আর্জেন্টিনার স্কাল ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক দূত হলেন বাংলাদেশের ডালটন জহির
আর্জেন্টিনার রিও নেগ্রো ও নেউকেন প্রদেশভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্যটন সংগঠন স্কাল ইন্টারন্যাশনাল আলতো ভ্যালে এশিয়া ও ইউরোপ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক দূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন বিশেষজ্ঞ, ভ্রমণ লেখক ও গণমাধ্যম পরামর্শক এম. জেড. আই. ডালটন জহির-কে নিয়োগ দিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি লুকাস মার্টিন সোনোরা স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যটন, আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক কূটনীতিতে ডালটন জহিরের দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন দায়িত্বে তিনি এশিয়া, ইউরোপ ও আর্জেন্টিনার পর্যটন খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবেন।
স্কাল ইন্টারন্যাশনাল আলতো ভ্যালের সভাপতি লুকাস মার্টিন সোনোরা বলেন, ডালটন জহিরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব তাঁকে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বর্তমানে ডালটন জহির ইউরোপ কি, ট্রাভেলার কি এবং ওয়ার্ল্ড ভ্যাকেশন ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ট্রাভেলার টাইমস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। এছাড়া ওয়েলকাম বাংলাদেশ নামে আন্তর্জাতিক পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও প্রকাশনা উদ্যোগেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
বাংলাদেশের ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন উন্নয়ন সমিতির নির্বাচিত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ডালটন জহির দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক হোটেল ও অবকাশকেন্দ্রে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি পর্যটন, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তা বিষয়ে তাঁর প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখালেখি তাঁকে বৈশ্বিক পর্যটন অঙ্গনে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
তাঁর পেশাগত জীবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যটন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে আসছেন।
ডালটন জহির বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পর্যটন মেলা ও সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মধ্যে স্পেনের ফিতুর, জার্মানির আইটিবি বার্লিন, যুক্তরাজ্যের বিশ্ব ভ্রমণ বাজার, দুবাইয়ের আরব ভ্রমণ বাজার, সিঙ্গাপুরের আইটিবি এশিয়া, পর্তুগালের বিটিএল এবং ইতালির মিলান ভ্রমণ মেলাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া তিনি জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থার অধিভুক্ত আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যটন প্রচার, আলোকচিত্র এবং ভ্রমণ সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য দেশে-বিদেশে একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন।
ডালটন জহির বলেন, নতুন এই দায়িত্ব বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে টেকসই পর্যটন, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি কাজ করে যেতে চান।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বাড়ির মালিকদের জন্য সম্পত্তি করের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বস্তির উদ্যোগ নিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার। ২০২৬ সালের ‘হোমওনার ট্যাক্স রিলিফ গ্র্যান্ট’ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাড়ির মালিকদের বাড়ির কর নির্ধারণের মূল্য থেকে ১৮ হাজার ডলার কমানো হবে। এর ফলে তাঁদের বার্ষিক সম্পত্তি করের পরিমাণ কমবে। ২ নভেম্বর সোমবার জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প ঘোষণা করেছেন, চলতি সপ্তাহ থেকেই অঙ্গরাজ্যের রাজস্ব বিভাগ স্থানীয় সরকারগুলোর কাছে এই কর-ছাড় কর্মসূচির অর্থ বিতরণ শুরু করবে। গভর্নর ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের মাধ্যমে এই উদ্যোগ অনুমোদন করেছে। তবে ১৮ হাজার ডলার সরাসরি নগদ অর্থ বা কর মওকুফ নয়। এটি বাড়ির কর নির্ধারণের মূল্য থেকে বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, বাড়ির যে মূল্য ধরে সম্পত্তি কর হিসাব করা হয়, সেখান থেকে ১৮ হাজার ডলার কমিয়ে কর নির্ধারণ করা হবে। ফলে স্থানীয় করের হার অনুযায়ী বাড়ির মালিকদের প্রকৃত কর সাশ্রয়ের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। এই সুবিধা পেতে বাড়িটি অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তির নিজস্ব বসবাসের প্রধান বাড়ি হতে হবে এবং বাড়ির মালিকের অনুমোদিত হোমস্টেড অব্যাহতি থাকতে হবে। যাঁদের ইতিমধ্যে যোগ্য হোমস্টেড অব্যাহতি রয়েছে, তাঁদের এই অনুদানের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থ সরাসরি বাড়ির মালিকদের হাতে চেক বা ব্যাংক জমার মাধ্যমে দেওয়া হবে না। বরং সম্পত্তি করের বিলে কর-ছাড় হিসেবে তা সমন্বয় করা হবে। ইতিমধ্যে যাঁদের করের বিল ইস্যু হয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ এই সুবিধা দেখতে পারেন। অন্যরা স্থানীয় সরকার থেকে করের বিল পাওয়ার পর সুবিধাটি দেখতে পাবেন। জর্জিয়ার যেসব বাড়ির মালিক তাঁদের যোগ্যতা কিংবা করের বিলে এই ছাড়ের হিসাব সম্পর্কে জানতে চান, তাঁরা নিজ নিজ কাউন্টির কর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।
নিউ ইয়র্কে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ, নভেম্বরে জব্দ ও পরিত্যক্ত গাড়ির নিলাম শুরু
ফ্লোরিডায় ভুয়া ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ চক্রের ১৩ সদস্য গ্রেপ্তার
প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গ্রিনএকারস এলাকায় একটি মর্মান্তিক বিমান বিধ্বস্তে নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে টেক্সাসের এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, তার স্ত্রী, দুই শিশু সন্তান এবং তাদের আয়া রয়েছেন। গত রোববার দুপুরে ব্যক্তিগত বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝপথে যান্ত্রিক ও আবহাওয়াগত ত্রুটির কারণে এটি আবাসিক এলাকার কাছে আছড়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা পাইলট ও কো পাইলটসহ ৯ আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। টিএমজেড এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত প্রযুক্তি উদ্যোক্তার নাম অ্যাডাম রবিনসন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী হেলেন, চার বছর বয়সী মেয়ে এমা, দুই বছর বয়সী ছেলে চার্লি এবং তাদের পরিবারের বিশ্বস্ত আয়া অনিতা মারিয়া আপেলিডো সেটিয়া। রবিনসন পরিবারের সঙ্গে তাদের আরও দুই বন্ধু এই ফ্লাইটে ভ্রমণ করছিলেন, যাদের নাম র্যাচেল রিড এবং চার্মি ফেহর। বিমানটির ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জেফ গ্রেগরি এবং তার সহযোগী কো পাইলট ছিলেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাডেলহা। এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় নিহতদের আত্মীয়স্বজনরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সোমবার ফেসবুকে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, অ্যাডাম ও হেলেন ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল বাবা মা এবং এমা ও চার্লি ছিল তাদের জীবনের আলো। পরিবারের আয়া অনিতা শিশুদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন এবং তিনিও পরিবারেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন। বন্ধুরা চার্মি ও র্যাচেলকে আনন্দোচ্ছ্বল হিসেবে স্মরণ করে পরিবারটি হারানো সবার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে উদ্ধারকর্মী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শোকের এই সময়ে সবার কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করেছে পরিবারটি। নিহত অ্যাডাম রবিনসন হিউস্টনের রাইস ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিনি ২০০৩ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বাস্কেটবল দলের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। অন্যদিকে কো পাইলট নাথালিয়া গাডেলহা মাত্র ১৭ বছর বয়সে হাইস্কুলে পড়ার সময়ই ব্যক্তিগত পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেন। তিনি কমার্শিয়াল এয়ারলাইন পাইলট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এভিয়েশন একাডেমির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি আকাশে ওড়ার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। ফ্লাইটটির গতিপথ ও দুর্ঘটনার সময়রেখা নিয়ে কাজ করছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। জানা যায়, সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে বিমানটি যাত্রা শুরু করে। দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে ক্রুরা বরফ জমাট বাঁধা এবং প্রবল ঝাঁকুনির কথা জানিয়ে ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুমতি চান। কিন্তু এর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং মে ডে বা জরুরি বিপদ সংকেত পাঠায়। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের তদন্ত কর্মকর্তা টিমোথি মনভিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রমাণ বলছে মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই মাঝ আকাশে বিমানটি ভেঙে টুকরো হয়ে গিয়েছিল এবং এতে বরফ জমাট বাঁধার বিষয়টি একটি বড় কারণ হতে পারে। বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাম বিচ কাউন্টির প্রায় ১ দশমিক ২ মাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই সংলগ্ন এলাকার ৭৭টি ভ্রাম্যমাণ বাড়ি থেকে কয়েকশ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাটিতে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেয়র সারা ব্যাক্সটার কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ বর্তমানে এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে দুর্ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে তা তদন্ত কমিটিকে সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়েছে। তথ্যসূত্র: এফএএ, টিএমজেড এবং এনটিএসবি
ডিভি লটারি পুনরায় চালুর দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা
ওয়ালমার্টে প্রতিদিন কেনাকাটা করেন লাখো মানুষ, সেই সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী বিশ্বের শীর্ষ ধনী যে নারী
জর্জিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই বাড়ি, ১৩ শিশুসহ পরিবারকে বাঁচালেন দুই পথচারী
টেক্সাসের ডালাসে জেনিফার হাউটন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের বাড়ি উৎসবের সাজে সাজিয়ে আসছেন। তাঁর বাড়ির বিশেষ সাজসজ্জা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন। এমনকি উৎসবের সময় বাড়িটির সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়ে যান চলাচলেও প্রভাব পড়ত। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বাড়ির গ্যারেজের একটি সংরক্ষণকক্ষে আগুন লাগে। সেখানে রাখা বহু বছরের সংগ্রহ করা উৎসবের সাজসজ্জার সামগ্রী পুড়ে যায়। আগুনের ধোঁয়া বাড়ির দেয়াল, বায়ু চলাচলের পথ ও বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। স্বামী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে যে বাড়িতে দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন, সেটি ছেড়ে পরিবারটিকে কাছাকাছি একটি অস্থায়ী অ্যাপার্টমেন্টে চলে যেতে হয়। জেনিফারের কাছে বাড়িটি শুধু থাকার জায়গা ছিল না; সেখানে জড়িয়ে ছিল পরিবারের বহু স্মৃতি। প্রতি বছর ভালোবাসা দিবস, হ্যালোইন ও বড়দিনে বাড়িটি সাজানো ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের আনন্দের অংশ। আগুনের পর এবার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর মেয়ে টিফানি হাউটন মফিট মায়ের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করেন।২৬ অক্টোবর টিফানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আহ্বান জানান, প্রত্যেকে যেন একটি করে কুমড়া নিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল মায়ের পুরোনো উৎসবের আয়োজনের কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়া। মাকে চমক দিতে টিফানি পুরো পরিকল্পনা গোপন রাখেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিজের পোস্টগুলো দেখার সুযোগ থেকেও দূরে রাখেন।পরে জেনিফারের স্বামী তাঁকে চোখ বেঁধে গাড়িতে করে পুরোনো বাড়ির সামনে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছে চোখের বাঁধন খুলতেই দেখতে পান, বন্ধু, স্বজন ও প্রতিবেশীরা কুমড়া নিয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। মেয়ের বক্তব্য ছিল, প্রায় ২০ বছর ধরে তাঁর মা এই বাড়ির সামনে সাজসজ্জা করে অসংখ্য মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। এবার সেই মানুষগুলোই মায়ের জন্য কিছু করতে এসেছেন।জেনিফার এই আয়োজন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর কাছে এটি শুধু বাড়ি সাজানোর বিষয় ছিল না, বরং কঠিন সময়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এক বিশেষ মুহূর্ত। তিনি জানান, আগুনের পর প্রথমবারের মতো বাড়ির সামনের বারান্দা সাজাতে না পারার বিষয়টি তাঁর জন্য খুব কষ্টের ছিল। কিন্তু এত মানুষের ভালোবাসা তাঁকে নতুন করে আনন্দ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে।এখনো বাড়িটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত নয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীগুলোর কোনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নতুন স্মৃতি তৈরি করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন জেনিফার।ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় কোনো আয়োজন প্রয়োজন হয় না। কখনো একটি কুমড়া, কিছু পরিচিত মুখ আর সামান্য ভালোবাসাও একজন মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।
মেয়েকে বছরের পর বছর নির্যাতন, ৯ বছরের শিশুর মাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে নতুন বাধা, কর বকেয়া থাকলে বাড়তে পারে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি