সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বিশ্বের কোটি নবজাতকের জীবন রক্ষায় বাংলাদেশি-মার্কিন গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ বাকী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৭:৩৯
অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জনস্বাস্থ্য গবেষক
অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জনস্বাস্থ্য গবেষক

বিশ্বজুড়ে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদান রেখে বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত বাংলাদেশি জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী। তার দীর্ঘ গবেষণা-জীবন, বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশে শুরু হওয়া একটি গবেষণা উদ্যোগের বৈশ্বিক প্রভাবকে নতুন করে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ। গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের ‘আইএইচ লিগ্যাসি সিরিজ’-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশের সিলেটে শুরু হওয়া ‘প্রজাহ্নমো’ উদ্যোগ বিশ্বের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

 

জনস হপকিন্সের ওই বিশেষ প্রকাশনায় অধ্যাপক বাকীর কাজকে শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশে গড়ে ওঠা একটি গবেষণা উদ্যোগ কীভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে, তার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির মতে, প্রজাহ্নমোর যাত্রা প্রমাণ করে যে উন্নয়নশীল দেশ থেকেও বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব।

 

অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকী বর্তমানে জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ম্যাটার্নাল অ্যান্ড নিউবর্ন হেলথের পরিচালক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি জনস হপকিন্স থেকেই এমপিএইচ এবং ডক্টর অব পাবলিক হেলথ (ডিআরপিএইচ) ডিগ্রি অর্জন করেন। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মাতৃ, নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং এ ক্ষেত্রের বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

 

তার গবেষণা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ২০০১ সালে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইসিডিডিআর,বি এবং দেশি-বিদেশি গবেষকদের সহযোগিতায় সিলেটে যাত্রা শুরু করে ‘প্রজাহ্নমো’ গবেষণা উদ্যোগ। ছোট একটি গবেষণা প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশি নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রজাহ্নমো রিসার্চ ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন জেলায় গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

প্রজাহ্নমোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় প্রমাণিত হয়, প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নবজাতকের পরিচর্যা নিশ্চিত করলে জন্মের প্রথম মাসে মৃত্যুহার প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। গবেষণাটি ২০০৮ সালে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নবজাতক স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ প্রণয়নে এই গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

অধ্যাপক বাকী ও তার সহকর্মীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা যায়, নবজাতকের নাভিতে ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহার করলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হলে গুরুতর অসুস্থ নবজাতকের জন্য সহজীকৃত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও কার্যকর হতে পারে বলে তার গবেষণায় উঠে আসে। এসব গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার নির্দেশিকা হালনাগাদ করে।

 

গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে দক্ষ জনস্বাস্থ্য গবেষক তৈরি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক বাকী। তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রজাহ্নমো রিসার্চ ফাউন্ডেশন বর্তমানে বাংলাদেশি নেতৃত্বে পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এখনও প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

 

অধ্যাপক বাকীর প্রকাশিত পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের সংখ্যা প্রায় ৩০০। তার গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৭ সালে আমেরিকান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের মর্যাদাপূর্ণ ‘কার্ল ই. টেলর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি আরও বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

 

গত ২৩ জুন প্রকাশিত জনস হপকিন্সের ‘আইএইচ লিগ্যাসি সিরিজ’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে শুরু হওয়া একটি ছোট গবেষণা উদ্যোগ আজ এমন এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যার গবেষণা বিশ্বের কোটি কোটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে, উন্নয়নশীল দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরাও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিতে নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং টেকসই পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

 

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার ইতিহাসে অধ্যাপক আবদুল্লাহ এইচ বাকীর অবদান শুধু একজন সফল গবেষকের ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা পাওয়ারও এক অনন্য অধ্যায়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে বসে থাকা তরুণ ও তরুণী ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সাবওয়ে ট্র্যাকে বসে ছিলেন তরুণ-তরুণী, ট্রেনের ধাক্কায় নিহত

নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে বসে থাকা ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ ও এক তরুণী ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশনের কাছে দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেন তাদের আঘাত করে। ঘটনাটির আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দুজনকে রেললাইনের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, কেন তারা ট্র্যাকে ছিলেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটের কিছু আগে। নিহত তরুণের বাড়ি নিউ জার্সির সেরভিলে এবং তরুণীর বাড়ি নিউইয়র্কের ডেটনে বলে জানা গেছে। তবে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রেনটি তাদের আঘাত করার পর দুজনকেই ঘটনাস্থলে মৃত ঘোষণা করা হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজনকে সাবওয়ে ট্র্যাকের ওপর পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। সামনে দিয়ে ট্রেন এগিয়ে আসার সময়ও তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান করছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে তাদের কেউ ধাক্কা দিয়ে ট্র্যাকে ফেলে দিয়েছিল বা তারা দুর্ঘটনাবশত সেখানে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।   তদন্তকারীরা দুজনের ট্র্যাকে যাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল, সেটি খতিয়ে দেখছেন। তারা ঘটনার আগে দুজন অ্যালকোহল পান করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক কারণ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তাদের উদ্দেশ্য বা মানসিক অবস্থা নিয়ে কোনো অনুমান করা হচ্ছে না।   ঘটনার পর স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশন এলাকায় পুলিশ ও তদন্তকারীরা কাজ করেন। দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকায় সাবওয়ে চলাচলেও প্রভাব পড়ে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সামান্য সময়ের মধ্যেই চলন্ত ট্রেনের সামনে থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। চলতি মাসের শুরুতেও ১৬১ স্ট্রিট-ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম স্টেশনের কাছে কাজ করার সময় এমটিএর এক কর্মী ডি ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন।   ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে মানুষের পড়ে যাওয়া বা ঠেলে ফেলার ঘটনাও অতীতে গুরুতর পরিণতি ডেকে এনেছে। জুলাইয়ে ওয়েস্ট ফোর্থ স্ট্রিট-ওয়াশিংটন স্কয়ার স্টেশনে এক যাত্রীকে ট্র্যাকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পরে কারাদণ্ড পান। এসব ঘটনা সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তবে বর্তমান ঘটনায় কোনো অপরাধের অভিযোগ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাদের ট্র্যাকে যাওয়ার কারণ, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং ভিডিওতে ধারণ করা পরিস্থিতির সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার সম্পর্ক কী, সেসব বিষয় তদন্ত শেষে আরও পরিষ্কার হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১০:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধারাবাহিক পতন দেখা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষিত আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নির্বাচনের আগে বিপাকে রিপাবলিকানরা

মেডিকেয়ার জালিয়াতির মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক চিকিৎসককে সাড়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

৬.৯ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে মার্কিন চিকিৎসকের সাড়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড

ক্যালিফোর্নিয়ায় হঠাৎ কোনো জরুরি বা জীবন-হুমকির পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে দ্রুত কল করতে বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ আপডেট: ক্যালিফোর্নিয়ার সব হাসপাতালের লিস্ট ও জরুরি নম্বরসমূহ জেনে নিন

মিয়ামিগামী ফ্লাইটে অ শা লীন আচরণের অ ভি যোগ
মাঝ আকাশে পোশাক খুলে অ শা লীন আচরণের অ ভি যোগ, মিয়ামিতে আ টক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড থেকে ফ্লোরিডাগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক নারী পোশাক খুলে অ শা লীন আচরণ করেছেন বলে অ ভি যোগ উঠেছে। ফ্লাইটটি মিয়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই নারীকে হে ফা জতে নেয়। ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ। বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন ইন্টারন্যাশনাল থারগুড মার্শাল এয়ারপোর্ট থেকে মিয়ামির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিমানটি ছিল এয়ারবাস এ৩১৯। আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা সামনের দিকে ৯ নম্বর সারিতে বসা এক নারী যাত্রীর আচরণ নিয়ে ককপিটকে অবহিত করেন। বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার এসিএআরএস রেকর্ডে কেবিন ক্রুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই নারী তার পোশাক খুলে ফেলেছিলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অ শা লীন আচরণ করছিলেন। পরে বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টারকে জানানো হয়। একই সঙ্গে বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। ঘটনার পর ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টেই বিমানটি অবতরণ করে। পরে টার্মিনালের গেটে অপেক্ষায় থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা ওই নারীকে হে ফা জতে নেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অ ভি যোগ আনা হয়েছে কিংবা পরে কোনো ফৌজদারি মা মলা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস, আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও মিয়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে অতিরিক্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। বিমানে এ ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণ অন্য যাত্রীদের স্বস্তি এবং কেবিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে কেবিন ক্রুরা প্রথমে যাত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এয়ারলাইন্সের অপারেশনস সেন্টার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে কাউকে আ টক বা হে ফা জতে নেওয়া হয়েছে বলেই তার বিরুদ্ধে অ প রাধ প্রমাণিত হয় না। তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা এবং ওই নারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৮:৪৩
সন্তান পালনে খরচ বাড়ছে, এক অভিভাবকের বাড়িতে থাকা নিয়ে নতুন গবেষণা

সন্তান পালনে এক অভিভাবক ঘরে থাকলে যেসব রাজ্যে খরচ কম

ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, আমেরিকান পণ্য ও ভ্রমণ বর্জনের পথে

ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের ঋণ ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে, বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের নির্ভরতা

খরচ বাড়ছে, সঞ্চয় ফুরোচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারগুলোর ঋণ এখন ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ৪০১(কে) সঞ্চয়ে নতুন রেকর্ড
৪০১(কে)-তে আমেরিকানদের গড় সঞ্চয় বেড়ে রেকর্ড, এক বছরে বাড়ল ১৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে অবসরের জন্য সঞ্চয়ের জনপ্রিয় মাধ্যম ৪০১(কে) অ্যাকাউন্টে আমেরিকানদের গড় ব্যালান্স নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গড় ৪০১(কে) ব্যালান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ ডলারে। ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসের নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘কিউ২ ২০২৬ বিল্ডিং ফাইন্যান্সিয়াল ফিউচারস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে গড় ৪০১(কে) ব্যালান্স বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সামান্য কমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪০১(কে) ও ৪০৩(বি) অ্যাকাউন্টের গড় ব্যালান্স আবার রেকর্ড পর্যায়ে উঠে এসেছে। ‘দ্য রামসে শো’-এর সহ-উপস্থাপক জেড ওয়ারশর মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্স, তরুণ কর্মীদের বিনিয়োগে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আগ্রহ। তিনি বলেন, বিশেষ করে জেন জেড প্রজন্মের মধ্যে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও অনেক মানুষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করছে। ওয়ারশ বলেন, বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের ক্ষেত্রে সঞ্চয় বাড়ানোর কারণ ভিন্ন হতে পারে। তবে বর্তমানে অনেকের মধ্যেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারাও অনেকের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বাজার পরিস্থিতিও কর্মীদের বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করেন ওয়ারশ। তাঁর মতে, অনেক মানুষ বাজারের এই প্রবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে অবসরের জন্য বিনিয়োগের আগে একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তি তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রামসে সলিউশনের ‘৭ বেবি স্টেপস’ অনুসরণ করে প্রথমে ১ হাজার ডলারের জরুরি তহবিল গড়া, এরপর ভোক্তা ঋণ পরিশোধ এবং তিন থেকে ছয় মাসের জীবনযাপনের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের পর অবসর তহবিলে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রেকর্ড ব্যালান্সে পৌঁছানো ৪০১(কে) অ্যাকাউন্টধারীদের সবচেয়ে বড় ভুল কী হতে পারে—এমন প্রশ্নে ওয়ারশ বলেন, বাজারকে নিজের চেয়ে বেশি বোঝার চেষ্টা করাই বড় ভুল। তাঁর পরামর্শ, বাজারের ওঠানামা দেখে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া। তিনি বেতন থেকে নিয়মিত অর্থ কেটে নিয়ে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যা ‘ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং’ নামে পরিচিত। তাঁর মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদে অপেক্ষা করাই সম্পদ গড়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৭:৬
ডেভিড জে. রাশের বাড়িতে মিলেছিল ৩০০ সোনার বার, ২০ লাখ ডলার ও বিলাসবহুল ঘড়ি

৪ কোটি ডলারের সোনা লুকিয়ে রাখার পর যা ঘটল সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সঙ্গে!

এপস্টিন-ট্রল নিয়ে কাশ প্যাটেলের বার্তালাপ ফাঁস

এপস্টিন-সম্পর্কিত ট্রল অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল

নিউইয়র্কে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নিয়োগ

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! নিউইয়র্কে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নিয়োগ

0 Comments