সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী, অ্যাকাউন্টে ৫ ঋণ ৫ হাজার কোটি ডলার!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৩:৫০
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী

বন্ধুদের সঙ্গে রাতে বারে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরে ব্যাংক অ্যাপ খুলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণী ম্যাডি ম্যাকগিভার্ন। ধারণা ছিল, রাতের খরচের পর অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে সেটিই দেখবেন। কিন্তু স্ক্রিনে যে অঙ্কটি ভেসে উঠল, তা দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান তিনি। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স দেখাচ্ছিল মাইনাস ৪৯ হাজার ৯৯৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৭ ডলার ৯৮ সেন্ট, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারের ঋণ। পরে অবশ্য জানা যায়, পুরো ঘটনাই ছিল ব্যাংকের একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ। 

 

ঘটনাটি নতুন নয়। ২০২১ সালে ম্যাডির সঙ্গে এটি ঘটেছিল এবং তখনই তার বন্ধুর ধারণ করা ভিডিও টিকটকে ভাইরাল হয়। সম্প্রতি ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ল্যাডবাইবেল। 

 

ঘটনার সময় ম্যাডির বয়স ছিল ২২ বছর। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে থেকে ফিরে খাবার অর্ডার করার আগে তিনি চেজ ব্যাংকের অ্যাপ খুলেছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক ব্যালেন্সের বদলে সেখানে প্রায় মাইনাস ৫০ বিলিয়ন ডলার দেখে প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

 

বন্ধু গেব ফ্লোরেস সেই মুহূর্ত ভিডিও করেন। ভিডিওতে হতভম্ব ম্যাডিকে বন্ধুদের কাছে জানতে চাইতে দেখা যায়, এখন তিনি কী করবেন। পাশে থাকা বন্ধুরাও প্রথমে মনে করেছিলেন, হয়তো ম্যাডি বিষয়টি বাড়িয়ে বলছেন। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন দেখার পর তারাও অবাক হয়ে যান। ভিডিওটি পরে টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ সেটি দেখেন। 

 

আরও মজার বিষয় ছিল, ম্যাডির অন্য একটি অ্যাকাউন্টে তখনও প্রায় ৭৬ ডলার ব্যবহারযোগ্য অর্থ দেখাচ্ছিল। অথচ একই সঙ্গে ব্যাংকিং অ্যাপে তার নামে এমন এক অঙ্কের ঋণ দেখানো হচ্ছিল, যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

 

বিষয়টি বুঝতে না পেরে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ম্যাডি। তিনি ব্যাংক প্রতিনিধিকে জানান, অ্যাপে তাকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণী দেখানো হচ্ছে। এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কর্মীও প্রথমে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

 

অ্যাকাউন্টে আরও একটি অদ্ভুত তথ্য দেখা যাচ্ছিল। সেখানে এমন একটি এন্ট্রি ছিল, যাতে ২০৯৯ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা দেখানো হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

 

পরে চেজ ব্যাংক বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়। ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানান, সপ্তাহান্তে তাদের সিস্টেমে একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ হয়েছিল এবং সীমিতসংখ্যক অ্যাকাউন্ট এতে প্রভাবিত হয়। সমস্যাটি সমাধান করার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোতে আবার সঠিক ব্যালেন্স দেখানো শুরু হয়। ব্যাংক আরও জানায়, সমস্যার কারণে গ্রাহকেরা তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হননি এবং এ জন্য কোনো অতিরিক্ত ফিও দিতে হয়নি। 

 

অর্থাৎ ম্যাডির নামে সত্যিই ৫ হাজার কোটি ডলারের কোনো ঋণ ছিল না। ব্যাংকের ডিজিটাল সিস্টেমে সাময়িক ত্রুটির কারণেই তার অ্যাপে সেই বিপুল অঙ্কটি দেখাচ্ছিল।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। অনেকে মজা করে মন্তব্য করলেও অনেক ব্যবহারকারী বলেন, নিজের ব্যাংক অ্যাপে হঠাৎ এমন বিপুল ঋণ দেখলে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

শেষ পর্যন্ত ব্যাংক সমস্যাটি ঠিক করে ম্যাডির প্রকৃত ব্যালেন্স ফিরিয়ে দেয়। তবে একটি সাধারণ রাতের শেষে ব্যাংক অ্যাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণী হিসেবে দেখতে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ি কিনতে মাসে গুনতে হচ্ছে বাড়তি শত শত ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ি কিনতে মাসে গুনতে হচ্ছে বাড়তি শত শত ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ রেট (বন্ধকী সুদের হার) অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা গত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মর্টগেজ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড-রেট মর্টগেজ গত সপ্তাহের ৭.০৩% থেকে লাফিয়ে ৭.২৮%-এ পৌঁছেছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। এক বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ৬.৩৪%। এ নিয়ে টানা ছয় সপ্তাহ মর্টগেজ রেট বৃদ্ধি পেল।   গত বছরের ২২ নভেম্বরের (৭.২৯%) পর বর্তমানে মর্টগেজ রেট সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রিফাইন্যান্সিং বা পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ১৫ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেটও গত সপ্তাহের ৬.৪২% থেকে বেড়ে ৬.৬০%-এ দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫.৫৫%। মর্টগেজ রেট বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ক্রেতাদের মাসে কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্রেতাই এখন বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।   ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেট সাময়িকভাবে ৫.৯৮%-এ নেমে এসেছিল, যা ২০২২ সালের শেষের দিকের পর সর্বনিম্ন ছিল। কিন্তু এরপর থেকে সুদের হার প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায়, বর্তমান হারে ৪ লাখ ডলারের হোম লোন নেওয়া একজন ক্রেতাকে প্রতি মাসে প্রায় ২৭৬ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। অবশ্য, ক্রেতার আয় ও ক্রেডিট স্কোরের ওপর ভিত্তি করে মর্টগেজ রেট বর্তমান গড়ের চেয়ে কিছুটা কম বা বেশিও হতে পারে। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর থেকে মর্টগেজ রেট ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আবাসন বাজার বেশ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।   মর্টগেজ রেট মূলত মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতির বিষয়ে বন্ড-মার্কেট বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ডের গতিপথ অনুসরণ করে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় এই ট্রেজারি ইয়েল্ড ফেব্রুয়ারির শেষের ৩.৯৭% থেকে লাফিয়ে বৃহস্পতিবার ৫.২৭%-এ পৌঁছেছে, যা ২০০৭ সালের আর্থিক সংকটের ঠিক আগের অবস্থার সমতুল্য। ইয়েল্ড বাড়লে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ধীর করে দেয় এবং শেয়ারসহ অন্যান্য বিনিয়োগের দাম কমিয়ে দেয়।   মহামারীকালীন সর্বনিম্ন স্তর থেকে ২০২২ সালে মর্টগেজ রেট বাড়তে শুরু করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছর পুরানো বাড়ি বিক্রি ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আটকে ছিল। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েল্টরস জানিয়েছে, আগস্ট মাসে বাড়ি বিক্রি জুলাইয়ের তুলনায় ২% কমেছে, যা গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:২
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সফল তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহফূজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

১৮ বছর বয়সে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, আজ ১১৪ কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে মাহফুজ আহমেদ

স্ত্রীকে না জানিয়ে পাকিস্তানে নেওয়া একটি তালাকের রায় টেক্সাসে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে না জানিয়ে পাকিস্তানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তালাক, টেক্সাসে স্বীকৃতি পেল না

যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার উন্মুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ভারতের কিছু আবেদনকারীর অগ্রগতি, বাংলাদেশিদের চিত্র ভিন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারতের ইবি-২ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি ‘অনুপলব্ধ’ ছিল। নতুন বুলেটিনে সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফ তারিখ যথাক্রমে ১ নভেম্বর ২০১৩ ও ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ ক্যাটাগরির তারিখও এগিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদনে মূলত এই অগ্রগতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।    তবে অক্টোবরের পরিবর্তন সব আবেদনকারীর জন্য সুখবর নয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীরা সাধারণত বুলেটিনের ‘অন্যান্য দেশ’ কলামের অধীনে পড়েন। সেই কলামে ইবি-১ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি আগের মতোই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইবি-২-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অবস্থা থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫ হয়েছে। ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী ক্যাটাগরির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ হয়েছে। ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ ক্যাটাগরিতে তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২ থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২২ হয়েছে।    এসব তারিখ দিয়ে গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য দিন বোঝানো হয় না। আবেদনকারীর প্রাইয়োরিটি ডেট বা অগ্রাধিকার তারিখ সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফের আগে থাকলে ভিসা নম্বর দেওয়া বা গ্রিন কার্ড আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাটঅফ এগোলে অপেক্ষার সারিতে নতুন কিছু আবেদনকারী সামনে আসেন; পিছিয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও অপেক্ষায় পড়ে।    এখানে আবেদন জমা দেওয়া এবং আবেদন অনুমোদন পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে কর্মভিত্তিক আই-৪৮৫ আবেদন জমার যোগ্যতা নির্ধারণে ইউএসসিআইএস ‘আবেদনের তারিখ’ সারণি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য ‘অন্যান্য দেশ’ কলামে ওই সারণিতে ইবি-২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের ১ আগস্ট ২০২৪ এবং ইবি-৩ অন্যান্য কর্মীদের ১ জুন ২০২২। অন্য সব শর্ত পূরণ হলে এই কাটঅফের আগের প্রাইয়োরিটি ডেটধারী কেউ আবেদন জমা দিতে পারেন; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তবু আলাদা ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ’ দেখতে হবে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছরের ভিসা সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এতে কয়েকটি ক্যাটাগরি এগোলেও ‘অন্যান্য দেশ’ শ্রেণির কিছু কর্মভিত্তিক তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভিসা ইস্যু বছরের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১২:২৫
টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে নতুন অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের সরকারি স্কুলে এক বছরে অভিবাসী শিক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজারের বেশি

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য অনুদান চেয়ে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা স্টেফানি মুলালি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের অভিযোগ, এ যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

অনলাইন দুনিয়ায় দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণ ও বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাজিট’-এর পর ভারতীয় নারীদের নিশানা করে নতুন বর্ণবাদী গালি ‘ল্যাট্রিনাস’

টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইক। ছবি: সংগৃহীত
টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইককে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি একটি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।    ৫০ বছর বয়সী পাইক ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত। অপরাধের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকলেও আপিল আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করলে রাতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।    প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, পাইককে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। তাঁর আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে নেওয়া হয়। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আইনজীবীদের কাছে তখন বিস্তারিত তথ্য ছিল না।   টেনেসির সংশোধন বিভাগ দাবি করেছে, অনুমোদিত নিয়মের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। তবে সেই নিয়মে প্রথম দফার পর দণ্ডিত ব্যক্তি জীবিত থাকলে দ্বিতীয় দফা ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, দ্বিতীয় দফার পরও জীবিত থাকলে কী করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা নেই বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গভর্নর বিল লি ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   চলতি বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জটিলতার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। মে মাসে আরেক দণ্ডিত ব্যক্তির শরীরে ওষুধ দেওয়ার জন্য শিরায় সংযোগ স্থাপন করতে না পারায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করতে হয়েছিল। তবে পাইকের ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়ার পরও মৃত্যু না হওয়ার ঘটনাকে ব্যতিক্রমী বলেছেন মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবিন মাহের।   ফেসবুক হুক: আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর রাতে শুরু হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া। দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও জীবিত ছিলেন ক্রিস্টা পাইক। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি চলতি বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে টেনেসি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১০:২৯
লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের চারতলা থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৫ পরিবারের হাতে বিশ্বের পরিচিত সব ব্র্যান্ড, সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন

ছুটিতে এসে ভালো লাগায় ফ্রান্সের প্যারিস ছেড়ে ফ্লোরিডায় বসবাস শুরু করেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স থেকে ফ্লোরিডায় এসে ১০ বছরেও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না নারী

0 Comments