ক্যালিফোর্নিয়া

ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা ওয়াহাব। ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত আয়েশা ওয়াহাব

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে তিনি এই ইতিহাস গড়েন।   বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনের সব ভোট গণনা শেষে ওয়াহাব ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। এই ফলের মাধ্যমে কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো।   এই আসনটি সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের পদত্যাগের পর শূন্য হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদ ছেড়ে দেন। সেই শূন্য আসন পূরণ করতেই বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   আয়েশা ওয়াহাব এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম এবং প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। এবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাইলফলক তৈরি করলেন।   ওয়াহাব ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে তুলনামূলকভাবে প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থনও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।   অন্যদিকে মেলিসা হার্নান্দেজ ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়ে প্রচার চালান। তার নির্বাচনী প্রচারে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দেয়। পলিটিকোর তথ্য অনুযায়ী, হার্নান্দেজের প্রচারে প্রায় ৩০ লাখ ডলার সহায়তা দেয় সংগঠনটি।   জুলাই থেকে দুই প্রার্থীর প্রচারে মোট প্রায় ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখ ডলার হার্নান্দেজের প্রচারে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   জয়ের পর ওয়াহাব বলেন, নির্বাচনী এলাকায় বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থ ব্যয় এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মধ্যেও ভোটাররা তাকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, ভোটাররা প্রচারের বিভিন্ন দাবির পরিবর্তে নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   তবে এই বিশেষ নির্বাচনের ফলেই দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হচ্ছে না। আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও ওয়াহাব ও হার্নান্দেজ মুখোমুখি হবেন।   হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, নতুন করে নির্ধারিত কংগ্রেসনাল মানচিত্রে ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে প্রায় ২৬ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। তার দাবি, এর ফলে নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি ওয়াহাবের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে জয় পাওয়ার সুযোগ দেখছেন।   বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আয়েশা ওয়াহাব এখন কংগ্রেসে আফগান-আমেরিকান প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। তবে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনেও তাকে নিজের আসন ধরে রাখার জন্য আবারও ভোটারদের সমর্থন চাইতে হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হারে ক্যালিফোর্নিয়ার সব হাইস্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে সান ফ্রান্সিসকোর মিশন হাইস্কুল। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার কোন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়! তালিকায় চমকপ্রদ তথ্য

ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমে ভর্তির নতুন পরিসংখ্যানে চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ফল অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর মিশন হাইস্কুল ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হারে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি সব হাইস্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে।   ইউসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিশন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ স্কুলটির গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মিশন হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গড় জিপিএ ছিল ৩.৯৩, আর যারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদের গড় জিপিএ ছিল ৪.০৮।    মিশন হাইস্কুলের এই সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য, কারণ স্কুলটিতে আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসি বার্কলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে।    তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রেসনোর এডিসন হাইস্কুল। স্কুলটি থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৬২ জনের মধ্যে ২১ জন ভর্তি হয়েছে, যা ৩৪ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার। এরপর রয়েছে ইউসিএলএর জেফেন একাডেমি, যেখানে ৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ জন ভর্তি হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৩১ শতাংশ।    বে এরিয়ার আরও কয়েকটি হাইস্কুলও ইউসি বার্কলিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। রেডউড সিটির স্ট্যানফোর্ড অনলাইন হাইস্কুলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ২৭ শতাংশ। অকল্যান্ডের বেসরকারি বিশপ ও’ডাউড হাইস্কুলেও একই হার দেখা গেছে। বার্কলে হাইয়ের হার ছিল ২৩ শতাংশ, এল সেরিটো হাইয়ের ২৩ শতাংশ, হারকিউলিস হাইয়ের ২২ শতাংশ এবং ড্যানভিলের সান রামন ভ্যালি হাইয়ের ২২ শতাংশ।    অন্যদিকে, কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ক্যাম্পবেলের ওয়েস্টমন্ট হাইস্কুলে এই হার ছিল ৪ শতাংশ, এলক গ্রোভের প্লেজ্যান্ট গ্রোভ হাইস্কুলে ৪ শতাংশ এবং ওয়েস্ট স্যাক্রামেন্টোর রিভার সিটি হাইস্কুলে ৫ শতাংশ।   ২০২৫ সালের সামগ্রিক ইউসি ভর্তি চিত্রেও কিছুটা স্বস্তির খবর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য। রাজ্যের যেসব শিক্ষার্থী ইউসি ক্যাম্পাসে আবেদন করেছিল, তাদের ৭৭ শতাংশের বেশি অন্তত একটি ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতার হার।    তবে ইউসি সিস্টেমের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তি এখনও কঠিন। ২০২৫ সালের হিসাবে ইউসিএলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯.৪ শতাংশ এবং ইউসি বার্কলির ১১.৪ শতাংশ। এরপর ইউসি সান দিয়েগোর ২৮.৪ শতাংশ, ইউসি আরভাইনের ২৮.৭ শতাংশ এবং ইউসি সান্তা বারবারার ৩৮.৩ শতাংশ।    বিষয়ভেদেও ভর্তির প্রতিযোগিতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। ইউসি বার্কলিতে পাবলিক হেলথ ছিল সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিষয়গুলোর একটি, যেখানে গ্রহণযোগ্যতার হার মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ। ইউসিএলে নার্সিংয়ে ভর্তি সবচেয়ে কঠিন ছিল, গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ।    বে এরিয়ার আরও কিছু হাইস্কুল ইউসি মার্সেড ও ইউসি রিভারসাইডে প্রায় শতভাগ ভর্তি সাফল্য দেখিয়েছে। ইউসি মার্সেডে সান ফ্রান্সিসকোর ১৩টি হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ১০০ শতাংশ। পুরো ইউসি মার্সেড ক্যাম্পাসের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯৫.১ শতাংশ। ইউসি রিভারসাইডের সামগ্রিক হার ছিল ৮৭.১ শতাংশ।    এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুল থেকে ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইউসি বার্কলির মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসে মিশন হাইস্কুলের ৪৫ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সাফল্যকে আরও নজরকাড়া করে তুলেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে কু পিয়ে খু ন, গ্রেপ্তার ১৯ বছরের তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ব্যস্ত শপিং মলের বাইরে ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২০ জুলাই ক্যাপিটোলা মলের কাছে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত হন র‍্যাচেল সামার্স নামের ওই নারী।   তিনি স্থানীয় ‘আর্ট অব সান্তা ক্রুজ’ নামের একটি শিল্পগ্যালারির ব্যবস্থাপক ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত টাইলার লেইবেলের সঙ্গে নিহত র‍্যাচেলের আগে থেকে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন একটি হামলা। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নিজেই জরুরি নম্বরে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং রক্তমাখা পোশাকসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।   তবে তদন্ত এগোতেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের ভয়ংকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। আদালতে দাখিল করা নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, টাইলার লেইবেল আগে থেকেই মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি হামলার দিন ক্যাপিটোলা মলে যাওয়ার আগেও তিনি অন্য কাউকে হত্যার ছক কষেছিলেন, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে গিয়ে র‍্যাচেল সামার্সকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।   জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও বড় ধরনের প্রাণহানির হুমকি দেওয়ায় সান্তা ক্রুজ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত জরুরি সুরক্ষা আদেশ চেয়েছিল। মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া এই তরুণ বহু মানুষকে হত্যার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে একটি বিদায়পত্রও লিখেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   এই ঘটনায় অভিযুক্ত লেইবেলের বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার (ফার্স্ট-ডিগ্রি) হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও ওত পেতে থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ৮ অক্টোবর মামলার প্রাথমিক শুনানির দিন ধার্য করেছেন।   এদিকে, সদ্য নানি হওয়া র‍্যাচেল সামার্সের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্যাপিটোলা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার নাতির ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার ৭১২ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে। অতীতে একাধিকবার সহিংসতার ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও কেন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এড়ানো গেল না, তা নিয়েই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি কিনে আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক টনি উ। ছবি: সংগৃহীত
ছয় বছরের পেশাজীবনে ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ি কিনলেন তরুণ এআই গবেষক টনি উ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিবিদদের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।এরই আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চীনে জন্ম নেওয়া তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ইউহুয়াই ‘টনি’ উ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়িটি টনি উ নিজের নামে কিনেছেন—এমন প্রমাণ প্রকাশ্য নথিতে পাওয়া যায়নি। সম্পত্তির মালিক হিসেবে নথিতে রয়েছে ডাইকন নো হানা ক্যাপিটাল এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। বিভিন্ন সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম তাঁকেই এই সম্পত্তির সম্ভাব্য প্রকৃত ক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার হিলসবোরো শহরের ৩০০০ র্যালস্টন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এই বিশাল সম্পত্তির নাম ‘ভিলা দে ভেরানো’। প্রায় ১২ একর জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি ইতালির লেক কোমোর বিলাসবহুল স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি।বাড়িটির মূল ভবনের আয়তন প্রায় ১২ হাজার বর্গফুট। সেখানে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বর্গফুটের আলাদা অতিথিশালা। বিলাসবহুল এই সম্পত্তিতে থাকার ব্যবস্থা ছাড়াও বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। রয়েছে ব্যায়ামাগার, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কক্ষ, স্পা, গোলাপবাগান, প্রতিফলন পুকুর এবং প্রায় ২ হাজার ১০০ গ্যালন ধারণক্ষমতার লবণাক্ত পানির অ্যাকুরিয়াম।   ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য রয়েছে টেনিস কোর্ট, পিকলবল খেলার মাঠ, ভলিবল কোর্ট, বোচে খেলার জায়গা, পাটিং গ্রিন এবং নয়-গর্তের গলফ কোর্স। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ১৫০ আসনের উন্মুক্ত মঞ্চ।বাড়িটি নির্মাণ ও সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছেন স্থপতি অ্যান্ড্রু স্কারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ সুজান টাকার। পুরো সম্পত্তিকে অনেকটা ব্যক্তিগত অবকাশকেন্দ্রের আদলে সাজানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রায় চার মাস বাজারে থাকার পর এর দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ডলারে সম্পত্তিটি হাতবদল হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২৩ টাকা ধরে ৭ কোটি ডলারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রকৃত মূল্য কিছুটা কমবেশি হতে পারে।৩১ বছর বয়সী ইউহুয়াই ‘টনি’ উ একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন।   টনি উ ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি ওপেনএআই এবং গুগল ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও গবেষণামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।তাঁর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো যন্ত্রকে মানুষের মতো যুক্তি প্রয়োগ, গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং জটিল বিষয় বিশ্লেষণে আরও দক্ষ করে তোলা।   ২০২৩ সালে ইলন মাস্ক এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করার সময় যে ছোট দলটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন, টনি উ ছিলেন সেই দলের একজন।২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআই থেকে তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। পরে তিনি বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে কাজ করা একটি নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মাত্র ছয় বছরের পেশাজীবনে টনি উ ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির মালিক হয়েছেন। তবে এই বক্তব্য পুরোপুরি নির্ভুল নয়।টনি উ-এর গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম ছয় বছরের চেয়েও পুরোনো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনা, গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণামূলক কাজের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন।   তাঁর বিপুল সম্পদের প্রকৃত পরিমাণও প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। এক্সএআইয়ে তাঁর মালিকানার অংশ কত ছিল, বিভিন্ন চুক্তি থেকে তিনি কত অর্থ পেয়েছেন কিংবা বাড়িটি কেনার অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এ কারণে তাঁকে সরাসরি ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির ব্যক্তিগত মালিক হিসেবে উল্লেখ করার পরিবর্তে বলা বেশি নির্ভুল যে, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি ডলারের সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিপুল মূল্যের বাড়ি কেনার খবর ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে টনি উ নিজে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত উত্থান যে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য অভূতপূর্ব আর্থিক সুযোগ তৈরি করেছে, টনি উ-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই সম্পত্তি কেনার ঘটনা তারই একটি আলোচিত উদাহরণ। তবে বাড়িটির প্রকৃত ব্যক্তিগত মালিকানা এবং টনি উ-এর মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করা থেকে বিরত থাকাই যুক্তিসঙ্গত।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার কার্ন কাউন্টিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক মা ও তার দুই মেয়ে নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও দুই মেয়ে নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কনসার্ট থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মা ও তার দুই কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, গত রবিবার ভোরে কার্ন কাউন্টির বেকার্সফিল্ডের কাছে মহাসড়কে এই ভয়াবহ হেড-অন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।   নিহত তিন জন একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড কারে করে ভ্রমণ করছিলেন এবং দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।   পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে খোলা একটি তহবিল সংগ্রহের পেজে নিহতদের নাম ভ্যানেসা এবং তার দুই কন্যা ক্লোই ও কাইলি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।   নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ক্লোইয়ের আসন্ন সপ্তদশ জন্মদিন উদ্‌যাপন উপলক্ষে ফ্রেসনো শহরে একটি কনসার্টে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তারা এবং অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অন্য একটি গাড়ি ভুল দিক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে এসে বিপরীত দিক থেকে চলা গাড়িগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়।   এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় বিএমডব্লিউ গাড়ির চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অন্য একটি গাড়ির দুই আরোহী সামান্য আঘাত পেয়েছেন।   দুর্ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবস ও ১৭ বছর বয়সী তরুণী সারাহ আবদিন। ছবি: সংগৃহীত
সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলার পর শিশুদের পাশে দাঁড়ানো তরুণীর প্রশংসা কংগ্রেস সদস্যের, পেলেন বিশেষ স্বীকৃতি

সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে প্রাণঘাতী হামলার পর সেখানকার শিশুদের জন্য ঈদ উপহারের ব্যাগের উদ্যোগ নেওয়া ১৭ বছর বয়সী সারাহ আবদিনের প্রশংসা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবস। সারাহর মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং ইয়ুথ’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে।   সারা জ্যাকবসের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে সারাহর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, নিজের শৈশবের মসজিদ ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোর শিশুদের জন্য ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে সারাহ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জ্যাকবস সারাহর এই উদারতা ও কমিউনিটির প্রতি তার অবদানের প্রশংসা করেন।   সারাহর উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল গত মে মাসে ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোতে বন্দুক হামলার পর। ১৮ মে ওই হামলায় তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন। হামলার সময় মসজিদটির সঙ্গে থাকা স্কুলে শিশুরাও উপস্থিত ছিল। পুলিশ ও এফবিআই ঘটনাটিকে হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে। হামলার দুই কিশোর সন্দেহভাজনও পরে মারা যায়।   হামলার পর শিশুদের মানসিকভাবে স্বস্তি দেওয়া এবং তাদের প্রতি কমিউনিটির ভালোবাসা ও সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দিতে সারাহ ও তার এক বন্ধু ঈদের জন্য গুডি ব্যাগ তৈরির উদ্যোগ নেন। সারাহর তহবিল সংগ্রহের আবেদন অনুযায়ী, এসব ব্যাগে শিশুদের জন্য ট্রিট, বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী, বিনোদনমূলক উপকরণ ও উপহার রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।   সারাহর জন্য উদ্যোগটি ছিল ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেও ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোর সঙ্গে ছোটবেলা থেকে যুক্ত ছিলেন। তার বন্ধুর ছোট বোন হামলার সময় মসজিদের স্কুলে উপস্থিত শিশুদের একজন ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের জন্য ঈদের সময় আনন্দ ও স্বস্তির একটি পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ নেন তারা।   কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবসের সাম্প্রতিক প্রশংসার মাধ্যমে কয়েক মাস আগে নেওয়া সারাহর সেই উদ্যোগটি আবারও আলোচনায় এসেছে। একজন তরুণীর এই উদ্যোগ মসজিদে হামলার মতো কঠিন পরিস্থিতির পর শিশুদের পাশে কমিউনিটির দাঁড়ানোর একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির ইসলামিক সেন্টারকে ঘিরে অনলাইনে হুমকি, ইসলামোফোবিক প্রচারণার অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির ইসলামিক সেন্টারকে ঘিরে অনলাইনে হুমকি, ইসলামোফোবিক প্রচারণার অভিযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে একটি ইসলামিক সেন্টারকে লক্ষ্য করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হুমকি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার-এলএ। সংগঠনটির অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইসলামোফোবিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যার পর মসজিদ ও মুসল্লিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকিও দেখা দিয়েছে।   কেয়ার-এলএ চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে একটি অনলাইন ‘অ্যান্টি-মুসলিম স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গার্ডেন গ্রোভে অবস্থিত ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কাউন্টি বা আইএসওসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি মসজিদের কাছে আরও কয়েকটি ভবন কিনে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রযোজ্য নয় এমন একটি ‘প্যারালাল সোসাইটি’ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   কেয়ার-এলএ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যের কারণে মসজিদ ও এর মুসল্লিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং উদ্বেগজনক সহিংসতার হুমকি বেড়েছে।   কেয়ার-এলএর নির্বাহী পরিচালক হুসাম আইলুশ আইএসওসিকে অরেঞ্জ কাউন্টিতে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও কমিউনিটি সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমরা ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন।   আইলুশ আরও বলেন, ইসলামোফোবিক বক্তব্য শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো মৌলিক মার্কিন মূল্যবোধ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।   অরেঞ্জ কাউন্টির ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম কমিউনিটি কয়েক মাসের ব্যবধানে আরেকটি ভয়াবহ ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত ১৮ মে সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন। দুই কিশোর সন্দেহভাজনও পরে আত্মঘাতী গুলিতে মারা যায়। সান ডিয়েগো পুলিশ ও এফবিআই ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করেছে।   কেয়ার-এলএর অভিযোগ অনুযায়ী, অরেঞ্জ কাউন্টির ইসলামিক সেন্টারকে ঘিরে অনলাইনে ছড়ানো দাবিগুলোও একই ধরনের বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে অনলাইনে করা প্রতিটি মন্তব্য বা হুমকির পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো চূড়ান্ত তদন্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এর আগে এপ্রিলেও কেয়ার-এলএ ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কাউন্টিকে ঘিরে অনলাইনে ছড়ানো হুমকি ও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছিল। স্থানীয় কংগ্রেস সদস্যরাও তখন সহিংসতার হুমকির নিন্দা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান।   স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মতবিরোধ বা সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণা, হুমকি বা সহিংসতার আহ্বান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। এ কারণে অনলাইনে ছড়ানো এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্যালটেকের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীর বাহিরে দূর গ্রহে পানির সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানী নিজ বাড়ির দরজায় গুলিতে নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্যালটেকের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার। সৌরজগতের বাইরের গ্রহ ও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি নিয়ে কয়েক দশক গবেষণা করা ৬৭ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীর হত্যার ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী ফ্রেডি স্নাইডারের বিরুদ্ধে মার্ডারসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির লানো এলাকায়। সকাল প্রায় ৬টা ১০ মিনিটে অস্ত্র দিয়ে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির সামনের বারান্দায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রিলমেয়ারকে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, গুলির আঘাতেই তার মৃত্যু হয় এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   মামলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেডি স্নাইডারের বিরুদ্ধে মার্ডার, কারজ্যাকিং এবং ফার্স্ট ডিগ্রি রেসিডেনশিয়াল বার্গলারির একটি করে ফেলনি অভিযোগ রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, গত ২৬ মে আদালতে হাজির হয়ে সব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন স্নাইডার।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে স্নাইডার দুটি রাইফেল নিয়ে নিজের মায়ের কাছে গাড়ির চাবি দাবি করেন। মা চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ঘরের ছাদ লক্ষ্য করে গুলি চালান এবং পরে গাড়িটি নিয়ে বেরিয়ে যান।   এরপর তিনি কাছেই গ্রিলমেয়ারের বাড়িতে যান বলে অভিযোগ। বাড়ির ড্রাইভওয়েতে গাড়ির উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রিলমেয়ার বাইরে বেরিয়ে এলে নিজের সামনের বারান্দাতেই তাকে গুলি করা হয়।   ঘটনাটির সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস আগে, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর গ্রিলমেয়ার তার সম্পত্তিতে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডেকেছিলেন। ওই ঘটনায় স্নাইডারের নামও উঠে আসে। পরে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট একটি বার্গলারির অভিযোগও আনা হয়েছে।   তদন্তকারীরা আগে জানিয়েছিলেন, গ্রিলমেয়ার ও স্নাইডারের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় থাকার কোনো স্পষ্ট তথ্য তারা পাননি। ফলে কেন গ্রিলমেয়ারের বাড়িতে গিয়ে তাকে গুলি করা হলো, হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল।   গ্রিলমেয়ারের মৃত্যু ক্যালটেকের বিজ্ঞানী মহলেও বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তিনি ক্যালটেকের আইপ্যাক সায়েন্স অ্যান্ড ডেটা সেন্টারে দীর্ঘদিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন। তার গবেষণার বড় অংশজুড়ে ছিল এক্সোপ্ল্যানেট, মিল্কিওয়ের গঠন এবং ‘স্টেলার স্ট্রিম’, অর্থাৎ প্রাচীন গ্যালাক্সি ও তারার গুচ্ছের সংঘর্ষের পর থেকে যাওয়া তারার দীর্ঘ প্রবাহ।   ২০০৭ সালে তিনি এমন একটি গবেষণার নেতৃত্ব দেন, যেখানে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে তাদের বায়ুমণ্ডলে অণুর উপস্থিতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডল বোঝার ক্ষেত্রে কাজটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে।   মিল্কিওয়ের ইতিহাস বুঝতেও তার গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি কয়েক ডজন স্টেলার স্ট্রিম শনাক্ত করেছিলেন। এসব তারার প্রবাহ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করেন, কোটি কোটি বছর ধরে ছোট গ্যালাক্সি ও তারার গুচ্ছের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং একীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে কীভাবে মিল্কিওয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে।   বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে গ্রিলমেয়ার নাসার ‘এক্সেপশনাল সায়েন্টিফিক অ্যাচিভমেন্ট মেডেল’ পান। কর্মজীবনে তার ১৪৭টি পিয়ার রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। হাবল ও স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও তিনি দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছেন।   জীবনের বড় একটি অংশ মহাকাশের দূরবর্তী গ্রহ, নক্ষত্র আর মিল্কিওয়ের অতীত অনুসন্ধানে কাটানো এই বিজ্ঞানীর জীবন শেষ হয় নিজের বাড়ির সামনের বারান্দায় একটি গুলিতে। তার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত স্নাইডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্টের কাছাকাছি দামেই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বাড়ি!
ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্টের কাছাকাছি দামেই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বাড়ি!

ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সাধারণ বাড়ি কিনতে যে পরিমাণ অর্থ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে লাগতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক সস্তা অঙ্গরাজ্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় সেই অর্থের কাছাকাছি দামেই পুরো বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ির অবস্থান, আয়তন ও অবস্থা অনুযায়ী দাম ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।   জিলোর ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৯ ডলার। অন্যদিকে মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৭ ডলার।   এই গড় মূল্যের একটি বাড়ি কিনতে কেউ যদি ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেন, তাহলে শুরুতেই দিতে হবে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১০ ডলার। এর বাইরে ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্স্যুরেন্স, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং মর্টগেজের অন্যান্য খরচ থাকতে পারে।   তবে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। ক্রেতার লোন প্রোগ্রাম, ক্রেডিট প্রোফাইল ও অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্টেও বাড়ি কেনা সম্ভব। ২০ শতাংশ দেওয়ার একটি বড় সুবিধা হলো, প্রচলিত অনেক মর্টগেজে প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এড়ানো যায়।   ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দামের ব্যবধান বেশ বড়। একই সময়ের জিলো তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ ডলার। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সঙ্গে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গড় বাড়ির মূল্যের ব্যবধান প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ ডলার।   তবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় বাড়ির সাধারণ মূল্য এর চেয়েও কম। জিলোর জুনের তথ্যে সাটনে সাধারণ বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮২ ডলার, ফ্ল্যাটউডসে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৬ ডলার এবং গ্যাসাওয়েতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৬ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সমপরিমাণ অর্থে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু বাজারে পুরো বাড়ি কেনা বাস্তবেই সম্ভব হতে পারে।   তবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার সব বাড়ি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জুনে মিডিয়ান লিস্টিং প্রাইস ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ ডলার। তাই নির্দিষ্ট একটি কমদামি বাড়ির উদাহরণকে পুরো রাজ্যের বাজারদর হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।   ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আরেকটি সুবিধা তুলনামূলক কম প্রপার্টি ট্যাক্স। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, মালিকের নিজস্ব বসবাসের বাড়ির মূল্যের ওপর রাজ্যটির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স রেট গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ।   বাজারে ক্রেতাদের জন্য বাড়ির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। জিলোর হিসাবে, জুনের শেষে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বিক্রির জন্য ৫ হাজার ১৯৮টি বাড়ি ছিল এবং ওই মাসে নতুন করে ১ হাজার ৭৪৯টি বাড়ি বাজারে আসে। মে মাসে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি লিস্টিং প্রাইসের নিচে বিক্রি হয়েছে।   তবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় গেলে শুধু বাড়ির দাম বিবেচনা করলেই হবে না। চাকরির সুযোগ, আয়, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, হেলথ কেয়ার, যাতায়াত, হোম ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে বাড়িটি বিক্রি করার সম্ভাবনাও হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে কমদামি পুরোনো বাড়ির ক্ষেত্রে মেরামতের খরচ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।   একই কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় মাসে ৩ হাজার ৫০০ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৮০০ থেকে ৯০০ ডলার খরচ হবেই, এমন নির্দিষ্ট তুলনাও সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মর্টগেজের পরিমাণ, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার, প্রপার্টি ট্যাক্স ও ইন্স্যুরেন্সের ওপর মাসিক খরচ নির্ভর করে।   আর ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক থেকে “হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবার” ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যাচ্ছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। বরং ইউএস সেনসাস ব্যুরোর হিসাবে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মোট জনসংখ্যা কমেছে।   তারপরও বাড়ির দামের বিশাল ব্যবধান একটি বিষয় পরিষ্কার করে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিক হতে যে অর্থ শুধু ডাউন পেমেন্টে চলে যেতে পারে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু শহর ও ছোট কমিউনিটিতে সেই বাজেটেই মর্টগেজ ছাড়াই একটি বাড়ি কেনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে কোথায় বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তে বাড়ির দাম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, চাকরি, জীবনযাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক হিসাবও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও
ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও, কোম্পানির সদর দপ্তর সরালেন টেক্সাসে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ খরচ, ট্যাক্স ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা নিয়ে হতাশ হয়ে নিজের কোম্পানির সদর দপ্তর টেক্সাসে সরিয়ে নিয়েছেন ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হিল ডেভিস। ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানোর পর তার ভাষ্য, সেখানে কোম্পানি পরিচালনা করা ক্রমেই ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠছিল।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড পরিচালনাকারী ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসের রাউন্ড রকে স্থানান্তর করা হয়েছে। অস্টিনের কাছের এই শহরে কোম্পানিটি প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুটের একটি ওয়্যারহাউস ও অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে।   ডেভিসের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ভার্ননে কোম্পানিটি যে খরচে আগের জায়গাটি ব্যবহার করছিল, প্রায় একই খরচে টেক্সাসে অনেক বড় ও সুবিধাজনক জায়গা পাওয়া গেছে। নতুন স্থাপনায় অফিসের পাশাপাশি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রমও পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।   শুধু জায়গার খরচ নয়, ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক পরিবেশও সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান ডেভিস। তার অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্যাক্স, বিভিন্ন রেগুলেশন, আইনি জটিলতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের দীর্ঘ সময় কমিউট করাও কোম্পানির জন্য আরেকটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   তবে ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপ পুরোপুরি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাচ্ছে না। লস অ্যাঞ্জেলেসে কোম্পানিটির কিছু কার্যক্রম থাকবে। একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে যারা টেক্সাসে যেতে চান, তাদের স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।   ডেভিসের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে বিভিন্ন কোম্পানির সদর দপ্তর স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা চলছে। গত কয়েক বছরে টেসলা, ওরাকল ও শেভরনের মতো বড় কোম্পানিও তাদের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে সরিয়েছে।   ২০২৬ সালের ফরচুন ৫০০ তালিকাতেও করপোরেট সদর দপ্তরের সংখ্যায় ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে টেক্সাস। তালিকা অনুযায়ী, টেক্সাসে ফরচুন ৫০০ কোম্পানির সদর দপ্তর রয়েছে ৫৭টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬টি। কয়েক বছর আগেও এই হিসাবে এগিয়ে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া।   টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকা এবং তুলনামূলক কম অপারেটিং খরচ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কোম্পানিকে আকৃষ্ট করছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিনোদন ও উদ্ভাবন খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সিলিকন ভ্যালি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো অঞ্চল বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে।   ডেভিসও মনে করেন না যে হঠাৎ করেই সব কোম্পানি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে চলে যাবে। তার মতে, পরিবর্তনটি বরং ধীরে ধীরে ঘটছে। কিন্তু ব্যবসার খরচ ও পরিচালন পরিবেশে বড় পার্থক্য থাকলে আরও প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বিকল্প রাজ্যের দিকে যেতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি, আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধ দম্পতির

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং মারা গেছেন। ৯ আগস্ট ভোরে লিংকন বুলেভার্ডের ৫০০ ব্লকের বাড়িটিতে আগুন লাগে। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি আগুনে পুরোপুরি পুড়ে যেতে দেখেন এবং ভেতর থেকে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হননি।   অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর সান্তা মনিকা ফায়ার বিভাগের কর্মীরা রাত প্রায় ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন তখন বাড়ির ভেতরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বাড়িটির ভেতরে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে প্রথম তলার একটি শোবার ঘরে দুজনকে পাওয়া যায়। তাদের বাইরে এনে জীবন রক্ষার চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।   মৃত দম্পতিকে অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন এবং তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। দম্পতির পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া তাদের ‘চমৎকার দম্পতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করতেন।   অ্যান্থনি ছিলেন সাবেক আইনজীবী। হেলেন স্থানীয় একটি গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তাদের পরিচর্যাকারী জানিয়েছেন। আগুনের সময় কোনো পরিচর্যাকারী বাড়িতে ছিলেন না। দম্পতির বাড়িটি ছিল দুই তলা এবং আগুনের পর বাড়িটির বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির বিভিন্ন অংশ দেখা গেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, হেলেনের মৃত্যুর কারণ ছিল ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং তাপজনিত দগ্ধ হওয়া। তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যান্থনির মৃত্যুর কারণ ও ধরন তখনও চূড়ান্ত করা হয়নি এবং তার বিষয়টি আরও তদন্তাধীন ছিল।   অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগুনের কারণ ও সূত্র খতিয়ে দেখছে। ঘটনাটি কীভাবে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ জানা যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডে কোনো দমকলকর্মী আহত হননি বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   দম্পতির ছেলে ব্রুস স্পলডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বাবা-মায়ের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের কথা স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দেন। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি তাদের ৭৩তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের একটি বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছিলেন।   অ্যান্থনি ও হেলেনের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এবং একই অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া জানান, তাদের পাঁচ সন্তানই বাবা-মায়ের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। আগুনের ঘটনায় দম্পতির মৃত্যুকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   দম্পতির বসবাস করা বাড়িটির পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার আরও কয়েকটি সম্পত্তির মালিকানা তাদের ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভেনিসে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের কোলবি অ্যাভিনিউতে দুটি ভাড়া দেওয়া অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হিসেবে অ্যান্থনির নামের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে। এসব সম্পত্তির মধ্যে কোলবি অ্যাভিনিউয়ের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে তাদের সান্তা মনিকার বাড়িতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৭৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিহত গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন, যাদের মৃত্যুতে তাদের দুই যমজ কন্যা ৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেপরোয়া গতির এক স্ট্রিট রেসিং কেড়ে নিয়েছিল এক দম্পতির প্রাণ। বাবা-মাকে হারিয়ে রাতারাতি এতিম হয়ে যায় তাদের দুই যমজ কন্যাশিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কিশোর চালক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার ৩৩ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ওই দুই শিশু। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। বে এরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'বে সিটি নিউজ' এবং আদালতের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।   ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত দম্পতির নাম গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন। তারা যখন নিজেদের শেভ্রোলেট ভোল্ট গাড়ি নিয়ে এল ক্যামিনো রিয়েল সড়কে বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুটি দ্রুতগতির গাড়ি রেসিং করতে গিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দম্পতি, আর তাদের যমজ কন্যারা পরিণত হয় পিতৃ-মাতৃহীন এতিমে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সিজার মোরালেস নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর কাইল হ্যারিসন নামের অপর এক চালকের সঙ্গে স্ট্রিট রেসিংয়ে লিপ্ত ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শুনানিতে জুরি বোর্ড জানতে পারে, দুর্ঘটনার রাতে মোরালেস ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। জুরি বোর্ড এই দুর্ঘটনার জন্য সিজার মোরালেসকে অবহেলা ও চরম গাফিলতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।   শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর এই রায়ে মোরালেসের বাবা আর্নল্ড মোরালেস এবং মা সুজানা সালতো আলভারেজকেও দায়ী করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাদের সন্তানের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এর আগে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে গাড়ি চালানোর জন্য মোরালেসকে একবার জরিমানাও করা হয়েছিল। যদিও তার বাবা-মা আদালতে দাবি করেছিলেন যে তারা ওই জরিমানার বিষয়টি জানতেন না। তবে জুরি বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোরালেসের বাবা-মা তাদের সন্তানের অনিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।   নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে 'কচেট, পিট্রে অ্যান্ড ম্যাকার্থি' ল ফার্ম। রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নিল ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আশা করছি আজকের এই রায় বে এরিয়ার সব বাবা-মায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। মোরালেস পরিবারের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে আজ দুটি ছোট মেয়েকে তাদের বাবা-মা ছাড়া জীবন কাটাতে হচ্ছে।"   তিনি আরও বলেন, "বাবা-মায়ের দায়িত্ব কেবল সন্তানকে একটি গাড়ি কিনে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা নয়। সন্তানের আচরণে যখন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাদের অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব নয়।"   দুর্ঘটনার পর সিজার মোরালেসের বিচার হয়েছিল শিশু আদালতে। সেখানে ভেহিকুলার ম্যানস্লটার বা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে তাকে মাত্র ৯০ দিনের ইলেকট্রনিক হোম মনিটরিংয়ের সাজা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অপর চালক কাইল হ্যারিসনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর সান মাতেও কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড এতিম দুই কন্যাশিশুকে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের মানসিক ও অন্যান্য অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রত্যেকে ৭ মিলিয়ন করে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়দের আটক বেড়েছে ১১০৯ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ১১০৯ শতাংশ বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার মোট আটকের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮৬ শতাংশ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় তিন হাজার এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিককে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা আটক করে। ওই বছর সংস্থাটির মোট আটকের ১১ শতাংশ ছিল এই জনগোষ্ঠীর। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আটকের মোট অংশেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দার সংখ্যা ৭২ লাখের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মোট এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, আর্মেনিয়া ও লাওসের নাগরিকদের মধ্যে অভিবাসন আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।   আটক হওয়া ব্যক্তিদের অপরাধের ইতিহাসেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে আটক হওয়া এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৬ শতাংশের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ শতাংশ। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নারী, শিশু এবং অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের সংখ্যাও বেড়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে ২০২৫ সালে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালে এসব অভিযান আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কম প্রচারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় অভিবাসন কার্যক্রম এখনও বেশি রয়েছে।   এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব আটকের কারণে কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে। পরিবারগুলো স্বজনদের খুঁজে বের করতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং অনেক পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সামনে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কর্মস্থলে এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরার সময়ও আটকের ঘটনা ঘটছে।   বিশ্লেষণে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রশাসন গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বিশ্লেষণে অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযান বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেনদেনমূলক রেকর্ড প্রবেশাধিকার ক্লিয়ারিংহাউসের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্রে থাকা ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের কোনো অপরাধের সাজা নেই। ক্যালিফোর্নিয়ায় আটকের প্রবণতার সঙ্গে এই তথ্যও বিশ্লেষণে বিবেচনা করা হয়েছে।   ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার জানানো ব্যক্তিগত আটকের রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এসব তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলির বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্য প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।   তবে এই হিসাব ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে হওয়া সব অভিবাসন আটকের পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ বিশ্লেষণে শুধু অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার আটকের তথ্য রয়েছে। সীমান্ত টহলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাও ক্যালিফোর্নিয়ায় বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ফলে প্রকৃত মোট আটকের সংখ্যা এই বিশ্লেষণে পাওয়া সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা রুবি ম্যাকনালি তাঁর ১০০তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন একেবারেই ব্যতিক্রমীভাবে—আকাশ থেকে ঝাঁপ দিয়ে।   বৃহস্পতিবার ডেভিস শহরের স্কাইড্যান্স স্কাইডাইভিংয়ে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে স্কাইডাইভিং করেন শতবর্ষী এই নারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের ছয় সদস্য ও বন্ধু।   রুবি ম্যাকনালির স্কাইডাইভিংয়ের শুরু ৮০তম জন্মদিনে। সেবার তাঁর নাতি মজা করে তাকে স্কাইডাইভিং করার চ্যালেঞ্জ দেন। তিনি রাজি হয়ে গেলেও ভাবেননি, নাতি সত্যিই সেই প্রতিশ্রুতি মনে রাখবে।   কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার পর আর থামেননি রুবি। ৯০তম জন্মদিনে তিনি আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন এবং তখনই প্রতিশ্রুতি দেন, ১০০ বছর বয়সেও একই কাজ করবেন।   তাঁর মেয়ে শ্যারন ম্যাকনালির ভাষায়, শতবর্ষী রুবিকে কোনো সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো সহজ নয়। এবারও পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তাঁকে এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি।   বয়স নিয়ে ভয় বা ঝুঁকি সম্পর্কে রুবির নিজেরও খুব বেশি দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর মতে, কোনো কিছু করার আগে অতিরিক্ত চিন্তা করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সেটি করার সাহসই হারিয়ে যেতে পারে।   ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিংয়ের এই অভিজ্ঞতা পরিবারের তরুণ সদস্যদের কাছেও ছিল বিশেষ কিছু। রুবির কয়েকজন নাতি-নাতনিও এবার তাঁর সঙ্গে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন।   নাতনি এপ্রিল বারটক বলেন, ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিং করার অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষের নেই। পরিবারের জন্য এটি সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত।   রুবি ম্যাকনালি এখন চান, তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও এই ঐতিহ্য ধরে রাখুক। এমনকি পরবর্তী লাফের জন্য আর ১০ বছর অপেক্ষা না করে প্রতি বছরই পরিবারের সবাই মিলে স্কাইডাইভিং করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁর নাতনি।   আর ১১০ বছর বয়সে আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবির উত্তর, তিনি সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ২১ বছরের যুবকের

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে একটি বাড়িতে চারজনকে হত্যার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২১ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়েগো স্যান্ডোভাল চারটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২১ বছর বয়সী জানভি মাকুইনদাং, ২৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিন আকা-আক, ২৪ বছর বয়সী এডউইন গার্সিয়া এবং ২১ বছর বয়সী ম্যাথিউ মন্টেবেলো।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, স্যান্ডোভাল নর্থ ট্যাবলার অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং চারজনকে গুলি করে হত্যা করেন।   এরপর বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্যান্ডোভাল। আগুনে পরিবারের তিনটি কুকুরও মারা যায়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আটকা পড়ে। তাদের একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পরে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফের ডেপুটিরা তাকে উদ্ধার করেন।   চারটি হত্যার পাশাপাশি স্যান্ডোভাল একটি হত্যাচেষ্টা, বসতবাড়িতে প্রথম-ডিগ্রির চুরি, বসবাসরত স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার তিনটি অভিযোগ এবং শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন।   হত্যার অভিযোগগুলোর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার বিশেষ পরিস্থিতি এবং ওত পেতে থেকে হত্যার অভিযোগও যুক্ত রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে মামলাটি আরও গুরুতর মাত্রা পেয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান বলেন, সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নিতে স্যান্ডোভাল এই ‘পরিকল্পিত সহিংসতা’ চালিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ড নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।   দোষ স্বীকারের ফলে স্যান্ডোভালের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর আনুষ্ঠানিক সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।   মামলার নথি ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্যান্ডোভালের গতিবিধি এবং তদন্তকারীরা কীভাবে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন, তার সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   ২০২৪ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের হোমিসাইড ব্যুরো, জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে। দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সাজা ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় যানজট ছাড়াই মাত্র তিন ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা, চোখজুড়ানো প্রকৃতির হাতছানি
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রকৃতি, ইতিহাস ও শহরের সৌন্দর্য উপভোগের অনন্য ট্রেনরুট

ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যস্ত মহাসড়কগুলোর ক্লান্তিকর যানজট এড়িয়ে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করার জন্য দারুণ এক সুযোগ করে দিচ্ছে অ্যামট্রাকের ‘ক্যাপিটল করিডোর’ ট্রেন সার্ভিস। ওবার্ন থেকে শুরু হয়ে সান হোসে পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৭০ মাইলের এই রেলরুটটি মাত্র তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে যাত্রীদের ঐতিহাসিক গোল্ড কান্ট্রি, সবুজ কৃষিজমি এবং প্রশান্ত জলসীমার মধ্য দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে পৌঁছে দেয়।   মোট ১৮টি স্টেশনকে সংযুক্ত করা এই রুটটি সম্প্রতি পর্যটকদের কাছে একটি দারুণ ও তুলনামূলক কম আলোচিত রোমাঞ্চকর ভ্রমণপথ হিসেবে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   এই নয়নাভিরাম রেলযাত্রার সূচনা হয় ঐতিহাসিক গোল্ড রাশ ও মনোরম হাইকিং ট্রেইলের জন্য পরিচিত ওবার্ন শহর থেকে। এরপর রকলিন ও রোজভিল পেরিয়ে ট্রেনটি ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রামেন্টোতে প্রবেশ করে, যেখানে যাত্রীরা নেমে ঐতিহাসিক স্টেট ক্যাপিটল ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পান। সেখান থেকে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যাত্রীরা জানালার পাশে বসে উপভোগ করতে পারেন বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মনোরম দৃশ্য।   এরপর ট্রেনটি কারকিনেজ প্রণালী ছুঁয়ে মার্টিনেজ ও রিচমন্ডের উপকূলরেখা ঘেঁষে এগিয়ে যায়, যা সান পাবলো উপসাগরের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখের সামনে মেলে ধরে।   স্থানীয়দের কাছে এই রুটটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৫ অর্থবছরে ক্যাপিটল করিডোরে প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা থেকে রেল কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। রুটটির পশ্চিম অংশে ট্রেনটি বিখ্যাত বাইকবান্ধব শহর ডেভিস, বার্কলে এবং ওকল্যান্ডের জ্যাক লন্ডন স্কয়ারের মতো প্রাণবন্ত ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় যাত্রা বিরতি দেয়।   এরপর দক্ষিণ বে অঞ্চলের সান হোসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামের কাছাকাছি একটি স্টপেজে থামে, যা সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিনাইনার্সের ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের যানজট এড়ানোর মোক্ষম সুযোগ দেয়। যাত্রার শেষ প্রান্ত সান হোসেতে রয়েছে ঐতিহাসিক জাপানটাউন, বিখ্যাত রোজিক্রুশিয়ান ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম এবং সান্তা ক্রুজ পর্বতমালার হাতছানি।   যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ক্যাপিটল করিডোরের বগিগুলোতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। প্রশস্ত কোচ সিট, কাজের জন্য টেবিল, বৈদ্যুতিক প্লাগ পয়েন্ট ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের পাশাপাশি এতে সার্বক্ষণিক বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা ও খাবারের জন্য ক্যাফে কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দ্রুতগতির এই ট্রেন ভ্রমণ কেবল দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকেই সহজ করেনি, বরং ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস ও প্রকৃতির আসল রূপ দেখার এক দুর্দান্ত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের পালমডেলে ফস্টার কেয়ার ভিলেজ প্রকল্পের নির্মাণাধীন এলাকা ও ক্রিশ্চিয়ান বেল দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আশ্রয়ের শিশুরা যেন ভাইবোনের থেকে বিছিন্ন না হয়, ২২ মিলিয়ন ডলারের গ্রাম গড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল

ক্যালিফোর্নিয়ার ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় কোনো শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যেন নিজের ভাইবোনকেও হারিয়ে না ফেলে, সেই লক্ষ্য নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেল। তার উদ্যোগে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পালমডেলে গড়ে উঠছে বিশেষ একটি ফস্টার কেয়ার ভিলেজ, যেখানে একই পরিবারের একাধিক ভাইবোনকে একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা থাকবে।    বেলের এই উদ্যোগের শুরু ২০০৮ সালের দিকে। নিজের সন্তান হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় থাকা শিশুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, অনেক ক্ষেত্রেই ফস্টার কেয়ারে প্রবেশের পর ভাইবোনদের আলাদা বাড়িতে পাঠানো হয়। পরিবার হারানোর ধাক্কার পাশাপাশি পরিচিত ভাই বা বোনের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।    শুধু অর্থ দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বেল দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে চিকিৎসক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক ড. এরিক এসরাইলিয়ানের সঙ্গে মিলে তিনি টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়া নামে অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ কাজে ফস্টার কেয়ার নিয়ে অভিজ্ঞ টিম ম্যাককরমিকও যুক্ত হন।    পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে অবশ্য দীর্ঘ সময় লেগেছে। জমি খোঁজা, সরকারি অনুমোদন, অর্থ সংগ্রহ, পরিকল্পনা তৈরি এবং কোভিড মহামারির কারণে নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পালমডেলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয়।    প্রায় ৪ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপর তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ কমিউনিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ১২টি ফ্যামিলি হোম থাকবে। প্রতিটি বাড়িতে প্রশিক্ষিত ফুলটাইম ফস্টার প্যারেন্টের তত্ত্বাবধানে একই পরিবারের সর্বোচ্চ ছয় ভাইবোন একসঙ্গে থাকতে পারবে।    এখানেই শেষ নয়। প্রকল্পটিতে দুটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টও রাখা হচ্ছে। ফস্টার কেয়ার থেকে বয়সের কারণে বেরিয়ে আসা তরুণদের সাময়িক আবাসন এবং সন্তানদের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা জন্মদাতা বাবা-মায়ের থাকার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হবে।    পুরো গ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে প্রায় ৭ হাজার বর্গফুটের একটি কমিউনিটি সেন্টার। শিশু ও ফস্টার পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও সহায়তামূলক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির জন্যও কেন্দ্রটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে খোলা জায়গা, বাগান ও বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।    প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমদিকে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার ধরা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে মোট ব্যয় আরও বাড়ার কথা উঠে এসেছে। অর্থের পুরোটা ক্রিশ্চিয়ান বেল ব্যক্তিগতভাবে দিচ্ছেন না। সরকারি সহায়তা, বিভিন্ন দাতা এবং বেসরকারি অনুদানের সমন্বয়ে প্রকল্পটির অর্থায়ন হচ্ছে। ২০২২ সালে জমি কেনার জন্য পালমডে সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারস মিলিয়ে ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তাও দিয়েছিল।   বেল নিজেও কখনো দাবি করেননি যে পুরো প্রকল্পটি তার নিজের অর্থে তৈরি হচ্ছে। বরং প্রায় দুই দশক ধরে পরিকল্পনাটি টিকিয়ে রাখা, সহযোগী ও দাতা খুঁজে বের করা এবং প্রশাসনিক বাধা অতিক্রম করে বাস্তব নির্মাণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তার ভূমিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ উদ্বোধনের সময় তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পটির প্রতিটি ধাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান এবং ভবিষ্যতে এমন আরও কমিউনিটি তৈরি হওয়ার আশা করেন।    প্রকল্পটি এখন দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১২টি বাড়ির কাঠামো নির্মাণ অনেকটাই এগিয়েছে। টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনায় ২০২৬ সালেই বাসিন্দাদের সেখানে ওঠার সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    ক্রিশ্চিয়ান বেলের কাছে এই উদ্যোগের মূল বিষয়টি আবাসন নয়, বরং পরিবার। একটি শিশু যখন ফস্টার কেয়ারে যায়, তখন নিজের বাড়ি ও বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এর সঙ্গে যেন তাকে ভাইবোনদেরও হারাতে না হয়, সেই ধারণাই টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো মডেলের ভিত্তি।    ‘ব্যাটম্যান’ চরিত্রে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ক্রিশ্চিয়ান বেল এবার পর্দার বাইরের একটি দীর্ঘ লড়াইকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন। ২০০৮ সালের একটি ভাবনা থেকে শুরু হওয়া পথটি প্রায় ১৮ বছর পর এমন একটি গ্রামে পরিণত হচ্ছে, যার প্রধান উদ্দেশ্য একটাই, ফস্টার কেয়ারে গেলেও ভাইবোন যেন একে অপরকে হারিয়ে না ফেলে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড, ধারে-কাছেও নেই নিউইয়র্ক-টেক্সাস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বেকার ভাতার আবেদনে বিশাল উল্লম্ফন দেখা গেছে। নতুন এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত মাসের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে রাজ্যটিতে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭টি 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট' বা চলমান বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটির মোট আবেদনের দ্বিগুণেরও বেশি। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেকার ভাতার আবেদনের ক্ষেত্রে 'গোল্ডেন স্টেট' খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া নিউইয়র্ক (১ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৭) এবং টেক্সাসকে (১ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৭) অনেক বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রডাক্টিভিটি প্ল্যাটফর্ম 'প্লাস' (Plus) মার্কিন শ্রম দপ্তরের ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণটি চালিয়েছে। ৪ জুলাই থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যকার তথ্যানুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকারত্ব বিমা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত প্রতি এক লাখ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৯০৫ দশমিক ৬টি বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। দেশব্যাপী সামগ্রিক হারের দিক থেকে এই অঙ্গরাজ্যটি সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। তবে এই হার প্রতি এক লাখ কর্মীতে জাতীয় গড় (১,০২৭টি আবেদন) থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ বেশি। কর্মীর সংখ্যার সাথে আনুপাতিক হিসাব বিবেচনা করলে ক্যালিফোর্নিয়ার আগে কেবল নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, ওরেগন এবং ওয়াশিংটন রয়েছে।   সাধারণত কোনো আবেদনকারী প্রাথমিক আবেদনের পর অব্যাহতভাবে ভাতা পেতে থাকলে তাকে 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট ক্লেইম' বলা হয়, যা মূলত চলমান বেকারত্ব পরিস্থিতির একটি বড় নির্দেশক। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল শ্রমশক্তির কারণেই মূলত মোট আবেদনের সংখ্যাটি এত বেশি দেখাচ্ছে। তবে কর্মীর আনুপাতিক হিসাব বিবেচনায় নিলেও অঙ্গরাজ্যটি দেশের সর্বোচ্চ বেকার ভাতার আবেদনের তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান করছে। 'প্লাস'-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল লি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেকারত্বের চাপ কীভাবে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আটটি অঙ্গরাজ্য ছাড়া ২০২৫ সালের পর থেকে বাকি সব অঙ্গরাজ্যেই বেকার ভাতার আবেদন কমার প্রবণতা দেখা গেছে।   মোট আবেদনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় মোট চলমান আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও, আনুপাতিক হারে কয়েকটি ছোট অঙ্গরাজ্য এর চেয়ে এগিয়ে আছে। যেমন, প্রতি এক লাখ কর্মীতে ২ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬টি আবেদন নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউ জার্সি, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৫৮ শতাংশ বেশি। যদিও তাদের মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২২২, যা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় অনেক কম। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটস। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বেকার ভাতার আবেদন দেখা গেছে সাউথ ডাকোটায়, যেখানে প্রতি এক লাখে আবেদনকারীর সংখ্যা মাত্র ২৮৪ দশমিক ৯ জন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বর্ডার জার' টম হোম্যান। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়াতে টড স্টুয়ার্ট (৬৮) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ বাড়ির লনে মর্মান্তিকভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কোস ইরিয়ার্তে-ভালদেজ (৩৬) নামের এক অবৈধ ভেনেজুয়েলান অভিবাসী, যার কাছে স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে।   'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির শিকার না হলে ওই বৃদ্ধকে আজ প্রাণ হারাতে হতো না। ক্যালিফোর্নিয়ার 'স্যাংচুয়ারি সিটি' বা আশ্রয়দাতা শহরের নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "গভর্নর নিউসম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন জননিরাপত্তার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আক্রোশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।" হোম্যান আরও জানান, গত এক দশকে এমন শত শত ঘটনার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।   সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভয়াবহ হামলার ঠিক আগের দিনই অভিযুক্ত ইরিয়ার্তে-ভালদেজকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে চুরির এক মামলায় গৃহবন্দী থাকার শর্ত লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও নিউসমের নিয়োগকৃত এক বিচারক তাকে মুক্তি দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্যাডিল্যাক এসইউভি থেকে নেমে প্রটেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই ব্যক্তি স্টুয়ার্টের ওপর আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্টুয়ার্ট মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করার সময়ও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি এবং হামলাকারীর মধ্যে পূর্বের কোনো পরিচয় ছিল না।   এই ঘটনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ব্যর্থতাকে দায়ী করায় ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন হোম্যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তারা যথাযথ তদন্ত করে ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য একটি ডিটেইনার ইস্যু করেছিলেন। তবে গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ওপরই দায় চাপিয়েছে। তাদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো আইন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেয় না। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই অপরাধীর বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং স্ত্রীকে মারধর করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে ১.১ মিলিয়ন ডলারের জামিনে আটকে রাখা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পে টাকার সংকট
ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পে টাকার সংকট, ২০২৭ সালেই থমকে যেতে পারে কাজ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বহুল আলোচিত হাই স্পিড রেল প্রকল্প নতুন করে বড় ধরনের অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটির হাতে থাকা বর্তমান তহবিল শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল প্রকল্পের ইন্সপেক্টর জেনারেল বেঞ্জামিন বেলন্যাপ। আগামী পাঁচ বছরে প্রকল্পটির অর্থায়ন ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার।   ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটির সংশোধিত ২০২৬ বিজনেস প্ল্যান পর্যালোচনা করে এই সতর্কতা দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল। ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির জন্য দীর্ঘমেয়াদে মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অর্থের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যের ক্যাপ অ্যান্ড ইনভেস্ট কর্মসূচি থেকে বছরে ১০০ কোটি ডলার পাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।   সমস্যা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সময়ে যে গতিতে অর্থ প্রয়োজন হবে, সেই গতিতে এসব উৎস থেকে টাকা আসবে না। ইন্সপেক্টর জেনারেলের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ফাইন্যান্সিং নিশ্চিত করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বর্তমান অর্থের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যেতে পারে।   শুধু ২০২৭-২৮ অর্থবছরেই নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত ২২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৭-২৮ থেকে ২০৩১-৩২ অর্থবছরের মধ্যে সব মিলিয়ে অর্থায়ন ঘাটতি প্রায় ৯৫০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।   এই ঘাটতি পূরণে রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ, রেভিনিউ বন্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগসহ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে প্রকল্পের খরচ আরও বাড়বে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ঋণের সুদ বাবদ অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি থেকে ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।   এই সম্ভাব্য সুদের খরচ ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি অংশের জন্য হাই স্পিড রেল অথরিটির বর্তমান ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের ব্যয় হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নেই।   ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনায় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কন্টিনজেন্সি বাজেটে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ঘাটতি, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশায় রাখা প্রায় ৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের নির্মাণ ব্যয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর জন্য আরও প্রায় ১৭০ কোটি ডলার।   প্রকল্পের ব্যয় কমাতে নির্মাণ পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে পছন্দের পরিকল্পনায় মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশের দৈর্ঘ্য ১৭১ মাইল থেকে কমিয়ে ১৬২ মাইল করার কথা রয়েছে। মার্সেডের পরিকল্পিত স্টেশন শহরের কেন্দ্রস্থলের পরিবর্তে শহরতলিতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাউনটাউন বেকার্সফিল্ডের উত্তরে রেললাইন নির্মাণের একটি অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও রয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেলের মতে, সাম্প্রতিক যে ব্যয় সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসেছে কাজের পরিমাণ কমানোর মাধ্যমে। অর্থাৎ শুধু নির্মাণ দক্ষতা বাড়িয়ে খরচ কমানো হয়নি, কিছু অবকাঠামো ও কাজের পরিধিও পরিবর্তন করা হয়েছে।   প্রকল্পের সময়সূচি নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারি নথিতে প্রাথমিক যাত্রীসেবা চালুর সময় নয় মাস পিছিয়ে ২০৩২ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্সপেক্টর জেনারেলের ঝুঁকিভিত্তিক পরিসংখ্যান মডেল বলছে, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে প্রকল্পের এই অংশ শেষ হতে ২০৩৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   ট্রেন কেনার পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগস্টে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ছয়টি ট্রেনসেট কেনার পরিকল্পনা কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে। সম্ভাব্য লিজ পারচেজ ব্যবস্থার অধীনে ট্রেন সরবরাহের সময়সীমা ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পের অর্থায়ন পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধের পর। ২০২৫ সালে ফেডারেল সরকার প্রকল্পটির প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করে। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও ফেডারেল সরকারের সঙ্গে অর্থায়নের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশা রয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেল বেলন্যাপ রাজ্যের আইনপ্রণেতা ও গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সূচি সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তার কার্যালয়ের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে আইনপ্রণেতাদের জন্য কার্যকর তদারকি কঠিন হয়ে পড়েছে।   অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, তারা গঠনমূলক তদারকিকে গুরুত্ব দেয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি এখন রেললাইন বসানোর পর্যায়ে এগোচ্ছে এবং বেসরকারি খাত ও রাজ্যের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তব অগ্রগতি হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল মূলত সান ফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে দ্রুতগতির ট্রেন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। তবে প্রকল্পটি বছরের পর বছর ধরে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়া এবং অর্থায়নের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বর্তমান তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নতুন অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি না।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসনালিতে বমি আটকে মৃত্যুর মুখে তিন বছরের শিশু, প্রাণ বাঁচাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। স্যান বার্নার্ডিনো কাউন্টির রিয়াল্টো পুলিশের এই বীরত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের একটি শ্বাসরুদ্ধকর ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। মায়ের চোখের সামনেই দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ওই শিশুকে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনেন তারা।   জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ওই শিশুর মা তার সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন যে তার সন্তানের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং সে বমি করে ফেলেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ইস্ট ফুটহিল বুলেভার্ডের ৩০০ ব্লকের কাছে গাড়ি থামিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় ৯১১ নম্বরে কল করেন। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন ওই অসহায় মা ফুটপাতে তার সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শিশুটির মা বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল ছেলেটা আমার চোখের সামনেই মারা যাচ্ছে।"   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত তার গাড়ি থেকে ‘লাইফভ্যাক’ (LifeVac) নামের একটি বিশেষ ডিভাইস বের করে আনেন। এরপর অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় শিশুটিকে ফুটপাতে শুইয়ে ডিভাইসটির মাধ্যমে তার শ্বাসনালিতে আটকে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরাতে পাম্প বা সাকশন তৈরি করতে থাকেন। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে শিশুটি শ্বাস নেয় এবং তার জ্ঞান ফেরে। এরপর রিয়াল্টো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।   বডি-ক্যামেরার অপর একটি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠা সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ওই মা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে রিয়াল্টো পুলিশের ক্যাপ্টেন ল্যামন্ট কোয়ার্কার গণমাধ্যমকে বলেন, "এই ঘটনাটি আমাদের প্রথম সাড়াদানকারী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) কর্মীদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার গুরুত্ব প্রমাণ করে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসায় কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।"

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০