যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সাংবাদিকের ফোন জব্দ, ভ্রমণকারীদের অধিকার নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে ইরান সফর শেষে ফেরার পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুমেনথালের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তার ফোন দুটি জব্দ করে এক সপ্তাহ নিজেদের হেফাজতে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফোন ফেরত দেওয়া হলেও, ওই সময়ে ফোনগুলোর সঙ্গে ঠিক কী করা হয়েছিল, তা জানতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সাংবাদিকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী সংস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি (এডিসি) জানিয়েছে, ফোনগুলো জব্দ ও সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিবিপির কাছ থেকে ফরেনসিক তথ্য এবং হেফাজতের নথি (চেইন অব কাস্টডি রেকর্ড) আদালতের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে তারা আবেদন করেছে। সংস্থাটির দাবি, কেবল ফোন ফেরত দিলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। ফোনগুলো সরকারি হেফাজতে থাকার সময় কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ব্লুমেনথাল ইরান সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি জানান, সিবিপি কর্মকর্তারা তার দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেন। তবে তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা জব্দ করা হয়নি।
ব্লুমেনথালের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি একজন সাংবাদিক এবং ইরানে শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার ফোনের পাসকোড দিলে গোপন সূত্র, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপরও কর্মকর্তারা তাকে জানান, প্রয়োজনে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমেনথাল বলেন, “আমি সেখানে শুধু সাংবাদিকতার কাজ করেছি। আমি যা করছিলাম, তা পুরোপুরি সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ ছিল।”
এদিকে, এডিসি আদালতে জরুরি আবেদন করার এক দিন পর, গত ১৭ জুলাই সরকার ব্লুমেনথালের ফোন দুটি ফেরত দেয়। আবেদনপত্রে বলা হয়েছিল, ফোন জব্দ ও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও চতুর্থ সংশোধনী এবং প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এর পরিপন্থী।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফোন দুটি থেকে কোনো তথ্য নেওয়া বা পরীক্ষা করা হয়নি, তবুও এডিসি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।
সংস্থাটির সভাপতি ও আইনি পরিচালক জেনিন ইউনেস বলেন, “শুধু ফোন ফেরত দিয়ে সরকার এই গুরুতর সাংবিধানিক অভিযোগের জবাব এড়িয়ে যেতে পারে না। যদি ফোনের তথ্যে প্রবেশই না করা হয়ে থাকে, তাহলে এক সপ্তাহ ধরে ফোন দুটি নিজেদের কাছে রাখার কারণ কী ছিল, সেটিরও ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
এডিসির মতে, ফোন দুটি জব্দ করার ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্লুমেনথালের সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে শুধুমাত্র ফোন জব্দ করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কর্মকর্তাদের আগ্রহ ছিল তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সংবাদসূত্র এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্যের দিকে।
এই মামলার শুনানিতে এডিসি আদালতের কাছে সরকারের আবেদন খারিজ করে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক রেকর্ড ও হেফাজতের নথি প্রকাশেরও দাবি করেছে।
সংস্থাটি বলছে, এই মামলার গুরুত্ব শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি সীমা থাকবে এবং গোপন সংবাদসূত্র কতটা সুরক্ষা পাবে, সেই প্রশ্নেও এই মামলার রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
এডিসি আরও উল্লেখ করেছে, ব্লুমেনথাল একা ইরান সফর করেননি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মার্কিন সাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু তাদের পরিবর্তে শুধুমাত্র তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ ও ফোন জব্দের মুখে পড়তে হয়।
ব্লুমেনথাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, তার সাংবাদিকতার ধরন এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এডিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক লরা লুমার এক্সে ব্লুমেনথালকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান এবং ইরান সফরের অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। পরে বিমানবন্দরে সিবিপির জিজ্ঞাসাবাদেও একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এডিসির আইনজীবীদের মতে, যদি রাজনৈতিক চাপের পর কোনো সাংবাদিকের ডিভাইস জব্দ করে এক সপ্তাহ আটকে রাখা হয় এবং পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ফেরত দিয়ে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ভার্জিনিয়ার ফেডারেল জেলা আদালতে চলমান এই মামলার ফলাফল শুধু ম্যাক্স ব্লুমেনথালের ফোন জব্দের ঘটনার ব্যাখ্যাই নয়, ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দের ক্ষেত্রে আইনি সীমারেখা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান আল-হুসাইনি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অকাল প্রয়াণে বুয়েট, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক), এনভিডিয়া এবং দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি ও গবেষণা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা থাকলেও কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ড. ইরফান আল-হুসাইনি বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একজন কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতক শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে জর্জিয়া টেক থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণাজীবনে তিনি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাখ্যাযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (ইন্টারপ্রেটেবল মেশিন লার্নিং), বায়োমেডিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ, ডকুমেন্ট ফিল্টারিং, স্বয়ংক্রিয় সারসংক্ষেপ তৈরি, নেমড-এনটিটি শনাক্তকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ডোমেইন জ্ঞানের ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর গবেষণাপত্র নিউরআইপিএস, সিগির, সিআইকেএম, আইক্যাসপ, বায়োএনএলপি ও এমএলএইচসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ড. ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন বুয়েটের বিশিষ্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তাহমিদ আল-হুসাইনির ছেলে। একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণায় সাফল্য এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি শিক্ষক, সহপাঠী ও সহকর্মীদের কাছে সমানভাবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন। ২০২৪ সালে জর্জিয়া টেক ড. ইরফান আল-হুসাইনি এবং তাঁর স্ত্রী ড. ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে তাঁদের একাডেমিক যাত্রা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একই সঙ্গে পিএইচডি সম্পন্ন করার অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প তুলে ধরা হয়। যদিও দুজনই বুয়েটে একই সময়ে পড়াশোনা করেছিলেন, তাঁদের পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া টেকে। পরে ২০২২ সালে আটলান্টায় তাঁদের বিয়ে হয় এবং ২০২৪ সালে তাঁরা একসঙ্গে পিএইচডি সমাবর্তনে অংশ নেন। ড. ইরফানের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর সহপাঠী, বন্ধু, শিক্ষক ও সহকর্মীরা। বুয়েটের এক সহপাঠী তাঁকে স্মরণ করে লিখেছেন, ইরফান ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র, ধর্মপ্রাণ এবং অসাধারণ মেধাবী একজন মানুষ। বুয়েটে পড়ার সময় তিনি ফুটবল দলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার ছিলেন। পাশাপাশি আইইইই সিগন্যাল প্রসেসিং কাপ প্রতিযোগিতায় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর অসাধারণ মেধা ও বিনয়ী আচরণ তাঁকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। বাংলাদেশ থেকে উঠে এসে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে যাওয়া ড. ইরফান আল-হুসাইনির অকাল প্রয়াণ বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার জন্য এক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে ফ্লোরিডার বাসিন্দার ২ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সাংবাদিকের ফোন জব্দ, ভ্রমণকারীদের অধিকার নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলে কী কী সুবিধা মেলে, আবেদন করবেন কীভাবে?
একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, একই ক্যাম্পাসে হেঁটেছেন, একই সময়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। অথচ কখনও দেখা হয়নি, পরিচয়ও নয়। ভাগ্যের অদ্ভুত এক পরিক্রমায় হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে প্রথম দেখা। সেখান থেকেই শুরু বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম, বিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সাবেক দুই শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনি ও ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনার গল্প যেন বাস্তবের এক অনুপ্রেরণার কাহিনি। বাংলাদেশে বুয়েটে পড়ার সময় দুজনই ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তাদের কখনও পরিচয় হয়নি। উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তারা। কাকতালীয়ভাবে দুজনেরই গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)। জর্জিয়া টেকের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানেই প্রথম পরিচয় হয় ইরফান ও ফাবিয়ার। গবেষণাগারের ব্যস্ততা, ক্লাস, গবেষণা এবং নতুন দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পথচলায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়। সম্পর্কের পরিণতিতে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় বিয়ে করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে নতুন জীবনের সূচনা করেন এই বাংলাদেশি দম্পতি। বিয়ের পরও থেমে থাকেনি তাদের একাডেমিক যাত্রা। নিজ নিজ গবেষণা সফলভাবে সম্পন্ন করে জর্জিয়া টেক থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন দুজন। একই সমাবর্তনে ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের সেই মুহূর্তটি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ও তুলে ধরে, যা অনেকের কাছে উচ্চশিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সমন্বয়ের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইরফান আল-হুসাইনি বিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যানফোর্ড এনার্জি পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা করছেন। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর গবেষণা ইতোমধ্যে একাডেমিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। তাদের অনেকের গল্প জনসমক্ষে আসে না। তবে ইরফান ও ফাবিয়ার যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, উচ্চশিক্ষা শুধু একটি ডিগ্রি বা পেশাগত সাফল্যের পথ নয়; কখনও কখনও এটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন ভবিষ্যতেরও সূচনা হতে পারে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও যাদের কখনও পরিচয় হয়নি, তারা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে এসে একে অপরকে খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণার দীর্ঘ ও কঠিন পথ একসঙ্গে অতিক্রম করে আজ দুজনই বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের এই গল্প শুধু একটি ভালোবাসার গল্প নয়; এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যবসায়, মেধা, সম্ভাবনা এবং জীবনের অপ্রত্যাশিত সৌন্দর্যের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। আপডেট: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড. ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে বুয়েট, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক), এনভিডিয়া এবং দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি ও গবেষণা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
ফ্লোরিডায় গ্রাহকের ২,৬০০ ডলারের লটারির টিকিট পৌঁছে না দিয়ে পুরস্কারের টাকা তুলে নিলেন ডাককর্মী নিজেই
আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট কবে আসবে, জেনে নিন
মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্যাসেক নদীতে সাঁতার কাটতে নেমে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার প্যাসেক শহরের মেয়র হেক্টর লোরা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নদীর তীরবর্তী একটি ভবনের এক দম্পতি পানিতে সন্দেহজনক কিছু ভাসতে দেখে দ্রুত ৯১১ নম্বরে কল করেন। এরপরই উদ্ধারকারী ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার, যখন ওই কন্যাশিশু তার দুই বন্ধুর (এক ভাই ও বোন) সঙ্গে পুলাস্কি পার্কের কাছে নদীতে নেমেছিল। মেয়র জানান, সাঁতার কাটার একপর্যায়ে ১১ বছর বয়সী বোনটি পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে ১০ বছর বয়সী ভাইটিও পানিতে তলিয়ে যায়। বোনটি কোনোমতে পানি থেকে উঠে এসে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে সক্ষম হলেও ভাইটি নিখোঁজ হয়। নদীতে নামার স্থান থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে, ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার সময় এক সহৃদয় ব্যক্তি শিশুদের বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতের কারণে তিনি তাদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। প্যাসেক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে প্যাসেক কাউন্টি শেরিফ অফিসের নৌকা ও স্কুবা ডাইভ দলও অংশ নিয়েছিল। তবে ঝড়ের কারণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়া এবং অন্ধকারের কারণে নিখোঁজ কন্যাশিশুটির অনুসন্ধান কাজ চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। নিহত শিশুদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় মেয়র হেক্টর লোরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সবাইকে তাদের জন্য প্রার্থনা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের গর্ব: যার উদ্ভাবনে বদলে গেছে আমেরিকা সহ বিশ্বের সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ইতিহাস
শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত