সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

স্বপ্নের নারীকে আগেই ছবিতে এঁকেছিলেন শিল্পী, এক বছর পর হুবহু সেই চেহারার নারীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ, প্রেম, অতঃপর বিয়ে!

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৬:৪০
এই দম্পতি হলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদিএবং তাঁর স্ত্রী পারিসা কারামনেজাদ। ছবি:সংগৃহীত
এই দম্পতি হলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদিএবং তাঁর স্ত্রী পারিসা কারামনেজাদ। ছবি:সংগৃহীত

২০০৮ সালে ইরানি শিল্পী আহাদ সাদি মায়ের বিয়ের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে কল্পনায় এঁকেছিলেন তার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গিনীর একটি প্রতিকৃতি। প্রায় এক বছর পর তাবরিজের একটি প্রদর্শনীতে সেই ছবিটি দেখতে গিয়ে শিল্পী পারিসা কারামনেজাদ অবাক হয়ে আবিষ্কার করেন, আঁকা নারীর সঙ্গে তার নিজের চেহারার আশ্চর্য মিল রয়েছে। পরে সেই পরিচয়ই গড়ায় প্রেম ও বিয়েতে।

 

আহাদ সাদি নিজের বিশেষ আগুননির্ভর শিল্পকৌশল ‘আজারনেগারি’ ব্যবহার করে প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছিলেন। মায়ের প্রশ্নের জবাব হিসেবে কল্পনা থেকে আঁকা সেই ছবির সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মিল পাওয়া যাবে, এমনটা তখন তার ধারণাতেও ছিল না।

 

প্রায় এক বছর পর তাবরিজে একটি প্রদর্শনীতে বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন পারিসা। সেখানে আহাদের আঁকা প্রতিকৃতিটি দেখে তিনি নিজের চেহারার সঙ্গে ছবির নারীর মিল লক্ষ্য করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিল্পীর সঙ্গে কথা বললে দুজনেই এই অদ্ভুত মিল দেখে বিস্মিত হন।

 

এরপর তাদের পরিচয় তৈরি হলেও সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতি ঘটেনি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আবার যোগাযোগ হয় দুজনের। পরে ইস্তাম্বুলে আহাদের একটি প্রদর্শনীতে তাদের দেখা হয়। সেখানে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর আহাদ পারিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

 

অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রস্তাব পাওয়ার পর খুব বেশি সময় নেননি পারিসা। পরদিনই তিনি আহাদের প্রস্তাবে সম্মতি জানান।

 

ইরানি সংবাদমাধ্যমের পুরোনো প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছিল, আহাদ যেন নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গিনীর মুখটি বাস্তবে তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই ক্যানভাসে এঁকে ফেলেছিলেন। এক বছর আগে কল্পনায় আঁকা একটি প্রতিকৃতি পরে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে মিলে যাওয়ার ঘটনাটি তাই তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে ওঠে।

 

শিল্পীর মায়ের করা সাধারণ একটি প্রশ্ন থেকেই শুরু হয়েছিল গল্পটির প্রথম অধ্যায়। আর সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে আঁকা একটি ছবি শেষ পর্যন্ত আহাদের জীবনের বাস্তব প্রেমকাহিনির অংশ হয়ে যায়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় ছয় দেশের নেতারা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ৬ উপসাগরীয় দেশের বৈঠক, টেবিলে যেসব বড় দাবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে।   বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে।   হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত।   তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক।   অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:৫৯
২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট বাড়ার নতুন পূর্বাভাস

২০২৭ সালে বাড়বে সোশ্যাল সিকিউরিটি! মিলছে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির আভাস

Ota Benga was put on display at the Bronx Zoo in 1906.

১৯০৬ সালে চিড়িয়াখানার বানরের খাঁচায় বন্দী করা হয়েছিল যে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে

গৃহঋণের সুদ ও ফি তুলনা না করায় বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ

একটু খোঁজ নিলেই বাঁচত হাজার হাজার ডলার, গৃহঋণে বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ

আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোর লুইস ওচোয়া
আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোরের মা মেক্সিকোতে ফেরত

টেক্সাসের আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে ১৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ছেলে আটকের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা তেরেসা ওচোয়া ব্রিসেনোকে আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। পরে একই দিন তাকে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশের আওতায় মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস জানিয়েছে।   তেরেসার ছেলে লুইস ওচোয়া ১৭ বছর বয়সী একজন মার্কিন নাগরিক। ১১ সেপ্টেম্বর আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখার সময় তিনি ও তার এক বন্ধু সেটি ভিডিও করছিলেন। পরে দুই কিশোরকেই আটক করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই কিশোরকে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।   লুইসের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও তার বন্ধু ইউএস মেরিন কোরে যোগদানের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখতে পেয়ে তারা গাড়ি থামিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন। ভিডিওতে কর্মকর্তাদের একজনকে একটি গাড়ির কাছে যেতে এবং পরে কিশোরদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াতে দেখা যায়। লুইসের দাবি, তাকে পেপার স্প্রে করা হয় এবং আটকের সময় তার কবজিতে আঘাত লাগে।   তবে ঘটনাটি নিয়ে ফেডারেল সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। ডিএইচএস দুই কিশোরকে ‘অ্যান্টি-আইসিই অ্যাজিটেটর’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, তারা কর্মকর্তাদের গাড়ির কাছে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কিশোর সরকারি গাড়ির জানালায় বারবার আঘাত করার পর তাকে আটক করতে গেলে সে প্রতিরোধ করে। ঘটনাটিতে দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নেন বলেও ডিএইচএস দাবি করেছে।   পরে দুই কিশোর আলামো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরদের আইনজীবী জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   এরপর তেরেসা ছেলের আটকের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেন। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে আলামোর কাছে একটি রেস্টুরেন্টে কাজে যাওয়ার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। তার আইনজীবী কার্লোস গার্সিয়ার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৬টার দিকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়ির জানালার কাচ ভাঙা হয়েছিল বলেও আইনজীবী দাবি করেছেন।   তেরেসার গ্রেপ্তার ও দ্রুত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় তার পরিবার ও অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তার ছেলে লুইস দাবি করেছে, আটকের পর তার মা তাকে জানিয়েছিলেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। তবে আইসিই এ দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি।   অন্যদিকে, ডিএইচএস বলেছে, তেরেসাকে একটি ‘টার্গেটেড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তেরেসা ২০০৫ সালে অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ২০২৫ সালে তাকে মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি আবার অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ কার্যকর করে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়।   তেরেসার গ্রেপ্তারের ফলে তার চার সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। এদিকে, কয়েক দিন আগে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে লুইসের আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন কিশোরদের আটকের ঘটনা, তাদের পরিবারের ওপর এর প্রভাব এবং তেরেসাকে দ্রুত মেক্সিকোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:২০
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের সুযোগ

বিদেশিদের জন্য গ্রিন কার্ডের সুযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

জাতিসংঘে আজ ট্রাম্পের ভাষণে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধসহ জ্বালানি সংকট, থাকছে যেসব বিষয়

ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ সালে বিভিন্ন বক্তব্য ও পোস্টে প্রায় ৯০০ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প

১ বছরেই ট্রাম্পের মুখে বাইডেনের নাম প্রায় ৯০০ বার, নেপথ্যে কারণ

ইয়েমেনে অগ্রযাত্রা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের হা মলা আর হলো না, ইয়েমেনে বড় অ ভিযানে হুতিদের অগ্রযাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে হা মলার পরিকল্পনা বাতিল করার পর ইয়েমেনে আরও বড় ধরনের সাম রিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রো হীরা। কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের পাশাপাশি সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোকে লোহিত সাগরের উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে তারা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হা মলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের নতুন করে সাম রিক সহায়তার অনুরোধ পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন এ প্রস্তুতি নেয়। এমনকি হা মলার জন্য বিমানগুলোতে বো মা তোলার কাজও শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প ওই বিমান হা মলা বাতিল করেন বলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হা মলা কেন বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যেই হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকাগুলোতে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে।   রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রশিদ আল-আলিমি রোববার ফোনে ট্রাম্পের কাছে মার্কিন সাম রিক সহায়তা চেয়েছেন। চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।   এর আগে শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায় এবং বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া দেখা যায়। হুতিরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষে পণা স্ত্র ছুড়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন। এর কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর হু মকি দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তে জনার মধ্যে ইয়েমেনে হুতিদের নতুন অগ্রযাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৫:৫০
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ

হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ

0 Comments