আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ল এক লাখ একরেরও বেশি এলাকা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১০:৫৭
গত ১৩ জুলাই কলোরাডোর রাই শহর থেকে দূর দিগন্তে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ 'অ্যাসপেন একরস ফায়ার' দাবানল। ছবি: রাই ফায়ার প্রোটেকশন ডিস্ট্রিক্ট
গত ১৩ জুলাই কলোরাডোর রাই শহর থেকে দূর দিগন্তে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ 'অ্যাসপেন একরস ফায়ার' দাবানল। ছবি: রাই ফায়ার প্রোটেকশন ডিস্ট্রিক্ট

শুক্রবার দক্ষিণ কলোরাডোতে দমকলকর্মীরা অ্যাসপেন একরস ফায়ারের নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে সক্ষম হয়েছেন, যদিও দাবানলটি প্রায় ১ লাখ ২২৩ একর এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কলোরাডো ডিভিশন অব ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অনুযায়ী, অ্যাসপেন একরস ফায়ার কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে জ্বলতে থাকা সবচেয়ে বড় দাবানল এবং রাজ্যের ইতিহাসে একর হিসেবে সপ্তম বৃহত্তম দাবানল। এই হিসাব অনুযায়ী অ্যাসপেন একরস ফায়ার ২০১৮ সালের স্প্রিং ক্রিক ফায়ারের চেয়ে সামান্য ছোট, যা ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫ একর পুড়িয়েছিল।

 

দাবানলটি শুরু হওয়ার সময়ে বিদ্যমান চরম পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে, তবে এলাকাটি এখনও মাঝারি অগ্নিঝুঁকির মুখোমুখি। স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস চিফ ম্যানি মেন্ডোজা বলেন, আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং শান্ত বাতাস দমকলকর্মীদের বেশি ঝুঁকিতে না ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আরও আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছেন। মেন্ডোজা জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আগুন তীব্র হওয়ার আগ পর্যন্ত অ্যাসপেন একরস ফায়ারকে দেশের বৃহত্তম অগ্নি বিপর্যয় বিবেচনা করা হচ্ছিল, যার ফলে অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে সম্পদ পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কর্মীরা আগুনের বিস্তার সীমিত করতে ফায়ার লাইন শক্তিশালী করছেন এবং নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছেন।

 

কিছু এলাকার ইভ্যাকুয়েশন বা খালি করার নির্দেশনার মাত্রা কমানো হয়েছে, তবে মেন্ডোজা জোর দিয়ে বলেছেন যে মানুষ যেন অকালে বাড়ি ফিরে না যায়। রাই ফায়ার প্রোটেকশন ডিস্ট্রিক্টের ফায়ার চিফ রস গ্যালেগোস সোমবার কমিউনিটির কাছে লেখা একটি চিঠিতে বাসিন্দাদের ফিরে আসার উদ্বেগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, তবে সতর্ক করেছেন যে আগুন শহর থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে রয়েছে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন এবং যাদের ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া চেকপয়েন্টের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।

 

হুয়েরফানো কাউন্টির কমিশনার মিচেল ওয়ার্ডেল জানিয়েছেন যে হুয়েরফানো কাউন্টি একটি পানি সাশ্রয় নোটিশে প্রবেশ করছে এবং বাসিন্দাদের পানি বাঁচাতে সাহায্য করতে বলেছেন। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস কাছাকাছি বাসিন্দাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, দাবানলটির নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেলেও এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসতে সম্ভবত কিছুটা সময় লাগবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরেও উৎসবটি ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জগন্নাথ রথযাত্রার উৎসব, হিন্দু মন্দিরগুলোতে ভক্তদের ঢল

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় উৎসব, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে হিন্দু মন্দিরগুলো। মেরিল্যান্ড, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে রথযাত্রা, পূজা, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ভক্ত ও দর্শনার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন।    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ রথযাত্রা ভগবান জগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে রথে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্যকে স্মরণ করে উদযাপিত হয়। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব ভারতের ওডিশার পুরী থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।    মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)-এর উদ্যোগে ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ‘গোল্ডেন জুবিলি মহোৎসব’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে রথযাত্রা, মহাঅভিষেক, কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতশবাজি, নৌকা উৎসব এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ।    অন্যদিকে, টেক্সাসের হিউস্টনে বিএপিএস শ্রী স্বামিনারায়ণ মন্দিরে শনিবার রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা, ভজন, ধর্মীয় আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই দিনে হিউস্টনের ওড়িশা কালচার সেন্টারের উদ্যোগে ১৯তম বার্ষিক জগন্নাথ রথযাত্রাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা শিবির, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কীর্তন, রথ টানা এবং সবার জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    আয়োজকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে একত্রিত করাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে জগন্নাথ রথযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উল্লেখযোগ্য উৎসবে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১২:১৭
হ্যারিয়েট আইল্যান্ডে তিন দিনব্যাপী 'মিনেসোটা ইয়াট ক্লাব ফেস্টিভ্যাল' শুরুর আমেজ। ছবি: সংগৃহীত

মিনেসোটা ইয়াট ক্লাব উৎসবে হাজারো মানুষের ঢল, তীব্র গরমে বিশেষ সতর্কবার্তা

ব্রঙ্কসে বহুতল ভবনের জানালা দিয়ে ২ বছরের শিশু নিচে পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ৫ তলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল শিশু

Donald Trump ছবি: সংগৃহীত

হত্যাচেষ্টা-পরবর্তী প্রথম নৈশভোজ, ট্রাম্পকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি

শিকাগোর ৫৩০০ ব্লক সাউথ প্রিন্সটন অ্যাভিনিউ এলাকায় পুলিশের তদন্ত ও কর্ডন করা ঘটনাস্থল। ছবি: সংগৃহীত
ধস্তাধস্তির কয়েক সেকেন্ডেই গুলির শব্দ, শিকাগো পুলিশের সঙ্গে কী ঘটেছিল সেই সন্দেহভাজনের?

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুটে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত গুলি চালানোর নয়; বরং অস্ত্রটি ধস্তাধস্তির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে যায়। ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।  শনিবার সকালে শহরের ৫৩০০ ব্লক সাউথ প্রিন্সটন অ্যাভিনিউ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শিকাগো পুলিশ জানায়, একটি ঘটনার তদন্তে গিয়ে কর্মকর্তারা এক ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি ধস্তাধস্তির সময় ছিটকে বা নড়ে গিয়ে গুলি ছোড়ে। এতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। শিকাগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, কীভাবে অস্ত্রটি থেকে গুলি ছুটল এবং পুরো ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে।   যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ জড়িত গুলির ঘটনার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এই ঘটনাও স্বাধীন তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আলামত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সম্ভাব্য নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করবেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১১:৩৭
ছবি: জর্জিয়ার কামিংয়ে মুসলিম কমিউনিটির জন্য ৭.৫ একর জমিতে নতুন মসজিদের উদ্যোগ।

তিন জামাতেও হচ্ছে না জায়গা, জর্জিয়ার কামিংয়ে নতুন মসজিদের জমি কিনতে ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহে মাসজিদ কর্তৃপক্ষ

গত ১৩ জুলাই কলোরাডোর রাই শহর থেকে দূর দিগন্তে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ 'অ্যাসপেন একরস ফায়ার' দাবানল। ছবি: রাই ফায়ার প্রোটেকশন ডিস্ট্রিক্ট

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ল এক লাখ একরেরও বেশি এলাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট , ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যেকোনো সময় হামলা’ আশঙ্কায় নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ কড়াকড়ি, জার্মানিতে বড় সতর্কতা

কাগজে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব আবেদন ফরমের ফি ৭৬০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার স্বপ্ন কি এখন শুধু ধনীদের? নাগরিকত্বের খরচ বাড়িয়ে নতুন চাপে নিম্ন আয়ের অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন করতে আগ্রহী অভিবাসীদের ব্যয় বড় ধরনের বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কাগজে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব আবেদন ফরমের ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারে পৌঁছাবে। অনলাইনে আবেদনের খরচও ৭১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে একে পাসপোর্ট ফি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি সরাসরি মার্কিন পাসপোর্টের মূল্য নয়। এই অর্থ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এন ৪০০ ফরম জমা দেওয়া বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন, শপথ গ্রহণ এবং নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার পরই একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন।   নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে কাগজে নাগরিকত্ব আবেদন করার খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং অনলাইনে আবেদনের খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে থাকা ৩৮০ ডলারের বিশেষ কম ফি বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।   নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত এন ৩৩৬ ফরমের ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কাগজে এই আবেদন জমা দিতে প্রস্তাবিত ফি ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে জমা দিলে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে।   বর্তমানে এন ৪০০ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আবেদনকারী প্রশাসনিক শুনানির অনুরোধ জানাতে এন ৩৩৬ ফরম ব্যবহার করতে পারেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ দুই ধরনের আবেদনেই ফি মওকুফের সুযোগ সীমিত বা বাতিল করা হতে পারে।   মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া থেকে যারা সরাসরি সুবিধা পান, তাদের কাছ থেকে এর পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ নেওয়া হলে ব্যবস্থা আরও ন্যায্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস মূলত আবেদন ও অন্যান্য অভিবাসন সেবার ফি দিয়ে পরিচালিত হয়।   তবে প্রস্তাবিত নতুন হার এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। নিয়ম তৈরির সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কার্যকর হতে পারে। ফলে বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি ফি তালিকা দেখে সঠিক অর্থসহ আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য সাধারণভাবে একজন আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়। এরপর এন ৪০০ ফরম জমা দেওয়ার পাশাপাশি পরিচয় ও অভিবাসনসংক্রান্ত যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা ও নাগরিক জ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।   নতুন প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আগে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন অভিবাসনসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় বাতিল হলে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১০:৪০
ছবি: স্বপ্নের আমেরিকা এখন শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়

নিউইয়র্ক আর একমাত্র গন্তব্য নয়, বাংলাদেশিদের নতুন পছন্দের ১০ অঙ্গরাজ্য

সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আটলান্টায় পানি ফোটানোর জরুরি নির্দেশনা। ছবি: গেটি ইমেজেস

জর্জিয়ার দুই শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর পানি ফোটানোর জরুরি নির্দেশনা জারি

homeless encampment , ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ম্যানহাটনে গৃহহীনদের তাঁবুতে প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ, যৌনকর্ম! প্রশ্নের মুখে মেয়র মামদানি

0 Comments