- প্রচ্ছদ
- Topic
আদালত
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মায়ের মরদেহ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস সোমবার আদালতে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এর আগে গত ২০ মার্চ তিনি একটি মৃতদেহের আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন। তদন্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিলভিয়া ফিলিপস নামে এক বৃদ্ধার খোঁজ নিতে একটি বাড়িতে যায়। চিকিৎসকদের সঙ্গে ২০২২ সালের পর থেকে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার খোঁজখবর নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রিস্টোফার ফিলিপসের সঙ্গে কথা বলে। মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার মা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে আছেন। তবে কোথায় আছেন বা কার সঙ্গে আছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ফ্রিজারের ভেতরে সিলভিয়া ফিলিপসের মরদেহ উদ্ধার করে। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের ওপর ফুল রাখা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভিয়া ফিলিপসের বয়স আশির কোঠায় ছিল। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ক্রিস্টোফার ফিলিপস আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। যদিও প্রতিবেদনে তিনি ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তির মরদেহ দীর্ঘ সময় গোপন রাখা এবং যথাযথভাবে দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি হত্যা মামলার বিচার চলাকালে তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরির একাধিক অংশ আদালতে পড়ে শোনানো হয়েছে। ডায়েরির লেখাগুলোতে সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে চরম মানসিক চাপ, হতাশা এবং সাহায্যের আকাঙ্ক্ষার কথা উঠে এসেছে। লিন্ডসে ক্ল্যান্সি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবেরিতে নিজের তিন সন্তান—৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান—কে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। তিনি শিশুদের হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেননি, তবে তাঁর আইনজীবীরা দাবি করছেন, ঘটনার সময় তিনি প্রসব-পরবর্তী তীব্র মানসিক বিকার (পোস্টপার্টাম সাইকোসিস)-এ আক্রান্ত ছিলেন এবং তাই তিনি আইনগতভাবে ফৌজদারি দায় বহন করার অবস্থায় ছিলেন না। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের দাবি, তিনি পরিকল্পিতভাবেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। আদালতে উপস্থাপিত ডায়েরির অংশে ক্ল্যান্সি লিখেছিলেন, তিনি তিন সন্তানের দেখাশোনা করতে গিয়ে নিজেকে "সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত" অনুভব করতেন এবং "প্রতিদিন মনে হতো আমি ডুবে যাচ্ছি"। আরেকটি লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজেকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করতেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা বলেন, এসব লেখা তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক সংকটের প্রমাণ। বিচারে আরও জানা যায়, ঘটনার আগের কয়েক মাসে ক্ল্যান্সি বিভিন্ন মানসিক রোগের ওষুধ গ্রহণ করছিলেন এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়মিত ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, একাধিক ওষুধের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতা তাঁর অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রসিকিউশন আদালতে চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে দাবি করেছে, ক্ল্যান্সি নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ বলছে, ঘটনার সময় তিনি বাস্তবতা অনুধাবনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। এই প্রশ্নই মামলার মূল আইনি বিতর্ক। মামলার নথি অনুযায়ী, সন্তানদের মৃত্যুর পর ক্ল্যান্সি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি কবজিতে আঘাত করার পর দ্বিতীয় তলার জানালা থেকে লাফ দেন, এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি কোমর থেকে নিচের অংশে স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। বর্তমানে ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথ সুপিরিয়র কোর্টে বিচার চলছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল, নাকি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার কারণে সংঘটিত একটি অপরাধ, যার ক্ষেত্রে আইনগত দায় ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে ৬ বছর বয়সী শিশু লোগান টিপটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোনাল্ড এক্সান্টাস কারামুক্ত হওয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিশুটির পরিবার বলছে, বিচারব্যবস্থা তাদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। অন্যদিকে কেন্টাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালত নির্ধারিত সাজা সম্পূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কেন্টাকির ভার্সেইলস শহরের একটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ বছর বয়সী লোগান টিপটনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রোনাল্ড এক্সান্টাস। হামলায় শিশুটির বাবা এবং দুই বোনও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আদালতে হত্যার অভিযোগে তাকে 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে দায়মুক্ত' ঘোষণা করা হয়। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভোগের সময় আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সাজা-ছাড়ের সুবিধা পাওয়ায় তার মুক্তির সময় এগিয়ে আসে। এটি এক্সান্টাসের প্রথম মুক্তি নয়। ২০২৫ সালে তিনি বাধ্যতামূলক তত্ত্বাবধান কর্মসূচির আওতায় মুক্তি পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফ্লোরিডায় গিয়ে নিবন্ধন-সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করায় তাকে আবার গ্রেপ্তার করে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি সাজা শেষ করে এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান। লোগানের বাবা ডিন টিপটন ছেলের হত্যাকারীর মুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের পরিবার আজীবনের শাস্তি ভোগ করছে, অথচ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি মুক্ত জীবন ফিরে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কেন্টাকিতে 'লোগানস ল' নামে একটি আইন পাস হয়েছে। নতুন আইনে সহিংস অপরাধীদের সাজা, প্যারোল এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী মামলায় প্রযোজ্য না হওয়ায় এক্সান্টাস এর আওতায় পড়েননি। কেন্টাকি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস জানিয়েছে, এক্সান্টাসকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং প্যারোল বোর্ডও তাকে মুক্ত করেনি। আদালতের দেওয়া সাজা পূর্ণ হওয়ার পর বিদ্যমান আইন অনুসারেই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
টেক্সাসের সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আদেশ) প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। হিউস্টন এলাকার তিনজন মা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ নির্ধারণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। মামলায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীতে অভিভাবকদের সন্তান লালন-পালন ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া টেক্সাস রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত আকার ও বিন্যাসে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার দান করা হলে স্কুলগুলো তা টানাবে, আর প্রয়োজন হলে জেলা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থেও তা কিনতে পারবে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ঐতিহ্যের অংশ। তবে বাদীপক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তাদের মতে, পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাষ্ট্রের নয়। এটি টেক্সাসে এ ধরনের প্রথম মামলা নয়। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অধর্মীয় পরিবারের সদস্যরা একই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। সেইসব মামলায় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র-ধর্ম পৃথক থাকার নীতির প্রশ্নও সামনে আসে। অন্যদিকে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বরাবরই আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ‘দশ আদেশ’ আমেরিকার আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রদর্শন করা আইনসঙ্গত। নতুন মামলার শুনানির মাধ্যমে টেক্সাসের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার ফলাফল শুধু টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
চার দশক আগে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের এক মোটরসাইকেল পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় পুনর্বিচারে দোষী সাব্যস্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালতের রায় বহাল রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে। মামলাটি ১৯৮৩ সালের। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলএপিডি কর্মকর্তা পল ভার্না লেক ভিউ টেরেস এলাকায় একটি চুরি করা গাড়ি থামালে গাড়িতে থাকা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কেনেথ গে এবং রেনার্ড কামিংস অভিযুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে প্রথম বিচারে কেনেথ গে দোষী সাব্যস্ত হলেও পরে তার আইনজীবীর অদক্ষতার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর পুনর্বিচারে জুরি আবারও তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে নিহত কর্মকর্তা পল ভার্নার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তার স্বজনরা জানান, দীর্ঘ কয়েক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। প্রসিকিউশন জানায়, অভিযুক্তরা সে সময় একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল এবং চুরি করা গাড়িতে অস্ত্রসহ চলাচল করছিল। পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়পত্র চাইলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত আইনের আওতায় কেনেথ গের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর থাকবে। অপর আসামি রেনার্ড কামিংসও পৃথক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে যৌন সহিংসতার সময় হত্যা করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার বিচার শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পিপল ম্যাগাজিন, মেইগস কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস এবং কোর্ট টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওহাইওর রাটল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা স্যামুয়েল হকস্টেটলার ২০২৫ সালে ২৮ বছর বয়সী রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যুর ঘটনায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার বিচার ২৭ জুলাই জুরি বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, তার সম্মতি ছাড়া যৌন নির্যাতনের সময় এমনভাবে তাকে চেপে ধরা হয়েছিল যে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। কোর্ট টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন হকস্টেটলার ও কিনসিঙ্গার অন্য কয়েকজনের সঙ্গে একটি গ্রিনহাউস নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হকস্টেটলার আগে কয়েকবার কিনসিঙ্গারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে জানান, তদন্তে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার সময় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরদিন ১৩ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মরদেহ তার ট্রেলারবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কর্মস্থলে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় পরিচিতজনেরা খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ। প্রসিকিউটরদের দাবি, রোজানার মৃত্যুর খবর তিনিই প্রথম তার বাবাকে জানান। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে সহায়তার প্রস্তাবও দেন। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে বলেন, রোজানার বাবা-মা ও ভাইবোন জানতেই পারেননি যে যাকে তারা ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং শোকের মুহূর্তে পাশে পেয়েছিলেন, তিনিই তাদের স্বজন হত্যার জন্য দায়ী। রায়ের পর আদালত স্যামুয়েল হকস্টেটলারকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে সহিংস অপরাধী এবং তৃতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে আদালতে অভিযুক্ত নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান। তার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এটি একটি দুর্ঘটনা। এছাড়া মামলার শুরুতে আদালত তার দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে দোষ স্বীকারের পথ তৈরি করে। আদালতে হকস্টেটলার বলেন, "আমি যা করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত। যদি অতীতে ফিরে গিয়ে অন্যভাবে জীবন গড়তে পারতাম। আমি কতটা অনুতপ্ত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ও মায়ের প্রেমিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেলেও আগে থেকেই তার নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উঠে এসেছে। দ্য প্রেস-এন্টারপ্রাইজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক আলেকজান্ডার আর. মার্টিনেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে ৩৬ বছর বয়সী সামান্থা ভিক্টোরিয়া গারভারকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড (Voluntary Manslaughter) এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। অন্যদিকে, ৩৪ বছর বয়সী সার্জিও ভিনসেন্ট মেনা দ্বিতীয়-ডিগ্রির হত্যাকাণ্ড এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ২১ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিগ বেয়ার এলাকার সুগারলোফে অবস্থিত বাড়ি থেকে ১৪ মাসের হেনরি হুইটলি ব্রাউনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে পোড়া ও আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। রায় ঘোষণার পর সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কোনো সাজাই ছোট্ট হেনরিকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না কিংবা তার ওপর চালানো নির্যাতনের কষ্ট মুছে দিতে পারবে না। তবে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে এবং দোষীরা আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না। তদন্তে উঠে এসেছে, হেনরির নিরাপত্তা নিয়ে মৃত্যুর আগেই একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল। শিশুটির পিতামহী স্টেফানি ডানকান জানান, হেনরির জন্মের পর তিনি অন্তত ছয়বার শিশু ও পরিবার সেবা বিভাগে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। ডানকানের ভাষ্য, হেনরিকে নিয়মিত তাদের বাড়িতে দেখাশোনা করা হতো। তিনি বলেন, শিশুটি প্রায়ই নোংরা বোতল, পর্যাপ্ত পোশাক বা ডায়াপার ছাড়া আসত। ২০২৩ সালের জুনে হেনরির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন। একজন শেরিফের ডেপুটি শিশুটিকে পরীক্ষা করে জানান, যে বয়সের শিশু হাঁটতেও শেখেনি, তার শরীরে এ ধরনের আঘাত স্বাভাবিক নয়। এরপর তিনি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও হেনরিকে তার মা ও মেনার কাছেই থাকতে দেওয়া হয়। তদন্ত নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামান্থা গারভার জানিয়েছিলেন, তিনি রাতে বাইরে যাওয়ার সময় হেনরিকে সার্জিও মেনার কাছে রেখে যান। অথচ তিনি জানতেন, মেনা দুই দিন ধরে না ঘুমিয়ে মাদক সেবন করছিলেন। মেনা পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি মাদক গ্রহণের সময় হেনরিকে চলমান গরম পানির বাথটাবে রেখে দেন। পরদিন সকালে বাড়ি ফিরে গারভার দেখতে পান, শিশুটির যৌনাঙ্গ ও পায়ের নিচের অংশে মারাত্মক দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাকে অত্যন্ত গরম পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণেই এসব আঘাতের সৃষ্টি হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায়ও হেনরিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। শুধু একটি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর রাত ৮টার দিকে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা দাবি করেছিলেন, ফোন করার ২০ মিনিট আগে শিশুটির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তবে তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তার মৃত্যু আরও আগেই হয়েছিল। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হেনরির শরীরে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর আগে তার একটি হাত স্থানচ্যুত হয়েছিল এবং কয়েকটি দাঁতও ভেঙে পড়েছিল। মামলাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, সামান্থা গারভার ২০১৩ সালেও শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই মামলায় আদালতের নির্দেশনা পুরোপুরি পালন না করায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তবুও পরবর্তী সময়ে তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যান এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থার একাধিক অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে অবস্থিত একটি যৌথ মালিকানাধীন আবাসিক ভবনে (কো-অপ) দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কোন্দল এবার সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ, দারোয়ানের সাথে মারামারি এবং পরবর্তীতে ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ৫৭ বছর বয়সী সন্তানকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বয়স্ক দম্পতি। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা নথির বরাত দিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে আর্ভিং কার্টেন এবং ক্যারল কার্টেন দম্পতি ৩৩৯ ইস্ট ৫৮তম স্ট্রিটের একটি ১০ তলা ভবনের পেন্টহাউস ইউনিটটি প্রায় ৪ লাখ ডলারে কেনেন। লক্ষ্য ছিল তাঁদের ৫৭ বছর বয়সী ছেলে কেভিন কার্টেন সেখানে বসবাস করবেন। কেভিন পেশায় একজন ঠিকাদার এবং ফ্লোরিডায় তাঁর নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভবনে ওঠার পর থেকেই সেখানকার দারোয়ান লরেন্স মনটগোমারির সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আইনি নথি অনুযায়ী, বিবাদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, যখন কেভিন ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ বেডফোর্ড ম্যানেজমেন্ট’-এর কাছে দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কেভিন দাবি করেন, লরেন্স ইচ্ছা করে তাঁর চিঠি বা পার্সেল আটকে রাখতেন, তাঁর প্রেমিকাকে না জানিয়ে স্পর্শ করেছিলেন এবং ক্রমাগত বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন। অভিযোগের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ভবনের ভেতরেই দুজনের মধ্যে এক তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দারোয়ান লরেন্স ফোন উঁচিয়ে কেভিনের মুখের সামনে ধরলে কেভিন সেটি থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরপরই লরেন্স তাকে আঘাত করেন, যার ফলে কেভিনের চোখে গুরুতর জখম হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে কেভিনকেও একাধিকবার অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে এবং দারোয়ানের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় মারতে দেখা যায়। ঘটনার পর পুলিশ এসে উভয়কেই গ্রেপ্তার করে। দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ ও আক্রমণের চেষ্টা এবং কেভিনের বিরুদ্ধে সম্পদের ক্ষতি ও হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের আদেশে মামলাটি আপাতত গোপনীয় রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর কো-অপ পরিচালন পর্ষদ দারোয়ান লরেন্সের পাশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর কেভিনকে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠায়। এতে বলা হয়, ভবনের শান্তি বজায় না রাখলে তাঁকে অযোগ্য বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কার্টেন পরিবারের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে জানান, কো-অপ কর্তৃপক্ষ ঘটনার কোনো সঠিক তদন্ত করেনি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সমস্যার এখানেই শেষ নয়; কেভিনের সাথে প্রতিবেশীদেরও বিরোধ তৈরি হয়। কেভিনের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা কো-অপ পর্ষদের সদস্য ছিলেন। কার্টেন পরিবারের দাবি, টেরাসে গাছ রাখা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ওই পর্ষদ সদস্যের স্ত্রী কেভিনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। সবশেষ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন গত ২২ জুলাই কো-অপ পরিচালন পর্ষদ একটি জরুরি সভা ডেকে কার্টেন পরিবারের ইজারা বাতিল, তাঁদের শেয়ার নিলামে বিক্রি এবং কেভিনকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নোটিশ জারি করে। নোটিশে পর্ষদ সদস্যকে হেনস্তার অস্পষ্ট অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি কার্টেন পরিবারের। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্টেন পরিবার জরুরিভিত্তিতে আদালতের আশ্রয় নিলে ম্যানহাটনের এক বিচারক আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পর্ষদের উচ্ছেদ প্রস্তাবের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কার্টেন পরিবার মামলায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসন এলাকার বিষয়টি এখন নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাপালাচি হাইস্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কোল্ট গ্রেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ওই হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় কিশোর বয়সী গ্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এই সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতের রায়ে কোল্ট গ্রেকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্কুল বন্দুক হামলার জন্য সবচেয়ে কম বয়সী অভিযুক্তদের একজন হিসেবে আলোচনায় আসেন। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার উইন্ডার শহরের অ্যাপালাচি হাইস্কুলে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই শিক্ষার্থী এবং দুই শিক্ষক নিহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেকে আটক করে। তদন্তে উঠে আসে, হামলার আগে থেকেই গ্রের আচরণ নিয়ে উদ্বেগের তথ্য ছিল। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে পৌঁছেছিল এবং হামলার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত চালানো হয়। মামলার শুনানিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে তাদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, একটি স্কুলে নিরাপদ থাকার কথা ছিল যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের, তারা ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত গ্রে আদালতে দায় স্বীকার করেন এবং ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তবে বিচারক হামলার ভয়াবহতা, নিহতদের সংখ্যা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় কঠোর সাজা দেন। অ্যাপালাচি হাইস্কুলের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে আবারও স্কুল নিরাপত্তা, কিশোরদের হাতে অস্ত্র পৌঁছানো এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করে। দেশটিতে একের পর এক স্কুলে বন্দুক হামলার পর এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা ও রেফারেন্স জাল করে ১৩টি চাকরি নেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এক ব্যক্তিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তিনি এনএইচএসের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড আর্থিক ক্ষতি করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আমরান হোসেন (৪০)। কেন্টের ওয়েস্টারহ্যামের ফ্রেঞ্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা আমরানকে গত ২৪ জুলাই মেইডস্টোন ক্রাউন কোর্ট চার বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে তিনি প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাজ্যের এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি (এনএইচএসসিএফএ) জানায়, চাকরি পেতে আমরান মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি এনএইচএসের বিভিন্ন উচ্চপদে কাজ করার ভুয়া অভিজ্ঞতাও নিজের জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি বার্কবেক, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই নিশ্চিত করে যে তিনি কোনো কোর্সই সম্পন্ন করেননি। তদন্তকারীরা জানান, আমরান এনএইচএসের বিভিন্ন পদে ২ হাজার ৭১টি আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে ১৩টি অ-ক্লিনিক্যাল পদে চাকরি পান। তদন্তে একটি নির্দিষ্ট ধারা দেখা যায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরই তিনি অসুস্থতার ছুটি নিতেন এবং চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া বা চাকরি বাতিল হওয়া পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকতেন। ফলে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব সামান্য বা কোনো কাজই করতেন না। পরে সেই চাকরির অভিজ্ঞতাকেই পরবর্তী আবেদনগুলোতে ব্যবহার করতেন। এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি আরও জানায়, চাকরির আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি ভুয়া রেফারেন্স জমা দিয়েছিলেন। এমনকি একটি রেফারেন্স ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং কয়েকটি রেফারেন্স এমন ই-মেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছিল, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল তার নিজের হাতে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার দাবিও তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালে ডেভন পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্ট তাকে একটি জ্যেষ্ঠ পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ার পর নিয়মিত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের সময় এই প্রতারণার সূত্রপাত ধরা পড়ে। আবেদনপত্রে আমরান দাবি করেছিলেন, তিনি কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে ‘ডিরেক্টর অব ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে আমরান হোসেন নামে কেউ কখনো চাকরি করেননি। এরপর শুরু হয় বিস্তৃত তদন্ত। এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির অপারেশনস প্রধান বেন হ্যারিসন বলেন, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া যোগ্যতা বা জাল রেফারেন্স ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রতারণা শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, এনএইচএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ৯ বছর বয়সী মন্ট্রিয়লের বাসিন্দা মেলিনা ফ্রাত্তোলিনের মৃত্যুর ঘটনায় চলমান হত্যা মামলার বিচারে আদালতে উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক ফরেনসিক তথ্য। চিকিৎসা পরীক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি ডুবে মারা যায় এবং তার ফুসফুস, শ্বাসনালি ও পাকস্থলীতে কাদামাটি ও জলজ উদ্ভিদের অংশ পাওয়া গেছে। এই তথ্য আদালতে উপস্থাপনের সময় অভিযুক্ত বাবা লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন মরদেহের ছবি দেখার পরিবর্তে মুখ ফিরিয়ে নেন। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের এলিজাবেথটাউনের এসেক্স কাউন্টি আদালতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. মাইকেল সিকিরিকা জুরিদের জানান, এটি "নিশ্চিতভাবেই ডুবে মৃত্যুর ঘটনা"। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে স্ফীত ছিল এবং ভেতরে গভীর পর্যন্ত কাদামাটি ও উদ্ভিদের কালো কণা পাওয়া যায়, যা জীবিত অবস্থায় পানিতে শ্বাস নেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ। আদালতে সাক্ষ্য চলাকালে জুরিদের সামনে মেলিনার মরদেহ উদ্ধারের সময় তোলা ছবি প্রদর্শন করা হয়। তবে হত্যা মামলার আসামি ও শিশুটির বাবা লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন সেদিকে না তাকিয়ে আদালতে বসেই একটি নোটপ্যাডে লিখতে থাকেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানান, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই নিউইয়র্কের এসেক্স কাউন্টির ইগল লেকের কাছে প্যারাগন ব্রুক নামের একটি অগভীর জলধারা থেকে মেলিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে প্রচুর কাদামাটি লেগে ছিল। তার শরীরে কিছু আঁচড় ও হালকা আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মরদেহটি পানির নিচে একটি বড় পাথর দিয়ে চাপা দেওয়া ছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন নিজের মেয়েকে হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অপহরণের গল্প সাজিয়েছিলেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, লেক জর্জ এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হলেও তদন্তে তার বক্তব্যের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরদিন বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা শিশুটির মরদেহ খুঁজে পান। একই দিনে আদালতে সাক্ষ্য দেন মেলিনার মা কালি গ্যালানিসও। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক মাস আগে মেলিনা তার বাবার সঙ্গে ইথিওপিয়া সফরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিল। পরে সেই বিদেশ সফর বাতিল করে বাবা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যান। প্রসিকিউশন এই সাক্ষ্যকে মামলার প্রাসঙ্গিক অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছে। ৪৬ বছর বয়সী লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মরদেহ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার বিচার এখনও চলমান এবং প্রসিকিউশন আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে বলে আদালতকে জানিয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
হংকংয়ে এক নারী ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার দায়ে কারাদণ্ড পেয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ওই নারী পরিকল্পিতভাবে অভিযোগটি তৈরি করেছিলেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ করেছিলেন। ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইসাবেল রোজ নামের ওই নারী হংকং পুলিশের কাছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তবে ঘটনার দুই দিন পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। রোজকেই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে। তদন্তে উঠে আসে, তিনি যাকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন, সেই একই ব্যক্তির কাছ থেকেই ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার দাবি করেছিলেন। মামলাটি আদালতে গেলে হংকংয়ের জেলা আদালতের বিচারক অ্যাড্রিয়ানা সে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। বিচারক বলেন, অভিযোগটি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছিল এবং তা “স্পষ্টভাবে মিথ্যা” বলে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত অভিযুক্ত পুরুষকে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ ঘোষণা করে। বিচারক তাকে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে রোজকে ব্ল্যাকমেইল এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রোজের আইনজীবীরা আদালতের কাছে সাজা কমানোর আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। আদালত তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারাগারে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে রোজ হংকংয়ের তাই লাম সংশোধনাগারে সাজা ভোগ করছেন। আদালতের রায়ের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। কারণ মিথ্যা অভিযোগ শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অবস্থানই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক অবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিচার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যৌন অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অভিযোগের গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসেচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ডাক্সবারি শহরে নিজের তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত মামলার বিচার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আদালতে পেশ করা প্রাথমিক বক্তব্যে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, লিন্ডসে এই অপরাধের জন্য অপরাধমূলকভাবে দায়ী নন; কারণ ঘটনার সময় তিনি প্রসূতিপরবর্তী তীব্র মানসিক রোগ বা 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস'-এ ভুগছিলেন। ৩৫ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যান্সি বোস্টনের একটি হাসপাতালের সাবেক লেবার অ্যান্ড ডেলিভারি নার্স। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নিজের তিন সন্তান ৫ বছরের কোরা, ৩ বছরের ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালাংকে তাদের ঘরের নিচতলায় ব্যায়ামের রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর লিন্ডসে নিজের কবজি ও গলা কেটে দোতলার জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এই ঘটনার পর তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আদালতে লিন্ডসে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি হত্যা মামলার অভিযোগেই নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে লিন্ডসের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে। তবে আদালতে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘটনার সময় তার মানসিক সুস্থতা ও অপরাধের দায়ভার গ্রহণ করার ক্ষমতা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, লিন্ডসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং চরম নৃশংসতার সাথে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পক্ষান্তরে, আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী কেভিন রেডিংটন যুক্তি দেখান যে, লিন্ডসে তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিজের আচরণের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে করা এক দেওয়ানি মামলায় লিন্ডসে জানান, ঘটনার সময় তার মাথার ভেতরে একটি অদৃশ্য কণ্ঠস্বর তাকে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। লিন্ডসের ভাষ্যমতে, "আমি সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার শরীর আমার নির্দেশ ছাড়াই কাজ করছিল। আমি কেবল সেই আদেশের দাসত্ব করছিলাম।" আদালতে এই মামলার শুনানিতে মূল দৃষ্টি থাকবে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের বক্তব্যের ওপর। বিশেষজ্ঞরা লিন্ডসের গর্ভাবস্থা-পরবর্তী মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। ছয় থেকে আট সপ্তাহব্যাপী এই বিচার প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হলে লিন্ডসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি ম্যাসেচুসেটসের তিউকসবারি স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। মামলায় অন্যতম মূল সাক্ষী হতে যাচ্ছেন লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। ২০২৩ সালের সেই মর্মান্তিক দিনে তিনি টেক-আউট খাবার কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান। তবে নিজের স্ত্রীর প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রেখে প্যাট্রিক মনে করেন, লিন্ডসে এক মারাত্মক মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি কোনো রাক্ষস বা দানবকে বিয়ে করিনি—আমি এমন একজনকে ভালোবেসেছিলাম যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।" মামলার নথি থেকে জানা যায়, তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকেই লিন্ডসের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত তিনি একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং তাদের নির্দেশে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, সেডেটিভ ও অ্যান্টিসাইকোটিকসহ প্রায় এক ডজন ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ সেবন করেন। তিনি মানসিক চিকিৎসার জন্য দু'বার হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরবর্তীকালে চিকিৎসকরা তাকে 'পোস্টপার্টাম সিভিয়ার বাইপোলার ডিসঅর্ডার'-এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেন। লিন্ডসের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও মানসিক রোগের সঠিক নির্ণয় না হওয়ায় আজ তাকে এই ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের ক্ষেত্রে মানসিক অসুস্থতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে 'ইনস্যানিটি ডিফেন্স' বা 'অপরাধমূলক দায়মুক্তির' পক্ষে রায় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ড. জনি জনস্টন জানান, অপরাধের বিচারে উন্মাদনার অজুহাত খুব বিরল ক্ষেত্রেই আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়। তবে আদালত যদি লিন্ডসেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও দায়মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে, তবে তাকে কারাদণ্ডের বদলে আজীবন রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও হেফাজতে রাখা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০০১ সালে টেক্সাসের অ্যান্ড্রিয়া ইয়েটস নামে এক মা তার পাঁচ সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছিলেন। প্রথমে সাজা হলেও পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের পুনর্বিচারে মানসিক অসুস্থতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেন এবং মানসিক হাসপাতালে পাঠান। এছাড়া ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানকে গুলি করা জন হিঙ্কলি জুনিয়রকেও মানসিক অসুস্থতার কারণে আদালত খালাস দিয়েছিল। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অগ্রগতি সত্ত্বেও মাতৃত্বকালীন বা গর্ভাবস্থা-পরবর্তী চরম মানসিক বিষণ্ণতা ও মানসিক ব্যাধি কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার প্রক্রিয়াটি পুনরায় তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
স্কটল্যান্ডে তিন মাস বয়সী নিজের শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক মাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। অভিযোগ, তার অসতর্ক আচরণে হেয়ার ড্রায়ার থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ঘটনাটিকে 'কালপেবল হোমিসাইড' বা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে রায় দিয়েছে। স্কটল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতি এবং বিবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই নারীর নাম কোর্টনি গার্টশোর। তার তিন মাস বয়সী মেয়ে ডালিয়া-রোজ ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের পিটারহেডে মারা যায়। সম্প্রতি অ্যাবারডিনের আদালতে মামলার বিচার শেষে জুরি গার্টশোরকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচার চলাকালে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় গার্টশোর একটি হেয়ার ড্রায়ার চালু করেন। সেখান থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটির শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পরে গার্টশোর জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, তিনি তার ঘুমন্ত শিশুকে অস্বাভাবিক বেগুনি বর্ণের অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডালিয়া-রোজকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বিভিন্ন আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচার চলাকালে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জুরি রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে গার্টশোরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে জুরির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। স্কটল্যান্ড পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেমস ক্যালেন্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুরা সম্পূর্ণ অসহায় এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড়দের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত মর্মান্তিক, তবে একজন অভিভাবকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু আরও বেশি উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। আদালত জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্ট কোর্টনি গার্টশোরের সাজা ঘোষণা করা হবে। তখন আদালত মামলার সব দিক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবেন। ঘটনাটি স্কটল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং ঘরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক সাবেক ফেডারেল এজেন্টকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করার পর তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা জানিয়েছে, ইগান শহরের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী টিমোথি গ্রেগকে ৮৪ মাস বা সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ ছবি ও ভিডিও তৈরিতে এবং সেগুলো পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় গ্রেগ মিনেসোটায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) বিশেষ এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এফবিআইয়ের একটি যৌথ টাস্কফোর্সেও দায়িত্ব পালন করতেন। মামলার রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে এবং অপরাধী যে পদেই থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইসিইর পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ব্যাজ, পদ বা দায়িত্ব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। তার ভাষায়, এই মামলায় অভিযুক্তের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ ক্রিস্টোফার ডটসন বলেন, আদালতের এই রায় ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের জন্য অন্তত কিছুটা ন্যায়বিচারের অনুভূতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তারা আশা করছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্রেগ সরকারি দাপ্তরিক ই-মেইল ব্যবহার করে একটি হোটেল কক্ষ সংরক্ষণ করেছিলেন, যেখানে তার সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জানান, টুইন সিটিজ এলাকায় একটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল গ্রেগের। তবে সেই অভিযানে যোগ দেওয়ার আগের দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা, আদালতের নথি এবং এফবিআই ও আইসিইর বিবৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থে দাঁতের একটি নিয়মিত চিকিৎসা চলাকালে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এক দন্তচিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, চিকিৎসার আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর মাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ ঘটনায় দন্তচিকিৎসক ডা. ক্রিশেল হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ টেক্সাস জানিয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী ডা. ক্রিশেল হেমফিলকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রেপ্তারি নথিতে বলা হয়েছে, তিনি চার বছর বয়সী আইথানা আরিয়াগাকে মুখে খাওয়ানোর জন্য মেপেরিডিন (ডেমেরল) নামের একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের তরল দ্রবণ দেন। এর পাশাপাশি আরও দুটি সেডেটিভ এবং নাইট্রাস অক্সাইডও প্রয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল ফোর্ট ওয়ার্থের সাইকামোর স্কুল রোডে অবস্থিত কাডল কিডস ডেন্টাল কেয়ার ক্লিনিকে শিশুটির জিহ্বার নিচের টিস্যু সংশোধনের একটি নিয়মিত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। ক্লিনিকটির মালিক ডা. হেমফিল নিজেই ওই চিকিৎসা পরিচালনা করছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, চিকিৎসা শুরুর আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ওষুধগুলো ডা. হেমফিল নিজেই প্রয়োগ করেছিলেন। শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে ডা. হেমফিল তাকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিয়ে হৃদ্যন্ত্র সচল রাখার চেষ্টা (সিপিআর) শুরু করেন। পরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে থাকা আরেকজন দন্তচিকিৎসক এসে সিপিআর চালিয়ে যান। এরপর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তদন্তে যুক্ত ট্যারান্ট কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে যে পরিমাণ মেপেরিডিন পাওয়া গেছে, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও অনেক বেশি বলে বিবেচিত হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিশুটিকে ওষুধটি দুই দফায় দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আইথানা আরিয়াগার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেপেরিডিন বিষক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ডা. হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং মামলার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি টেক্সাসে শিশুদের দন্তচিকিৎসায় সেডেটিভ ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে সেডেটিভ ওষুধ ব্যবহারের সময় ওষুধের ধরন, মাত্রা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি। সূত্র: সিবিএস নিউজ টেক্সাস, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ট্যারান্ট কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের জনসন কাউন্টিতে কথিত একটি দেহব্যবসা ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগে সাবেক এক পুলিশ প্রধানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে গ্র্যান্ড জুরি। তদন্তসংশ্লিষ্ট আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের সম্পৃক্ততা ছিল। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের কাছ থেকে জব্দ করা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪ জানিয়েছে, বুধবার জনসন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। মামলাটি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়, টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি এবং সোমারভেল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়। অভিযোগ গঠন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মাইকেল কেচারসাইড, তার স্ত্রী অ্যাশলি কেচারসাইড, গডলি পুলিশের সাবেক প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেল, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট ও সলোমন ওমোটোয়া এবং জনসন কাউন্টি কারাগারের সাবেক সংশোধন কর্মকর্তা রেজিনা ক্যানট্রেল। আদালতের নথি অনুযায়ী, মাইকেল ও অ্যাশলি কেচারসাইডের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া মাইকেলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে দেহব্যবসা পরিচালনায় সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকা, দেহব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা, যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ এবং একজনকে অনুসরণ করে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট ও সলোমন ওমোটোয়ার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওমোটোয়ার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করার অভিযোগও রয়েছে। রেজিনা ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় গোপন সরকারি তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত হলফনামা অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে তদন্তকারীরা অ্যাশলি ও মাইকেল কেচারসাইডের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট এবং ইউএসবি ড্রাইভ জব্দ করেন। এসব ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, অ্যাশলি কেচারসাইড একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার ব্যবস্থা করতেন। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লোলা ব্রেয়া’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে একটি এসকর্ট-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশটও উদ্ধার করেছেন বলে দাবি করেছেন, যেখানে সাক্ষাতের পর অর্থ পরিশোধের তথ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের সেবার জন্য আলাদা অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, রাতভর সেবার জন্য ৫ হাজার ডলার, ৯০ মিনিটের জন্য ১ হাজার ৩০০ ডলার এবং এক ঘণ্টার জন্য ৬০০ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতো। এছাড়া ২০২৪ সালের একটি নোটে উল্লেখ রয়েছে, একজন গ্রাহক অ্যাশলি কেচারসাইডকে ডালাস স্টার্সের একটি আইস হকি খেলা দেখাতে নিয়ে যেতে প্রায় ৪ হাজার ডলার ব্যয় করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে এমন একাধিক বার্তা পাওয়া গেছে, যেখানে মাইকেল কেচারসাইড অ্যাশলির বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি ও যোগাযোগের সমন্বয় করতেন। জনসন কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি গুড এক বিবৃতিতে বলেন, এটি অত্যন্ত বিস্তারিত এবং এখনো চলমান একটি তদন্ত। মামলায় যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, তার কিছু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সদস্য হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নতুন তথ্য সামনে এলে তদন্তও এগিয়ে নেওয়া হবে। এই মামলার তদন্ত প্রথম প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল। সেদিন মাইকেল কেচারসাইড, সাবেক পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ ক্যানট্রেল এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সলোমন ওমোটোয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল অ্যাশলি কেচারসাইডকে অর্থপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও এর আগে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কেচারসাইড দম্পতির বাড়ি থেকেই কথিত এই কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং সেখানে গডলি পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সদস্য নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তদন্তে আরও অভিযোগ রয়েছে, কেচারসাইড দম্পতি ও ম্যাথিউ ক্যানট্রেল মিলে গডলি সিটি কাউন্সিল, স্থানীয় স্কুল বোর্ড এবং পুলিশ বিভাগের কয়েকজন সদস্যসহ যাদের প্রতিপক্ষ মনে করতেন, তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনাও করেছিলেন। প্রসঙ্গত, অ্যাশলি কেচারসাইড ২০২৩ সালেও আলোচনায় এসেছিলেন। তখন গডলি স্কুল জেলার যৌনশিক্ষা পাঠ্যক্রম নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি কমিটি থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, তার বিরুদ্ধে ২০১২ ও ২০১৬ সালে দেহব্যবসা-সংক্রান্ত দুটি দণ্ডাদেশের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এদিকে ম্যাথিউ ক্যানট্রেলের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নিজের দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক নারীকে হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগও আনা হয়েছে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জেরেমি আরবাথনট এবং মে মাসের শুরুতে সাবেক সংশোধন কর্মকর্তা রেজিনা ক্যানট্রেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং এটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সূত্র: ফক্স ৪, জনসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওর্থ ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (ফোর্ট ওর্থ আইএসডি) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দীর্ঘদিনের শিক্ষিকা ও প্রশাসক শাইমা আলজুবি। সম্প্রতি একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা অতীতের কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। এবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমান আইনি সুরক্ষার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার মুসলিম পরিচয় ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হওয়াও জেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে মামলায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাইমা আলজুবি দীর্ঘদিন ধরে ফোর্ট ওর্থ আইএসডিতে শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত মে মাসে তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জেলা কর্তৃপক্ষ। ফোর্ট ওর্থ আইএসডি জানায়, আলজুবির ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অতীতে করা কিছু পোস্ট নিয়ে তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের কারণেই তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত পোস্টগুলোর মধ্যে ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আন্দোলন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’-এর প্রতি সমর্থন, যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অবস্থায় আসা অভিবাসীদের সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা)’-এর পক্ষে মত এবং করোনা মহামারির সময় মাস্ক ব্যবহারের সমর্থনে লেখা পোস্ট। নিয়োগ বাতিলের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গত মে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক এবং কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় এক কমিউনিটি নেতা ফাদিয়া সালেম বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ‘৮১৭ পডকাস্ট’-এর ইজে ক্যারিয়নের ভাষ্য, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টই মূল সমস্যা। অথচ বাস্তবে অনলাইনভিত্তিক ডানপন্থী প্রভাবশালীদের চাপ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। এদিকে ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আলজুবি আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ওয়েস্টার্ন হিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী সমান আইনি সুরক্ষার অধিকার তার ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং অন্তত আংশিকভাবে তার মুসলিম পরিচয় এবং জাতিগত উৎস দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। অন্যদিকে ফোর্ট ওর্থ আইএসডি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কর্মী-সংক্রান্ত গোপনীয় বিষয়। তবে এক বিবৃতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শাইমা আলজুবিকে ‘প্রিন্সিপাল প্রোগ্রাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ নামে জেলা পর্যায়ের একটি নেতৃত্বের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই পদে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আলজুবির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই পদটি বাস্তবে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এবং আলজুবি সেটি গ্রহণ করেননি। তার লক্ষ্য আগের ঘোষিত প্রধান শিক্ষক পদেই ফিরে যাওয়া। এখন আদালত ফোর্ট ওর্থ আইএসডির জবাব পাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলার ফলাফল শুধু আলজুবির কর্মজীবন নয়, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বৈষম্য সংক্রান্ত বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। সূত্র: ফক্স ৪, আদালতের নথি এবং ফোর্ট ওর্থ আইএসডির বিবৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন। মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ছুটি কাটাতে গিয়ে নিহত হওয়া মার্কিন নাগরিক ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কিকে হত্যার দায়ে এক আইরিশ নাগরিককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে সাজা শেষ হলে তাকে হাঙ্গেরি থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ডব্লিউকেবিডব্লিউ ৭ নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বুদাপেস্ট মেট্রোপলিটন কোর্ট এই রায় দেন। নিহত ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কি (৩১) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফ্রেডোনিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি হাঙ্গেরিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর বুদাপেস্টের একটি নাইটক্লাব থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তার পরিবার নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সময় আশপাশের নাইটক্লাবগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, নিখোঁজ হওয়ার রাতে ম্যাকেঞ্জি এক ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন ক্লাবে ছিলেন। পরে সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ৭ নভেম্বর আটক করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাকে আদালতের নথিতে এল.টি.এম. নামে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, নাইটক্লাবে পরিচয়ের পর দুজন অভিযুক্তের ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে যান। সেখানে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সময় একপর্যায়ে অভিযুক্ত ম্যাকেঞ্জিকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি এটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও তদন্তকারীরা জানান, হত্যার পর তিনি ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রথমে অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করেন, পরে মরদেহ একটি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর একটি বড় স্যুটকেস কিনে মরদেহ সেটির মধ্যে রাখেন। এরপর একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে বালাটন হ্রদের কাছে সিজলিগেট এলাকার একটি বনাঞ্চলে মরদেহ ফেলে দেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত ইন্টারনেটে কীভাবে মরদেহ গোপন করা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তির মামলায় পুলিশের তদন্ত পদ্ধতি কী, মৃতদেহ প্রাণী খেয়ে ফেলে কি না এবং বালাটন হ্রদ এলাকায় বুনো শূকর রয়েছে কি না, এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। পুলিশ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরে অভিযুক্ত নিজেই তদন্তকারীদের মরদেহ ফেলে দেওয়া স্থানে নিয়ে যান। বিচার শেষে আদালত তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় অনুযায়ী, ইতোমধ্যে আটক অবস্থায় কাটানো প্রায় দেড় বছর এই সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া তাকে আদালতের ব্যয় বাবদ ২৫ লাখ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট (প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তের আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেডোনিয়া এবং হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে তার স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও হাঙ্গেরি উভয় দেশেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তিনি চারটি পৃথক ঘটনায় ৯ হাজার ১০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রসাধনী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS12-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দা লিয়ানা প্লাউ-এর বিরুদ্ধে পাম বিচ কাউন্টির বিভিন্ন উল্টা বিউটি (Ulta Beauty), লোয়েজ হোম ইমপ্রুভমেন্ট (Lowe's) এবং হোম ডিপো (Home Depot) শাখায় সংঘটিত চারটি চুরির ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই তাকে পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ওয়েলিংটনের একটি উল্টা বিউটি স্টোরে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সঙ্গে থাকা আরেক নারী দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রসাধনী ও তিনটি উচ্চমূল্যের চুলের স্টাইলিং যন্ত্র ব্যাগে ভরে মূল্য পরিশোধ না করেই বেরিয়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মোট মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৮৯ ডলার। পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ডাইসন এয়ারর্যাপ স্টাইলিং যন্ত্র মাটিতে পড়ে যায়, যার মূল্য ছিল ৬৪৯ দশমিক ৯৯ ডলার। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। এ ছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ ডিসেম্বর বোকা রাটনের একটি লোয়েজ স্টোর থেকে তিনি দুই সহযোগীকে নিয়ে ১০টি কোহলার ব্র্যান্ডের রান্নাঘরের কল চুরি করেন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা একটি ট্রলিতে কলগুলো তুলে বাগান বিভাগের বের হওয়ার পথ ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৪০ ডলার। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরে এসব পণ্য একটি হোন্ডা সিআর-ভি গাড়িতে তোলা হয়। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের এক প্রবেশন কর্মকর্তা নজরদারির ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। তিনি আগে থেকেই গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তদারকির সময় প্লাউকে চিনতেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও তার পরিচয় নিশ্চিত করে। এর মাত্র নয় দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর, রয়্যাল পাম বিচের আরেকটি লোয়েজ স্টোরে একই ধরনের আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, দোকানের পেছনের জরুরি বহির্গমন পথের অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর কর্মীরা বিষয়টি টের পান। নজরদারি ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী একাধিক কোহলার রান্নাঘরের কল নিয়ে সব ধরনের বিক্রয় কাউন্টার এড়িয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যান। পরে সেগুলো একটি রুপালি রঙের টয়োটা ক্যামরি গাড়িতে তোলা হয়। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৬৯৮ ডলার। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের দাবি, এই ঘটনাটি সংঘবদ্ধ খুচরা পণ্য চুরির একটি বড় চক্রের অংশ হতে পারে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের চুরি এবং প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের আরেকটি ঘটনায় দেখা যায়, ৮ ডিসেম্বর লান্টানার একটি হোম ডিপো শাখা থেকে লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী প্রবেশমুখের কাছে রাখা মিলওয়াকি ব্র্যান্ডের পাঁচটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়ে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। এসব পণ্যের মূল্য ছিল ৪৯৫ ডলার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ছোট পরিসরের চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ল্যাট্রিস হোয়াইট নামে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে একাধিক মামলায় সহ-আসামি হিসেবে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন দোকান থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য পরিকল্পিতভাবে চুরি করার ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল ও একই ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই লিয়ানা প্লাউকে চারটি পৃথক চুরির মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখন আদালতে চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।