বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!
ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ানটাউনে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হলে সন্তানদের দেখাশোনা কে করবে এবং তারা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে পরিবারটির সামনে বড় সংকট দেখা দিয়েছে।
ট্রেজার কোস্ট পাম বিচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারটির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সন্তানদের বিশেষ যত্ন ও সহায়তার প্রয়োজন হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পরিবারটির ক্ষেত্রে মূল সংকট তৈরি হয়েছে অভিবাসন আইনের প্রয়োগ এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের দৈনন্দিন যত্নের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে। বাবা-মা যদি আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি না পান কিংবা শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বহিষ্কৃত হন, তাহলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিবেদনটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে। আইসিই দেশজুড়ে যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশসহ বিভিন্ন অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তবে কোনো অভিবাসীকে আটক বা বহিষ্কার করা হলেও তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি আলাদা আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে সন্তানরা যদি প্রতিবন্ধী হন এবং নিয়মিত চিকিৎসা, থেরাপি, ব্যক্তিগত সহায়তা বা বিশেষ যত্নের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে অভিভাবক হারানোর সম্ভাবনা তাদের জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ইন্ডিয়ানটাউন ও আশপাশের এলাকায় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। কারণ অনেক পরিবারেই বাবা-মা সন্তানদের প্রধান বা একমাত্র পরিচর্যাকারী। অভিভাবক আটক হলে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি, সামাজিক সেবা সংস্থা কিংবা স্টেট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প যত্নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
তবে প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়া স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া নয়। শিশুর বয়স, অভিভাবকত্বের অবস্থা, পরিবারের অন্য সদস্যদের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেটের শিশু সুরক্ষা ও হেফাজত সংক্রান্ত নিয়মের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর জন্য অভিবাসন আইনজীবীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানকারী স্থানীয় সংস্থা ও শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্তানদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার নথি, ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের তথ্য এবং জরুরি অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ইন্ডিয়ানটাউনের এই পরিবারের ঘটনাটি তাই শুধু অভিবাসন নিয়ে নয়, একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিচর্যা এবং অভিভাবক বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাবা-মায়ের অভিবাসন মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) প্রায় ৩৮ হাজার কর্মীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য চুরির দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘শাইনি হান্টার্স’। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, চুরি হওয়া এই বিশাল তথ্যভাণ্ডারে এফবিআইয়ের সব এজেন্টের নাম, পদবি, ব্যাজ নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং স্বামী বা স্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান অধ্যাপক সিয়ারান মার্টিন মন্তব্য করেছেন, হ্যাকারদের এই দাবি যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটি তথ্য ফাঁসের ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই জানিয়েছে, তারা হ্যাকারদের এই দাবির বিষয়ে অবগত এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সক্রিয় ও কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, গত সোমবার রাতে তারা সফলভাবে এফবিআইয়ের সার্ভারে প্রবেশ করে এবং মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে চুরি করা তথ্যের নমুনা ও স্ক্রিনশট পাঠাতে শুরু করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্যের একটি ছোট অংশ বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে, এগুলো প্রাথমিকভাবে সত্যিকারের বলেই মনে হচ্ছে। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ফাঁস হওয়া তথ্যে এফবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, কর্মস্থলের বিবরণ ছাড়াও চীনা গুপ্তচর, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফ্রান্স থেকে কার্যক্রম শুরু করা ‘শাইনি হান্টার্স’ এর আগেও রকস্টার গেমস এবং শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যানভাসে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালিয়ে আলোচনায় এসেছিল। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ওরাকল ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থার একটি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এফবিআইজবস, কর্মী যাচাইয়ের ব্যবস্থা এফবিআই বিস্ট, চিকিৎসা সংক্রান্ত এফবিআই মেডলিংক এবং তদন্তসংক্রান্ত ডেটাবেস এফবিআই বিকস-এ প্রবেশ করেছে। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই সাইবার হামলার পেছনে কোনো আর্থিক উদ্দেশ্য নেই। গত মে মাসে এফবিআই শাইনি হান্টার্সকে ‘হুমকি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল। হ্যাকারদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির এই ‘মিথ্যা অভিযোগ’ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে হবে, অন্যথায় চুরি করা পুরো তথ্যভান্ডার জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে এফবিআই খতিয়ে দেখছে এই সাইবার হামলা তাদের নিজস্ব কোনো সিস্টেমে হয়েছে নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে ঘটেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রাইট এই ঘটনাটিকে এফবিআইয়ের ওপর একটি ‘প্রতিশোধমূলক হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে সাইবার দুনিয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তবে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেসের বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ব্র্যান্ডট মনে করেন, সরাসরি এমন হুমকির ফলে এফবিআই হ্যাকারদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের ফি, ট্রাম্পের প্রস্তাবে আপত্তি টেক জায়ান্টদের
যুক্তরাষ্ট্রে ডিটেনশন সেন্টার সম্প্রসারণে পরিকল্পনাহীন ব্যয়, আইসিইর কোটি কোটি ডলার অপচয়
নিউইয়র্কে সোনা খুঁজতে ম্যানহোলে নেমেছিলেন দুই ভেনেজুয়েলান, ভাগ্যে জুটল পুলিশের হা তকড়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলো জনপ্রিয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর পেন্টাগন যে সামরিক চুক্তির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তা স্থগিত করতে শুক্রবার অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া সার্কিটের ইউএস কোর্ট অফ আপিলস এই রায় প্রদান করে। পেন্টাগনের 'সাপ্লাই চেইন রিস্ক' বা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি হিসেবে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যানথ্রপিক মূলত এই মামলাটি দায়ের করেছিল। স্টার্টআপটির দাবি, সামরিক চুক্তি থেকে বাদ পড়ার ফলে তাদের ব্যবসা থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে, বহুল প্রতীক্ষিত ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) বা শেয়ারবাজারে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে এই নিষেধাজ্ঞা তাদের সুনামের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আদালতের এই রায়ের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে, তারা বিনয়ের সঙ্গে আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তবে নিজেদের আইনি অবস্থানের বিষয়ে তারা এখনো আত্মবিশ্বাসী এবং প্রয়োজনে আরও উচ্চতর বিচারিক পর্যালোচনাসহ অন্যান্য আইনি বিকল্পগুলোর কথা গভীরভাবে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর একজন ফেডারেল বিচারক ভিন্ন একটি আইনের অধীনে করা একই ধরনের একটি নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ বাতিল করে দিয়েছিলেন। ওই বিচারক তার রায়ে জানিয়েছিলেন যে, এআই নিরাপত্তার বিষয়ে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই মার্কিন প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের ওপর এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে ৮১ বছরেও দিনে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন ডন
২০২০ সাল থেকে নিখোঁজ! অবশেষে বাড়ির আঙিনায় মিলল দেহাবশেষ
চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে নাস্তানাবুদ ট্রাম্প! ডিনারে নির্ধারিত বক্তব্যের বাইরে ‘বিশেষ আয়োজনের’ ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফর চলাকালে একটি জলাধার থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ও তাঁর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন কোরালভিলের বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষক হান্না জর্গেনসেন, বয়স ২৪ বছর, এবং শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান, বয়স ১০ বছর। তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কোরালভিল জলাধারের পানি ছাড়ার স্থানের কাছে দুজন পানিতে থাকার খবর পায় কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই হান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহমেদের মরদেহ পাওয়া যায় পরদিন। তাঁরা কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, তা কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি। আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিল। ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহায়তায় কাউন্সেলর রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইওয়ার গভর্নর কিম রেনল্ডসও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সোশ্যাল সিকিউরিটির পূর্ণ অবসরভাতা ৬০ বছরেই! তবে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়
নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? সারাবছর নিয়োগ হয়, জেনে নিন এমন ১০ পেশা