ইরানি হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।
নিহত সেনারা হলেন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হওয়া হামলায় তারা নিহত হন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসাবেলা গঞ্জালেস টেক্সাসের ক্যারলটন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে টাইলার ফিহানের বাড়ি হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ইওয়া বিচ এলাকায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান এই হামলার সঙ্গে জড়িত। ইরানের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনাদের স্মরণে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreশীতের মৌসুমে ঘর গরম রাখার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা নিউইয়র্কের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য আসছে আর্থিক সহায়তার সুযোগ। আগামী ২ নভেম্বর থেকে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের গৃহস্থালি জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচির নিয়মিত সুবিধার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো জ্বালানির ধরন ও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। নিউইয়র্কের গৃহস্থালি জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচি বা হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (এইচইএপি) শীতকালে বাড়ি গরম রাখার ব্যয় কমাতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা করে। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ মৌসুমের নিয়মিত সহায়তার আবেদন ২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে পরিবারের মোট আয়, সদস্যসংখ্যা, বাড়ি গরম রাখার জ্বালানির ধরন এবং কর্মসূচির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তের ওপর। তেল, কেরোসিন বা প্রোপেনের মতো সরবরাহ করা জ্বালানি ব্যবহারকারী যোগ্য পরিবার সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। অন্যান্য জ্বালানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ অঙ্কটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়; আবেদন করলেই নির্দিষ্ট অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়। বাড়ির মালিকদের পাশাপাশি যোগ্য ভাড়াটিয়ারাও এই কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারবেন। এমনকি ভাড়ার মধ্যেই গরম রাখার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও কিছু পরিবার সহায়তার যোগ্য হতে পারে। তবে আবেদনকারীর আয়, পরিবারের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। আবেদনের জন্য ঠিকানার প্রমাণ, পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক আয়ের প্রমাণ এবং জ্বালানি বা বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত রাখা উপকারী। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা অনলাইনে আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অ্যাকসেস এইচআরএ ওয়েবসাইট দেখতে পারেন। আবেদন ও যোগ্যতা সম্পর্কে সহায়তার জন্য ৭১৮-৫৫৭-১৩৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। অঙ্গরাজ্যজুড়ে কর্মসূচির তথ্য জানতে ফোন করা যাবে ১-৮০০-৩৪২-৩০০৯ নম্বরে। কর্মসূচির অর্থ সাধারণত যোগ্য আবেদনকারীর জ্বালানি সরবরাহকারী বা বিদ্যুৎ ও গ্যাস সেবাদাতার কাছে পাঠানো হয়। ফলে এই সহায়তা সরাসরি শীতকালীন জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। যেসব পরিবার সহায়তার যোগ্য, তাদের আবেদন শুরুর তারিখের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হঠাৎ নিচে নামতে শুরু করল উড়োজাহাজ, খুলে পড়ল অক্সিজেন মাস্ক আতঙ্কে যাত্রীরা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন হচ্ছে, ঋণের সুদ বেড়ে চাপে সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের নাম বদলাতে চান ট্রাম্প, নতুন নাম ‘নিউ আমেরিকা’!
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গাছের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছর বয়সী জর্ডিন বিঘাম। একই দুর্ঘটনায় তাঁর ১৬ বছর বয়সী বোন জ্যাডিসন বিঘাম আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে কালামাজু কাউন্টিতে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি গাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে এ ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর ৩টা ২৩ মিনিটের দিকে। গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই মাটাওয়ান হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি ওয়েস্ট আর অ্যাভিনিউ ধরে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের একজন ১৫ বছর বয়সী জর্ডিন বিঘাম। অন্যজন ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। তবে দ্বিতীয় নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জর্ডিনের বড় বোন জ্যাডিসন ‘জাডা’ বিঘাম। ১৬ বছর বয়সী জাডাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের একজনের নাম লিয়ারা ফুলার। তাঁর বাবা অনলাইনে চিকিৎসা সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার সময় মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করেন। নিহত জর্ডিন বিঘামের পরিবারের পক্ষ থেকেও অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আহত জাডার সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ ও কঠিন হতে পারে। তাঁর চিকিৎসার জন্য একাধিক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে। একই পরিবারের এক মেয়েকে হারিয়ে অন্য মেয়ের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে থাকা মায়ের পরিস্থিতির কথাও অর্থ সংগ্রহের আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন মায়ের জন্য একই সময়ে এক সন্তানের মৃত্যুতে শোক পালন এবং অন্য সন্তানের হাসপাতালের শয্যার পাশে অপেক্ষা করার মতো কঠিন পরিস্থিতি আর হতে পারে না। পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন। পাঁচ বন্ধু কোথায় যাচ্ছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গাড়িটি কী কারণে সড়ক থেকে ছিটকে পড়েছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। নিহত ও আহত পাঁচ শিক্ষার্থীই মিশিগানের মাটাওয়ান হাইস্কুলে পড়াশোনা করতেন। ছোট এই শহরটির জনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। গ্র্যান্ড র্যাপিডস শহর থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণে এর অবস্থান। দুর্ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার রাতে মাটাওয়ান হাইস্কুলের পার্কিং এলাকায় নিহতদের স্মরণে শোকসভার আয়োজন করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলেও ফুল ও বেলুন রেখে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাটাওয়ান কনসোলিডেটেড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট র্যান্ডি ফ্লিনর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই কঠিন সময়ে কমিউনিটির মানুষের সহযোগিতা তাঁদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশে পুরো কমিউনিটি রয়েছে, এমন অনুভূতি তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। র্যান্ডি ফ্লিনর আরও জানান, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পর সবাই একইভাবে শোক প্রকাশ করেন না। কেউ তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় চুপ থাকেন। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ পর মানসিক আঘাতের প্রভাব প্রকাশ পেতে পারে। মাটাওয়ান হাইস্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এক হাজার একশর বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং আরও তিনজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে আহত তিন শিক্ষার্থীর চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা জানতে তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অ্যামাজনে চাকরির সুযোগ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ; ঘণ্টায় গড় আয় ২০ ডলারের বেশি
নারীর সাজগোজে সময় ব্যয় করে দিনে ৫৫ মিনিট এবং জীবনের ২.৫ বছর
দাম কমানোর বার্তা দিলেন ওয়ালমার্টের সিইও, আনলেন ১২০ ডলারের মেম্বারশিপ অফার
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে দোকানে চুরির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে এক বছরের শিশু কোহেন উইলির মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অফিসারের বলপ্রয়োগকে যৌক্তিক বলেছে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। সোমবার, ১৯ অক্টোবর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে শিশুটির পরিবার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঘটনার বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। গত ১৪ জুন সেনাটোবিয়া শহরের একটি ওয়ালমার্টের বাইরে গুলির ঘটনাটি ঘটে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় গাড়িতে শিশুটি, তার মা এবং পরিবারের এক বন্ধু ছিলেন। পুলিশের গুলিতে কোহেন নিহত হয় এবং গাড়িতে থাকা আরেক প্রাপ্তবয়স্ক গুরুতর আহত হন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, পুলিশ ডায়াপার ও শিশুর পোশাক চুরির অভিযোগে দোকানটিতে গিয়েছিল। কোহেনের মা ভেলেসিয়া উইলি সন্তানকে নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে দোকান থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন। তবে তিনি চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অনলাইনে পাওয়া অঙ্গরাজ্য ও কাউন্টি কোর্টের নথি অনুযায়ী, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। মিসিসিপি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ভাষ্য, অফিসাররা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলে সেটি তাঁদের দিকে এগিয়ে আসে। তখন এক অফিসার গুলি করেন। তবে শিশুটির মা পুলিশের এই বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, গাড়ি চালানো তাঁর বন্ধু অফিসারদের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাননি। কোহেনের পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প বলেছেন, পরিবারের উদ্যোগে করা প্রাথমিক স্বতন্ত্র ময়নাতদন্তের ফল অনুযায়ী, গুলিটি গাড়ির সামনে থেকে নয়, পাশ থেকে শিশুটিকে আঘাত করেছিল। তাঁর মতে, এই তথ্য গাড়িটি অফিসারদের দিকে এগিয়ে আসার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট অফিসারের আইনজীবী মার্টিন জুমাখ দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের গুলি চালানো ছাড়া উপায় ছিল না এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্ত তাঁকে অপরাধের দায় থেকে মুক্ত করেছে। সোমবারের সিদ্ধান্তের পর ক্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, পরিবার ও সাধারণ মানুষকে বডি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে না দিয়ে কীভাবে বলপ্রয়োগকে যৌক্তিক বলার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তিনি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও তখনো প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে মাংস ও মাছের বিকল্পে থ্রিডি প্রযুক্তির মাংস আনছে স্টেকহোল্ডার ফুডস
ইলহান ওমর ও তাঁর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদে বোন