অরোরায় বিক্ষোভকারীকে গুলি, আইস কেন্দ্রের কর্মী গ্রেপ্তার, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরায় অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে এক নারী বিক্ষোভকারীকে গুলি করার অভিযোগে কেন্দ্রটির এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁর আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে অরোরা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ব্র্যান্ডন বুথ। ৪২ বছর বয়সী বুথ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের সরাসরি কর্মকর্তা নন। তিনি অরোরা আইস প্রসেসিং সেন্টার পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপের কর্মী। ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আটককেন্দ্রের প্রবেশপথে বিক্ষোভ চলায় বুথসহ কয়েকজন কর্মী নিজেদের গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্ষোভ শেষ হলে তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই নারী সেখানে থাকা কর্মীদের গাড়ির ছবি তোলেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে ওই দুই নারী ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন। তখন বুথ নিজের ব্যক্তিগত পিস্তল বের করে তাঁদের দিকে একটি গুলি ছোড়েন। গুলিটি এক নারীর শরীরের নিচের অংশে লাগে। এরপর বুথ গাড়ি নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ নারীকে ২১ বছর বয়সী এমা ল্যান্ডিস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, গুলিটি তাঁর ডান পায়ের গোড়ালির কাছে লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তাঁর পেছন দিক হামলাকারীর দিকে ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা অপর নারী আহত হননি।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ নর্থ নোম স্ট্রিটের ৩১০০ ব্লকে পৌঁছে আহত নারীকে উদ্ধার করে। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্লকেরও কম দূরত্বে বুথের গাড়ি থামিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। গাড়ির ভেতর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ।
বুথকে হত্যার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার চেষ্টা, প্রথম মাত্রার শারীরিক হামলা, প্রথম মাত্রার হামলার চেষ্টা, অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বেআইনিভাবে গোপন অস্ত্র বহনের সন্দেহে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার আদালতে তাঁর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক তাঁর জামিনের পরিমাণ পাঁচ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন।
জিও গ্রুপ জানিয়েছে, বুথকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় দেড় হাজার বন্দী ধারণক্ষমতার অরোরা কেন্দ্রটি আইসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পরিচালনা করে জিও গ্রুপ।
অরোরা পুলিশ জানিয়েছে, গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। ঘটনাস্থল বা ঘটনার পরবর্তী সময়ের কোনো ভিডিও কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কারও কাছে থাকলে তা তদন্তকারীদের দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুথের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। চারপাশে থাকে পুলিশের টহল, নজরদারি ক্যামেরা ও নানা ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। তারপরও গত তিন বছরের কম সময়ে টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক প্রাণঘাতী ঘটনার খবর সামনে এসেছে। প্রকাশ্যে যাচাই করা ঘটনাগুলোর হিসাবে এ সময়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রাণঘাতী তিনটি ঘটনা ঘটে। পশ্চিম ৪৩তম সড়কের কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনে ছুরিকাঘাতে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। একই বছর টাইমস স্কয়ারের কাছাকাছি এক সহকর্মীর ঘুষিতে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ট্যাক্সি বিভাগের কর্মী এফরেইন পাতিনো গুয়েরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে টাইমস স্কয়ারের একটি হোটেলের সামনে হামলার শিকার ২৩ বছর বয়সী লেসলি টোরেসও মারা যান। ২০২৫ সালে ৪৫ টাইমস স্কয়ার হোটেল থেকে পড়ে ৩৯ বছর বয়সী এমানুয়েল ভেলেজের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। একই বছরের নভেম্বরে পশ্চিম ৪৯তম সড়ক ও সপ্তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২৩ বছর বয়সী ডেভন সিলভাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হলে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই বছর টাইমস স্কয়ারে গুলির ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন, তবে তারা প্রাণে বেঁচে যান। ২০২৬ সালের মে মাসে টাইমস স্কয়ারের ৪৩তম সড়কে ছুরিকাঘাতে মারা যান ৩৯ বছর বয়সী লিওনিদাস বায়েজ। আর সর্বশেষ ৩১ আগস্টের ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২ বছর বয়সী ব্যাংক অব আমেরিকার সহসভাপতি এরিন পিয়াচেন্তি। একই ঘটনায় একজন ৬৮ বছর বয়সী ব্যক্তি আহত হন। পরে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন পামেলা সিসনেরোসও নিহত হন। ফলে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা এসব প্রাণঘাতী ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাবে হামলার শিকার ব্যক্তি, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন সবাই অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি টাইমস স্কয়ারের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো সরকারি মোট হিসাব নয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সাধারণত বৃহত্তর এলাকার ভিত্তিতে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তাই এই সংখ্যা প্রকাশ্যে যাচাই করা টাইমস স্কয়ার ও সংলগ্ন এলাকার প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর সমন্বিত হিসাব। বিশ্বের আলো ঝলমলে এই পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড়, পুলিশি উপস্থিতি ও ব্যাপক নজরদারির মধ্যেও বারবার প্রাণঘাতী ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, টাইমস স্কয়ার আসলে কতটা নিরাপদ?
ট্রাম্পের মুখযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা বিক্রি শুরু, ২৫টির রোলের দাম ৬১ ডলার
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন আদেশেও আদালতের স্থগিতাদেশ
মসজিদে গিয়ে হিজাব পরায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে ‘হিজাব হোকুল’ বলে কটাক্ষ ব্লেকম্যানের
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্টি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাঁচ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ঘটনা। পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে রেখে অফিসে যাওয়া এরিন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। চেস্টার, নিউ জার্সির বাসিন্দা এরিনকে সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় ছুরিকাঘাত করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ছিল আকস্মিক এবং দৃশ্যত কোনো পূর্বপরিচয় বা উসকানি ছাড়াই ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরিনের ওপর হামলার কিছুক্ষণ আগে একই এলাকায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। দুটি হামলার ঘটনা ঘটে মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে। আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। গুরুতর আহত এরিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এরিনের মৃত্যুর ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে। প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্টির সঙ্গে তাদের প্রথম সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর পাঁচ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এরিন। সেই সময়টা তিনি স্বামী ও শিশুকন্যার সঙ্গে কাটিয়েছেন। সোমবার ছিল কর্মস্থলে তার ফিরে আসার প্রথম দিন। অর্থাৎ দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নতুন মা হিসেবে কর্মজীবনে ফেরার দিনটিই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ কর্মদিবস। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে এরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও ছোট মেয়ের সঙ্গে একটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই সময় পরিবারে ছিল আনন্দের আবহ। সম্প্রতি তারা শিশুকন্যার বাপ্তিস্মও উদযাপন করেছিলেন এবং নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনেও সফল ছিলেন এরিন। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে স্নাতক হন। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভবিষ্যৎ স্বামী ফ্র্যাঙ্কের। পরে তিনি আইন পেশায় কাজ করেন এবং ২০২৫ সালে ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দেন। সেখানে ব্যবসায়িক নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাতবিষয়ক ইউনিটে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে এরিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক এবং তাদের সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে, এরিনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, দুই হাতে ছুরি থাকা অবস্থায় ওই নারীকে অস্ত্র ফেলে দিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। পরে পুলিশ তাকে থামাতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ব্যবহার করে। এরপর তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে গুলিবিদ্ধ করা হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাহিনীর গুলিবর্ষণ তদন্ত বিভাগ পুলিশি গুলির ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে এরিনের পরিবারের কাছে তদন্তের ফলাফল যাই হোক, সবচেয়ে বড় বাস্তবতা বদলাবে না। পাঁচ মাস পর যে মা তার ছোট্ট মেয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন করে কর্মজীবনে ফিরেছিলেন, সেই মা আর কখনো বাড়ির দরজা দিয়ে ফিরে আসবেন না। মাত্র পাঁচ মাসের শিশুটির জীবনে মায়ের সঙ্গে কাটানোর অসংখ্য মুহূর্তের জায়গায় এখন থেকে থাকবে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
প্রযুক্তিনির্ভরতা কমাতে নিউইয়র্কের স্কুলে টু-কে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা
মসজিদের পাহারায় থেকে মুসল্লিদের আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন মার্কিন নিরাপত্তারক্ষী
মুদিবাজার থেকে বাড়িভাড়া, সবকিছুতেই ‘বাই নাউ পে লেটার’ ঋণে ঝুঁকছেন মার্কিনিরা
রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের পর ছবি বা ভিডিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এখন অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে এই প্রবণতা ঘিরে রেস্টুরেন্টের পরিবেশ, অন্য ক্রেতাদের গোপনীয়তা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করা হলে সেখানে নানা ধরনের মন্তব্য আসে। কেউ খাবারের ছবি বা ভিডিওকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ারের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ মনে করছেন, রেস্টুরেন্টে ছবি বা ভিডিও করার সময় আশপাশের ক্রেতা ও কর্মীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির একটি রেস্টুরেন্টের মালিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি তোলা বা ভিডিও করার বিষয়ে সরকারি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বাস্তবে কিছু পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও জানান, অনেক সময় কোনো কাস্টমার ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে আশপাশের অন্য কাস্টমারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। আবার কেউ কেউ ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা রেস্টুরেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষা করাও মালিকপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় কর্মীরা ক্যামেরায় চলে এলে কিংবা তাদের কাজের দৃশ্য অনুমতি ছাড়া ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে সেটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে এর বাইরে বড় কোনো সমস্যা সাধারণত হওয়ার কথা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিউইয়র্কে খাবারের ছবি তোলা নিয়ে এমন আলোচনা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ক্রেতাদের ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা ফ্ল্যাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম চালু করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বিষয়টিকে খাবারের প্রচারের সুযোগ হিসেবে দেখে, আবার কোনো রেস্টুরেন্ট অন্য ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে ছবি বা ভিডিও সীমিত করতে পারে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুড কনটেন্টের জনপ্রিয়তার কারণে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও করা আরও বেড়েছে। অনেক ক্রেতা নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, আবার ফুড ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রেস্টুরেন্টের খাবার ও পরিবেশ নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন। এতে একদিকে রেস্টুরেন্টের প্রচার বাড়ছে, অন্যদিকে ছবি বা ভিডিও ধারণের ধরন নিয়ে নতুন করে কিছু প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিজের খাবারের ছবি তোলার সময় আশপাশের অন্য ক্রেতা বা কর্মীরা যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওতে না চলে আসেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে কোনো রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ছবি বা ভিডিও নীতিমালা থাকলে সেটিও মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায়ও বিষয়টির দুই দিক উঠে এসেছে। কেউ মনে করছেন, খাবারের মান ও পরিবেশ সম্পর্কে অন্যদের জানাতে ছবি বা ভিডিও করা স্বাভাবিক। আবার কেউ মনে করছেন, ছবি বা ভিডিও করার সময় রেস্টুরেন্টে উপস্থিত অন্য মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সব মিলিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে নিউইয়র্কে কোনো সাধারণ সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয় সামনে না এলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং রেস্টুরেন্টের নিজস্ব নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়েই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে আলোচনা।
নিউইয়র্কে স্কুল বাসের জন্য আর রাস্তায় অপেক্ষা নয়, ঘরে বসেই জানা যাবে বাসের অবস্থান
ফ্লোরিডায় কুমির এড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, কয়েক ঘণ্টা পরই শেরিফ অফিসে শপথ নেওয়ার কথা ছিল