ক্যালিফোর্নিয়া

ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম শাখা খুলছে কানাডার বিখ্যাত এশিয়ান সুপারশপ ‘টিঅ্যান্ডটি’

কানাডার জনপ্রিয় এশিয়ান গ্রোসারি চেইন ‘টিঅ্যান্ডটি সুপারমার্কেট’ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের প্রথম শাখা খুলতে যাচ্ছে। আগামী ১৮ জুন বে এরিয়ার সান জোসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগাশপটির উদ্বোধন করা হবে। দ্য সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   সান জোসের ১৬০০ সারাটোগা অ্যাভিনিউয়ের ওয়েস্টগেট সেন্টারে নতুন এই সুপারশপটি অবস্থিত। উদ্বোধনী দিন সকাল ৮টায় শুরু হবে উৎসবমুখর আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সকাল ৯টায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুপারশপের দরজা খুলে দেওয়া হবে।   টিঅ্যান্ডটি মূলত তাদের প্রস্তুতকৃত খাবার, বেকারি আইটেম এবং এশিয়ান মুদি পণ্যের বিশাল সংগ্রহের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সান জোসের এই শাখায় চীন, জাপান, কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার পণ্য পাওয়া যাবে।   প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্র্যান্ডের কিছু বিশেষ পণ্য ক্রেতাদের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পর্ক স্যুপ ডাম্পলিং, গ্রিন অনিয়ন প্যানকেক, কালবি সস এবং তাইওয়ানিজ স্টাইলের সসেজ।   প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিনা লি এক বিবৃতিতে বলেন, সান জোসের এই শাখাটি নিয়ে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। তারা শুধু মানসম্পন্ন খাবারই আনছেন না, সেই সাথে কানাডা থেকে এক নতুন জীবনধারার পরিচয় করাচ্ছেন, যা খাদ্যের ঐতিহ্য ও সতেজতাকে ধারণ করে।   টিনা লি আরও জানান, এশিয়ান পরিবারগুলোকে তাদের শেকড়ের খাবারের সঙ্গে যুক্ত রাখা তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এশিয়ান খাবারের এক নতুন গন্তব্য তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।   ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এশিয়ান মুদি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। টিঅ্যান্ডটির এই আগমন ওই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এইচ মার্ট, টোকিও সেন্ট্রাল এবং ওসাকা মার্কেটপ্লেসের মতো বিশেষায়িত শপগুলোও বর্তমানে এই অঞ্চলে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।   সিলিকন ভ্যালির এই মার্কেটটি ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও দুটি শাখা খোলার ঘোষণা দিয়েছে টিঅ্যান্ডটি। ২০২৬ সালের শীত মৌসুমে সান ফ্রান্সিসকোর মেসনিক অ্যাভিনিউ সংলগ্ন গিয়ারি বুলেভার্ডের সিটি সেন্টার এবং মিলব্রের ফ্রেন্ডশিপ প্লাজায় নতুন দুটি স্টোর চালু হতে পারে।   আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে নিজেদের অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতাদের বিনামূল্যে সদস্যপদ পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে টিঅ্যান্ডটি। এছাড়া আগামী ৬ থেকে ৭ জুন এবং ১৩ থেকে ১৪ জুন স্যান্টানা রো-তে বিশেষ পপ-আপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখানে ক্রেতাদের জন্য নানা রকম স্ন্যাকস, গেম ও উপহারের ব্যবস্থা থাকবে।   উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে প্রতিষ্ঠিত হয় টিঅ্যান্ডটি সুপারমার্কেট। এর সদর দপ্তর রিচমন্ডে অবস্থিত। গত ২০২৪ সালে ওয়াশিংটনের বেলভ্যুতে স্টোর চালুর মাধ্যমে তারা প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মে ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাওয়াই–ক্যালিফোর্নিয়া রুটে নতুন সরাসরি ফ্লাইট চালু করল আলাস্কা এয়ারলাইন্স

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান সংস্থা আলাস্কা এয়ারলাইন্স হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে নতুন সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে। নতুন এই রুটের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য আরও সহজ ও দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দৈনিক ননস্টপ ফ্লাইটটি হলিউড বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দর ও হনোলুলুর ড্যানিয়েল কে. ইনোউয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে চলাচল করছে। এটি একটি মৌসুমি সেবা, যা আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চালু থাকবে।   নতুন ফ্লাইট অনুযায়ী, হনোলুলু থেকে দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে বিমানটি রাত প্রায় ৯টায় বারব্যাঙ্কে পৌঁছায়। আলাস্কা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, এই রুট যুক্ত হওয়ার ফলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার যাত্রীদের জন্য হাওয়াই ভ্রমণ আরও সহজ হবে।   এই সংযোজনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার মোট নয়টি বিমানবন্দর থেকে হনোলুলুতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে আলাস্কা এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস, লং বিচ, অকল্যান্ড, অন্টারিও, স্যাক্রামেন্টো, সান দিয়েগো, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসে।   এ ছাড়া হাওয়াইয়ের বিভিন্ন গন্তব্য যেমন মাউই, কাউয়াই এবং কাইলুয়া-কোনা থেকেও সংস্থাটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।   আলাস্কা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যৌথ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ও গন্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   সংস্থাটির বৈশ্বিক বিক্রয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বাণিজ্য কার্যক্রম বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল থোয়েটস বলেন, দুই সংস্থার সমন্বয়ের ফলে যাত্রীদের জন্য আরও বেশি আসন, ফ্লাইট ও গন্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।   এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।   নতুন রুটে রিটার্ন টিকিটের প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মে ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের প্রস্তুতি জোরদার, প্রকাশ করা হলো হোস্ট কমিটি

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA) -এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।   আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের স্বাগতিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)।   সম্প্রতি আয়োজকরা ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট কমিটি ও বিভিন্ন সাব-কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তালিকায় কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. জয়নুল আবেদীন এবং কো-কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাবিব আহমেদ টিয়া। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল।    আয়োজক কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী প্রেসিডেন্ট, মাসুদ রব চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টা, মোহাম্মদ এস হক প্রধান সমন্বয়ক এবং ড. মুশফিকুল হক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।    কনভেনশন সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিদ আহমেদ মিঠু, স্কলারশিপ কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. ইউনুস রাহী, ইয়ুথ ফোরাম কমিটির চেয়ারম্যান রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান লাসকার আল মামুন, রেজিস্ট্রেশন কমিটির দায়িত্বে শফিক রহমান, গেস্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালেন এলিয়াস খান, গেস্ট অ্যাকমোডেশন কমিটির দায়িত্বে মেহেদী হাসান এবং স্টল ও বুথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মো শওকত আনজিম।    ফোবানা আয়োজকরা জানান, এবারের ফোবানা কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ।    আয়োজকরা আরও জানান, উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এবারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের ফোবানা কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন।   আয়োজকদের বলেন, ফোবানা এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, সংস্কৃতি, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির অন্যতম প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   গত বছর জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানা কনভেনশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি গুদামে বিস্ফোরণ: ৭ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি অবৈধ আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ জুলাই এসপার্টো এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গুদামটিতে আইনবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছিল।   প্রধান অভিযুক্ত স্যামুয়েল মাচাডো, যিনি ওই গুদামের মালিক এবং ইয়োলো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের সাবেক লেফটেন্যান্ট ছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করে আসছিলেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ১৩টি কনটেইনার ছিল, তা বেড়ে গত বছর ৫০টিতে পৌঁছায়।   এই ঘটনায় আরও যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে তারা হলেন—কেনেথ চি, জ্যাক লি, গ্যারি চ্যান জুনিয়র এবং ডগলাস টোলেফসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আতশবাজি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গুদামটি ব্যবহার করতেন সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ বিস্ফোরক রাখা, বীমা জালিয়াতি, শিশু বিপন্ন করা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা।   এ ঘটনায় স্যামুয়েল মাচাডোর স্ত্রী ট্যামি মাচাডোকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, বন্ধক জালিয়াতি এবং পরিবারের পাশে অবৈধ বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।   ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুদামের কর্মী ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ীদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের নিহত জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাতিজি ও তার মেয়ে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ইরানের নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাতিজি ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)।   কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের গ্রিন কার্ড বাতিল হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।   আইস সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অবস্থান করলেও, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে তাদের স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়। এরপরই তাদের আটক করা হয় এবং বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন কাস্টডিতে রয়েছেন।   এ ঘটনায় এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।   উল্লেখ্য, জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে তীব্র উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে নানা ঝুঁকি, নিরাপদ থাকতে চাইলে এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন

নুরুল্লাহ সাইদ মে ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0