যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে ২৩ মাস বয়সী এক শিশুকে খেলার সময় ওপরে ছুড়ে দিয়ে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা-মায়ের করা এক মামলায় দাবি করা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে আঘাত লাগে এবং শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেগুন্দো শহরের দ্য বে ক্লাব ক্লাবহাউস-এ ঘটে। মামলায় শিশুটির পরিচয় গোপন রাখতে তাকে "সি.কে." নামে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথিতে থাকা স্থিরচিত্রে দেখা যায়, ডে-কেয়ার কেন্দ্রের এক কর্মী শিশুটিকে দুই হাত ধরে খেলাচ্ছলে ওপরে ছুড়ে দেন। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে ধরতে ব্যর্থ হন। এতে শিশুটি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে ওই কর্মীও শিশুটির ওপর পড়ে যান। মামলায় বলা হয়েছে, পড়ে যাওয়ার সময় শিশুটির মাথায় আঘাত লাগে। এরপর সে জোরে কান্না শুরু করে। কক্ষে উপস্থিত অন্য প্রাপ্তবয়স্করাও ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান। শিশুটির বাবা-মা ম্যাট ও এলেনা কিটলের অভিযোগ, ওই দুর্ঘটনায় তাদের সন্তানের ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত) হয় এবং তার শ্রবণশক্তিরও ক্ষতি হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, এখনো সে ওই আঘাতের প্রভাব বহন করছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ম্যাট কিটল শিশুটিকে ডে-কেয়ারে রেখে যান। কিছুক্ষণ পর ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, শিশুটি পড়ে গিয়েছিল, তবে এখন শান্ত রয়েছে এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রায় ১৫ মিনিট পর আবার ফোন করে জানানো হয়, শিশুটিকে আর শান্ত করা যাচ্ছে না, তাই তাকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তখনও কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছে বিষয়টিকে একটি সামান্য দুর্ঘটনা হিসেবেই উপস্থাপন করেছিল। শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তার ডান পাশের মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, ডান চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মুখে ফোলাভাব দেখা যায়। এছাড়া সে অস্বাভাবিকভাবে ঝিমিয়ে পড়ে এবং বিরক্তিকর আচরণ করতে থাকে। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে টরেন্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা মাথায় গুরুতর আঘাত শনাক্ত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ডে-কেয়ারের এক কর্মী দাবি করেছিলেন, শিশুটি মাত্র দেড় ফুট উচ্চতা থেকে পড়েছিল। কিন্তু পরে সিসিটিভি ভিডিও দেখে বাবা-মায়ের দাবি, শিশুটি অন্তত ছয় ফুট ওপরে উঠেছিল, সেখান থেকে মাটিতে পড়ে যায়। এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দ্য বে ক্লাব ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক সেবা বিভাগের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডে-কেয়ার কেন্দ্র নয়। তবুও তারা নিজেদের আইনের আওতার বাইরে বলে দাবি করে শিশুদের তত্ত্বাবধান করছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শিশুটির বাবা-মা মামলায় অবহেলা, শারীরিক ক্ষতি, প্রতারণা এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন। তারা আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যার পরিমাণ জুরি বোর্ড নির্ধারণ করবে। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনকে ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত শহর নিউপোর্ট বিচে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। আতশবাজি, মারামারি, ভাঙচুর এবং একটি সুপারমার্কেটে লুটপাটের ঘটনায় গত ৩৬ ঘণ্টায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও সিটি নিউজ সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে নিউপোর্ট পেনিনসুলা এলাকায় বড় ধরনের জনসমাগমের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগ ছিল, বিপুলসংখ্যক মানুষ অবৈধভাবে আতশবাজি ফুটাচ্ছিল, মারামারিতে জড়াচ্ছিল এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করছিল। ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলোতে কাছাকাছি থেকে বড় ধরনের আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি জনতার মধ্যে আতশবাজি ছুড়ে দিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে স্পাইডার-ম্যানের মুখোশ পরা একজনকে ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটিতে উঠে জনতাকে 'ইউএসএ, ইউএসএ' স্লোগান দিতে উৎসাহিত করতে দেখা যায়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অন্য ভিডিওগুলোতে কয়েকজনকে রাস্তার সাইনবোর্ড ভেঙে নিয়ে যেতে এবং কাছের প্যাভিলিয়ন্স সুপারমার্কেটে ঢুকে লুটপাট করতে দেখা যায়। নিউপোর্ট বিচের একটি টাকো রেস্তোরাঁয় কর্মরত ১৯ বছর বয়সী মিয়া মেয়ার্স জানান, বিকেল থেকেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ দোকানের জানালায় আঘাত করছিল, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রকাশ্যে মদ্যপান করতে দেখা গেছে এবং কর্মীদের উদ্দেশ্য করে চিৎকার-চেঁচামেচিও করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সৈকত এলাকায় নেমে আগের রাতের আবর্জনা পরিষ্কার করেন। মেয়ার্স বলেন, নিউপোর্ট বিচের বাসিন্দারা তাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। সকালে কাজে এসে আগের রাতের বিশৃঙ্খলার খুব বেশি চিহ্ন আর দেখা যায়নি। গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ার আগে নিউপোর্ট বিচ কর্তৃপক্ষ 'নট ইন নিউপোর্ট' নামে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছিল। এতে প্রকাশ্যে মাতাল হওয়া, অবৈধ আতশবাজি ব্যবহার এবং বিশৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত নিরাপত্তা জোনে এসব অপরাধের জরিমানাও তিনগুণ করা হয়। নিউপোর্ট বিচের মেয়র লরেন ক্লেইম্যান বলেন, স্বাধীনতা দিবসে শহরে প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বাইরের অঙ্গরাজ্য থেকে তরুণদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়া আবাসনগুলোর জন্যও কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ভাড়াটিয়া জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আবাসনের অনুমতিপত্র বাতিল করা হতে পারে। মেয়র আরও বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ মানেনি, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং নিউপোর্ট বিচের বাইরের বাসিন্দা। ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তা আতশবাজির বিস্ফোরণে আহত হন। তবে তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে। এদিকে নিউপোর্ট বিচ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কথিত 'টিকটক টেকওভার' কর্মসূচির আহ্বানে বিপুলসংখ্যক উসকানিদাতা শহরে জড়ো হয়েছিল। তাদের দাবি, দাঙ্গাকারীদের তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ১:৫০০ অনুপাতে। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফল হয়েছে। নিউপোর্ট বিচ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী বছরের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে নিরাপত্তা আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্লাস্টিক সার্জন সারওয়া আলদুরির মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের সুইমিং পুল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে একটি কসমেটিক অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা লাইসেন্স হারিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম KGET-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ড শহরের পাইনগ্লেন ড্রাইভের একটি বাড়িতে ৭১ বছর বয়সী সারওয়া আলদুরিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। কার্ন কাউন্টি করোনারের দপ্তর তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এদিকে বেকার্সফিল্ড পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। আলদুরির মৃত্যুর কারণ, মৃত্যুর ধরন এবং এর পেছনের পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। প্রায় ৩৫ বছর ধরে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (ওবি-জিওয়াইএন) হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন আলদুরি। পরবর্তীতে তিনি বেকার্সফিল্ডের বেলা হেলথ অ্যান্ড বিউটি নামের একটি কসমেটিক সার্জারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেখানে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, সুস্থতা এবং বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। তবে তার পেশাগত জীবনে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয় ২০১৬ সালের একটি কসমেটিক অস্ত্রোপচারকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বছর এক রোগীর লিপোসাকশন ও টামি টাক অস্ত্রোপচার করেন আলদুরি। অস্ত্রোপচারের পর রোগী মারা যান। পরে ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল বোর্ড বিষয়টি তদন্ত করে। ২০২১ সালে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ওই ধরনের অস্ত্রোপচার পরিচালনার জন্য আলদুরির পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছিল না। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, রোগীর মৃত্যু হয়েছিল ফ্যাট এম্বোলিজম নামে পরিচিত একটি জটিলতায়। এ অবস্থায় শরীরের চর্বির ক্ষুদ্র কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে রক্তনালীতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তদন্ত শেষে চিকিৎসা বোর্ড প্রথমে আলদুরিকে সাত বছরের জন্য প্রবেশনে রাখে। তবে বোর্ডের নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ ওঠায় শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি স্বেচ্ছায় তার ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসা লাইসেন্স সমর্পণ করেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার জেরে ঘটা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ এবং ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার মাডেরা কাউন্টির একটি মোড়ে, যেখানে দ্রুতগতির একটি শেভ্রোলেট (শেভি) গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে একটি জিপকে। সামান্য একটি ভুলের কারণে দুটি তরতাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণে স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ১৮ বছর বয়সী এসমেরালদা মার্সেলা গুতেরেজ তার শেভি মালিবু গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি রাস্তার একটি 'স্টপ সাইন' বা থামার সংকেত অমান্য করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলে অপর দিক থেকে আসা একটি জিপ গাড়ির সাথে তার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই চালক গুতেরেজ প্রাণ হারান। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন তার পরিচয় প্রকাশ করে। গুতেরেজের গাড়িতে থাকা ২১ বছর বয়সী আরেক যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত জিপটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ ববি ক্রিয়েডো। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারলিফটের মাধ্যমে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা পরিবারকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, তার আঘাত এতটাই গভীর যে সেখান থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। টানা কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ববি। ওই জিপটিতে থাকা ২৫ বছর বয়সী চালক এবং ১০ বছর বয়সী এক শিশুও আহত হয়েছে, যাদের আঘাতের মাত্রা মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দুই পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তীব্র শোক ও হতাশা বিরাজ করছে। ববি ক্রিয়েডো যখন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন গত বৃহস্পতিবার উভয় হতাহতের স্মরণে একটি শোকসভা বা মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়। ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে মুহূর্তের ভুলে ঘটে যাওয়া এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পার্টি নদী হিসেবে পরিচিত সাউথ ইউবা রিভারে গ্রীষ্মকালীন উপচে পড়া ভিড় ও চরম বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে তীব্র যানজট, অবৈধ পার্কিং, পথচারীদের দুর্ঘটনা এবং অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে এবার মাত্র ২ ডলারের একটি বিশেষ শাটল সার্ভিস চালু করা হয়েছে। মূলত সাঁতার কাটা, ক্লিফ জাম্পিং ও রোদ পোহানোর মতো বিনোদনের জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ দর্শনার্থী এই নদীতে ভিড় জমান। কিন্তু দর্শনার্থীদের এই বিশাল সমাগম ওই এলাকার সরু মহাসড়কগুলোতে এক ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নেভাডা কাউন্টির পক্ষ থেকে ৪ জুলাইয়ের ছুটির সপ্তাহান্ত থেকে শুরু করে লেবার ডে পর্যন্ত একটি পরীক্ষামূলক শাটল সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এই সার্ভিসটি নদীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার হয়েট'স ক্রসিং সংলগ্ন হাইওয়ে ৪৯ ক্রসিং পর্যন্ত চলাচল করবে। ১৪ আসনের এই শাটলগুলো নেভাডা সিটি গভর্নমেন্ট সেন্টার থেকে প্রতি শুক্র, শনি, রোববার এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতি ৩০ মিনিট পরপর ছেড়ে যাবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে ২ ডলার ভাড়ার এই সার্ভিসে ক্রেডিট কার্ড ও ইলেকট্রনিক পেমেন্টও গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের আশা, নতুন এই শাটল সার্ভিসের ফলে বিপজ্জনকভাবে রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং জরুরি সেবার গাড়িগুলোর যাতায়াত আরও সহজ হবে। এছাড়া, দ্রুতগামী গাড়ির পাশাপাশি সংকীর্ণ মহাসড়ক ধরে দর্শনার্থীদের হেঁটে চলার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে। নেভাডা কাউন্টির সুপারভাইজার সু হোয়েক এক বিবৃতিতে জানান, এই তীব্র ভিড় মারাত্মক নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে এবং যেকোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের সময় জরুরি সেবার প্রবেশাধিকারকে সীমিত করে ফেলে। নেভাডা কাউন্টির অপর এক কর্মকর্তা শাভাতি কারকি-পার্ল জানান, এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাফিক সমস্যা এবং অনিরাপদ পার্কিং কমানো যায় কি না, সেটিই তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চান। কাউন্টির সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, এই নদীর অর্ধেকের বেশি দর্শনার্থী আসেন সান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া থেকে। ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সামলাতে শাটল সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল সেবন ও অবৈধভাবে বারবিকিউ বা আগুন জ্বালানোর ওপর কড়া নজরদারি, অতিরিক্ত নো-পার্কিং সাইন ও সেল নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় ৫টি জরুরি কল বক্স স্থাপন। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ এবং নদী পরিচ্ছন্ন রাখতে 'রিভার অ্যাম্বাসেডর' নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থার পরও নদীর সবচেয়ে ব্যস্ত অংশগুলোতে মাঝে মাঝেই বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে গেলে ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ও উদ্ধার তৎপরতার ঘটনা লেগেই থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুল অস্ত্রোপচারে এক রোগীর মৃত্যুর পর মেডিকেল লাইসেন্স হারানো এক নারী প্লাস্টিক সার্জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ৭১ বছর বয়সী সারওয়া আলদুরি নামের ওই চিকিৎসকের মৃতদেহ একটি বাড়ির পেছনের সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার কার্ন কাউন্টি করোনার মৃতদেহটি শনাক্ত করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিইটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেকার্সফিল্ডের পাইনগ্লেন ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়ি থেকে আলদুরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বেকার্সফিল্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি উদ্ঘাটনে তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। কীভাবে তিনি সুইমিংপুলে মারা গেলেন বা এটি কোনো দুর্ঘটনা কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সারওয়া আলদুরি প্রায় ৩৫ বছর ধরে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি বেকার্সফিল্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘বেলা হেলথ অ্যান্ড বিউটি’ নামের একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকে কর্মরত দুজন চিকিৎসকের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। মূলত নারীদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং কসমেটিক সার্জারির বিষয়ে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। তবে তার ক্যারিয়ারের শেষ দিকটা ছিল চরম বিতর্কে ঘেরা। ভুল কসমেটিক সার্জারির কারণে এক রোগীর মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল বোর্ডের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর প্রথমে তাকে সাত বছরের জন্য নজরদারিতে (প্রবেশন) রাখা হয়। কিন্তু সেই নজরদারির শর্তগুলো ঠিকমতো পালন না করার অভিযোগ উঠলে অবশেষে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি বাধ্য হয়ে নিজের মেডিকেল লাইসেন্স সমর্পণ করেন। ক্যারিয়ারের এমন চরম পতনের পরপরই তার এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয় জনমনে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা কাউন্টিতে পার্ক করে রাখা একটি গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার (হিট-অ্যান্ড-রান) অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন সাবেক মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির স্বামী পল পেলোসি। গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) বেলা আড়াইটার দিকে ইয়াউন্টভিল এলাকার ইয়োন্ট স্ট্রিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় শেরিফ অফিস। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৮৬ বছর বয়সী পল পেলোসি তার বাদামি রঙের কনভার্টিবল গাড়িটি চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে পার্ক করা একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে পার্ক করা গাড়িটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর তিনি কিছুক্ষণের জন্য গাড়ি থামালেও পুনরায় চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে এক প্রত্যক্ষদর্শীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইয়াউন্টভিল ক্রস রোডে পেলোসির গাড়িটি বিকল অবস্থায় রাস্তার একটি অংশ অবরুদ্ধ করে থাকতে দেখে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পেলোসি কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগার কথা স্বীকার করেন। তবে সেটি যে একটি গাড়ি ছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, গাড়িটি বিকল হয়ে পুরোপুরি থেমে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে পুলিশের তদন্তে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দুর্ঘটনার সময় পল পেলোসি কোনোভাবেই মদ্যপ ছিলেন না। যেহেতু ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রাফিক আইন অনুযায়ী হতাহতবিহীন সম্পত্তি নষ্টের এই ধরনের ঘটনাগুলো ‘লঘু অপরাধ’ (মিসডিমিনার) হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে পুরো ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার জন্য মামলাটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বয়স্ক চালকদের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিরাপত্তা নিয়ম অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস বা ডিএমভি-তে তার ড্রাইভিং সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি রেফারেল ফর্মও জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ১১ হাজার লাইসেন্সধারী চালককে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের সতর্কতা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস (ডিএমভি)। চিঠিতে বলা হয়েছে, তাদের লিখিত ড্রাইভিং পরীক্ষার ফলাফলে ‘অনিয়ম’ বা অসংগতি ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে হলে চিঠি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাদের আবারও লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় না বসলে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডিএমভির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে যারা লিখিত ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছিলেন, মূলত তাদের মধ্য থেকেই এই ১১ হাজার জনকে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা ডেভিড স্পেখট এমনই একটি চিঠি পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে তার পরীক্ষার ফলাফল রাজ্যের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে স্পেখটের দাবি, তিনি কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেননি এবং তার মতো আরও অনেকেই বিনা দোষে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ডিএমভিতে যোগাযোগ করলেও তাকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। তার ধারণা, ডিএমভির নিজস্ব ডেটাবেস বা তথ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঘটার কারণেই এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে ডিএমভি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রাইভিং পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। মূলত একজন চালক ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে কতটা অবগত, তা যাচাই করে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সততা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চিঠি পাওয়া চালকদের আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার জন্য অবশ্যই আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। পরীক্ষার দিন ডিএমভির পাঠানো মূল চিঠিটি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ওয়াক-ইন বা সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে ডিএমভি।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচার চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশাল ফেডারেল অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। "অপারেশন ব্রোকেন ব্লেড" নামের এই সাঁড়াশি অভিযানটি মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের কুখ্যাত ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকাকে কেন্দ্র করে চালানো হয়। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন শোষণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মোটেল এবং একাধিক বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরের কাছে অবস্থিত 'স্টেডিয়াম ইন অ্যান্ড স্পাস' নামক ওই মোটেলে তল্লাশি চালিয়ে এর ৪৫ বছর বয়সী অন-সাইট ম্যানেজার মুকেশকুমার রামভাই আহিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি সরাসরি মানবপাচারে জড়িত না থাকলেও যৌনপাচারের অবৈধ আয় থেকে লাভবান হওয়া এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে সেই অর্থ আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই স্থানীয় কুখ্যাত 'হুভার গ্যাং'-এর সদস্য কিংবা সহযোগী। দীর্ঘ সময় ধরে ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকায় যৌনপাচার ও পতিতাবৃত্তির পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল এই চক্রটির হাতে। বুধবার প্রকাশিত ফেডারেল অভিযোগপত্রে অন্তত ৫১ জন ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জোরপূর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে যৌনপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তদন্তে উঠে এসেছে এই চক্রের নির্মমতার চিত্র। তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক ও মানসিকভাবে দুর্বল কিশোরী এবং তরুণীদের টার্গেট করত। বিশেষ করে ফস্টার কেয়ারের মেয়েদের বা বাড়ি থেকে পালানো শিশুদের বিলাসবহুল জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো। পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং অক্সিকোডন ও অ্যামফেটামিনের মতো ভয়ংকর মাদকে আসক্ত করে তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দালাল ভুক্তভোগীদের শরীরে জোরপূর্বক দাগ বা ব্র্যান্ডিং করে দিত। এমনকি এক ভুক্তভোগীকে জোর করে গর্ভপাত করানোর পর একই রাতে পুনরায় যৌনকাজে বাধ্য করার মতো শিউরে ওঠা তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, গত বছর ওই এলাকা থেকে ৫৪ জন এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। মানবপাচার ও এ ধরনের নিষ্ঠুর যৌন শোষণ পুরোপুরি নির্মূল করতে ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা শহরের দীর্ঘ এক দশক ধরে বন্ধ থাকা প্রধান ডাকঘর বা পোস্ট অফিস ভবনটিকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে স্থানীয় নগর পরিকল্পনা কমিশন সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মাঝে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। গত ২০১৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নাপার এই প্রধান পোস্ট অফিস ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষতির কারণে একপর্যায়ে ভবনটি ভেঙে ফেলারও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এটিকে একটি ঐতিহাসিক ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি লোহার বেষ্টনী দিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নতুন অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক্তন এই পোস্ট অফিসের জায়গায় একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট বুটিক লাক্সারি হোটেল নির্মাণ করা হবে। এই হোটেলে ৯৪টি কক্ষের পাশাপাশি একটি আধুনিক রেস্তোরাঁ এবং স্পা সুবিধা থাকবে। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ডেভেলপার ডেভিড অলিভার জানান, নাপা কাউন্টির ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ বিষয়ক স্থানীয় সংগঠন 'নাপা কাউন্টি ল্যান্ডমার্কস' এই প্রকল্পে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ভবনটির ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী যতখানি সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখেই এই হোটেলটি তৈরি করা হবে। ভবনটির ঠিক পাশেই 'কিন্ডলড অ্যান্ড গ্রাউন্ডেড' নামের একটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক কোর্টনি লেস্টার এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ১০ বছর ধরে এই সড়কটি মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল। এখানে নতুন একটি হোটেল চালু হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে, যা স্থানীয় ছোট বড় সব ব্যবসার পরিধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। নাপা শহরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অবশ্য নাপা উপত্যকায় নতুন হোটেলের চাহিদা নিয়ে কিছুটা বাজারভিত্তিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই অঞ্চলে হোটেলের রাজস্ব বাড়লেও কক্ষের বুকিং বা চাহিদা আশানুরূপ বাড়েনি। এছাড়া মদ্যপান ও ওয়াইন শিল্পের বাজারে কিছুটা মন্দা চলছে। তবে সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ডেভেলপার ডেভিড অলিভার জানান, সামগ্রিক ওয়াইন শিল্পে কিছুটা পরিবর্তন আসলেও নাপা শহরের প্রাণকেন্দ্র বা ডাউনটাউন এলাকার বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটিকে আরও কিছু প্রক্রিয়া পার করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১ হাজারের বেশি চালককে আবারও লিখিত ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে নির্দেশ দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগ (ডিএমভি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলস (DMV) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত কিছু লিখিত ড্রাইভিং পরীক্ষায় "অনিয়ম" (Irregularities) শনাক্ত হয়েছে। এ কারণেই ওই সময়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ১১ হাজারের বেশি চালককে নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ডিএমভির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট চালকদের পরীক্ষার ফলাফল রাজ্যের আইনে নির্ধারিত পরীক্ষার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই চিঠি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। অন্যথায় তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে ডিএমভি এখন পর্যন্ত কী ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সংস্থাটি এও বলেনি যে সংশ্লিষ্ট চালকদের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা নকলের কোনো অভিযোগ রয়েছে। ফলে কী কারণে এত বড় পরিসরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এক বিবৃতিতে ডিএমভি বলেছে, ড্রাইভিং পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটির ভাষ্য, "লিখিত জ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা নিশ্চিত করে যে লাইসেন্স পাওয়ার আগে একজন চালক সড়ক আইন ও ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখেন। তাই পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সততা বজায় রাখা অপরিহার্য।" ডিএমভির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রভাবিত চালকেরা ইচ্ছামতো যেকোনো সময় ডিএমভি অফিসে গিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন না। তাদের আগে নির্ধারিত সময় নিয়ে (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) যেতে হবে। পাশাপাশি ডিএমভির পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিটিও সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো জনবহুল অঙ্গরাজ্যে চালকদের দক্ষতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে একসঙ্গে ১১ হাজারের বেশি চালককে পুনরায় পরীক্ষা দিতে নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাটি বিরল। ডিএমভি ভবিষ্যতে অনিয়মের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে যেসব চালক এ চিঠি পেয়েছেন, তাদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্সের বৈধতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান বার্নার্ডিনো কাউন্টিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং তার গর্ভের যমজ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। একই দুর্ঘটনায় ওই নারীর দুই কিশোর সন্তান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএ এবং দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন ৩৩ বছর বয়সী লোরেনা লোপেজ তার ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে একটি পার্টিতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি মোড়ে তাদের গাড়িকে অপর একটি গাড়ি জোরে ধাক্কা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ২৫ বছর বয়সী অপর গাড়িচালক স্টপ সাইন অমান্য করে দ্রুতগতিতে মোড় অতিক্রম করার সময় লোপেজের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটান। ধাক্কার তীব্রতায় পরিবারের নিসান আলটিমা গাড়িটি উল্টে যায় এবং এর ছাদ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই লোরেনা লোপেজ এবং তার গর্ভের যমজ সন্তান, একটি ছেলে ও একটি মেয়ের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, লোপেজ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং মাত্র দুই সপ্তাহ পর তার 'বেবি শাওয়ার' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আহত লোপেজের দুই সন্তানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তাদের দুজনেরই গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত, মস্তিষ্কে ফোলা এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। তারা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষে জড়িত টয়োটা ক্যামরি গাড়িটির চালক দুর্ঘটনার পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। পরে গাড়িটিতে আগুন ধরে গেলে উদ্ধারকর্মীরা তাকে বের করে হাসপাতালে পাঠান। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ। পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেন। ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ডেনিস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সংঘর্ষের শব্দ ছিল এতটাই বিকট যে তা তার কাছে "সুপারসনিক বিস্ফোরণের" মতো মনে হয়েছে। লোপেজের মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। পরিবারের সদস্যরা তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং আহত দুই সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য একটি গোফান্ডমি তহবিলও চালু করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় চালকের গতি, স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ক্লেয়ারমন্ট শহরের একটি ডে কেয়ার কেন্দ্রে চার মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে প্রসিকিউশন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ডে কেয়ারটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিহত শিশুর স্বজনরা। মামলায় অভিযুক্ত কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি, কারণ তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি লস পাদ্রিনোস জুভেনাইল হল-এ আটক রয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন সকাল সাড়ে ১১টার কিছু আগে ক্লেয়ারমন্ট শহরের লিনওক ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়িতে পরিচালিত ডে কেয়ার থেকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ক্লেয়ারমন্ট পুলিশ জানায়, সেখানে চার মাস বয়সী ট্রয় মে এলেইন কোহন নামে এক শিশুকন্যাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্ত কিশোর শিশুটিকে মেঝেতে ছুড়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে সে গুরুতর আহত হয়। শিশুটিকে প্রথমে পোমোনা ভ্যালি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চিলড্রেনস হসপিটাল অব অরেঞ্জ কাউন্টিতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। এদিকে শিশুটির পরিবার ডে কেয়ার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, শিশুদের জন্য পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ওই কিশোরের উপস্থিতি মোটেও নিরাপদ ছিল না এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার দায় ডে কেয়ার কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। শিশুটির মা জ্যাজমিন কোহন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএ-কে বলেন, তিনি কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ফোন পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। তার ভাষায়, "আমার সন্তানের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথার খুলিও ভেঙে গিয়েছিল। ডে কেয়ারের অবহেলার কারণেই আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি।" তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি, কী কারণে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর ডে কেয়ারটিতে ছিলেন। পরিবারটির ধারণা, তিনি হয়তো ডে কেয়ারের মালিকের তত্ত্বাবধানে সেখানে অবস্থান করছিলেন। শিশুটির মা বলেন, "শিশুদের ডে কেয়ারে তার থাকা উচিত ছিল না। শুধু আমার সন্তান নয়, কোনো শিশুরই এমন ঝুঁকির মধ্যে থাকা উচিত নয়।" শিশুটির নানি আন্দ্রেয়া হলকম্বও প্রশ্ন তুলেছেন, একটি শিশু ডে কেয়ারে রেখে যাওয়ার পর কীভাবে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়। অন্যদিকে শিশুটির বাবা অ্যান্থনি ওয়েন্স বলেন, কেন তার মেয়ের এমন পরিণতি হলো, সেটি এখনও তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ও শিশুটির মা ওই ডে কেয়ারটি বন্ধ করারও আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে একটি গোফান্ডমি তহবিল চালু করেছেন। এর মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং আইনি লড়াইয়ের খরচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের বার্তায় বলা হয়েছে, "একটি ডে কেয়ারে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার কারণে জ্যাজমিন তার চার মাসের কন্যাকে হারিয়েছেন। কোনো বাবা-মায়েরই এমন অসহনীয় বেদনার মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।" প্রায় ৩৭ হাজার জনসংখ্যার ক্লেয়ারমন্ট শহরে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা খুবই বিরল। তাই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ক্লেয়ারমন্ট পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলমান। তদন্ত শেষ হলে ডে কেয়ারের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্লারিটায় রাস্তায় গাড়ি চালানোকে কেন্দ্র করে এক এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিবেশীর ওপর জঘন্য বর্ণবাদী মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক নারী অপর গাড়ির চালককে উদ্দেশ্য করে চরম বর্ণবাদী গালিগালাজ করছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে এশিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। ইন্টারনেটে ক্ষিপ্ত নেটিজেনরা ওই নারীকে অহংকারী ও বর্ণবাদী আচরণের জন্য 'ক্যারেন' (Karen) আখ্যা দিয়েছেন। অনলাইনে এলেইন লাফোর্জ নামে শনাক্ত হওয়া ওই নারী ভিডিওতে চিৎকার করে বলছিলেন, "তুমি এশিয়ায় ফিরে যাচ্ছো না কেন? এশিয়ায় ফিরে যাও এবং গিয়ে রিকশা চালাও।" ভুক্তভোগী নারী, যিনি ভিডিওটি ধারণ করছিলেন, তাঁকে ক্যামেরায় দেখা যায়নি। তবে তিনি জানান, বাড়ি ফেরার পথে লাফোর্জ দ্রুতগতিতে তাঁর গাড়িটি অতিক্রম করেন এবং এরপরই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এমনকি রেকর্ডিং শুরুর আগে ওই নারী আঙুল দিয়ে 'এশীয় চোখ' ভেংচি কাটছিলেন বলেও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। ভিডিওতে ভুক্তভোগী নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনিও একই শেফিল্ড এবং অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আশপাশের এলাকায় থাকেন এবং তিনি অভিযুক্তের গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের ছবি তুলে রেখেছেন। ভুক্তভোগী নারী পরবর্তীতে ২ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা ইনস্টাগ্রাম ক্রিয়েটর মাইকেল ম্যাকহোর্টারের কাছে ভিডিওটি শেয়ার করেন। ম্যাকহোর্টার নিয়মিত এ ধরনের সামাজিক সংঘাতের ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। ভুক্তভোগী তাঁকে জানান, প্রথমে অভিযুক্ত নারী তাঁর পেছনে থাকলেও পরে সামনে এসে পাগলের মতো আচরণ শুরু করেন এবং রাস্তার মাঝে বারবার ব্রেক কষতে থাকেন। নিজের বাড়ির ঠিকানা গোপন রাখতে তিনি ওই সময় বাড়ির সামনে দিয়ে না থেমে গাড়ি চালিয়ে চলে যান। এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সান্তা ক্লারিটার স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ম্যাকহোর্টার নিজেও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক স্কুলশিক্ষিকার প্রকাশ্য বক্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে গাজার এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার আইনি সুযোগ করে দেওয়াও তার অন্যতম উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নৃত্যশিক্ষক লরা পিনহো সম্প্রতি একটি অনলাইন আলোচনায় নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গাজায় বসবাসকারী সালেম আবু আমরার সঙ্গে তার পরিচয় অনলাইনে। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চলতি বছরের এপ্রিলে উটাহ অঙ্গরাজ্যের আইনসম্মত ভার্চুয়াল ম্যারেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা বিয়ে করেন। আলোচনায় লরা পিনহো বলেন, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তিনি যে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, তা অন্যের উপকারে ব্যবহার করতে চান। তার ভাষ্য, গাজার বর্তমান মানবিক সংকটের মধ্যে থাকা একজন মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে আসার সুযোগ তৈরি করাই ছিল তার সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিজের সংহতির কথাও উল্লেখ করেন। শিক্ষিকার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ এটিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন অভিবাসন আইন ও নৈতিকতার দিকটি নিয়ে। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রথমে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত আবেদন, সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পরে যোগ্যতা ও আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এবং পরবর্তীতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ আসে। বিশেষজ্ঞদের আরও বক্তব্য, যদি কোনো বিয়ে শুধুমাত্র অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণিত হয় এবং প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তি না থাকে, তাহলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ‘ম্যারেজ ফ্রড’ বা বিবাহ জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লরা পিনহো বা তার স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো সরকারি তদন্তের ফলাফল, অভিযোগ বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি—এই তিনটি সংবেদনশীল বিষয় একসঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন কৌতুক অভিনেত্রী, অভিনেত্রী ও প্রযোজক Whitney Cummings আবারও ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড হিলস এলাকায় নিজের বিলাসবহুল বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তুলেছেন। বাড়িটির মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১২২ কোটি টাকার বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক)। আবাসনবিষয়ক একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে প্রথমবারের মতো বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে দাম কমানো হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার নতুন করে আবারও বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেসের উডল্যান্ড হিলসে একটি ব্যক্তিগত কুল-ডি-স্যাকের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই এস্টেটটির আয়তন প্রায় ৪ দশমিক ০৫ একর। আশপাশে রয়েছে প্রাকৃতিক হাঁটার পথ, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা। বাড়িটির অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে বাসিন্দারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা উপভোগ করতে পারেন। প্রায় ৬ হাজার ৮৩০ বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িতে রয়েছে পাঁচটি শয়নকক্ষ ও সাতটি বাথরুম। এছাড়া রয়েছে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার, জিম, সুইমিং পুল, স্পা, ক্রীড়া কোর্ট এবং খোলা আকাশের নিচে বারবিকিউ আয়োজনের বিশেষ ব্যবস্থা। বাড়িটির নকশা করেছেন খ্যাতিমান অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ জেক আর্নল্ড। আধুনিক ন্যূনতম নকশা ও ভূমধ্যসাগরীয় স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত এই বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ উঁচু ছাদ, প্লাস্টারের তৈরি বাঁকানো সিঁড়ি এবং প্রাকৃতিক আলোয় ভরা প্রশস্ত কক্ষ। প্রবেশমুখে রয়েছে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ ও উষ্ণ রঙের সাজসজ্জা। বসার ঘরে বড় জানালা দিয়ে বাইরে বাগানের দৃশ্য দেখা যায়। আরামদায়ক সোফা, সাজানো বইয়ের তাক, অগ্নিকুণ্ড এবং প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহারে ঘরটিতে শান্ত ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। রান্নাঘরের কেন্দ্রে রয়েছে সবুজ পাথরের বড় আইল্যান্ড কাউন্টার। কাঠের ক্যাবিনেট, সোনালি রঙের হাতল ও কল, ডাবল ওভেন এবং আলাদা কফি কর্নার রান্নাঘরটিকে একই সঙ্গে ব্যবহারিক ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ডাইনিং স্পেসটি রান্নাঘরের সঙ্গে সংযুক্ত। বড় কাঁচের দরজা খুললেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা পেছনের উঠান, যা ঘরের ভেতর ও বাইরের পরিবেশকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রধান শয়নকক্ষের সঙ্গে থাকা বাথরুমটি ইতালির বিখ্যাত আমালফি উপকূল থেকে অনুপ্রাণিত। সেখানে রয়েছে বেলজিয়ান স্টাইলের বড় বাথটাব এবং খোলা তাকের নকশা, যা স্পার মতো অভিজ্ঞতা দেয়। বাড়ির বাইরের অংশও সমান আকর্ষণীয়। ছায়াঘেরা বসার জায়গা, দড়ির দোলনা, পাথরের পথ এবং দেশীয় গাছপালায় সাজানো প্রাকৃতিক পরিবেশ বাড়িটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সুইমিং পুল এলাকায় রয়েছে অলস নদীর মতো বাঁকানো জলপথ, আগুন জ্বালানোর স্থান এবং জলপাই গাছঘেরা বিশ্রাম এলাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বাড়ির নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন হুইটনি কামিংস। বিশেষ করে ছেলে সন্তানের সঙ্গে রান্নাঘর, বাগান কিংবা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে কাটানো সময়ের ছবি অনুসারীদের নজর কেড়েছে। একটি ছবিতে বলগাউন পরে বাড়ির বাঁকানো সাদা সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেও দেখা যায় তাকে। বাড়িটিতে একটি আলাদা বাস্কেটবল কোর্টও রয়েছে। বাস্কেটবলপ্রেমী হুইটনি অতীতে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায় বাড়ির এই অংশে। ২০২৫ সালে বাড়িটি প্রথম বিক্রির তালিকায় ওঠার সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ঘটে। সে সময় হুইটনি কামিংসকে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছিল। পরে তিনি স্বীকার করেন, ওই অভিজ্ঞতার পর ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বসবাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। যদিও এবার বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ তিনি প্রকাশ করেননি। তবে আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, বড় জমি, আধুনিক নকশা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ে উডল্যান্ড হিলসের এই সম্পত্তি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় বিলাসবহুল আবাসন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সামার ক্যাম্পে বিশাল গাছের ডাল ভেঙে আট বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ১ কোটি ৯৩ লাখ (১৯.৩ মিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে তার পরিবার। দুর্ঘটনার ঠিক আগের দিন ওই গাছটির বিপজ্জনক অবস্থা নিয়ে সতর্ক করে পাঠানো একটি খুদে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) সামনে আসার পরই মামলার এই বিশাল অঙ্কের নিষ্পত্তি হলো। নিহত শিশুর পরিবারের আইনজীবীরা প্রমাণ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। গত ২০২৫ সালের ৯ জুলাই ক্যালাবাসাসের কিং জিলেট র্যাঞ্চে অবস্থিত ক্যাম্প ওয়াইল্ডক্রাফটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে বিশাল একটি ওক গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল সামার ক্যাম্পের শিশুরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ২৫ থেকে ৩০ ফুট লম্বা ও কয়েকশ পাউন্ড ওজনের একটি বিশাল ডাল ভেঙে শিশুদের ওপর আছড়ে পড়ে। এই ভয়াবহ ঘটনায় লামার ম্যাকগ্লোথার্ন নামের ওই আট বছরের শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়। খবর পেয়ে দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা এসে গাছচাপা পড়া অবস্থায় একাধিক ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার জেরে ৫৮৮ একরের ওই ক্যাম্পটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মাউন্টেইনস রিক্রিয়েশন অ্যান্ড কনজারভেশন অথরিটি (এমআরসিএ) এবং গোমেজ ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড ট্রি কেয়ারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা করে নিহত লামারের পরিবার। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতা চুক্তির আওতায় এমআরসিএ-এর বিমাকারীরা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ক্যাম্প ও ল্যান্ডস্কেপিং কোম্পানির বিমাকারীরা প্রায় ৩০ লাখ ডলার প্রদান করবে। মামলায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, পূর্বসতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দুর্ঘটনার ঠিক আগের দিন গাছ পরিচর্যা কোম্পানির এক কর্মীর পাঠানো টেক্সট মেসেজ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ওই বার্তায় লেখা ছিল, "গাছের গুঁড়িতে পচন দেখা যাওয়ায় তা কিছুটা উদ্বেগজনক। ঝুঁকি কমাতে অন্তত ডালপালা ছেঁটে ওপরের অংশের ওজন কমানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।" লামারের পরিবারের আইনজীবী রবার্ট গ্লাসম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, "এই বিপর্যয় সম্পূর্ণভাবেই এড়ানো যেত। পাবলিক প্রপার্টিতে যখন এমন বিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করে, তখন প্রতিটি পরিবারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানোর পূর্ণ অধিকার রয়েছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিডলি শহরের এক কৃষকের বিনামূল্যে ফল বিতরণের বিশাল আয়োজন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেছে। সিজার মোরা নামের ওই কৃষক নিজের বাগানের উৎপাদিত ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড নেকটারিন (এক ধরনের রসালো ফল) বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষিজাত পণ্য বিপণনকারী একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মালিকানা নিয়ে তিক্ত আইনি লড়াইয়ের জেরে নিজের বাগানের ফসল যেন টানা দ্বিতীয় বছরের মতো গাছেই পচে না যায়, সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি এই অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিনামূল্যে ফল সংগ্রহ করতে হাজার হাজার মানুষ তার বাগানে ভিড় জমালে খামারমুখী রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এর ফলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল সাময়িকভাবে এই বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সিজার মোরার দাবি, গত এক দশক ধরে তিনি কঠোর পরিশ্রমে এই ফলগুলো চাষ করলেও কৃষিজাত পণ্য বিপণনকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গিউমারা (Giumarra) মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে এই ফল প্যাকেটজাত ও বিক্রি করতে বাধা দিচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে আদালতে তাদের এই আইনি লড়াই চলছে। গিউমারার দাবি, মোরা যে জাতের ফল চাষ করেন তার মালিকানা তাদের এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে তারা মোরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অন্যদিকে, সিজার মোরা তাদের মালিকানার দাবি ও চুক্তির বৈধতা অস্বীকার করে জালিয়াতি এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গিউমারার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। টিকটকে দেওয়া এক কড়া বার্তায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন একচেটিয়া আধিপত্যের সমালোচনা করে মোরা বলেন, "আমি তাদের মুকুট পরাইনি এবং তাদের সামনে মাথাও নত করব না। কোনো ভুয়া রাজার কাছে আমি মাথা নোয়াব না।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনামূল্যে ফল বিতরণের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর গিউমারা কর্পোরেশন থেকে সিজার মোরাকে দুটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। একটি নোটিশে অবিলম্বে ফল বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অপরটিতে অধিকার সংরক্ষণের নামে বিনামূল্যে দেওয়া প্রতিটি ফলের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দাবি করা হয়। কর্পোরেট লাইসেন্সিংয়ের মারপ্যাঁচে টানা দ্বিতীয় বছর নিজের শ্রমে ফলানো ফসল পচে যাওয়ার মতো ‘পুরোপুরি লোকসান’ মেনে নেওয়ার চেয়ে তিনি ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত মানুষকে এই মিষ্টি ফলগুলো বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে বিতরণ বন্ধ হয়ে গেলেও যেসব মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রাইভ করে ফল নিতে এসেছিলেন এবং তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের হাসিমুখ ও সমর্থনের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে হ্যারিস এম সৈয়দ নামের এক মুসলিম আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এই নিয়োগের পর দেশটির বিচারব্যবস্থায় শরিয়াহ আইনের প্রভাব এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এবং মুসলিম আমেরিকান অধিকার সংগঠন ‘কেয়ার’ (CAIR) এই নিয়োগকে স্বাগত জানালেও কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে। বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে হ্যারিস এম সৈয়দ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে আলোচনায় এসেছিলেন। কাউন্টির অবসরকালীন বা রিটায়ারমেন্ট তহবিলগুলোর বিনিয়োগ সুদ-ভিত্তিক হওয়ার কারণে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেন, যা ইসলামিক শরিয়াহ অর্থায়নের নিয়মের (সুদ বা রিবা নিষিদ্ধকরণ) পরিপন্থী। তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের সুরক্ষায় শরিয়াহ-সম্মত বিনিয়োগের বিকল্প সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এবং এটিকে তাঁর বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই নিয়োগের পর কলোরাডোভিত্তিক ডানপন্থী ও রক্ষণশীল বিভিন্ন ফোরাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করছেন, এটি মার্কিন আদালত ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত প্রভাব বিস্তারের অংশ। তারা ২০২৪ সালে ‘কেয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ-এর দেওয়া একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সে সময় আওয়াদ মুসলিম শিক্ষার্থীদের আইন, সাংবাদিকতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে স্কলারশিপ দিয়ে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে হাজার হাজার আইনজীবী ও নীতিনির্ধারক তৈরির একটি কৌশলগত পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে আমেরিকার বিচারব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। উগ্রপন্থী ও বর্ণবাদবিরোধী গবেষক দল ‘রেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান অ্যামি মেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, যিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে শরিয়াহ আর্থিক নিয়মের সাথে মেলাতে মামলা লড়েছেন, তিনি এখন আমেরিকার অন্যতম বড় আদালত ব্যবস্থার বিচারকের আসনে বসেছেন। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যের গভর্নরদের দ্বারা সমালোচিত সংগঠন ‘কেয়ার’ এই নিয়োগকে স্বাগত জানানোয় তারা একে বিচারব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখছেন। তবে এই সমস্ত সমালোচনার বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার কর্মীরা এই নিয়োগকে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ‘কেয়ার-এলএ’ হ্যারিস সৈয়দকে একজন অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ ‘আমেরিকান মুসলিম আইনজীবী’ হিসেবে প্রশংসা করেছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, বিচার বিভাগে বৈচিত্র্য আনা এবং সব ধর্মের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য, যা মার্কিন সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে আরও সমুন্নত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় এক বছর পর অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী আর্ল ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার বুয়েনা পার্কে প্রতিবেশীদের নিয়ে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তার ছোড়া অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণেই মারা যায় ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন। তদন্তে জানা গেছে, জেসমিন, তার মা হ্যালি এনগুয়েন এবং ৭ বছর বয়সী বোন ডিকাস্ত্রোর বাড়ির ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডিকাস্ত্রো প্রায় ৪০০ ডলারের একটি অবৈধ ‘কেক’ ধরনের আতশবাজি জ্বালান। পেশাদার মানের বিস্ফোরকযুক্ত এই আতশবাজি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে সেটি বিকল হয়ে মর্টার শেল সরাসরি ড্রাইভওয়ের দিকে ছুটে আসে। এতে উপস্থিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির ভেতরে ছুটে যান। জেসমিনের মা হ্যালি এনগুয়েন অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারকে বলেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের দিন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। অনেকের জুতার ভেতর দিয়েও রক্ত বের হচ্ছিল।” জেসমিন পরিবারের সঙ্গে এমন একটি টেবিলের পাশে বসেছিল, যেখানে আরও কিছু অব্যবহৃত আতশবাজি রাখা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে সেগুলোতেও আগুন ধরে যায়। বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার আগেই গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। হ্যালি এনগুয়েন নিজেও ওই বিস্ফোরণে আহত হন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি ও আর থাকবে না। আমি কিছুই করতে পারিনি। মাসের পর মাস শুধু বসে থেকেছি। এখন আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, তার কণ্ঠও শুনতে পাই না। সবকিছু অনেক বেশি নীরব।” শোকের মধ্যেও হ্যালি এনগুয়েন আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ চান না। তার ভাষায়, “আমি কোনো অভিযোগ আনার পক্ষে নই। এটা সত্যিই একটি দুর্ঘটনা ছিল।” তবে প্রসিকিউটররা ভিন্ন অবস্থান নেন। ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, বেপরোয়াভাবে আগুন লাগিয়ে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি এবং ১০০ পাউন্ডের বেশি অবৈধ আতশবাজি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন ঘটনার প্রায় এক বছর পর অভিযোগ গঠন করা হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। দোষী সাব্যস্ত হলে ডিকাস্ত্রোর সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিটজার বলেন, “অবৈধ আতশবাজি কেনা ও ব্যবহার করার মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা নেই। আট বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং যার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের আনন্দ কোনো শিশুর জীবন বা আজীবনের শোকের বিনিময়ে হতে পারে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলপন্থি দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের সময় পল কেসলার (৬৯) নামে এক ইহুদি বিক্ষোভকারীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে এক আরব বংশোদ্ভূত কলেজ শিক্ষককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকের নাম লোয়ায় আবদেল ফাত্তাহ আলনাজি (৫৩)। তিনি জর্ডানিয়ান বংশোদ্ভূত এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কমিউনিটি কলেজের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষক। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পর ক্যালিফোর্নিয়ার থাউজেন্ড ওকস এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেখানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ চলাকালীন আলনাজি ক্ষুব্ধ হয়ে অবসরপ্রাপ্ত ইহুদি নাগরিক কেসলারের মাথায় একটি মেগাফোন (মাইক) দিয়ে আঘাত করেন। এতে কেসলার সজোরে পেছনের দিকে উল্টে পাকা রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে আলনাজি অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা এবং মারাত্মক শারীরিক আঘাতের অপরাধ স্বীকার করেন। আদালত তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই বছরের প্রবেশন (নজরদারি) মঞ্জুর করেছে। আগামী ৭ আগস্ট থেকে তাঁর এই সাজা কার্যকর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই রায়কে অত্যন্ত ‘নমনীয়’ ও ‘লঘু শাস্তি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন। মামলার ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ও আদালতের এই রায়ের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে একজন প্রবীণ নাগরিকের ওপর এমন সহিংস হামলার ঘটনায় রাজ্য কারাগারে আরও দীর্ঘমেয়াদি সাজাই ছিল উপযুক্ত শাস্তি। অন্যদিকে, ‘অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ’সহ একাধিক ইহুদি মানবাধিকার সংস্থার দাবি, এই রায় অপরাধের ভয়াবহতার তুলনায় কিছুই নয় এবং এটি সমাজে ভুল বার্তা দেবে যে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে ইহুদিদের ওপর হামলা করেও পার পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।