সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

উইল ছাড়াই সম্পত্তির উত্তরাধিকার: নিউইয়র্কের আইন নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২২:১৮
উইল ছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার। ছবি: সংগৃহীত
উইল ছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে কোনো ব্যক্তি উইল (Will) ছাড়া মারা গেলে তার সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হয়—এ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে সচেতনতামূলক একটি তথ্যবহুল পোস্ট প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার।

 

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কে কেউ উইল না করেই মারা গেলেও তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারহীন হয়ে যায় না। বরং নিউইয়র্কের Estates, Powers and Trusts Law (EPTL)-এর Intestacy আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে আইনই নির্ধারণ করে দেন কারা সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হবেন।

 

পোস্টে বলা হয়, মৃত ব্যক্তির কেবল স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে তিনি পুরো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। যদি স্বামী বা স্ত্রীর পাশাপাশি সন্তানও থাকে, তাহলে স্বামী বা স্ত্রী প্রথম ৫০ হাজার ডলার এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির অর্ধেক পান। বাকি অর্ধেক সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়।

 

অন্যদিকে, স্বামী বা স্ত্রী না থাকলেও সন্তান থাকলে সন্তানরাই পুরো সম্পত্তি সমানভাবে উত্তরাধিকার হিসেবে পান। আর স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান কেউ না থাকলে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টিত হয়।

 

মোহাম্মদ মুজুমদার তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, অবিবাহিত জীবনসঙ্গী, বন্ধু, আইনিভাবে দত্তক না নেওয়া সৎ সন্তান কিংবা শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা সাধারণভাবে নিউইয়র্কের ইনটেস্টেসি আইনের অধীনে স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন না। আর যদি আইন অনুযায়ী কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি নিউইয়র্ক স্টেটের অধীনে চলে যেতে পারে, যা আইনি পরিভাষায় ‘এসচিট’ (Escheat) নামে পরিচিত।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের মধ্যেই উইল ও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ ও আইনি জটিলতা এড়াতে সম্পদের মালিকদের জীবদ্দশায় একটি বৈধ উইল তৈরি করা এবং প্রয়োজনে এস্টেট পরিকল্পনা বিষয়ক আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

পোস্টের শেষে মোহাম্মদ মুজুমদার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে আইনি পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো আইনি বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা পেশাদারের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
৫ দিনে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু
ফ্লোরিডায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ংকর তথ্য: ৫ দিনে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু

ফ্লোরিডায় মাত্র পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে ১৬৩ জন নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৭ থেকে ২১ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড’ নামের এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ২ মাস থেকে ১৭ বছর। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট বা এফডিএলই বলছে, অনেক শিশু নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংস্পর্শে ছিল।    এফডিএলইর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ফ্লোরিডার প্রথম রাজ্য নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় শিশু উদ্ধারের অভিযান। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করা, তাদের অবস্থান খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।    অভিযানে ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে টাম্পা বে অঞ্চলে ৪৬ জন, মায়ামিতে ৪১ জন, জ্যাকসনভিলে ৩২ জন, অরল্যান্ডোতে ২১ জন, ফোর্ট মায়ার্সে ১২ জন, পেনসাকোলায় ৮ জন এবং তালাহাসি অঞ্চলে ৩ জন রয়েছে। এর বাইরে আরও শিশু যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্য, একটি ইউএস টেরিটরি এবং ১২টি দেশে শনাক্ত ও উদ্ধার হয়েছে।    তবে এই ১৬৩ শিশুকে একই জায়গা থেকে বা একই ধরনের কোনো অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। এফডিএলই জানিয়েছে, অভিযানটি রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন নিখোঁজ শিশুর পৃথক কেস অনুসরণ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে তাদের খুঁজে বের করে।    উদ্ধারের পর যেসব শিশুর তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল, তাদের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্ধারিত রিকভারি হাবে নিয়ে যায়। সেখানে সোশ্যাল সার্ভিসেস, শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল প্রোভাইডার, ভিকটিম অ্যাডভোকেটসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এবং ডিপার্টমেন্ট অব জুভেনাইল জাস্টিস শিশুদের কাস্টডি হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেক শিশুই বিভিন্ন মাত্রার নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে ছিল। তবে ১৬৩ শিশুর সবাই অপহরণের শিকার ছিল, এমন তথ্য কর্তৃপক্ষ দেয়নি। প্রতিটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার কারণ ও পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    অভিযান থেকে তিনটি ফেলোনি মামলা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের স্টেটওয়াইড প্রসিকিউশন বিভাগ এবং মায়ামি-ডেড স্টেট অ্যাটর্নির অফিস এসব মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছে। এফডিএলই জানিয়েছে, শিশুদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল।    ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার বলেছেন, অনেক শিশুই এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা দুর্বল শিশুদের লক্ষ্য করে। এ ধরনের শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    পাঁচ দিনের অভিযানে ১৬৩ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ফ্লোরিডায় নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা এবং নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্তে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের গুরুত্বও সামনে এসেছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৫:৫৯
সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক

মার্কিন বিচারকের রায়ে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক ধসের ১৭১ কোটি ডলারের দাবি খারিজ

জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসে অভিবাসন জালিয়াতি, জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুইজন দোষী সাব্যস্ত

বেসবল খেলার মাঠে ১১ বছর বয়সী জিওভান্নি ক্রুজ। ছবি: সংগৃহীত

বেসবল খেলতে খেলতেই বুকে-পিঠে তীব্র ব্যথা, ১১ বছরের শিশুর বিরল রোগ শনাক্ত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের আসল জন্মসনদ পাওয়ার সুযোগ দিতে নতুন আইন পাসের দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসনদ পাওয়ার দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়ার দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের লড়াই, আইন পাসের আবেদন

ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মসনদ পাওয়ার সুযোগ দিতে নতুন একটি আইন পাসের দাবি উঠেছে। বর্তমানে দত্তক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাজ্য তাদের জন্মসনদ সিল করে রাখে। এই অবস্থায় নিজেদের জন্মপরিচয় জানার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা।   এই দাবির পক্ষে কথা বলেছেন ৬৩ বছর বয়সী পল কিমবল। তিনি জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ফোর্ট ব্র্যাগে জন্মের পর তাকে অন্য একটি নাম দেওয়া হয়েছিল। জীবদ্দশায় নিজের জন্মসনদ দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   কিমবল এক বছর বয়সে দত্তক নেওয়া হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দত্তক পরিবারের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। তারপরও নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়াকে তিনি নিজের পরিচয় সম্পর্কে পূর্ণতার অনুভূতির সঙ্গে দেখছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সেও নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথির ওপর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।   প্রায় একশ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের জন্মসনদ সিল করে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল জন্মদাতা মায়েদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা। তবে বর্তমানে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মপরিচয় ও জৈবিক সম্পর্ক জানার সুযোগ দেওয়ার দাবি সামনে এসেছে।   কিমবলসহ অন্য সমর্থকেরা প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যদিও বিলটির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা নেই, রাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যারোলিন মেনজিভার জন্মদাতা মায়েদের সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, যেসব জন্মদাতা মা সন্তানকে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা হয়তো প্রকাশ্যে এসে বিলটির বিরোধিতা করতে চাইবেন না।   বিলটির সমর্থকেরা আরও বলেছেন, বর্তমানে বংশপরিচয় অনুসন্ধানের জন্য বংশগত পরীক্ষা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা সরকারি নথি ছাড়াও তাদের জৈবিক আত্মীয়দের খুঁজে পেতে পারেন। তবে কিমবলের মতে, নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়ার গুরুত্ব আলাদা।   এদিকে প্রস্তাবিত আইনটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে পাস হয়নি। আইনসভার নেতারা বিলটিকে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভোটের জন্য তুলছেন না। ফলে চলতি অধিবেশনে এর অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   কিমবল আশা করছেন, আগামী আইনসভা অধিবেশনে অন্য কোনো আইনপ্রণেতা বিলটি গ্রহণ করে এগিয়ে নেবেন। এতে তার মতো দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১২:১৬
লেবার ডে ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ১৭ সেন্টে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চড়া খরচের আশঙ্কা!

সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্টের সাথে ১৮ মিলিয়ন ডলারের রয়্যালটি বিরোধের অবসান হওয়ায় ফেডারেল মামলা প্রত্যাহার করেছেন জারমেইন ডুপ্রি। ছবি: সংগৃহীত

সনি মিউজিকের সঙ্গে ১৮ মিলিয়ন ডলারের রয়্যালটি বিরোধ মিটল, মামলা প্রত্যাহার জারমেইন ডুপ্রির

যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করলে সেসব সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

‘ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা করলে দরিদ্র হবে আমেরিকানরা!’ ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ রানা মহসিনের জানাজা মঙ্গলবার ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত হবে। ছবি: সংগৃহীত
টেনেসিতে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ রানার জানাজা মঙ্গলবার ব্রুকলিনে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ রানা মহসিনের জানাজা মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।   জানাজা শেষে শাহেদ রানার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। শনিবার সকালে টেনেসি থেকে তার মরদেহ নিউইয়র্কে আনা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।   গত ২৩ আগস্ট বেলস শহরের সাফারি কর্নার মার্কেটে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন শাহেদ রানা। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র ডাকাতির সময় তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।   সরকারি নথি অনুযায়ী, নিহতের নাম শাহেদ রানা মহসিন এবং তার বয়স ৩৬ বছর। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে শাহেদ রানা ও হামলাকারীর মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।   এ ঘটনায় কোরি উইলিয়াম ডগলাস হিউজ নামে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্র্যান্ড জুরি হত্যাসহ আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতির সময় হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখা হয়েছে।   প্রসিকিউশন এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে শাহেদ রানা ও অভিযুক্তের মধ্যে পূর্বপরিচয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রসিকিউটর জানিয়েছেন। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আকস্মিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে শাহেদ রানা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। টেনেসিতে কর্মরত অবস্থায় তার এমন মৃত্যুতে স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান রেখে গেছেন।   এদিকে শাহেদ রানার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি তহবিল খোলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ব্রুকলিনে জানাজা শেষে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১০:৫২
নিউইয়র্ক পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পেনসিলভানিয়ায় নতুন আসা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি থেকে স্বাস্থ্যসেবা, ১০টি জরুরী ঠিকানা

সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অনুমোদনের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত

জনসমর্থনে তলানিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাড়ছে নিজ দলের ভেতরেও অসন্তোষ

0 Comments