সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

সিয়াটল বন্দুক হামলায় আহত নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, ৪০ মিনিট পড়ে ছিলেন রক্তাক্ত অবস্থায়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১:২৩
বন্দুক হামলায় আহত নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
বন্দুক হামলায় আহত নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় আহত একমাত্র নারী ভুক্তভোগী নিজের বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ একটি মুহূর্ত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিণত হয়েছিল ভয়াবহ আতঙ্কে।

 

কেআইআরও ৭-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই নারী জানান, তিনি খাবার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

 

তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি মাটিতে পড়ে যান। উদ্ধারকারী চিকিৎসাকর্মীরা তাকে খুঁজে পাওয়ার আগে প্রায় ৪০ মিনিট তিনি সেখানেই পড়ে ছিলেন।

 

হামলার সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, চারপাশে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছিল। কী ঘটছে তা বোঝার আগেই পুরো পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়ার পথে থাকলেও ওই ঘটনার মানসিক প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে জানান।

 

সিয়াটল বন্দুক হামলায় একাধিক মানুষ হতাহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলার কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এ ধরনের হামলা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফিলাডেলফিয়ায় গাড়ি চালু করতে সাহায্য করতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় গাড়ি বিকল ভেবে সাহায্য করতে গিয়ে বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার নারী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় বিপদে পড়া একটি গাড়িকে সাহায্য করতে গিয়ে বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কোর্টল্যান্ড ও ইলেভেনথ স্ট্রিটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তার পাশে থামানো একটি জিপ কম্পাস গাড়ির দুই আরোহী ওই নারীর কাছে গাড়ির ব্যাটারি চালু করতে সাহায্য চান। নারীটি সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের একজন বন্দুক বের করে তাঁর পার্স ছিনিয়ে নেন।   ফক্স ২৯ ফিলাডেলফিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি তাঁকে থামার সংকেত দেন। তাঁদের গাড়িটি নতুন মডেলের জিপ কম্পাস বলে বর্ণনা করা হয়েছে। গাড়ির ব্যাটারি চালু করতে অন্য গাড়ি থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য তাঁরা সাহায্য চান। নারীটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলে হঠাৎ একজন বন্দুক বের করেন এবং তাঁর পার্স নিয়ে নেন। এরপর দুই ব্যক্তি ইলেভেনথ স্ট্রিট ধরে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যান।   ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। তাঁদের একজনের পরনে ছিল কালো জ্যাকেট, অ্যাডিডাসের ট্রাউজার ও মুখে মাস্ক। অন্য ব্যক্তির চুল ছোট ড্রেডলক ধরনের এবং তাঁর পরনে ছিল গাঢ় রঙের পোশাক। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে সন্দেহভাজনদের পরিচয় কিংবা তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত পাওয়া যায়নি।   সূত্র: ফক্স ২৯ ফিলাডেলফিয়া, ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২২:৩
ফ্লোরিডার সেবাস্টিয়ান ইনলেট স্টেট পার্কে মাছ ধরার পিয়ারের গ্রিল ভেঙে সাগরে পড়ে যায় ১৬ বছরের এক কিশোর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় মাছ ধরার মাচার মেঝে ভেঙে সাগরে পড়ে গেল কিশোর, বন্ধুদের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে কি ফের আবাসন সংকটের শঙ্কা, এক বছরে বাড়ি বাজেয়াপ্তের হার বেড়েছে ৪২ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ

কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক
কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

কর্মক্ষেত্রে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় নিজের দুটি আঙুল হারিয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী ক্রিস পসন। যুক্তরাজ্যের এই তরুণ বাবার সফল ক্যারিয়ার মুহূর্তেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সহকর্মীর একটি ছোট্ট ভুলে। তবে চরম হতাশার মাঝেও হাল না ছেড়ে দীর্ঘ চার বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি তাঁর সাবেক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সাত অঙ্কের একটি বিপুল ক্ষতিপূরণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন।   এই অর্থের মাধ্যমে তিনি যেমন নিজের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, তেমনি আমেরিকা থেকে আনা অত্যাধুনিক বায়োনিক কৃত্রিম আঙুলের সাহায্যে জীবনটাকে নতুন করে সাজিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাশায়ারের থর্নটন-ক্লিভলিসের বাসিন্দা ক্রিস একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি (জয়নার) হিসেবে নামিদামি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। একদিন কর্মস্থলে একটি ভারী সার্কুলার করাত ঠিকমতো বসানো না থাকায় কাজ করার সময় কাঠের টুকরোর সঙ্গে তাঁর ডান হাতটিও স্পিনিং ব্লেডের নিচে চলে যায়।   এতে তাঁর মধ্যমা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অনামিকার বড় অংশ কাটা পড়ে। পাশাপাশি তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলির স্নায়ু, পেশি ও টেন্ডন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী ব্রায়োনি সন্তানসম্ভবা ছিলেন এবং কিছুদিন পরই তাঁদের নতুন শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু নবজাতককে কোলে নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতাও তখন ক্রিসের ছিল না। শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও পরিবার ও ক্যারিয়ার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলেছিল।   দুর্ঘটনার পর তাঁর প্রতিষ্ঠান মাত্র দুই মাসের বেতন দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। কর্মহীন ও আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন ক্রিস। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা তাঁকে মাত্র ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৭ ডলার দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্রিস 'এক্সপ্রেস সলিসিটরস'-এর আইনজীবীদের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যান।   দীর্ঘ চার বছর পর তিনি বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ে সক্ষম হন। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) সাধারণ প্রস্থেটিকস তাঁর কাজে না আসায়, ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে তিনি আমেরিকা থেকে বিশেষায়িত তিনটি কৃত্রিম আঙুল সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি চালানো বা টাইপ করার জন্য 'এমসিপি ড্রাইভার', ভারী কাজের জন্য 'গ্রিপ লক' এবং বাইরে যাওয়ার সময় ব্যবহারের জন্য অবিকল আসল আঙুলের মতো দেখতে সিলিকনের আঙুল।   নিজের পুরোনো পেশায় আর ফেরা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে ক্রিস নতুন এক অনুপ্রেরণাদায়ী পথ বেছে নেন। যে ব্ল্যাকপুল অ্যান্ড দ্য ফাইল্ড কলেজে তিনি একসময় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, সেখানেই এখন তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে কাজ শেখানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করছেন।   স্ত্রী ব্রায়োনি এবং দুই সন্তান অ্যালফি ও কুপারকে নিয়ে চরম অন্ধকার সময় পার করে আসা ক্রিসের আইনজীবী নিকোলা সিমন্স জানিয়েছেন, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি কখনোই কাম্য ছিল না। তবে এই ক্ষতিপূরণ ক্রিসের পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করেছে। তিনি কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সব প্রতিষ্ঠানকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৯:৩৩
নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ

যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম
যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এবার সংঘবদ্ধ অপরাধীদের নজর পড়েছে এর মূল্যবান সরঞ্জামের ওপর। অভিনব ডিজিটাল প্রতারণা ও হলিউড অ্যাকশন সিনেমার মতো দুঃসাহসিক কায়দায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করছে চোরেরা।   এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এআই সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া এসব মূল্যবান পণ্যের মধ্যে রয়েছে দামি সেমিকন্ডাক্টর চিপ, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, সার্ভার, তামার তার এবং বিটকয়েন মাইনিং মেশিন। এআই প্রযুক্তির পেছনে বিভিন্ন কোম্পানি যখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দ্রুত ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ করছে, ঠিক তখনই এমন চুরির হিড়িক পড়েছে।   কার্গো চুরি ঝুঁকি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের প্রধান কিথ লুইস এই পরিস্থিতিকে 'খাঁটি সোনার বার চুরির' সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ব্যাংক ডাকাতির চেয়ে এসব যন্ত্রাংশ চুরি করা অপরাধীদের কাছে এখন অনেক সহজ।   ২০২৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস এবং উটাহর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অন্তত দুই ডজন কার্গো চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। চুরির কৌশল হিসেবে অপরাধীরা ফ্রেইট ব্রোকারদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে এবং ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে বৈধ শিপিং কোম্পানিগুলোর সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে।   এরপর ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরিচয়ে নিজেদের লোকদের নিয়োগ দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে পণ্য গায়েব করে দিচ্ছে। নজরদারি এড়াতে জিপিএস লোকেশন বা ট্র্যাকিং স্থানাঙ্ক পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো অত্যাধুনিক সাইবার কৌশলও ব্যবহার করছে তারা। ইলিনয়েসের কুক কাউন্টিতে এভাবেই প্রায় তিন লাখ ডলারের তামার তার এবং ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে চুরির ধরন শুধু সাইবার জগতেই সীমাবদ্ধ নেই, পথে পাহারারত নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনাও ঘটছে।   জর্জিয়ার একটি বিশাল ডেটা সেন্টারের জন্য নিয়ে যাওয়া ১৩ মিলিয়ন (১ কোটি ৩০ লাখ) ডলারের সার্ভার সরঞ্জাম পাহারায় থাকা দুই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারে অপরাধীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সাবেক শেরিফ ডেপুটি ও বর্তমান প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর জেরার্ডো পাচুকা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না; বরং কার্গো ছিনতাইয়ের জন্যই পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসগামী প্রায় ১ কোটি ডলার মূল্যের সার্ভার র‍্যাক বহনকারী একটি কনভয়ের নিরাপত্তা গাড়িতেও ধাক্কা দিয়ে মালামাল লুট করা হয়।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুরি করা এসব বিশাল যন্ত্রাংশ পরবর্তীতে খুলে 'গ্রে মার্কেট' বা অবৈধ বাজারে সস্তায় বিভিন্ন টেক কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এসব মূল্যবান মার্কিন প্রযুক্তির একটি বড় অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে, বিশেষ করে চীনে। ক্রমবর্ধমান এই চুরি ঠেকাতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিশেষ টাস্কফোর্স নড়েচড়ে বসেছে এবং সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালকদের পটভূমি যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৭:৫৬
মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু

মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি

0 Comments