সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

রাশিয়ায় সিআইএ প্রধানের গোপন সফর, ‘যুদ্ধ নিয়ে কিছু একটা হতে পারে’ বললেন ট্রাম্প
রাশিয়ায় সিআইএ প্রধানের গোপন সফর, ‘যুদ্ধ নিয়ে কিছু একটা হতে পারে’ বললেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ায় র‍্যাটক্লিফের এই সফরকে ‘আধা-রুটিন’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, এই সফর থেকে ‘কিছু একটা হতে পারে’।    মঙ্গলবার র‍্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে রাশিয়ার ক্রেমলিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সিআইএ প্রধান রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি।    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফল পুতিনকে দ্রুত জানানো হয়েছে। তবে আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। পেসকভ বলেন, এমন যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়, যদিও এর মাধ্যমে দুই দেশের গভীর সংকট কতটা কমবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি।    র‍্যাটক্লিফের সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ ২০২১ সালের পর এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইএ পরিচালক মস্কো সফর করলেন। ২০২১ সালে তৎকালীন সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস মস্কো সফর করে পুতিনকে ইউক্রেনে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কয়েক মাস পরই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু করে।    র‍্যাটক্লিফের এবারের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেন কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর হামলা না চালায়, সে বিষয়ে সতর্ক করতেই র‍্যাটক্লিফ মস্কো গিয়েছিলেন। সিবিএস নিউজও একাধিক সূত্রের বরাতে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই ব্যাখ্যা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।    গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, র‍্যাটক্লিফ ‘অসাধারণ একজন ব্যক্তি’ এবং তিনি মস্কো গিয়েছেন এমন কোনো কারণে নয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের দাবি, সফরটি আধা-রুটিন ধরনের হলেও এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হতে পারে।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ‘খুব কঠোরভাবে কাজ করছে’। তার ভাষ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের অবসান চায়। তবে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি।    এদিকে র‍্যাটক্লিফের সফরের আগে ইউক্রেনকে মস্কোয় একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে জানানো হয়েছিল এবং সফর চলাকালে রাশিয়ার ওপর দূরপাল্লার হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।    র‍্যাটক্লিফের সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত। একই সময়ে ন্যাটোকে ঘিরে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ন্যাটোর ঐক্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে সাইবার হামলা বা সীমিত ধরনের সামরিক ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।    তবে র‍্যাটক্লিফ ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটো, ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের কথায় ‘কিছু একটা’ হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও সফরটির প্রকৃত ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত, তবে গুরুতর আহত
ট্রাম্পের দাবি - ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত, তবে গুরুতর আহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি গুরুতর আহত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার রেডিও উপস্থাপক গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।   ট্রাম্প বলেন, মোজতবা খামেনির শরীরের বাম পাশ, বিশেষ করে হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না তিনি মারা গেছেন। তিনি খুব গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।”   মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও তার প্রকাশ্যে অনুপস্থিতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই নানা জল্পনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন। ওই হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসে।   তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আগস্টের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছিল।   এদিকে ২৪ আগস্ট ইরানি গণমাধ্যম মোজতবা খামেনির একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক উপস্থিতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলেও পরে জানা যায়, এটি তার সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগের সময়ের আর্কাইভ ফুটেজ। ফলে ভিডিওটি তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রমাণ নয়।   মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তিনি আদৌ সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা তাকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গুরুতর আহত হলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন।   ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি মারা গিয়ে থাকলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন করে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কর্মকর্তারা এখনো এমনভাবে কথা বলছেন যেন তারা নিয়মিত মোজতবার সঙ্গে পরামর্শ করছেন।   মোজতবা খামেনির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে নেই। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে চলমান জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের হুমকির জবাব কানাডার
ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের হুমকির জবাব কানাডার, ‘আমরা লেক অন্টারিওই বলব’

লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিয়েছে কানাডা। দেশটির শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, কানাডিয়ানরা এই জলাধারকে সবসময়ই ‘লেক অন্টারিও’ নামে ডাকবে।   মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোলি বলেন, “আমরা সবসময় এটিকে লেক অন্টারিওই বলব।” তিনি আরও বলেন, গ্রেট লেকস নিয়ে কানাডা গর্বিত এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা দৃঢ় থাকবে।   ট্রাম্প এর আগে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর ‘অন্টারিওর সঙ্গে খুব বেশি ব্যবসা করার’ প্রত্যাশা নেই।   এরপর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেকটির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে ‘লেক অন্টারিও’ নামটি কেটে তার জায়গায় ‘লেক আমেরিকা’ লেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা থমকে থাকা এবং কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম পরিবর্তনের এমন প্রস্তাবের পেছনে শুধু প্রতীকী বিষয় নয়, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বার্তাও থাকতে পারে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভূগোলবিদ ডেরেক অ্যাল্ডারম্যান বলেন, লেক অন্টারিওর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা নাম পরিবর্তনের চেষ্টা কানাডার ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।   তবে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক রিউবেন রোজ-রেডউড ট্রাম্পের মন্তব্যকে “পুরোপুরি ক্ষোভ উসকে দেওয়ার কৌশল” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, কানাডিয়ানদের ক্ষুব্ধ করার পাশাপাশি বাণিজ্য আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থানের দুর্বলতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে মানচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অবস্থানও ভুলভাবে দেখানো হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের দপ্তরের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।   লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মাঝখানে অবস্থিত এবং এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকসের একটি। ফলে এর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট
মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোট সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ কিছুটা খুলে দিয়েছে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন ঠিক কতটা পরিবর্তন কার্যকর করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন করে আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদেশ বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হতে পারে।   ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি মার্চে স্বাক্ষর করা হয়। এতে প্রশাসনকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে ওই তালিকায় থাকা ভোটারদের কাছেই ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, এ পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনে জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। তবে ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন সময়ে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।   ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তারা মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে এত বড় পরিবর্তন আনা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করতে পারে।   মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা আদালতকে সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শরতের নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে ভোট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারাও সুপ্রিম কোর্টের কাছে আদেশটি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান।   ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক এর আগে ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দেন। পরে একটি আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর একই বিচারক দেশজুড়ে আদেশটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে আরও একটি নির্দেশ দেন।   ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলো মামলাটি করার ক্ষেত্রে আগেভাগেই আদালতে গিয়েছিল। একই সময়ে ওয়াশিংটনের একটি আদালতের ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়, যেখানে ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হয়নি।   ওয়াশিংটনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হলেও আপিল আদালত সেটি বহাল রাখে। তবে ভবিষ্যতে আদেশটি বাস্তবায়নের ফলে নতুন কোনো আইনি সমস্যা তৈরি হলে আদালতে আবার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রাখা হয়।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ গত সপ্তাহেই ট্রাম্পের আদেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভোটারদের ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো শুরু করবে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি চূড়ান্ত আইনি বিজয় নয়। ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে অঙ্গরাজ্য, নির্বাচন কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ আরও আদালতে গড়াতে পারে। আর মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই আইনি লড়াইয়ের সময়সীমাও তত সংকুচিত হয়ে আসছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি, ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল থ্রিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর—আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা হবে?’ এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, তাকে বহনকারী গাড়ি এবং নিরাপত্তায় থাকা সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।    ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ব্যারনের চলাফেরা ‘সম্পূর্ণ নজরদারিতে’ রয়েছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য দেখানো হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউরোনিউজও জানিয়েছে, ভিডিওতে করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।    প্রচারিত ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, এক তরুণী সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা এড়িয়ে ব্যারনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিলেন এবং পরে তার সম্পর্কে তথ্য ভিডিওটির নির্মাতাদের কাছে পৌঁছে দেন। ব্যারন ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এক্সবক্স ব্যবহার করেন—এমন দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান। অন্যদের তুলনায় তিনি সাধারণত জনসম্মুখে কম থাকেন। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা গেছে।    এটি অবশ্য ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রথম হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়েও একই ধরনের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে তাঁর চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।    যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ব্যারনকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করে। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যারনের নিরাপত্তা নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির পরও তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ট্রাম্প নিজেও অতীতে ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি মামলাও হয়েছে।   সব মিলিয়ে, ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে এমন হুমকি দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। তবে ভিডিওতে করা ১ কোটি ডলারের পুরস্কার, নজরদারি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করার দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়—এ বিষয়টি আলাদা করে মনে রাখা জরুরি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা: ‘আর কখনো আমার গান ব্যবহার করবেন না’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারে আবারও নিজের গান ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ট্রাম্পের সরকারি দলের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে গ্রান্ডের জনপ্রিয় গান ‘উই ক্যান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইউর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরই গ্রান্ডে তার গান আর ব্যবহার না করার জন্য ট্রাম্পের দলকে সতর্ক করেন।   ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি সমাবেশে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। পেছনে বাজছিল গ্রান্ডের গানটি। ভিডিওতে লেখা ছিল, ‘পুরুষরা সন্তান জন্ম দিতে পারে না এবং নারীদের খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করা উচিত নয়।’ পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।’   ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে গ্রান্ডে লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনার সত্য সত্য নয়।’ পরে তার মন্তব্যটি আর দেখা যায়নি।   ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান যুক্ত করার বিষয়ে গ্রান্ডের আপত্তি এবারই প্রথম নয়। এর আগে জুন মাসে হোয়াইট হাউসের একটি টিকটক ভিডিওতেও তার ‘বাই’ গান ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের মানুষজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল।   সেই ঘটনার পর গ্রান্ডে হোয়াইট হাউসের ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে তার গানকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানান। পরে ভিডিওটি থেকে গানটির শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি প্রচারে জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে এর আগেও একাধিক শিল্পী আপত্তি জানিয়েছেন। গ্রান্ডের পাশাপাশি সাবরিনা কার্পেন্টার, কেটি পেরি, এসজেডএ, অ্যাডেল, স্টিভেন টাইলার, নিল ইয়ং, রোলিং স্টোনস, এলটন জন, ফ্যারেল উইলিয়ামস, রিহানা ও সেলিন ডিওনের মতো শিল্পীরাও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের গান ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন।   গ্রান্ডের সর্বশেষ প্রতিবাদ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের ট্রান্সজেন্ডার নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই ট্রান্সজেন্ডারদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং সরকারি নথিতে লিঙ্গপরিচয় সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি নিয়ে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সময়ে নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিয়েও দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।   ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে গ্রান্ডের প্রকাশ্য অবস্থান তাই আবারও সামনে এনেছে শিল্পীদের সংগীত রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহারের অধিকার ও অনুমতি নিয়ে চলমান বিতর্ক।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে
ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে? বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ন্ত্রণে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশিদের ভিসা, প্রবেশাধিকার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার কিছু ব্যবস্থাকেও নতুন নাগরিকত্ব নীতির আওতায় আনা হয়েছে।    নতুন নির্বাহী আদেশের একটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের সরকারি স্বীকৃতি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে এমন শিশুদের কথা বলা হয়েছে, যাদের কোনো অভিভাবকই মার্কিন নাগরিক নন এবং যাদের বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মী, অথবা সন্তানের জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত ছিলেন। বাণিজ্যিক সারোগেসির ব্যবস্থাও এই তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্য নির্বাহী আদেশটি মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর দিকে নজর দিয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়াকে বেছে নেন, তাহলে তাঁর ভিসা বাতিল, প্রবেশে বাধা বা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় বার্থ ট্যুরিজমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সেই দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি নথিভুক্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকদের বার্থ ট্যুরিজমে বড় অংশগ্রহণের কথা উঠে এসেছে। একই শুনানিতে একজন সাক্ষী চীনকে সবচেয়ে বড় এবং ভারতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে বার্থ ট্যুরিজম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই।    ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা থাকলেও সংগঠিত বার্থ ট্যুরিজম ব্যবসার বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে চীন ও রাশিয়ার ধনী গ্রাহকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও এ ধরনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে।    তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ৬ আগস্টের আদেশটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প যে বিস্তৃত নির্বাহী আদেশে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি আরও বড় পরিসরের ছিল।    ওই আগের উদ্যোগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার রায়ে ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিধানকে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আদালতের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে।   এর কয়েক সপ্তাহ পর নতুন নির্বাহী আদেশ দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করেছে। এর মধ্যে বার্থ ট্যুরিজম ও বাণিজ্যিক সারোগেসি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি পরিবারের জন্য ভিসা যাচাই আরও কঠোর হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্য গোপন করলে তা ভিসা জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর আগে থেকেই মার্কিন ভিসা নীতিতে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।    মার্কিন প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের ফলে বার্থ ট্যুরিজমকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাসপাতাল বুকিং, বাসস্থান, ভিসা পরামর্শ এবং অন্যান্য সেবা দেওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের সরকারি নথি পাওয়ার বিষয়েও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   তবে নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা, ফেডারেল আইন এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি নজরে রাখার মতো। বিশেষ করে যারা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, সন্তান জন্মদান বা সারোগেসির পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ভিসার শর্ত এবং বর্তমান মার্কিন অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বাস্তবে নির্ধারিত হবে প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, সব মাইন সরিয়ে প্রণালি খোলার দাবি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর বড় নীল বৃত্ত এঁকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ লেখা হয়। একই পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটি এখন খোলা ও সচল এবং সেখানকার সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেওয়া অথবা ধ্বংস করা হয়েছে।    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পানিতে থাকা সব মাইন অপসারণ বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে সব মাইন অপসারণের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।    তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা করলেও এর মাধ্যমে প্রণালিটির আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে - এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হরমুজ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত প্রণালিতে ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার বাধাগ্রস্ত, অস্বীকার বা স্থগিত করা উচিত নয়।    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘হরমুজ খোলা ও সচল’ থাকার দাবির বিপরীতে বাস্তব জাহাজ চলাচলের চিত্রও এখনো স্বাভাবিক নয়। কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। সোমবার এই সংখ্যা ছিল নয়টি, আর সাম্প্রতিক ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ১১টি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত।    আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বড় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কোনো কোনো দিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করেছিল, আর পরদিন রোববার কেপলারের হিসাবে কোনো পণ্যবাহী জাহাজই হরমুজ অতিক্রম করেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ মালিক গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন।    ইরানও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চায় তেহরান।    ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং সব ফ্রন্টে সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করা। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার প্রশ্ন নেই।    এদিকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত নতুন কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই। ফলে একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ খুলে দেওয়ার দাবি করছেন, অন্যদিকে তেহরান বলছে প্রণালিটি বন্ধ থাকবে - দুই পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।   এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনেও। যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেই প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।    ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে চীনের দুটি বড় রাষ্ট্রীয় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের জলপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি আগে চীনের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থায় তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে তারা।    তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত পরিসরে তেল পরিবহন শুরু করার চেষ্টা চলছে। সৌদি আরামকো হরমুজের ভেতরে থাকা টার্মিনাল থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোড করা শুরু করেছে। ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে তিনটি বড় তেলবাহী জাহাজ জুয়াইমাহ ও রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে তেল নিয়েছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম।    হরমুজের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও উদ্বিগ্ন। আইএমও এর আগে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত কোনো প্রণালিতে জাহাজের ট্রানজিট প্যাসেজ বাধাগ্রস্ত বা স্থগিত করা উচিত নয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত
৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত, জনপ্রিয়তায় বড় ধস

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময় যেসব অঙ্গরাজ্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হতো, সেখানেও দ্রুত বদলাচ্ছে জনমত। নতুন রাজ্যভিত্তিক জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন অননুমোদনের চেয়ে বেশি। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   নিউজউইকের প্রকাশিত রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক নেট অনুমোদন এখন মূলত তার সবচেয়ে শক্তিশালী রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে তাকে সমর্থন করা মানুষের তুলনায় তার কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা বেশি।   তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠান রাজ্যভিত্তিক অনুমোদন হিসাব করতে আলাদা পদ্ধতি ও সময়সীমা ব্যবহার করে। ফলে কোন জরিপের কোন আপডেট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর ইতিবাচক অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা তিন বা চার হতে পারে। সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট-ইউগভ মডেলে আইডাহো, নর্থ ডাকোটা, ওয়াইওমিং ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ইতিবাচক দেখানো হয়েছে। তাই “মাত্র তিন রাজ্য” সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট নিউজউইক বিশ্লেষণের নির্দিষ্ট তথ্য হিসেবে দেখা উচিত, সব জরিপের অভিন্ন ফল হিসেবে নয়।   কিন্তু রাজ্যভিত্তিক হিসাবের এই পার্থক্যের চেয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে জাতীয় জনমত।   ১৭ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার সর্বনিম্ন অনুমোদন। একই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন।    এই পতন আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরে জাতীয় পর্যায়ে তার সমর্থনে বড় ধরনের ক্ষয় হয়েছে।    কেন কমছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা?   এর পেছনে এখন সবচেয়ে বড় দুটি বিষয় সামনে আসছে - ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়।   রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই আশঙ্কা ৮৭ শতাংশ হলেও রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭১ শতাংশ একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মূল্য দেওয়ার মতো ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই প্রশ্নে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।    যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ছে। ফলে হোয়াইট হাউসের জন্য ইরান যুদ্ধ ক্রমেই একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।  এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিত্যপণ্যের দাম।   ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ মুদি পণ্যের দাম গড়ে আরও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির গতি বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায় কম হলেও ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমেনি।    আর এখানেই রিপাবলিকানদের জন্য আরও একটি বড় সতর্কসংকেত দেখা যাচ্ছে।   আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত আরেকটি রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে রেখেছেন ভোটাররা। নিবন্ধিত ভোটারদের ৩৭ শতাংশ অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা জানিয়েছেন, রিপাবলিকানদের বেছে নিয়েছেন ৩৬ শতাংশ।    একই জরিপের কংগ্রেসনাল ব্যালট পরীক্ষায় নিবন্ধিত ভোটারদের ৪২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাঁচ পয়েন্টের এই ব্যবধান রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।    তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আগামী নির্বাচনে সব অঙ্গরাজ্য ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে যাচ্ছে।   প্রেসিডেন্টের কাজের অনুমোদন এবং নির্বাচনে দলীয় ভোট দুটি আলাদা বিষয়। একজন রিপাবলিকান ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো নীতিতে অসন্তুষ্ট হলেও কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন। একইভাবে রাজ্যভিত্তিক অনুমোদনের জরিপ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনের ফল অনুমান করা যায় না। তারপরও বর্তমান প্রবণতাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলিনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানরা এখনো ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে। তবে এখানেও ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমেছে। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিবাসন পরিচালনায় রিপাবলিকানদের সুবিধা যেখানে ছিল ২৬ পয়েন্ট, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ পয়েন্টে।    সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন একই সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক চাপ - ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ।   আর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, হোয়াইট হাউসের জন্য প্রশ্নটি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে - প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি এই নিম্নমুখী জনমত ঘুরিয়ে দিতে পারবেন, নাকি তার জনপ্রিয়তার পতনের মূল্য দিতে হবে কংগ্রেসের রিপাবলিকান প্রার্থীদের?   কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে থাকবে না - কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কিংবা অজনপ্রিয়তার প্রভাব ব্যালটের ফলাফলে পড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কিম জং উনকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সিএনএন সাংবাদিককে ‘ফেক নিউজ’ বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
কিম জং উনকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সিএনএন সাংবাদিককে ‘ফেক নিউজ’ বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করতেই CNN-এর এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে বারবার চুপ করতে বলেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে ‘ফেক নিউজ’ বলেও আক্রমণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।    সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ১৬ বছর বয়সী লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামসকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সাগরের প্রবল স্রোত থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধারের জন্য তাকে সম্মানিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ সামনে আসে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি এবং কিম সেই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন।   তবে ঠিক কীভাবে যোগাযোগ হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথা হয়েছে কি না কিংবা কিম জং উন কী বার্তা দিয়েছেন - এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্সও জানিয়েছে, কিম তার উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন বলে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।   আর এখান থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি।   CNN-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ক্রিস্টেন হোমস জানতে চান - যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর জন্য কিম জং উন কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন?   প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তাকে থামিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।   তিনি সাংবাদিককে চুপ করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত কিশোরের সামনে তাকে অসম্মানজনক আচরণ করার অভিযোগ করেন। এরপর ক্রিস্টেন হোমসকে উচ্চস্বরে কথা বলা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ‘ফেক নিউজ’ বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।   তবে সাংবাদিকের মূল প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।   আর ঠিক এই জায়গাতেই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এসব মহড়াকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে উসকানিমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য, উত্তর কোরিয়ার নেতা তাকে সম্মান করেন এবং দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া রয়েছে। নতুন করে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরির আগ্রহও দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে কিম জং উনের কোনো অনুরোধ ছিল কি না - সেই প্রশ্নটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।   দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। সিউল আশা করছে, দুই নেতার সম্পর্ক কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সংলাপ আবার শুরু করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।   উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সম্পর্কও আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ সামরিক মহড়া কমালে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সমালোচকেরা।   মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও বলেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়াগুলো প্রতিরক্ষামূলক - উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ বা উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।   এদিকে ওভাল অফিসের ঘটনার পর বিতর্ক আরও বাড়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ায়। ক্রিস্টেন হোমসকে লক্ষ্য করে হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়। CNN পাল্টা তাদের সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়ে জানায়, হোমস প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করছিলেন এবং একজন সাংবাদিকের দায়িত্বই হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাব চাওয়া।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অনুমোদনে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অনুমোদনে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সনদের আবেদন শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বা ওসিসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক সনদের আবেদনে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।   ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্টেবলকয়েন নিয়েও কাজ করছে। স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল্য সাধারণত কোনো প্রচলিত মুদ্রা বা নির্দিষ্ট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়।   তবে এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন, দেশটির প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   তবে ওয়ারেনের বক্তব্যের পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো ব্যাংক সনদ অনুমোদন পাওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো অর্থ গ্রহণ বা স্থানান্তর করতে পারবে—এমন নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য থাকে।   সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ হলে সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাতের নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ঘুষ গ্রহণ বা অর্থপাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণিত তথ্য বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই।   ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা এর আগেও রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন ব্যাংক সনদের অনুমোদনের ফলে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   এখন নজর থাকবে, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কার্যক্রম শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে এর আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তদারকি করে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা
ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছে মার্কিন ভ্রমণ—কোথায় যাচ্ছেন তারা?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী মন্তব্য ও শুল্কনীতির প্রতিবাদে ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কানাডার পর্যটকরা। ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ আখ্যা দেওয়া এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করার পর থেকে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকে আগে থেকেই পরিকল্পিত মার্কিন সফর বাতিল করে নিজ দেশ কিংবা ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছেন।   নিউ ইয়র্ক হয়ে পানামা খাল ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বদলে এক কানাডীয় দম্পতি রোম ও বার্সেলোনা রুট বেছে নেন। সেখানকার প্রাচীন স্থাপত্য ও স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতায় তারা সন্তুষ্ট। অন্টারিওর বাসিন্দা কেন্ট ট্রাসকট জানান, টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ দেখার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তাঁরা নোভা স্কশিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। কাবট ট্রেইলে হেঁটেছেন, আটলান্টিক উপকূলে মহিলা পরিচালিত রিসোর্টে থেকেছেন এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিয়েছেন—মার্কিন সফরে যে অর্থ খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা কানাডাতেই ব্যয় করেছেন তাঁরা।   ভ্যাঙ্কুভারের অবসরপ্রাপ্ত নিক স্মিথ ২০১৬ সালের পর থেকেই মার্কিন সফর এড়িয়ে চলছেন। বাইডেনের সময় কিছুটা ভ্রমণ করলেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আবার বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরব, এমন না—বাস্তব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ দেখতে চাই।’’ গত বছর তিনি সরাসরি ভ্যাঙ্কুভার থেকে মেক্সিকো সিটি এবং স্ত্রীকে নিয়ে মরক্কো ভ্রমণ করেছেন, যেখানে মারাকেশ, ফেজ ও এসাউইরা শহর ঘুরে রমজানের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছেন।   ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্রিস্টি মিচেলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল স্পেনের ক্যামিনো ফ্রান্সেস পথে হাঁটার। ট্রাম্পের নীতিতে হতাশ হয়ে তিনি লাস ভেগাসের বদলে স্পেনে ৭৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। পথে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে গভীর কথোপকথন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তিনি, তবে শর্ত—হোয়াইট হাউসে নতুন নেতৃত্ব ও কানাডা-মার্কিন সম্পর্কের পুনর্মিলন।   পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এপ্রিলে কানাডা থেকে মার্কিন সড়কপথে ভ্রমণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ কমেছে। এর ফলে গত বছর মার্কিন পর্যটন খাতে রাজস্ব কমেছে প্রায় ৩৩০ কোটি কানাডীয় ডলার (২৩৫ কোটি মার্কিন ডলার)। ফিরিয়ে আনতে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ ব্রডওয়ে ও হোটেলে ৩০% ছাড় ঘোষণা করলেও, কানাডীয় ডলারের দুর্বলতা ও ট্রাম্পের নীতিতে অনাগ্রহ অনেককে দমিয়ে রাখছে।   অনেক কানাডিয়ান মনে করছেন, কেবল ট্রাম্প বিদায় নিলেই সম্পর্ক আগের জায়গায় ফিরবে না—প্রয়োজন গভীর কূটনৈতিক ও আচরণগত পরিবর্তন। কানাডার নাগরিকরা এখন নিজের দেশের সৌন্দর্য আবিষ্কার করছেন, কিংবা ইউরোপ-আফ্রিকার পথে পা বাড়াচ্ছেন, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করছেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করছেন ট্রাম্প!

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে শুক্রবার নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রণালীটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং শিগগিরই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান।   শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করবে, তা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করছে।   এর দুই দিন আগেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে একই ধরনের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধকে তিনি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইরান এটি ঠেকাতে পারবে না বলেও দাবি করেন।   তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালীর অবস্থান বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তেহরানের বক্তব্য, প্রণালীটি কোনো ঘোষণা, সামরিক শক্তি বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।   ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবারও মাত্র কয়েকটি তেলবহির্ভূত জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।   যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে গ্যাসের দামে। রয়টার্সের হিসাবে, দেশটিতে গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিনিদের কিছুটা বেশি গ্যাসের দাম দিতে হচ্ছে। তবে তার দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য এই মূল্য দিতে হচ্ছে।   হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শান্তি আলোচনারও অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা চললেও প্রণালীটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে এখনো সমঝোতা হয়নি। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের মতো একাধিক দাবি তুলেছে।   এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ পর্যায়ক্রমে বদল করে এই অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।   তবে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানাননি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সামুদ্রিক সীমানা ও সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের কারণে শুধু প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে এমন একটি আন্তর্জাতিক নৌপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।   ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পরিবর্তন করেনি। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও “খুব ভালো” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন গাজা যুদ্ধ বন্ধে তার প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিকল্পনা মেনে নেবে না।    ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে একটি নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি নিয়ে হামাস ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে।    এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রকাশ্য মতবিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প নিজে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সম্পর্ককে “খুব ভালো” বলে বর্ণনা করেছেন।    এর আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তবে গাজায় যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, ইসরায়েলি সেনা কখন ও কোথা থেকে সরে যাবে এবং হামাসের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।   বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের আগে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সম্মতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আপাতত এই মতপার্থক্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় সংকট হিসেবে দেখানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলেই বার্তা দিয়েছেন।   ফলে এখন মূল প্রশ্ন, গাজা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই মতপার্থক্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলবে। নেতানিয়াহু হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, আর ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   অর্থাৎ, সম্পর্ক ভালো থাকার দাবি করলেও গাজা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্য এখন আর গোপন নেই। আগামী দিনগুলোতে এই মতপার্থক্য দুই নেতার সম্পর্ক এবং গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সমাধানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজরে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করার মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   সোমবার প্রকাশিত পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের সবচেয়ে বড় অংশের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা জড়িত। হামলা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা ও আত্মসাতের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।    পররাষ্ট্র দপ্তর যেসব মামলার উদাহরণ দিয়েছে, তার মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মানবপাচার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তবে ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে অভিযোগ বা গ্রেপ্তার এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিমালায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিকে ভিসার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হলে ভিসা বাতিলের সুযোগ রয়েছে।   এ তালিকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও জায়গা পেয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উল্লাস প্রকাশকারী কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসন এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অন্যান্য কারণে ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে।    উত্তর আফ্রিকায় একটি মার্কিন দূতাবাস শতাধিক ভিসা বাতিল করেছে এমন ব্যক্তিদের, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে তথাকথিত জন্মপর্যটনের বিষয়টি যুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা সাধারণত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পায়। তবে ভিসার উদ্দেশ্য বা ব্যবহারে প্রতারণা বা অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে।  মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য দেওয়া একটি বিশেষ অনুমতি। তাই ভিসার শর্ত ভঙ্গ বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসন ভিসা বাতিলের ক্ষমতা ব্যবহার করবে।   ভিসা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের আবেদন ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। চলমান এই নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা, কাজ কিংবা অন্যান্য বৈধ অভিবাসন সুবিধা প্রত্যাশী বিদেশি নাগরিকদের জন্য যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে ভিসা বাতিলের ভিত্তি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব নীতিতেও ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভিসাধারী ভিসার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে বা নির্দিষ্ট আইনগত কারণে তার ভিসা বাতিল করা যেতে পারে। ফলে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর প্রয়োগের পরিসরকে স্পষ্ট করছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার
ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন এর বড় বিনিয়োগ! স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের মধ্যাহ্নভোজে দীর্ঘদিন পর আবার পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধসহ আরও পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সুযোগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্কুলের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্য সংগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ স্কুলের খাবারে ফিরিয়ে আনার আইনে স্বাক্ষর করেন। পরে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ নতুন বিধি কার্যকর করে। এর ফলে দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য স্কুলসহ বিভিন্ন ফেডারেল শিশু-পুষ্টি কর্মসূচিতে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ও দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধ দেওয়ার সুযোগ আবার চালু হয়।   এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নতুন খাদ্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে পুরোপুরি প্রাকৃতিক, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের খাবারে এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু দুধ বা নতুন কিছু খাবার যোগ করা নয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য স্কুলের খাবারের ব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের তাজা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে পরিচিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ অর্থবছরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে স্কুলের সরাসরি সংযোগ তৈরির কর্মসূচিতে প্রায় দুই কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৮টি প্রকল্পকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় কৃষক, খাদ্য উৎপাদক এবং স্কুলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও খাদ্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে।   স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাবার স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ, গ্রীষ্মকালীন খাবার কর্মসূচি এবং শিশু যত্নকেন্দ্রে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এই কর্মসূচি। পাশাপাশি স্কুল বাগান, কৃষি শিক্ষা, স্থানীয় খাদ্য সংগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের কৃষি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার মতো কার্যক্রমও এতে রয়েছে।   কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই অনুদান কর্মসূচি চালুর পর থেকে এক বছরে সবচেয়ে বড় আর্থিক বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকে সংস্থাটি ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে। এ অর্থ দিয়ে ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিভিন্ন মার্কিন অঞ্চলে ১ হাজার ২৬৫টির বেশি প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের রান্নাঘর আধুনিক করার জন্যও আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির আওতায় রান্নাঘরের সরঞ্জাম কেনার জন্য দুই কোটি ডলারের অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্কুলগুলো আধুনিক ওভেন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে তাজা খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।   তবে স্কুলের খাবারে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সরকারের নতুন নীতিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কোনো খাবার সবার জন্য একইভাবে উপকারী কি না, তা বয়স, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে পারে।   সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের খাবার ব্যবস্থায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার এবং বিভিন্ন ধরনের দুধের দিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের খাবারের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জন্যও স্কুলভিত্তিক বড় বাজার তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে  ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ছাড়ার সময় ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রথমে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়ছেন, তা গোপন রাখতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি বিভ্রান্তিমূলক পরিকল্পনা করেন।   পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পকে প্রথমে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রকাশ্যে উঠতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই তিনি বিমানে ওঠেন। কিন্তু পরে বিমানের অন্য পাশ দিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ একটি ছোট সামরিক বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।   সেই সামরিক বিমানটি ছিল এয়ার ফোর্সের সি-৩২এ, যা আকারে ছোট হলেও প্রেসিডেন্টের বহরে ব্যবহৃত বিমানের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীও ওই গোপন ফ্লাইটে ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ওই বিমানে ওঠেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রাখা হয়েছিল। ফলে বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ট্রাম্প ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এমনকি সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    গোপন সামরিক বিমানে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিমূলক ফ্লাইটটি পৌঁছানোর প্রায় নয় মিনিট আগেই ট্রাম্পের প্রকৃত বিমান সেখানে অবতরণ করে। পরে তাঁকে আবার প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়। কীভাবে তাঁকে আবার ওই বিমানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।    ট্রাম্প তুরস্কে যাওয়ার সময় কাতারের দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য বিমানটি নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই বিমানটিকেই পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়।    হোয়াইট হাউস গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করলেও নতুন কাতার-দেওয়া বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের এই গোপন অভিযান সামনে এলো। প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও অবস্থান গোপন রাখতে এমন জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প
হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও চলমান যুদ্ধ শেষ করে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিলে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা গেলে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।    মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিলে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সামরিক হুমকি তৈরি করতে না পারে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প।  তবে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের শর্ত। হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরান থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক দাবি জানিয়েছে। ইরানের এসব শর্ত মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কঠিন হতে পারে।    এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এখন সংঘাত থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ইরান আবার জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।    হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলছে না, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবহন হওয়ায় সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তেল ও গ্যাসের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও চাপে পড়তে পারে।    ফলে পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আনা যায়, সেটিই এখন যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী করার মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ: মার্কিন কর্মকর্তা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে সরে আসাই সবচেয়ে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট।   মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন কেন্ট। পদত্যাগের সময় তিনি বলেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছিল না এবং যুদ্ধের পক্ষে তিনি সমর্থন দিতে পারছেন না।    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ হবে যুদ্ধ থেকে সরে আসা। তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য এটিই ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে ভালো সুযোগ।   কেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন।    পদত্যাগপত্রে কেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এমন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মকে পাঠানো এবং মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা সমর্থনযোগ্য নয়।   তবে কেন্টের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। তার পদত্যাগের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে কেন্টের নিরাপত্তা মূল্যায়নের সমালোচনা করেন। ফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের নীতির পাশাপাশি এর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    কেন্টের সর্বশেষ মন্তব্য মূলত যুদ্ধের সামরিক সমাধানের পরিবর্তে দ্রুত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে তার অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেনা যারা
যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেনা যারা

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করা এবং তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে নতুন করে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সই করা এসব আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর নাগরিকত্বের যোগ্যতা নতুনভাবে নির্ধারণ এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   নতুন আদেশের একটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব সীমিত করার কথা বলছে। এতে বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কিছু বিশেষ শ্রেণির বিদেশি নাগরিকের সন্তানদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নতুন করে নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    অন্য নির্বাহী আদেশটি মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে জোর দিচ্ছে। বার্থ ট্যুরিজম বলতে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করাকে বোঝানো হয়। এ ধরনের ভ্রমণ ঠেকাতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে ভিসা যাচাই ও আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে তার আগের উদ্যোগকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের আইনি লড়াই হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বিস্তৃত উদ্যোগে হস্তক্ষেপ করে। নতুন আদেশগুলোকে প্রশাসন আগের উদ্যোগের তুলনায় আরও সীমিত ও নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম হিসেবে তুলে ধরছে। তবে নতুন পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা মনে করছেন।    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী সাধারণভাবে দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ইতিহাসে কূটনীতিকদের সন্তানসহ কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আদেশ সেই ব্যতিক্রমগুলোর পরিধি নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে।    বিশ্বের আরও বেশ কিছু দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে এর নিয়ম এক নয়। কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ব্যবস্থা রয়েছে, আবার কোথাও বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদার মতো অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য।   নতুন নির্বাহী আদেশ কার্যকর করতে গেলে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি লড়াই ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের চুলে হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন? লাস ভেগাসের ছবি ঘিরে নতুন আলোচনা

৫ আগস্ট লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলকে আগের কয়েকটি উপস্থিতির তুলনায় বেশি ঘন ও উঁচু দেখায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চুলের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।   এর কয়েক দিন আগে নিউ জার্সিতে প্রবল বাতাসের মধ্যে ট্রাম্পকে বিমানবন্দরের রানওয়ে দিয়ে হাঁটার সময় তার চুল উড়ে যেতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে মাথার কিছু অংশের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হওয়ায় সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। দুই সময়ের ছবি পাশাপাশি দিয়ে অনেকে ট্রাম্পের চুলের দৃশ্যমান পার্থক্য নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।   তবে শুধু ছবি দেখে ট্রাম্প উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। চুলের বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের রং, স্টাইলিং পণ্য, হেয়ার ফাইবার এবং আলোর পার্থক্যেও একই ব্যক্তির চুলকে এক ছবিতে বেশি ঘন ও অন্য ছবিতে পাতলা দেখাতে পারে।   যুক্তরাজ্যের কনসালট্যান্ট ট্রাইকোলজিস্ট ইভা প্রাউডম্যানের মতে, ট্রাম্পের চুলে বয়সজনিত পুরুষদের সাধারণ চুল পড়ার বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তার ভাষ্য, বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল স্বাভাবিকভাবেই পাতলা হতে পারে।   প্রাউডম্যানের মতে, লাস ভেগাসের ছবিতে চুল বেশি ঘন দেখানোর পেছনে হেয়ার ফাইবারের ব্যবহার থাকতে পারে। এসব ফাইবার প্রাকৃতিক চুলে লেগে চুলকে সাময়িকভাবে ঘন দেখাতে পারে। চুলে রং করার ফলেও একই ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। গাঢ় রঙের চুলে মাথার ত্বক কম দৃশ্যমান হওয়ায় চুল তুলনামূলকভাবে বেশি ঘন মনে হয়।   চুল পুনরুদ্ধার বিশেষজ্ঞ দিনা কালেসও মনে করেন, চুলে নতুন করে রং করা হলে সেটি ছবিতে বেশি ঘন দেখাতে পারে। ধূসর চুল গজিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আগের রঙের তুলনায় চুল পাতলা বা অসমান দেখাতে পারে। ট্রাম্পের পরিচিত গভীর সাইড পার্ট এবং চুল সাজানোর ধরনও একেক সময় চুলের ঘনত্বের ভিন্নতা তৈরি করতে পারে।   ট্রাম্পের চুল নিয়ে আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরেই তার স্বর্ণালি চুল ও বিশেষ ধরনের কম্বওভার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির আলোচিত বিষয়।   ১৯৮০-এর দশকের ছবিতে তরুণ ট্রাম্পকে তুলনামূলকভাবে ঘন চুল ও সাইড-সুইপড স্টাইলে দেখা যায়। নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তার পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের বিশেষ স্টাইলটিও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৮০-এর দশকের শেষ ও ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যে ধরনের চুলের স্টাইল তার পরিচিতি তৈরি করে, পরবর্তী কয়েক দশকেও সেটির বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।   ২০০৪ সালে এনবিসির ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হওয়ার পর ট্রাম্পের চুল আরও বেশি মানুষের নজরে আসে। তার স্বর্ণালি রঙের চুল ও কম্বওভার তখন জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তিনি উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করেন কি না, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য এসব দাবি বারবার নাকচ করেছেন।   ২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় নামার পর তার চুল নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়ে। বিভিন্ন সমাবেশ ও জনসম্মুখে উপস্থিতির ছবি থেকে তার চুলের স্টাইল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা আলোচনা হয়।   ২০১৬ সালে ‘দ্য টুনাইট শো’-তে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়ে উপস্থাপক জিমি ফ্যালন ক্যামেরার সামনে তার চুল এলোমেলো করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের চুল নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনকে অনুষ্ঠানে হাস্যরসের বিষয়ও করা হয়।   ২০১৮ সালে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় বাতাসে ট্রাম্পের চুল উড়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও ব্যাপক আলোচনায় আসে। একই বছর কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের চুল নিয়ে রসিকতা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মাথার টাকের অংশটি আড়াল করতে অনেক চেষ্টা করেন।   ট্রাম্পের চুল নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বা হেয়ারপিসের সম্ভাবনার কথা তুললেও এসব দাবির কোনোটি নিশ্চিত নয়। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের কসমেটিক সার্জন গ্যারি লিংকভ দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প পাঁচটি আলাদা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি করিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ দাবিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।   চুল বিশেষজ্ঞদের মতে, লাস ভেগাসের সাম্প্রতিক ছবিতে চুল বেশি ঘন দেখানোর ব্যাখ্যা হিসেবে হেয়ার ফাইবার, চুলের রং এবং স্টাইলিংই বেশি সম্ভাব্য কারণ। শুধু ছবি বা ভিডিও দেখে কোনো চিকিৎসা বা কসমেটিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   ট্রাম্পের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বক্তব্য, নীতি ও বিতর্কের পাশাপাশি তার চুলও যে জনআগ্রহের একটি স্থায়ী বিষয় হয়ে আছে, সাম্প্রতিক লাস ভেগাসের ছবিকে ঘিরে নতুন আলোচনা আবারও সেটিই সামনে এনেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০