আদালত

ফুড স্ট্যাম্পে সোডা-ক্যান্ডি কেনার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত
ফুড স্ট্যাম্পে সোডা-ক্যান্ডি কেনার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে আদালতের বাধা

যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (এসএনএপি) বা ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা ব্যবহার করে চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় কেনার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত।   সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক অ্যামি বারম্যান জ্যাকসন রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ফেডারেল আইনের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলোর এমন অনুরোধ অনুমোদনের ক্ষমতা রাখে না। ফলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এসএনএপি সুবিধাভোগীদের জন্য কার্যকর হতে যাওয়া খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আপাতত বাস্তবায়ন করা যাবে না।   মামলাটি করেছিলেন কলোরাডো, আইওয়া, নেব্রাস্কা, টেনেসি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার পাঁচজন এসএনএপি সুবিধাভোগী। তাদের অভিযোগ ছিল, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে এবং অনেক পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহে সমস্যার মুখে পড়বে।   আদালতে দাখিল করা নথিতে বাদীরা উল্লেখ করেন, তাদের কেউ কেউ ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার কারণে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। আবার কারও ক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজের জন্য অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন মেটাতে এসব পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   এর আগে ইউএসডিএ ২৩টি অঙ্গরাজ্যকে বিশেষ অনুমতি বা ‘ওয়েভার’ দিয়েছিল, যার মাধ্যমে এসএনএপি সুবিধা ব্যবহার করে সফট ড্রিংক, ক্যান্ডি এবং অন্যান্য উচ্চ-চিনিযুক্ত পণ্য কেনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় শুরু হওয়া এবং পরে ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (মাহা) উদ্যোগের অংশ হিসেবে আলোচিত এই নীতিকে সমর্থন দিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র।   রায়ে বিচারক জ্যাকসন বলেন, সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলো জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উৎসাহিত করতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইন এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক বিধিমালা লঙ্ঘন করা যাবে না।   আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিসের আইনজীবী ক্যাথারিন ডিবলার-মিডোস বলেন, আদালতের রায় দেশজুড়ে এসএনএপের ওপর নির্ভরশীল লাখো পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় অগ্রগতি।   অন্যদিকে ইউএসডিএ রায়ের পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর খাবার কেনা নিরুৎসাহিত করার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছে না।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ এসএনএপি কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। কর্মসূচিটি ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হলেও এর বাস্তবায়নে অঙ্গরাজ্য সরকারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আদালতের সর্বশেষ রায়ের ফলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হলো।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ৩ সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা নিজের অপরাধ স্বীকার করলেন

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে নিজের তিনটি সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সি অবশেষে আদালতের শুনানিতে নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত ট্রায়ালের আগে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে তার আইনজীবী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্লাইমাউথ আদালতের শুনানিতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে হুইলচেয়ারে করে হাজির করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে গুরুতর আহত হয়ে প্যারালাইজড হয়ে যান তিনি। বর্তমানে তিনি একটি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক নার্সদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সেখান থেকেই তাকে দীর্ঘ ৬৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আদালতে আনা হয়।   মামলার বিবরণ ও প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এক শীতকালীন রাতে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যাঞ্চি যখন পরিবারের জন্য রাতের খাবার আনতে বাইরে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগে লিন্ডসে ঘরে থাকা তার তিন সন্তানকে হত্যা করেন। শুনানি শেষে লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন সাংবাদিকদের বলেন, "সে নিজের অপরাধের সম্পূর্ণ দায় নিয়েছে এবং এটি স্বীকার করেছে। সে কোনো কিছু থেকে পালিয়ে যাচ্ছে না। পুরো ঘটনাটি একটি চরম ট্র্যাজেডি।"   আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়ে ডিফেন্স আইনজীবী আরও জানান, সেই রাতে বাচ্চাদের মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল তা নিয়ে কোনো পক্ষেরই দ্বিমত নেই, তবে মূল বিতর্ক হচ্ছে কেন এটি ঘটেছিল। বিবাদী পক্ষ লিন্ডসের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আদালতে তুলে ধরবে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে সন্তান জন্মদানের পরবর্তী মারাত্মক মানসিক সমস্যার (Postpartum Mental Health Issues) কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডগুলো সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।   এদিকে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, নিহত তিন শিশুর বাবা এবং লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি এই ট্রায়ালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দেবেন। একই সঙ্গে প্যাট্রিকের করা সেই ভয়াবহ ৯১১ জরুরি কলটির অডিও রেকর্ড জুরিদের সামনে বাজানোর অনুমতি চেয়েছেন তারা, যেখানে তিনি ঘরে ফিরে বাচ্চাদের নিথর দেহ আবিষ্কার করেছিলেন। বিচারক সালিভান পুরো অডিওটি নিজে শুনে চূড়ান্ত ট্রায়ালে তা বাজানোর অনুমতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।   শুনানিতে লিন্ডসের বাবা-মা এবং বোনের আদালতে উপস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। এছাড়া লিন্ডসের সেই সাবেক বাড়ির বর্তমান মালিক জুরিদের অপরাধস্থল পরিদর্শনে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানালেও বিচারক তা নাকচ করে দেন এবং ট্রায়ালের সময় জুরিদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি দেন। আগামী ১৩ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং ২০ জুলাই জুরি নির্বাচনের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে পরবর্তী চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
অফিসের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্ক ও মিথ্যা বলার দায়ে ক্ষমা চাইলেন আমেরিকার নারী বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের এজলাস বা চেম্বারের ভেতরে এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে তদন্তকারীদের কাছে এই বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন জেলা বিচারক এলিনর রস অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজের এক সাবেক আইন সহকারীর (ল ক্লার্ক) কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি নিজের এই কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিকর, আপত্তিকর এবং চরম অপেশাদার আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা গত বৃহস্পতিবারের ডেট সম্বলিত ওই চিঠিতে বিচারক এলিনর রস স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, তাঁর নেওয়া সেই পদক্ষেপগুলো স্পষ্টতই ভুল ছিল এবং নিজের এমন আচরণের পক্ষে দেখানোর মতো কোনো অজুহাত তাঁর কাছে নেই। গত বছর ১১তম জুডিশিয়াল সার্কিটের প্রধান বিচারকের নির্দেশে শুরু হওয়া এক তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক মনোনীত এই ফেডারেল বিচারক আদালতের কাজের সময় নিজের চেম্বারেই এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতেন, যা আদালতের অন্যান্য কর্মচারীদের কানেও পৌঁছাত।   তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক এলিনর রসের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রথম সবার সামনে নিয়ে আসেন তাঁরই এক ল ক্লার্ক বা আইন সহকারী। অভিযোগ ওঠার পর প্রথমদিকে বিচারক রস তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং প্রধান বিচারকের কাছে দাবি করেন যে, অফিসে বেশি কাজ করানোর প্রতিশোধ নিতেই হয়তো সেই আইন সহকারী এই ধরনের মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন। তবে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে আদালতের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রবেশ লগে দেখা যায়, দুপুরের খাবারের সময় প্রায়ই ইউনিফর্ম পরিহিত ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিচারকের চেম্বারে যাতায়াত করতেন।   পরবর্তীতে তদন্তে সব প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর এলিনর রসকে একটি ‘ব্যক্তিগত তিরস্কার’ করা হয় এবং শাস্তি হিসেবে তাঁকে ভবিষ্যতে আদালতের প্রধান বিচারক পদের দৌড়ে অংশ না নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। একই সাথে তাঁর অধীনে কাজ করা ছয়জন সাবেক আইন সহকারীর কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিজের বর্তমান চিঠিতে বিচারক রস তাঁর পূর্বের করা মিথ্যা অভিযোগের জন্য সাবেক সেই কর্মীর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা পাল্টা অভিযোগ আনার জন্য তিনি আজ গভীরভাবে অনুতপ্ত।   তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে, বিচারক রস নিজের কাজের প্রতিও উদাসীন ছিলেন এবং আইন সহকারীদের তৈরি করা দেওয়ানি মামলার খসড়া আদেশগুলো তিনি নিজে খুব একটা সংশোধন বা তদারকি করতেন না। এছাড়া একবার এক জেলা অ্যাটর্নির নির্বাচনী বিজয় উৎসবে যোগ দিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারণে পরদিন আদালতে আসা ইন্টার্নদের সাথে দুপুরের খাবার খেতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আমেরিকার আইন অনুযায়ী ফেডারেল বিচারকরা আজীবন মেয়াদে নিযুক্ত হন এবং কেবল কংগ্রেসের অভিশংসনের মাধ্যমেই তাদের অপসারণ করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে জর্জিয়ার দুজন কংগ্রেস সদস্য বিচারক এলিনর রসের বিরুদ্ধে পৃথক অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম চৌধুরী
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম চৌধুরী গ্রেপ্তার দেখানো

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা একটি মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।   বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ফাহিম চৌধুরীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।   এর আগে গত ৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপরিদর্শক আমির হামজা আদালতে আবেদন করেন, যাতে ফাহিমকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত তখন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৪ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।   তদন্ত সংস্থার আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের সঙ্গে আর এস ফাহিম চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা মডেল থানার আওতাধীন রমনা পার্ক এলাকায় একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সংলগ্ন ওই পার্কে এ বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বৈঠকের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।   এই ঘটনায় রমনা থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।   তদন্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, আর এস ফাহিম চৌধুরীকে এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগে তাকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে গত ২৯ মার্চ বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা ও একদল শিক্ষার্থী তাকে আটক করে শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে সেখান থেকে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন ৩০ মার্চ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা গুলশান থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
হাম-রুবেলা টিকা সংকট নিয়ে ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

হাম ও রুবেলা টিকা সময়মতো আমদানি না করার অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত পর্যাপ্ত প্রাথমিক উপাদান না পাওয়ায় আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদেশ দেন।   আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন এবং পরে তা খারিজ করেন।   মামলার আবেদনে ড. ইউনূস ছাড়াও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরের নাম উল্লেখ করা হয়।   অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বে অবহেলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশে হাম-রুবেলা টিকার সংকট তৈরি হয়, যার ফলে বহু শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বাদীপক্ষের দাবি, এই অবহেলার কারণে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশু ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় টিকার সরবরাহ ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ করা হয়।   এছাড়া ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।   মামলার আবেদনে দাবি করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে এ সময় প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।   যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি, ফলে মামলার আবেদন খারিজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি বা প্রশাসনিক পর্যায়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে।

নীলুফা নিশাত জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার মামলার এক নম্বর আসামি মঈন উদ্দিন।
হাসপাতালকে ঘিরে চাঁদাবাজি: চার আসামিকে রিমান্ডে পাঠাল আদালত

কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে চারজনকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে তাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন।   এর আগে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় বিস্তারিতভাবে পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।   অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে নিজেদের যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।   ঘটনার পর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হানিফ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।   এদিকে, ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর যুবদলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরদিন বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন পেলেন

জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।   রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত আসামি পক্ষের আবেদন শুনে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।   প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিস্তারিত আসছে…

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানে এক নারীর কা’রাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানে এক নারীর কারাদণ্ড

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন এমন অভিযোগে এক নারীকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কানেকটিকাটের একটি ফেডারেল আদালত। কানেকটিকাটে বসবাসকারী ওই নারী বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলেন বলে মিথ্যা তথ্য দেন।   কোনো এক সময়ে বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধী নাদা রাদোভান তোমানিচ হার্টফোর্ড থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যান, কিন্তু দূরত্বও তাকে তার কর্মকাণ্ডের পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ৫৩ বছর বয়সী নাদা রাদোভান তোমানিচকে বুধবার ব্রিজপোর্ট ফেডারেল আদালত আড়াই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ডেভিড সুলিভান-এর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১২ সালে হার্টফোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তার অপরাধমূলক অতীত গোপন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশকে বসনিয়া যুদ্ধের সময় তোমানিচ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সেনাবাহিনী-এর ‘জুলফিকার স্পেশাল ইউনিট’-এ দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ও তার ইউনিটের অন্য সদস্যরা বসনিয়ান সার্ব বেসামরিক বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান, যার মধ্যে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নাগরিকত্বের আবেদনকালে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো আটক কেন্দ্রে কাজ করেননি বা কাউকে আটক রাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এমনকি তিনি কোনো যুদ্ধাপরাধেও জড়িত ছিলেন না বলে শপথ করে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) -এর কর্মকর্তার সামনে সাক্ষাৎকারের সময়ও তিনি শপথ নিয়ে এসব তথ্য অস্বীকার করেন। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তিনি অবৈধভাবে নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। রায় ঘোষণার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, বহু বছর পর হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার তদন্তকারীদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এফবিআইয়ের নিউ হ্যাভেন ফিল্ড অফিস-এর কর্মকর্তারা জানান, এই মামলাটি শুধু নাগরিকত্ব আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয় নয়; বরং তার অতীতের সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ও ছিল। এই মামলাটি তদন্ত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সমন্বয় সহায়তা দেয় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ-এর হিউম্যান রাইটস ভায়োলেটরস অ্যান্ড ওয়ার ক্রাইমস সেন্টার (এইচআরভিডব্লিউসিসি) এবং মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর ফ্রড ডিটেকশন অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি (এফডিএনএস) অফিস, পাশাপাশি এফবিআই-এর ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইউনিট (আইএইচআরইউ)। এই তদন্তে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কর্তৃপক্ষকে—বিশেষ করে তাদের বিচার মন্ত্রণালয় ও রিপাবলিকা সার্পস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষসহ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি ট্রাইব্যুনালের অবশিষ্ট প্রক্রিয়া-কে ধন্যবাদ জানিয়েছে, যারা তদন্ত এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। মামলাটি পরিচালনা করেন ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশন্স সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি এলিজাবেথ নিলসেন এবং কানেকটিকাট জেলার সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি আনাস্তাসিয়া কিং ও অ্যাঞ্জেল ক্রুল, এইচআরএসপি ইতিহাসবিদদের সহায়তায়। এছাড়া, বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও এ মামলায় সহযোগিতা করেছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিখ্যাত মার্কিন হিপ-হপ তারকা এবং মিউজিক মোগল শন ‘দিদি’ কম্বস
কারামুক্তির আশায় আদালতে আপিল শন দিদি কম্বস

বিখ্যাত মার্কিন হিপ-হপ তারকা এবং মিউজিক মোগল শন ‘দিদি’ কম্বসকে কারাগার থেকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং তার সাজার রায় বাতিলের দাবিতে আজ ফেডারেল আপিল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তার আইনজীবীরা। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, দিদির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত ব্যক্তিগত ও শৌখিন বিনোদনের অংশ ছিল, যা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। গত বছরের জুলাই মাসে একটি দীর্ঘ আট সপ্তাহের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দিদি দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগগুলো ছিল তার তৎকালীন বান্ধবী ক্যাসি ভেনচুরা এবং ছদ্মনামধারী আরেকজন নারীর সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার জন্য যৌনকর্মীদের (Escorts) যাতায়াতের ব্যবস্থা করা। এর ফলে গত অক্টোবর মাসে তাকে ৫০ মাসের কারাদণ্ড দেন জেলা বিচারক অরুণ সুব্রামানিয়ান। বর্তমানে তিনি নিউ জার্সির ফোর্ট ডিক্স ফেডারেল কারাকেন্দ্রে বন্দি আছেন। আজকের শুনানিতে দিদির আইনজীবী আলেকজান্দ্রা শাপিরো এবং তার দল যুক্তি দেন যে, এই ঘটনাগুলো মূলত ‘ভয়ারিজম’ (Voyeurism) বা ‘অ্যামেচার পর্নোগ্রাফি’র অংশ ছিল। তাদের মতে, এটি কোনো অপরাধমূলক পাচার নয়, বরং পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি করা ভিডিও। আইনজীবীরা দাবি করেন, জেলা আদালত সাজা প্রদানের সময় দিদির সেই সব আচরণের কথা বিবেচনা করেছে যা থেকে তিনি মূল বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন (যেমন: সেক্স ট্রাফিকিং এবং র‍্যাকেটিয়ারিং)। তারা একে একটি ‘অযৌক্তিক’ ও ‘কঠোর’ সাজা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারি কৌঁসুলিরা এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, দিদি তার ক্ষমতা ও মাদক ব্যবহার করে নারীদের এই ভিডিও বা ‘ফ্রিক অফ’ সেশনে বাধ্য করতেন। প্রসিকিউটররা এই সাজার মেয়াদ বহাল রাখার পক্ষে অটল অবস্থান নিয়েছেন। দিদি শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন এবং ক্যাসি ভেনচুরার কাছে তার অতীত আচরণের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। আজ আপিল আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে দিদি আগামী ২০২৮ সালের নির্ধারিত তারিখের আগেই মুক্তি পাবেন কি না। যদি আপিল আদালত আইনজীবীদের যুক্তি গ্রহণ করে, তবে দিদির সাজা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে অথবা তিনি সরাসরি কারামুক্তি পেতে পারেন। তবে আদালত এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন জগতের অন্যতম প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিচারিক লড়াই এখন বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। সংগৃহীত ছবি
টিউলিপসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলায় ১৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠন

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।   মামলাটি বিচারযোগ্য হওয়ায় এটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।   সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, আসামিদের হাজিরার জন্য গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় নতুন আদালতে পাঠানো হয়েছে।   এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত এই দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর টিউলিপকে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির অনুমতি চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর ৮ মার্চ সরকারি গেজেট প্রকাশ করে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই গুলশান-২ এলাকায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড-এর একটি ফ্ল্যাট নিজেদের দখলে নেন এবং পরে তা রেজিস্ট্রি করেন।   এই অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে টিউলিপ ও মোশাররফের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।   উল্লেখ্য, এর আগে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে করা পৃথক তিন মামলায় টিউলিপের দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আদালতের যুগান্তকারী রায়: ফ্রান্সে মুসলিম মহাসমাবেশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাতিল

প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশাল এক বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের পথ প্রশস্ত হলো। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে এই সমাবেশের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির একটি প্রশাসনিক আদালত।  আজ নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে আদালত এই রায় প্রদান করেন, যা ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার রক্ষায় একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্যারিস পুলিশ বিভাগ দাবি করেছিল, চার দিনব্যাপী এই ‘অ্যানুয়াল এনকাউন্টার অব মুসলিমস অব ফ্রান্স’ চরমপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং এতে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। তবে আয়োজক সংস্থা ‘মুসলিমস অব ফ্রান্স’ (এমএফ) এই নিষেধাজ্ঞাকে মৌলিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত রায়ে স্পষ্ট করে বলেছে যে, পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পেশ করা সম্ভব হয়নি যা দিয়ে প্রমাণ হয় যে সমাবেশটিতে বড় কোনো হামলার ঝুঁকি রয়েছে বা এটি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, আয়োজকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তাই পুলিশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার অজুহাতটিও গ্রহণযোগ্য নয়। ২০১৯ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনটি ইউরোপের অন্যতম বড় মুসলিম মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত, যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ফরাসি সরকারের নতুন 'বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী' আইনের প্রেক্ষাপটে এই আইনি লড়াইটিকে দেশটির গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবীদের ফি নিয়ে জটিলতা: ফের নিউ ইয়র্কের আদালতে নিকোলাস মাদুরো

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আজ বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে পুনরায় হাজির হচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক ঝটিকা অভিযানে আটক হওয়ার পর এটি তাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আদালত হাজিরা। তবে এবারের শুনানির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিশেষ আইনি বিতর্ক— মাদুরোর আইনজীবীদের ফি কে প্রদান করবে? ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন কমান্ডোদের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে সস্ত্রীক আটক হন নিকোলাস মাদুরো। এরপর তাদের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস (Narco-terrorism), যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে শুরু থেকেই মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন এবং নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবন্দি’ (Prisoner of War) হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাদুরোর প্রধান আইনজীবী ব্যারি পোলাক আদালতকে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার মাদুরোর আইনি লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অর্থের জোগান বন্ধ করে দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর আইনি খরচ মেটাতে চাইলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পোলাক অভিযোগ করেন যে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (OFAC) প্রথমে এই অর্থ গ্রহণের অনুমতি দিলেও মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাতিল করে দেয়। আইনজীবীদের দাবি, এর ফলে মাদুরোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকারকে ফি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে ব্যারি পোলাক এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে জানিয়েছেন, মাদুরোর ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভেনেজুয়েলা সরকারের কোনো রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এই ফি নেওয়া আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, মাদুরো এখন আর ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান নন, তাই তিনি এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আজকের শুনানিতে বিচারপতি আলভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর আইনজীবীদের এই আবেদন নিয়ে শুনানি করবেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীদের ফি দিতে ব্যর্থ হন, তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী তাকে আদালত থেকে সরকারি আইনজীবী (Public Defender) নিয়োগ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটছে একসময়ের প্রতাপশালী এই নেতার। মাদুরো এবং তার স্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সারা বিশ্বের নজর এখন নিউ ইয়র্কের এই আদালতের দিকে, কারণ আধুনিক ইতিহাসে কোনো দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করে অন্য দেশে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনা বিরল।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ফাইল ছবি
মানবপাচার মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড

সাবেক সংসদ সদস্য ও এক/এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মানবপাচার মামলায় তাকে এ রিমান্ডে নেওয়া হয়।   মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এই আদেশ দেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।   সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে।   ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ ঢাকায় পাঁচটি এবং ফেনীতে ছয়টি মামলা রয়েছে। ফেনীর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।   এক/এগারো সরকারের সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অবসরের পর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।   অবসরের পর জনশক্তি রপ্তানি খাতে যুক্ত থাকার সময় মানবপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মানহানি মামলায় ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিকের জামিন

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ মঞ্জুর করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন হাসানুল হক ইনুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতে হাজির করা হয়। পাশাপাশি কারাগারে থাকা অপর দুই আসামি রাশেদ খান মেনন ও বিচারপতি মানিককেও আদালতে উপস্থিত করা হয়। শুনানি শেষে ইনুকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মেনন ও মানিককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আইনজীবী জিয়াউল হক বাদী হয়ে এই মানহানি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালে একটি টেলিভিশন টক শোতে বিচারপতি মানিক জিয়াউর রহমানকে 'রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী' হিসেবে অভিহিত করেন এবং ২০২১ সালের একটি সেমিনারে তাকে 'মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী' বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়াও ২০১৩ সালে পৃথক অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার সম্পর্কে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0