একই মায়ের যমজ সন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল দুই শিশুর বাবা দুইজন
ব্রাজিলের গোইয়াস রাজ্যের মাইনেইরোস শহরের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর জানতে পারেন, দুই শিশুর জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। শিশুদের জন্মের প্রায় আট মাস পর করা ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাকে বলা হয় ‘হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই সময় ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলেসের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতি পুরোনো ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী একই দিনে দুই ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে তিনি যমজ সন্তানের গর্ভধারণ করেন। শুরুতে তিনি ধারণা করেছিলেন, দুই শিশুর বাবা একই ব্যক্তি। তবে সন্তান জন্মের পর তাদের শারীরিক গঠনে কিছুটা পার্থক্য দেখে বিষয়টি নিয়ে তার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়।
শিশুদের বয়স যখন প্রায় আট মাস, তখন সম্ভাব্য বাবাকে নিয়ে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দুই শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের জৈবিক বাবা। দ্বিতীয় শিশুর সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
এরপর তরুণীর মনে পড়ে, গর্ভধারণের সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি তিনি আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, তিনি অন্য শিশুটির জৈবিক বাবা।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়ে যান। তিনি জানান, তিনি জানতেনই না যে একই গর্ভধারণে যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই শিশুকে দেখতে অনেকটাই একই রকম।
মামলাটি অনুসরণকারী চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো, ফ্যাকালদাদে মরগানা পোট্রিচের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, ব্যাখ্যা করেন যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে হলে একই মাসিক চক্রে একজন নারীর দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করতে হয়। এরপর উর্বর সময়ের কাছাকাছি সময়ে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে ওই দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে দুই ভিন্ন পুরুষের সন্তান একই গর্ভে বেড়ে উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে দুই শিশু অভিন্ন যমজ নয়, বরং ভ্রাতৃযমজ বা দ্বিযুগ্ম যমজ। অর্থাৎ, তারা দুটি আলাদা ডিম্বাণু ও দুটি আলাদা শুক্রাণু থেকে তৈরি হয়। ফলে তাদের মধ্যে জিনগত মিল সাধারণ ভাই-বোনের মতোই হয়। তবে তারা একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও হেটেরোপ্যাটারনাল যমজের এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপারফেকান্ডেশন’ বলতে একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু ভিন্ন সময়ে নিষিক্ত হওয়াকে বোঝায়। আর যখন ওই ডিম্বাণুগুলো ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তখন তাকে হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন বলা হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল।
মাইনেইরোসের এই ঘটনায় চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো জানিয়েছিলেন, সে সময়ের প্রাথমিক চিকিৎসা-সাহিত্যে এমন প্রায় ২০টি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ সংখ্যা বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ঘটনার নির্ভুল হিসাব নয়, কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।
এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যমজ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দুই শিশুরই নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ২০২০ সালে কলম্বিয়ায় প্রকাশিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও ভিন্ন বাবার যমজ সন্তানের একটি ঘটনা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, পিতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একজন যমজের পরীক্ষা করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।
মাইনেইরোসের ওই ঘটনায় দুই শিশুই একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের জৈবিক বাবা আলাদা। আর দুই শিশুকে দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় বিষয়টি আরও বিস্ময় তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষাই নিশ্চিত করে দেয়, একই গর্ভধারণে জন্ম নেওয়া দুই যমজের পিতৃত্বের গল্প এক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreব্রাজিলের গোইয়াস রাজ্যের মাইনেইরোস শহরের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর জানতে পারেন, দুই শিশুর জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। শিশুদের জন্মের প্রায় আট মাস পর করা ডিএনএ পরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাকে বলা হয় ‘হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই সময় ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলেসের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতি পুরোনো ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী একই দিনে দুই ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে তিনি যমজ সন্তানের গর্ভধারণ করেন। শুরুতে তিনি ধারণা করেছিলেন, দুই শিশুর বাবা একই ব্যক্তি। তবে সন্তান জন্মের পর তাদের শারীরিক গঠনে কিছুটা পার্থক্য দেখে বিষয়টি নিয়ে তার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। শিশুদের বয়স যখন প্রায় আট মাস, তখন সম্ভাব্য বাবাকে নিয়ে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দুই শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের জৈবিক বাবা। দ্বিতীয় শিশুর সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এরপর তরুণীর মনে পড়ে, গর্ভধারণের সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি তিনি আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, তিনি অন্য শিশুটির জৈবিক বাবা। তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়ে যান। তিনি জানান, তিনি জানতেনই না যে একই গর্ভধারণে যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই শিশুকে দেখতে অনেকটাই একই রকম। মামলাটি অনুসরণকারী চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো, ফ্যাকালদাদে মরগানা পোট্রিচের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, ব্যাখ্যা করেন যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে হলে একই মাসিক চক্রে একজন নারীর দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করতে হয়। এরপর উর্বর সময়ের কাছাকাছি সময়ে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে ওই দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে দুই ভিন্ন পুরুষের সন্তান একই গর্ভে বেড়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই শিশু অভিন্ন যমজ নয়, বরং ভ্রাতৃযমজ বা দ্বিযুগ্ম যমজ। অর্থাৎ, তারা দুটি আলাদা ডিম্বাণু ও দুটি আলাদা শুক্রাণু থেকে তৈরি হয়। ফলে তাদের মধ্যে জিনগত মিল সাধারণ ভাই-বোনের মতোই হয়। তবে তারা একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও হেটেরোপ্যাটারনাল যমজের এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপারফেকান্ডেশন’ বলতে একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু ভিন্ন সময়ে নিষিক্ত হওয়াকে বোঝায়। আর যখন ওই ডিম্বাণুগুলো ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তখন তাকে হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন বলা হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল। মাইনেইরোসের এই ঘটনায় চিকিৎসক তুলিও ফ্রাঙ্কো জানিয়েছিলেন, সে সময়ের প্রাথমিক চিকিৎসা-সাহিত্যে এমন প্রায় ২০টি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ সংখ্যা বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ঘটনার নির্ভুল হিসাব নয়, কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যমজ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দুই শিশুরই নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ২০২০ সালে কলম্বিয়ায় প্রকাশিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও ভিন্ন বাবার যমজ সন্তানের একটি ঘটনা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, পিতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একজন যমজের পরীক্ষা করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। মাইনেইরোসের ওই ঘটনায় দুই শিশুই একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের জৈবিক বাবা আলাদা। আর দুই শিশুকে দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় বিষয়টি আরও বিস্ময় তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষাই নিশ্চিত করে দেয়, একই গর্ভধারণে জন্ম নেওয়া দুই যমজের পিতৃত্বের গল্প এক নয়।
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা
ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!
লন্ডনের বাসে নিকাব পরার কারণে গালিগালাজ থেকে শুরু করে হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন ২১ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী সালসাবিল। তার অভিযোগ, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই থুতু ছোড়া, ধাক্কা দেওয়া এবং অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিবিসিকে সালসাবিল বলেন, গত ৩১ জুলাই সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রথম একটি বাসে তার নিকাব নিয়ে মৌখিকভাবে অপমান করা হয়। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সেই বাস থেকে নেমে পরের বাসে ওঠেন। কিন্তু সেখানেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দ্বিতীয় বাসে এক যাত্রী তার পোশাক নিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ সালসাবিলের। তিনি বসতে গেলে ওই ব্যক্তি আক্রমণাত্মকভাবে তাকে বাধা দেন এবং মুখের নিকাব নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। সালসাবিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, মুখে এমন পোশাক পরে তিনি সেখানে স্বাগত নন। একপর্যায়ে নিকাবকে 'সন্ত্রাসবাদ' বলে মন্তব্য করেন ওই যাত্রী এবং সালসাবিল নিজে নিকাব না খুললে জোর করে সেটি খুলে দেওয়ার হুমকি দেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সালসাবিল। সে সময় বাসের আরেক যাত্রী তার পক্ষে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই যাত্রীর হাতাহাতিও হয়। সালসাবিল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ওই একজনই সরাসরি তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে বাসের ড্রাইভার হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়। তিনি বাস থেকে নেমে গেলে সালসাবিলও উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে নিজের নির্ধারিত স্টপে নেমে যান। ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যে যাত্রী তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সালসাবিলের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন অভিজ্ঞতা তার কাছে নতুন নয়। তার দাবি, ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে অপমান বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, কখনো তার দিকে থুতু ছোড়া হয়, কখনো ধাক্কা দেওয়া হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে আঘাত করে চলে যাওয়া হয়। এত ঘনঘন এমন ঘটনা ঘটে যে সবকিছু রিপোর্ট করতে গেলে তাকে প্রায় সব সময়ই পুলিশ স্টেশনে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ৩১ জুলাইয়ের বাসের ঘটনাটি সালসাবিল মেট্রোপলিটন পুলিশে রিপোর্ট করেননি। এর আগে ইসলামবিদ্বেষী হেইট ক্রাইমের একটি ঘটনা পুলিশকে জানিয়েও প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাননি বলে তার অভিযোগ। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে পুলিশের কাছে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সালসাবিল জানান, শহরটিতে তিনি আগে সব সময় নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে সেই অনুভূতি বদলে গেছে। বিশেষ করে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতা বেশি অনুভব করছেন তিনি। তার বক্তব্য, কোনো নারী হিজাব বা নিকাব পরবেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পোশাকের কারণে কোনো নারীকে ভয় বা নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হওয়া উচিত নয়। ঘটনাটির ভিডিও দেখেছে বিবিসি। ভিডিও সামনে আসার পর ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের নিরাপত্তা, পুলিশিং ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক সিওয়ান হেওয়ার্ড ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, লন্ডনের পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে গিয়ে কারও ভয় পাওয়া বা হয়রানির শিকার হওয়া উচিত নয়। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে যারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে অবগত এবং সালসাবিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। পুলিশ বলেছে, লন্ডনের কোনো কমিউনিটিকেই ভয়ভীতি বা নির্যাতন সহ্য করতে হওয়া উচিত নয় এবং সব ধরনের হেইট ক্রাইম মোকাবিলায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লন্ডনে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রিপোর্ট হওয়া ধর্মভিত্তিক হেইট ক্রাইম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রিপোর্ট হওয়া ইসলামবিদ্বেষী অপরাধ বেড়েছে ৩১ শতাংশ। লন্ডনের ভিকটিমস কমিশনার আন্দ্রেয়া সাইমনও মনে করেন, সালসাবিলের অভিজ্ঞতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পোশাক দেখে যাদের মুসলিম বা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায়, তারা এমন ঘটনার বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ঘটনাটি এখন লন্ডনের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা এবং হেইট ক্রাইম রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!
শাস্তি দিয়ে শাসন করা শিশুরাই উল্টো আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে। তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে। কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল। এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার
একই এলাকায় স্কুলে ভর্তি ৯ জোড়া যমজ, শিক্ষকদেরও ‘দুইবার তাকানোর’ দশা