তথ্যপ্রযুক্তি

ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:০
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত

নজরদারির ধারণা এত দিন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা স্মার্টফোনের মতো দৃশ্যমান প্রযুক্তির সঙ্গে বেশি জড়িত ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন ঘরের সাধারণ ওয়াই-ফাই রাউটারও মানুষের চলাফেরা ও উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করছে
 

প্রযুক্তি নিয়ে লেখক শ্রীজিথ শ্রীধরনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এই পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ওয়াই-ফাই রাউটার মূলত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার যন্ত্র। কিন্তু রাউটার থেকে ছড়িয়ে পড়া বেতার সংকেত ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও মানুষের শরীরে প্রতিফলিত হয়ে আবার বিভিন্ন ডিভাইসে পৌঁছায়।

 

মানুষের চলাফেরা বা অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে এসব সংকেতের বৈশিষ্ট্যও বদলে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ঘরের ভেতরে মানুষের উপস্থিতি, নড়াচড়া কিংবা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে দেয়ালের আড়ালেও মানুষের নড়াচড়া শনাক্ত করার সক্ষমতা বহু বছর ধরেই প্রদর্শিত হয়েছে।


সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের নজরদারির জন্য সবসময় ক্যামেরা বা মানুষের শরীরে কোনো যন্ত্র বহন করা প্রয়োজন হয় না।

 

ওয়াই-ফাইয়ের ‘চ্যানেল স্টেট ইনফরমেশন’ বা সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের নড়াচড়া, কার্যকলাপ এবং পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য বের করা সম্ভব। ২০২৬ সালের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, ওয়াই-ফাইভিত্তিক এই প্রযুক্তি ডিভাইস ছাড়াই মানুষের কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।


সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কেবল গবেষণাগারের প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কমকাস্ট ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক্সফিনিটি রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়াইফাই মোশন’ নামে একটি সুবিধা চালু করেছে। এতে অতিরিক্ত ক্যামেরা বা সেন্সর ছাড়াই ঘরের ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে নড়াচড়া শনাক্ত করা যায়।

 

ব্যবহারকারী চাইলে এই সুবিধা চালু করতে পারেন এবং এটি বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।কমকাস্টের প্রযুক্তিতে ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ড করা হয় না বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। তবে রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন থেকে ঘরে নড়াচড়া শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তিটি প্রচলিত ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারির তুলনায় কম দৃশ্যমান হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি করছে।


এখানেই এআইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিপুল পরিমাণ ওয়াই-ফাই সংকেত থেকে মানুষের আচরণের ধরন আলাদা করা মানুষের পক্ষে কঠিন হলেও মেশিন-লার্নিং ব্যবস্থা একই ধরনের সংকেতের পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘কেউ ঘরে আছে কি না’ তা নয়, বরং কখন মানুষ চলাফেরা করছে, কোন ঘরে বেশি সক্রিয়তা রয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আচরণে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে মানব চলাচল, অঙ্গভঙ্গি এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শারীরিক গতিবিধি শনাক্ত করার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।

 

তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের ঘরে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা শনাক্ত করা, বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট-হোম ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া—এসব ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ক্যামেরা বা আলাদা সেন্সর স্থাপন না করেই বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করা যায়।

 

কিন্তু একই প্রযুক্তি অপব্যবহার হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। কোনো ব্যক্তির স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাঁর ঘরের ভেতরের চলাফেরা বা আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট-হোমে একাধিক ডিভাইস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় একটি দুর্বল ডিভাইস পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।


২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ৫৬টি বাণিজ্যিক স্মার্ট-হোম যন্ত্রের ব্যবহারকারী-অ্যাক্সেস ভাগাভাগির ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নয় ধরনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশাধিকার বাতিল করতে না পারা, অতিরিক্ত অনুমতি পাওয়া এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো সমস্যাও রয়েছে।

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ক্যামেরা থাকলে মানুষ সাধারণত বুঝতে পারে যে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওয়াই-ফাই সংকেত দিয়ে কোনো ধরনের সংবেদন করা হলে ব্যবহারকারীর কাছে সেটি আলাদা করে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।

 

এ কারণে প্রযুক্তিবিদদের কাছে স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং তথ্য সংরক্ষণের সীমা নির্ধারণ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষকেরা ইতোমধ্যে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। ২০২৬ সালের গবেষণায় ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ কমানোর জন্য গোপনীয়তা-সুরক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


ফলে ভবিষ্যতের স্মার্ট-হোম হয়তো শুধু এমন একটি বাড়ি হবে না যেখানে রাউটার ইন্টারনেট সরবরাহ করে, বাতি নিজে থেকে জ্বলে এবং দরজা মোবাইল দিয়ে খোলা যায়। একই নেটওয়ার্ক মানুষের উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কেও তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারে।

 

এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ব্যক্তিগত জীবনের অদৃশ্য নজরদারি ঠেকাতে শক্তিশালী গোপনীয়তা নীতি, স্পষ্ট সম্মতি এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

নজরদারির ধারণা এত দিন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা স্মার্টফোনের মতো দৃশ্যমান প্রযুক্তির সঙ্গে বেশি জড়িত ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন ঘরের সাধারণ ওয়াই-ফাই রাউটারও মানুষের চলাফেরা ও উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করছে   প্রযুক্তি নিয়ে লেখক শ্রীজিথ শ্রীধরনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এই পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াই-ফাই রাউটার মূলত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার যন্ত্র। কিন্তু রাউটার থেকে ছড়িয়ে পড়া বেতার সংকেত ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও মানুষের শরীরে প্রতিফলিত হয়ে আবার বিভিন্ন ডিভাইসে পৌঁছায়।   মানুষের চলাফেরা বা অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে এসব সংকেতের বৈশিষ্ট্যও বদলে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ঘরের ভেতরে মানুষের উপস্থিতি, নড়াচড়া কিংবা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে দেয়ালের আড়ালেও মানুষের নড়াচড়া শনাক্ত করার সক্ষমতা বহু বছর ধরেই প্রদর্শিত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের নজরদারির জন্য সবসময় ক্যামেরা বা মানুষের শরীরে কোনো যন্ত্র বহন করা প্রয়োজন হয় না।   ওয়াই-ফাইয়ের ‘চ্যানেল স্টেট ইনফরমেশন’ বা সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের নড়াচড়া, কার্যকলাপ এবং পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য বের করা সম্ভব। ২০২৬ সালের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, ওয়াই-ফাইভিত্তিক এই প্রযুক্তি ডিভাইস ছাড়াই মানুষের কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কেবল গবেষণাগারের প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কমকাস্ট ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক্সফিনিটি রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়াইফাই মোশন’ নামে একটি সুবিধা চালু করেছে। এতে অতিরিক্ত ক্যামেরা বা সেন্সর ছাড়াই ঘরের ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে নড়াচড়া শনাক্ত করা যায়।   ব্যবহারকারী চাইলে এই সুবিধা চালু করতে পারেন এবং এটি বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।কমকাস্টের প্রযুক্তিতে ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ড করা হয় না বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। তবে রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন থেকে ঘরে নড়াচড়া শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তিটি প্রচলিত ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারির তুলনায় কম দৃশ্যমান হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি করছে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিপুল পরিমাণ ওয়াই-ফাই সংকেত থেকে মানুষের আচরণের ধরন আলাদা করা মানুষের পক্ষে কঠিন হলেও মেশিন-লার্নিং ব্যবস্থা একই ধরনের সংকেতের পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘কেউ ঘরে আছে কি না’ তা নয়, বরং কখন মানুষ চলাফেরা করছে, কোন ঘরে বেশি সক্রিয়তা রয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আচরণে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে মানব চলাচল, অঙ্গভঙ্গি এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শারীরিক গতিবিধি শনাক্ত করার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।   তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের ঘরে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা শনাক্ত করা, বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট-হোম ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া—এসব ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ক্যামেরা বা আলাদা সেন্সর স্থাপন না করেই বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করা যায়।   কিন্তু একই প্রযুক্তি অপব্যবহার হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। কোনো ব্যক্তির স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাঁর ঘরের ভেতরের চলাফেরা বা আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট-হোমে একাধিক ডিভাইস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় একটি দুর্বল ডিভাইস পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ৫৬টি বাণিজ্যিক স্মার্ট-হোম যন্ত্রের ব্যবহারকারী-অ্যাক্সেস ভাগাভাগির ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নয় ধরনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশাধিকার বাতিল করতে না পারা, অতিরিক্ত অনুমতি পাওয়া এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো সমস্যাও রয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ক্যামেরা থাকলে মানুষ সাধারণত বুঝতে পারে যে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওয়াই-ফাই সংকেত দিয়ে কোনো ধরনের সংবেদন করা হলে ব্যবহারকারীর কাছে সেটি আলাদা করে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।   এ কারণে প্রযুক্তিবিদদের কাছে স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং তথ্য সংরক্ষণের সীমা নির্ধারণ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকেরা ইতোমধ্যে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। ২০২৬ সালের গবেষণায় ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ কমানোর জন্য গোপনীয়তা-সুরক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের স্মার্ট-হোম হয়তো শুধু এমন একটি বাড়ি হবে না যেখানে রাউটার ইন্টারনেট সরবরাহ করে, বাতি নিজে থেকে জ্বলে এবং দরজা মোবাইল দিয়ে খোলা যায়। একই নেটওয়ার্ক মানুষের উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কেও তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারে।   এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ব্যক্তিগত জীবনের অদৃশ্য নজরদারি ঠেকাতে শক্তিশালী গোপনীয়তা নীতি, স্পষ্ট সম্মতি এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:০
শিশু ও কিশোরদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে ট্রিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা

সেন্ট অ্যান্ডরুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছবি:সংগৃহীত

সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা

খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ ও ডাইনোসর ফিরিয়ে আনার ধারণা নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!

‘জুরাসিক পার্ক’ কি কখনও বাস্তবে সম্ভব হবে? কোটি মানুষের কল্পনায় ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ঘিরে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এগোলেও প্রকৃত ডাইনোসরকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা বর্তমান বিজ্ঞানের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়।    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাস্তবের জুরাসিক পার্ক’ তৈরির একটি ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ইলন মাস্ক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, তিনি আশা করেন কেউ একদিন এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে। তার এই মন্তব্যের পরই বিশ্বজুড়ে ডি-এক্সটিংশন বা বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুজ্জীবিত করার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।    তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিনেমায় দেখানো পদ্ধতিতে ডাইনোসর ফিরিয়ে আনা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডাইনোসরদের ব্যবহারযোগ্য ডিএনএ আজ আর সংরক্ষিত নেই। এত দীর্ঘ সময়ে ডিএনএ ভেঙে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে জীবন্ত প্রাণী পুনর্গঠন করা বর্তমান প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়।    তবে ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা থেমে নেই। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বায়োটেক কোম্পানি উলি ম্যামথ, ডোডো কিংবা মোয়ার মতো তুলনামূলক সাম্প্রতিক সময়ে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে জিন সম্পাদনা ও আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য মূলত সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, যদিও এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক বিতর্কও রয়েছে।    বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে জিন প্রকৌশলে আরও বড় অগ্রগতি এলেও ‘জুরাসিক পার্ক’-এর মতো প্রকৃত ডাইনোসরের পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত ক্ষীণ। তবে ইলন মাস্কের মন্তব্য দেখিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের সীমারেখা নিয়ে মানুষের কৌতূহল এখনও আগের মতোই প্রবল, আর সেই আগ্রহই ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন নতুন বিতর্ক ও গবেষণার জন্ম দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৪:৩৩
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নতুন ব্যাকটেরিওফাজ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপরের অংশ। ছবি: এআই

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট

অ্যাপলের কর্পোরেট অফিস। ছবি:সংগৃহীত

আইফোন ২০২৬ লঞ্চের প্রস্তুতি জোরদার, নির্বাচিত কর্মীদের লটারির সুযোগ দিচ্ছে অ্যাপল

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় চীনের তৈরি চিপ উৎপাদন সরঞ্জাম পরীক্ষা করছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন চাপের মুখে চীনা চিপ সরঞ্জামের বিকল্প খুঁজছে স্যামসাং-হাইনিক্স

দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ দুই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স চীনের তৈরি চিপ উৎপাদন সরঞ্জাম পরীক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে চীনে চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি সরবরাহের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।   সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স চীনের সাংহাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড মাইক্রো-ফ্যাব্রিকেশন ইকুইপমেন্টের তৈরি এচিং মেশিন পরীক্ষা করছে। চিপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্র সিলিকন ওয়েফারের নির্দিষ্ট অংশ সরিয়ে চিপের সূক্ষ্ম নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।   প্রায় দুই বছর আগে এএমইসির এই যন্ত্র পরীক্ষার কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠান দুটি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র চীনে থাকা বিদেশি চিপ নির্মাতাদের মার্কিন সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।   তবে এখনো পর্যন্ত এএমইসির যন্ত্র বড় পরিসরে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়নি স্যামসাং বা এসকে হাইনিক্স। তারপরও বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতাদের কাছ থেকে পরীক্ষার সুযোগ পাওয়া চীনা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে চীনের চিপ শিল্পকে ধীর করার লক্ষ্য থাকলেও এর ফলে দেশটির নিজস্ব সরঞ্জাম নির্মাতারা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। স্যামসাং জানিয়েছে, তারা চীনের কারখানার জন্য এএমইসির কোনো সরঞ্জাম পরীক্ষা করেনি এবং এমন পরিকল্পনাও নেই। এসকে হাইনিক্স এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের চীনা কারখানার জন্য বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন চিপ সরঞ্জাম চীনে নিতে প্রতিবার আলাদা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তবে ২০২৫ সালে সেই বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়।   পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জন্য চীনে থাকা কারখানাগুলোর জন্য কিছু সরঞ্জাম আনার অনুমতি দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠান দুটি আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে থাকা মার্কিন যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের ওপরও বিধিনিষেধ দিতে পারে।   এই ঝুঁকি কমাতে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স চীনা সরবরাহকারীদের বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখছে। তবে এর লক্ষ্য চীনে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো নয়, বরং বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা ও উন্নত করা।   স্যামসাং চীনের শিয়ান শহরে ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ তৈরি করে। এসকে হাইনিক্স চীনের দালিয়ানে ন্যান্ড মেমোরি চিপ এবং উশিতে ডিআরএএম মেমোরি চিপ উৎপাদন করে। এসব কারখানায় বর্তমানে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি এচিং যন্ত্রের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে।   চীনের চিপ সরঞ্জাম নির্মাতারা এচিং, চিপের স্তর তৈরি, পরিষ্কার করা ও পৃষ্ঠ মসৃণ করার মতো প্রযুক্তিতে দ্রুত উন্নতি করেছে। বিশ্বের বড় চিপ নির্মাতারা এসব সরঞ্জাম ব্যবহার শুরু করলে তা চীনা প্রযুক্তি শিল্পের জন্য বড় স্বীকৃতি হয়ে উঠতে পারে।   তবে চীনা সরঞ্জাম নির্মাতাদের সামনে এখনো প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, সীমিত সেবা নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চাপের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দেশের কারখানায় চীনা সরঞ্জাম ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৪:২৬
চাঁদের পৃষ্ঠে অনিচ্ছাকৃতভাবে আছড়ে পড়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদে আছড়ে পড়ল স্পেসএক্স রকেটের অংশ, তৈরি হতে পারে নতুন গর্ত

কলেজ পালিয়ে ২৫ বছর বয়সেই বাজিমাত, ব্রিটিশ তরুণ গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের এআই সাম্রাজ্য | ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ৯ বছর পর ৩৩০ কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠানের মালিক

এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য লাখ লাখ পুরোনো বই কিনে স্ক্যান করার পর ধ্বংস করার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পুরোনো বই কিনে স্ক্যান করেই পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ

0 Comments