আমেরিকার রাস্তায় ঘুরছে ইসরায়েলি ‘স্পাই ভ্যান’, নজরদারিতে থাকতে পারে আপনার ফোন
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পৌঁছেছে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইট তৈরি অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ‘ফ্যালকোনেট’। শেভ্রোলেট তাহো এসইউভিতে স্থাপিত এই প্রযুক্তি ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এটি অপরাধ তদন্তে সহায়ক হলেও নিরপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফোর্বসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্যালকোনেট মূলত একটি ‘সেল-সাইট সিমুলেটর’। এটি নিজেকে মোবাইল ফোনের একটি বৈধ সেল টাওয়ার হিসেবে পরিচয় দেয়। এর আওতায় থাকা মোবাইল ফোনগুলো সাময়িকভাবে এই কৃত্রিম টাওয়ারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে তদন্তকারীরা নির্দিষ্ট ডিভাইসের অবস্থান শনাক্তসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। প্রযুক্তিটি বহু বছর ধরে ব্যবহৃত ‘স্টিংরে’ সিস্টেমের উন্নত সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি প্রায় ৪৫ লাখ ডলার ব্যয়ে চারটি ফ্যালকোনেট-সজ্জিত শেভ্রোলেট তাহো সংগ্রহ করেছে। একই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল’ এনফোর্সমেন্ট এবং নিউ মেক্সিকোর অ্যালবুকার্ক পুলিশও কিনেছে। ফলে এটি ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনা নয়; প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থার ব্যবহারে এসেছে।
কগনাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি শুধু গাড়িতেই নয়, ব্যাকপ্যাক বা হেলিকপ্টারেও বহন করা যায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মাত্র কয়েক মিনিটে এটি চালু করা সম্ভব এবং এক মিনিটে হাজারো মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
তবে প্রযুক্তিটি ঘিরে উদ্বেগও কম নয়। নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এ ধরনের সিস্টেম শুধু সন্দেহভাজন ব্যক্তির নয়, আশপাশে থাকা নিরপরাধ মানুষের মোবাইল ফোন থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি ওহাইওর এক বিচারক এমন একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি নির্দিষ্ট এলাকায় হাজারো মানুষের মোবাইল ফোনের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছিল। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, এমন অনুমতি দিলে নিরপরাধ নাগরিকদের চলাফেরাও নির্বিচারে নজরদারির আওতায় চলে আসতে পারে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের একজন মুখপাত্র ফোর্বসকে জানিয়েছেন, অপহরণ বা জীবনহানির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে আদালতের পরোয়ানা ছাড়াও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়েই এটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
কগনাইটের অতীত কার্যক্রম নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে ব্রাজিলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারিতে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এর আগে মেটাও অভিযোগ করেছিল, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে কগনাইট-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শতাধিক ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেছিল। কোম্পানিটির পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠান ভেরিন্টের বিরুদ্ধেও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কিত কয়েকটি দেশে নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে কগনাইট বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করার দাবি করে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক অপরাধ তদন্ত ও জাতীয় নিরাপত্তায় উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, এর ব্যবহার যেন আইনের সীমার মধ্যে থাকে এবং নিরপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অযথা ক্ষুণ্ন না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্পাই ভ্যান’ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক মূলত সেই প্রশ্নকেই সামনে এনে দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মায়ের ওপর হামলা ঠেকাতে ছুরি হাতে এগিয়ে যায় ১২ বছরের এক কিশোর। প্রিন্স জর্জস কাউন্টির টেম্পল হিলসে শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের প্রেমিক তাকে গলা টিপে ধরার পর কিশোরটি রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে হামলাকারীকে ছুরিকাঘাত করে। কিশোরটির নাম জেভিয়ার লেদারস। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ মায়ের চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখে, তার মায়ের প্রেমিক তাকে আক্রমণ করছেন। মাকে বাঁচাতে জেভিয়ার রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে ফিরে আসে এবং ওই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে। এতে হামলাকারী সামান্য আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম ৪২ বছর বয়সী রনি ম্যাককেইন। তাকে গ্রেপ্তার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। চিকিৎসার পর তাকে আবার পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার পর জেভিয়ার জানান, ওই মুহূর্তে তার একটাই চিন্তা ছিল, মাকে বাঁচানো। তিনি বলেন, সে সেখানে না থাকলে কী ঘটত, তা সে জানে না। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা জেভিয়ারের সাহসের প্রশংসা করেন। কিশোরটি জানায়, পুলিশ তাকে বলেছে যে সে ভালো কাজ করেছে। তবে একই সঙ্গে সে বলেছে, এত অল্প বয়সে তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়াটা উচিত ছিল না। ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে প্রিন্স জর্জস কাউন্টি পুলিশ। মায়ের ওপর হামলার পরিস্থিতি এবং ছুরিকাঘাতের পুরো ঘটনাক্রম নিয়েও তদন্ত চলছে।
কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান
আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'
টেক্সাসে শরিয়া আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের অবস্থান কঠোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা শরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে মুসলিম নাগরিক ও ইসলামবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় ধারণা হিসেবে শরিয়ার অর্থকে রাজনৈতিক বক্তব্যে অতিরঞ্জিত ও বিকৃত করা হচ্ছে। টেক্সাসের অস্টিনের বাসিন্দা শাইমা জায়ানের কাছে শরিয়া কোনো বিকল্প আইনি ব্যবস্থা নয়। তাঁর ভাষায়, এটি মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনের একটি পথ। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের ওপর এটি অন্যদের জন্য চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ও নয় বলে তিনি মনে করেন। টেক্সাসে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) রাজ্য শাখায় কাজ করা জায়ান বলেন, মসজিদে নিয়মিত ধর্মীয় আলোচনায় বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণ, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, ভালো চরিত্র, নামাজ ও রোজার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ‘শরিয়া’ শব্দটি আলাদাভাবে বারবার উচ্চারিত না হলেও এসব নৈতিক ও ধর্মীয় অনুশীলন ইসলামী জীবনযাপনের অংশ। টেক্সাস আইনসভার প্রথম মুসলিম সদস্য সালমান ভোজানি শরিয়াকে ব্যক্তিগত নৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, দান-সদকা করা, নিয়মিত সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা, প্রতিবেশী ও অন্যদের সঙ্গে সৎ আচরণ করা এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। রিপাবলিকান নেতাদের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তারা শরিয়াকে এমন একটি আইনি কাঠামো হিসেবে দেখছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। টেক্সাসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্রেন্ট মানি বলেছেন, ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, টেক্সাসের আইন বা অন্যদের সমঅধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিদেশি আইনি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কেউ পায় না। এ অবস্থান থেকেই চলতি বছরের মার্চে মানি টেক্সাস আইনসভায় ‘শরিয়া ফ্রি টেক্সাস ককাস’ গঠন করেন। এর আগে টেক্সাসের দুই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য কিথ সেলফ ও চিপ রয় কংগ্রেসে ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’ গঠন করেছিলেন। জুনে সেলফ জানিয়েছিলেন, ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ৬৮ জন রিপাবলিকান সদস্য ওই ককাসে যুক্ত হয়েছেন। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও গত এক বছরে ইসলাম ও শরিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড ও সিএআইআরকে টেক্সাসের আইনের অধীনে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন। অ্যাবটের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ওই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বাড়তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং টেক্সাসে তাদের জমি বা সম্পত্তি অর্জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে অ্যাবট সিএআইআর-সংশ্লিষ্ট একটি ইসলামিক ক্রীড়া আয়োজন নিয়ে স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান এবং শরিয়া আদালত নিয়ে তদন্তের কথাও বলেন। রিপাবলিকান পার্টি অব টেক্সাসের চলতি বছরের প্ল্যাটফর্মেও শরিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ‘ডোন্ট শরিয়া মাই টেক্সাস’ নামে একটি প্রস্তাবে শরিয়াকে অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি শরিয়া বাস্তবায়ন বা প্রচারের বিরুদ্ধে আইন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি শরিয়া প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরি, সামরিক বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব থেকে অযোগ্য ঘোষণার মতো প্রস্তাবও এতে রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, শরিয়াকে একটি একক, সুনির্দিষ্ট আইনবিধি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। রাইস ইউনিভার্সিটির ইসলামবিষয়ক অধ্যাপক ডেভিড কুকের মতে, শরিয়া একক কোনো বিষয় নয়। ইসলামের নবী মুহাম্মদের শিক্ষা ও ঐতিহ্য, সেগুলো থেকে তৈরি বিভিন্ন আইনগত ব্যাখ্যা এবং সময়ের সঙ্গে এসব ব্যাখ্যার পরিবর্তন ও আলোচনা মিলিয়ে শরিয়ার ধারণা গড়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের ইসলামি আইন ও শরিয়াবিষয়ক অধ্যাপক খালেদ আবু আল ফাদলও বলেন, আরবি ভাষায় ‘শরিয়া’ শব্দের মূল অর্থ পথ বা পানির দিকে যাওয়ার পথের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, ইসলামী ঐতিহ্যে এটি কল্যাণের পথ বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। প্রায় দেড় হাজার বছরের ইসলামী ইতিহাসে শরিয়া নিয়ে বহু ধরনের ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্বীকার করেন যে, কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শরিয়ার নামে কঠোর ও দমনমূলক আইন চালু রয়েছে। কিন্তু সেসব আইনকে বিশ্বের সব মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাস বা শরিয়ার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই জায়গাতেই টেক্সাসের মুসলিম নাগরিকদের আপত্তি। তাদের বক্তব্য, কিছু দেশে ধর্মীয় আইনের কঠোর প্রয়োগের উদাহরণ থাকলেও তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মচর্চাকে এক করে দেখা হচ্ছে। টেক্সাসে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক ধর্মীয় জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম নারীদের হিজাব পরা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জায়ানের বক্তব্য, হিজাব পরা ব্যক্তিগত ধর্মীয় সিদ্ধান্ত। সিএআইআর টেক্সাসে কর্মরত ছয় মুসলিম নারীর মধ্যে তিনজন হিজাব পরেন বলে তিনি জানান। তাঁর প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনকে কীভাবে অন্যদের ওপর একটি আইন চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা যায়? ইসলামবিষয়ক গবেষক কামবিজ ঘানিয়াবাসিরি মনে করেন, মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস মার্কিন সংবিধানের বিকল্প কোনো কর্তৃত্ব তৈরি করে, এমন ধারণা মূলত ভয় তৈরি করার রাজনৈতিক কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ক্যাথলিকদের নিয়েও একসময় একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অস্টিনের মুসলিম নাগরিক শাকিল রাশেদের ভাষায়, মুসলিমরাও অন্য আমেরিকানদের মতোই সংবিধান মেনে নিজেদের ধর্ম পালন করতে চান। ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে এবং প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে নিজ নিজ বিশ্বাস পালন করাই তাদের প্রত্যাশা। টেক্সাসে মুসলিমদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন শুধু শরিয়া আইনেই সীমাবদ্ধ নেই। কিছু রিপাবলিকান ও রক্ষণশীল নেতা হিজাব ও অন্যান্য ইসলামী পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ, ইসলামিক চার্টার স্কুল বন্ধ এবং মুসলিমদের পেশাগত লাইসেন্স নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলছেন। জানুয়ারিতে টেক্সাস আইনসভা অধিবেশনে বসার পর এসব প্রস্তাব নিয়ে আরও বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুসলিম নেতারা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার এবং কোনো ধর্মীয় আইনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন পরিবর্তনের প্রশ্নকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, শরিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আগে এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অর্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সূত্র: দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন
২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর! নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ায় বাধা কাটল বাংলাদেশিদের, বাতিল হলো পুরোনো নিষেধাজ্ঞা
৪০ হাজার ডলারের বিলাসবহুল ঘড়ির বদলে কারাগারে মাদুরোর হাতে এখন ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর একটি মসজিদে হামলার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার ও হামলাকারীদের উগ্রবাদী লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নর্থ ক্যারোলিনার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে দুই বন্দুকধারীর সঙ্গে ওই কিশোরীর যোগাযোগ ছিল এবং হামলার ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। ফোরসাইথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও'নিল সোমবার উইনস্টন-সালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ এবং একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অনুমোদন করে। আদালতের নথিতে তার নাম সারাহ লিন্ডসে সান্তিয়াগো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার আগে সান্তিয়াগো হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করার, সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং হামলাকারীদের লেখা একটি নথি প্রকাশ করার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পরে এসব কাজ করেন। এমনকি হামলাকারীদের একজনের ব্যবহারের জন্য শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী প্রতীকযুক্ত একটি প্যাচ কিনে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি ও'নিল বলেন, ওই কিশোরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নর্থ ক্যারোলিনার আইনে হত্যায় সহায়তা ও প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য মূল অপরাধীর মতোই শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে সরাসরি গুলি না চালালেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে। পুলিশ ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাজকেজ সেখানে হামলা চালায়। হামলায় মসজিদটির নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহসহ তিনজন নিহত হন। পরে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি গাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের বাবা এবং মসজিদটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি দুই বন্দুকধারীকে মসজিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মসজিদে তখন প্রায় ১৪০ শিশু ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রতিরোধের কারণে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। হামলায় নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন মানসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হামলাকারীদের মসজিদ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তারা হামলাকারীদের হাতে নিহত হন। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলাকারীদের রেখে যাওয়া লেখায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেছে। সেখানে উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শের বিভিন্ন উৎসের উল্লেখও ছিল। তদন্তকারীদের মতে, অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা উগ্রবাদী বক্তব্য ও সহিংসতার প্রচারণা দুই হামলাকারীর চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলেছিল। মামলাটিতে অনলাইনে সহিংসতার প্রচার এবং হামলাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, সান্তিয়াগো শুধু হামলার ভিডিও ধারণ করেননি, বরং সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের লেখা প্রকাশেও ভূমিকা রেখেছেন। এদিকে, সান্তিয়াগোর আইনজীবী তার নির্দোষিতার দাবি করেছেন। মামলাটি এখন আদালতের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা হামলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। সান দিয়েগোর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে উগ্রবাদী মতাদর্শের বিস্তার এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার ও পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স
পুরোনো ম্যাট্রেস নিয়ম না মেনে ফেলে দেওয়ায় ৮ হাজার ডলার জরিমানার মুখে প্রবাসী বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে বসে অ্যামাজন ব্যবসা, নতুন উদ্যোক্তাদের শুরু করার আগে যা জানা জরুরি