যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রচলিত নিয়ম বাতিল করে ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার পথে বড় এক ধাপ এগিয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় আর বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে নিতে হবে না।
হাউসে বিলটি ৩০৮-১১৭ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি কার্যকর হতে হলে এখন সিনেটেও পাস হতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে জানিয়েছে, বিলটি প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছালে তা আইনে পরিণত করার সুপারিশ করা হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং শরতে আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়া হয়। নতুন বিল কার্যকর হলে ডে-লাইট সেভিং টাইম সারা বছর বহাল থাকবে। তবে কোনো অঙ্গরাজ্য চাইলে নিজস্ব আইনসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।
বিলটির অন্যতম সমর্থক ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গাস বিলিরাকিস বলেন, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তার মতে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দিনের আলো থাকলে পরিবারগুলো বাইরে বেশি সময় কাটাতে পারবে এবং স্থানীয় ব্যবসাও উপকৃত হবে। পর্যটননির্ভর ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বাস্তবসম্মত একটি পরিবর্তন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে বিলটির বিরোধীরা বলছেন, ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী হলে শীতকালে সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকবে। এতে স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান মেরি গে স্ক্যানলন বলেন, শীতের সকালে সূর্য ওঠার আগেই লাখো মানুষকে স্কুল ও কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হতে হবে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন বিলটির প্রতি সমর্থন জানালেও প্রশ্ন তুলেছেন, মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির মতো বড় সমস্যার মধ্যে এটি কংগ্রেসের সবচেয়ে জরুরি কাজ কি না।
এদিকে ২০২৫ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, বাধ্যতামূলকভাবে একটি সময়ব্যবস্থা বেছে নিতে হলে ৫৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু রাখার পক্ষে। তাদের মতে, সকালে কিছুটা কম আলো হলেও সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দিনের আলো বেশি উপকারী। বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ সারা বছর স্ট্যান্ডার্ড টাইম বজায় রাখার পক্ষে মত দেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪২ সালে শক্তি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়। এরপর থেকে এর সুফল ও কুফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। চার বছর আগে সিনেট একই ধরনের একটি বিল পাস করলেও তা প্রতিনিধি পরিষদে আটকে যায়। এবার হাউস বিলটি অনুমোদন দেওয়ায় বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে আয়ারল্যান্ড থেকে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২১.৪ মাইল (প্রায় ৩৪.৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ, বিশ্বের অন্যতম কঠিন সমুদ্রপথ ‘নর্থ চ্যানেল’ সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলের বাসিন্দা মায়া মেরহিগে। ৮ জুলাই তিনি ১২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে এই একক ও সহায়তাবিহীন সাঁতার সম্পন্ন করেন। মায়ার এই সাফল্য তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন সাতটি উন্মুক্ত সমুদ্রপথ নিয়ে গঠিত ‘ওশানস সেভেন’ চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার লক্ষ্যের আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে গেছে। নর্থ চ্যানেল ছিল তার সফলভাবে শেষ করা পঞ্চম ‘ওশানস সেভেন’ সাঁতার। সুইম অ্যাক্রস আমেরিকার এক মুখপাত্র জানান, নর্থ চ্যানেল তার প্রবল স্রোত, অত্যন্ত ঠান্ডা পানি, অনিশ্চিত আবহাওয়া এবং বিষাক্ত ‘লায়ন্স মেইন’ জেলিফিশের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মায়া ১৩.৪ থেকে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটেন। পথে একাধিক জেলিফিশের হুলের শিকার হওয়া, একটি সিল মাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করা, কাঁধের তীব্র ব্যথা, ক্লান্তি এবং শেষ অংশের কঠিন স্রোত, সবকিছুই তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। আগামী আগস্টে তিনি মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালি সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করবেন। সেই মিশন সফল হলে ‘ওশানস সেভেন’ সম্পন্ন করার পথে তিনি আরও এগিয়ে যাবেন। মায়া মেরহিগে তার প্রতিটি সাঁতার উৎসর্গ করেছেন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা পরিবার, বন্ধু এবং রোগীদের প্রতি। একই সঙ্গে তিনি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সুইম অ্যাক্রস আমেরিকা’র জন্য ক্যানসার গবেষণায় অর্থ সংগ্রহেও কাজ করছেন। মায়া বলেন, “আমি যখনই পানিতে নামি, তখন এমন মানুষদের কথা মনে রাখি, যাদের সংগ্রাম আমার চেয়েও অনেক কঠিন। আমার সাঁতারের ক্যাপে যাদের নাম লেখা আছে, তাদের জন্য, আশার খোঁজে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এবং উন্নত চিকিৎসা উদ্ভাবনে সহায়ক গবেষণার জন্যই আমি সাঁতার কাটি।” ‘ওশানস সেভেন’কে উন্মুক্ত সমুদ্রে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত সাতটি দুরূহ সমুদ্রপথ একক ও সহায়তাবিহীনভাবে সম্পন্ন করতে হয় এই চ্যালেঞ্জে। নর্থ চ্যানেলকে এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পথগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ঠান্ডা পানি, প্রবল স্রোত এবং জেলিফিশের উপস্থিতি সাঁতারুদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ও বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান ওয়ারেন বাফেট দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান দেওয়ার ধারাবাহিকতা বন্ধ করেছেন। বিল গেটসের প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রকাশিত তথ্যের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। মঙ্গলবার বাফেট ঘোষণা দেন, তিনি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের ১ কোটি ২০ লাখ ক্লাস-বি শেয়ার তার পরিবারের নিয়ন্ত্রিত চারটি দাতব্য ফাউন্ডেশনের কাছে দান করছেন। তবে এবারের অনুদানের তালিকায় গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নেই। এর মাধ্যমে ২০০৬ সাল থেকে চলা দুই প্রতিষ্ঠাতার দীর্ঘ দাতব্য অংশীদারিত্বের সমাপ্তি ঘটল। বাফেট ২০০৬ সালে আজীবন গেটস ফাউন্ডেশনকে শেয়ার দানের অঙ্গীকার করেছিলেন। এরপর গত ২০ বছরে তিনি ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের শেয়ার ফাউন্ডেশনটিকে দান করেন। গত বছরও তার অনুদানের পরিমাণ ছিল ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু এ বছর সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে বিল গেটসের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে তথ্য সামনে আসার পর বাফেট এই সিদ্ধান্ত নেন। বাফেট জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তিনি গেটসের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। তবে বিল গেটসের বিরুদ্ধে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। সম্প্রতি কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে তিনি বলেন, তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তিনি তার অপরাধের ব্যাপকতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তিনি প্রত্যক্ষ করেননি এবং সেই সম্পর্ককে এখন তিনি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। এদিকে গেটস ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে ওয়ারেন বাফেটের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও অনুদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের যোগাযোগ নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে। বাফেট আরও ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে তার অবশিষ্ট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে শেয়ারের সবই পরিবারের চারটি ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দাতব্য অংশীদারিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে একটি ছোট প্যারালিগ্যাল অফিসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারের কথিত নির্মাণ-খাতের জালিয়াতি ও অর্থপাচার চক্রের অভিযোগে একই পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের একজন এক সপ্তাহে ১৭০ ঘণ্টা কাজ করার তথ্য দেখিয়েছিলেন, যদিও একটি সপ্তাহে মোট সময়ই ১৬৮ ঘণ্টা। এই অসঙ্গতিসহ একাধিক প্রমাণ থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিবিএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাউথ মিলিটারি ট্রেইলে অবস্থিত ‘এমএলএস প্যারালিগ্যাল সার্ভিসেস’ নামের একটি অফিসকে কেন্দ্র করে ১০টি ভুয়া নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ (Workers’ Compensation) বীমার জাল সনদ ব্যবহার এবং লাইসেন্স ছাড়া চেক নগদায়নের মাধ্যমে বড় পরিসরে আর্থিক জালিয়াতি চালানো হতো। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই চক্রের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫১ ডলারেরও বেশি মূল্যের পে-রোল চেক প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বীমা আবেদন করে সংগৃহীত সনদপত্র বীমাবিহীন ঠিকাদারদের কাছে ভাড়া দেওয়া হতো, যাতে তারা শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বীমার নিয়ম এড়িয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা একপর্যায়ে নিজেদের নজরদারিতে রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। তারা একটি অচিহ্নিত গাড়িকে ঘিরে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। পরে জানা যায়, গাড়িটিতে থাকা ব্যক্তিরাই ছিলেন গোপন অভিযানে থাকা তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই ঘটনাই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি যৌথভাবে তদন্ত করেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের অফিস এবং ব্রাওয়ার্ড শেরিফের অফিসের মানি লন্ডারিং টাস্কফোর্স। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থপাচার, বীমা জালিয়াতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।