সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আদালত

আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত
বাবা-মা পাশে নেই, এবার অন্তত আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারক। শিশুদের আশ্রয় আবেদনের সাক্ষাৎকার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং সময় পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।   গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক ব্রেন্ডান হার্সন এই আদেশ দেন।মামলাটি করেছিলেন অভিবাসী শিশুদের নিয়ে কাজ করা কয়েকটি আইনি সহায়তা সংস্থা। তাদের মধ্যে রয়েছে অ্যামিকা সেন্টার ফর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস এবং দ্য ডোর।   আগে আশ্রয়প্রার্থী অভিভাবকহীন শিশুদের সাক্ষাৎকারের জন্য কমপক্ষে ২১ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম ছিল। কিন্তু নতুন নীতিতে সেই সময়সীমা তুলে দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে শিশুদের জানানো হচ্ছিল।   এ ছাড়া সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগও কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছিল। নতুন নিয়মে কেবল বিশেষ ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সময় পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়।   অভিবাসী শিশুদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ে সাক্ষাৎকারের নোটিশ পেলে শিশুদের পক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।   বিচারক প্রশাসনকে আগের সাক্ষাৎকার-সংক্রান্ত নিয়ম পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর আদেশ অনুযায়ী, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে আদালত দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।   বিচারক উল্লেখ করেছেন, অভিভাবকহীন শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনা করে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে। ২০০৮ সালের উইলিয়াম উইলবারফোর্স ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন আইনের সুরক্ষার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে অনেক অভিবাসী শিশু বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়াই আশ্রয়ের আবেদন করে। তাদের জন্য সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, আইনজীবীর সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আদালতের এই সাময়িক আদেশ শিশুদের সেই প্রস্তুতির সুযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।   তবে এটি সব অভিবাসীর জন্য সাধারণভাবে নির্বাসন বন্ধের আদেশ নয়। এটি নির্দিষ্টভাবে অভিভাবকহীন শিশুদের আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের নিয়ম নিয়ে দেওয়া আদালতের সাময়িক নির্দেশ।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ক্যালগারিতে ইমামের দায়িত্ব পালন করা আবদি হারসি
কানাডার আলবার্টায় মসজিদের ইমামকে ঘিরে পুরোনো মার্কিন মামলা, যৌন অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগারিতে ইমামের দায়িত্ব পালন করা আবদি হারসিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুরোনো ফৌজদারি মামলা। ২০০৬ সালে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে দুই নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১৫ সালে প্রকাশিত মার্কিন ও কানাডীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে বিচার সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজ ও কানাডার সিবিসি নিউজের ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারসি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার উডবেরি এলাকায় একটি হাসপাতালে রেসপিরেটরি থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার সময় এ অভিযোগ ওঠে। দুই নারী রোগীর অভিযোগ ছিল, চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সময় তাঁদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণ করা হয়েছিল। হারসি অবশ্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন। মিনেসোটা জুডিশিয়াল ব্রাঞ্চের আদালতসংক্রান্ত নথির বরাত দিয়ে গ্লোবাল নিউজ জানিয়েছিল, ২০০৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ ডিগ্রির যৌন অসদাচরণের দুটি, পঞ্চম ডিগ্রির যৌন অসদাচরণের দুটি এবং অপরাধমূলক নির্যাতনের দুটি অভিযোগ আনা হয়।   ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, হারসি অভিযোগগুলোর জবাব দিতে মিনেসোটায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বলে দাবি করেন। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কানাডায় ফেরত পাঠায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ না পাওয়ায় অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। সিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারসি কানাডায় শরণার্থী সুরক্ষার মর্যাদা পেয়েছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর ওই মর্যাদা পুনর্বিবেচনা করে। তবে তিনি আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে শরণার্থী সুরক্ষার মর্যাদা বজায় রাখতে সক্ষম হন। হারসি ক্যালগারির সোমালি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবু বকর ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইটেও তাঁকে ইমাম হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়েও আলোচনা তৈরি হয়েছিল।   এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফৌজদারি অভিযোগ থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। হারসি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি আদালতে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে চান। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কথা উঠে এলেও, বর্তমানে পরোয়ানাটির কার্যকর অবস্থা কিংবা মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ সরকারি তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।   তাই ঘটনাটিকে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বা সাম্প্রতিক কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই। বরং ২০০৬ সালের অভিযোগ এবং ২০১৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদি হারসিকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমকামিং ফুটবল ম্যাচ শেষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১১ জন গুলিবিদ্ধ
ফ্লোরিডায় ফুটবল ম্যাচ শেষে গুলিবর্ষণ, আহত ১১; ১৫ বছর বয়সীর বিচার হবে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের তালাহাসিতে ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমকামিং ফুটবল ম্যাচ শেষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া গুলির আতঙ্কে পালানোর সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী অ্যান্থনি রিভার্স তৃতীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তালাহাসি পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার কিছু আগে ব্র্যাগ মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামের বাইরে পেরি ও মানাটি স্ট্রিটের কাছাকাছি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দল আরকানসাস-পাইন ব্লাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের আগে পরস্পর পরিচিত কয়েকজনের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই পরিস্থিতি গুলিবর্ষণ পর্যন্ত গড়ায়। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিরা হামলাকারীর প্রত্যক্ষ লক্ষ্য ছিলেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের সঙ্গে গুলিবর্ষণের সরাসরি কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত হয়নি।   গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির দাদি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় আহত হন। ফলে সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল বলে রোববার জানানো হয়।   রোববার অ্যান্থনি রিভার্স তৃতীয়কে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাচেষ্টার ১১টি অভিযোগ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। স্টেট অ্যাটর্নি জ্যাক ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, মামলাটি প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে নেওয়ার উদ্যোগ নেবে প্রসিকিউশন। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   তালাহাসি পুলিশের প্রধান লরেন্স রেভেল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ পর্যালোচনা করছেন। গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।    এদিকে, ঘটনার সময় স্টেডিয়ামের আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে আহতদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে সমস্যা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কর্মকর্তারা আহতদের বহন করে জরুরি চিকিৎসাসেবার যানবাহনের কাছে নিয়ে যান। হোমকামিং উৎসবের পর এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
বোস্টন ল্যাটিন একাডেমির সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক এডওয়ার্ড ব্রাউন
পুলিশের ব্যারাকে নারীকে ধ র্ষ ণের অভিযোগ, বোস্টনের স্কুল নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রে প্তা র

  যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মার্থাস ভিনইয়ার্ডে সড়কের পাশে উলঙ্গ ও আতঙ্কিত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধারের ঘটনায় বোস্টনের একটি স্কুলের সহকারী নিরাপত্তা পরিচালকের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ব্যারাকে ওই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এডওয়ার্ড ব্রাউন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   কেপ অ্যান্ড আইল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট কথিত ঘটনাটি ঘটে। ১৩ অক্টোবর ব্রাউনের বিরুদ্ধে ধ র্ষ ণের অভিযোগে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এর আগে ৯ অক্টোবর বোস্টন ল্যাটিন একাডেমি থেকে তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কথিত ঘটনার দিন রাত ১টার কিছু আগে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশের ব্যারাকের কাছাকাছি সড়কের পাশে এক নারীকে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দুটি ফোনকল পায়। ওই ব্যারাকেই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে নারীটিকে মার্থাস ভিনইয়ার্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশকে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে ‘দ্য রিটজ’ নামের একটি বারে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্রাউন তাঁর কাছে যান, তাঁর শরীরের পেছনের অংশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং তাঁকে পানীয় কিনে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাউন তখন দ্বীপে কর্মরত এক স্টেট ট্রুপারের সঙ্গে পুলিশের ব্যারাকে রাত কাটাচ্ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নারীটি পুলিশকে জানান, বারে ব্রাউনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনাগুলো তাঁর মনে নেই। এরপর তাঁর মনে আছে, তিনি অপরিচিত একটি জায়গায় ঘুম ভেঙে দেখেন ব্রাউন তাঁর ওপর রয়েছেন। আদালতে এক প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীটি বিছানায় উপুড় হয়ে ও উলঙ্গ অবস্থায় জেগে ওঠেন। তিনি উঠে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি আবার কক্ষে ফিরে এসে তাঁকে জোর করেন এবং গলা চেপে ধরে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই নারী সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। তিনি সিঁড়ি দিয়ে দুই তলা নেমে ভবনটি থেকে বেরিয়ে সড়কের দিকে ছুটে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে পথচারীরা তাঁকে দেখতে পান এবং সহায়তার ব্যবস্থা হয়। অভিযোগকারী নারী আয়ারল্যান্ডের নাগরিক। ঘটনার পর তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাউনের বিরুদ্ধে আগের কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ও আদালতে উঠে এসেছে। প্রসিকিউটরদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে চারটি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে সাবেক দুই প্রেমিকার করা হয়রানির অভিযোগও ছিল। আদালত ওই দুই নারীর জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর একটি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে বর্তমান মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এ ছাড়া ব্রাউনকে গ্রে প্তা র করার সময় তাঁর কাছে কোকেন ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটররা। তবে তাঁর আইনজীবী অ্যান্থনি আর. এলিসন আদালতে বলেন, ব্রাউন এর আগে কখনো কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হননি এবং তিনি একজন সুনাগরিক। আইনজীবী আরও বলেন, তাঁর মক্কেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং মামলার সব পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকা উচিত। ব্রাউন ১০ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তাঁকে অভিযোগকারী নারী ও মামলার সাক্ষীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর মামলার প্রাক্‌-বিচার শুনানির জন্য তাঁকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে বলে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে। এদিকে, ব্রাউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বোস্টন পাবলিক স্কুলস তাঁকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। তাঁর চাকরির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বরখাস্ত-সংক্রান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি গত দুই বছর ধরে স্কুল জেলায় সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বোস্টনের মেয়র মিশেল উ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। শিক্ষার্থী ও স্কুলের সঙ্গে যুক্ত সবার নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ব্রাউনের আইনজীবী বলেছেন, তাঁর মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ফলে ব্রাউনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আগামী শুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি চালু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় লটারিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জিনসুক ওহতা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অনুরোধে নিবন্ধন ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।   কেন আদালতের নির্দেশ দিতে হলো? ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গত ১৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রতিবছর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা এই কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় আবেদনকারীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত অর্থবছরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন লটারি পরিচালনা করা আইনগতভাবে জটিল। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর বিচারক ওহতা ১৪ অক্টোবর আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৭ সালের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যদিও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   আবেদন কবে শুরু হবে, ফলাফল কবে জানা যাবে? আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে এবং নিবন্ধনের সময়কাল হবে ৩০ দিন। আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জানানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, ১ নভেম্বর একটি নির্ধারিত সময়সীমা; পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন চালু হলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।   বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ২০২৭ সালের লটারিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না। সর্বশেষ প্রকাশিত ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির নির্দেশনায় বাংলাদেশকে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের লটারির জন্য যোগ্য দেশের নতুন তালিকা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে, কিংবা বাংলাদেশ এবারও অযোগ্য থাকবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মূলত লটারি চালু করা নিয়ে; এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। নতুন তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।   নতুন আবেদনে কী কী পরিবর্তন থাকতে পারে? ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের বৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পাসপোর্টের তথ্য এবং পাসপোর্টের পরিচিতিমূলক ও স্বাক্ষরসংবলিত পাতার স্ক্যান জমা দিতে হবে, যদি তাঁরা নির্ধারিত কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় না পড়েন। এ ছাড়া নিবন্ধনের সময় এক ডলার ফি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অতীতে ডিভি লটারিতে নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা যেত; তাই নতুন আবেদনকারীদের পুরোনো নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে ২০২৭ সালের আনুষ্ঠানিক নিয়ম পড়ে নেওয়া জরুরি।    বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার সুযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হয়েছে এমন দেশগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হলেও তাঁদের শিক্ষা বা নির্ধারিত কাজের অভিজ্ঞতা, পরিচয় এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি আবেদনপ্রত্যাশীদের জন্য তাই যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদন শুরুর সরকারি ঘোষণা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনকারীদের প্রতি সতর্কতা: পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন চালু হয়েছে বলে দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ অর্থের বিনিময়ে আগাম আবেদন, নিশ্চিত নির্বাচন কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সেই দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি নির্দেশনা ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট এবং সরকারি ডিভি আবেদন পোর্টাল অনুসরণ করতে হবে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের পর হত্যার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করা এক নারী অবশেষে ১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে গর্ভের সন্তান হারানোর পর পেশেন্স রুশো নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে নেভাদার হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের সমঝোতা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী পেশেন্স রুশো ২০১৮ সালে নেভাদার উইনেমুকা শহরে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই বছরের এপ্রিল মাসে গর্ভের সন্তান হারানোর প্রায় এক মাস পর স্থানীয় শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।   এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি করা হয়েছিল নেভাদার ১৯১১ সালের একটি পুরোনো আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে গর্ভপাত ঘটানোর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনার বিধান রয়েছে।   ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন দুই সন্তানের মা রুশো জানতে পারেন, তিনি আবারও অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা ছিল না।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশো ওই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চাননি। এ কারণে তিনি রেনো শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাঁর গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হতে পারেননি।   পরে ইন্টারনেটে গর্ভপাতের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশো ভারী জিনিস তোলা এবং অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আদালতে জানান, দারুচিনি খাওয়ার কারণে গর্ভপাত ঘটে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।   ওই বছরের এপ্রিল মাসে রুশোর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির নাম রেখেছিলেন অ্যাবেল। পরে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের উঠানে সমাহিত করেন।   ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৬ মে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তিন দিন পর রুশোকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তদন্তের সময় শিশুটির দেহাবশেষে মেথামফেটামিন ও মারিজুয়ানার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, রুশো ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করেছিলেন।   তবে মামলার শুনানিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কারণে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। শিশুটির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত করা যায়নি।   রুশো স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মারিজুয়ানা এবং মাঝেমধ্যে মেথামফেটামিন ব্যবহার করতেন। তবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক গ্রহণ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।   ২০১৯ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিফেন্স আইনজীবীর পরামর্শে রুশো অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।   লাস ভেগাসের ফ্লোরেন্স ম্যাকক্লুর উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে অন্য কয়েদিদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁকে নিজের সন্তান হত্যাকারী হিসেবে দেখতেন।   পরবর্তী সময়ে প্রজনন অধিকারবিষয়ক আইনজীবী লরা ফিটজসিমন্স তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন।   নতুন আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রুশোর মাদক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে রুশো নিজেই জানতেন না তাঁর গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হয়েছিল কি না।   আইনজীবীরা আরও বলেন, আগের ডিফেন্স আইনজীবী তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই যুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়।   একই বছরের ৮ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান রুশো। তত দিনে দুই বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে।   দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিচারক চার্লস ম্যাকগি মামলাটিকে বিচারব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রুশো।   মুক্তির পরও রুশোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। কারাভোগের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে।   দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর দুই সন্তানও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন।   এদিকে চলতি বছরের মার্চে রুশোর আইনজীবীরা হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।   দীর্ঘ আলোচনার পর আগস্ট মাসে ১৬ লাখ ডলারে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি সেই অর্থ পেয়েছেন রুশো।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেভাদা রাজ্য সরকারও তাঁকে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটি হামবোল্ট কাউন্টির সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা থেকে আলাদা।   তবে এত অর্থ পাওয়ার পরও হারিয়ে যাওয়া সময় এবং পরিবারের ওপর পড়া ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুশো।   ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বাড়ির খরচ মেটানো, নতুন ব্যবসা শুরু করা এবং মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   এই মামলায় আরও একটি বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে। রুশোর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে যুক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভে মারা যাওয়া শিশুটির দেহাবশেষ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার সময়ও তা সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।   সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ আদালতে আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।   রুশোর মামলা যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন এবং গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   নেভাদার যে আইনের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ১৯১১ সালে প্রণীত। প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মতে, আইনটির প্রয়োগ গর্ভপাত ও স্বাভাবিক গর্ভপাতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।   তবে রুশোর দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত নেভাদার সংশ্লিষ্ট আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাঁর মামলায় পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি দণ্ডাদেশ বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল।   দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মাধ্যমে রুশোর আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে কারাভোগের কারণে তাঁর পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা এখনো তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড
মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিবারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত এই সাজা দেওয়ার পর তাঁর জীবন রক্ষায় কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। আনোজানের পরিবারও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোজান শিবারাসা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং কর্মসূত্রে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধর্মীয় বিতর্কের সূত্র ধরে তিনি তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর একটি মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।   ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে। সেখানে এক মুসলিম তরুণকে একটি কুকুরকে লাথি দিতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে বিতর্ক শুরু হলে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আনোজান মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে আনোজান ওই মন্তব্য মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। কিন্তু ততক্ষণে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি ওই স্ক্রিনশট আনোজানের সৌদি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে পাঠান। প্রতিষ্ঠানটি পরে বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানায়।   এরপর জুলাইয়ে আনোজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে সৌদির আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরে সাজা কমানোর জন্য তাঁর পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।   মামলার মোড় ঘুরে যায় ১৭ সেপ্টেম্বর। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনের অধীনে আনোজানের বিচার চেয়ে পৃথক আপিল করে। আপিল আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করার পর তাঁর আগের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।   শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৮ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আনোজানের মামলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রিয়াদে শ্রীলঙ্কা দূতাবাস এবং কলম্বোতে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আনোজানের স্বার্থ রক্ষা এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ পরে দেশটির পার্লামেন্টে জানান, আনোজানের মৃত্যুদণ্ড কমানো বা বাতিলের জন্য আইনি ও কূটনৈতিক দুই পথেই চেষ্টা চলছে। সৌদি আরবের আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি উচ্চতর আদালতে আপিলের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এই মামলার আইনি ব্যয় শ্রীলঙ্কা সরকার বহন করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।   আনোজানের পরিবার গত ২১ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করে। পরিবারকে তিনি আশ্বস্ত করেন, মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সৌদি বাদশাহর কাছে সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তারা আনোজানের কোনো খবর পায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আনোজানের সাজা মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। দেশটির একটি চার সদস্যের আইনি প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে গিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।   এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ বা সময়সূচি প্রকাশ করেনি। ফলে মামলাটি এখনো আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।   আনোজানের ঘটনা আবারও বিদেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। একটি অনলাইন মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া ঘটনাটি এখন একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে শ্রীলঙ্কা সরকার শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে পারে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
সরকারি গবেষণা অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়ছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হার্ভার্ডকে দেওয়া দুইশ বিশ কোটি ডলারের বেশি সরকারি গবেষণা অনুদান বাতিল করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন আপিল আদালতে পর্যালোচনা হচ্ছে।   বিষয়টি নিয়ে সোমবার বোস্টনভিত্তিক প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে শুনানি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেছেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদি শিক্ষার্থীদের হয়রানি মোকাবিলায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার অধিকার সরকারের রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।   অন্যদিকে হার্ভার্ডের আইনজীবীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত দাবির কাছে নতি স্বীকার করাতে সরকারি অর্থকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।   এই বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের কাছে একাধিক পরিবর্তনের দাবি জানায়। এসব দাবির মধ্যে বৈচিত্র্য ও সমতা বিষয়ক কর্মসূচিতে পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমের ওপর বাইরের নজরদারির মতো বিষয়ও ছিল।   হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার এসব দাবির বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, কোন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াবে, কাদের নিয়োগ দেবে এবং কোন গবেষণা করবে—এসব বিষয়ে সরকারের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া উচিত নয়।   এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের সরকারি অনুদান আটকে দেয় এবং পরে প্রায় ২২০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে।   হার্ভার্ড আদালতে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে। বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ করে, সরকারি অনুদান বন্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের রাজনৈতিক দাবিগুলো মেনে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাধ্য করা।   এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক অ্যালিসন বারোজ হার্ভার্ডের পক্ষে রায় দেন। তিনি মনে করেন, সরকারি অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।   এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত শুধু হার্ভার্ডের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান সমর্থন করে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থায়ন ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতিতে পরিবর্তন আনার সরকারের ক্ষমতা বাড়তে পারে।   অন্যদিকে হার্ভার্ডের অবস্থান আদালতে টিকে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাধীনতা এবং সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হতে পারে।   হার্ভার্ড এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরও কয়েকটি আইনি বিরোধে জড়িয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও থাকার অধিকার নিয়েও আলাদা মামলা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় হার্ভার্ড ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংঘাত এখন দেশটির বড় রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার একটি অংশ হয়ে উঠেছে।   এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই সরকারি অনুদান শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড পাবে কি না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরকারের শর্ত আরোপের ক্ষমতা কতটা থাকবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রতীকী ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি-২০২৭-এর নিবন্ধন এখনো শুরু না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে ফেডারেল আদালতে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন চালুর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারক জিনসুক ওহতা আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নজর এখন ওই সিদ্ধান্তের দিকে।   ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রেড ঈগল ল’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালু না করে আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে অন্তত ৩০ দিনের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।   ডিভি লটারি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন, সেই যোগ্যতার তালিকা প্রতিবছর আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।   ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরুর তারিখ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দপ্তর জানিয়েছিল, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে দপ্তর জানায়, নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা আবেদনের সময়সীমা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।   এদিকে মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে এবং এখন নতুন করে ৩০ দিনের নিবন্ধন পর্ব চালু করা কার্যত অসম্ভব। সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে মামলাকারী প্রতিষ্ঠান একমত নয়। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ওহটা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।   বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশকে ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের কয়েকটি ডিভি কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল।   তবে ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের যোগ্যতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু করেনি এবং নতুন কর্মসূচির চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকাও প্রকাশ করেনি। ফলে আদালত যদি নিবন্ধন চালুর পথ খুলে দেন, তার পরও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি যোগ্যতার তালিকার ওপর।   বর্তমানে ডিভি-২০২৭-এর জন্য কোনো নিবন্ধন চালু নেই। তাই আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কেউ ডিভি-২০২৭-এর আবেদন গ্রহণের দাবি করলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সরকারি তথ্য ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া তাদের নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।   ১৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত তাই শুধু নিবন্ধন আদৌ শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সম্ভাব্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এটি পরবর্তী পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর পেতে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় আদালতে বাবা-মায়ের সাজা
মাতৃদুগ্ধ পানের পর নবজাতকের মৃ ত্যু, শরীরে কো কে ন; বাবা-মা গ্রে প্তা র

ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী এক শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায় স্বীকার করা বাবা-মাকে আড়াই বছর করে কা রা দণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা তিন বছরের জন্য স্থ গিত রাখা হয়েছে। ফলে তাদের এখনই কা রা গা রে যেতে হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ট্রুরো ক্রাউন কোর্টে রোশেল থমাস ও অ্যান্ড্রু মন্ডারের সাজা ঘোষণা করা হয়।   ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর নিউকির হোটেল ভিক্টোরিয়ায় তাদের মেয়ে ডার্সিকে অ চে তন অবস্থায় পাওয়া যায়। জ রু রি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে কো কে নের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ঘটনার পর গ্রে প্তা র হওয়া দুজনই শিশুর প্রতি অবহেলার একটি করে অ ভি যোগে দোষ স্বীকার করেন।   আদালতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক সাইমন কার বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুটির শরীরে কো কে ন প্রবেশ করাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে শিশুটির মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাবা-মায়ের কর্মকাণ্ডই ডার্সির মৃ ত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্তও শুনানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, দুজনই কো কে ন ব্যবহার করতেন। তাদের পোশাক ও আঙুলের পাশাপাশি হোটেলকক্ষের একটি কাপেও কো কে ন পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, তাদের মা দ ক ব্যবহার শিশুটির জীবনকে ঝুঁ কির মধ্যে ফেলেছিল।   সাজা নির্ধারণের সময় বিচারক থমাসের মা ন সিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং মন্ডারের অনুশোচনা ও মা ন সিক অবস্থার বিষয় বিবেচনা করেন। স্থ গিত কা রা দণ্ডের পাশাপাশি দুজনকে এক বছর পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। থমাসকে অতিরিক্ত ছয় মাসের মা দ ক পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ল্যাক্টমেড তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, কো কে ন ও এর বিপাকজাত উপাদান বুকের দুধে পাওয়া যেতে পারে। নবজাতকের শরীরে কো কে ন নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় এনজাইম পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় তারা এ মা দ কে র প্রভাবে বিশেষভাবে ঝুঁ কিপূর্ণ। তবে এই সাধারণ চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য দিয়ে ডার্সির মৃ ত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
বাবার কাস্টডি জেতার কয়েক ঘন্টা পরই চার বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন মা
বাবার কাস্টডি জেতার কয়েক ঘন্টা পরই চার বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে চার বছরের মেয়ে ভিভিয়ান সাভেলাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, আদালত শিশুটিকে বাবার জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর একই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মা আত্মহত্যার চেষ্টা করে আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।    হিউস্টন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলে টেরা রিজার্ভ প্লেসের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ যায়। সেখানে ভিভিয়ানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। গুরুতর আহত মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি বেঁচে যাবেন।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি জানিয়েছে, ওই দিন শিশুটির হেফাজত নিয়ে আদালতে শুনানি হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারক ভিভিয়ানকে তার বাবা অ্যারন সাভেলার প্রধান তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবার কাছে যাওয়ার কথা ছিল।    ঘটনার সময় শিশুটির সৎবাবা ও দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা গুলির শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি। তদন্তকারীরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, আইনজীবীর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে পরিবার জানায়, ভিভিয়ানের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। বাবা ও কাছের মানুষদের স্নেহে বেড়ে উঠছিল শিশুটি। শোকের এই সময়ে পরিবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
‘আমার কেউ নেই', ইমিগ্রেশন কোর্টে নিজের পক্ষে লড়তে হচ্ছে গিয়ে এক শিশুর আর্তনাদ
‘আমার কেউ নেই', ইমিগ্রেশন কোর্টে নিজের পক্ষে লড়তে হচ্ছে গিয়ে এক শিশুর আর্তনাদ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আইনজীবী ছাড়াই অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া ১৩ বছরের হন্ডুরান শিশু অ্যাঞ্জেলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর হারলিনজেনের আদালতে শুনানির সময় দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ঘটনাটি উঠে এসেছে।    অ্যাঞ্জেল বিচারককে জানায়, তার মা ও পরিবারের প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং হন্ডুরাসে ফিরে যাওয়া বিপজ্জনক। বিচারক তাকে অ্যাসাইলামের যোগ্য নয় বলে জানিয়ে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার আবেদন করবে কি না, জানতে চান। কী করবে বুঝতে না পেরে শিশুটি কাঁদতে শুরু করে। পরে বিচারক বহিষ্কারের আদেশ দিয়ে আপিলের সময় দেন।    সিএনএন জানিয়েছে, দেশজুড়ে দুই বছর বয়সী শিশুরাও অভিবাসন আদালতে হাজির হচ্ছে, অনেকেই আইনজীবী ছাড়া। হারলিনজেনের ওই শুনানিতে তিন বছরের মাতেও মাইক্রোফোন নিয়ে খেলছিল। তবে তার আইনজীবী দূর থেকে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন।    অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ বা ইওআইআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলায় আইনজীবী বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে সেই প্রতিনিধিত্বের খরচ সরকারকে বহন করতে হয় না। ফলে আদালতে হাজির হলেই বিনা খরচে সরকারি আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।    সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে অ্যাকেশিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে আইনি সেবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। ওই ব্যবস্থায় প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান ২০ হাজারের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুকে সহায়তা দিত।   আগস্টে বিকল্প আইনি সেবার জন্য ইউএস কমিটি ফর রেফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টসকে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বক্তব্য, শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে ইওআইআর শিশুদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অস্বাভাবিকভাবে তাড়াহুড়া করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
আদালতে পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তির কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মারিয়া মেডিনা
হাতাকাটা পোশাকেই আদালতে বিপত্তি, আইনজীবীকে ব্লেজার পরতে বললেন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আদালতে এক নারী আইনজীবীর হাতাকাটা পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সান অ্যান্টোনিওর ক্রিমিনাল ডিফেন্স আইনজীবী মারিয়া মেডিনার দাবি, সংক্ষিপ্ত শুনানিতে অংশ নিতে গেলে বিচারক তার পোশাককে আদালতের জন্য ‘অনুপযুক্ত’ বলে প্রশ্ন তোলেন এবং সঙ্গে ব্লেজার আছে কি না জানতে চান।   ঘটনাটি ২১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির একটি আদালতে ঘটে। ৩২ বছর বয়সী মেডিনা আগে সান অ্যান্টোনিওতে টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ওই দিন তিনি ধূসর রঙের হাতাকাটা জে.ক্রু শিফট ড্রেস পরে আদালতে গিয়েছিলেন। পোশাকটি হাঁটুর কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের ছিল।   মেডিনার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারক তাকে বেঞ্চের কাছে ডেকে পোশাকটি দেখতে চান। অন্য আইনজীবী ও আসামিদের সামনেই তাকে পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিচারক জানতে চান, তিনি সত্যিই মনে করেন কি না যে এই পোশাক পরে জুরি ট্রায়ালে অংশ নেওয়া উপযুক্ত। এরপর তার গাড়িতে কোনো ব্লেজার আছে কি না জানতে চাওয়া হয়।   ঘটনার পর নিজের পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেডিনা। তিনি জানান, একই পোশাক টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের সময় বহুবার পরেছেন এবং এর আগেও বিভিন্ন আদালতে এটি পরে গেছেন। কোথাও আপত্তির মুখে পড়েননি। তাই বিচারকের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানান।   মেডিনা আরও দাবি করেন, আদালতের বাইরে পোশাকসংক্রান্ত যেসব নিষেধাজ্ঞা লেখা রয়েছে, তার পোশাক সেগুলোর কোনোটি লঙ্ঘন করেনি। বেক্সার কাউন্টির ক্রিমিনাল কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তাদের ব্যবসায়িক বা পেশাদার পোশাক পরতে হয়। তবে নির্দিষ্ট আদালতে তুলনামূলক কম আনুষ্ঠানিক পোশাক গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে বিচারকের কিছু বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।   মেডিনা জানিয়েছেন, ওই দিন তার মামলাটি জুরি ট্রায়ালে যাচ্ছিল না; এটি ছিল সংক্ষিপ্ত শুনানি। তারপরও ভবিষ্যতে ওই বিচারকের আদালতে গেলে তিনি ব্লেজার পরবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের কর্তৃত্বের প্রতি তার সম্মান রয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের প্রতি অসম্মান দেখানোর কোনো উদ্দেশ্য তার নেই।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ মেডিনার পোশাককে পেশাদার ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ বলেছেন, আদালতের মতো আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আইনজীবীদের কাঁধ ঢাকা পোশাক বা ব্লেজার পরাই উচিত।   তবে বিচারক ঠিক কী কারণে পোশাকটিকে অনুপযুক্ত মনে করেছিলেন, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির বর্ণনা মূলত মেডিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ও পরবর্তী সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।   সূত্র: সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস-নিউজ, এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
রক্তে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পাওয়ার পর ৬ মাসের শিশুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়
৬ মাসের শিশুর রক্তে ভয়াবহ মাত্রার অ্যালকোহল, ফ্লোরিডায় গ্রে প্তার বাবা-মা

ফ্লোরিডায় ৬ মাসের এক শিশুর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে শিশু অবহেলার অভিযোগে গ্রে প্তার করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, আরও কিছুটা দেরি হলে শিশুটির মৃ ত্যু হতে পারত।   ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর। পুলিশ জানায়, শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাই স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে বসার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সে তার ছোট বোনকে দেখতে গিয়ে তাকে প্লে-পেনের ভেতর অ চেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়।   প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল, কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে শিশুদের একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর শিশুটির রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়া যায়।   চিকিৎসকদের মতে, রক্তে ০.৩ শতাংশের বেশি অ্যালকোহল থাকলে অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রাণ ঘা তী হতে পারে। হাসপাতালে করা আরও কিছু পরীক্ষায় শিশুটির পেটে, মাথায় ও উরুতে কালশিটের দাগ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রতিবেদনে এসব আঘাতকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   চিকিৎসাকর্মীরা পুলিশকে জানান, শিশুটির অবস্থা ছিল ‘গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল’। তাদের ধারণা, আরও দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারত। এ ঘটনায় শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাইয়ের দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারা এবং সাহায্য চাওয়া তার জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানান।   জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক মেঘান মার্টিন জানান, অল্প বয়সী শিশুদের শরীরে অ্যালকোহল গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চেতনার পরিবর্তন, বমি এবং বমি শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।   শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী জেসি ওয়ালড্রপ এবং মা ২৭ বছর বয়সী দেশিরে উজুনবয়লুকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দুজনই দাবি করেন, কীভাবে শিশুটির শরীরে অ্যালকোহল গেল সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা নিজেদের মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন।   মা পুলিশকে জানান, ঘটনার আগের দিন তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, পরিবারের কেউ হয়তো একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে দিয়েছিল। পরে সেই বোতল থেকেই বাবা শিশুটির জন্য দুধ তৈরি করে থাকতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দেন।   তদন্তে পরিবারের এক সদস্য জানান, তিনি একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে সেটি বন্ধ ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন। পরে তিনি দেখতে পান বোতলটি ব্যাকপ্যাকের বাইরে চলে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক ভাই ওই বোতল থেকে কিছু ভদকা পান করেছিলেন।   ওয়ালড্রপ ও উজুনবয়লুকে ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রে প্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তারা জা মিনে মুক্তি পেলেও আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আইনজীবী ব্রায়ান্ট কামারেনো জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি ও আঘাতের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অভিযুক্তদের কয়েক বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন মারাইয়া থমাস। ছবি: সংগৃহীত
দোলনা ভেবে সন্তানকে ওভেনে রেখেছিলেন মা, দোষ স্বীকারের পর ১৩ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী মেয়েশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২৮ বছর বয়সী মারাইয়া থমাস। আদালতে করা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজা থেকে বাদ যাবে। ফলে তার আরও প্রায় ১১ বছর কারাভোগ করার কথা রয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির একটি বাড়িতে। সেদিন স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক মাস বয়সী শিশুটিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। শিশুটির নাম ছিল জা'রিয়াহ মে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভুল করে খাটের বদলে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান থমাস। তার এই বক্তব্যই পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে কীভাবে এমন ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতের নথিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   ঘটনার সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন ছিল। তদন্তকারীদের নথিতে তার পোশাক ও ডায়াপার শরীরের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।   পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক স্বজনকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়েছিল, কারণ শিশুটির সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছিল।   তবে মঙ্গলবার আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে মামলার মোড় ঘুরে যায়। থমাস প্রথম-ডিগ্রির শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর বিনিময়ে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। আদালত তাকে মিসৌরি সংশোধনাগার বিভাগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং প্রবেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   কানসাস সিটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএইচবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থমাস ইতোমধ্যে যে সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, তা তার সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কার্যত প্রায় ১১ বছর কারাভোগের কথা বলা হয়েছে।   ঘটনার পর জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর জ্যঁ পিটার্স বেকার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘটনায় একটি মূল্যবান প্রাণ হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিচারব্যবস্থা যথাযথভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।   ২০২৪ সালে মামলাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এখন দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। হত্যা মামলার পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন থমাস এবং তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: কেএসএইচবি, জ্যাকসন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত
অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তির সুযোগ দিতে হবে: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে দ্রুত পাঠানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা এসেছে। বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে, কোনো অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে কার্যকরভাবে জানাতে হবে এবং সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে।   গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বেআইনি বলে বহাল রেখেছে। মামলাটি মূলত এমন অভিবাসীদের নিয়ে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু সরকার তাদের সেই আদেশে উল্লেখ করা হয়নি এমন দেশে পাঠাতে চায়।   সহজভাবে বললে, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাকে গ্রহণে রাজি অন্য দেশে পাঠাতে পারে। এটিই সাধারণভাবে ‘তৃতীয় দেশে পাঠানো’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নতুন রায়ের মূল প্রশ্ন হচ্ছে—সেই ব্যক্তিকে কোথায় পাঠানো হবে তা আগে না জানিয়ে এবং সম্ভাব্য বিপদের কথা জানানোর যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে সরকার দ্রুত তাকে পাঠিয়ে দিতে পারবে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা থাকতে হবে।   মামলাটি ২০২৫ সালের মার্চে চারজন অ-নাগরিকের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের নতুন নীতিতে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ থাকা ব্যক্তিদের এমন দেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যেসব দেশের নাম তাদের আগের অপসারণ আদেশে ছিল না। একই সঙ্গে সেই দেশে গেলে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল না বলে তারা অভিযোগ করেন।   এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কোনো গ্রহণকারী দেশ কূটনৈতিকভাবে নিশ্চয়তা দিলে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিদের সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতন করা হবে না, সেই নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করার সুযোগ ছিল ওই নীতিতে। পরবর্তী সময়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আরও একটি নির্দেশনা দিয়ে নীতিটির প্রয়োগ স্পষ্ট করে।   কিন্তু অভিবাসীদের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, একটি দেশের সাধারণ কূটনৈতিক নিশ্চয়তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। কারণ একজন ব্যক্তির জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতামত কিংবা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে কোনো দেশে আলাদা ঝুঁকি থাকতে পারে। একইভাবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্যাতনের ব্যক্তিগত আশঙ্কাও থাকতে পারে। মার্কিন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন দেশে কাউকে পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অধীনেও নির্যাতনের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশে কাউকে পাঠানো নিয়ে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের নথিতে এই দুই ধরনের আশঙ্কার ভিত্তিতে করা দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   আপিল আদালতের বিচারক সেথ আফ্রামে রায়ের ব্যাখ্যায় মূল সমস্যাটি তুলে ধরেছেন। আদালতের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হবে তা আগে জানানো না হলে সেই দেশে নিপীড়নের আশঙ্কার ভিত্তিতে অপসারণের বিরোধিতা করার অধিকার বাস্তবে খুব কমই কার্যকর থাকে। তাই গন্তব্য সম্পর্কে আগাম কার্যকর নোটিশ এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রয়োজন।   এর আগে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল জেলা আদালতও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। সেই আদালত বলেছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে গন্তব্য জানাতে হবে এবং সেই দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। পরে বিষয়টি আপিল আদালতে যায়।   মামলাটি এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্তও পৌঁছেছিল। আগের একটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ আদালত জেলা আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল। এরপর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাকে বেআইনি ঘোষণা করে। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরকার প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে যায়।   ১৮ সেপ্টেম্বরের রায়ে আপিল আদালত জেলা আদালতের সব যুক্তি অবশ্য বহাল রাখেনি। তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সরকারকে প্রথমে অভিবাসীর মনোনীত দেশ বা নাগরিকত্বের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে—এ সংক্রান্ত জেলা আদালতের দুটি ঘোষণামূলক সিদ্ধান্ত মামলাকারীদের আইনি অবস্থানসংক্রান্ত কারণে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ কার্যকর নোটিশ এবং নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কার ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বহাল রেখেছে আপিল আদালত।   আদালত স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ২০২৫ সালের মার্চ ও জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাও প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে বেআইনি হিসেবে বাতিল করার জেলা আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। অর্থাৎ সরকার তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি; বরং ওই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
কারাগারে বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনায় আলশেখকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড
সিরিয়ায় বন্দিদের নি র্যাতন, সাবেক আসাদ কর্মকর্তার ৬০ বছরের কারাদণ্ড সাজা দিল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বন্দিদের নি র্যাতনের দায়ে দেশটির এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালত সামির উসমান আলশেখকে এই সাজা দেন।   আলশেখ ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার কুখ্যাত আদরা কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি তাকে নি র্যাতনের ষড়যন্ত্রের এক অভিযোগ এবং নি র্যাতনের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে প্রমাণ হয়, কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দিকে নি র্যাতনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এতে সরাসরি অংশও নিয়েছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে আলশেখ কিছু বন্দিকে আদরা কারাগারের একটি বিশেষ অংশে পাঠাতেন। সেখানে তাদের ছোট ছোট একাকী কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে নি র্যাতন করা হতো। দুই সপ্তাহের বিচার চলাকালে তিনজন ভুক্তভোগী আদালতে তাদের ওপর চালানো নি র্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ছাদের পাইপের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হতো। এছাড়া শরীর ভাঁজ করে ফেলার মতো একটি যন্ত্র ব্যবহার করেও নি র্যাতন করা হয়েছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, আলশেখ জানতেন তার কর্মকাণ্ড বেআইনি ও ভুল ছিল। তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বন্দিদের ওপর নি র্যাতনের নির্দেশ দেন এবং তাতে অংশ নেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির কারাগারগুলোতে ব্যাপক নি র্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, হাজার হাজার মানুষকে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আটক রাখা হয়েছিল। আলশেখ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে নাগরিকত্বের আবেদন করেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তিনি নিজের অতীত সম্পর্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নি র্যাতনের মামলার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড নেওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা আলশেখের জন্য কমপক্ষে ৮০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা পাঁচ বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি দেন, আলশেখের বয়স ৭৪ বছর এবং তার গুরুতর শারীরিক ও জ্ঞানগত সমস্যা রয়েছে। তারা আরও জানান, সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে তিনি সেখানে নতুন সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তবে এরপরও দেশটিতে বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের অভিযোগ
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের চেষ্টা, লাস ভেগাসের পুলিশ কর্মকর্তা ও স্ত্রী হেফাজতে

লাস ভেগাসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দামী পণ্য ও গিফট কার্ড কেনার পর সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লেনদেন বাতিলের আবেদন করতেন। অভিযোগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার ঘটনাও রয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আন্তোনিও শ্যাভেজ, বয়স ২৮ বছর। তাঁর স্ত্রী ক্লদিয়া গুজম্যান-মারকেজের বয়স ৩০ বছর। লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা শ্যাভেজ ২০২০ সাল থেকে বিভাগটিতে কর্মরত। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত কথিত অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি নিজেদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দামি পণ্য ও গিফট কার্ড কিনতেন। পরে কার্ড বা ওয়ালেট হারিয়ে বা চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কাছে ওই লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানাতেন। এতে পণ্য নিজেদের কাছে রেখেই অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ মে সাউথ লাস ভেগাস বুলেভার্ডের টাউন স্কয়ার কনসিয়ার্জ থেকে দম্পতি ১৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের গিফট কার্ড কেনেন। পরে তাঁরা ক্যাপিটাল ওয়ান ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের কাছে ওই লেনদেন নিয়ে অভিযোগ করেন। শ্যাভেজ একটি অ্যাপল স্টোরে ১ হাজার ২০০ ডলারের বেশি মূল্যের কেনাকাটা নিয়েও আপত্তি জানান এবং তাঁর ওয়ালেট হারিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। একই সময়ে গুজম্যান-মারকেজের বিরুদ্ধেও একাধিক দামী কেনাকাটার পর লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, দুটি লুই ভুইটন থেকে করা কেনাকাটার মূল্যই ছিল ১১ হাজার ডলারের বেশি। কথিত অনিয়মের ঘটনা নেভাদা ছাড়িয়ে ক্যালিফোর্নিয়াতেও পৌঁছায়। নিউপোর্ট বিচের ফ্যাশন আইল্যান্ডে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ওই গিফট কার্ড ব্যবহার করে লাস ভেগাসের একটি গাড়ির দোকান ও আরিতজিয়া স্টোর থেকে কেনাকাটা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শ্যাভেজ নিজের কার্ড চুরি যাওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হেন্ডারসন পুলিশ ডিপার্টমেন্টে একটি ভুল তথ্যসম্বলিত রিপোর্টও করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, তদন্তকারীদের কাছে শ্যাভেজ তাঁর স্ত্রী এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তৃতীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথিত আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর আইনজীবী শ্যাভেজের নির্দোষ থাকার সাংবিধানিক অধিকার এবং তাঁর আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসের আদালতে শ্যাভেজ হাজির হলে প্রসিকিউশন তাঁর জন্য ১ লাখ ডলার নগদ জামিন এবং গৃহবন্দিত্বের আবেদন করে। তবে বিচারক রেবেকা স্যাক্স সেই আবেদন নাকচ করেন। শ্যাভেজের আগের কোনো অপরাধের ইতিহাস না থাকা, স্থানীয়ভাবে তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং অভিযোগগুলো সহিংস ধরনের না হওয়াকে বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে নগদ জামিন ছাড়াই মুক্তির নির্দেশ দেন। শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রী দুজনকেই ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। দম্পতির বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ১ লাখ ডলারের কম মূল্যের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগ, সম্পদ আত্মসাৎ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের বিষয়ে যোগসাজশ এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রীকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালকের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল
ছুরি দেখিয়ে নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালকের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক ট্যাক্সিচালক গুরমিত সিংয়ের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ২০১১ সালে ট্যাক্সিতে এক নারী যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ওই অপরাধের তথ্য গোপন করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত গত ২৬ আগস্ট সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের আদেশ দেন। বিচার বিভাগ সোমবার, ৩১ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে।   গুরমিত সিং ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয় মাসের অস্থায়ী ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে কয়েক বছর অনুমোদনহীনভাবে দেশটিতে থাকার পর পারিবারিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০০ সালের জুনে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মে মাসে, মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার কয়েক সপ্তাহ আগে, সিং ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। এক নারী যাত্রী ট্যাক্সিতে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি তাকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যান যেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। ঘুম থেকে উঠে ওই নারী দেখতে পান, সিং তার ওপর চেপে বসে আছেন এবং তার গলায় ছুরি ধরে রেখেছেন।   এরপর সিং ওই নারীকে বেঁধে ও মুখ বন্ধ করে ধর্ষণ করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভোরে ওই নারী ট্যাক্সি থেকে পালিয়ে রাস্তায় গিয়ে সাহায্য চান।   অপরাধের কয়েক মাস পরও সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গোপন রাখেন। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে তিনি প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ এবং যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।   চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের জন্য মামলা করে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ফেডারেল আদালত তার নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, নাগরিকত্ব অপরাধীদের জন্য কোনো সুরক্ষা নয়। বিচার বিভাগের ভাষ্য, সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করায় তিনি আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।   আদেশ অনুযায়ী, সিংকে তার ভুলভাবে পাওয়া নাগরিকত্বের নথি হস্তান্তর করতে হবে। তিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নাগরিকত্ব বাতিলের পর কারাদণ্ড শেষ হলে তার অভিবাসন সংক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায়  অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন
ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন

মিনেসোটায় গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে মিনেসোটায় হস্তান্তর ঠেকাতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বুধবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের ফেডারেল বিচারক ফার্নান্দো রদ্রিগেজ জুনিয়র এই সিদ্ধান্ত দেন। ফলে ৯০ দিনের আটকসীমা শেষ হওয়ায় কাস্ত্রোর টেক্সাসের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।   ৫২ বছর বয়সী কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্টের চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে একটি ইমিগ্রেশন অভিযান চলাকালে গুলির ঘটনায়। ওই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিস পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।   মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর গত ২৯ মে টেক্সাস রেঞ্জার্স তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি ক্যামেরন কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। তবে মিনেসোটার বারবার অনুরোধের পরও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করেননি।   মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, কাস্ত্রোকে মুক্তি না দিয়ে তাকে মিনেসোটায় পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টেক্সাসকে বাধ্য করা হোক। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, মুক্তি পেলে কাস্ত্রো পালিয়ে যেতে পারেন।   তবে বিচারক রদ্রিগেজ বলেন, টেক্সাসের গভর্নর অ্যাবট এখনো কাস্ত্রোর প্রত্যর্পণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। ফলে এ পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো চূড়ান্ত আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিদ্যমান আইনে গভর্নরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই বলে আদালত উল্লেখ করেন।   অ্যাবটের অবস্থানের পেছনে মূল প্রশ্ন হলো, কাস্ত্রোকে আদৌ ‘ফিউজিটিভ’ বা আইন এড়িয়ে পালিয়ে থাকা আসামি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কি না। অ্যাবটের পক্ষের যুক্তি, কাস্ত্রো নিজে মিনেসোটা থেকে পালিয়ে টেক্সাসে যাননি। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে টেক্সাসে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাকে প্রচলিত অর্থে পলাতক আসামি বলা যায় কি না, তা নিয়ে টেক্সাসের প্রশ্ন রয়েছে।   অন্যদিকে মিনেসোটার কর্মকর্তারা বলছেন, কথাটি অপ্রাসঙ্গিক। তাদের দাবি, কথিত অপরাধের সময় কাস্ত্রো মিনেসোটায় ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি টেক্সাসে আটক আছেন। তাই তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো উচিত।   মিনেসোটার অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারির ওই ঘটনায় কাস্ত্রো একটি বন্ধ দরজার ভেতর দিয়ে গুলি চালান এবং পরে ঘটনাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কাছাকাছি একটি ক্যামেরার ফুটেজ তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং কাস্ত্রো দোষী সাব্যস্ত হননি।   মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এর আগে জানিয়েছিল, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনে অভিযোগগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে টেক্সাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে গভর্নরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে রাজ্যের তদন্ত শেষ করার সুযোগ থাকা উচিত।   আদালতের বুধবারের সিদ্ধান্ত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটার ফৌজদারি অভিযোগ বাতিল করেনি। তবে টেক্সাসে তার আটক থাকার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন কাস্ত্রো মুক্তি পাওয়ার পর মিনেসোটার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
অভিনেত্রী আনা নিকোল স্মিথ ও জে. হাওয়ার্ড মার্শাল
সম্পত্তির আশায় ২৬ বছর বয়সে ৮৯ বছরের বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে, দুই দশকের মেলেনি সম্পত্তি

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্লেবয় মডেল ও অভিনেত্রী আনা নিকোল স্মিথ বিয়ে করেছিলেন ৮৯ বছর বয়সী তেল ব্যবসায়ী জে. হাওয়ার্ড মার্শালকে। বিয়ের মাত্র ১৪ মাস পর মার্শালের মৃত্যু হলে তার বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। প্রায় দুই দশক ধরে চলা সেই মামলা দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ওই সম্পত্তি থেকে কোনো অর্থই পাননি স্মিথ বা তার উত্তরাধিকারী সম্পত্তি।   স্মিথের আসল নাম ছিল ভিকি লিন হোগান। বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ২৬ বছর। ১৯৯৫ সালের আগস্টে মার্শাল মারা যাওয়ার পর তার উইল ও জীবিত অবস্থায় করা সম্পত্তির অছি চুক্তিতে ছেলে ই. পিয়ার্স মার্শালকে প্রধান উত্তরাধিকারী করা হয়। সেখানে স্মিথের জন্য কোনো অংশ রাখা হয়নি।   তবে স্মিথ দাবি করেন, মার্শাল তাকে মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিয়ের সময় তার সম্পদের অর্ধেকের জন্য একটি আলাদা অছি তহবিল তৈরি করা হবে। এই দাবির ভিত্তিতে তিনি মার্শালের ছেলে পিয়ার্সের বিরুদ্ধে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন।   প্রথমে টেক্সাসের আদালতে বিষয়টি ওঠে। সেখানে স্মিথের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে একই বিরোধ নতুন মোড় নেয়। একপর্যায়ে স্মিথের পক্ষে প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি রায় দেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ কমিয়ে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন ডলার করা হয়। তবে এসব রায় শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।   মামলাটি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছে যায়। মার্শাল বনাম মার্শাল মামলায় আদালত রায় দেয়, টেক্সাসের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার কারণে স্মিথের ফেডারেল দাবি শোনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। এই রায়ে স্মিথকে কোনো অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তবে তার ফেডারেল আইনি দাবি নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।   এরপর ২০১১ সালে মামলাটি আবারও সর্বোচ্চ আদালতে যায়। এবার মূল প্রশ্ন ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার দেউলিয়া আদালত স্মিথের পক্ষে যে চূড়ান্ত রায় দিয়েছিল, সেটি দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা ওই আদালতের ছিল কি না। সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই ধরনের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা দেউলিয়া আদালতের ছিল না। ফলে স্মিথের পক্ষে দেওয়া আগের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের রায় আর বহাল থাকেনি।   এর মধ্যে মামলার দুই প্রধান ব্যক্তিই মারা যান। ই. পিয়ার্স মার্শাল ২০০৬ সালে মারা যান। পরের বছর ২০০৭ সালে ৩৯ বছর বয়সে মারা যান আনা নিকোল স্মিথ। তবে তাদের মৃত্যুর পরও দুই পক্ষের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যান।   স্মিথের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির পক্ষে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া হয়। তার কন্যা ড্যানিলিন মার্শাল-বির্কহেডের স্বার্থও এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মার্শাল পরিবারের বিতর্কিত সম্পত্তি থেকে স্মিথের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা কোনো অর্থ পাননি।   প্রায় দুই দশকের এই মামলা শুধু একজন তারকার উত্তরাধিকার দাবি নিয়ে আলোচিত হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, দেউলিয়া আদালতের ক্ষমতা এবং অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতের এখতিয়ার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করে।   অর্থাৎ, ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পত্তির দাবিতে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আনা নিকোল স্মিথ বিভিন্ন পর্যায়ে আদালতে বড় ধরনের সাফল্য পেলেও শেষ পর্যন্ত সেই বিপুল সম্পদের কোনো অংশ তার নিজের বা তার উত্তরাধিকারীদের হাতে পৌঁছায়নি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০