মাত্র ১৮ বছর বয়সে আয়ারল্যান্ড থেকে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২১.৪ মাইল (প্রায় ৩৪.৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ, বিশ্বের অন্যতম কঠিন সমুদ্রপথ ‘নর্থ চ্যানেল’ সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলের বাসিন্দা মায়া মেরহিগে। ৮ জুলাই তিনি ১২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে এই একক ও সহায়তাবিহীন সাঁতার সম্পন্ন করেন।
মায়ার এই সাফল্য তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন সাতটি উন্মুক্ত সমুদ্রপথ নিয়ে গঠিত ‘ওশানস সেভেন’ চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার লক্ষ্যের আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে গেছে। নর্থ চ্যানেল ছিল তার সফলভাবে শেষ করা পঞ্চম ‘ওশানস সেভেন’ সাঁতার।
সুইম অ্যাক্রস আমেরিকার এক মুখপাত্র জানান, নর্থ চ্যানেল তার প্রবল স্রোত, অত্যন্ত ঠান্ডা পানি, অনিশ্চিত আবহাওয়া এবং বিষাক্ত ‘লায়ন্স মেইন’ জেলিফিশের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মায়া ১৩.৪ থেকে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটেন। পথে একাধিক জেলিফিশের হুলের শিকার হওয়া, একটি সিল মাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করা, কাঁধের তীব্র ব্যথা, ক্লান্তি এবং শেষ অংশের কঠিন স্রোত, সবকিছুই তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে।
আগামী আগস্টে তিনি মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালি সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করবেন। সেই মিশন সফল হলে ‘ওশানস সেভেন’ সম্পন্ন করার পথে তিনি আরও এগিয়ে যাবেন।
মায়া মেরহিগে তার প্রতিটি সাঁতার উৎসর্গ করেছেন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা পরিবার, বন্ধু এবং রোগীদের প্রতি। একই সঙ্গে তিনি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সুইম অ্যাক্রস আমেরিকা’র জন্য ক্যানসার গবেষণায় অর্থ সংগ্রহেও কাজ করছেন।
মায়া বলেন, “আমি যখনই পানিতে নামি, তখন এমন মানুষদের কথা মনে রাখি, যাদের সংগ্রাম আমার চেয়েও অনেক কঠিন। আমার সাঁতারের ক্যাপে যাদের নাম লেখা আছে, তাদের জন্য, আশার খোঁজে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এবং উন্নত চিকিৎসা উদ্ভাবনে সহায়ক গবেষণার জন্যই আমি সাঁতার কাটি।”
‘ওশানস সেভেন’কে উন্মুক্ত সমুদ্রে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত সাতটি দুরূহ সমুদ্রপথ একক ও সহায়তাবিহীনভাবে সম্পন্ন করতে হয় এই চ্যালেঞ্জে। নর্থ চ্যানেলকে এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পথগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ঠান্ডা পানি, প্রবল স্রোত এবং জেলিফিশের উপস্থিতি সাঁতারুদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মী এবং প্রতিবন্ধী কর্মীদের লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরির অভিযোগ। অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে কর্মী ছাঁটাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করেছেন কয়েক ডজন কর্মী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে সোমবার দায়ের করা মামলায় ২৬ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মী দাবি করেছেন, চলতি বছরের গণছাঁটাইয়ের সময় মেটা অভ্যন্তরীণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা ব্যবহার করে কর্মীদের মূল্যায়ন করে ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটি, পারিবারিক ছুটি এবং প্রতিবন্ধী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা গ্রহণকারী কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সময় কোম্পানির বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন, কিবোর্ড ব্যবহার, কম্পিউটার ব্যবহারের ধরন, কর্মঘণ্টা এবং উৎপাদনশীলতার তথ্য বিশ্লেষণ করে স্কোর নির্ধারণ করেছে। বাদীদের অভিযোগ, বৈধভাবে ছুটিতে থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে এসব তথ্য স্বাভাবিকভাবেই কম ছিল। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের কম কর্মদক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করে ছাঁটাইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে কর্মীরা আইনগত অধিকার প্রয়োগ করায় উল্টো শাস্তির মুখে পড়েছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এক নারী বিজ্ঞানী সন্তান জন্মের মাত্র দুই দিন আগে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান। আরেক প্রকৌশলী অভিযোগ করেছেন, কর্মস্থলে আঘাত পাওয়ার পর চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় তার কাজের মূল্যায়নের স্কোর কমিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা এক ব্যবস্থাপক ছুটি শুরুর ১৬ দিনের মাথায় চাকরি হারান। বাদীরা আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছেন, যাতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ছাঁটাই কার্যক্রম চূড়ান্ত করা না হয়। একই সঙ্গে তারা চাকরিতে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন, হারানো শেয়ার, কর্মী সুবিধা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে মেটার এক মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, “এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। কর্মী ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মানুষই নিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়।” মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছর মেটা কর্মীদের কিবোর্ড ব্যবহার, মাউসের নড়াচড়া, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল, বার্তা এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করে। কর্মীদের দাবি, এ বিষয়ে তাদের যথাযথ সম্মতি নেওয়া হয়নি এবং শুরুতে এই ব্যবস্থা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারেরও সুযোগ ছিল না। কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কর্মী মূল্যায়ন ও ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিতর্ক বাড়ছে। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্য কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সিদ্ধান্তে বৈষম্য ঠেকাতে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা কার্যকর করেছে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এর এক অভিযানে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিক গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করা হলেও পরে মার্কিন কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, নিহত ব্যক্তি আসলে ওই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। সোমবার সকালে মেইনের বিডেফোর্ড শহরে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে ধরতে নজরদারি চালাচ্ছিল আইসিই। সংস্থাটির দাবি, ওই ঠিকানা থেকে একটি গাড়ি বের হলে কর্মকর্তারা সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়িটি পালানোর চেষ্টা করে এবং এক কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে আসে। জননিরাপত্তার আশঙ্কায় একজন আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান। এতে গাড়িচালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। মেইনের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যারন ফ্রে জানান, গুলিবর্ষণকারী কর্মকর্তা আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের সদস্য। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর। যদিও তদন্তকারীরা শুরুতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা তাকে জোয়ান সেবাস্তিয়ান গুয়েরেরো হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে কলম্বিয়ার দূতাবাসও নিশ্চিত করে যে নিহত ব্যক্তি একজন কলম্বিয়ান নাগরিক। দূতাবাস ঘটনার বিস্তারিত জানতে ডিএইচএসের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে। মেইন ইমিগ্র্যান্টস রাইটস কোয়ালিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গুয়েরেরোর বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে বিডেফোর্ডে বসবাস করতেন। স্থানীয় কংগ্রেসওম্যান চেলি পিংরি বলেন, “একটি তিন বছরের শিশু এখন তার বাবাকে আর কখনো দেখতে পাবে না।” ঘটনার পর বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা আইসিইর অভিযান ও বলপ্রয়োগের কৌশলের সমালোচনা করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সাদা রঙের চিহ্নবিহীন এসইউভি থেকে আইসিই লেখা সবুজ ভেস্ট পরা কর্মকর্তারা নেমে একটি সেডান গাড়ি ঘিরে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মেরি হেইস বলেন, তিনি নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর সামনে স্বামীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। একই সঙ্গে ছোট্ট মেয়েটিকেও কাঁদতে দেখেছেন, যে আর কখনো তার বাবাকে ফিরে পাবে না। মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানান, প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল নিহত ব্যক্তি গ্রেপ্তারি অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ডিএইচএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন ফোন করে জানান, নিহত ব্যক্তি আসলে সেই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা ছিল না, ফলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। মেইনের গভর্নর জ্যানেট মিলস বলেন, সরকার যে ব্যক্তিকে খুঁজছিলই না, তার মৃত্যু ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তার ভাষায়, এটি অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া আচরণের ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিইর আরেক অভিযানে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নির্মাণশ্রমিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হন। পরবর্তীতে সেখানেও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, নিহত ব্যক্তি অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি গাড়ি দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান, বলপ্রয়োগ এবং অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করা একটি আন্তঃদেশীয় মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর তিনি লারেডো, টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে প্রথমবার হাজির হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী আল-মামুনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্রে অংশ নেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থানকারী অভিবাসীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং তাদের পরবর্তী যাত্রার সমন্বয় করতেন। মামলার নথি অনুযায়ী, আল-মামুনের সঙ্গে আরও দুই বাংলাদেশি—মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮)—এই চক্রে জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মনতেরের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মনতেরেতে তাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অভিবাসীকে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের জন্য একাধিক দেশের রুট ব্যবহার করত। দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানবপাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন এর আগে দোষ স্বীকার করেছেন এবং তারা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI), যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (JTFA) এবং ব্রাজিলসহ একাধিক দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।