যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানিক্ষেত্র ছাই করে দেওয়ার হুমকি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আরাগচি এই বার্তা দেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরান দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে পাল্টা জবাবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্র এবং কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামো ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’।
তবে নূরনিউজের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের এই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে ছোড়া একটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটির উৎস সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গেও কথা বলেন আব্বাস আরাগচি। এছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলায় যদি এ অঞ্চলের কোনো দেশ সহযোগিতা করে, তাহলে ইরান সেই পদক্ষেপেরও সমান জবাব দেবে।
নিজের টেলিগ্রাম বার্তায় আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নতুন সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতি তার আস্থা কমে গেছে এবং তেহরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসনের আলোচক দল—যার মধ্যে জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন—এখনও ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনায় তিনি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান।
কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পাল্টাপাল্টি সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে। ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে। মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।
আইসিইর ধরপাকড় ও বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাবে ৬০ লাখ, নতুন প্রতিবেদন
পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার, ভিডিও ভাইরাল
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। ‘সবার জন্য জীবিকার উপযোগী মজুরি আইন’ নামে প্রস্তাবিত বিলটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সিনেটে উত্থাপন করা হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার। নতুন প্রস্তাবে একবারে মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার পরিবর্তে কয়েক ধাপে তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ১২ ডলারে উন্নীত করা হবে। এরপর কয়েকটি ধাপে মজুরি বাড়িয়ে ঘণ্টাপ্রতি ২৫ ডলারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বড় ও ছোট ব্যবসার জন্য আলাদা সময়সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। বড় নিয়োগদাতাদের ২০৩২ সালের মধ্যে কর্মীদের ঘণ্টায় ২৫ ডলার মজুরি দেওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ছোট ব্যবসাগুলোকে এই পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সময় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০৩৯ সাল পর্যন্ত যেতে পারে। বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরি কীভাবে সমন্বয় করা হবে। ২৫ ডলারে পৌঁছানোর পর জাতীয় মধ্যম মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয় করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি অপরিবর্তিত থাকায় কর্মীদের আয় জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি। তাদের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলে কম আয়ের কর্মীদের উপার্জন বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, বড় ধরনের মজুরি বৃদ্ধিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পণ্যের দাম, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই বিলকে বর্তমান আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই বিলটি সিনেটে উত্থাপনের পর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশনবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এটি এখনো আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে। ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী, নিয়োগদাতা ও ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিতর্ক সামনে এনেছে। কর্মীদের বেশি মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাড়তি ব্যয়, পণ্যের দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘণ্টাপ্রতি ২৫ ডলারের মজুরি কেবল একটি প্রস্তাব, এটি কার্যকর কোনো আইন নয়।
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক: মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন প্রতিশ্রুত অর্থ দেবেন তিনি
ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের জন্য স্কুল বাছাই করতে শুধু বাসার কাছাকাছি হওয়া, এলাকার সুনাম কিংবা অনলাইন রেটিং দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। স্কুলের শিক্ষক ও স্টাফ, নিরাপত্তা, একাডেমিক প্রোগ্রাম, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো একসঙ্গে যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক স্কুল বিবেচনা করা অভিভাবকদের কাছে শিক্ষক ও স্কুল স্টাফের মান, নিরাপত্তা, একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে। প্রথমেই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে নিন। সন্তান কোন ধরনের পরিবেশে ভালো শেখে, তার বিশেষ কোনো আগ্রহ আছে কি না, ইংরেজি ভাষায় অতিরিক্ত সহায়তা দরকার কি না অথবা বিশেষ শিক্ষাগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে কি না, এসব বিষয় আগে বিবেচনা করুন। একটি স্কুল অন্য শিশুর জন্য ভালো হলেও আপনার সন্তানের জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। এরপর স্কুলের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করুন। পাবলিক স্কুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এবং স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তথ্য থেকে একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডেটা পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক শিক্ষাব্যবস্থা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত হওয়ায় একই স্টেটের মধ্যেও স্কুল ডিস্ট্রিক্টভেদে নিয়ম ও সুযোগের পার্থক্য থাকতে পারে। শুধু একটি অনলাইন রেটিংয়ের ওপর নির্ভর করবেন না। গ্রেটস্কুলস এর মতো সাইটে রেটিং দেখার পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং হাই স্কুল হলে কলেজ প্রস্তুতির তথ্য আলাদাভাবে দেখুন। একই সঙ্গে এসব তথ্য স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা স্টেটের অফিসিয়াল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো। একাধিক সূচক একসঙ্গে দেখলে স্কুল সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করুন। স্কুলে বুলিং, শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য খুঁজুন। কোনো একটি প্যারেন্ট রিভিউ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে পুরো স্কুলের চিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা বেশি কার্যকর। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ইংরেজি ভাষা সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সন্তান যদি ইংরেজিতে এখনও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ না হয়, তাহলে স্কুলে ইংলিশ লার্নার বা ইএনএল শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সাপোর্ট রয়েছে, আলাদা ভাষা সহায়তা দেওয়া হয় কি না এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা কেমন, তা আগে জেনে নিন। স্কুলে সরাসরি যোগাযোগ করে এসব প্রশ্ন করা যেতে পারে। স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুযোগ রয়েছে, সেটিও দেখুন। আফটার স্কুল প্রোগ্রাম, খেলাধুলা, মিউজিক, আর্টস, চেস, রোবোটিক্স, স্টিম, ক্লাব এবং অন্যান্য কার্যক্রম সন্তানের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। হাই স্কুলের ক্ষেত্রে এপি, অনার্স, ডুয়াল এনরোলমেন্ট বা ক্যারিয়ার এন্ড টেকনিকাল এডুকেশন এর মতো কোর্স ও প্রোগ্রাম রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা যেতে পারে। হাই স্কুল বাছাইয়ের সময় আরও বিস্তারিত তথ্য দেখা দরকার। শুধু গ্র্যাজুয়েশন রেট নয়, কলেজ প্রস্তুতি, এপি বা অন্যান্য অ্যাডভান্সড কোর্সে অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল এবং কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতির তথ্য বিবেচনা করুন। কোনো একটি স্কোর বা রেটিংকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি না করাই ভালো। বাসা নেওয়ার আগে স্কুলের অ্যাটেনডেন্স জোন বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়মও জেনে নিন। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পাবলিক স্কুলে বাসার ঠিকানা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। আবার কিছু ডিস্ট্রিক্টে স্কুল চয়েস, ম্যাগনেট বা অন্য ধরনের বিকল্পও থাকতে পারে। তাই নতুন বাসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছে জেনে নিন ওই ঠিকানার জন্য কোন স্কুল নির্ধারিত এবং ভর্তি প্রক্রিয়া কী। সম্ভব হলে স্কুলটি সরাসরি দেখে আসুন। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং সন্তানের জন্য কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে, এসব বিষয় সরাসরি জানার চেষ্টা করুন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা সংক্রান্ত গবেষণাতেও দেখা গেছে, স্কুলের অবস্থান, একাডেমিক পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন রিসোর্স সম্পর্কে একাধিক ধরনের তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক। সবশেষে, পরিচিত কারও পরামর্শ বা শুধু অনলাইন রেটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য যাচাই করুন। বাসা, স্কুল এবং পরিবারের দৈনন্দিন বাস্তবতা একসঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে সন্তানের জন্য উপযুক্ত স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।
হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে ৯৭৭ ডলার দেনা, নিলামে বিক্রি সাড়ে চার লাখ ডলারের বাড়ি
আইনি ঝামেলায় পড়লে কাকে ফোন করবেন? প্রবাসীদের কাজে আসতে পারে যেসব অ্যাটর্নির ফোন নম্বর