (এপি) এবং ডুয়াল কলেজ এনরোলমেন্ট ক্লাস অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সম্মিলিত ভারেই তার জিপিএ এমন আকাশছোঁয়া পর্যায়ে পৌঁছায়।
হিলসবরো কাউন্টির স্কুল কর্মকর্তারা বৈভবের এই অসামান্য কৃতিত্বের প্রশংসা করলেও তারা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, কোনো শিক্ষার্থীরই আসলে ১১.৯৯ জিপিএ অর্জনের সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রিন্সিপাল টিফানি ইউয়েল গ্রেডিং সিস্টেমের এই ফাঁকফোকরটিকে একটি "অস্ত্র প্রতিযোগিতা" বা অসম প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা মূলত জেলা কর্তৃপক্ষকে তাদের নীতি সংশোধনে বাধ্য করেছে। বর্তমানে অনেক স্কুলেই জিপিএর কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি অফিসে নিজেদের আরও বেশি যোগ্য প্রমাণ করার জন্য শিক্ষার্থীরা চরম মাত্রায় পড়ালেখার চাপ নিতে প্ররোচিত হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় পাম বিচ স্কুল সিস্টেমের মতো অনেক জেলা এখন 'অনার্স পয়েন্ট অ্যাভারেজ' (এইচপিএ) পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, যা গ্রেডগুলো স্তূপ করার বদলে গড় করে এবং শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা বার্নআউট থেকে রক্ষা করে।
মজার বিষয় হলো, বৈভব নিজেও এই নীতি পরিবর্তনের বিষয়টিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। জিপিএকে ৫-পয়েন্ট স্কেলে সীমাবদ্ধ করার মানসম্মত পদ্ধতিটি তারও পছন্দ। তিনি বলেন, "আমি পুরোপুরি এই পরিবর্তনের সঙ্গে একমত, কারণ এটি জিপিএ গণনার অনেক বেশি প্রমিত একটি পদ্ধতি।" তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, জেলার স্কেলে তার ১১.৯৯ জিপিএ স্ট্যান্ডার্ড ৫.০ স্কেলে সম্ভবত ৪.৯৩-এর সমান হবে এবং স্কেল যাই হোক না কেন, কলেজগুলো সবসময় নিজেদের মতো করেই জিপিএ পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে। তবে পুরোনো ব্যবস্থার কিছু মজাদার দিকও তিনি হাসিমুখে স্বীকার করেছেন। রসিকতা করে তিনি বলেন, "আমার স্কেলে পাওয়া ওই বিশাল সংখ্যাগুলো দেখতে বেশ ভালোই লাগে, কারণ ৪.৯৩-এর চেয়ে ১১.৯৯ শুনতে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি আকর্ষণীয় শোনায়!" এই বিশাল অর্জনের পর বৈভব এখন তার গ্রীষ্মের ছুটি দারুণভাবে উপভোগ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আনিছুর রহমান । ফোর্ট লডারডেল, ফ্লোরিডা | ১৪ জুলাই ২০২৬; যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল-হলিউড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশত্যাগের সময় ৫৩ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি অঘোষিত নগদ অর্থ বহনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। পরবর্তী তদন্তে তাকে অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ফেডারেল ফৌজদারি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। সিবিপির তথ্যমতে, বহির্গামী যাত্রীদের ওপর নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘোষণা করেন যে তার সঙ্গে কোনো নগদ অর্থ নেই। তবে বিস্তারিত তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ৫৩ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়, যা তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘোষণা করেননি। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ একটি সম্ভাব্য অর্থপাচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এরপর মামলাটি ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ নিয়ে দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ নয়। তবে এ ধরনের অর্থ বহনের ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে ঘোষণা দিতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে তা গোপন করলে অর্থ জব্দ, অর্থপাচার তদন্ত এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হতে পারে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অর্থ পাচার, মাদক ব্যবসার অর্থ স্থানান্তর, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিত বহির্গামী তল্লাশি পরিচালনা করা হয়। এ ধরনের অভিযানে অঘোষিত নগদ অর্থ উদ্ধার হলে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক বেবিসিটারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ভিক্টোরিয়া অ্যান ক্র্যানমার নামের ওই নারী নিজেই তার এই জঘন্য অপরাধের দৃশ্য স্ন্যাপচ্যাটে ভিডিও করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তার এক বান্ধবীর হাতে সেই ভিডিও পৌঁছালে অমানবিক এই শিশু নির্যাতনের ভয়ংকর চিত্র প্রকাশ্যে আসে। নিউ জার্সির লিটল এগ হারবার এলাকার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ক্র্যানমার গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তার এক ছোটবেলার বান্ধবীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই বান্ধবী তাকে জন্মদিন উপলক্ষে একটি আইফোন ১৭ প্রো কিনে দিয়েছিলেন। তবে মে মাসের শুরুর দিকে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে বান্ধবী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং ফোনটি ফেরত চান। ক্র্যানমার কোনো পাসকোড ছাড়াই ফোনটি মেইলবক্সে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে ‘মিস পি’ ছদ্মনামের ওই বান্ধবী ফোনটি চালু করতেই স্ন্যাপচ্যাটে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভয়ংকর ভিডিও দেখতে পান, যেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করা ছিল। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ক্র্যানমার বাথরুমে বসে হাসতে হাসতে শিশুটিকে উত্ত্যক্ত করছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি ‘মিস এইচ’ নামে অপর এক নারীর সন্তান, যিনিও ক্র্যানমারকে বেবিসিটার হিসেবে কাজে রেখেছিলেন। শিশুটির মা আগেই খেয়াল করেছিলেন যে তার ছেলে হঠাৎ করেই গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করছে এবং পরে শিশুটি জানায় যে ক্র্যানমার তার সঙ্গে বাথটবে গোসল করতেন। ভিডিওটি দেখে আতঙ্কিত বান্ধবী দ্রুত সেটি সংরক্ষণ করেন এবং ক্র্যানমারের পায়ের নির্দিষ্ট ট্যাটু ও কণ্ঠস্বর শুনে তাকে শনাক্ত করেন। গত ৮ জুলাই গ্রেপ্তারের পর ক্র্যানমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার যৌন নির্যাতন, শিশু নির্যাতনের ভিডিও তৈরি ও সংরক্ষণ এবং শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ওশান কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করার পর বর্তমানে তিনি জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শিশুদের বিশ্বস্ত বেবিসিটারের কাছে রাখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানে সামরিক ড্রোন কর্মসূচিতে ব্যবহারের উপযোগী সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ রপ্তানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের জুরি। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি মাহদি মোহাম্মদ সাদেগি (৪৩), যিনি ইরানে জন্মগ্রহণ করলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানালগ ডিভাইসেসের সাবেক কর্মী ছিলেন। সোমবার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের ফেডারেল আদালতে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে জুরি পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে সাদেগিকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত আগামী ১৩ অক্টোবর তার সাজা ঘোষণা করবেন। ততদিন তিনি জামিনে মুক্ত থাকবেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, সাদেগি ইরানের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবেদিনিনাজাফাবাদির সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ডে একটি ফ্রন্ট কোম্পানি ব্যবহার করা হয় এবং প্রযুক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত তেহরানভিত্তিক এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সামরিক ড্রোন কর্মসূচির জন্য নেভিগেশন সিস্টেম তৈরি করে। তবে বিচার চলাকালে আদালত ২০২৪ সালে জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার সঙ্গে এই মামলার সরাসরি সম্পর্কিত তথ্য জুরির সামনে উপস্থাপনের অনুমতি দেননি। বিচারক মনে করেন, এমন তথ্য উপস্থাপন করলে জুরিদের ওপর অযাচিত প্রভাব পড়তে পারে। পরে প্রসিকিউটররাও স্বীকার করেন, সাদেগি জানতেন যে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ওই হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনে ব্যবহৃত হবে—এমন প্রমাণ তাদের কাছে নেই। আদালতে সাদেগির আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি কোনো অবৈধ প্রযুক্তি রপ্তানিতে জড়িত ছিলেন না; বরং একজন পরিচিত ব্যক্তিকে ব্যবসায়িক পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ বাস্তবে ইরানে পৌঁছেছে বা সাদেগি এ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন—এমনও কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি। তবে প্রসিকিউশন বিভিন্ন নথি, বার্তা ও যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয় এবং জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। মামলার আরেক অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবেদিনিনাজাফাবাদি এই বিচারে উপস্থিত ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ইরানে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা এবং ইরানের সামরিক ড্রোন কর্মসূচিতে প্রযুক্তি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।