আমেরিকা

ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে, দাবি ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২:১১
ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে, দাবি ট্রাম্পের
ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে, দাবি ট্রাম্পের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন সামরিক ও কূটনৈতিক দুই পথই খোলা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে চাপ বজায় রাখা হবে।

 

এর আগে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কয়েক দফা হামলা ও পাল্টা হুমকির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালায়।

 

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত হলে তা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বিবেচনা করছে।

 

ইরানও জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রেমিকাকে বাঁচাতে হাঙরের সাথে যুদ্ধ করল জর্জিয়ার যুবক
প্রেমিকাকে বাঁচাতে হাঙরের সাথে যুদ্ধ করল জর্জিয়ার যুবক, দেখালেন সাহসিকতা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এক ব্যক্তি সমুদ্রে হাঙরের আক্রমণ থেকে তার গর্ভবতী বাগদত্তাকে রক্ষা করে আলোচনায় এসেছেন। ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সঙ্গিনীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন।   ফক্স ১৩ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে একটি সমুদ্রসৈকতে। ওই নারী পানিতে থাকার সময় হঠাৎ একটি হাঙরের আক্রমণের শিকার হন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তার বাগদত্তা দ্রুত এগিয়ে যান এবং তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আক্রমণের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ওই ব্যক্তি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে গর্ভবতী সঙ্গিনীকে রক্ষা করতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।   উদ্ধারের পর আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। মা ও অনাগত শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন থাকলেও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।   হাঙরের আক্রমণ সমুদ্র এলাকায় বিরল হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা সমুদ্রে নামার আগে স্থানীয় সতর্কবার্তা মেনে চলা, নির্দিষ্ট এলাকায় সাঁতার কাটা এবং আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।   ঘটনার পর ওই ব্যক্তির সাহসিকতার প্রশংসা করছেন অনেকেই। কঠিন মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি যেভাবে তার সঙ্গিনীকে রক্ষা করেছেন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২:৫৩
ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে, দাবি ট্রাম্পের

ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে, দাবি ট্রাম্পের

বন্দুক হামলায় আহত নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

সিয়াটল বন্দুক হামলায় আহত নারী জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, ৪০ মিনিট পড়ে ছিলেন রক্তাক্ত অবস্থায়

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে শেষ আইনি সুযোগ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে শেষ আইনি সুযোগ

মেগা মিলিয়নসের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট!
মেগা মিলিয়নসের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট! জিতল কে?

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় লটারি মেগা মিলিয়নসের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জ্যাকপটের বিজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের ড্রয়ের পর একজন ভাগ্যবান খেলোয়াড় এই বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলে জানিয়েছে লটারি কর্তৃপক্ষ।   মেগা মিলিয়নসের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় জ্যাকপট। দীর্ঘদিন ধরে কোনো বিজয়ী না পাওয়ায় পুরস্কারের অর্থ ক্রমেই বেড়ে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত একজন টিকিটধারী সেই কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার জিতে নেন।   লটারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিজয়ী টিকিটটি কোন অঙ্গরাজ্যে বিক্রি হয়েছে এবং বিজয়ীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে লটারির নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীর নাম প্রকাশের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা আইন রয়েছে।   জ্যাকপট বিজয়ী চাইলে পুরো অর্থ একবারে নিতে পারেন অথবা নির্দিষ্ট সময় ধরে কিস্তিতে নেওয়ার সুযোগ পান। সাধারণত বড় অঙ্কের লটারির ক্ষেত্রে এককালীন অর্থের পরিমাণ ঘোষিত জ্যাকপটের চেয়ে কম হয়, কারণ কর ও অন্যান্য নিয়ম প্রযোজ্য হয়।   মেগা মিলিয়নস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় লটারি, যেখানে লাখ লাখ মানুষ নিয়মিত অংশ নেন। কয়েকটি নির্দিষ্ট সংখ্যার সঠিক মিলের মাধ্যমে বড় পুরস্কার জেতার সুযোগ তৈরি হয়।   এর আগে বহুবার মেগা মিলিয়নসের জ্যাকপট কয়েকশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের লটারি ইতিহাসে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের মতো বড় পুরস্কার জয় সবসময়ই বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১:১৪
ভুল করে মূত্রথলি অপসারণ করে চিকিৎসক! বিশাল ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রে, ভুল করে মূত্রথলি অপসারণ করে চিকিৎসক! বিশাল ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন নারী

বিয়ের আগের দিন গির্জায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার হলেন কনে

বিয়ের আগের দিন গির্জায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার হলেন কনে

স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনায় ১৪ বছরের কিশোরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড!

স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনায় ১৪ বছরের কিশোরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড!

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্মাডিলোর সংস্পর্শে আসা মাটির মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাড়ছে প্রাচীন কুষ্ঠ রোগের সংক্রমণ, নেপথ্যে 'আর্মাডিলো' প্রাণী নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

ফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্ঠরোগ বা হ্যানসেনস ডিজিজের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের ধারণা, দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে দেখা যায় এমন নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো নামের একটি বন্য প্রাণী এ রোগের জীবাণু বহন করে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলছেন, কুষ্ঠরোগ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল, সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না এবং আধুনিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।   ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ছিল ৮টি, ২০২৩ সালে ২৩টি, ২০২৪ সালে ২০টি এবং ২০২৫ সালে ২৬টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য ফ্লোরিডা বর্তমানে সংক্রমণের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   কুষ্ঠরোগের জন্য দায়ী মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামের ব্যাকটেরিয়া খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। ফলে সংক্রমণের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক মাস থেকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ রোগ মূলত ত্বক, স্নায়ু, চোখ এবং নাকের ভেতরের আবরণকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না করালে ত্বকে দাগ, অসাড়তা, হাত-পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবে এ রোগ খুব সহজে ছড়ায় না। দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যের জন্য আর সংক্রামক থাকেন না।   ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুয়ান ম্যানুয়েল কাম্পোস ক্রাউয়ারের মতে, উত্তর আমেরিকার নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো প্রাকৃতিকভাবে কুষ্ঠরোগের জীবাণু বহন করতে পারে। প্রাণীগুলো মাটির নিচে পোকামাকড় ও শামুক খুঁজে খাবার সংগ্রহ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আর্মাডিলোর বসবাস ও চলাচলের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মাটিতে জীবাণু থাকতে পারে। পরে সেই মাটিতে বাগান করা বা বাড়ির আশপাশে কাজ করার সময় মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বহু বছর ধরেই আর্মাডিলোর বসবাস থাকলেও ধীরে ধীরে এদের বিস্তৃতি উত্তরাঞ্চলের দিকেও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ প্রায় ২৫০টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়। অধিকাংশ রোগী এমন দেশ থেকে সংক্রমিত হন, যেখানে এ রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যেমন ব্রাজিল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া।   তবে বিশেষজ্ঞরা আর্মাডিলো স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বাগান করা বা মাটি খোঁড়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া সড়কে আর্মাডিলো চাপা পড়লে গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করারও পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন গবেষক।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লোরিডায় কুষ্ঠরোগের ঘটনা কিছুটা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ২৩:৫৬
লেক তাহো অঞ্চলে খাবারের সন্ধানে বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে কালো ভালুক। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের লেক তাহোতে খাবারের খোঁজে ঘরে ঢুকছে কালো ভালুক, ঘরবাড়ি সুরক্ষায় লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন বাসিন্দারা

৯ বছর বয়সী তাশশাভিয়ন স্টিনসন

ডে-কেয়ারে শিশুকে শারীরিক নির্যাতন ও আটকে রেখে মদ কিনতে যাওয়ার অভিযোগে মামলা

সেন্ট্রাল পার্কে কনিষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি হন আইনজীবী নাথানিয়েল কুলারটন। ছবি: সংগৃহীত

সেন্ট্রাল পার্কে কনিষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, বরখাস্তের মুখে নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী আইনজীবী

0 Comments