নিউইয়র্ক সিটিতে লিজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার মার্টিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয়, বয়স বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত তথ্য প্রকাশ করেনি নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইড এলাকার ভবনগুলোর কুলিং টাওয়ারে থাকা লিজিওনেলা ব্যাকটেরিয়া থেকেই এই সংক্রমণের সূত্রপাত।
পরীক্ষায় ওই এলাকার ৭৬টি ভবনের কুলিং টাওয়ারে লিজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরপর ভবন মালিকদের কুলিং টাওয়ারগুলো পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কমিশনার জানিয়েছেন, সব সংশ্লিষ্ট ভবন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ব্যবস্থা সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লিজিওনেয়ার্স রোগ হলো লিজিওনেলা ব্যাকটেরিয়াজনিত এক ধরনের গুরুতর ফুসফুসের সংক্রমণ। সাধারণত দূষিত পানির ক্ষুদ্র কণা বা বাষ্প শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
কুলিং টাওয়ার, হট টাব, ফোয়ারা কিংবা উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পানির ব্যবস্থায় এই ব্যাকটেরিয়া বেড়ে উঠতে পারে। তবে নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে পানীয় পানি, গোসলের পানি বা ব্যক্তিগত এয়ার কন্ডিশনারের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কে লিজিওনেয়ার্স রোগ নতুন নয়। গত বছর হারলেম এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এক প্রাদুর্ভাবে ৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সাতজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর কুলিং টাওয়ারের নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি আরও কঠোর করে শহর কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তি, ধূমপায়ী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষ এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি।
লিজিওনেয়ার্স রোগ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না এবং দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরায় অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে এক নারী বিক্ষোভকারীকে গুলি করার অভিযোগে কেন্দ্রটির এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁর আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে অরোরা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ব্র্যান্ডন বুথ। ৪২ বছর বয়সী বুথ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের সরাসরি কর্মকর্তা নন। তিনি অরোরা আইস প্রসেসিং সেন্টার পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপের কর্মী। ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আটককেন্দ্রের প্রবেশপথে বিক্ষোভ চলায় বুথসহ কয়েকজন কর্মী নিজেদের গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্ষোভ শেষ হলে তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই নারী সেখানে থাকা কর্মীদের গাড়ির ছবি তোলেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে ওই দুই নারী ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন। তখন বুথ নিজের ব্যক্তিগত পিস্তল বের করে তাঁদের দিকে একটি গুলি ছোড়েন। গুলিটি এক নারীর শরীরের নিচের অংশে লাগে। এরপর বুথ গাড়ি নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ নারীকে ২১ বছর বয়সী এমা ল্যান্ডিস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, গুলিটি তাঁর ডান পায়ের গোড়ালির কাছে লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তাঁর পেছন দিক হামলাকারীর দিকে ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা অপর নারী আহত হননি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ নর্থ নোম স্ট্রিটের ৩১০০ ব্লকে পৌঁছে আহত নারীকে উদ্ধার করে। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্লকেরও কম দূরত্বে বুথের গাড়ি থামিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। গাড়ির ভেতর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। বুথকে হত্যার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার চেষ্টা, প্রথম মাত্রার শারীরিক হামলা, প্রথম মাত্রার হামলার চেষ্টা, অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বেআইনিভাবে গোপন অস্ত্র বহনের সন্দেহে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার আদালতে তাঁর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক তাঁর জামিনের পরিমাণ পাঁচ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন। জিও গ্রুপ জানিয়েছে, বুথকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় দেড় হাজার বন্দী ধারণক্ষমতার অরোরা কেন্দ্রটি আইসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পরিচালনা করে জিও গ্রুপ। অরোরা পুলিশ জানিয়েছে, গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। ঘটনাস্থল বা ঘটনার পরবর্তী সময়ের কোনো ভিডিও কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কারও কাছে থাকলে তা তদন্তকারীদের দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুথের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কংগ্রেস নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা চৌধুরীকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, মুসলিম ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইটে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে অবস্থান উল্লেখ করেননি। ওয়াশিংটনের নবম কংগ্রেসনাল জেলায় দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম স্মিথকে চ্যালেঞ্জ করছেন চৌধুরী। দলীয় সমর্থন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তাঁর প্রচারণার ওয়েবসাইটে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। জবাবে চৌধুরী বলেন, অনেক মুসলিম ভোটার এ বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশের পরই ডেমোক্র্যাট শিবিরের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এলজিবিটিকিউ বলতে যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয়ের বৈচিত্র্যকে বোঝানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নীতির অংশ। মেলিসা চৌধুরীর মন্তব্যের পর ওয়াশিংটন স্টেট স্টোনওয়াল ডেমোক্র্যাটসসহ কয়েকটি সংগঠন তাঁর প্রতি দেওয়া সমর্থন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, একজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছ থেকে নাগরিক অধিকার ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশিত। বিতর্কের পর আরও একটি বিষয় সামনে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, চৌধুরী নির্বাচিত হলে ডেমোক্র্যাট পার্টি ছেড়ে গ্রিন পার্টিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও আলোচনা করেছিলেন। তবে এ বিষয় নিয়েও তাঁর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। অভিযোগের জবাবে মেলিসা চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এলজিবিটিকিউ মানুষের সমঅধিকার সমর্থন করা তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থান। তিনি বলেন, এই বিষয়টি তাঁর কাছে কোনো নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ। চৌধুরী আরও দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ প্রসঙ্গের বাইরে তুলে ধরে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোট ধরে রাখার পাশাপাশি দলীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা—এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মেলিসা চৌধুরীকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলারের ফেরতযোগ্য (Refundable) বন্ড চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা তথ্য ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো কার্যকর আইন বা নীতি নয়; ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন একটি প্রস্তাব মাত্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলারের বন্ড নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, নতুন অভিবাসীরা যাতে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী অথবা তার কোনো স্বজন এই বন্ড জমা দিতে পারবেন। আলোচনায় রয়েছে, আবেদনকারী পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে বন্ডের পরিমাণ সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এক হবে না; ব্যক্তিভেদে তা কম বা বেশি হতে পারে। এছাড়া এটি শুরুতে সীমিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি এখনো কেবল একটি প্রস্তাব। এটি কোনো কার্যকর আইন নয়। তাই এ ধরনের খবর শুনে হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো তথ্য শুনলেই তা বিশ্বাস না করে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা উচিত।” ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব প্রযোজ্য হবে না বলেই আলোচনা রয়েছে। তবে সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি। তাই গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেন তিনি। মইন চৌধুরী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের কোনো নীতি কার্যকরও হয়, তাহলে সেটি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসন বিদ্যমান আইনি ক্ষমতার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ডের বিধান ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিকল্পটি বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড নিয়ে আলোচনা বাস্তব হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত নীতি নয়। ফলে এটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বা সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।