সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২০:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে কংগ্রেসে চলমান উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি নির্ভর করতে পারে নির্বাচনের ফলের ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন। নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেলে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো নিয়ে শুনানি, ভোটাভুটি এবং আইন প্রণয়নের গতি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বা সরকারি সংস্থাগুলোর বিধিমালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে না। সেগুলো পরিবর্তনের জন্য পৃথক প্রশাসনিক, আইনি বা আইন প্রণয়নসংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।

 

এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ির পাশাপাশি কংগ্রেসে একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান এবং সিনেটর জন হুস্টেডের উদ্যোগে আনা ‘প্রটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’-এর লক্ষ্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মজুরির শর্ত আরও কঠোর করা। প্রস্তাবটির পক্ষে থাকা আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা বেতনসীমার কারণে কিছু নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্ধারিত শর্ত এড়িয়ে যেতে পারছে।

 

বর্তমান নিয়মে এইচ-১বি নির্ভরশীল কিছু নিয়োগদাতাকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যোগ্য মার্কিন কর্মী খোঁজার বিষয়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে বছরে অন্তত ৬০ হাজার ডলার বেতন পাওয়া অথবা স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রিধারী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রয়েছে। ১৯৯৮ সালে নির্ধারিত এই বেতনসীমা মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করা উচিত বলে গ্রথম্যানের কার্যালয় জানিয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যয় ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।

 

এইচ-১বি ভিসা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছে রিপাবলিকানদের আরেকটি প্রস্তাব। মন্টানার সিনেটর টিম শিহি উত্থাপিত ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ নতুন এইচ-১বি ভিসা দেওয়া তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদন বা নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আইনে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও মজুরি সুরক্ষার যুক্তিতে প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইন নয়, তাই এটিকে কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

এদিকে ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি নিয়ে আইনি জটিলতাও রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এই ফি যুক্ত করেছিল। ২০২৬ সালের জুনে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয়। তবে আপিল চলমান থাকায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কংগ্রেস চাইলে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ ধরনের ফি বা বিধিনিষেধের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচনের পর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেও বিদ্যমান নির্বাহী সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আদালতের রায় এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।

 

কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে পিইআরএম বা স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়ায় বিধিনিষেধের খবর প্রকাশিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে সাধারণত প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অনেকে এই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ বাড়তে পারে। এতে কিছু প্রস্তাব আটকে যেতে পারে, সংশোধিত হতে পারে কিংবা সেগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে আইন পাসের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। সিনেটে অধিকাংশ বিলের ক্ষেত্রে বিতর্ক শেষ করে ভোটে যাওয়ার জন্য সাধারণত ৬০ ভোটের সমর্থন লাগে। দুই কক্ষে একই ভাষায় বিল পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, যদিও ভেটো অতিক্রমের সাংবিধানিক পথও রয়েছে।

 

সব মিলিয়ে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিয়ে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে এইচ-১বি ভিসা বা গ্রিন কার্ডের নিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে বদলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ভারতীয় পেশাজীবীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী অন্য দেশের কর্মীদেরও প্রস্তাবিত বিল, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সরকারি বিধিমালার পরবর্তী অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

 

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস, ইউএস গভর্নমেন্ট পাবলিশিং অফিস।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে কি ফের আবাসন সংকটের শঙ্কা, এক বছরে বাড়ি বাজেয়াপ্তের হার বেড়েছে ৪২ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া মালিকদের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশজুড়ে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি বাড়ি জব্দ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। তবে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধি দেখেই বড় ধরনের আবাসন সংকটের আশঙ্কা করা ঠিক হবে না। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বাড়ি জব্দের হার ঐতিহাসিকভাবে কম ছিল। নতুন পরিসংখ্যান সেই নিম্ন অবস্থান থেকে পুনরুদ্ধারের প্রবণতাও তুলে ধরছে।   সম্পত্তি ও আবাসনবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের (ATTOM) আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৪০ হাজার ২৭৭টি সম্পত্তির বিরুদ্ধে বাড়ি জব্দের প্রক্রিয়াসংক্রান্ত নথি জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঋণখেলাপির নোটিশ, নিলামের নির্ধারিত তারিখ এবং ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনাও রয়েছে। সংখ্যাটি আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তবে বাড়ি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া, নিলামের পর্যায়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের দখলে চলে যাওয়ার ঘটনা এক নয়। তাই সব পরিসংখ্যানকে একই অর্থে দেখার সুযোগ নেই।   অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। আগস্টে দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় বাড়ি জব্দের হার ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেখানে প্রতি ১ হাজার ৫৪৭টি আবাসিক ইউনিটের মধ্যে একটির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর ছিল নেভাদা, ফ্লোরিডা, টেক্সাস ও মেরিল্যান্ড। বড় শহরগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কলাম্বিয়া, ফ্লোরিডার পুন্টা গর্দা এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনার স্পার্টানবার্গে তুলনামূলক বেশি কার্যক্রম দেখা গেছে।   মোট কতটি বাড়ি ঋণদাতাদের দখলে গেছে, সেই হিসাবে টেক্সাস সবার ওপরে রয়েছে। আগস্টে অঙ্গরাজ্যটিতে ১ হাজার ৮৩৫টি সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৮৯টি, নর্থ ক্যারোলাইনায় ৩৫৬টি, অ্যারিজোনায় ২৯৬টি এবং আলাবামায় ২৮৬টি সম্পত্তি জব্দ হয়েছে। বড় মহানগরগুলোর মধ্যে টেক্সাসের হিউস্টনে ৪৪৮টি, ডালাসে ৪০২টি এবং সান আন্তোনিওতে ২৫৬টি বাড়ি ঋণদাতাদের দখলে যায়। অ্যারিজোনার ফিনিক্সে এ সংখ্যা ছিল ১৮৬টি।   বাড়ির ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ার আরও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষে এক থেকে চার ইউনিটের আবাসিক সম্পত্তির মোট বন্ধকি ঋণের ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ খেলাপি ছিল। অর্থাৎ, এসব ঋণের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হয়নি। একই সময়ে জব্দের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ঋণের হার ছিল ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বেড়েছে, যদিও প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় সামগ্রিক খেলাপির হার সামান্য কমেছিল।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান রেটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বেন কোহেন বলেছেন, বর্তমানে ঋণ দেওয়ার নিয়ম আগের তুলনায় অনেক কঠোর। পাশাপাশি বহু বাড়ির মালিকের সম্পত্তির বাজারমূল্য ও বকেয়া ঋণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে, যা আর্থিক চাপে পড়লে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। তবে এই সুবিধা সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক এক বা দুই বছরে বাড়ি কিনেছেন কিংবা বাজারের সর্বোচ্চ দামের সময়ে সম্পত্তি কিনেছেন, এমন মালিকদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।   বাড়ির মালিকদের ব্যয়ের চাপও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। বাড়ির বিমার খরচ, সম্পত্তিকর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করছে। যাঁরা অল্প সময় আগে বাড়ি কিনেছেন, তাঁদের সম্পত্তিতে পর্যাপ্ত মূল্যবৃদ্ধি বা নিজস্ব মালিকানার অংশ তৈরি করার সুযোগও কম ছিল। ফলে আয় কমে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সংকট দেখা দিলে তাঁদের পক্ষে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   যাঁরা আগামী মাসের বন্ধকি ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, তাঁদের আগেভাগে ঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন কোহেন। কিস্তি বকেয়া হওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য সমাধান, পরিশোধের বিকল্প ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি জব্দের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি নজরে রাখার মতো হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো ২০০৮ সালের আবাসন ও আর্থিক সংকটের সময়কার অবস্থার থেকে আলাদা।   সূত্র: এবিসি১৫ অ্যারিজোনা, অ্যাটমের আগস্ট ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি জব্দবিষয়ক প্রতিবেদন, মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২১:৪
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ

কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত
ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

সিরিয়ায় অবস্থানকালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ফেডারেল জুরি। ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা চাঞ্চল্যকর এক বিচার প্রক্রিয়ার পর ২৭ বছর বয়সী হালিমা সালমান নামের ওই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।   যদিও আদালতের শুনানিতে তিনি দাবি করেছিলেন, কিশোরী বয়সে তাকে জোরপূর্বক এক আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রায় ঘোষণার পরপরই হালকা বেগুনি রঙের হিজাব ও গোলাপি হুডি পরিহিত হালিমা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সামনের সারিতে বসা তার মা ব্র্যান্ডি সালমানকেও এক স্বজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়।   আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে হালিমা বিভীষিকাময় বন্দিজীবনের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, তার বয়স যখন ১৭ বছর, তখন তার বাবা পুরো পরিবারকে সিরিয়ায় আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যান। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পরপরই ৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত এক আইএস যোদ্ধার কাছে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়।   তবে সরকারি কৌঁসুলিরা আদালতে এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, হালিমা আইএসের একজন স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণকারী এবং অনুগত স্ত্রী ছিলেন। মূলত তিনি আইএসের সম্পূর্ণ নারী সদস্য নিয়ে গঠিত ব্রিগেড 'নুসায়বা খাতিবা'-এর হয়ে একে-৪৭ রাইফেল চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন।   বর্তমানে হালিমা ৫ লাখ ডলারের মুচলেকায় জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, যদিও এক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক ন্যূনতম সাজার বিধান নেই।   তবে সাজা ঘোষণার আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রমাণের অভাবের কথা উল্লেখ করে রায় বাতিল ও তাকে খালাস দেওয়ার যে আবেদন করেছেন, তা পর্যালোচনা করবেন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক নাতাশা মেরেল। সাধারণত এমন ক্ষেত্রে জুরির দেওয়া রায় বিচারকরা খুব একটা পরিবর্তন করেন না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৮:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ

যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম

যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম

মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু

মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো আই-১৩০ পিটিশন জমা দেওয়া। তবে কার জন্য আবেদন করা যাবে, কত দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা নির্ভর করে স্পনসরের অভিবাসন-অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকেরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট শর্তে ভাই-বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করতে পারেন। বাবা-মা ও ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে হলে স্পনসরের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে।   অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে গ্রিন কার্ডধারীরা সরাসরি বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা বিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য এই পিটিশন করতে পারেন না।   আই-১৩০ পিটিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যের মধ্যে আইনসম্মত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য বিয়ের সনদ, জন্মসনদ, পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ প্রযোজ্য নথিপত্র জমা দিতে হয়। আবেদনকারীকে প্রতিটি যোগ্য আত্মীয়ের জন্য আলাদা পিটিশন করতে হয়। তবে পিটিশন অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে যাবেন।   পরবর্তী ধাপ নির্ভর করে পরিবারের সদস্য কোন ভিসা শ্রেণির আওতায় পড়ছেন তার ওপর। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ শ্রেণিতে বছরে ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই। তবে অন্যান্য পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত থাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।   বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে আই-১৩০ অনুমোদনের পর সাধারণত জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের মাধ্যমে ভিসার আবেদন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য যাচাই সম্পন্ন করে নির্ধারিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থানরত কিছু আবেদনকারী আইনগত যোগ্যতা পূরণ করলে সেখান থেকেই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন।   পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পনসরকে আই-৮৬৪ ফর্মের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার হলফনামা জমা দিতে হয়। এতে পরিবারের সদস্যের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয় এবং আয় ও করসংক্রান্ত নথি দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে যৌথ স্পনসরের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।   এ ছাড়া অভিবাসন ভিসা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সম্পদ, আয়, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। এ ধরনের মূল্যায়নকে পাবলিক চার্জ বলা হয়। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পাবলিক চার্জ বন্ড চাওয়ার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে এ ব্যবস্থা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যাঁদের ক্ষেত্রে বন্ডের প্রয়োজন হবে, তাঁদের কনস্যুলার কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানাবেন।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিছু অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এ পরিবর্তন নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য। এটি পারিবারিক অভিবাসনের আই-১৩০ পিটিশনের জন্য নতুন কোনো সাধারণ শর্ত নয়। তাই বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির নিয়ম ও শর্ত আলাদাভাবে বুঝে আবেদন করা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আর্থিক শর্ত এবং সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। পিটিশন অনুমোদনের পর ভিসা পাওয়ার সময় নির্ভর করতে পারে ভিসা শ্রেণি, অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিনের ওপর। অভিবাসন আইন ও নির্দেশনা পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদনকারীদের সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৭:১০
যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি

নিউইয়র্কে অবৈধ চেক ক্যাশিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী, জব্দ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

নিউইয়র্কে অবৈধ চেক ক্যাশিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী, জব্দ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

ফ্লোরিডায় ৩ বছরের শিশুর গোলের পর গোল, প্রতিভা সহ্য করতে না পেরে পুলিশ ডাকলেন লিগ কর্মকর্তারা

ফ্লোরিডায় ৩ বছরের শিশুর গোলের পর গোল, প্রতিভা সহ্য করতে না পেরে পুলিশ ডাকলেন লিগ কর্মকর্তারা

0 Comments