- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরা আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। জেলার আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় স্যুটটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির। ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এই সংযোগ সামনে আসে। গত ৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরেছিলেন ট্রাম্প। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকের ধরন এবং স্যুটের ব্র্যান্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মার্কিন পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জস এ ব্যাংকের স্যুট পরার বিষয়টি সামনে আসার পর সেটির উৎপাদনকারী দেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত ৮ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের স্যুটের উৎপাদনস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, স্যুটটি সম্ভবত চীন অথবা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো কারখানার নাম নিশ্চিত করা হয়নি। এরপর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির জানান, ট্রাম্পের পরা নেভি ব্লু স্যুটটি তাঁদের কারখানাতেই তৈরি হয়েছে। শরীফ জহিরের মতে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে তৈরি সাশ্রয়ী দামের স্যুট পরা দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের পোশাক তৈরিতে দেশের সক্ষমতার প্রতিফলন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেড দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় স্যুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার যৌথ বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পুরুষদের স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল ট্রাউজার, ওয়েস্টকোট ও জ্যাকেট তৈরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ পিস পুরুষদের পোশাক উৎপাদন করে। কারখানাটিতে অত্যাধুনিক কাটিং মেশিন, বিশেষায়িত সেলাই ও প্রেসিং যন্ত্রপাতি এবং স্বয়ংক্রিয় পণ্য পরিবহনব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদমজীর কারখানাটির আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট। এখানে কাপড় কাটা থেকে শুরু করে সেলাই, প্রেসিং, ফিনিশিং এবং প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত মান অনুসরণ করে পোশাক উৎপাদনের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় প্রায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা শুধু ট্রাম্পের স্যুট তৈরির দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড ও পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ফরমাল পোশাক তৈরি করছে কারখানাটি। বিশেষ করে স্যুটের মতো তুলনামূলক জটিল ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার একটি উদাহরণ এই প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট ও অন্যান্য সাধারণ পোশাক রপ্তানির জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্যুট, ব্লেজার এবং বিশেষায়িত ফরমাল পোশাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরিতেও বিনিয়োগ বাড়ছে। আদমজীর ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার সেই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এদিকে ট্রাম্পের স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটেও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং আমেরিকান পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরা স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার দাবি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিদেশি উৎপাদনকারীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প নিজে স্যুটটির উৎপাদনস্থান সম্পর্কে জানতেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁর দপ্তর থেকেও স্যুটটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক বিশ্বের একাধিক দেশে উৎপাদিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা হলেও উৎপাদনের কাজ সম্পন্ন হয় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কারখানায়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকবাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার ফলে নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের অবদান। বিশেষ করে স্যুটের মতো পোশাক তৈরিতে নিখুঁত কাটিং, সেলাই, ফিটিং ও ফিনিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজগুলোতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন হয়। আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একসময় এখানে ছিল ঐতিহাসিক আদমজী পাটকল। পরবর্তী সময়ে অঞ্চলটি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রতিষ্ঠান সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন করছে। নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় তৈরি স্যুট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার দাবি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক সংযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য উৎপাদনের নেপথ্যে বাংলাদেশের শ্রমিক ও কারখানাগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটের নেপথ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের আদমজীর দক্ষ কারিগরদের শ্রম। আর সেই সূত্রেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছেন। দ্রুত ফল প্রকাশের প্রশংসা করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভোটব্যবস্থার সমালোচনাও করেন। তবে রবিবার, ৪ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়েছে ব্রাজিলে। ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দেন না। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ভারতের নাম উল্লেখ করে বলেন, ভোট শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই একই দিনে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব জায়গায় তুলনামূলক কম ভোট গণনা করতেও কয়েক সপ্তাহ লাগে। মার্কিন ভোটব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টে ব্রাজিলের নাম না থাকলেও নির্বাচনের সময় ও প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটারের উল্লেখ ব্রাজিলের ভোটের সঙ্গে মিলে যায়। এই মিলের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে ব্রাজিলের সঙ্গে ভারতকে গুলিয়ে ফেলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের সরকারি সূচিতে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রথম দফার দিন নির্ধারিত ছিল ৪ অক্টোবর। প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর পদে প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন রাখা হয়েছে ২৫ অক্টোবর। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জনগণের সরাসরি ভোটে। ভারতের নির্বাচনী পদ্ধতি ভিন্ন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টের দুই কক্ষের নির্বাচিত সদস্য, রাজ্যগুলোর বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য এবং দিল্লি ও পুদুচেরির বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। তাই ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাড়ে ১২ কোটি মানুষের সরাসরি ভোট দেওয়ার দাবি সেই পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ব্রাজিলের প্রথম দফায় ফ্লাভিও বলসোনারো প্রায় ৪৭ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রায় ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়েছেন। কেউ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় তাঁদের মুখোমুখি হওয়ার কথা। সূত্র: মানিকন্ট্রোল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট ও ভারতের নির্বাচন কমিশন।
ইরানে মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রমও চলত বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ওকলাহোমার ডুরান্টে এক নির্বাচনী সমাবেশে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন। তবে বক্তব্যে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি। সমাবেশে ট্রাম্প মিসৌরি থেকে বি-২ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন এবং ইরানে হামলার বিবরণ দেন। এ সময় হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোকে ‘মাদকের কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে তিনি দাবি করেন, সেখানে পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত কাজও হচ্ছিল। কোন ধরনের মাদক, কোন স্থাপনায় বা কীভাবে এই কার্যক্রম চলছিল, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। আলাদা কোনো মাদক উৎপাদনকেন্দ্রের নামও উল্লেখ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য থেকে অভিযোগটির সুনির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি। অথচ ওই অভিযান সম্পর্কে পেন্টাগনের প্রকাশিত বিবরণে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ জুনের সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা অথবা তার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও একই সংবাদ সম্মেলনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারকে তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। সেই সরকারি ব্যাখ্যায় মাদকের কারখানা হামলার লক্ষ্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য তাই অভিযানের সময় দেওয়া সরকারি ব্যাখ্যার সঙ্গে নতুন একটি অভিযোগ যুক্ত করেছে। তবে তাঁর এই বক্তব্য ইরানের সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মাদক উৎপাদন বা পাচারের প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ঔপন্যাসিক স্টিফেন কিংয়ের কয়েকটি মন্তব্য আবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। তবে এগুলো নতুন বক্তব্য নয়। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কথাটি কিং লিখেছিলেন ২০১৭ সালে; ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব ও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া নিয়ে তাঁর সমালোচনা এসেছিল ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে। ২০১৭ সালের মে মাসে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, কিং সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তাঁর হাতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা থাকার বিষয়টি নিজের লেখা যেকোনো ভয়ের গল্পের চেয়েও ভীতিকর। কিংয়ের বক্তব্যের বিষয় ছিল ওই ক্ষমতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ; ট্রাম্পকে তিনি নিজের সব কাল্পনিক দানবের চেয়ে ভয়ংকর বলেছেন, এমন ভাষা ব্যবহার করেননি। ২০২২ সালে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিং ট্রাম্পকে ‘ভয়াবহ প্রেসিডেন্ট’ ও ‘ভয়াবহ মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। সে সময় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। একই সাক্ষাৎকারে কিং বলেন, তাঁর মতে ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে না পেরে মার্কিন গণতন্ত্র উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্পকে ‘সোসিওপ্যাথ’ বলাটিও কিংয়ের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো চিকিৎসাগত নির্ণয় নয়। ট্রাম্প সম্পর্কে কিং পরে আরও মন্তব্য করেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ট্রাম্পকে ‘একটি ভয়ের গল্প’ বলে বর্ণনা করেন। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে থাকা বক্তব্যগুলো কিংয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হলেও, ২০১৭ ও ২০২২ সালের কথাগুলোকে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা বিভ্রান্তিকর।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান বিল গেটস। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বলেছেন, এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ‘ধাপ্পা’ নয়। তাঁর মতে, প্রযুক্তিটির ওপর নজরদারি বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে, এমন ধারণাও ঠিক নয়। এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প এর আগে এআই খাতে নতুন নিয়ন্ত্রণের আহ্বানকে ‘ধাপ্পা’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ইতিমধ্যে রয়েছে; নতুন নিয়মের কারণে প্রযুক্তিটির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। চীন এতে সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি যুক্তি দিয়েছেন। গেটসের মতে, ট্রাম্প তাঁর এবং অন্যদের বক্তব্য শুনলে বুঝতে পারবেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমাবে না। এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানো হবে কি না, সেটি আলাদা আলোচনা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত এআই কী করছে, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এখনই যুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। গেটস বলেন, শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেরা নিয়ম মেনে চলার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। নজরদারি ও সুরক্ষার নিয়ম কেমন হবে, তা নির্ধারণে আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেও যুক্ত করতে হবে। তাঁর আশঙ্কা, অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে প্রতারণা বা সাইবার হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত ও তদন্ত করার জন্য এআই ব্যবস্থার ভেতরেই পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন। এগুলো গেটসের তুলে ধরা সম্ভাব্য ঝুঁকি; তাঁর বক্তব্যকে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যাবে না। চীনও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তবে এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমঝোতা করা কঠিন হবে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিট জনসমর্থন দুই মেয়াদ মিলিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জরিপ বিশ্লেষক নেট সিলভারের সিলভার বুলেটিন। ২৫ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ করা হিসাবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন ২২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। নিউজউইকের দেওয়া প্রতিবেদনটি ২৪ সেপ্টেম্বরের; মূল জরিপসমষ্টি পরে হালনাগাদ হয়েছে। নিট জনসমর্থন বের করা হয় সমর্থনের হার থেকে অসমর্থনের হার বাদ দিয়ে। ফলে ঋণাত্মক ২২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্টের অর্থ ট্রাম্পকে মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেন, এমন নয়। সিলভার বুলেটিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য মিলিয়ে এই গড় হিসাব করে। একই পর্যায়ে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিট জনসমর্থন ছিল ঋণাত্মক ১১ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ৯ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। এই তুলনাও সিলভার বুলেটিনের হিসাব থেকে এসেছে। পৃথকভাবে, ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর নেওয়া রয়টার্স-ইপসোস জরিপে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ সমর্থন করেছেন ৩২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। আগের সপ্তাহে একই জরিপে তা ছিল ৩৫ শতাংশ। ১ হাজার ২৭৭ জনের ওপর চালানো জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৩ শতাংশ পয়েন্ট। ইপসোসও সেপ্টেম্বরের এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করেছেন ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা। রিপাবলিকান উত্তরদাতাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন আগের সপ্তাহের ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশ হয়েছে। তবে একটি জরিপ দিয়ে এই পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী আলিনা হাব্বা তুরস্কের ব্যবসায়ী তুরহান মিলডনকে বিয়ে করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। মিলডন তুরস্কের মিলার হোল্ডিংয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী। বিয়ের আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে বিলিয়নিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হাব্বা ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পান। পরে তিনি নিউ জার্সিতে ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তাঁর আগের স্বামী গ্রেগ রুবেনের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে নির্ধারিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে অতিথিদের নির্মাণাধীন নতুন বলরুম দেখার আমন্ত্রণ জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে এই আমন্ত্রণকে তিনি ‘বিশেষ আয়োজন’ বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, নৈশভোজের পর আগ্রহী অতিথিরা বলরুমের নির্মাণস্থল ঘুরে দেখতে পারবেন। শি ও পেংয়ের সম্মানে তাঁদেরই সেখানে প্রথম প্রবেশের সুযোগ দিতে চান বলে জানান তিনি। বলরুমটি তখনো নির্মাণাধীন; নৈশভোজ সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, নতুন বলরুমের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর লাগবে। বর্তমান আয়োজনস্থলের তুলনায় সেখানে অনেক বেশি অতিথিকে একসঙ্গে রাখা যাবে বলেও তিনি দাবি করেন। নৈশভোজে শিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্যও উপহার দেন ট্রাম্প।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভার মারা গেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের শরীরে গুলির কিছু অংশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমস কোপেনহেভারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি অসীম শক্তি ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়োজিত ওই সমাবেশে থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামের এক বন্দুকধারী পাশের একটি গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনের ছাদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কোরি কম্পারেটোর নিহত হন এবং জেমস কোপেনহেভার ও ডেভিড ডাচ নামের দুই দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জেমস কোপেনহেভার ওই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি পেছনে থাকা জাম্বোট্রন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান হাতে টান অনুভব করেন এবং বুঝতে পারার আগেই দ্বিতীয় একটি গুলি তার শরীরে আঘাত হানে। ওই হামলায় তাঁর ট্রাইসেপ ও তলপেটে গুলি লেগেছিল। এই ঘটনার পর তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এমন ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ও ডেভিড ডাচ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এই হামলার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক কিম্বারলি চিটল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় টাস্কফোর্সের তদন্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে। এসব ব্যর্থতার জেরে পরে বেশ কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামলার পরপরই রক্তমাখা মুখে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট’ বলার দৃশ্যটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়, যার ওপর ভর করে তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয় এমন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত মেইনের সাবেক গভর্নর পল লেপেজ এবার নিজের পরিবারের এক সদস্যের বহিষ্কার ঠেকাতে সরব হয়েছেন। লেপেজ জানিয়েছেন, তার ছেলের শ্বশুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে, যদিও তার দাবি—ওই ব্যক্তির বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। সোমবার অগাস্টায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেপেজ তার আত্মীয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার ছেলের স্ত্রীর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে আছেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। লেপেজের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেটি ওয়াশিংটনের কিছু মানুষের পছন্দ নয়—এ কারণেই তাকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “এটা ঠিক নয়। তার ওয়ার্ক পারমিট আছে, তার থাকার সুযোগ পাওয়া উচিত।” তবে লেপেজ তার আত্মীয়ের নাম, কোন দেশের নাগরিক তিনি বা তার অভিবাসন মামলার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ হয়েছে কি না, নাকি তিনি এখনো অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন—তা স্পষ্ট নয়। লেপেজ একই অনুষ্ঠানে বলেন, আইসিইর অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও কাজ করা মানুষদের বদলে গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের সবাইকে লক্ষ্য করা তিনি সমর্থন করেন না। বরং গ্যাং ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দিয়ে অভিযান শুরু করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এদিকে লেপেজের বক্তব্যের পর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়ার্ক অথরাইজেশন বা কোনো আবেদন চলমান থাকা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস নিশ্চিত করে না। ফলে লেপেজের আত্মীয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের অভিবাসন স্ট্যাটাস রয়েছে এবং কেন তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, তা আলাদা করে যাচাইয়ের বিষয়। লেপেজ বর্তমানে মেইনের ২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদের আসনে প্রার্থী। তার নির্বাচনী প্রচারে সীমান্ত ও অভিবাসন নীতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। একই সঙ্গে তিনি আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করার মেইনের একটি আইন নিয়েও সমালোচনা করেছেন এবং ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মেইনে আইসিইর অভিযান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেইনে আইসিইর অভিযানে আটক প্রায় ২০০ জনের মধ্যে ১১ জনেরই অপরাধমূলক সাজা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই পরিসংখ্যান ও অভিযানের অগ্রাধিকার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। লেপেজের আত্মীয়ের ঘটনা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিবাসন মামলা রয়েছে বা শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। Source: The Independent, The Washington Post
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিরল ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প শি ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শুরুতেই এমন অভ্যর্থনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের জন্য তুলনামূলকভাবে বিরল। শির এই সফর এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও শির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ানের নিরাপত্তা, বিরল খনিজসহ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে। শিকে স্বাগত জানাতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্পের উপস্থিতি ছিল সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিদেশি নেতাদের বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানানোর ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। এবার ট্রাম্প সরাসরি শির বিমানের কাছে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শির সম্মানে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা আয়োজন করা হবে। এরপর দুই নেতা বৈঠক করবেন এবং রাতে থাকবে রাষ্ট্রীয় ভোজ। সফরের শেষ দিকে ট্রাম্প ও মেলানিয়া শি ও পেং লিয়ুয়ানের সঙ্গে ব্যক্তিগত চা বৈঠক করবেন এবং জাতীয় আর্কাইভস পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। পাশাপাশি বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও মতপার্থক্য রয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তি ও শিল্প উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই আসন্ন বৈঠকে এআই নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তাইওয়ানও আলোচনার সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ফলে দুই নেতার বৈঠকে এ ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। শি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন যুগে সম্পর্ক পরিচালনার সঠিক পথ খুঁজে পেতে পারে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তিনি দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন। শির সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সম্পর্ক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা দুই দেশের সম্পর্কের কূটনৈতিক গুরুত্বকে সামনে আনলেও, আগামী দিনের বাস্তব সম্পর্ক নির্ভর করবে বৈঠকে বাণিজ্য, এআই, তাইওয়ান ও অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়ে কী ধরনের সমঝোতা হয় তার ওপর।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ আয়োজন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত ব্রেকফাস্টে ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সঙ্গে গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এ সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, এবারের সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশ নেওয়াটি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার যুক্তরাষ্ট্র সফর চলার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি ধারাবাহিক এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে ফোনে কথা বললেও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তবে ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে ফোনালাপ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এরই মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কয়েকটি কৌশলগত এলাকায় অগ্রসর হয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা থেকে পিছিয়ে গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা এখন তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের উপকূলকে দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ তৈরি করতে চাইছে। সংঘাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণে সৌদি আরবও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্ব থেকেও ওয়াশিংটনের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বাব আল-মানদাব প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জলপথটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে নতুন সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোর ক্ষতি ও যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকেও কঠিন করে তুলছে। এখন পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে হুতিদের পরবর্তী সামরিক অগ্রগতি, সৌদি আরবের পাল্টা অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তায় যাবে কি না—এসব বিষয়ের ওপর। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের ফোনালাপে ইয়েমেনকে সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে। সোর্স: রয়টার্স; ইন্ডিয়া টুডে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে এবং ইরানের নেতৃত্বও নির্মূল হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে আসার প্রস্তুতির মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সামনে চুক্তি করা অথবা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের ঝুঁকি নেওয়ার বিকল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেসব আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তাদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কাতারে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কয়েকটি শর্তও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আগের চুক্তির বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে তেহরান। ফলে একদিকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে তেহরানকে চুক্তিতে আনতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান নতুন হামলার আশঙ্কা তুলে পাল্টা প্রতিরোধের বার্তা দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা একই শহরে অবস্থান করায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। Source: রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা
ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার আদালতের বিচারক বা প্রসিকিউটরদের ব্যক্তিগতভাবে নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আইসিসির আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তি সেবা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা খুব শিগগিরই আসতে পারে। তবে এখনো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের গ্রেস পিরিয়ডের পর আইসিসির সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ লেনদেন নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়সীমা ছয় থেকে সাত মাস হতে পারে। ফলে আদালতের অর্থ পরিশোধ, আইটি সেবা, ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে আইসিসির ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের সময় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। আইসিসি বলেছে, তদন্তের আওতায় থাকা কর্মকাণ্ডের সময়কাল ছিল ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত। আইসিসির সিদ্ধান্তের পর থেকেই ওয়াশিংটন আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান হলো, আদালত এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে এখতিয়ার প্রয়োগ করছে, যেসব দেশ রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমালোচনা করেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়েকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়। তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। আইসিসি তখন এই পদক্ষেপকে আদালতের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ শুধু গাজা যুদ্ধের তদন্তে সীমাবদ্ধ নয়। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা অপরাধ নিয়েও আইসিসির একটি পুরোনো তদন্ত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চান আদালত ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করার পাশাপাশি আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীসংক্রান্ত সেই তদন্ত থেকেও সরে আসুক। এদিকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করার কথা জানান। তিনি অন্যান্য দেশকে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সময়ে আদালটির পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আদালত, যার কাজ গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুটিই আদালটির সদস্য নয়। ফলে আইসিসির এখতিয়ার, বিশেষ করে সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্কের অংশ। প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিসির মধ্যকার বিরোধকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। কারণ এবার নির্দিষ্ট কর্মকর্তা নয়, সরাসরি পুরো প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করার কথা বলা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত পরিধি, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং কোন কোন লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। ইরানি সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএএনএতে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি এটিকে ইরানের চলমান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে এটি ইরানের আনুষ্ঠানিক আলোচনার শর্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়। জোলঘাদরের বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি প্রণালি বন্ধ রাখাকে ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে আগস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণের মতো শর্তের কথা বলেছিলেন। নতুন বক্তব্যে দুই নেতার ক্ষমতা ছাড়ার দাবি যুক্ত হয়েছে। হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৭টি জাহাজ। তবে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করতে পারে, ফলে প্রকাশ্য তথ্য প্রকৃত চলাচলের পুরো চিত্র নাও দেখাতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ইরানি কর্মকর্তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তিনি আশা করছেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি ঘোষণা হয়নি। তাই জোলঘাদরের বক্তব্যকে আপাতত একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার প্রকাশ্য অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি পুরো ইরানি সরকারের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত আলোচনার শর্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও সরকারি বক্তব্য বা চুক্তির তথ্য প্রয়োজন। Source: ডব্লিউএএনএ, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আরও এক বছর বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই নিয়ম চালু করা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়। তবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন ঘোষণাটি এসেছে যখন এই ফি নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত এই অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাকে বেআইনি বলে রায় দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলমান রয়েছে। ফলে নীতিটি আগামী এক বছর বহাল রাখার পাশাপাশি এর আইনি বৈধতাও আদালতে পর্যালোচনার মধ্যে থাকছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই নীতির লক্ষ্য এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি বন্ধ করা। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর বড় আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এই নীতির প্রভাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, অতিরিক্ত ব্যয় দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাধা তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি খাতসহ যেসব শিল্প এইচ-১বি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে নিয়োগ পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। নতুন ঘোষণায় বর্তমান এইচ-১বি ভিসাধারীদের সব ক্ষেত্রকে একইভাবে এই ১ লাখ ডলারের অর্থের আওতায় আনা হয়নি। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে এই অর্থ পরিশোধের শর্ত প্রযোজ্য। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথকভাবে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় কাজের সুযোগ পান। তাই নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে এইচ-১বি ভিসায় যেতে আগ্রহী বিদেশি কর্মী এবং তাঁদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। তবে আদালতের চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতিটির ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারে।
রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়ে একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ আইনের আওতায় ভারত ও চীনের মতো বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতারা নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনটি ভারতীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেনি। বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করাই নতুন আইনের অন্যতম লক্ষ্য। এতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ছায়া বহরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনটি আগে সিনেটে পাস হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২ ভোটে ১৫৯ ভোটে অনুমোদিত হয়। এরপর শুক্রবার ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন আইন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞাও সম্প্রসারিত করেছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে আসছে। এ কারণে নতুন আইন নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ব্যবস্থার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রভাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ভারত। নতুন আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের বিষয়টি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনই কার্যকর হয়েছে এমন নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে এমন একটি বড় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা চলে আসায় ভারত ও চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া ঘোষণায় তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সমালোচনা করে ট্রাম্প এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য প্রচারের অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি। এই সিদ্ধান্তের ফলে হোয়াইট হাউস কভার করা এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহে নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মকাণ্ড কভার করা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলন, প্রেস পুল এবং সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরকারি সংবাদ কাভারেজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, নতুন ঘোষণার পর সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে কাভার করে। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত হলে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিষয়টি আদালতে গড়ালে হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, তা পরবর্তী developments-এর ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধু অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন নাগরিকদের চাকরিতেও পড়তে পারে বলে দাবি করেছে নতুন এক প্রতিবেদনে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ও এএফএল-সিআইওর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড দ্য অ্যাফোর্ডেবিলিটি এজেন্ডা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংগঠন দুটি দাবি করেছে, ব্যাপক ডিপোর্টেশন শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি করছে এবং নির্মাণ, হসপিটালিটি ও কেয়ারগিভিংয়ের মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তাদের মতে, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। এর প্রায় অর্ধেক চাকরি বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির পরিসংখ্যান নয়। ACLU ও এএফএল-সিআইও আরও দাবি করেছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্টুরেন্টে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকছেন। তাদের প্রতিবেদনে একটি হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন কম ভিজিট এবং ৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের কম ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর সাপ্তাহিক ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির আরেকটি দাবি হলো, অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের ফলে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে কিছু নিয়োগকর্তার জন্য কর্মীদের কম মজুরি দেওয়া বা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংগঠন দুটি বলছে, এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না এবং অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক উভয় ধরনের কর্মী থাকা একই শিল্পে মজুরি ও কর্মপরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধিই মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে প্রশাসনের অবস্থান। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। অভিবাসন নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের মে মাসে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, বেশি ICE গ্রেপ্তার হওয়া এলাকাগুলোতে অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছিল। একই গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে। ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গবেষকরা বিশেষ করে কৃষি, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে এর প্রভাব দেখতে পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে ICE গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এমন এলাকাগুলোর মাসভিত্তিক কর্মসংস্থান তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনা করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি হলো, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন ACLU ও এএফএল-সিআইও প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে মূল বিরোধটি হলো, অভিবাসন ধরপাকড় শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমবাজার ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত করে উল্টো প্রভাব ফেলবে। নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি ও মজুরি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটির ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাব একটি প্রক্ষেপণ এবং এর সঙ্গে অভিবাসন নীতির পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল কারণও জড়িত থাকতে পারে। তাই এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল হিসেবে নয়, বরং একটি নীতি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের হিসাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতার মধ্যেই তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গার্ডরেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ ধীর করার পক্ষে তিনি অবস্থান নেননি। বরং এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরির জন্য কিছু ‘নেতিবাচক শক্তিকে’ দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই নতুন উদ্বেগ তৈরির সময়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসও দ্রুত এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে কৃষিজমি, পানি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া বা কিছু কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এআইয়ের নিরাপত্তা, শিশুদের ওপর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চাকরি হারানোর বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পরস্পরকে টেক্কা দিতে গিয়ে এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সক্ষমতার ব্যবধান তৈরি হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দুই দেশ একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।