যৌন নির্যাতন

অভিযোগের মুখে পড়া ২৬ বছর বয়সী ক্লিনিক্যাল থেরাপিস্ট সোফিয়া ড্রটস। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরকে কাউন্সেলিংয়ের নামে ফুসলিয়ে ধর্ষণ, ক্যালিফোর্নিয়ায় নারী থেরাপিস্ট গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক সাবেক আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে তার সাবেক কিশোর রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অভিযুক্ত থেরাপিস্ট তার পেশাগত অবস্থানের অপব্যবহার করে প্রথমে কিশোরটির আস্থা অর্জন করেন এবং পরে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কের সীমা লঙ্ঘন করে তার সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন।   কনট্রা কস্টা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয় জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী সোফিয়া ড্রটসের বিরুদ্ধে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ককে ক্ষতিকর উপাদান পাঠানো, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ড এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের অভিযোগসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য শিগগিরই আদালতে তাকে হাজির করা হবে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রটস ক্যালিফোর্নিয়ার মার্টিনেজে অবস্থিত জন এ. ডেভিস জুভেনাইল হলে আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরটি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও চিকিৎসা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।,   গত ১৪ জুলাই প্রবেশন বিভাগের এক তত্ত্বাবধায়কের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কনকর্ড পুলিশ ড্রটসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবার কনট্রা কস্টা কাউন্টির বিরুদ্ধে পৃথক একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে।   ভুক্তভোগী কিশোরের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তার মা এক বিবৃতিতে বলেন, ছেলের মানসিক সুস্থতার জন্য তারা একজন পেশাদারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেন, তাদের পরিবারের প্রধান লক্ষ্য এখন ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ভবিষ্যতে যেন অন্য কোনো পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা।   পরিবারের আইনজীবী জন বারিস আদালতে দাখিল করা নথিতে দাবি করেছেন, ড্রটস ২০২৪ সাল থেকেই কিশোরটির সঙ্গে অনুপযুক্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করেন। তখন কিশোরটির বয়স ছিল ১৪ বা ১৫ বছর এবং তিনি দুই বছরের জন্য কিশোর সংশোধনাগারে ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ধীরে ধীরে কিশোরটির সঙ্গে এমন একটি মানসিক নির্ভরতার সম্পর্ক তৈরি করেন, যা পরে যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।   আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কিশোরটি প্রবেশনে মুক্তি পাওয়ার পরও কনট্রা কস্টা হেলথের অধীনে ড্রটস তার থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়েই অভিযোগ অনুযায়ী অবৈধ যৌন সম্পর্কের ঘটনাগুলো ঘটে। একই সঙ্গে মামলায় দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়করা সম্ভাব্য সতর্ক সংকেত শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন, যার ফলে অভিযোগ অনুযায়ী নির্যাতনের ঘটনা দীর্ঘ সময় চলতে থাকে।   আইনজীবী জন বারিস বলেন, শুধু একজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগই নয়, পুরো তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার মতে, বিদ্যমান পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারত।   তদন্তে জানা গেছে, সোফিয়া ড্রটস ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ ছিল।   মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে। এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক
বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালে কর্মরত এক সাবেক নার্সের বিরুদ্ধে দুই কিশোর রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নার্স জন ট্যামকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, তার বিরুদ্ধে আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন।    সাফোক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, হোপডেলের বাসিন্দা জন ট্যামের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর অশালীন হামলা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসেবে রোগীর ওপর অশালীন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি শিগগিরই সাফোক সুপিরিয়র কোর্টে হাজির হবেন।    অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটে ২০২২ ও ২০২৫ সালে। প্রথম ঘটনায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালে বুকে অস্ত্রোপচার করা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটরদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেশিয়া নেওয়ার পর জ্ঞান ফেরার সময় ওই কিশোর নার্স ট্যামকে তার শরীরে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করতে দেখে।    দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ১৬ বছর বয়সী আরেক রোগীর সঙ্গে একই ধরনের অপরাধের অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় পুলিশকে হাসপাতালে ডাকা হয়েছিল এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।    সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কেভিন হেইডেন সতর্ক করে বলেছেন, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নাও হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা যদি জন ট্যামের সংস্পর্শে এসে থাকে এবং কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে যেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।    জন ট্যাম এর আগে ম্যাসাচুসেটসের আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বেথ ইসরায়েল ডিকনেস মেডিকেল সেন্টার এবং ইউম্যাস মেমোরিয়াল মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন ক্যাম্পাস। এসব প্রতিষ্ঠানে তার কর্মকালীন সময়েও কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    বোস্টন চিলড্রেন’স হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
চাচার লালসার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সন্তান প্রসব করল ১২ বছরের ভাতিজী
চাচার লালসার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সন্তান প্রসব করল ১২ বছরের ভাতিজী

ফ্লোরিডার পিনেলাস পার্কে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী সন্তান প্রসবের পর তার চাচা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী নিজের গর্ভধারণের বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না।   পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগ গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে হেলেন হাওয়ার্থ পার্ক থেকে এক নবজাতক উদ্ধারের পর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, নবজাতক ও ১২ বছর বয়সী মা উভয়কেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁরা সুস্থ আছেন।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিজের গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানতেন না। তবে তিনি পিনেলাস পার্কের একটি বাসায় গত এক বছর ধরে তার চাচার দ্বারা একাধিকবার যৌন নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সী ডেলফিন ব্যাক নামে ওই চাচাকে গ্রেপ্তার করে পিনেলাস কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নিপীড়নের (ক্যাপিটাল সেক্সুয়াল ব্যাটারি) অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও তথ্য জানতে পারে এমন যে কাউকে পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
২৫ বছর বয়সী বেবিসিটার I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউ জার্সিতে ২ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বেবিসিটার গ্রেপ্তার, মিলল ভিডিও প্রমাণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক বেবিসিটারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ভিক্টোরিয়া অ্যান ক্র্যানমার নামের ওই নারী নিজেই তার এই জঘন্য অপরাধের দৃশ্য স্ন্যাপচ্যাটে ভিডিও করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তার এক বান্ধবীর হাতে সেই ভিডিও পৌঁছালে অমানবিক এই শিশু নির্যাতনের ভয়ংকর চিত্র প্রকাশ্যে আসে। নিউ জার্সির লিটল এগ হারবার এলাকার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ক্র্যানমার গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তার এক ছোটবেলার বান্ধবীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই বান্ধবী তাকে জন্মদিন উপলক্ষে একটি আইফোন ১৭ প্রো কিনে দিয়েছিলেন। তবে মে মাসের শুরুর দিকে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে বান্ধবী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং ফোনটি ফেরত চান।   ক্র্যানমার কোনো পাসকোড ছাড়াই ফোনটি মেইলবক্সে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে ‘মিস পি’ ছদ্মনামের ওই বান্ধবী ফোনটি চালু করতেই স্ন্যাপচ্যাটে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভয়ংকর ভিডিও দেখতে পান, যেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করা ছিল।   ভিডিওটিতে দেখা যায়, ক্র্যানমার বাথরুমে বসে হাসতে হাসতে শিশুটিকে উত্ত্যক্ত করছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি ‘মিস এইচ’ নামে অপর এক নারীর সন্তান, যিনিও ক্র্যানমারকে বেবিসিটার হিসেবে কাজে রেখেছিলেন। শিশুটির মা আগেই খেয়াল করেছিলেন যে তার ছেলে হঠাৎ করেই গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করছে এবং পরে শিশুটি জানায় যে ক্র্যানমার তার সঙ্গে বাথটবে গোসল করতেন।   ভিডিওটি দেখে আতঙ্কিত বান্ধবী দ্রুত সেটি সংরক্ষণ করেন এবং ক্র্যানমারের পায়ের নির্দিষ্ট ট্যাটু ও কণ্ঠস্বর শুনে তাকে শনাক্ত করেন।   গত ৮ জুলাই গ্রেপ্তারের পর ক্র্যানমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার যৌন নির্যাতন, শিশু নির্যাতনের ভিডিও তৈরি ও সংরক্ষণ এবং শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ওশান কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করার পর বর্তমানে তিনি জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শিশুদের বিশ্বস্ত বেবিসিটারের কাছে রাখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় রোগীদের যৌন হয়রানির দায়ে চিকিৎসকের লাইসেন্স আজীবনের জন্য বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডে অবস্থিত একটি স্কিন-কেয়ার ক্লিনিকের চিকিৎসক স্যাম সানৌফিকে নারী রোগীদের যৌন নির্যাতনের দায়ে চিকিৎসা পেশা থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী এই নিউপোর্ট বিচ ফিজিশিয়ান রিভারসাইড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের সাথে চুক্তির মাধ্যমে তিনজন অচেতন রোগীকে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি ফৌজদারি মামলার সমাপ্তি ঘটল।   রিভারসাইড হল অফ জাস্টিসে জুরি বিচার শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দোষ স্বীকারের চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে আনা বাকি নয়টি গুরুতর অভিযোগ (ফেলোনি) প্রত্যাহার করে নেন। সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক জশলিন পুলিয়াম তাকে দুই বছরের প্রবেশন বা নজরদারি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং 'যৌন অপরাধী' (সেক্স অফেন্ডার) হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নিবন্ধনের কঠোর শর্তের কারণেই তিনি আর কখনোই তার মেডিকেল লাইসেন্স ফিরে পাবেন না এবং কোনো রোগীর চিকিৎসাও করতে পারবেন না।   ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের মুখপাত্র জন হল এক বিবৃতিতে জানান, এই আসামির সাজা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা পেশা থেকে তাকে চিরতরে দূরে রাখাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভুক্তভোগীরা এই বিচারের রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন; কারণ এর ফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি আর কোনো রোগীর ক্ষতি করতে পারবেন না। আদালত তিন ভুক্তভোগী নারীর সুরক্ষার জন্য ক্রিমিনাল প্রোটেক্টিভ অর্ডারও জারি করেছেন, আদালতের নথিতে যাদের নাম গোপন রেখে শুধুমাত্র সি.এফ., জে.ভি. এবং কে.টি. আদ্যক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।   ২০২৩ সালের জুনে ব্রকটন এভিনিউতে অবস্থিত 'টাইমলেস স্কিনকেয়ার লেজার ক্লিনিক প্রাইমারি কেয়ার'-এ পরামর্শ নিতে এসে এক নারী নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ আনলে কর্তৃপক্ষ প্রথমবার সানৌফিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ১ মিলিয়ন ডলার মুচলেকায় তিনি জামিন পান। তদন্ত চলাকালে ২০১৭ এবং ২০২১ সালের আরও কয়েকজন নারী একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন, যার ফলে পরের মাসে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, কিছু ভুক্তভোগী নারী সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করায় প্রসিকিউশনকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল, কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায় না।   ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনিয়ান স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এই চিকিৎসক ২০০৯ সালের মার্চ মাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে ফি পরিশোধ না করার কারণে ২০২৪ সালে তার লাইসেন্সটি স্থগিত হয়ে যায়। রিভারসাইড কাউন্টিতে এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

বায়জিদ হাসান জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০