সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আদালত

অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে দ্রুত পাঠানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা এসেছে। বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে, কোনো অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে কার্যকরভাবে জানাতে হবে এবং সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে।   গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বেআইনি বলে বহাল রেখেছে। মামলাটি মূলত এমন অভিবাসীদের নিয়ে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু সরকার তাদের সেই আদেশে উল্লেখ করা হয়নি এমন দেশে পাঠাতে চায়।   সহজভাবে বললে, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাকে গ্রহণে রাজি অন্য দেশে পাঠাতে পারে। এটিই সাধারণভাবে ‘তৃতীয় দেশে পাঠানো’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নতুন রায়ের মূল প্রশ্ন হচ্ছে—সেই ব্যক্তিকে কোথায় পাঠানো হবে তা আগে না জানিয়ে এবং সম্ভাব্য বিপদের কথা জানানোর যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে সরকার দ্রুত তাকে পাঠিয়ে দিতে পারবে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা থাকতে হবে।   মামলাটি ২০২৫ সালের মার্চে চারজন অ-নাগরিকের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের নতুন নীতিতে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ থাকা ব্যক্তিদের এমন দেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যেসব দেশের নাম তাদের আগের অপসারণ আদেশে ছিল না। একই সঙ্গে সেই দেশে গেলে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল না বলে তারা অভিযোগ করেন।   এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কোনো গ্রহণকারী দেশ কূটনৈতিকভাবে নিশ্চয়তা দিলে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিদের সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতন করা হবে না, সেই নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করার সুযোগ ছিল ওই নীতিতে। পরবর্তী সময়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আরও একটি নির্দেশনা দিয়ে নীতিটির প্রয়োগ স্পষ্ট করে।   কিন্তু অভিবাসীদের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, একটি দেশের সাধারণ কূটনৈতিক নিশ্চয়তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। কারণ একজন ব্যক্তির জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতামত কিংবা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে কোনো দেশে আলাদা ঝুঁকি থাকতে পারে। একইভাবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্যাতনের ব্যক্তিগত আশঙ্কাও থাকতে পারে। মার্কিন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন দেশে কাউকে পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অধীনেও নির্যাতনের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশে কাউকে পাঠানো নিয়ে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের নথিতে এই দুই ধরনের আশঙ্কার ভিত্তিতে করা দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   আপিল আদালতের বিচারক সেথ আফ্রামে রায়ের ব্যাখ্যায় মূল সমস্যাটি তুলে ধরেছেন। আদালতের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হবে তা আগে জানানো না হলে সেই দেশে নিপীড়নের আশঙ্কার ভিত্তিতে অপসারণের বিরোধিতা করার অধিকার বাস্তবে খুব কমই কার্যকর থাকে। তাই গন্তব্য সম্পর্কে আগাম কার্যকর নোটিশ এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রয়োজন।   এর আগে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল জেলা আদালতও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। সেই আদালত বলেছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে গন্তব্য জানাতে হবে এবং সেই দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। পরে বিষয়টি আপিল আদালতে যায়।   মামলাটি এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্তও পৌঁছেছিল। আগের একটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ আদালত জেলা আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল। এরপর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাকে বেআইনি ঘোষণা করে। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরকার প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে যায়।   ১৮ সেপ্টেম্বরের রায়ে আপিল আদালত জেলা আদালতের সব যুক্তি অবশ্য বহাল রাখেনি। তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সরকারকে প্রথমে অভিবাসীর মনোনীত দেশ বা নাগরিকত্বের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে—এ সংক্রান্ত জেলা আদালতের দুটি ঘোষণামূলক সিদ্ধান্ত মামলাকারীদের আইনি অবস্থানসংক্রান্ত কারণে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ কার্যকর নোটিশ এবং নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কার ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বহাল রেখেছে আপিল আদালত।   আদালত স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ২০২৫ সালের মার্চ ও জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাও প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে বেআইনি হিসেবে বাতিল করার জেলা আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। অর্থাৎ সরকার তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি; বরং ওই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কারাগারে বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনায় আলশেখকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড
সিরিয়ায় বন্দিদের নি র্যাতন, সাবেক আসাদ কর্মকর্তার ৬০ বছরের কারাদণ্ড সাজা দিল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বন্দিদের নি র্যাতনের দায়ে দেশটির এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালত সামির উসমান আলশেখকে এই সাজা দেন।   আলশেখ ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার কুখ্যাত আদরা কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি তাকে নি র্যাতনের ষড়যন্ত্রের এক অভিযোগ এবং নি র্যাতনের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে প্রমাণ হয়, কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দিকে নি র্যাতনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এতে সরাসরি অংশও নিয়েছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে আলশেখ কিছু বন্দিকে আদরা কারাগারের একটি বিশেষ অংশে পাঠাতেন। সেখানে তাদের ছোট ছোট একাকী কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে নি র্যাতন করা হতো। দুই সপ্তাহের বিচার চলাকালে তিনজন ভুক্তভোগী আদালতে তাদের ওপর চালানো নি র্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ছাদের পাইপের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হতো। এছাড়া শরীর ভাঁজ করে ফেলার মতো একটি যন্ত্র ব্যবহার করেও নি র্যাতন করা হয়েছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, আলশেখ জানতেন তার কর্মকাণ্ড বেআইনি ও ভুল ছিল। তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বন্দিদের ওপর নি র্যাতনের নির্দেশ দেন এবং তাতে অংশ নেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির কারাগারগুলোতে ব্যাপক নি র্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, হাজার হাজার মানুষকে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আটক রাখা হয়েছিল। আলশেখ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে নাগরিকত্বের আবেদন করেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তিনি নিজের অতীত সম্পর্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নি র্যাতনের মামলার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড নেওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা আলশেখের জন্য কমপক্ষে ৮০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা পাঁচ বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি দেন, আলশেখের বয়স ৭৪ বছর এবং তার গুরুতর শারীরিক ও জ্ঞানগত সমস্যা রয়েছে। তারা আরও জানান, সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে তিনি সেখানে নতুন সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তবে এরপরও দেশটিতে বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের অভিযোগ
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের চেষ্টা, লাস ভেগাসের পুলিশ কর্মকর্তা ও স্ত্রী হেফাজতে

লাস ভেগাসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দামী পণ্য ও গিফট কার্ড কেনার পর সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লেনদেন বাতিলের আবেদন করতেন। অভিযোগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার ঘটনাও রয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আন্তোনিও শ্যাভেজ, বয়স ২৮ বছর। তাঁর স্ত্রী ক্লদিয়া গুজম্যান-মারকেজের বয়স ৩০ বছর। লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা শ্যাভেজ ২০২০ সাল থেকে বিভাগটিতে কর্মরত। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত কথিত অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি নিজেদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দামি পণ্য ও গিফট কার্ড কিনতেন। পরে কার্ড বা ওয়ালেট হারিয়ে বা চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কাছে ওই লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানাতেন। এতে পণ্য নিজেদের কাছে রেখেই অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ মে সাউথ লাস ভেগাস বুলেভার্ডের টাউন স্কয়ার কনসিয়ার্জ থেকে দম্পতি ১৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের গিফট কার্ড কেনেন। পরে তাঁরা ক্যাপিটাল ওয়ান ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের কাছে ওই লেনদেন নিয়ে অভিযোগ করেন। শ্যাভেজ একটি অ্যাপল স্টোরে ১ হাজার ২০০ ডলারের বেশি মূল্যের কেনাকাটা নিয়েও আপত্তি জানান এবং তাঁর ওয়ালেট হারিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। একই সময়ে গুজম্যান-মারকেজের বিরুদ্ধেও একাধিক দামী কেনাকাটার পর লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, দুটি লুই ভুইটন থেকে করা কেনাকাটার মূল্যই ছিল ১১ হাজার ডলারের বেশি। কথিত অনিয়মের ঘটনা নেভাদা ছাড়িয়ে ক্যালিফোর্নিয়াতেও পৌঁছায়। নিউপোর্ট বিচের ফ্যাশন আইল্যান্ডে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ওই গিফট কার্ড ব্যবহার করে লাস ভেগাসের একটি গাড়ির দোকান ও আরিতজিয়া স্টোর থেকে কেনাকাটা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শ্যাভেজ নিজের কার্ড চুরি যাওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হেন্ডারসন পুলিশ ডিপার্টমেন্টে একটি ভুল তথ্যসম্বলিত রিপোর্টও করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, তদন্তকারীদের কাছে শ্যাভেজ তাঁর স্ত্রী এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তৃতীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথিত আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর আইনজীবী শ্যাভেজের নির্দোষ থাকার সাংবিধানিক অধিকার এবং তাঁর আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসের আদালতে শ্যাভেজ হাজির হলে প্রসিকিউশন তাঁর জন্য ১ লাখ ডলার নগদ জামিন এবং গৃহবন্দিত্বের আবেদন করে। তবে বিচারক রেবেকা স্যাক্স সেই আবেদন নাকচ করেন। শ্যাভেজের আগের কোনো অপরাধের ইতিহাস না থাকা, স্থানীয়ভাবে তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং অভিযোগগুলো সহিংস ধরনের না হওয়াকে বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে নগদ জামিন ছাড়াই মুক্তির নির্দেশ দেন। শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রী দুজনকেই ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। দম্পতির বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ১ লাখ ডলারের কম মূল্যের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগ, সম্পদ আত্মসাৎ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের বিষয়ে যোগসাজশ এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রীকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালকের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল
ছুরি দেখিয়ে নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালকের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক ট্যাক্সিচালক গুরমিত সিংয়ের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ২০১১ সালে ট্যাক্সিতে এক নারী যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ওই অপরাধের তথ্য গোপন করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত গত ২৬ আগস্ট সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের আদেশ দেন। বিচার বিভাগ সোমবার, ৩১ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে।   গুরমিত সিং ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয় মাসের অস্থায়ী ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে কয়েক বছর অনুমোদনহীনভাবে দেশটিতে থাকার পর পারিবারিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০০ সালের জুনে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মে মাসে, মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার কয়েক সপ্তাহ আগে, সিং ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। এক নারী যাত্রী ট্যাক্সিতে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি তাকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যান যেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। ঘুম থেকে উঠে ওই নারী দেখতে পান, সিং তার ওপর চেপে বসে আছেন এবং তার গলায় ছুরি ধরে রেখেছেন।   এরপর সিং ওই নারীকে বেঁধে ও মুখ বন্ধ করে ধর্ষণ করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভোরে ওই নারী ট্যাক্সি থেকে পালিয়ে রাস্তায় গিয়ে সাহায্য চান।   অপরাধের কয়েক মাস পরও সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গোপন রাখেন। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে তিনি প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ এবং যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।   চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের জন্য মামলা করে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ফেডারেল আদালত তার নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, নাগরিকত্ব অপরাধীদের জন্য কোনো সুরক্ষা নয়। বিচার বিভাগের ভাষ্য, সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করায় তিনি আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।   আদেশ অনুযায়ী, সিংকে তার ভুলভাবে পাওয়া নাগরিকত্বের নথি হস্তান্তর করতে হবে। তিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নাগরিকত্ব বাতিলের পর কারাদণ্ড শেষ হলে তার অভিবাসন সংক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায়  অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন
ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন

মিনেসোটায় গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে মিনেসোটায় হস্তান্তর ঠেকাতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বুধবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের ফেডারেল বিচারক ফার্নান্দো রদ্রিগেজ জুনিয়র এই সিদ্ধান্ত দেন। ফলে ৯০ দিনের আটকসীমা শেষ হওয়ায় কাস্ত্রোর টেক্সাসের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।   ৫২ বছর বয়সী কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্টের চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে একটি ইমিগ্রেশন অভিযান চলাকালে গুলির ঘটনায়। ওই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিস পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।   মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর গত ২৯ মে টেক্সাস রেঞ্জার্স তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি ক্যামেরন কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। তবে মিনেসোটার বারবার অনুরোধের পরও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করেননি।   মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, কাস্ত্রোকে মুক্তি না দিয়ে তাকে মিনেসোটায় পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টেক্সাসকে বাধ্য করা হোক। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, মুক্তি পেলে কাস্ত্রো পালিয়ে যেতে পারেন।   তবে বিচারক রদ্রিগেজ বলেন, টেক্সাসের গভর্নর অ্যাবট এখনো কাস্ত্রোর প্রত্যর্পণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। ফলে এ পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো চূড়ান্ত আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিদ্যমান আইনে গভর্নরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই বলে আদালত উল্লেখ করেন।   অ্যাবটের অবস্থানের পেছনে মূল প্রশ্ন হলো, কাস্ত্রোকে আদৌ ‘ফিউজিটিভ’ বা আইন এড়িয়ে পালিয়ে থাকা আসামি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কি না। অ্যাবটের পক্ষের যুক্তি, কাস্ত্রো নিজে মিনেসোটা থেকে পালিয়ে টেক্সাসে যাননি। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে টেক্সাসে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাকে প্রচলিত অর্থে পলাতক আসামি বলা যায় কি না, তা নিয়ে টেক্সাসের প্রশ্ন রয়েছে।   অন্যদিকে মিনেসোটার কর্মকর্তারা বলছেন, কথাটি অপ্রাসঙ্গিক। তাদের দাবি, কথিত অপরাধের সময় কাস্ত্রো মিনেসোটায় ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি টেক্সাসে আটক আছেন। তাই তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো উচিত।   মিনেসোটার অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারির ওই ঘটনায় কাস্ত্রো একটি বন্ধ দরজার ভেতর দিয়ে গুলি চালান এবং পরে ঘটনাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কাছাকাছি একটি ক্যামেরার ফুটেজ তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং কাস্ত্রো দোষী সাব্যস্ত হননি।   মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এর আগে জানিয়েছিল, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনে অভিযোগগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে টেক্সাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে গভর্নরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে রাজ্যের তদন্ত শেষ করার সুযোগ থাকা উচিত।   আদালতের বুধবারের সিদ্ধান্ত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটার ফৌজদারি অভিযোগ বাতিল করেনি। তবে টেক্সাসে তার আটক থাকার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন কাস্ত্রো মুক্তি পাওয়ার পর মিনেসোটার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
অভিনেত্রী আনা নিকোল স্মিথ ও জে. হাওয়ার্ড মার্শাল
সম্পত্তির আশায় ২৬ বছর বয়সে ৮৯ বছরের বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে, দুই দশকের মেলেনি সম্পত্তি

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্লেবয় মডেল ও অভিনেত্রী আনা নিকোল স্মিথ বিয়ে করেছিলেন ৮৯ বছর বয়সী তেল ব্যবসায়ী জে. হাওয়ার্ড মার্শালকে। বিয়ের মাত্র ১৪ মাস পর মার্শালের মৃত্যু হলে তার বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। প্রায় দুই দশক ধরে চলা সেই মামলা দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ওই সম্পত্তি থেকে কোনো অর্থই পাননি স্মিথ বা তার উত্তরাধিকারী সম্পত্তি।   স্মিথের আসল নাম ছিল ভিকি লিন হোগান। বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ২৬ বছর। ১৯৯৫ সালের আগস্টে মার্শাল মারা যাওয়ার পর তার উইল ও জীবিত অবস্থায় করা সম্পত্তির অছি চুক্তিতে ছেলে ই. পিয়ার্স মার্শালকে প্রধান উত্তরাধিকারী করা হয়। সেখানে স্মিথের জন্য কোনো অংশ রাখা হয়নি।   তবে স্মিথ দাবি করেন, মার্শাল তাকে মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিয়ের সময় তার সম্পদের অর্ধেকের জন্য একটি আলাদা অছি তহবিল তৈরি করা হবে। এই দাবির ভিত্তিতে তিনি মার্শালের ছেলে পিয়ার্সের বিরুদ্ধে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন।   প্রথমে টেক্সাসের আদালতে বিষয়টি ওঠে। সেখানে স্মিথের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে একই বিরোধ নতুন মোড় নেয়। একপর্যায়ে স্মিথের পক্ষে প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি রায় দেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ কমিয়ে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন ডলার করা হয়। তবে এসব রায় শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।   মামলাটি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছে যায়। মার্শাল বনাম মার্শাল মামলায় আদালত রায় দেয়, টেক্সাসের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার কারণে স্মিথের ফেডারেল দাবি শোনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। এই রায়ে স্মিথকে কোনো অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তবে তার ফেডারেল আইনি দাবি নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।   এরপর ২০১১ সালে মামলাটি আবারও সর্বোচ্চ আদালতে যায়। এবার মূল প্রশ্ন ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার দেউলিয়া আদালত স্মিথের পক্ষে যে চূড়ান্ত রায় দিয়েছিল, সেটি দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা ওই আদালতের ছিল কি না। সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই ধরনের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা দেউলিয়া আদালতের ছিল না। ফলে স্মিথের পক্ষে দেওয়া আগের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের রায় আর বহাল থাকেনি।   এর মধ্যে মামলার দুই প্রধান ব্যক্তিই মারা যান। ই. পিয়ার্স মার্শাল ২০০৬ সালে মারা যান। পরের বছর ২০০৭ সালে ৩৯ বছর বয়সে মারা যান আনা নিকোল স্মিথ। তবে তাদের মৃত্যুর পরও দুই পক্ষের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যান।   স্মিথের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির পক্ষে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া হয়। তার কন্যা ড্যানিলিন মার্শাল-বির্কহেডের স্বার্থও এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মার্শাল পরিবারের বিতর্কিত সম্পত্তি থেকে স্মিথের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা কোনো অর্থ পাননি।   প্রায় দুই দশকের এই মামলা শুধু একজন তারকার উত্তরাধিকার দাবি নিয়ে আলোচিত হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, দেউলিয়া আদালতের ক্ষমতা এবং অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতের এখতিয়ার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করে।   অর্থাৎ, ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পত্তির দাবিতে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আনা নিকোল স্মিথ বিভিন্ন পর্যায়ে আদালতে বড় ধরনের সাফল্য পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই বিপুল সম্পদের কোনো অংশ তার নিজের বা তার উত্তরাধিকারীদের হাতে পৌঁছায়নি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যিনি তার গ্রামের কৃষিজমিতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাসায়নিক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ১৬ বছর ধরে নিজে নিজে আইন শিখেছেন। ছবি:সংগৃহীত
নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা মাত্র তিন বছর। আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তু রাসায়নিক বর্জ্যে নিজের ও প্রতিবেশীদের কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার অভিযোগের বিচার পেতে হাল ছাড়েননি চীনের কৃষক ওয়াং এনলিন। দীর্ঘ ১৬ বছর নিজে আইন শিখে রাষ্ট্রায়ত্ত রাসায়নিক কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে প্রাথমিক রায়ে তার ও গ্রামের অন্য কৃষকদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেন আদালত।   ঘটনাটি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের ইউশুতুন গ্রামের। ২০১৭ সালে এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ওয়াংয়ের এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশিত হয়। প্রায় এক দশক পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গল্পটি আবারও ছড়িয়ে পড়েছে।   ওয়াংয়ের লড়াইয়ের শুরু ২০০১ সালে। তার অভিযোগ ছিল, কাছের কিহুয়া গ্রুপের রাসায়নিক কারখানা থেকে বের হওয়া বর্জ্য তার বাড়ি এবং আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাটি বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বর্জ্য ওই এলাকায় ফেলেছিল।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার নথি অনুযায়ী প্রায় ৭০ একরের বেশি কৃষিজমি রাসায়নিক বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার টন রাসায়নিক বর্জ্য সেখানে ফেলার অভিযোগও করা হয়। কাছের একটি জলাশয়ের পানিও দূষিত হওয়ার অভিযোগ ছিল।   নিজের জমির ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে প্রথমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যান ওয়াং। কিন্তু কীভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং কোন আইনের অধীনে প্রতিকার চাইতে হবে, সে সম্পর্কে তার পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না।সেখান থেকেই শুরু হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক যাত্রা।   ওয়াং ছোটবেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। জটিল আইনি ভাষা বোঝার মতো শিক্ষাগত প্রস্তুতিও তার ছিল না। তারপরও নিজের অধিকার বুঝতে তিনি আইন পড়া শুরু করেন।   ২০১৭ সালে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াং জানান, একটি আইনের বই এবং অভিধান নিয়ে তিনি নিজে নিজে পড়াশোনা করেছেন। আইনের কঠিন শব্দ বুঝতে অভিধানের সাহায্য নিতেন। প্রয়োজনীয় অংশ লিখে রাখতেন এবং ধীরে ধীরে পরিবেশ ও ভূমি সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন বিষয় বোঝার চেষ্টা করতেন।   তার আইন শেখার গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি ছিল স্থানীয় বইয়ের দোকানের সঙ্গে তার সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় দোকানে বসে আইনের বই পড়তেন এবং প্রয়োজনীয় অংশ হাতে লিখে নিতেন। বিনিময়ে দোকানের মালিককে নিজের উৎপাদিত ভুট্টা দিতেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত গল্পের মতো ওয়াং একা কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই পুরো মামলা পরিচালনা করে জয় পেয়েছিলেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে পরিবেশদূষনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়া একটি সংগঠন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও পান তিনি ও গ্রামের অন্য বাসিন্দারা।   দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০১৫ সালে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে। এরপর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায়।   কিকিহার শহরের একটি জেলা আদালত কিহুয়া গ্রুপকে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক বর্জ্য পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফসলের ক্ষতির জন্য ইউশুতুন গ্রামের ৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। সে সময় এর মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।   তবে ওই রায়ের মাধ্যমেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কিহুয়া গ্রুপ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। ফলে ২০১৭ সালের প্রথম দিকের জয়টি ছিল ওয়াং ও তার প্রতিবেশীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিজয়।   একই বছরের নভেম্বরে এএফপি যখন ওয়াংয়ের সঙ্গে কথা বলে, তখন তার বয়স ছিল ৬৪ বছর। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও তিনি পিছিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। নিজের আইনি জ্ঞান শুধু ব্যক্তিগত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের অন্য বাসিন্দাদেরও তাদের অধিকার সম্পর্কে বোঝাতে শুরু করেছিলেন তিনি।   ওয়াং ও তার সহযোগীরা নিজেদের দলটির নাম দিয়েছিলেন ‘সিনিয়র সিটিজেন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন টিম’। তার বাড়িতেই গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে পরিবেশ, আইন ও নিজেদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতেন।   ওয়াং এনলিনের গল্পটি তাই শুধু একজন কৃষকের ১৬ বছর ধরে আইন পড়ার ঘটনা নয়। এটি শিল্পদূষণের বিরুদ্ধে একটি গ্রামের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্পও। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া একজন কৃষক নিজের জমির ক্ষতির বিচার চাইতে অভিধান হাতে আইন শেখা শুরু করেছিলেন। সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাকে আদালতের দরজা পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং গ্রামের ৫৫টি পরিবারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায় এনে দেয়।

Unknown আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জোহরান কোয়ামে মামদানি। ছবি:সংগৃহীত
ধনীদের বাড়িতে কর বসাতে বাধা , মামদানির পরিকল্পনা আটকাল আদালতে

নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমের ওপর নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক। নিজেদের প্রাইমারি রেসিডেন্সকেও ভুলভাবে এই ট্যাক্সের আওতাভুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে কয়েকজন বাড়ির মালিক মামলা করার পর আদালত এ আদেশ দেন।   রিচমন্ড কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওয়েন ওজি সোমবার একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সকে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার আবাসিক প্রপার্টির একটি প্রকাশিত তালিকা সরিয়ে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে পাঠানো নোটিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতেও সাময়িকভাবে বাধা দেওয়া হয়।   তবে এই আদেশের পর নিউইয়র্ক সিটি আপিল করেছে। আপিলের কারণে বিচারকের অস্থায়ী আদেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত হয়েছে। মামলার পরবর্তী হিয়ারিং নির্ধারিত রয়েছে ৩১ আগস্ট। ফলে নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।   মূল বিরোধ ট্যাক্সটি বৈধ কি না, তা নিয়ে নয়। মামলাকারীদের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ট্যাক্স কার্যকরের পদ্ধতি। তাদের অভিযোগ, কোন বাড়ি প্রকৃতপক্ষে সেকেন্ড হোম তা আগে নিশ্চিত করার বদলে সিটি কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক প্রপার্টিকে সম্ভাব্য তালিকায় রেখেছে এবং অনেক মালিকের ওপর নিজেদের বাড়ি প্রাইমারি রেসিডেন্স প্রমাণ করার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স মূলত এমন উচ্চমূল্যের আবাসিক প্রপার্টির জন্য, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। চলতি বছরের শুরুতে মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই উদ্যোগ সামনে আনেন। তাদের লক্ষ্য ছিল বিলাসবহুল সেকেন্ড হোম থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করে নিউইয়র্ক সিটির বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করা।   প্রাথমিক প্রস্তাবে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমকে লক্ষ্য করার কথা বলা হলেও পরে অনুমোদিত কাঠামোয় প্রপার্টির ধরন অনুযায়ী মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়। এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্য এবং কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ১০ লাখ ডলার থেকে ট্যাক্সের আওতায় আসার সুযোগ রাখা হয়েছে।   কিন্তু বাস্তবায়নের শুরুতেই বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার প্রপার্টির তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি প্রায় ১৭ হাজার বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠানো হয়। এর মধ্যে এমন অনেক মালিক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা সংশ্লিষ্ট বাড়িতেই নিয়মিত বসবাস করেন এবং সেটিই তাদের প্রাইমারি রেসিডেন্স।   মামলাটি করেছেন র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন, কারমাইন মোরানো ও সাইমন হেডলি। তাদের দাবি, সিটির পদ্ধতির কারণে প্রকৃত নিউইয়র্কবাসীকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজেদের বসবাসের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। মামলায় তারা ট্যাক্সের মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে এটি বাস্তবায়নে ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের ব্যবহৃত প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।   মামদানি প্রশাসনের যুক্তি, নিউইয়র্কে উচ্চমূল্যের সেকেন্ড হোম থাকা ধনী ও শহরের বাইরে বসবাসকারী মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা হলে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর ওপর নতুন চাপ না দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ সিটি সার্ভিসে অর্থায়ন সম্ভব হবে। মেয়র ও গভর্নর উদ্যোগটি ঘোষণার সময় বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন।   তবে নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের অফিসের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ট্যাক্সটির নকশা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রকৃত রাজস্ব নির্ভর করবে। তাদের হিসাবে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৫১ কোটি ডলার সংগ্রহ সম্ভব হলেও বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে তা ৩৪ কোটি থেকে ৩৮ কোটি ডলারের মধ্যেও নেমে আসতে পারে।   এখন আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সিটি কর্তৃপক্ষ ট্যাক্সের আওতাভুক্ত প্রপার্টি চিহ্নিত করতে আইনসম্মত ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে কি না। ৩১ আগস্টের পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিংয়ে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে। তার আগে মামদানি প্রশাসনের বহুল আলোচিত এই নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন ঘিরে আইনি অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকছে।

Unknown আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযুক্ত উইসকনসিনের তরুণী মা। ছবি: সংগৃহীত
মাদক সেবনের পর নবজাতককে বুকের দুধ, ৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু; যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

বুকের দুধ খাওয়ানোর কয়েকদিন আগে মেথামফেটামিন (মেথ) সেবনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক তরুণী মা। পরে মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মা ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে এবং পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জেসি লি কিটেলসন (২৩) গত ১৪ মার্চ উইসকনসিনের ট্রিমবেল এলাকার নিজ বাড়িতে জরুরি সেবার জন্য ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দেখতে পান, তিন সপ্তাহ বয়সী শিশুটির নাড়ির স্পন্দন নেই, সে শ্বাস নিচ্ছে না এবং তার শরীর নীলচে হয়ে গেছে।   জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিটেলসন পুলিশকে জানান, তিনি গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে মেথ সেবন করেছিলেন। এছাড়া সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন আগেও তিনি এই মাদক গ্রহণ করেন।   আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিটেলসন তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতেন। তিনি দাবি করেন, মাদক সেবনের পর কয়েকদিন দুধ বের করে ফেলে দিয়েছিলেন (পাম্প অ্যান্ড ডাম্প), এরপর আবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, কিটেলসন গুগলে খোঁজ করেছিলেন, মেথামফেটামিন কতদিন পর্যন্ত বুকের দুধে থাকতে পারে। তবে পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার সন্তান কীভাবে মাদকের সংস্পর্শে এসেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।   এদিকে, কিটেলসনের সঙ্গী টেইলর জে ওলসন (২৬) পুলিশকে জানান, তিনিই দুজনের জন্য মেথামফেটামিন সংগ্রহ করেছিলেন। পিয়ার্স কাউন্টি কর্তৃপক্ষ কিটেলসন ও ওলসনের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং শিশুর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার অভিযোগ এনেছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথিতে তাদের কোনো আইনজীবীর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের মরদেহ দীর্ঘদিন ফ্রিজারে রেখে দেওয়ার ঘটনায় কারাদণ্ড পেয়েছেন ক্রিস্টোফার ফিলিপস। ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক সুবিধার জন্য তিন বছরের বেশি সময় ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হলো মায়ের লাশ, ছেলের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মায়ের মরদেহ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।   গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস সোমবার আদালতে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এর আগে গত ২০ মার্চ তিনি একটি মৃতদেহের আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন।   তদন্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিলভিয়া ফিলিপস নামে এক বৃদ্ধার খোঁজ নিতে একটি বাড়িতে যায়। চিকিৎসকদের সঙ্গে ২০২২ সালের পর থেকে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার খোঁজখবর নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছিল।   পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রিস্টোফার ফিলিপসের সঙ্গে কথা বলে। মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার মা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে আছেন। তবে কোথায় আছেন বা কার সঙ্গে আছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।   পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ফ্রিজারের ভেতরে সিলভিয়া ফিলিপসের মরদেহ উদ্ধার করে। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের ওপর ফুল রাখা ছিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভিয়া ফিলিপসের বয়স আশির কোঠায় ছিল। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ক্রিস্টোফার ফিলিপস আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। যদিও প্রতিবেদনে তিনি ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।   মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তির মরদেহ দীর্ঘ সময় গোপন রাখা এবং যথাযথভাবে দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
তিন শিশুসহ মা।  ছবি:সংগৃহীত
তিন সন্তান হত্যার মামলায় আদালতে পড়া হলো মায়ের হৃদয়বিদারক ডায়েরি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি হত্যা মামলার বিচার চলাকালে তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরির একাধিক অংশ আদালতে পড়ে শোনানো হয়েছে। ডায়েরির লেখাগুলোতে সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে চরম মানসিক চাপ, হতাশা এবং সাহায্যের আকাঙ্ক্ষার কথা উঠে এসেছে।   লিন্ডসে ক্ল্যান্সি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবেরিতে নিজের তিন সন্তান—৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান—কে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। তিনি শিশুদের হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেননি, তবে তাঁর আইনজীবীরা দাবি করছেন, ঘটনার সময় তিনি প্রসব-পরবর্তী তীব্র মানসিক বিকার (পোস্টপার্টাম সাইকোসিস)-এ আক্রান্ত ছিলেন এবং তাই তিনি আইনগতভাবে ফৌজদারি দায় বহন করার অবস্থায় ছিলেন না। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের দাবি, তিনি পরিকল্পিতভাবেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।    আদালতে উপস্থাপিত ডায়েরির অংশে ক্ল্যান্সি লিখেছিলেন, তিনি তিন সন্তানের দেখাশোনা করতে গিয়ে নিজেকে "সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত" অনুভব করতেন এবং "প্রতিদিন মনে হতো আমি ডুবে যাচ্ছি"। আরেকটি লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজেকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করতেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা বলেন, এসব লেখা তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক সংকটের প্রমাণ।   বিচারে আরও জানা যায়, ঘটনার আগের কয়েক মাসে ক্ল্যান্সি বিভিন্ন মানসিক রোগের ওষুধ গ্রহণ করছিলেন এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়মিত ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, একাধিক ওষুধের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতা তাঁর অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।   প্রসিকিউশন আদালতে চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে দাবি করেছে, ক্ল্যান্সি নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ বলছে, ঘটনার সময় তিনি বাস্তবতা অনুধাবনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। এই প্রশ্নই মামলার মূল আইনি বিতর্ক।   মামলার নথি অনুযায়ী, সন্তানদের মৃত্যুর পর ক্ল্যান্সি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি কবজিতে আঘাত করার পর দ্বিতীয় তলার জানালা থেকে লাফ দেন, এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি কোমর থেকে নিচের অংশে স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।   বর্তমানে ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথ সুপিরিয়র কোর্টে বিচার চলছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল, নাকি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার কারণে সংঘটিত একটি অপরাধ, যার ক্ষেত্রে আইনগত দায় ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।

Unknown আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি
ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি! পরিরারের ক্ষোভ, নতুন করে প্রশ্নের মুখে বিচারব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে ৬ বছর বয়সী শিশু লোগান টিপটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোনাল্ড এক্সান্টাস কারামুক্ত হওয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিশুটির পরিবার বলছে, বিচারব্যবস্থা তাদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। অন্যদিকে কেন্টাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালত নির্ধারিত সাজা সম্পূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।    ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কেন্টাকির ভার্সেইলস শহরের একটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ বছর বয়সী লোগান টিপটনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রোনাল্ড এক্সান্টাস। হামলায় শিশুটির বাবা এবং দুই বোনও গুরুতর আহত হন।    পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আদালতে হত্যার অভিযোগে তাকে 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে দায়মুক্ত' ঘোষণা করা হয়। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভোগের সময় আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সাজা-ছাড়ের সুবিধা পাওয়ায় তার মুক্তির সময় এগিয়ে আসে।    এটি এক্সান্টাসের প্রথম মুক্তি নয়। ২০২৫ সালে তিনি বাধ্যতামূলক তত্ত্বাবধান কর্মসূচির আওতায় মুক্তি পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফ্লোরিডায় গিয়ে নিবন্ধন-সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করায় তাকে আবার গ্রেপ্তার করে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি সাজা শেষ করে এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান।    লোগানের বাবা ডিন টিপটন ছেলের হত্যাকারীর মুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের পরিবার আজীবনের শাস্তি ভোগ করছে, অথচ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি মুক্ত জীবন ফিরে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান।    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কেন্টাকিতে 'লোগানস ল' নামে একটি আইন পাস হয়েছে। নতুন আইনে সহিংস অপরাধীদের সাজা, প্যারোল এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী মামলায় প্রযোজ্য না হওয়ায় এক্সান্টাস এর আওতায় পড়েননি।    কেন্টাকি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস জানিয়েছে, এক্সান্টাসকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং প্যারোল বোর্ডও তাকে মুক্ত করেনি। আদালতের দেওয়া সাজা পূর্ণ হওয়ার পর বিদ্যমান আইন অনুসারেই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা
সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ? টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা

টেক্সাসের সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আদেশ) প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। হিউস্টন এলাকার তিনজন মা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ নির্ধারণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।   মামলায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীতে অভিভাবকদের সন্তান লালন-পালন ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া টেক্সাস রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে।  বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত আকার ও বিন্যাসে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার দান করা হলে স্কুলগুলো তা টানাবে, আর প্রয়োজন হলে জেলা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থেও তা কিনতে পারবে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ঐতিহ্যের অংশ।    তবে বাদীপক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তাদের মতে, পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাষ্ট্রের নয়।  এটি টেক্সাসে এ ধরনের প্রথম মামলা নয়। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অধর্মীয় পরিবারের সদস্যরা একই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। সেইসব মামলায় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র-ধর্ম পৃথক থাকার নীতির প্রশ্নও সামনে আসে।    অন্যদিকে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বরাবরই আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ‘দশ আদেশ’ আমেরিকার আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রদর্শন করা আইনসঙ্গত।    নতুন মামলার শুনানির মাধ্যমে টেক্সাসের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার ফলাফল শুধু টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চুরি করা গাড়ি থামানোয়, পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চার দশক আগে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের এক মোটরসাইকেল পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় পুনর্বিচারে দোষী সাব্যস্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালতের রায় বহাল রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।    মামলাটি ১৯৮৩ সালের। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলএপিডি কর্মকর্তা পল ভার্না লেক ভিউ টেরেস এলাকায় একটি চুরি করা গাড়ি থামালে গাড়িতে থাকা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কেনেথ গে এবং রেনার্ড কামিংস অভিযুক্ত হন।    ১৯৮৫ সালে প্রথম বিচারে কেনেথ গে দোষী সাব্যস্ত হলেও পরে তার আইনজীবীর অদক্ষতার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর পুনর্বিচারে জুরি আবারও তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।    আদালতে নিহত কর্মকর্তা পল ভার্নার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তার স্বজনরা জানান, দীর্ঘ কয়েক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।   প্রসিকিউশন জানায়, অভিযুক্তরা সে সময় একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল এবং চুরি করা গাড়িতে অস্ত্রসহ চলাচল করছিল। পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়পত্র চাইলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।    ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত আইনের আওতায় কেনেথ গের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর থাকবে। অপর আসামি রেনার্ড কামিংসও পৃথক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ওহাইওতে আলোচিত হত্যা মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত স্যামুয়েল হকস্টেটলার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, এরপর পরিবারকে শেষকৃত্যের সহায়তার প্রস্তাব আমিস যুবকের

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে যৌন সহিংসতার সময় হত্যা করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার বিচার শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।   পিপল ম্যাগাজিন, মেইগস কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস এবং কোর্ট টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওহাইওর রাটল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা স্যামুয়েল হকস্টেটলার ২০২৫ সালে ২৮ বছর বয়সী রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যুর ঘটনায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার বিচার ২৭ জুলাই জুরি বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, তার সম্মতি ছাড়া যৌন নির্যাতনের সময় এমনভাবে তাকে চেপে ধরা হয়েছিল যে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। কোর্ট টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন হকস্টেটলার ও কিনসিঙ্গার অন্য কয়েকজনের সঙ্গে একটি গ্রিনহাউস নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হকস্টেটলার আগে কয়েকবার কিনসিঙ্গারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি।   প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে জানান, তদন্তে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার সময় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরদিন ১৩ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মরদেহ তার ট্রেলারবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কর্মস্থলে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় পরিচিতজনেরা খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।   মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ। প্রসিকিউটরদের দাবি, রোজানার মৃত্যুর খবর তিনিই প্রথম তার বাবাকে জানান। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে সহায়তার প্রস্তাবও দেন। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে বলেন, রোজানার বাবা-মা ও ভাইবোন জানতেই পারেননি যে যাকে তারা ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং শোকের মুহূর্তে পাশে পেয়েছিলেন, তিনিই তাদের স্বজন হত্যার জন্য দায়ী।   রায়ের পর আদালত স্যামুয়েল হকস্টেটলারকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে সহিংস অপরাধী এবং তৃতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে আদালতে অভিযুক্ত নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান। তার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এটি একটি দুর্ঘটনা। এছাড়া মামলার শুরুতে আদালত তার দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে দোষ স্বীকারের পথ তৈরি করে।   আদালতে হকস্টেটলার বলেন, "আমি যা করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত। যদি অতীতে ফিরে গিয়ে অন্যভাবে জীবন গড়তে পারতাম। আমি কতটা অনুতপ্ত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
১৪ মাসের শিশু হেনরি ব্রাউন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ মাসের শিশুকে নির্মম নির্যাতনে হত্যা, মা ও প্রেমিকের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ও মায়ের প্রেমিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেলেও আগে থেকেই তার নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উঠে এসেছে।   দ্য প্রেস-এন্টারপ্রাইজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক আলেকজান্ডার আর. মার্টিনেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে ৩৬ বছর বয়সী সামান্থা ভিক্টোরিয়া গারভারকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড (Voluntary Manslaughter) এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।   অন্যদিকে, ৩৪ বছর বয়সী সার্জিও ভিনসেন্ট মেনা দ্বিতীয়-ডিগ্রির হত্যাকাণ্ড এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি সাধনকারী শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ২১ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিগ বেয়ার এলাকার সুগারলোফে অবস্থিত বাড়ি থেকে ১৪ মাসের হেনরি হুইটলি ব্রাউনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে পোড়া ও আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।   রায় ঘোষণার পর সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কোনো সাজাই ছোট্ট হেনরিকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না কিংবা তার ওপর চালানো নির্যাতনের কষ্ট মুছে দিতে পারবে না। তবে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে এবং দোষীরা আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।   তদন্তে উঠে এসেছে, হেনরির নিরাপত্তা নিয়ে মৃত্যুর আগেই একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল। শিশুটির পিতামহী স্টেফানি ডানকান জানান, হেনরির জন্মের পর তিনি অন্তত ছয়বার শিশু ও পরিবার সেবা বিভাগে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। ডানকানের ভাষ্য, হেনরিকে নিয়মিত তাদের বাড়িতে দেখাশোনা করা হতো। তিনি বলেন, শিশুটি প্রায়ই নোংরা বোতল, পর্যাপ্ত পোশাক বা ডায়াপার ছাড়া আসত। ২০২৩ সালের জুনে হেনরির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন।   একজন শেরিফের ডেপুটি শিশুটিকে পরীক্ষা করে জানান, যে বয়সের শিশু হাঁটতেও শেখেনি, তার শরীরে এ ধরনের আঘাত স্বাভাবিক নয়। এরপর তিনি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও হেনরিকে তার মা ও মেনার কাছেই থাকতে দেওয়া হয়। তদন্ত নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামান্থা গারভার জানিয়েছিলেন, তিনি রাতে বাইরে যাওয়ার সময় হেনরিকে সার্জিও মেনার কাছে রেখে যান। অথচ তিনি জানতেন, মেনা দুই দিন ধরে না ঘুমিয়ে মাদক সেবন করছিলেন।   মেনা পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি মাদক গ্রহণের সময় হেনরিকে চলমান গরম পানির বাথটাবে রেখে দেন। পরদিন সকালে বাড়ি ফিরে গারভার দেখতে পান, শিশুটির যৌনাঙ্গ ও পায়ের নিচের অংশে মারাত্মক দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাকে অত্যন্ত গরম পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণেই এসব আঘাতের সৃষ্টি হয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায়ও হেনরিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। শুধু একটি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর রাত ৮টার দিকে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা দাবি করেছিলেন, ফোন করার ২০ মিনিট আগে শিশুটির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তবে তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তার মৃত্যু আরও আগেই হয়েছিল।   ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হেনরির শরীরে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর আগে তার একটি হাত স্থানচ্যুত হয়েছিল এবং কয়েকটি দাঁতও ভেঙে পড়েছিল।   মামলাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, সামান্থা গারভার ২০১৩ সালেও শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই মামলায় আদালতের নির্দেশনা পুরোপুরি পালন না করায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তবুও পরবর্তী সময়ে তিনি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যান এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থার একাধিক অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত
উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতের দরজায় পরিবার, নিউইয়র্কের অভিজাত আবাসনে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাতের জল গড়ালো বহুদূর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে অবস্থিত একটি যৌথ মালিকানাধীন আবাসিক ভবনে (কো-অপ) দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কোন্দল এবার সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ, দারোয়ানের সাথে মারামারি এবং পরবর্তীতে ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ৫৭ বছর বয়সী সন্তানকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বয়স্ক দম্পতি।   যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা নথির বরাত দিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে আর্ভিং কার্টেন এবং ক্যারল কার্টেন দম্পতি ৩৩৯ ইস্ট ৫৮তম স্ট্রিটের একটি ১০ তলা ভবনের পেন্টহাউস ইউনিটটি প্রায় ৪ লাখ ডলারে কেনেন। লক্ষ্য ছিল তাঁদের ৫৭ বছর বয়সী ছেলে কেভিন কার্টেন সেখানে বসবাস করবেন। কেভিন পেশায় একজন ঠিকাদার এবং ফ্লোরিডায় তাঁর নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভবনে ওঠার পর থেকেই সেখানকার দারোয়ান লরেন্স মনটগোমারির সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।   আইনি নথি অনুযায়ী, বিবাদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, যখন কেভিন ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ বেডফোর্ড ম্যানেজমেন্ট’-এর কাছে দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কেভিন দাবি করেন, লরেন্স ইচ্ছা করে তাঁর চিঠি বা পার্সেল আটকে রাখতেন, তাঁর প্রেমিকাকে না জানিয়ে স্পর্শ করেছিলেন এবং ক্রমাগত বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন।   অভিযোগের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ভবনের ভেতরেই দুজনের মধ্যে এক তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দারোয়ান লরেন্স ফোন উঁচিয়ে কেভিনের মুখের সামনে ধরলে কেভিন সেটি থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরপরই লরেন্স তাকে আঘাত করেন, যার ফলে কেভিনের চোখে গুরুতর জখম হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে কেভিনকেও একাধিকবার অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে এবং দারোয়ানের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় মারতে দেখা যায়।   ঘটনার পর পুলিশ এসে উভয়কেই গ্রেপ্তার করে। দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ ও আক্রমণের চেষ্টা এবং কেভিনের বিরুদ্ধে সম্পদের ক্ষতি ও হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের আদেশে মামলাটি আপাতত গোপনীয় রাখা হয়েছে।   এই ঘটনার পর কো-অপ পরিচালন পর্ষদ দারোয়ান লরেন্সের পাশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর কেভিনকে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠায়। এতে বলা হয়, ভবনের শান্তি বজায় না রাখলে তাঁকে অযোগ্য বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কার্টেন পরিবারের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে জানান, কো-অপ কর্তৃপক্ষ ঘটনার কোনো সঠিক তদন্ত করেনি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।   সমস্যার এখানেই শেষ নয়; কেভিনের সাথে প্রতিবেশীদেরও বিরোধ তৈরি হয়। কেভিনের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা কো-অপ পর্ষদের সদস্য ছিলেন। কার্টেন পরিবারের দাবি, টেরাসে গাছ রাখা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ওই পর্ষদ সদস্যের স্ত্রী কেভিনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।   সবশেষ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন গত ২২ জুলাই কো-অপ পরিচালন পর্ষদ একটি জরুরি সভা ডেকে কার্টেন পরিবারের ইজারা বাতিল, তাঁদের শেয়ার নিলামে বিক্রি এবং কেভিনকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নোটিশ জারি করে। নোটিশে পর্ষদ সদস্যকে হেনস্তার অস্পষ্ট অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি কার্টেন পরিবারের।   উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্টেন পরিবার জরুরিভিত্তিতে আদালতের আশ্রয় নিলে ম্যানহাটনের এক বিচারক আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পর্ষদের উচ্ছেদ প্রস্তাবের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কার্টেন পরিবার মামলায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।   উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসন এলাকার বিষয়টি এখন নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনায় ১৪ বছরের কিশোরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড!
স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনায় ১৪ বছরের কিশোরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড!

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাপালাচি হাইস্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কোল্ট গ্রেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ওই হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় কিশোর বয়সী গ্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এই সাজা ঘোষণা করা হয়।   আদালতের রায়ে কোল্ট গ্রেকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্কুল বন্দুক হামলার জন্য সবচেয়ে কম বয়সী অভিযুক্তদের একজন হিসেবে আলোচনায় আসেন।   ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার উইন্ডার শহরের অ্যাপালাচি হাইস্কুলে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই শিক্ষার্থী এবং দুই শিক্ষক নিহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেকে আটক করে।   তদন্তে উঠে আসে, হামলার আগে থেকেই গ্রের আচরণ নিয়ে উদ্বেগের তথ্য ছিল। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে পৌঁছেছিল এবং হামলার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত চালানো হয়।   মামলার শুনানিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে তাদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, একটি স্কুলে নিরাপদ থাকার কথা ছিল যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের, তারা ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়েছেন।   অভিযুক্ত গ্রে আদালতে দায় স্বীকার করেন এবং ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তবে বিচারক হামলার ভয়াবহতা, নিহতদের সংখ্যা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় কঠোর সাজা দেন।   অ্যাপালাচি হাইস্কুলের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে আবারও স্কুল নিরাপত্তা, কিশোরদের হাতে অস্ত্র পৌঁছানো এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করে। দেশটিতে একের পর এক স্কুলে বন্দুক হামলার পর এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়ে এনএইচএসে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন আমরান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
অক্সফোর্ডের ভুয়া ডিগ্রি ও জাল সনদে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এ ১৩ চাকরি, চার বছরের কারাদণ্ড ব্রিটিশ-বাংলাদেশির

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা ও রেফারেন্স জাল করে ১৩টি চাকরি নেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এক ব্যক্তিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তিনি এনএইচএসের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড আর্থিক ক্ষতি করেছেন।   দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আমরান হোসেন (৪০)। কেন্টের ওয়েস্টারহ্যামের ফ্রেঞ্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা আমরানকে গত ২৪ জুলাই মেইডস্টোন ক্রাউন কোর্ট চার বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে তিনি প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।   যুক্তরাজ্যের এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি (এনএইচএসসিএফএ) জানায়, চাকরি পেতে আমরান মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি এনএইচএসের বিভিন্ন উচ্চপদে কাজ করার ভুয়া অভিজ্ঞতাও নিজের জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি বার্কবেক, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই নিশ্চিত করে যে তিনি কোনো কোর্সই সম্পন্ন করেননি।   তদন্তকারীরা জানান, আমরান এনএইচএসের বিভিন্ন পদে ২ হাজার ৭১টি আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে ১৩টি অ-ক্লিনিক্যাল পদে চাকরি পান। তদন্তে একটি নির্দিষ্ট ধারা দেখা যায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরই তিনি অসুস্থতার ছুটি নিতেন এবং চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া বা চাকরি বাতিল হওয়া পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকতেন। ফলে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব সামান্য বা কোনো কাজই করতেন না। পরে সেই চাকরির অভিজ্ঞতাকেই পরবর্তী আবেদনগুলোতে ব্যবহার করতেন।   এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটি আরও জানায়, চাকরির আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি ভুয়া রেফারেন্স জমা দিয়েছিলেন। এমনকি একটি রেফারেন্স ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং কয়েকটি রেফারেন্স এমন ই-মেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছিল, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল তার নিজের হাতে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার দাবিও তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।   ২০২১ সালে ডেভন পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্ট তাকে একটি জ্যেষ্ঠ পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ার পর নিয়মিত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের সময় এই প্রতারণার সূত্রপাত ধরা পড়ে। আবেদনপত্রে আমরান দাবি করেছিলেন, তিনি কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে ‘ডিরেক্টর অব ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে আমরান হোসেন নামে কেউ কখনো চাকরি করেননি। এরপর শুরু হয় বিস্তৃত তদন্ত।   এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির অপারেশনস প্রধান বেন হ্যারিসন বলেন, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া যোগ্যতা বা জাল রেফারেন্স ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রতারণা শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, এনএইচএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে হত্যা মামলার বিচারে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করেন মেলিনা ফ্রাত্তোলিনের মৃত্যুর কারণ। ছবি: সংগৃহীত
কাদামাটি ও জলজ উদ্ভিদে ভরে গিয়েছিল ফুসফুস, আদালতে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যুর ভয়াবহ বর্ণনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ৯ বছর বয়সী মন্ট্রিয়লের বাসিন্দা মেলিনা ফ্রাত্তোলিনের মৃত্যুর ঘটনায় চলমান হত্যা মামলার বিচারে আদালতে উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক ফরেনসিক তথ্য। চিকিৎসা পরীক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি ডুবে মারা যায় এবং তার ফুসফুস, শ্বাসনালি ও পাকস্থলীতে কাদামাটি ও জলজ উদ্ভিদের অংশ পাওয়া গেছে। এই তথ্য আদালতে উপস্থাপনের সময় অভিযুক্ত বাবা লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন মরদেহের ছবি দেখার পরিবর্তে মুখ ফিরিয়ে নেন।   মঙ্গলবার নিউইয়র্কের এলিজাবেথটাউনের এসেক্স কাউন্টি আদালতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. মাইকেল সিকিরিকা জুরিদের জানান, এটি "নিশ্চিতভাবেই ডুবে মৃত্যুর ঘটনা"। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে স্ফীত ছিল এবং ভেতরে গভীর পর্যন্ত কাদামাটি ও উদ্ভিদের কালো কণা পাওয়া যায়, যা জীবিত অবস্থায় পানিতে শ্বাস নেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।   আদালতে সাক্ষ্য চলাকালে জুরিদের সামনে মেলিনার মরদেহ উদ্ধারের সময় তোলা ছবি প্রদর্শন করা হয়। তবে হত্যা মামলার আসামি ও শিশুটির বাবা লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন সেদিকে না তাকিয়ে আদালতে বসেই একটি নোটপ্যাডে লিখতে থাকেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।   ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানান, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই নিউইয়র্কের এসেক্স কাউন্টির ইগল লেকের কাছে প্যারাগন ব্রুক নামের একটি অগভীর জলধারা থেকে মেলিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে প্রচুর কাদামাটি লেগে ছিল। তার শরীরে কিছু আঁচড় ও হালকা আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মরদেহটি পানির নিচে একটি বড় পাথর দিয়ে চাপা দেওয়া ছিল।   প্রসিকিউশনের অভিযোগ, লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিন নিজের মেয়েকে হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অপহরণের গল্প সাজিয়েছিলেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, লেক জর্জ এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হলেও তদন্তে তার বক্তব্যের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরদিন বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা শিশুটির মরদেহ খুঁজে পান।   একই দিনে আদালতে সাক্ষ্য দেন মেলিনার মা কালি গ্যালানিসও। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক মাস আগে মেলিনা তার বাবার সঙ্গে ইথিওপিয়া সফরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিল। পরে সেই বিদেশ সফর বাতিল করে বাবা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যান। প্রসিকিউশন এই সাক্ষ্যকে মামলার প্রাসঙ্গিক অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছে।   ৪৬ বছর বয়সী লুসিয়ানো ফ্রাত্তোলিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মরদেহ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার বিচার এখনও চলমান এবং প্রসিকিউশন আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে বলে আদালতকে জানিয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করায় দণ্ডিত ব্রিটিশ নারী ইসাবেল রোজ। ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণ অভিযোগ দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা! ব্রিটিশ নারীকে কারাগারে দিল হংকং আদালত

হংকংয়ে এক নারী ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার দায়ে কারাদণ্ড পেয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ওই নারী পরিকল্পিতভাবে অভিযোগটি তৈরি করেছিলেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ করেছিলেন।   ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইসাবেল রোজ নামের ওই নারী হংকং পুলিশের কাছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তবে ঘটনার দুই দিন পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। রোজকেই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে। তদন্তে উঠে আসে, তিনি যাকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন, সেই একই ব্যক্তির কাছ থেকেই ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার দাবি করেছিলেন। মামলাটি আদালতে গেলে হংকংয়ের জেলা আদালতের বিচারক অ্যাড্রিয়ানা সে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। বিচারক বলেন, অভিযোগটি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছিল এবং তা “স্পষ্টভাবে মিথ্যা” বলে প্রমাণিত হয়েছে।   আদালত অভিযুক্ত পুরুষকে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ ঘোষণা করে। বিচারক তাকে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে রোজকে ব্ল্যাকমেইল এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রোজের আইনজীবীরা আদালতের কাছে সাজা কমানোর আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। আদালত তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারাগারে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে রোজ হংকংয়ের তাই লাম সংশোধনাগারে সাজা ভোগ করছেন।   আদালতের রায়ের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। কারণ মিথ্যা অভিযোগ শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অবস্থানই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক অবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে বিচার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যৌন অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অভিযোগের গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০