আমেরিকা

এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:১
ঢাকার নটর ডেম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার নটর ডেম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে পরিণত করেছেন ঢাকার নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, আর আগামী সেপ্টেম্বরেই শুরু হবে এমআইটিতে তার নতুন অধ্যায়।

 

রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম ফায়েজের। তিন বড় ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নানা বিষয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয় তার। মাত্র চার বছর বয়সে ভাইবোনদের কাছ থেকেই দাবা খেলা শেখেন। এরপর ধীরে ধীরে একাডেমিক পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান, গবেষণা, বিতর্ক, দাবা ও বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে নিজেকে যুক্ত করেন।

 

ফায়েজের এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার পরিবার। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনেক পরিবার একাডেমিক পড়াশোনার ক্ষতি হবে আশঙ্কায় সন্তানদের সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখেন। তবে তার বাবা-মা কখনো তাকে সেভাবে সীমাবদ্ধ করেননি। পরিবারের এই স্বাধীনতা ও সহযোগিতাই তাকে নিজের আগ্রহ অনুসরণ করার সুযোগ দিয়েছে।

 

শুধু এমআইটিতে ভর্তি নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের মেধার প্রমাণ রেখেছেন ফায়েজ। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্য পদক জেতেন তিনি। আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এসব অর্জন তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত করে।

 

বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি গবেষণাতেও আগ্রহ রয়েছে ফায়েজের। তিনি বায়োইনফরমেটিকস নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন এবং ক্যানসার-সম্পর্কিত জৈবিক তথ্য বিশ্লেষণ নিয়েও কাজ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণায় তার এই সম্পৃক্ততা এমআইটিতে আবেদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

দাবার প্রতিও তার রয়েছে দীর্ঘদিনের আগ্রহ। নটর ডেম কলেজের দাবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কেও সক্রিয় ছিলেন।

 

এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার খবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে ফায়েজ বলেন, এই অর্জনের পেছনে বাবা-মা, ভাইবোন, শিক্ষক, বন্ধু এবং যারা ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাকে সহযোগিতা করেছেন, সবার অবদান রয়েছে। এমআইটি থেকে তিনি বছরে ৯২ হাজার ৭৮৪ ডলারের আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার আওতায় টিউশন, আবাসন, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

ফায়েজের যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনার গুরুত্বও সামনে আনে। রাজশাহীতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শিক্ষার্থী দেখিয়েছেন, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক, দাবা ও অন্যান্য আগ্রহকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব।

 

এইচএসসি পরীক্ষার পর যখন অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ফায়েজের সামনে খুলে গেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রযুক্তি ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এমআইটির ২০৩০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু হবে তার নতুন পথচলা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন রঙের স্কুল ব্যাকপ্যাক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী

নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে পরিবারের খরচ কমাতে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। আগস্টজুড়ে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিলসহ প্রয়োজনীয় স্কুল সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামগ্রী সীমিত এবং আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে।   নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি, কমিউনিটি সংগঠন, লাইব্রেরি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এসব স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির আয়োজন করছে। কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় ডেপুটি স্পিকার নাতাশা উইলিয়ামস, স্টেট সিনেটর লেরয় কমরি এবং অ্যাসেম্বলি মেম্বার অ্যালিসিয়া হাইন্ডম্যানের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণ করা হবে। আয়োজনটি হবে ১৭২-১২ লিন্ডেন বুলেভার্ডে। সামগ্রী শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ চলবে।   কুইন্সের কিং ম্যানর মিউজিয়ামেও ১৫ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রী থাকা পর্যন্ত এগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।   ম্যানহাটনে ১৭ আগস্টও একটি ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে। ৪১৯ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সীমিতসংখ্যক ব্যাগ দেওয়া হবে। প্রতি শিশুর জন্য একটি ব্যাগ বরাদ্দ থাকবে এবং ব্যাগ নিতে শিশুকে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।   এ ছাড়া ম্যানহাটনের ১২৪তম স্ট্রিট, সেকেন্ড ও থার্ড অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি কমিউনিটি রিসোর্স ও স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি হবে। সেখানে ব্যাকপ্যাক, স্কুল সামগ্রী, শিশুদের পোশাক ও জুতাসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   হারলেমেও ২৩ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৬০ ওয়েস্ট ১৪১তম স্ট্রিটে স্কুল শুরুর প্রস্তুতি উপলক্ষে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকবে।   কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুকে অভিভাবক বা গার্ডিয়ানের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে হয়। সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে বিতরণও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে স্কুল সামগ্রী কেনা অনেক পরিবারের জন্য বড় ধরনের বাড়তি খরচ। বিশেষ করে একাধিক সন্তান থাকা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিল, ফোল্ডারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। এ কারণে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিনামূল্যের এসব বিতরণ কর্মসূচি অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠেছে।   এদিকে গৃহহীন বা অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘অপারেশন ব্যাকপ্যাক’ কর্মসূচির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ করেছে। ভলান্টিয়ার্স অব আমেরিকা গ্রেটার নিউইয়র্ক পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১৯ হাজার ব্যাকপ্যাক বিতরণ করা হয়েছিল।   বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক নিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও শিশুর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, আবার কোথাও আগে থেকে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। অধিকাংশ কর্মসূচিতেই সামগ্রী সীমিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছানো সুবিধাজনক।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:৫৩
গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানসহ ভুক্তভোগী মা। ছবি: সংগৃহীত

বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!

কিডনি দান করা মার্কিন নারী ডেবি স্টিভেন্স। ছবি: সংগৃহীত

বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী

ঢাকার নটর ডেম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে এনওয়াইপিডির নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে সিটি হল ও পুলিশের মতবিরোধ। ছবি: সংগৃহীত
মামদানি-পত্নীর সিরিয়া-লেবানন সফরে পুলিশ পাহারা নিয়ে পুলিশ বিভাগের বিরোধ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে নিউইয়র্ক পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে কি না, তা নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি হল ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে রামা দুওয়াজির সফরে তার সঙ্গে পুলিশের একটি নিরাপত্তা দল থাকবে। তবে পুলিশ বিভাগ পরে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে জানায়, ব্যক্তিগত সফরে তাকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদস্যদের সিরিয়া বা লেবাননে পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই।   ২৯ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সিরিয়া ও লেবানন সফরের পরিকল্পনা করছেন। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সফরটি ব্যক্তিগত এবং নিউইয়র্ক সিটির কোনো সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।   মেয়রের মুখপাত্র ডোরা পেকেক এর আগে জানিয়েছিলেন, রামার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সফরের সময় তার সঙ্গে থাকবেন। তবে পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র পরে স্পষ্ট করে বলেন, রামার সফর কোনো তদন্ত বা সরকারি দায়িত্বের অংশ নয়। তাই তাকে সঙ্গ দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।   জানা গেছে, রামা এর আগে একটি বিদেশ সফরে পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই গিয়েছিলেন। পরে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এবারের সফর ব্যক্তিগত হওয়ায় বিদেশে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে তার স্ত্রী রামাকে ব্যক্তিগত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, রামার পরিকল্পিত সফরের সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনও চলবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণে ওই সময়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ওপর বাড়তি নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে।   রামা দুওয়াজির সফরে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সিটি হল ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মেয়রের স্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা সিরিয়া ও লেবাননে যাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:২
ফ্লোরিডায় দুই সন্তানের মাকে অপহরণ ও হত্যার পর আত্মঘাতী হওয়া পিনেলাস কাউন্টি শেরিফের ডেপুটি ট্রয় সাভেটজ সংবলিত বিভিন্ন খণ্ডচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

৯১১-এ ফোন করেছিল সন্তানরা, ততক্ষণে দুই সন্তানের মাকে অপহরণ করে হত্যা ডেপুটি প্রেমিকের

ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ে প্রতারণার শিকার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার স্টুডেন্ট লোন মাফের পথ নিশ্চিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কলেজের ভুয়া প্রতিশ্রুতির শিকার, আদালতের রায়ে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট লোন মাফ

ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মতো একটি মহাদুর্যোগ যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা প্রস্তুত নই’ ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি মানুষের জন্য ‘কেয়ামতের মতো মহাবন্যার’ আশঙ্কা, সতর্ক বিজ্ঞানীরা

লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস
১৬ বছর বয়সে ১৭০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃত্তির প্রস্তাব

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস এমন এক একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাইস্কুল নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই শেষ করে তিনি ১৭০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তির প্রস্তাবের মোট মূল্য ছাড়িয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার।   ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুল অব নিউ অরলিন্সের এই শিক্ষার্থী ৪.৯৮ জিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শুরু করেন। শুরুতে কোনো রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেননি। তবে একের পর এক ভর্তি ও বৃত্তির প্রস্তাব আসতে থাকায় বিষয়টি তার কাছেও ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে।   বার্নসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ। তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির নেতৃত্বেও ছিলেন। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সে দ্বৈতভাবে পড়াশোনা করে কলেজ পর্যায়ের ক্রেডিট অর্জন করেছেন।   বার্নসের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যাই নজরকাড়া নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে বড় অঙ্কের বৃত্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৭০টির বেশি ভর্তি প্রস্তাবের সঙ্গে বৃত্তির মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি এবং মোট বৃত্তির পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছিলেন।   এই অর্জনের ফলে আগের মার্কিন রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান বার্নস। এর আগে ২০১৯ সালে লুইজিয়ানার আরেক শিক্ষার্থী নরম্যান্ডি করমিয়ের বিভিন্ন কলেজ থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।   তবে বার্নসের অর্জনকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক বিশ্বরেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে। তার স্কুল কর্তৃপক্ষ গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে সময় গিনেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃত্তির প্রস্তাব পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করাই বেশি নির্ভুল।   বার্নস ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ক্রিমিনাল জাস্টিস নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।   নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তার কথা তুলে ধরেছেন বার্নস। তার এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক প্রস্তুতি, আগেভাগে আবেদন এবং বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ খোঁজার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৯:৪
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে

কানাডার ভিসায় চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড়

কানাডার ভিসায় চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় পেতে পারেন ৪ শ্রেণির বিদেশি

টিম বার্নার্ড ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের দাতার কোম্পানির হাতে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিলিয়ন ডলারের কাজ

0 Comments