কিশোরীদের অনলাইনে ফাঁদে ফেলার দায়ে ৭৬৪ নেটওয়ার্ক সদস্যের ৭৭ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে কিশোরীদের অনলাইনে টার্গেট ও শোষণের অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী কাইল উইলিয়াম স্পিৎজকে ৭৭ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দেওয়া এই সাজা ৭৬৪ নামের সহিংস অনলাইন উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের কোনো সহযোগীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ ফেডারেল সাজা বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে।
ফ্রেন্ডসভিলের বাসিন্দা স্পিৎজকে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ তৈরি, প্রাণীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও ছড়াতে সহায়তা এবং শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ ইচ্ছাকৃতভাবে সংগ্রহ ও দেখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে যাবজ্জীবন তত্ত্বাবধানে রাখার পাশাপাশি যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধনের নির্দেশও দিয়েছে।
মার্কিন তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্পিৎজ ৭৬৪ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘হার্ম নেশন’ নামে সংশ্লিষ্ট একটি অনলাইন নেটওয়ার্কের প্রশাসক ও নেতৃস্থানীয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, এসব নেটওয়ার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নেটওয়ার্কটির সদস্যরা ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল ও নানা ধরনের মানসিক চাপ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের যৌন শোষণ, আত্মক্ষতি কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ কারণে এ ধরনের অনলাইন নেটওয়ার্ককে মার্কিন কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
তদন্তে স্পিৎজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে শিশুদের শোষণ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার ফোনের জন্য তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রসিকিউটরদের দাবি, স্পিৎজ অনলাইনে নিজেকে ‘ক্রিমিনাল’সহ বিভিন্ন নামে পরিচয় দিতেন এবং বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীকে প্রভাবিত করার দাবি করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তার কর্মকাণ্ডের অন্তত কিছু অংশে ভুক্তভোগীদের ওপর ভয়াবহ মানসিক চাপ ও জবরদস্তির অভিযোগ রয়েছে।
এফবিআই ৭৬৪-কে এমন একটি অনলাইন উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক হিসেবে দেখছে, যার সদস্যরা বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে। সংস্থাটি এ ধরনের কার্যক্রমকে ‘আধুনিক যুগের সন্ত্রাসবাদের’ একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
স্পিৎজের ৭৭ বছরের সাজা তাই শুধু একটি অপরাধ মামলার রায় নয়; অনলাইনে শিশুদের শোষণ ও উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধ সংগঠনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানেরও বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছেন। দ্রুত ফল প্রকাশের প্রশংসা করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভোটব্যবস্থার সমালোচনাও করেন। তবে রবিবার, ৪ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়েছে ব্রাজিলে। ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দেন না। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ভারতের নাম উল্লেখ করে বলেন, ভোট শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই একই দিনে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব জায়গায় তুলনামূলক কম ভোট গণনা করতেও কয়েক সপ্তাহ লাগে। মার্কিন ভোটব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টে ব্রাজিলের নাম না থাকলেও নির্বাচনের সময় ও প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটারের উল্লেখ ব্রাজিলের ভোটের সঙ্গে মিলে যায়। এই মিলের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে ব্রাজিলের সঙ্গে ভারতকে গুলিয়ে ফেলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের সরকারি সূচিতে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রথম দফার দিন নির্ধারিত ছিল ৪ অক্টোবর। প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর পদে প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন রাখা হয়েছে ২৫ অক্টোবর। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জনগণের সরাসরি ভোটে। ভারতের নির্বাচনী পদ্ধতি ভিন্ন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টের দুই কক্ষের নির্বাচিত সদস্য, রাজ্যগুলোর বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য এবং দিল্লি ও পুদুচেরির বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। তাই ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাড়ে ১২ কোটি মানুষের সরাসরি ভোট দেওয়ার দাবি সেই পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ব্রাজিলের প্রথম দফায় ফ্লাভিও বলসোনারো প্রায় ৪৭ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রায় ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়েছেন। কেউ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় তাঁদের মুখোমুখি হওয়ার কথা। সূত্র: মানিকন্ট্রোল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট ও ভারতের নির্বাচন কমিশন।
অযত্নে পড়ে থাকা এই চিত্রকর্মটি ৩০০০ টাকায় কিনে নিলামে বিক্রি করলেন ১৬ কোটি টাকায়
ট্রাম্পের নতুন আইনে ইলিনয়ে মেডিকেইড হারালেন ৯ হাজার ৩০০ অভিবাসী
নতুন আইনে মিয়ামির হাজারো কর্মীর মজুরি ঘণ্টায় ২২ ডলার থেকে নামতে পারে ১৫ ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি বড় অংশের জন্য মেডিকেড সুবিধা পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত নতুন আইনের অধীনে ১ অক্টোবর থেকে এসব পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থীসহ বৈধভাবে বসবাসকারী কিছু অভিবাসী আর কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মেডিকেড পাওয়ার যোগ্য থাকছেন না। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবরেই নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসীর মেডিকেড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করলেও সবার জন্য মেডিকেডের দরজা খোলা থাকছে না। ১ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মেডিকেড ও চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা চিপের যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, এবং ফ্রিলি অ্যাসোসিয়েটেড স্টেটসের আওতাভুক্ত কিছু বাসিন্দার মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। যেসব অঙ্গরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে, সেখানে কিছু ব্যতিক্রমও থাকছে। এর ফলে শরণার্থী ও গ্রিন কার্ড না পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশ বিশেষভাবে প্রভাবিত হতে পারেন। একইভাবে সাময়িক সুরক্ষা বা নির্দিষ্ট মানবিক কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু অভিবাসীও নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেডের যোগ্যতা হারাতে পারেন। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন বলছে, আগের নিয়মে এসব শ্রেণির অনেক মানুষ বৈধভাবে বসবাসের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারলেও নতুন আইনে তাদের যোগ্যতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। তবে নতুন আইনে সব বৈধ অভিবাসীর মেডিকেড বন্ধ হচ্ছে না। গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে মেডিকেডের আওতায় থাকতে পারবেন। কিউবান ও হাইতিয়ানদের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি এবং মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া ও পালাউয়ের নাগরিকদের জন্যও বিশেষ বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্য নিজেদের অর্থায়নে ফেডারেল নিয়মের বাইরে নির্দিষ্ট অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীরা সাধারণত আগে থেকেই ফেডারেল অর্থায়নে পূর্ণ মেডিকেডের জন্য যোগ্য ছিলেন না। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সীমিত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারীসহ আরও বিস্তৃত অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। নতুন ফেডারেল আইনের প্রভাব তাই অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিদ্যমান মেডিকেড গ্রহীতাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা নতুন করে যাচাই করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রথমে বিদ্যমান তথ্য ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের অভিবাসন মর্যাদা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেভ কর্মসূচি এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে যাচাই করা হবে। তবে শুধু নতুন যোগ্যতার নিয়মই স্বাস্থ্যসেবা হারানোর কারণ হতে পারে না। প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও কিছু মানুষ সুবিধা হারাতে পারেন বলে সতর্ক করেছে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা, সরকারি নোটিশ বুঝতে সমস্যা হওয়া বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়ার মতো কারণে যোগ্য ব্যক্তি হয়েও কেউ কেউ মেডিকেড থেকে বাদ পড়তে পারেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপরও নতুন যাচাই ও পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনার বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু মেডিকেডেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন আইনের বিভিন্ন বিধানের কারণে বৈধ অভিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় ভর্তুকি এবং মেডিকেয়ার সুবিধাতেও ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে গড়ে প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রতিবছর স্বাস্থ্যবিমা বাজারে ভর্তুকিযুক্ত বিমা গ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারেন। আর ২০২৫ সালের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর কারণে ২০৩৪ সালে প্রায় ১০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা হারাতে পারেন। মেডিকেয়ারের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে কিছু বৈধ অভিবাসী প্রভাবিত হতে পারেন। নতুন আইনের সামগ্রিক পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য তাদের বর্তমান অভিবাসন মর্যাদা, স্বাস্থ্যবিমার ধরন এবং অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা নীতির বিষয়গুলো নতুন করে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কারও মেডিকেড বন্ধ হবে কি না, তা তার অভিবাসন মর্যাদা, বয়স, আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং কোন অঙ্গরাজ্যে তিনি বসবাস করছেন, এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যবিমার কাগজপত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মেডিকেড হারানো ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোকে প্রভাবিত ব্যক্তিদের আগাম নোটিশ দেওয়া এবং নতুন যোগ্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ আইনে স্বাক্ষর করেন, তার স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিধান থেকেই এই পরিবর্তনের সূত্রপাত। সরকারের ব্যয় কমানো এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মসূচির যোগ্যতা কঠোর করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইনটি আনা হলেও এর প্রভাব বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশের ওপর সরাসরি পড়ছে। মেডিকেড ও চিপের নতুন যোগ্যতার নিয়ম ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে, আর স্বাস্থ্যবিমার অন্যান্য পরিবর্তন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। সূত্র: কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস
দীর্ঘদিনের প্রেমিকা অ্যালেক্সিস উইলকিন্সকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল
‘টাকা নয়, শান্তি খুঁজছিলাম’: আড়াই লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে নিউইয়র্কে ক্যাফে দিলেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম বদলাচ্ছে, গৃহিণীদের জন্য আইনজীবীর সতর্কবার্তা
লুইজিয়ানার একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্র (ডিটেনশন সেন্টার) থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অবশেষে নিজের দুই সন্তানের কাছে ফিরেছেন গুয়াতেমালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী এক মা। গত ১৯ মে সকালে সন্তানদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর এক প্রতিবেশীর বাসায় সন্তানদের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘটে। তবে এই দীর্ঘ বিচ্ছেদে ওই মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে, ফলে তিনি আর তাঁর সন্তানদের স্তন্যপান করাতে পারছেন না। প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী জানিয়েছেন, তাঁর দুই বছর বয়সী বড় মেয়েটির ডাউন সিনড্রোম রয়েছে এবং সে ভেবেছিল তার মা তাকে চিরতরে ছেড়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, এক বছর বয়সী ছোট শিশুটি মাকে দেখেই চিনতে পেরেছিল বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সন্তানদের কাছে ফিরে আসার এই আবেগঘন মুহূর্তটি ওই মায়ের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি। আমার মন আচ্ছন্ন হয়ে ছিল, কিন্তু যখনই আমি তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম এবং আদর করছিলাম, তখনও মনে হচ্ছিল এটা সত্যি নয়।" গত ১৪ আগস্ট বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপে সাউথ লুইজিয়ানা আইসিই প্রসেসিং সেন্টার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁর সঙ্গী এখনো ওকলাহোমার একটি ইমিগ্রেশন বন্দিশালায় আটক রয়েছেন। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) ইনস্পেক্টর জেনারেলের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা, সদ্য মা হওয়া এবং স্তন্যদানকারী নারীদের আটক না করার বিষয়ে আইসিই-এর নিজস্ব যে নীতিমালা রয়েছে, সংস্থাটি তা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে যে, কেবল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ব্যতিক্রমী কোনো পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের নারীদের আটক করা যাবে না। ওই নারীর কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও কেবল তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে তাঁকেও আটক করা হয়। টেনেসি ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস কোয়ালিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংগঠন এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছে। দেশজুড়ে অভিবাসী ও প্রজনন অধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, আইসিই নিয়মিতভাবেই তাদের এই নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে এই নিয়ম বাতিল করা হলেও ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন তা পুনরায় বহাল করে, যা বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র এই অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পূর্বের দেওয়া একটি বিবৃতিই পুনরায় পাঠিয়েছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে স্তন্যদানকারী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের আটকের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং আটককৃতদের যথাযথ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই পরিবারের ওপর যে অমানবিক ও বেআইনি আঘাত হানা হয়েছে, তার মানসিক ক্ষত তাদের বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হবে। সন্তানদের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেও বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ওই মা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আটক থাকায় এবং নিজে গাড়ি চালাতে না পারায় তাঁর বড় মেয়ের চিকিৎসা ও থেরাপি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে এক বন্ধুর ওপর নির্ভরশীল এই নারী বলেন, "আমার মনে হচ্ছে সব দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেকে ফাঁদে আটকে পড়া অনুভব করছি এবং কোনো আলোর দেখা পাচ্ছি না।" তবুও ঈশ্বরের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, "আমরা সন্তানদের একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার আশায় কঠোর পরিশ্রম করতে এই দেশে এসেছিলাম, নিজেদের দেশে যে কষ্ট পেয়েছি তার চেয়ে আরও বেশি কষ্ট ভোগ করার জন্য নয়।"
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় পোষা প্রাণীর চিকিৎসার অনুদান চুরি করে গ্রেপ্তার মার্কিন নারী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ব্লক পার্টিতে নির্বিচার গোলাগুলি, নিহত ২, আহত ৩৫