আমেরিকা

নিউইয়র্কে কম ভাড়ায় থাকার সুযোগ, হাডসন ইয়ার্ডসের পাশে খুলল হাউজিং লটারি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২৩:১২
হাডসন ইয়ার্ডসের পাশের অ্যাবিংটন হাউসে সাশ্রয়ী ভাড়ার হাউজিং লটারির আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হাডসন ইয়ার্ডসের পাশের অ্যাবিংটন হাউসে সাশ্রয়ী ভাড়ার হাউজিং লটারির আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের হাডসন ইয়ার্ডসের কাছাকাছি এলাকায় সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য নতুন করে হাউজিং লটারি চালু হয়েছে। ম্যানহাটনের ৫০০ ওয়েস্ট ৩০তম স্ট্রিটে অবস্থিত অ্যাবিংটন হাউস ভবনের স্টুডিও ও এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে আবেদনকারীরা মাসে ১ হাজার ৩৮ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পাবেন। 

 

নিউইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়ালের তালিকা অনুযায়ী, এই লটারিতে মোট ২৬টি স্টুডিও এবং ৩৩টি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য ফিটনেস সেন্টার, বাস্কেটবল কোর্ট, ছাদে লাউঞ্জ, ইন ইউনিট লন্ড্রি এবং অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। ভাড়ার মধ্যে গ্যাস, গরম পানি ও হিটিংয়ের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবেদন বা ব্রোকার ফি দিতে হবে না। 

 

স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮ ডলার। একক আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৮৮০ থেকে ৪৫ হাজার ৩৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের সীমা ৩৬ হাজার ৭৭৮ থেকে ৫২ হাজার ৮৪০ ডলার।

 

এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ১০৬ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের যোগ্যতার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একক আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৩৯ হাজার ৪০৫ থেকে ৪৫ হাজার ৩৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আয় ৫১ হাজার ৮৪০ ডলার এবং তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৩২০ ডলার পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। 

 

আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ইমেইল বা ফোনের মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
তদন্তের পর পদত্যাগ করেছেন ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা লিসা ভিদ্রিওস। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলের ভেতরেই সহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক, তদন্তের মুখে মার্কিন নারী পুলিশের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে এক বিবাহিত নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সহকর্মীর সঙ্গে একটি স্কুল ভবনের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে ঘটনাটির বিভিন্ন তথ্য উঠে আসায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WKRN-এর হাতে আসা মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগের অফিস অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি (OPA)-এর তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিসা ভিদ্রিওস ২০২৫ সালের মে মাসে ম্যাডিসন মিডল স্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে তিনি স্বীকার করেন, ওই সময় অন্তত চারবার এক সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে স্কুল ভবনের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তার স্বামী ছিলেন না।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাগুলো তার অফিসকক্ষে ঘটেছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাগুলোর সময় স্কুল ভবনের ভেতরে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল এবং অফিসের বাইরে কর্মীদের কথাবার্তার শব্দও শোনা যাচ্ছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি এ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি।   তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্তত দুটি পৃথক ঘটনায় একটি পুলিশ গাড়িতেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ঘটনা একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   লিসা ভিদ্রিওস ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে প্রায় নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ও তার পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে ন্যাশভিলে চলে আসেন এবং মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি থেকে একসঙ্গে স্নাতক হওয়া প্রথম দম্পতি হিসেবে পরিচিতি পান। সে সময় বিভাগটির প্রচারমূলক একটি ভিডিওতেও তাকে তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে তিনি পরিবার ও কর্মজীবনের কথা বলেছিলেন।   পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসেই অভিযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ২৬ মে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে সক্রিয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশ বিভাগের সব ধরনের প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হয়।   অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে লিসা ভিদ্রিওস পুলিশের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য অনুপযুক্ত আচরণ এবং দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা। তদন্ত শেষে তাকে ৩০ দিনের জন্য বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয় এবং পরে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।   তদন্ত প্রতিবেদনে সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মেট্রো ন্যাশভিল পুলিশ বিভাগে ১৮ বছর কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্ত চলাকালে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব পালনকালে আহত হওয়ার ভিত্তিতে পেনশন সুবিধা পান। ফলে তদন্তকারীরা তার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার নিতে পারেননি।   প্রতিবেদনটিতে লিসা ভিদ্রিওসের স্বামীর নামও প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অফিস অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটিও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২৩:৪৩
হাডসন ইয়ার্ডসের পাশের অ্যাবিংটন হাউসে সাশ্রয়ী ভাড়ার হাউজিং লটারির আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে কম ভাড়ায় থাকার সুযোগ, হাডসন ইয়ার্ডসের পাশে খুলল হাউজিং লটারি

মার্কিন ভোটারদের তথ্য নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে: ট্রাম্প

টানা বৃষ্টিতে টেক্সাস হিল কান্ট্রির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ বন্যা, জরুরি উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই প্রাণহানি

নিউইয়র্কে বাসা ভাড়ার নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক ও ভাড়াটিয়ার ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ বাড়ির মালিককে বহনের প্রস্তাব মামদানি প্রশাসনের

নিউইয়র্কে বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় আবেদনকারীর ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ আর ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেওয়া যাবে না—এমন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহের ব্যয় বাড়ির মালিক বা তাদের নিয়োগ করা ব্রোকারকে বহন করতে হবে।   বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই প্রকাশিত নগর প্রশাসনের ‘রেন্টাল রিপঅফ’ প্রতিবেদনে এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে কয়েক মাস ধরে আয়োজিত শুনানিতে ভাড়াটিয়াদের দেওয়া সাক্ষ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩টি সুপারিশ তৈরি করেছে মেয়রের দপ্তর। বর্তমানে বাসার জন্য আবেদন করার সময় অনেক ভাড়াটিয়াকে ক্রেডিট যাচাইয়ের ফি দেওয়ার পাশাপাশি আয়, চাকরি ও আর্থিক সক্ষমতার একাধিক প্রমাণ জমা দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবে বাড়ির মালিকদের একই আবেদনকারীর কাছ থেকে ক্রেডিট রিপোর্ট ও আয়ের প্রমাণ—দুই ধরনের যাচাই একসঙ্গে চাওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।   প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী, বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে ক্রেডিট রিপোর্ট অথবা আয়ের প্রমাণ—যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন। এর লক্ষ্য বাসা খোঁজার সময় আবেদনকারীদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ফি ও একই ধরনের একাধিক যাচাইয়ের চাপ কমানো। তবে এটি এখনো কার্যকর আইন নয়। ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ বাড়ির মালিকের ওপর দেওয়াসহ প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি সুপারিশ বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদন এবং নতুন আইন প্রয়োজন হবে। এ নিয়ে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে নগর প্রশাসন জানিয়েছে।   ‘রেন্টাল রিপঅফ’ প্রতিবেদনে ক্রেডিট যাচাইয়ের নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি বাসাবাড়ির তাপ ও গরম পানির অভিযোগ তদন্ত, ভবনের ত্রুটি সংশোধনের মিথ্যা তথ্য দিলে জরিমানা বৃদ্ধি এবং গুরুতর আবাসন বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় একই ভবন থেকে আসা একাধিক তাপ বা গরম পানির অভিযোগকে একই অভিযোগ হিসেবে বন্ধ না করে প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভাড়াটিয়াদের সুবিধামতো আবাসন পরিদর্শনের সময় নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।   বাসার বিজ্ঞাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি পরিবর্তন করা হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও রয়েছে। এতে অনলাইনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে বাস্তব বাসার অবস্থার বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে আবেদনকারীরা আগেই তা জানতে পারবেন। প্রতিবেদনে ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে একই ভবনের ভাড়াটিয়ারা যৌথভাবে বাড়ির মালিকের সঙ্গে মেরামত, নিরাপত্তা ও ভবন পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে পারবেন।   নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শুনানিতে ভাড়াটিয়ারা ছত্রাক ও পোকামাকড়ের সমস্যা, পানি চুয়ে পড়া, নষ্ট লিফট, প্রয়োজনীয় মেরামতে বিলম্ব এবং আগে থেকে জানানো হয়নি এমন বিভিন্ন ফি নিয়ে অভিযোগ করেন। এসব সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই নগর প্রশাসন পর্যায়ক্রমে নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।   প্রস্তাবগুলোর কিছু প্রশাসনিকভাবে চালু করা সম্ভব হলেও ক্রেডিট যাচাইয়ের খরচ স্থানান্তর, নতুন জরিমানা এবং বাড়ির মালিকদের জন্য অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা আরোপের মতো পরিবর্তনগুলো কার্যকর হতে সিটি কাউন্সিলে আইন পাস করতে হবে। ফলে নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্য

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২২:২৭
উইল ছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

উইল ছাড়াই সম্পত্তির উত্তরাধিকার: নিউইয়র্কের আইন নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার

ম্যাসাচুসেটসের ডেভিস স্টেশনে এসকেলেটর দুর্ঘটনায় নিহত স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কেউ সাহায্য করেনি

কিশোরীকে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ করছে শিকাগো পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোয় কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা, ‘বাড়তি আয়ের’ লোভ দেখিয়ে প্রলোভন ডেলিভারি ম্যানের

গ্রিন কার্ড আবেদনের নিয়মে পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতে কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি আর্থিক সহায়তা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যবহারের ইতিহাস গ্রিন কার্ড আবেদন মূল্যায়নে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাবে। এর ফলে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে যাচাই করবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন যে নীতিমালা চালু করেছিল, সেটি বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। প্রশাসনের দাবি, আগের নীতির কারণে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছিলেন না।   মার্কিন অভিবাসন আইনে 'পাবলিক চার্জ' বা 'সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তি' ধারণাটি বহুদিন ধরেই রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করবেন বলে মনে হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। আবেদন মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের ইতিহাস, দক্ষতা, সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্যসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।   নতুন নীতির ফলে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি), আবাসন সহায়তাসহ আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্যও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রত্যাশাই এই নীতির মূল ভিত্তি। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইনের মতে, ইউএসসিআইএস থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী কর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন। একই সময়ে কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি বিবেচনাধিকার দেওয়া হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তার মতে, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও কার্যকর তদারকি ছাড়া অতিরিক্ত বিবেচনাধিকার সমস্যার কারণ হতে পারে।   নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে বলে ধারণা করছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিবছর ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার সরকারি ব্যয় কমতে পারে। তবে প্রশাসন স্বীকার করেছে, এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুদি দোকান, বাড়িওয়ালাসহ বিভিন্ন খাতেও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্ডের পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।   অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়া অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য বাস্তবসম্মত হবে না। ফলে এটি অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সমালোচকদের মতে, নতুন নীতির কারণে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা অনেক অভিবাসীও ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আশঙ্কায় এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।   ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন 'পাবলিক চার্জ' নীতি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর থেকে যারা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তাদের নতুন সংস্করণের আই-৪৮৫ আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন মূল্যায়ন করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২১:১৫
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

বাইডেনের নতুন বই নিয়ে জিমি ফ্যালনের রসিকতা, ‘শেষের পাতাগুলো যেন কমলা হ্যারিসের লেখা’

৩ বছর বয়সি যমজ দুই শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩ বছর বয়সি যমজ দুই শিশুর মৃত্যু, বিষক্রিয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা

মার্কিন পাসপোর্ট ছাড়া দেশে প্রবেশ বা প্রস্থান নয়

দ্বৈত নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নির্দেশনা: মার্কিন পাসপোর্ট ছাড়া দেশে প্রবেশ বা প্রস্থান নয়

0 Comments