ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছে মার্কিন ভ্রমণ—কোথায় যাচ্ছেন তারা?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী মন্তব্য ও শুল্কনীতির প্রতিবাদে ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কানাডার পর্যটকরা। ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ আখ্যা দেওয়া এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করার পর থেকে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকে আগে থেকেই পরিকল্পিত মার্কিন সফর বাতিল করে নিজ দেশ কিংবা ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছেন।
নিউ ইয়র্ক হয়ে পানামা খাল ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বদলে এক কানাডীয় দম্পতি রোম ও বার্সেলোনা রুট বেছে নেন। সেখানকার প্রাচীন স্থাপত্য ও স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতায় তারা সন্তুষ্ট। অন্টারিওর বাসিন্দা কেন্ট ট্রাসকট জানান, টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ দেখার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তাঁরা নোভা স্কশিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। কাবট ট্রেইলে হেঁটেছেন, আটলান্টিক উপকূলে মহিলা পরিচালিত রিসোর্টে থেকেছেন এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিয়েছেন—মার্কিন সফরে যে অর্থ খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা কানাডাতেই ব্যয় করেছেন তাঁরা।
ভ্যাঙ্কুভারের অবসরপ্রাপ্ত নিক স্মিথ ২০১৬ সালের পর থেকেই মার্কিন সফর এড়িয়ে চলছেন। বাইডেনের সময় কিছুটা ভ্রমণ করলেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আবার বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরব, এমন না—বাস্তব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ দেখতে চাই।’’ গত বছর তিনি সরাসরি ভ্যাঙ্কুভার থেকে মেক্সিকো সিটি এবং স্ত্রীকে নিয়ে মরক্কো ভ্রমণ করেছেন, যেখানে মারাকেশ, ফেজ ও এসাউইরা শহর ঘুরে রমজানের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্রিস্টি মিচেলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল স্পেনের ক্যামিনো ফ্রান্সেস পথে হাঁটার। ট্রাম্পের নীতিতে হতাশ হয়ে তিনি লাস ভেগাসের বদলে স্পেনে ৭৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। পথে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে গভীর কথোপকথন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তিনি, তবে শর্ত—হোয়াইট হাউসে নতুন নেতৃত্ব ও কানাডা-মার্কিন সম্পর্কের পুনর্মিলন।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এপ্রিলে কানাডা থেকে মার্কিন সড়কপথে ভ্রমণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ কমেছে। এর ফলে গত বছর মার্কিন পর্যটন খাতে রাজস্ব কমেছে প্রায় ৩৩০ কোটি কানাডীয় ডলার (২৩৫ কোটি মার্কিন ডলার)। ফিরিয়ে আনতে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ ব্রডওয়ে ও হোটেলে ৩০% ছাড় ঘোষণা করলেও, কানাডীয় ডলারের দুর্বলতা ও ট্রাম্পের নীতিতে অনাগ্রহ অনেককে দমিয়ে রাখছে।
অনেক কানাডিয়ান মনে করছেন, কেবল ট্রাম্প বিদায় নিলেই সম্পর্ক আগের জায়গায় ফিরবে না—প্রয়োজন গভীর কূটনৈতিক ও আচরণগত পরিবর্তন। কানাডার নাগরিকরা এখন নিজের দেশের সৌন্দর্য আবিষ্কার করছেন, কিংবা ইউরোপ-আফ্রিকার পথে পা বাড়াচ্ছেন, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযানের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ; অন্যদিকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা যোগ্য ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরাতে আর্থিক প্রণোদনা ও ভ্রমণ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রেপ্তার ও আটকের পাশাপাশি অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক এমন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের জন্য বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা। এ সরঞ্জাম কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব সামনে এসেছে। সরকারের নথি অনুযায়ী, প্রতিরোধের মুখে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তাদের সহায়তা করার জন্য এসব গ্লাভস ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এমন সরঞ্জামের ব্যবহার অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, কঠোর ধরপাকড়ের পাশাপাশি যারা নিজেরাই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান, তাদের জন্য স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার একটি পথও চালু রেখেছে মার্কিন সরকার। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সিবিপি হোম অ্যাপের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে আগ্রহী যোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক প্রণোদনা বাড়িয়ে ২,৬০০ ডলার করার ঘোষণা দেয় সরকার। এর সঙ্গে নিজ দেশে ফেরার ভ্রমণ ব্যয় বহনের ব্যবস্থাও রাখা হয়। কর্মসূচির আওতায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য ব্যক্তিরা অ্যাপের মাধ্যমে দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানাতে পারেন। নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যোগ্য ব্যক্তিদের বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং আর্থিক প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত প্রস্থানের তারিখের আগে যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক বা অন্যান্য আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কম অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে অ্যাপে নিবন্ধন করলেই একজন ব্যক্তি সব ধরনের অভিবাসন আইনি পদক্ষেপ থেকে নিশ্চিতভাবে সুরক্ষা পাবেন—এমন নয়। তাই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য আইনি পরিণতি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সরকারের ভাষ্য, স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার এই ব্যবস্থা তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত বিকল্প, যারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অবস্থান হারিয়েছেন এবং নিজেরাই দেশে ফিরে যেতে চান। এর মাধ্যমে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রয়োজনও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। অর্থাৎ, একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করছে—ধরপাকড়, আটক ও কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ তারই অংশ। অন্যদিকে, যারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান, তাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা ও ভ্রমণ সহায়তার পথও খোলা রাখা হয়েছে। তবে ২,৬০০ ডলারের এই প্রণোদনা নতুন কোনো ঘোষণা নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। কর্মসূচিটি এখনো চালু থাকায় বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটি আবারও আলোচনায় এসেছে।
নিউ ইয়র্কের সিনাগগে প্রার্থনার সময় হামলা, বিদ্বেষমূলক অপরাধে গ্রেপ্তার ব্যক্তি
ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছে মার্কিন ভ্রমণ—কোথায় যাচ্ছেন তারা?
জ্বালানির দাম বাড়লেও ক্ষমা চাইবেন না ট্রাম্প, ইরানকে ঠেকানোর মূল্য হিসেবে দেখছেন
আমেরিকায় আয়কর বিবরণী জমা দিলেই সরকারকে বাড়তি টাকা দিতে হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকের বেতন থেকে সারা বছর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আয়কর কেটে রাখা হয়। আবার সন্তান, স্বল্প ও মাঝারি আয় কিংবা উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে অনেকে বিশেষ করছাড়ের যোগ্য হন। এসব ক্ষেত্রে বছর শেষে আয়কর হিসাব করার পর শত শত কিংবা হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া সম্ভব। তবে সবার ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর ফেরত পাওয়া কোনো সরকারি উপহার বা অতিরিক্ত ভাতা নয়। একজন করদাতার কাছ থেকে সারা বছর যে পরিমাণ আয়কর কেটে রাখা হয়েছে, চূড়ান্ত হিসাবে তার প্রকৃত করের পরিমাণ এর চেয়ে কম হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ফেরতযোগ্য করছাড় যুক্ত হলে ফেরতের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার একটি হলো শিশু করছাড়। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত শিশু করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে করবর্ষের শেষে সন্তানের বয়স ১৭ বছরের নিচে থাকতে হয়। পাশাপাশি সন্তানকে নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে দেখানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এই শিশু করছাড়ের একটি অংশ ফেরতযোগ্য হতে পারে। অর্থাৎ কারও প্রদেয় আয়কর কমে শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যোগ্য হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে পরিবারের আয়, কর জমার ধরন এবং সন্তানের যোগ্যতার ওপর প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে। কম ও মাঝারি আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অর্জিত আয় করছাড়। এটি ফেরতযোগ্য করছাড়। ফলে যোগ্য ব্যক্তির প্রদেয় কর শূন্য হলেও করছাড়ের একটি অংশ অর্থ হিসেবে ফেরত পাওয়া সম্ভব। সন্তান রয়েছে এমন অনেক নিম্ন ও মাঝারি আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। পড়াশোনার খরচের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করসুবিধা রয়েছে। যোগ্য কলেজ বা উচ্চশিক্ষার ব্যয়ের জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত বিশেষ শিক্ষা করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। এর একটি অংশ ফেরতযোগ্যও হতে পারে। তবে শুধু পড়াশোনার জন্য টাকা খরচ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীর অবস্থান, যোগ্য শিক্ষা ব্যয় এবং পরিবারের আয়ের সীমাসহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। কাজের জন্য গাড়ি ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে বৈধভাবে ব্যবসায়িক খরচ দেখানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব চাকরিজীবীর জন্য নয়। যারা নিজের ব্যবসা করেন বা স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করেন, তারা ব্যবসার কাজে গাড়ি ব্যবহারের যোগ্য অংশ নির্দিষ্ট নিয়মে খরচ হিসেবে দেখাতে পারেন। ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহার কিংবা বাসা থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ সাধারণভাবে ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে দেখানো যায় না। এ ধরনের সুবিধা দাবি করতে হলে ব্যবসার কাজে কত মাইল গাড়ি চালানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাসার একটি অংশ অফিস হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। যারা নিজের ব্যবসা বা স্বাধীন পেশার কাজ করেন এবং বাসার একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিয়মিত ও শুধু ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গৃহ কার্যালয় বাবদ করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বেতনভুক্ত কর্মী শুধু বাসা থেকে কাজ করছেন বলে কেন্দ্রীয় আয়কর বিবরণীতে গৃহ কার্যালয়ের খরচ দেখাতে পারেন না। ফলে কোন খরচ বৈধভাবে বাদ দেওয়া যাবে, সেটি নিজের কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি। বেতনভুক্ত চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ, গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, খাবার সরবরাহ, অনলাইনে কাজ কিংবা ছোট ব্যবসা থেকে আয় করা ব্যক্তিদের আয়কর হিসাব আরও জটিল হতে পারে। কারণ স্বাধীন কাজের আয় থেকে সাধারণ চাকরির বেতনের মতো সবসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর কেটে রাখা হয় না। স্বাধীনভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় আয়করের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্মসূচির জন্য স্বনিয়োজিত করও দিতে হতে পারে। স্বনিয়োজিত কাজ থেকে নিট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে এই কর প্রযোজ্য হতে পারে। অনেকের আরেকটি ভুল ধারণা হলো নগদ অর্থে আয় করলে সেটি আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হয় না। বাস্তবে করযোগ্য আয় নগদে পাওয়া হলেও সাধারণভাবে তা দেখাতে হয়। কোনো কাজের জন্য আলাদা আয়সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া যায়নি বলেই সেই আয় করমুক্ত হয়ে যায় না। একই কারণে বৈধ খরচ দেখানোর পাশাপাশি সব করযোগ্য আয় সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক খরচের রসিদ, গাড়ি চালানোর হিসাব, শিক্ষা ব্যয়ের কাগজপত্র, সন্তান দেখাশোনার খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করলে আয়কর জমা দেওয়ার সময় ভুলের ঝুঁকি কমে। যারা আগের বছরগুলোতে আয়কর বিবরণী জমা দেননি, তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারও নামে আগের কোনো বছরের অর্থ ফেরত পাওনা থাকলেও অনির্দিষ্টকাল সেই অর্থ দাবি করার সুযোগ থাকে না। সাধারণভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরোনো আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে ফেরত দাবি করতে হয়। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রাপ্য অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই “আমেরিকায় আয়কর জমা দিলেই টাকা কেটে নেয়” যেমন ভুল ধারণা, তেমনি “আয়কর জমা দিলেই হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া যায়” কথাটিও সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। কেউ বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত পেতে পারেন, আবার কাউকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে। কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে বা দিতে হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির মোট আয়, সারা বছর কেটে রাখা কর, বিবাহ ও পারিবারিক অবস্থা, সন্তান, যোগ্য করছাড়, ব্যবসায়িক আয় এবং বৈধ খরচের ওপর। বিশেষ করে চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ বা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে একজন অনুমোদিত হিসাবরক্ষক বা যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কোনো করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলে শুধু বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় সেটি দাবি করা উচিত নয়। আমেরিকায় আয়কর ব্যবস্থাকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে নিজের বৈধ সুযোগগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিলে একদিকে যেমন করসংক্রান্ত আইন মেনে চলা যায়, অন্যদিকে নিজের প্রাপ্য করছাড় ও অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থও ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আয়কর, আর্থিক বা আইনি পরামর্শ নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কৃত্রিম আলোয় পথ হারিয়ে ফ্লোরিডায় ৫৫ সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যু
নিউইয়র্কে অর্ধেক যাত্রী দিচ্ছেন না বাসভাড়া, মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি! চাপে মামদানির প্রতিশ্রুতি
‘ট্রাম্প বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে’, খাবার সংকটে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নাবিকের স্ত্রীর ক্ষোভ
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রণালীটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং শিগগিরই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করবে, তা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করছে। এর দুই দিন আগেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে একই ধরনের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধকে তিনি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইরান এটি ঠেকাতে পারবে না বলেও দাবি করেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালীর অবস্থান বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তেহরানের বক্তব্য, প্রণালীটি কোনো ঘোষণা, সামরিক শক্তি বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবারও মাত্র কয়েকটি তেলবহির্ভূত জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে গ্যাসের দামে। রয়টার্সের হিসাবে, দেশটিতে গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিনিদের কিছুটা বেশি গ্যাসের দাম দিতে হচ্ছে। তবে তার দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য এই মূল্য দিতে হচ্ছে। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শান্তি আলোচনারও অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা চললেও প্রণালীটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে এখনো সমঝোতা হয়নি। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের মতো একাধিক দাবি তুলেছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ পর্যায়ক্রমে বদল করে এই অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানাননি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সামুদ্রিক সীমানা ও সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের কারণে শুধু প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে এমন একটি আন্তর্জাতিক নৌপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পরিবর্তন করেনি। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
আমেরিকায় নতুন এসেই বাংলাদেশিরা, এই ৫ ভুলে লস করছেন হাজার ডলার
টেক্সাস গভর্নরের হস্তক্ষেপের পর ডালাস বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল