টানা সমালোচনার পর জনসম্মুখ থেকে বিরতিতে যাচ্ছেন আরিয়ানা গ্রান্ডে!
বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা ও অভিনেত্রী আরিয়ানা গ্রান্দে দীর্ঘদিনের টানা কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবন ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে চলমান জনসমালোচনার মধ্যে জনসম্মুখ থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার প্রতিনিধির বরাতে আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘ইটারনাল সানশাইন’ ট্যুর শেষ হওয়ার পর তিনি কিছুদিনের জন্য জনসমক্ষে উপস্থিতি কমিয়ে দেবেন এবং বিশ্রামে থাকবেন।
আরিয়ানা গ্রান্দের প্রতিনিধি জানান, চলমান সফরটি তিনি ইতিবাচকভাবে শেষ করতে চান। এরপর তিনি নিজের সুস্থতা ও মানসিক স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনসম্মুখের কাজ থেকে বিরতি নেবেন। প্রতিনিধির ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে তার ব্যক্তিগত জীবন, স্বাস্থ্য ও শারীরিক গঠন নিয়ে চলা অবিরাম জনসমালোচনা এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের বার্বিকান থিয়েটারে ২০২৭ সালে মঞ্চস্থ হওয়ার কথা থাকা স্টিফেন সন্ডহাইমের বিখ্যাত মিউজিক্যাল ‘সানডে ইন দ্য পার্ক উইথ জর্জ’-এর ওয়েস্ট এন্ড প্রযোজনা থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন গ্রান্দে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তার সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান জানাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়েই নতুন শিল্পী নিয়ে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে।
সম্প্রতি নতুন অ্যালবাম ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিয়ানা গ্রান্দের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি ট্যুরজুড়ে উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রমসাপেক্ষ পরিবেশনা সফলভাবেই করে যাচ্ছেন এবং সফর শেষ করার দিকেই মনোযোগী রয়েছেন।
৩২ বছর বয়সী এই শিল্পী ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। সংগীতের পাশাপাশি ‘উইকেড’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যও তিনি প্রশংসিত হন। গত কয়েক বছরে সংগীত, অভিনয় এবং ধারাবাহিক প্রচারণামূলক কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই তিনি ছিলেন।
আরিয়ানা গ্রান্দে কবে আবার জনসম্মুখে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তার প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, আপাতত ট্যুর শেষ করে বিশ্রাম নেওয়া এবং ব্যক্তিগত সুস্থতার দিকেই মনোযোগ দিতে চান এই তারকা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির ব্লেয়ার টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে কাউন্টি রোড ৬৩৩ ও ব্লেয়ার টাউনহল রোডের কাছাকাছি এলাকায়। বিমানটি ছিল টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের। ইউনিটটি টেক্সাসের সান আন্তোনিও-ল্যাকল্যান্ড ঘাঁটি থেকে মিশিগানে প্রশিক্ষণের জন্য অবস্থান করছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির সঙ্গে থাকা আরেকটি এফ-১৬-এর পাইলট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেন। লাইভএটিসি-তে প্রকাশিত রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডিং অনুযায়ী, ‘বাক ১১’ কলসাইনের ওই পাইলট জানান, তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য পাইলটের বিমান সম্ভবত একটি পাখির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য সতর্ক করতে বলেন এবং জানান, তাঁর সহযাত্রী পাইলটকে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে হতে পারে। রেডিও যোগাযোগে ওই পাইলটকে বলতে শোনা যায়, তাঁর উইংম্যানকে বিমান থেকে বের হতে হবে এবং ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটতে যাচ্ছে, তিনি তখন সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কাছাকাছি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে। তবে পাখির আঘাতই দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের মুখপাত্র সার্জেন্ট ডেরেক গুতিয়েরেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তিনি সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। ফলে রেডিও যোগাযোগে উঠে আসা তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। পরে দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাউন্টি রোড ৬৩৩-এর একটি অংশে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এফ-১৬ বিমানে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রাজিন নামে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এ কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁরা। ব্লেয়ার টাউনশিপের সুপারভাইজার নিকোল ব্লনশাইন জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কারও আহত হওয়ার খবর তিনি পাননি এবং কোনো বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির শেরিফ মাইকেল ডি. শিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে পাইলট সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন। এফ-১৬টি মিশিগানের আলপেনা কমব্যাট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টারে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। টেক্সাস থেকে আসা ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের একাধিক এফ-১৬ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিল। বিমানটি দুর্ঘটনার সময় নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল বলে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর এফ-১৬ ইউনিটের নির্ধারিত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের আগে আকাশে উড্ডয়ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই ইউনিটের যুদ্ধবিমানগুলোর। দুর্ঘটনার পর সেই কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে। এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ১৯৭৯ সাল থেকে এ ধরনের বিমান পরিচালিত হয়ে আসছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে এফ-১৬ নিয়ে অন্তত ১৪টি ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় সাধারণত বিমান ধ্বংস হওয়া, প্রাণহানি বা ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মতো গুরুতর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। মিশিগানের সর্বশেষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়টি রেডিও যোগাযোগে উঠে এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস ডেট্রয়েট ও ১৪৯তম ফাইটার উইং।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর
মিনেসোটায় চুরির দায়ে গ্রেপ্তার মার্কিন নারী, জেনিফার লোপেজের সঙ্গে চেহারার মিল নিয়ে মগশট ভাইরাল
এবার মামদানিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের আগে উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সমুদ্রপথের এই অবরোধ এড়াতে স্থলপথে তেল ও পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তাড়াহুড়ো করে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলে তুরস্ক ও পাকিস্তান সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩,৭০০ কার্গো ট্রাক আটকে আছে। 'ইউনিয়ন অব ট্রাকার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স অর্গানাইজেশনস অ্যাক্রস ইরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এক চালক অভিযোগ করেছেন, ইরান এই পরিস্থিতির দায় নিচ্ছে না, আবার পাকিস্তানও তাদের কার্গো খালাস করতে দিচ্ছে না। নিজেদের তৈরি করা এই সংকটের কারণে লোহা, সিমেন্ট এবং গ্যাস বহনকারী ট্রাক চালকদের সীমান্তে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রেকর্ড উচ্চমূল্যের জ্বালানির পাশাপাশি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত থেকেও সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার কারণে সাময়িকভাবে টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরানি চালকরা। অবরোধের প্রভাব ইরানের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও কাস্টমস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি ইরানি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির নন-অয়েল বা তেল-বহির্ভূত পণ্য রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ভরটেক্সার মতে, আগস্ট মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইরানের আমদানিও প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ২.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে। বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম, ভুট্টা এবং ভোজ্যতেল আমদানির জন্য গত পাঁচ মাসে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ট্রানজিট প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়েছে তারা। তেহরান টাইমসের মতে, চীনের সাথে রেল যোগাযোগও আগের সাপ্তাহিক সূচির বদলে এখন প্রতি তিন-চার দিন অন্তর চলছে। তা সত্ত্বেও আমদানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রেল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ স্থলপথের এই বাধাগুলোর কারণে ইরানে আসা পণ্যের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাচ্ছে। এত কিছুর পরও ইরানের কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই তাদের প্রক্সি বাহিনী তেল ও কার্গো পরিবহনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার মাধ্যমে তারা যেকোনো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।
মার্কিন অবরোধে ধসে পড়ছে ইরানের অর্থনীতি, সীমান্তে আটকা হাজারো ট্রাক
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে দোলনায় ফেলে রেখে ১৮ মাসের শিশুকে অনাহারে মৃ ত্যু, বাবা-মায়ের ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে নতুন জীবন পেল মাথা জোড়া লাগানো দুই বোন, প্রথমবার দেখল একে অপরকে
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে পোষা কুকুরের ভয়াবহ হামলায় জেসন অ্যান্থনি ওয়েভার নামের এক সপ্তাহ বয়সী এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চরম অবহেলার দায়ে শিশুটির বাবা অস্টিন কিনসেকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নথি অনুযায়ী, 'চম্প' নামের ওই কুকুরটি শিশুটিকে অন্তত ১৮০ বার কামড়েছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ইন্ডিয়ানার গ্রামীণ মার্কল এলাকার একটি বাড়িতে, যার ভয়াবহ চিত্র পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের হতবাক করে দিয়েছে। জানা যায়, পাঁচ বছর বয়সী চম্প ছিল হাস্কি ও পিটবুলের মিশ্র জাতের একটি কুকুর। কুকুরটির ভয়ংকর হামলায় শিশুটির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং ফুসফুস ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক অভ্যন্তরীণ আঘাত ছিল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর শিশুটির বাবা-মাসহ পরিবারের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অস্টিন কিনসে জানান, তিনি শিশুটির সঙ্গে একই ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি কিছুক্ষণের জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর শিশুটির দাদা টিমোথি কিনসে সন্দেহজনক শব্দ শুনতে পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখেন, চম্প শিশুটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িটি ছিল বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী এবং আবর্জনা ও পোকামাকড়ে ভরা। ফোর্ট ওয়েন শহরের প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বাড়িটিতে সর্বত্র পশু, আবর্জনা ও মাটির তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। নোংরা বাসনপত্র ও ময়লা কাপড়ে ঠাসা বাড়িটিতে হাঁটতেও পুলিশ কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হয়েছিল; এমনকি শিশুটির গাড়ির আসনেও তেলাপোকা ও অন্যান্য পোকামাকড় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা কুকুরটিকে শান্ত স্বভাবের দাবি করলেও তারা স্বীকার করেন যে, এটি আগে থেকেই ঈর্ষাপরায়ণ এবং অন্য প্রাণীদের প্রতি আক্রমণাত্মক ছিল, এমনকি এর আগে মানুষকেও কামড়েছিল। কুকুরটি আক্রমণাত্মক আচরণ করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তারা বাড়িতে একটি বন্দুকও রাখতেন। পরবর্তীতে বাড়িটিকে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করে খালি করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য
লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের, স্বপ্নের পেশাতেই শেষ যাত্রা