ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের মুখে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহের হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্যও আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)-এ প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর আওতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ডিসিএএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ওয়েবসাইটে আহত সেনার সংখ্যা ৪৮২ দেখানো হচ্ছিল। নতুন হালনাগাদে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পেন্টাগন ৭ জুলাই থেকে ডিসিএএসে "ওভারসিজ অপারেশনস" নামে একটি নতুন বিভাগও যুক্ত করেছে। তবে এই নতুন বিভাগের আওতায় ৭ জুলাইয়ের আগে ও পরে সংঘটিত কোন কোন সামরিক ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত তালিকায় জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা এবং উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোন হামলার সময় নিহত আরও এক সেনার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের পাশাপাশি কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে হতাহতের হিসাবের অসামঞ্জস্যের ব্যাখ্যা চান। পরে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ডিসিএএস ওয়েবসাইটে "সাময়িক তথ্যসংক্রান্ত ত্রুটি" দেখা দেওয়ায় এ অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল। তবে কী ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলেও রোববার পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি। এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট নিয়েও নতুন আলোচনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাঠানো এক নোটিশে দাবি করেছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের আইনি সময়সীমার হিসাব নতুনভাবে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের একাধিক আইনপ্রণেতা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকস্কি সম্প্রতি এক শুনানিতে বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সময়সীমা পুনর্গণনার এই ব্যাখ্যা প্রশাসনকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মে মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টকে "সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক" বলে মন্তব্য করেন। হতাহতের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশের পরও তথ্য ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং যুদ্ধসংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এলিট ট্রুপস, ফাইটার জেট ও সামরিক চিকিৎসকদের মোতায়েন করে পেন্টাগন যখন ব্যাপক সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘ভয়াবহ হামলার’ কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমি একটি ভয়াবহ হামলার কথা ভাবছি; এমন কিছু যা আগে কখনো হয়নি। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছি এবং আমরা এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।" তিনি আরও জানান, তিনি চাইলে ইসরায়েলও 'দুই মিনিটের মধ্যে' যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই অভিযানে যোগ দেবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য তাদের ‘অন্য কারও প্রয়োজন নেই’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে শহরে এলে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে এবং এই অঞ্চলে ফাইটার স্কোয়াড্রনগুলোকে নতুন করে মোতায়েন করেছে। গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। পেন্টাগন নিহত ওই সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে—তারা হলেন হাওয়াইয়ের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জে. ফিহান, টেক্সাসের প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং নিউইয়র্কের আর্মি সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাদ। সেনাসদস্যদের থাকার বাসস্থানে এই আঘাত হানা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘাঁটিতে এটি ছিল ইরানের তিনটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি। সম্ভাব্য হতাহতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ১৫০ জন সামরিক চিকিৎসাকর্মীকে পাঠানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আহত সেনাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান হাসপাতাল। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী বি-১ দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ১২ দিন আগে ইরানের সঙ্গে পুনরায় লড়াই শুরু হওয়ার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বি-১ মিশন, যা সংঘাতের বড় ধরনের বৃদ্ধির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার মতো "যথেষ্ট কষ্ট ইরান এখনো পায়নি," তবে তেহরান "আলোচনা করতে চায়।" অন্যদিকে একটি আঞ্চলিক সূত্রের মতে, মধ্যস্থতাকারীদের জন্য ইরানের সাথে যোগাযোগ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার পক্ষে থাকা রাজনীতিক এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়া কট্টরপন্থীদের মধ্যে দেশটি এখন গভীরভাবে বিভক্ত। সূত্রটি জানায়, মূলত ইরানের ভেতরে দুটি পক্ষ ক্রমশ বিপরীত দিকে এগোচ্ছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো ভাঙন ধরেনি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আকস্মিক শক্তি বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ক্রমশ নির্ভুল ও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা। জর্ডানের ঘাঁটিতে তিনটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যা ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনাকে তেহরানের ক্রমশ আধুনিক হতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র থেকে রক্ষার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জকেই তুলে ধরে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাডের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তিনি জর্ডানে ইরানের হামলার পর নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তাঁকে নিহত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সার্জেন্ট র্যাম্পারসাড ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় নিখোঁজ হন। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে দুই সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও একজনকে নিখোঁজ বলে জানায়। পরবর্তী অনুসন্ধান ও পরিচয় শনাক্তকরণের পর পেন্টাগন জানায়, নিখোঁজ সেই সেনাই ছিলেন সার্জেন্ট র্যাম্পারসাড। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড জার্মানির আন্সবাখে অবস্থানরত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড এবং ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি সিগন্যাল অপারেশনস সাপোর্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর ইউনিটের প্রধান দায়িত্ব ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনীর ঘাঁটি রক্ষা করা। এর আগে একই হামলায় নিহত আরও দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। তিনজনই জর্ডানে ইরানের হামলায় প্রাণ হারান। এদিকে, ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিরাপদে ধ্বংস করার অভিযানের সময় পৃথক এক ঘটনায় নর্থ ক্যারোলাইনার সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন নিহত হন। তাঁর মৃত্যুসহ চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। জর্ডানে হামলার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অবস্থানরত ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলার ঘটনায় পেন্টাগনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় নিহত তৃতীয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। নিহত সেনা হলেন ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড, নিউইয়র্কের ওজোন পার্কের বাসিন্দা। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী জানায়, তাকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, র্যাম্পারসাড জার্মানিভিত্তিক ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের অধীনে কর্মরত ছিলেন। একই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতেন নিহত আরেক সেনা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেসও। এর আগে পেন্টাগন জর্ডানের ওই হামলায় নিহত আরও দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছিল। তারা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুজনই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত হন। এদিকে একই সপ্তাহান্তে ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটিতে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় আরও এক মার্কিন সেনা, সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরেক সেনা সামান্য আহত হন। সুইন্টনের মৃত্যুর ঘটনাটি আলাদা একটি সামরিক অভিযানে ঘটলেও সেটিও একই সপ্তাহান্তের সংঘাতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন সেনারা ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতেই র্যাম্পারসাডকে নিহত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা হয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যদিও তাদের অধিকাংশ চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে আরও এক মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পেন্টাগন মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল এয়ার বেসে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিরাপদে ধ্বংস করার অভিযানে নিহত হওয়া সেনাসদস্য হলেন নর্থ ক্যারোলিনার ফায়েটভিলের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই এরবিল এয়ার বেসে একটি ভূপাতিত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই বিস্ফোরণে সার্জেন্ট সুইনটন নিহত হন এবং আরেক সেনাসদস্য সামান্য আহত হন। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সার্জেন্ট সুইনটন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ১০৮তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডের ডি ব্যাটারি, ২য় ব্যাটালিয়ন, ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি এয়ার ডিফেন্স আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল জন এল. র্যাফার্টি বলেন, সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সার্জেন্ট সুইনটন জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না এবং তাঁর সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সেনাসদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্জেন্ট সুইনটনকে মরণোত্তর ব্রোঞ্জ স্টার, পার্পল হার্ট এবং কমব্যাট অ্যাকশন ব্যাজ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তাঁকে মরণোত্তর স্টাফ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতিও দেওয়া হবে। মাইকেল সুইনটনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। তিনি স্ত্রী মিয়া গনজালেজ-সুইনটন, ছয় বছর বয়সী এক ছেলে, চার বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ভাইবোনদের রেখে গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী লিখেছেন, শেষবারের মতো বিদায় জানানোই যে তাঁদের শেষ দেখা হবে, তা কখনো ভাবেননি। সুইনটনের মা ক্রিস্টেল সুইনটন আন্দুজার বলেন, তাঁর ছেলে দেশকে ভালোবাসতেন, নিজের দায়িত্বকে সম্মান করতেন এবং পরিবারের প্রতি ছিলেন নিবেদিত। এর আগে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস ও ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান নিহত হন। সর্বশেষ সার্জেন্ট সুইনটনের মৃত্যুর পর চলমান ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাণহানির সংখ্যা ১৭-তে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাডার ব্যবস্থা এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও এটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। তবে বিবৃতিতে ঘটনাস্থল, হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান বা রাডার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেননি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যেও আইআরজিসির দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় সংঘাতের পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রকাশ করে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে সাধারণত উপগ্রহচিত্র, সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীন তদন্তের মতো অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক দাবিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবিটি আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এ দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে বিভিন্ন হামলায় আহত এসব সেনার মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। শন পার্নেল বলেন, আহত সেনাদের অধিকাংশেরই হালকা ধরনের ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি (টিবিআই) বা বিস্ফোরণের অভিঘাতে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। তিনি জানান, সেনারা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্ব পালনে ফিরে আসছেন এবং আহতদের তথ্য ধাপে ধাপে পেন্টাগনের সরকারি তথ্যভান্ডারে হালনাগাদ করা হবে। এই তথ্য প্রকাশের আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিন ধরে সাম্প্রতিক হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও কংগ্রেসের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পড়ে পেন্টাগন। পরে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় নিশ্চিত করার পর আহত সেনাদের সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনলাইন ডেটাবেসে নিহত সেনার সংখ্যা ১৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪৪৭ দেখানো হলেও পরে সেটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আগের তথ্য অনুযায়ী সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া শনিবার ইরাকে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সোমবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের সালমান বন্দর ও সাখির বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার একাধিক দফায় চালানো আকাশপথের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও এর প্রভাব পড়ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, সিবিএস নিউজ, পেন্টাগন।
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্যের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। তাদের একজন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান, অন্যজন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুই তরুণ সেনার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সোমবার প্রকাশিত পেন্টাগনের বিবৃতিতে জানানো হয়, হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচের বাসিন্দা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস জর্ডানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী মার্কিন সামরিক মিশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সপ্তাহান্তে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। টাইলার জেমস ফিহানের বয়স ছিল মাত্র ২৫। তিনি নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত ২য় ব্যাটালিয়ন, ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গনজালেস জার্মানির আনসবাখে মোতায়েন ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার সময় দুই সেনা ঘাঁটির প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন এবং একজন সেনাসদস্যের সন্ধান না পাওয়ার কথাও প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল। এই দুই সেনার মৃত্যু চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে। সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাত্র ১৯ ও ২৫ বছর—জীবনের শুরুতেই দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই তরুণ সেনাসদস্য। তাদের মৃত্যু শুধু দুটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্যও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার একজন ছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করে। জানানো হয়, টেক্সাসের ক্যারোলটন এলাকার বাসিন্দা ইসাবেলা গনজালেস জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন। তিনি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী মার্কিন অভিযানের অংশ হিসেবে জর্ডানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ইসাবেলা নিহত হন। একই হামলায় প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান, যিনি হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। হামলায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ইসাবেলার মৃত্যু শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য নয়, একটি পরিবারের জন্যও গভীর শোকের কারণ। যে বয়সে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন কিংবা ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যায়, সেই বয়সেই দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে থেমে গেল তার জীবন। ইউনিফর্ম পরা সেই তরুণী আর কখনও পরিবারের কাছে ফিরবেন না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইসাবেলা গনজালেসের মৃত্যু সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম হিসেবে—যার পেছনে রয়েছে মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর অসমাপ্ত জীবন, অপূর্ণ স্বপ্ন এবং শোকাহত একটি পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। নিহত সেনারা হলেন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হওয়া হামলায় তারা নিহত হন। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসাবেলা গঞ্জালেস টেক্সাসের ক্যারলটন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে টাইলার ফিহানের বাড়ি হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ইওয়া বিচ এলাকায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান এই হামলার সঙ্গে জড়িত। ইরানের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনাদের স্মরণে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ এবং অন্যান্য অ-যুদ্ধকালীন ব্যয় সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন বলে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে। উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিফেন ফেইনবার্গ সম্প্রতি কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই তথ্য উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইনপ্রণেতাদের কাছে একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে। এই প্রস্তাবে শুধু পেন্টাগনের তহবিলই নয়, কৃষি খাত ও দুর্যোগ সহায়তার মতো অপ্রতিরক্ষামূলক খাতের অর্থায়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য দেয়নি। এর আগে এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এটিই ছিল যুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব হিসেবে প্রকাশিত তথ্য। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের মোট ব্যয় কত—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে পড়ে। বাজেট বিতর্কের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শুনানিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট বলেন, যুদ্ধ ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব তার কাছে নেই। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান জানান। এই বিশাল সামরিক বাজেটকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের আর্থিক চাপ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা শপথনামায় দাবি করেছেন, ইরানে সামরিক অভিযানের সময় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রোক’ ব্যবহার করেছে মার্কিন প্রশাসন। নথি অনুযায়ী, ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ২ হাজারের বেশি অস্ত্র ব্যবহারের অভিযানে এ প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। পেন্টাগনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে জমা দেওয়া শপথনামায় গ্রোককে “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি বিভিন্ন মিশন-গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটিই সম্ভবত প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হলো যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইলন মাস্কের এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকাণ্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাগুলো সামনে আসার পর এআই-নির্ভর লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও হামলা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন এই তথ্য সামনে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির করা একটি মামলার শুনানিতে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর ‘কলোসাস ২’ ডেটা সেন্টার প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই অন্তত ৫৭টি গ্যাসচালিত টারবাইন পরিচালনা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’ বা পরিচ্ছন্ন বায়ু আইন লঙ্ঘন করে। মামলার নথিতে গ্রোকের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, যা পরে জনসমক্ষে আসে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ঘটায়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভুল হয়ে থাকে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কাজ করেনি। যুদ্ধে ভুল হয়েই থাকে। যুদ্ধ খুবই নিষ্ঠুর। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মিনাবের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন। এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে। তদন্তের পরিধি ইতোমধ্যে বাড়িয়েছে পেন্টাগন। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ বা স্বীকার করেনি। হামলার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন। পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন। গত মাসে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান জানান, তদন্ত প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কারণ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি ইরানের একটি সক্রিয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সীমানার ভেতরে অবস্থিত। তবে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিদ্যালয়টির সংরক্ষিত ওয়েবসাইট তথ্য অনুযায়ী, এটি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর একটি স্থাপনার পাশেই অবস্থিত ছিল। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভবত পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের একটি ড্রোন হামলায় মার্কিন রিজার্ভ বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটিকে প্রথম বড় ধরনের মার্কিন সামরিক প্রাণহানি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই হামলাকে ঘিরে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও ঘটনাস্থলে থাকা সেনাদের বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি স্থাপনায় ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে, যা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু আহত সেনাদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা জানিয়েছেন, হামলার আগে সতর্ক সংকেত দেওয়া হলেও পরে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করা হয়। সেই ঘোষণার কিছু সময় পরই ড্রোনটি সরাসরি আঘাত হানে। তাদের দাবি, যে স্থাপনাটিকে সুরক্ষিত বলা হচ্ছে, বাস্তবে সেটি ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং তারা যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না। একজন সেনা সদস্যের বর্ণনায়, বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ছিল ভয়াবহ—চারপাশ কেঁপে ওঠে, ধোঁয়া ও ধুলায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। হামলার পর উদ্ধার তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আহত সেনাদের অভিযোগ, দ্রুত সহায়তা না পেয়ে তারা নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে বাধ্য হন এবং পরে বেসামরিক যানবাহনে করে হাসপাতালে যেতে হয়। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সেনাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়—কারণ কোনো সতর্ক সংকেত শোনা যায়নি। সব মিলিয়ে, এই ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে। সূত্র: এনডিটিভি
পিট হেগসেথ ও ড্যান ড্রিসকল-এর মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে পেন্টাগনে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের পর এই বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য ড্রিসকলকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছু কর্মকর্তার দাবি, হেগসেথ আশঙ্কা করছেন ড্রিসকল তার অবস্থানকে ছাপিয়ে যেতে পারেন। তবে পেন্টাগন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হেগসেথ সব বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছেন। তবুও অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, হেগসেথের দল মনে করে ড্রিসকল পেন্টাগনের ভেতরে তার এবং প্রেসিডেন্টের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। সম্প্রতি হেগসেথ একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন, যাদের মধ্যে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এতে প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি। অন্যদিকে, ড্রিসকল দুই দলের মধ্যেই ইতিবাচক মূল্যায়ন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে এবং তাকে সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় নেতার ওপরই আস্থা রাখছেন এবং তাদের নেতৃত্বে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। বর্তমানে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ এই ক্ষমতার লড়াই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যদিও উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কর্মসূচি ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’ আবার আলোচনায় এসেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং হামলার গতি বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ছোট একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রোগ্রাম এখন একটি বড় এআই-নির্ভর সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। এটি যুদ্ধ পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে সক্ষম। প্রজেক্ট ম্যাভেন কী? প্রজেক্ট ম্যাভেন হলো পেন্টাগনের প্রধান এআই উদ্যোগ। শুরুতে এটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে আসা ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণে সাহায্য করতো। বিশ্লেষকদের বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এক ফ্রেম করে দেখার কাজ সহজ করতে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাভেন বড় হয়ে এখন শুধু ছবি বিশ্লেষণ নয়, পুরো যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনায় সহায়তা করে। যুদ্ধের ভাষায় ‘কিল চেইন’ অর্থাৎ লক্ষ্য শনাক্তকরণ থেকে আঘাত পর্যন্ত দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এই সিস্টেম। কীভাবে কাজ করে? ম্যাভেনকে অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রের ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’ ও ‘ককপিট’-এর সংমিশ্রণ বলা যায়। এটি বিভিন্ন উৎস থেকে সেন্সর ডেটা, গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট ছবি ও সেনা মোতায়েনের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর এগুলো একত্র করে পুরো পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার ছবি তৈরি করে। ফলে কমান্ডাররা দ্রুত বোঝতে পারেন কোথায় শত্রু চলাচল করছে এবং কোথায় আঘাত হানা সম্ভব। ম্যাভেন বিভিন্ন আক্রমণের বিকল্পও প্রস্তাব করে, এবং চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির কারণে ব্যবহার আরও সহজ হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যবস্থার একটি অংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের ক্লাউড মডেলের মাধ্যমে চলছে। তবে এর ব্যবহার নিয়ে পেন্টাগনের সঙ্গে কিছু মতবিরোধ আছে। গুগলের বিরোধ শুরুর দিকে গুগল প্রজেক্টে যুক্ত ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে তিন হাজারের বেশি কর্মী নৈতিক কারণে বিরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করছে। পরে গুগল চুক্তি নবায়ন করেনি এবং অস্ত্র ব্যবস্থায় কাজ না করার নীতি ঘোষণা করে। প্যালান্টিরের ভূমিকা ২০২৪ সালে প্যালান্টির গুগলের জায়গা নেয় এবং ম্যাভেনের প্রধান প্রযুক্তি অংশীদার হয়। কোম্পানির এআই সিস্টেম ‘কিল চেইন’-কে ঘণ্টা থেকে সেকেন্ডে নামিয়ে আঘাতের গতি বাড়াতে সক্ষম। কার্যকারিতা ম্যাভেনের সঠিক কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ধরণ থেকে ধারণা করা যায়, এটি লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও আঘাতের গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গবেষণা অনুযায়ী, কিছু অপারেশনে প্রতিদিন ৩০০–৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, এক হামলায় ৭–১২ বছর বয়সী ১৬৮ শিশু নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়েছে খোদ ওয়াশিংটনে। অভিজ্ঞ জেনারেলদের একের পর এক বরখাস্তের পেছনে ইরান নিয়ে হেগসেথের 'অবাস্তব' পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকরা। মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্য সিনেটর ক্রিস মারফি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের অভিজ্ঞ জেনারেলরা সম্ভবত হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন যে— ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ পরিকল্পনা একেবারেই 'অকার্যকর' এবং 'বিপজ্জনক'। আর এই সত্য বলার কারণেই এখন কোপের মুখে পড়তে হচ্ছে ঝানু সামরিক কর্মকর্তাদের। মারফির মতে, হেগসেথ এমন এক যুদ্ধের স্বপ্ন দেখছেন যার বাস্তব ভিত্তি নেই। অভিজ্ঞ জেনারেলরা যখনই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন, তখনই তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক বিশাল ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে পেন্টাগনের অন্দরে চলছে এই 'শুদ্ধি অভিযান'। সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এভাবে অভিজ্ঞ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনী এক অনিশ্চিত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগে বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে নাটকীয়ভাবে অপসারণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও দুজন প্রভাবশালী শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের শিকার হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন— জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে শীর্ষ সারির কর্মকর্তাদের এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মার্কিন সামরিক প্রশাসনের অন্দরে তীব্র উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, জেনারেল হোডনি অতি সম্প্রতি গত অক্টোবর মাসে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড’-এর নেতৃত্বে ছিলেন। বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণে এই চার-তারকা পদের ভূমিকা অপরিসীম। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল গ্রিন সেনাবাহিনীর ‘টপ চ্যাপলিন’ বা প্রধান যাজক হিসেবে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দিকগুলো তদারকি করতেন। উল্লেখ্য, এর আগে বরখাস্ত হওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত করেছিলেন। সাধারণত চার বছর মেয়াদী এই পদ থেকে মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আমলাতন্ত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার নাকি কোনো গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ— ঠিক কী কারণে এই ‘ক্লিনআপ ড্রাইভ’ বা গণ-বরখাস্তের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি, যা জনমনে এবং সামরিক বাহিনীতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এক বিধ্বংসী হ্যান্ড গ্রেনেড নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করল মার্কিন সেনাবাহিনী। প্লাস্টিক বডির এই এম-১১১ গ্রেনেডটি মূলত প্রচণ্ড বায়ুচাপ বা শক ওয়েভের মাধ্যমে শত্রুকে মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম। প্রথাগত গ্রেনেডগুলোর মতো এটি লোহার টুকরো বা স্প্লিন্টার ছড়িয়ে শত্রু মারে না। এর পরিবর্তে এটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে এমন এক বায়বীয় তরঙ্গ তৈরি করে, যা মানুষের ফুসফুস ও কানের পর্দা মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে দেয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রাণঘাতী অস্ত্রটি সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সর্বশেষ নতুন প্রযুক্তির গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের দমনে এই গ্রেনেডটি হবে মার্কিন সৈন্যদের প্রধান অস্ত্র। এর প্লাস্টিক বডি বিস্ফোরণের সময় বাষ্পীভূত হয়ে যায়, ফলে আশেপাশের দেয়াল বা সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমে। আগের এম-৬৭ গ্রেনেডগুলো বিস্ফোরণের পর চারদিকে লোহার টুকরো ছড়িয়ে দিত, যা অনেক সময় দেয়াল ভেদ করে নিজেদের সৈন্য বা সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণ হতো। নতুন এই গ্রেনেড সেই ঝুঁকি দূর করে কেবল নির্দিষ্ট কক্ষের শত্রুদের ধ্বংস করবে। মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই গ্রেনেডের শক ওয়েভ দেয়াল বা আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুকেও রেহাই দেবে না। প্রচণ্ড চাপের এই ঢেউ মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে তাৎক্ষণিক মৃত্যু নিশ্চিত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রচণ্ড বায়ুচাপ মানুষের কানের পর্দা, ফুসফুস, চোখ এবং পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম। এমনকি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঢেউ মানুষের মস্তিস্কে আঘাত করে অঙ্গহানি পর্যন্ত ঘটাতে পারে বলে জানানো হয়েছে। নিউ জার্সির পিকাতিনি আর্সেনালে তৈরি এই অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রটি মূলত ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করা হয়েছে। শহর অঞ্চলে ঘরবাড়ি দখলের লড়াইয়ে এটি সৈন্যদের জন্য এক নতুন গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। পুরনো এম-৩এ২ গ্রেনেডটি সত্তরের দশকে বাতিল করা হয়েছিল কারণ সেটিতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই শূন্যতা পূরণে দীর্ঘ সময় পর এই নিরাপদ কিন্তু শক্তিশালী প্লাস্টিক গ্রেনেডটি অন্তর্ভুক্ত করা হলো। তবে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, পুরনো এম-৬৭ ফ্র্যাগমেন্টেশন গ্রেনেডগুলো এখনই পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। খোলা ময়দানে শত্রুর ওপর মারণাঘাত হানতে সেগুলো আগের মতোই ব্যবহার করা হবে, আর ঘর পরিষ্কারের অভিযানে ব্যবহৃত হবে নতুন এম-১১১। নতুন এই গ্রেনেডে অত্যন্ত শক্তিশালী আরডিএক্স বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছোট আকৃতির হলেও বিশাল ধ্বংসক্ষমতা সম্পন্ন। হাতের তালুর সমান এই সিলিন্ডার আকৃতির অস্ত্রটি সহজেই বহনযোগ্য এবং ব্যবহার করাও অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভুল। মার্কিন মেরিন কোরও একই ধরনের প্রযুক্তি সম্পন্ন এম-২১ গ্রেনেড সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা নরওয়ের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। আধুনিক যুদ্ধের কৌশল বদলে যাওয়ার সাথে সাথে অস্ত্রের ধরণও যে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, এটি তারই একটি প্রমাণ। পেন্টাগন মনে করছে, এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন যুদ্ধের ময়দানে লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও ঘরের ভেতরে যুদ্ধের সময় নিজেদের সৈন্যদের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিখ্যাত ‘পাইনঅ্যাপল’ গ্রেনেড থেকে শুরু করে আজকের এই প্লাস্টিক গ্রেনেড পর্যন্ত দীর্ঘ বিবর্তন ঘটেছে। প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা মার্কিন সামরিক শক্তিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ভবিষ্যতে এই গ্রেনেডটি কেবল মার্কিনিদের নয়, বরং নেটো জোটভুক্ত মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রাগারেও জায়গা করে নিতে পারে। একুশ শতকের আধুনিক যুদ্ধে এ ধরনের স্মার্ট মারণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এখন সবচাইতে বেশি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সামরিক মহল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াতে এবার সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, পেন্টাগন ইতিমধ্যে ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ স্থল অভিযানের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন বা দখলদারিত্বের বদলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ এবং বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই স্থল অভিযান হবে যুদ্ধের এক নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়। বিশেষ করে ইরানের কৌশলগত তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এই হামলা চালানো হতে পারে। পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো নৌ-চলাচলে হুমকি সৃষ্টিকারী ইরানের সক্ষমতাগুলো ধ্বংস করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরণের স্থল অভিযানে মার্কিন সেনারা ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গেরিলা প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে যা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন যে, কমান্ডারের পছন্দমতো বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি রাখা পেন্টাগনের নিয়মিত কাজ। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং তার প্রশাসন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়াতে চায়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই স্থল অভিযানের ঘোষণা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য এক বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এক বিতর্কিত পদক্ষেপে তোলপাড় শুরু হয়েছে পেন্টাগনসহ পুরো ওয়াশিংটনে। অত্যন্ত যোগ্য হিসেবে বিবেচিত চারজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন তিনি, যাদের মধ্যে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং দুইজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে ওয়ান-স্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টিকে হেগসেথের ‘উওক কালচার’ বা অতি-উদারপন্থী প্রভাবমুক্ত সামরিক বাহিনী গড়ার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রচলিত ডাইভারসিটি, ইক্যুইটি এবং ইনক্লুশন (DEI) নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলকে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ড্রিসকল এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ওই কর্মকর্তারা কয়েক দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেনাসচিবের আপত্তি তোয়াক্কা না করেই হেগসেথ ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাদের নাম সরিয়ে দেন। হেগসেথের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক আদর্শ এবং গায়ের রঙ বা লিঙ্গকে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে সংশোধিত এই তালিকাটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পেশ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে আসা হেগসেথের এমন একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।