- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রের আদালত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করা হয়েছে। মামলাটি কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন, অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়। মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘোষণা এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সামগ্রিক নীতিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো, শুধু কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে একজন আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা যাবে না। আইনের অধীনে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করতে হবে। আদালত প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে পুরো নীতিটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার মূল নীতির ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়েছে। মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে ভিসা আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ৭৫ দেশের জন্য জারি করা নীতিতে কর্মকর্তাদের সেই ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সুযোগ কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত সরকারের এই পদ্ধতিকে আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন। এর আগে একই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য ফেডারেল আদালতেও মামলা হয়। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস ও তার পরিবারের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই রায়ে মূলত ওই পরিবারের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ দেশের পুরো নীতি বাতিল করা হয়নি। আজকের নিউইয়র্কের রায়টি সে কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু একজন বা একটি পরিবারের ভিসা আবেদন নিয়ে নয়, বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা পুরো ভিসা স্থগিত নীতির বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নীতিটি বাতিল করার আদেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় অনেক পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে আদালতের রায়কে এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না যে আজই প্রত্যেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর হাতে ভিসা চলে আসবে। নীতি বাতিল হলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো আবেদনকারীর অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতা থাকলে সেটিও কর্মকর্তারা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে পারবেন। এ ছাড়া মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এগোবে, আগে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো কখন স্বাভাবিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু করবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য তাই শুক্রবারের রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, সব আবেদনকারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যু হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর থেকে একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন রোড আইল্যান্ডের প্রধান ফেডারেল বিচারক জন জে. ম্যাককনেল জুনিয়র। ২০২৫ সালে প্রশাসনের ফেডারেল তহবিল স্থগিতের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর তার আদালতে ৪০০টির বেশি ক্ষুব্ধ ও হুমকিমূলক ফোনকল আসে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ম্যাককনেল জানান, হুমকির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ইউএস মার্শালস সার্ভিস তার নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একটি হুমকিতে তার বাড়ির ঠিকানা খুঁজে সেখানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের শুরুর দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি ব্যয় স্থগিত করার ব্যাপক উদ্যোগ নিলে ম্যাককনেল সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রশাসনের অর্থ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে আটকে দেন। ওই রায়ের পর ট্রাম্পপন্থী সমর্থকদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। শুধু বিচারক ম্যাককনেলই নন, তার পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করা হয়। এক পর্যায়ে তার মেয়ের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে সাধারণত ডক্সিং বলা হয়। পাশাপাশি তাকে অভিশংসনের দাবিও ওঠে এবং কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল একটি পিৎজা ডেলিভারি। ম্যাককনেলের পরিবার কোনো পিৎজা অর্ডার না করলেও তার বাড়িতে একটি পিৎজা পৌঁছে যায়। অর্ডারে ব্যবহার করা হয়েছিল ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্লের নাম। ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্ল ছিলেন নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক এসথার সালাসের ২০ বছর বয়সী ছেলে। ২০২০ সালে বিচারক সালাসকে লক্ষ্য করে তার নিউ জার্সির বাড়িতে হামলা চালানো হলে দরজা খুলতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন অ্যান্ডার্ল। হামলাকারী ডেলিভারি কর্মীর ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে গিয়েছিল। ম্যাককনেলের বাড়িতে অ্যান্ডার্লের নামে পিৎজা পৌঁছানোর বিষয়টি ইউএস মার্শালস সার্ভিস তাকে জানায়। পরে তিনি বিচারক সালাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই নামে অন্য ফেডারেল বিচারকদের বাড়িতেও পিৎজা পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ম্যাককনেল বলেছেন, অ্যান্ডার্লের নাম ব্যবহার করে তার বাড়িতে পিৎজা পাঠানোর ঘটনাটি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু তাকে নয়, তার পরিবারকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রায় ১৫ বছর ধরে ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাককনেল। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারক। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার কারণে আরও কয়েকজন ফেডারেল বিচারক রাজনৈতিক সমালোচনা, অনলাইন হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন। ২০২৬ সালের জুনেও ম্যাককনেল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত কয়েকটি নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। ওই রায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অ্যাসাইলাম, গ্রিন কার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটসহ বৈধ অভিবাসন সুবিধা স্থগিত করার প্রশাসনিক পদক্ষেপকে আইনের পরিপন্থী বলে বাতিল করেন। ফেডারেল বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিচারকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির মাত্রা নিয়ে কয়েকজন বিচারক প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য, আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে বিচারক ও তাদের পরিবারকে ভয় দেখানো হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় থাকে না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ম্যাককনেলের ভাষায়, বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আদালতে যে সিদ্ধান্তই দেওয়া হোক, সেটি আইন ও আদালতের রেকর্ডের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিচারকদের ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকির মধ্যে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী অলাভজনক সংস্থাগুলোর বকেয়া প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার (৬৫ মিলিয়ন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক আরাসেলি মার্টিনেজ-ওলগুইন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে (Department of Health and Human Services) শুক্রবার দুপুর ১২টা (প্যাসিফিক সময়) এর মধ্যে অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আদালতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলো জানায়, সরকার অর্থ ছেড়ে দিয়েছে এবং সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছানো শুরু হবে। অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা কর্মসূচির প্রধান ঠিকাদার অলাভজনক সংস্থা অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের মুখপাত্র বিলাল আসকারইয়ার বলেন, "আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, যাতে অর্থপ্রদান যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়।" যদিও স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, তারা আইনি ও নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করছে এবং কোনো শিশুকে আইনি সহায়তা চাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি একই মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো আদালতের হস্তক্ষেপ। এর আগে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে (প্রিলিমিনারি ইনজাংশন) সরকারকে আইনি সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ৩১ জুলাই এই কর্মসূচির ফেডারেল চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৯০টি অলাভজনক সংস্থা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে এবং ২৪ হাজারের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশু আইনি প্রতিনিধিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। গ্রেটার লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করা ইমিগ্র্যান্ট ডিফেন্ডার্স ল সেন্টারের প্রধান নির্বাহী লিন্ডসে টোচিলোভস্কি জানান, শুধু তাদের সংস্থার আওতায় থাকা দেড় হাজারের বেশি শিশু এই পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, "এই কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। স্বাধীন ও নৈতিকভাবে এই সেবা চালিয়ে যাওয়া দেশের বিভিন্ন সংস্থার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।" একই সংস্থার মামলাবিষয়ক পরিচালক আলভারো এম. হুয়ের্তা বলেন, সরকারের অর্থ আটকে রাখার কারণে কতজন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার ভাষায়, "সরকার যখন তাদের দায়িত্ব পালন না করে অর্থ আটকে রেখেছিল, তখন অনেক শিশুকে একাই বহিষ্কার কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ হয়তো সেই নির্যাতন, নিপীড়ন বা বিপজ্জনক পরিবেশেই ফেরত গেছে, যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছিল।" তিনি আরও বলেন, শিশুদের অধিকার কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের আইনগত দায়িত্ব। এদিকে চলতি সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার জন্য টেক্সাসের একটি ছোট আইন প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডলারের নতুন চুক্তি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এতে শিশুদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যাকশন সেন্টারের আইনজীবী লরা ফ্লোরেস-পেরিলা বলেন, "যদি শিশুদের আইনজীবী না থাকে, তাহলে তাদের বহিষ্কার করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আদালতের সর্বশেষ আদেশে আগের সেবার বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।" এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সে সময় স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে। এর প্রতিবাদে সংস্থাটি এবং বিভিন্ন অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে সমষ্টিগত মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ২০০৮ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া 'উইলিয়াম উইলবারফোর্স ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট'-এর পরিপন্থী। এই আইনে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নির্যাতন, শোষণ ও মানবপাচার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস নিয়মিতভাবে এ কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের চুক্তি পুনর্বহাল এবং কর্মসূচির অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সফল হয়নি। তবে গত নভেম্বর থেকে প্রশাসন বিভিন্ন বিলের অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখে। সরকারের দাবি ছিল, আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলোকে তাদের মক্কেলদের কিছু তথ্য দিতে হবে। কিন্তু সংস্থাগুলোর মতে, এসব তথ্য প্রকাশ করলে আইনজীবী ও মক্কেলের গোপনীয়তার নীতি লঙ্ঘিত হবে। সর্বশেষ আদেশে বিচারক মার্টিনেজ-ওলগুইন সরকারকে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন। সেখানে ব্যাখ্যা করতে হবে, কীভাবে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আইনগত দায়িত্ব তারা পালন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক সাবেক আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে তার সাবেক কিশোর রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অভিযুক্ত থেরাপিস্ট তার পেশাগত অবস্থানের অপব্যবহার করে প্রথমে কিশোরটির আস্থা অর্জন করেন এবং পরে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কের সীমা লঙ্ঘন করে তার সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। কনট্রা কস্টা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয় জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী সোফিয়া ড্রটসের বিরুদ্ধে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ককে ক্ষতিকর উপাদান পাঠানো, অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ড এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের অভিযোগসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য শিগগিরই আদালতে তাকে হাজির করা হবে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রটস ক্যালিফোর্নিয়ার মার্টিনেজে অবস্থিত জন এ. ডেভিস জুভেনাইল হলে আচরণগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরটি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও চিকিৎসা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।, গত ১৪ জুলাই প্রবেশন বিভাগের এক তত্ত্বাবধায়কের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কনকর্ড পুলিশ ড্রটসকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবার কনট্রা কস্টা কাউন্টির বিরুদ্ধে পৃথক একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তার মা এক বিবৃতিতে বলেন, ছেলের মানসিক সুস্থতার জন্য তারা একজন পেশাদারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেন, তাদের পরিবারের প্রধান লক্ষ্য এখন ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ভবিষ্যতে যেন অন্য কোনো পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা। পরিবারের আইনজীবী জন বারিস আদালতে দাখিল করা নথিতে দাবি করেছেন, ড্রটস ২০২৪ সাল থেকেই কিশোরটির সঙ্গে অনুপযুক্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করেন। তখন কিশোরটির বয়স ছিল ১৪ বা ১৫ বছর এবং তিনি দুই বছরের জন্য কিশোর সংশোধনাগারে ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ধীরে ধীরে কিশোরটির সঙ্গে এমন একটি মানসিক নির্ভরতার সম্পর্ক তৈরি করেন, যা পরে যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কিশোরটি প্রবেশনে মুক্তি পাওয়ার পরও কনট্রা কস্টা হেলথের অধীনে ড্রটস তার থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়েই অভিযোগ অনুযায়ী অবৈধ যৌন সম্পর্কের ঘটনাগুলো ঘটে। একই সঙ্গে মামলায় দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়করা সম্ভাব্য সতর্ক সংকেত শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন, যার ফলে অভিযোগ অনুযায়ী নির্যাতনের ঘটনা দীর্ঘ সময় চলতে থাকে। আইনজীবী জন বারিস বলেন, শুধু একজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগই নয়, পুরো তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার মতে, বিদ্যমান পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারত। তদন্তে জানা গেছে, সোফিয়া ড্রটস ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ ছিল। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে। এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর অভিযানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সহিংস বিক্ষোভে পুলিশের ওপর আগুন জ্বালানো বস্তু ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে তিন বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৪২ বছর বয়সী ইসমাইল ভেগা। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ৮ জুন ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সময় তিনি অন্যদের সঙ্গে মহাসড়কের ওপরের সেতুতে অবস্থান করেন। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) সদস্যরা নিচে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালানো কার্ডবোর্ড, শুকনো গাছপালা ও অন্যান্য জ্বলন্ত বস্তু নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিকে নিক্ষেপ করেন। আদালতে দাখিল করা স্বীকারোক্তিতে ভেগা বলেন, তিনি জানতেন যে সেতুর নিচে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন এবং আগুন জ্বালানো বস্তু নিক্ষেপ করলে তাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও তিনি অন্যদের সঙ্গে আগুন লাগানো বস্তু প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন এবং একটি জ্বলন্ত কার্ডবোর্ড সিএইচপির একটি গাড়ির দিকে ছুড়ে মারেন, যা গাড়িটির ওপর গিয়ে পড়ে। তদন্তে আরও উঠে আসে, বিক্ষোভ চলাকালে ভেগা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক পাথরও নিক্ষেপ করেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের কাজ ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই তিনি এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের এক সার্জেন্ট আদালতে লিখিত বিবৃতিতে জানান, ওই দিনের ঘটনা তার কর্মজীবনের অন্যতম সহিংস অভিজ্ঞতা ছিল এবং এর মানসিক প্রভাব তার পরিবারেও পড়েছে। এই মামলায় ভেগা পঞ্চম ব্যক্তি, যিনি সাজা পেলেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত ইয়াচুয়া মাউরিসিও ফ্লোরেসের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ আগস্ট। অন্যদিকে প্রধান আসামি অ্যাডাম চার্লস পালের্মোর সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা ১৪ ডিসেম্বর। তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সহযোগিতা করেছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ।
মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের নিচে তৈরি একটি অত্যাধুনিক গোপন সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত জেনারো লোপেজকে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। মেক্সিকো থেকে প্রত্যর্পণের পর সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর একটি আদালতে ৫৪ বছর বয়সী লোপেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, লোপেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের দুই পাশেই পরিচালিত একটি মাদক পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। প্রসিকিউটরদের আবেদনের পর আদালত তাকে জামিন না দিয়ে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তাকে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ আসামি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তদন্তের সূত্রপাত ২০২১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তার একটি সন্দেহভাজন আস্তানায় অভিযান চালানোর মাধ্যমে। সেখান থেকে বের হওয়া তিনটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ২৪১ কেজি কোকেন, আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন, একটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং প্রায় ৪০ হাজার ডলার জব্দ করা হয়। ওই সময় লোপেজ পালিয়ে যান এবং পরে মেক্সিকোতে আত্মগোপন করেন। তার চার সহযোগী গ্রেপ্তার হয়ে দোষ স্বীকারের পর সাজা পেয়েছেন। এর এক বছর পর, ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিটির আরেকটি সন্দেহভাজন আস্তানার ওপর নজরদারির সময় তদন্তকারীরা সীমান্ত অতিক্রমকারী একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পান। ওই অভিযানে চারটি গাড়ি আটক করে প্রায় ৮০০ কেজি কোকেন, ৭৪ দশমিক ৮ কেজি মেথামফেটামিন এবং ১ দশমিক ৬ কেজি ফেন্টানিল জব্দ করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, সুড়ঙ্গটি মেক্সিকোর তিজুয়ানা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওটে মেসা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রায় ১,৭৪৪ ফুট দীর্ঘ ও ৬১ ফুট গভীর এই সুড়ঙ্গে শক্তিশালী কংক্রিটের দেয়াল, রেলপথ, বিদ্যুৎ এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, যা মাদক পাচারের জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিত অবকাঠামোর ইঙ্গিত দেয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভিযানের পর লোপেজ মেক্সিকোতে পালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ ও যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৪ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।