আশ্রয়ের শিশুরা যেন ভাইবোনের থেকে বিছিন্ন না হয়, ২২ মিলিয়ন ডলারের গ্রাম গড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল
ক্যালিফোর্নিয়ার ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় কোনো শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যেন নিজের ভাইবোনকেও হারিয়ে না ফেলে, সেই লক্ষ্য নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেল। তার উদ্যোগে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পালমডেলে গড়ে উঠছে বিশেষ একটি ফস্টার কেয়ার ভিলেজ, যেখানে একই পরিবারের একাধিক ভাইবোনকে একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
বেলের এই উদ্যোগের শুরু ২০০৮ সালের দিকে। নিজের সন্তান হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় থাকা শিশুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, অনেক ক্ষেত্রেই ফস্টার কেয়ারে প্রবেশের পর ভাইবোনদের আলাদা বাড়িতে পাঠানো হয়। পরিবার হারানোর ধাক্কার পাশাপাশি পরিচিত ভাই বা বোনের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
শুধু অর্থ দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বেল দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে চিকিৎসক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক ড. এরিক এসরাইলিয়ানের সঙ্গে মিলে তিনি টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়া নামে অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ কাজে ফস্টার কেয়ার নিয়ে অভিজ্ঞ টিম ম্যাককরমিকও যুক্ত হন।
পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে অবশ্য দীর্ঘ সময় লেগেছে। জমি খোঁজা, সরকারি অনুমোদন, অর্থ সংগ্রহ, পরিকল্পনা তৈরি এবং কোভিড মহামারির কারণে নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পালমডেলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয়।
প্রায় ৪ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপর তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ কমিউনিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ১২টি ফ্যামিলি হোম থাকবে। প্রতিটি বাড়িতে প্রশিক্ষিত ফুলটাইম ফস্টার প্যারেন্টের তত্ত্বাবধানে একই পরিবারের সর্বোচ্চ ছয় ভাইবোন একসঙ্গে থাকতে পারবে।
এখানেই শেষ নয়। প্রকল্পটিতে দুটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টও রাখা হচ্ছে। ফস্টার কেয়ার থেকে বয়সের কারণে বেরিয়ে আসা তরুণদের সাময়িক আবাসন এবং সন্তানদের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা জন্মদাতা বাবা-মায়ের থাকার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হবে।
পুরো গ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে প্রায় ৭ হাজার বর্গফুটের একটি কমিউনিটি সেন্টার। শিশু ও ফস্টার পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও সহায়তামূলক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির জন্যও কেন্দ্রটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে খোলা জায়গা, বাগান ও বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমদিকে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার ধরা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে মোট ব্যয় আরও বাড়ার কথা উঠে এসেছে। অর্থের পুরোটা ক্রিশ্চিয়ান বেল ব্যক্তিগতভাবে দিচ্ছেন না। সরকারি সহায়তা, বিভিন্ন দাতা এবং বেসরকারি অনুদানের সমন্বয়ে প্রকল্পটির অর্থায়ন হচ্ছে। ২০২২ সালে জমি কেনার জন্য পালমডে সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারস মিলিয়ে ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তাও দিয়েছিল।
বেল নিজেও কখনো দাবি করেননি যে পুরো প্রকল্পটি তার নিজের অর্থে তৈরি হচ্ছে। বরং প্রায় দুই দশক ধরে পরিকল্পনাটি টিকিয়ে রাখা, সহযোগী ও দাতা খুঁজে বের করা এবং প্রশাসনিক বাধা অতিক্রম করে বাস্তব নির্মাণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তার ভূমিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ উদ্বোধনের সময় তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পটির প্রতিটি ধাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান এবং ভবিষ্যতে এমন আরও কমিউনিটি তৈরি হওয়ার আশা করেন।
প্রকল্পটি এখন দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১২টি বাড়ির কাঠামো নির্মাণ অনেকটাই এগিয়েছে। টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনায় ২০২৬ সালেই বাসিন্দাদের সেখানে ওঠার সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিশ্চিয়ান বেলের কাছে এই উদ্যোগের মূল বিষয়টি আবাসন নয়, বরং পরিবার। একটি শিশু যখন ফস্টার কেয়ারে যায়, তখন নিজের বাড়ি ও বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এর সঙ্গে যেন তাকে ভাইবোনদেরও হারাতে না হয়, সেই ধারণাই টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো মডেলের ভিত্তি।
‘ব্যাটম্যান’ চরিত্রে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ক্রিশ্চিয়ান বেল এবার পর্দার বাইরের একটি দীর্ঘ লড়াইকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন। ২০০৮ সালের একটি ভাবনা থেকে শুরু হওয়া পথটি প্রায় ১৮ বছর পর এমন একটি গ্রামে পরিণত হচ্ছে, যার প্রধান উদ্দেশ্য একটাই, ফস্টার কেয়ারে গেলেও ভাইবোন যেন একে অপরকে হারিয়ে না ফেলে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলার সাত বিবাদীকে নিয়ে একটি ওয়েবসাইট খুলেছেন ‘সাউথ পার্ক’-এর সাবেক লেখক টবি মর্টন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইটটিতে সাতজনের জন্য আলাদা পাতা রাখা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ২০২৪ সালে কর্নেলের ‘চি ফাই’ ছাত্রসংগঠনের একটি ভবনে তাঁকে মাদক সেবনে বাধ্য করে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ছাত্রী। পরিচয় গোপন রেখে তিনি চলতি সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, সংগঠনটির কয়েকটি শাখা ও বর্তমান ও সাবেক সাত শিক্ষার্থীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। মর্টন জানিয়েছেন, মামলার নথি, সংবাদ প্রতিবেদন ও এ বিষয়ে পাওয়া তথ্য তিনি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে চান। সেখানে সাত বিবাদীর নামে আলাদা পাতা থাকলেও সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর তৈরি সাইটটি কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার প্রকাশনা নয়। কর্নেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হয়েছে এবং ‘চি ফাই’-এর সংশ্লিষ্ট শাখা এখনো ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যসংক্রান্ত আইনের কারণে কার বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তাঁর দপ্তর অভিযোগটি নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত আবার শুরু করছে। নতুন করে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এর আগে এ ঘটনায় কাউকে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়নি। সাত বিবাদীর একজনের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে ওয়েবসাইটে কারও নাম প্রকাশ এবং দেওয়ানি মামলায় অভিযোগ আনার বিষয়টি অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়।
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউ জার্সির বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় দেখা গেল হাঙর, ভিডিওতে চাঞ্চল্য
‘কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিনিদের সরাতে এইচ-১বি নয়’: এক লাখ ডলারের শর্তের পক্ষে ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস আসন্ন মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিশিগানের ভোটারদের এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়। সম্পাদকীয়তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে নিয়ে পত্রিকাটি তীব্র সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করেছে। সেখানে রজার্সকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন যা পত্রিকাটির মতে মিশিগানের মূলধারার মানুষের অবস্থান থেকে অনেক দূরে। তবে ‘চরমপন্থী’ শব্দটি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয় মূল্যায়ন, কোনো নিরপেক্ষ সরকারি বা আদালতের শ্রেণিবিন্যাস নয়। রজার্সের প্রচারণা এখনো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নিয়ে এমন সমালোচনা থাকলেও সেই প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ নন। এরপর পত্রিকাটি এল-সায়েদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রচারণার বিষয় তুলে ধরে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে। মিশিগানের সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, আর রিপাবলিকানদের প্রার্থী মাইক রজার্স। দুজনই ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এল-সায়েদ এর আগে ওয়েইন কাউন্টি ও ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ম্যালরি ম্যাকমরো এবং হ্যালি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলে দলের প্রার্থী হন। প্রাইমারির আগে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অবশ্য অন্য প্রার্থী ম্যালরি ম্যাকমরোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল। অন্যদিকে রজার্স মিশিগান থেকে সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি। চলতি নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে নির্বাচনী বিতর্কও নির্ধারিত হয়েছে। ৮ অক্টোবর গ্র্যান্ড র্যাপিডসে একটি বিতর্ক এবং ২১ অক্টোবর ডেট্রয়েটে আরেকটি বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সমর্থনও দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২২ সেপ্টেম্বর এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানান। এর আগে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সসহ কয়েকটি সংগঠনও এল-সায়েদকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্র ডেট্রয়েট নিউজ চলতি মাসের শুরুতে রজার্সের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে মিশিগানের দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় সমর্থন দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে গেছে। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অতীতের দুই মিশিগান সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছিল। তাই এবারের সমর্থনকে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংবাদপত্রের সমর্থন নিজে থেকে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, জাতীয় রাজনীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে মিশিগানের সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচারণা ও বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস, ডেট্রয়েট নিউজ, নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর থেকে বদলাচ্ছে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সহায়তার নিয়ম, যা জানা জরুরি
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ আই এর ঝুঁকি নিয়ে বুঝাতে আগ্রহী বিল গেটস
ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন বেশি ২২ দশমিক ৪ পয়েন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে আইআরএস। এতে কর ফেরতের অগ্রগতি দেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখা ও কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। এটি আগের ‘আইআরএসটুগো’ অ্যাপের জায়গা নিয়েছে। কর ফেরতের অবস্থা জানতে অ্যাপে সাইন ইন করতে হবে না। সাইন ইন ছাড়াই নির্দিষ্ট কর পরিশোধ এবং বিনামূল্যে কর রিটার্ন দাখিলের সহায়তা খোঁজার সুবিধাও থাকছে। তবে সাইন ইন করলে করের বকেয়া, আগের পরিশোধের তথ্য, আইআরএসের পাঠানো নির্দিষ্ট চিঠি এবং করসংক্রান্ত নথি দেখা যাবে। সংশোধিত রিটার্নের ফেরতের অবস্থাও দেখা যাবে। আইআরএস জানিয়েছে, চালুর সময় অ্যাপে অনলাইন অ্যাকাউন্টের সব সুবিধা থাকছে না। যাঁদের ফোনে আগে থেকেই ‘আইআরএসটুগো’ আছে, তাঁদের আলাদা অ্যাপ নামাতে হবে না। স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলে পুরোনো অ্যাপটি নতুন সংস্করণে বদলে যাবে। অ্যাপটি বিনামূল্যে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লেতে পাওয়া যাচ্ছে। আইআরএসের নামে নকল অ্যাপ বা বার্তা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে সংস্থাটি। আসল অ্যাপ খুঁজতে আইআরএসের ওয়েবসাইটে থাকা যাচাইকৃত লিংক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা বা ইমেইলে আইআরএস ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চায় না বলেও জানিয়েছে।
সপ্তাহে ছয় দিন যেতেন ডেটে, দুই বছরে ১৫ হাজার ডলার সাশ্রয় করলেন নারী
নিউ ইয়র্কে মায়েদের জন্য ফর্মুলা ও খাবার সহায়তা, উইকে আবেদন করবেন যেভাবে জানুন