আবারো মিনেসোটায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভূমিধস জয় ইলহান ওমরের
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে যাওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সোমালি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন রাজনীতিক।
সিবিএস নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, প্রাইমারিতে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জুলি টি লে, আবেনা ম্যাকেঞ্জি, লাটোনিয়া রিভস ও নাট শ্লুটার। তবে তাদের কেউই বর্তমান কংগ্রেসওম্যানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি।
মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি। মিনিয়াপোলিসসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনকে মিনেসোটার সবচেয়ে ডেমোক্রেটিক ঝোঁকসম্পন্ন কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৮ সালে প্রথমবার এই আসন থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ওমর। একই বছরের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে তার জয়ের ব্যবধান ছিল ১৩ পয়েন্ট।
এবারের প্রাইমারিতে পরিস্থিতি ছিল আরও স্বস্তিদায়ক। আগের কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। শেষ পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে তার শক্ত অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো।
ওমরের প্রধান রাজনৈতিক অবস্থানগুলোর একটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির বিরোধিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউনের বিরুদ্ধে লড়াইকে নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে ওমরের কঠোর সমালোচক।
প্রাইমারির ঠিক আগমুহূর্তে ইলহান ওমরের একটি টাউন হলের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের একজন আন্ডারকভার এজেন্টের উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
ওমরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট রিচফিল্ডে তার টাউন হল চলাকালে কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে ওই এজেন্টকে একটি গাড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর ওমর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
ওমরের অভিযোগ, ওই এজেন্ট কেন তার কংগ্রেশনাল অনুষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি কীভাবে টাউন হলের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ওই কর্মকর্তা কোনো রাজনৈতিক নজরদারির অংশ হিসেবে সেখানে ছিলেন কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি।
তবে ওই এজেন্ট স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি আন্ডারকভার ড্রাগ অপারেশনের কাজে সেখানে ছিলেন। এ কারণে ওমরের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল, এমনটি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি।
নিরাপত্তা নিয়ে ওমরের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনাও রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে একটি টাউন হলের সময় এক ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে এসে একটি তরল পদার্থ ছুড়ে মারেন। পরে সেটি আপেল সিডার ভিনেগার হিসেবে শনাক্ত হয়। ঘটনার পরও ওমর অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং জানান, তাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না।
এদিকে পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জন নাগেল ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট নিয়ে জয়ী হওয়ার প্রজেকশন পেয়েছেন। ফলে নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন তিনি।
তবে ডিস্ট্রিক্টটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল বিবেচনায় সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরই শক্তিশালী অবস্থানে থাকছেন। ১১ আগস্টের প্রাইমারিতে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটের এই জয় সেই অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান আনন্দঘন ও দ্বীনি পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ আগস্ট মাদরাসার ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-উলামা ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন মাওলানা জিল্লুর রহমান উদ্দিন ও মুফতি রবিউল ইসলাম। পরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন মাওলানা সাদিকুর রহমান ও মাওলানা মুহাম্মদ সালমান। শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত দ্বীনি জ্ঞান ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরে। পরবর্তীতে দারুল উলূম মিশিগানের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ তাজ উদ্দীন বক্তব্য দেন। তিনি মাদরাসার অগ্রগতি, ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব এবং নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ, আদব-আখলাক ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আরিফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা মাওলানা শায়খ আসগর হুসাইন হাফিযাহুল্লাহ। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে নসিহত করেন। তাঁর বক্তব্যে দ্বীনি ইলম অর্জন, নেক আমল, উত্তম চরিত্র গঠন এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মাওলানা বরকতুল্লাহ আশরাফ নাশিদ পরিবেশন করেন। পরে মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের মাঝে যোহরের নামাজ আদায় করা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উস্তাদদের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী ও গিফট ব্যাগ বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণে পুরো মাদরাসা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তারা প্রবাসে বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশু-কিশোরদের মধ্যে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী পরিচয়, আদব-আখলাক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি একটি আদর্শ ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়। দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টা ও ত্যাগেরও উদযাপনে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, দারুল উলূম মিশিগানের উত্তরোত্তর উন্নতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়।
মায়ের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন চাকরি, ২৩ বছর পর তার হাতেই প্রাণ গেল মেয়ের
আবারো মিনেসোটায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভূমিধস জয় ইলহান ওমরের
মার্কিন নাগরিকের দিকে বন্দুক তাক করলেন আইসিই এজেন্ট, ভিডিওতে ধরা পড়ল ভয়ংকর মুহূর্ত
নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমের ওপর নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক। নিজেদের প্রাইমারি রেসিডেন্সকেও ভুলভাবে এই ট্যাক্সের আওতাভুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে কয়েকজন বাড়ির মালিক মামলা করার পর আদালত এ আদেশ দেন। রিচমন্ড কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওয়েন ওজি সোমবার একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সকে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার আবাসিক প্রপার্টির একটি প্রকাশিত তালিকা সরিয়ে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে পাঠানো নোটিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতেও সাময়িকভাবে বাধা দেওয়া হয়। তবে এই আদেশের পর নিউইয়র্ক সিটি আপিল করেছে। আপিলের কারণে বিচারকের অস্থায়ী আদেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত হয়েছে। মামলার পরবর্তী হিয়ারিং নির্ধারিত রয়েছে ৩১ আগস্ট। ফলে নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। মূল বিরোধ ট্যাক্সটি বৈধ কি না, তা নিয়ে নয়। মামলাকারীদের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ট্যাক্স কার্যকরের পদ্ধতি। তাদের অভিযোগ, কোন বাড়ি প্রকৃতপক্ষে সেকেন্ড হোম তা আগে নিশ্চিত করার বদলে সিটি কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক প্রপার্টিকে সম্ভাব্য তালিকায় রেখেছে এবং অনেক মালিকের ওপর নিজেদের বাড়ি প্রাইমারি রেসিডেন্স প্রমাণ করার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স মূলত এমন উচ্চমূল্যের আবাসিক প্রপার্টির জন্য, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। চলতি বছরের শুরুতে মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই উদ্যোগ সামনে আনেন। তাদের লক্ষ্য ছিল বিলাসবহুল সেকেন্ড হোম থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করে নিউইয়র্ক সিটির বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করা। প্রাথমিক প্রস্তাবে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমকে লক্ষ্য করার কথা বলা হলেও পরে অনুমোদিত কাঠামোয় প্রপার্টির ধরন অনুযায়ী মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়। এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্য এবং কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ১০ লাখ ডলার থেকে ট্যাক্সের আওতায় আসার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের শুরুতেই বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার প্রপার্টির তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি প্রায় ১৭ হাজার বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠানো হয়। এর মধ্যে এমন অনেক মালিক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা সংশ্লিষ্ট বাড়িতেই নিয়মিত বসবাস করেন এবং সেটিই তাদের প্রাইমারি রেসিডেন্স। মামলাটি করেছেন র্যাচেল ও’ব্রায়েন, কারমাইন মোরানো ও সাইমন হেডলি। তাদের দাবি, সিটির পদ্ধতির কারণে প্রকৃত নিউইয়র্কবাসীকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজেদের বসবাসের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। মামলায় তারা ট্যাক্সের মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে এটি বাস্তবায়নে ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের ব্যবহৃত প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। মামদানি প্রশাসনের যুক্তি, নিউইয়র্কে উচ্চমূল্যের সেকেন্ড হোম থাকা ধনী ও শহরের বাইরে বসবাসকারী মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা হলে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর ওপর নতুন চাপ না দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ সিটি সার্ভিসে অর্থায়ন সম্ভব হবে। মেয়র ও গভর্নর উদ্যোগটি ঘোষণার সময় বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। তবে নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের অফিসের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ট্যাক্সটির নকশা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রকৃত রাজস্ব নির্ভর করবে। তাদের হিসাবে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৫১ কোটি ডলার সংগ্রহ সম্ভব হলেও বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে তা ৩৪ কোটি থেকে ৩৮ কোটি ডলারের মধ্যেও নেমে আসতে পারে। এখন আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সিটি কর্তৃপক্ষ ট্যাক্সের আওতাভুক্ত প্রপার্টি চিহ্নিত করতে আইনসম্মত ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে কি না। ৩১ আগস্টের পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিংয়ে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে। তার আগে মামদানি প্রশাসনের বহুল আলোচিত এই নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন ঘিরে আইনি অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকছে।
নিউইয়র্কে ড্রাইভিং টেস্টে ফেল হওয়ার বড় ৩ কারণ, শুরুতেই যা যাচাই করেন ইন্সপেক্টর
তালেবান শাসনে স্কুলে ফিরতে পারছে না ২৪ লাখ আফগান মেয়ে, মুছে যাচ্ছে দুই দশকের অগ্রগতি
স্যান্ডউইচে বন্দুকের আকৃতি বানিয়ে সহপাঠীকে তাক করায় ৬ বছরের অটিজম শিশু বরখাস্ত
মেক্সিকো ভ্রমণে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের খরচ আরও বাড়ছে। দেশটির জনপ্রিয় কয়েকটি ক্রুজ পর্যটনকেন্দ্রে নামা বিদেশি যাত্রীদের প্রবেশ ফি ৫ ডলার থেকে দ্বিগুণ করে ১০ ডলার করা হয়েছে। নতুন ফি গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। মেক্সিকোর ধাপে ধাপে কর ও ফি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে জনপ্রিয় ক্রুজ গন্তব্য কাবো সান লুকাস, পুয়ের্তো ভালার্তা, কোজুমেল ও কোস্টা মায়া। ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পয়েন্টস গাই’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ক্লিন্ট হেন্ডারসন বলেন, ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর ও ফি ক্রমেই বাড়ছে। ফলে মেক্সিকো ভ্রমণের মোট খরচও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে ১০ ডলারের এই ফি-ই শেষ নয়। মেক্সিকোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ফি বেড়ে ১৫ ডলার হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে তা ২১ ডলারে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, আগামী দুই বছরে জনপ্রিয় এসব পর্যটনকেন্দ্রে ক্রুজযাত্রীদের প্রবেশ ফি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। মেক্সিকো অবশ্য এর আগে আরও বেশি ফি আরোপের পরিকল্পনা করেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের জন্য ৪২ ডলারের একটি ফি পুনর্বহাল করা হয়েছিল। তবে ক্রুজ শিল্পের ব্যাপক আপত্তির পর তা কমিয়ে ৫ ডলার করা হয়, যা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছিল। এবার নতুন করে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভ্রমণ খাতে খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ক্রুজ ভ্রমণে গেলে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ফি মোট খরচে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু মেক্সিকো নয়, সামগ্রিকভাবেই ক্রুজ ভ্রমণের খরচ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি, খাবার, কর্মী ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ক্রুজ কোম্পানিও অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়াভিত্তিক স্টারড্রিম ক্রুজেস এশিয়াগামী কিছু ভ্রমণে দৈনিক জ্বালানি সারচার্জ চালু করেছে। যাত্রাপথ অনুযায়ী এই অতিরিক্ত ফি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৬ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া সেলিব্রিটি ক্রুজেস প্রতিদিনের গ্র্যাচুইটি বা সেবা ফিও যাত্রীপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার বাড়িয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফলে মেক্সিকোর নতুন প্রবেশ ফি কেবল একটি অতিরিক্ত খরচ নয়; বরং কর, জ্বালানি ও সেবা ফি সব মিলিয়ে ক্রুজ ভ্রমণের সামগ্রিক ব্যয় বাড়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হয়ে উঠছে।
ব্রঙ্কসে বাড়ির সামনে নারীকে গুলি, দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ
নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা