মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর গত এপ্রিলের হত্যাচেষ্টার পর এবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ ডিনার ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আগামী ২৪ জুলাই ওয়াশিংটনের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে পুনঃনির্ধারিত এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার প্রচলিত কাগজের পাসের পরিবর্তে ডিজিটাল টিকিট ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি বড় আকারের ককটেল রিসেপশনও রাখা হচ্ছে না, যাতে অননুমোদিত কেউ সহজে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে।
নতুন ভেন্যুতে প্রায় এক হাজার অতিথি অংশ নিতে পারবেন, যা আগের ভেন্যু ওয়াশিংটন হিলটনের ধারণক্ষমতার এক-চতুর্থাংশেরও কম। এতে অতিথিদের পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা তদারকি আরও সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র টম লিঞ্চ বলেন, এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে আগেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডিনারের সময় অভিযোগ অনুযায়ী, কোল থমাস অ্যালেন নামে এক ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে বলরুমের কাছাকাছি পৌঁছে যান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় আতঙ্কিত অতিথিরা নিজেদের নিরাপত্তায় টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এবার অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক যাচাই করবে। এরপর বৈধ ডিজিটাল টিকিটধারীদের সিক্রেট সার্ভিস পরিচালিত মেটাল ডিটেক্টর পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে একটি সড়কের আনুষ্ঠানিক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ শনিবার ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭২ স্ট্রিটের একটি অংশের নতুন নাম রাখা হয় “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” (Detective Didarul Islam Way)। অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামের পরিবার, নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তারা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে সংঘটিত প্রাণঘাতী বন্দুক হামলায় দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন। সে সময় তিনি ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অনুমোদিত নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন। হামলাকারীর গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ তখন দিদারুল ইসলামকে সাহসী ও আত্মত্যাগী কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার সন্তান দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর প্রথমে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিষ্ঠাবান, বিনয়ী এবং জনসেবায় নিবেদিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর হাজারো পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। এনওয়াইপিডি তাঁকে মরণোত্তর “ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড” পদে পদোন্নতি দেয়। তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং গর্ভে থাকা তৃতীয় সন্তানকে রেখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতিচিহ্ন নয়; এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর-নিউইয়র্ক (CAIR-NY) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ও জনসেবার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখবে। দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে ঘিরে নিউইয়র্কে এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর নামে “Didarul Islam Police Recruitment Act” শীর্ষক একটি আইন প্রস্তাবও আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য স্কুল সেফটি এজেন্টসহ অন্যান্য জননিরাপত্তা পদে কাজের অভিজ্ঞতাকে এনওয়াইপিডিতে যোগদানের ক্ষেত্রে আরও স্বীকৃতি দেওয়া। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, এই উদ্যোগ দিদারুল ইসলামের কর্মজীবন ও জনসেবার আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।
শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সেন্ট পলের হ্যারিয়েট আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিনেসোটা ইয়াট ক্লাব ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। গেট খোলার আগে থেকেই মিসিসিপি নদীর তীরে উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। সেন্ট পলের বাসিন্দা জাস্টিস জার্নিক লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, তিনি ‘দ্য ব্ল্যাক কিজ’-এর পারফরম্যান্স দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। উৎসবস্থলের ঠিক অপর প্রান্তে অবস্থিত ‘সিটি হাউস’ রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মিরান্ডা বুদাচ জানান, এই উৎসবের কারণে তাদের ব্যবসা সাধারণ সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে এবং তারা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। উৎসবের একটি স্টেজ সরাসরি তাদের রেস্তোরাঁর দিকে মুখ করে থাকায় সেখান থেকে গান খুব ভালোভাবে শোনা যায়। শুক্র, শনি ও রবিবার—তিন দিনই তাদের রেস্তোরাঁর সব টেবিল বুকড হয়ে গেছে। ওকলাহোমা বা টেক্সাস থেকে আসা উৎসবের টেকনিশিয়ান ও কর্মীরাও আগেভাগেই এই এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের এই উৎসবে দ্য ব্ল্যাক কিজ, দ্য লুমিনিয়ার্স, দ্য স্ট্রোকস, ম্যাচবক্স টোয়েন্টি, মাউন্ট জয় এবং ই্যাম হাউসের মতো স্থানীয় ও জনপ্রিয় ব্যান্ড দলগুলো পারফর্ম করছে। সেন্ট পল পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, এই উইকএন্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৩৬,০০০ মানুষ শহরে আসছেন। তবে আবহাওয়া অত্যন্ত গরম থাকায় পুলিশ সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। সেন্ট পল পুলিশ বিভাগের সিনিয়র কমান্ডার জেসি মলনার বলেন, "তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে আমরা উৎসব প্রাঙ্গণে দুটি খালি এসি কুলিং বাস, কুয়াশা ছড়ানো কুলিং ফ্যান, অতিরিক্ত তাঁবু এবং বেশ কয়েকটি পানি পানের স্টেশন বা হাইড্রেশন স্টেশনের ব্যবস্থা করেছি।" এদিকে উৎসবের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে সেন্ট পলের বাসিন্দা পল থমাস জানান, সঙ্গীতপ্রেমীদের আগমনকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখলেও উৎসবস্থল খুব কাছে হওয়ায় এই সময়টায় তারা বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। উৎসবের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রো ট্রানজিট বেশ কিছু বাস ও লাইট রেল রুট প্রস্তুত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কামিং শহরে দ্রুত বর্ধনশীল মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য ৭ দশমিক ৫ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে মাসজিদ আল রহমান (Cumming Community Center)। জমিটি কিনতে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমি বিক্রির জন্য মালিকের সঙ্গে চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পটি ডিউ ডিলিজেন্স পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করা গেলে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে কামিংয়ের পিচট্রি পার্কওয়েতে অবস্থিত মাসজিদ আল রহমান উত্তর জর্জিয়ার অন্যতম ব্যস্ত ইসলামিক সেন্টার। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ইসলামিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও গত কয়েক বছরে মুসল্লির সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে বিদ্যমান অবকাঠামো আর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে কামিং, আলফারেটা, জনস ক্রিক, সুয়ানি ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর আটলান্টার এই অঞ্চলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হওয়ায় দেশ-বিদেশের অনেক পেশাজীবী পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। ফলে স্থানীয় মসজিদগুলোতেও মুসল্লির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মসজিদে জুমার দিন মুসল্লিদের চাপ সামাল দিতে তিনটি পৃথক জামাত আয়োজন করতে হয়। এরপরও অনেক মুসল্লিকে জায়গার সংকটে পড়তে হয়। রমজান, ঈদ এবং বিভিন্ন কমিউনিটি আয়োজনেও একই ধরনের স্থান সংকট দেখা দেয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান মসজিদ থেকে প্রায় ৪০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭ দশমিক ৫ একর জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে উত্তর জর্জিয়ার মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার কার্যত কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ক্যাম্পাসে একটি বৃহৎ মসজিদ, ৩০০টির বেশি পার্কিং সুবিধা, একটি বহুমুখী কমিউনিটি ভবন এবং বর্তমান স্থানে ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বহুমুখী ভবনটি জুমার অতিরিক্ত জামাত, ঈদের নামাজ, বড় কমিউনিটি সমাবেশ, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হবে। তহবিল সংগ্রহ অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুদান দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ ১০০ ডলারে প্রতীকী একটি ইট, এক হাজার ডলারে একটি মুসাল্লা বা নামাজের স্থান, ৬ হাজার ডলারে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫ হাজার ডলারে একটি শ্রেণিকক্ষের ব্যয় বহনে অংশ নিতে পারবেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষ মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের এই উদ্যোগকে সদাকায়ে জারিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যেও এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে দিয়ে জমি অধিগ্রহণের তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মাসজিদ আল রহমান পরিচালনাকারী কামিং কমিউনিটি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ৫০১(সি)(৩) অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে দেওয়া অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কর আইনের আওতায় কর-ছাড়ের জন্য যোগ্য। নতুন মসজিদ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য, মাস্টারপ্ল্যান, অগ্রগতির সর্বশেষ অবস্থা এবং অনলাইনে অনুদান দেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: https://cummingcommunitycenter.com/