বাড়ির দাম বাড়ায় কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান? যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের হাতে থাকা আবাসন সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বাড়ির মালিক হিসেবে কতটা সম্পদ গড়ে উঠেছে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যাপকভাবে আলাদা। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়া।
ঋণভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির (LendingTree) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের মোট আবাসন-সম্পদের নিট মূল্য বা হোম ইকুইটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইকুইটি রয়েছে হাওয়াইয়ের বাড়ির মালিকদের।
লেন্ডিংট্রি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করেছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা কত ইকুইটি থাকার কথা জানিয়েছেন, তার মধ্যম মান বা মিডিয়ান এবং অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে এমন অনুসন্ধানের অনুপাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাওয়াইয়ে বাড়ির মালিকদের মধ্যম হোম ইকুইটি ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার। একই সঙ্গে হাওয়াইয়ের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ অনুসন্ধানকারী জানিয়েছেন, তাদের বাড়িতে অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম হোম ইকুইটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ অনুসন্ধানকারীর ইকুইটি অন্তত ২ লাখ ডলার। তৃতীয় ম্যাসাচুসেটসে মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। সেখানে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী ২ লাখ ডলার বা তার বেশি ইকুইটির কথা জানিয়েছেন।
শীর্ষ দশে এরপর রয়েছে ইউটা, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কলোরাডো এবং আইডাহো। ইউটায় মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ডলার। নিউ জার্সি ও ওয়াশিংটনে তা ২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রোড আইল্যান্ডে ২ লাখ ৮৫ হাজার, নিউ হ্যাম্পশায়ারে ২ লাখ ৭৫ হাজার, কলোরাডোতে ২ লাখ ৫৫ হাজার এবং আইডাহোতে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম হোম ইকুইটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইওয়া। উভয় অঙ্গরাজ্যেই মধ্যম ইকুইটি ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মাত্র ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আইওয়ায় ৩৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটির কথা জানিয়েছেন।
হোম ইকুইটি বলতে একটি বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য থেকে ওই বাড়ির বিপরীতে বকেয়া বন্ধকি ঋণের পরিমাণ বাদ দিলে যে অংশ থাকে, সেটিকে বোঝায়। অর্থাৎ কোনো বাড়ির বর্তমান মূল্য যদি ৫ লাখ ডলার হয় এবং সেই বাড়ির বিপরীতে ২ লাখ ডলার বন্ধকি ঋণ বাকি থাকে, তাহলে মালিকের হোম ইকুইটি হবে ৩ লাখ ডলার।
করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দামের বড় উল্লম্ফন বাড়ির মালিকদের ইকুইটি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে উচ্চ সুদের হার ও বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যারা আগে থেকেই বাড়ির মালিক ছিলেন, তাদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সম্পদ তৈরি করতে পেরেছেন।
ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর মালিকানাধীন আবাসিক রিয়েল এস্টেটের মোট মূল্য ছিল ৪৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাড়ির বিপরীতে বন্ধকি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই দুই হিসাবের পার্থক্য থেকেই প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের হোম ইকুইটি পাওয়া যায়।
তবে এই সম্পদের সুবিধা সারা দেশে সমান নয়। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির প্রতি বর্গফুটের গড় দাম ৯৭ ডলার থেকে বেড়ে ১৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলে এই বৃদ্ধি ছিল আরও বেশি প্রায় ১০৫ শতাংশ, ফলে ২০২৪ সালে সেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম দাঁড়ায় ২২৪ ডলার।
অন্যদিকে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে একই সময়ে প্রতি বর্গফুটের দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ১৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে কোথায় বাড়ি কেনা হয়েছে, কখন কেনা হয়েছে এবং বর্তমানে সেই বাড়ির মূল্য কত এসব বিষয় একজন মালিকের গড়ে ওঠা সম্পদের পরিমাণে বড় পার্থক্য তৈরি করছে।
লেন্ডিংট্রির প্রধান ভোক্তা অর্থনীতি বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ বলেন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্যই দেখিয়ে দেয় যে বাড়ির ইকুইটির চিত্র সবার জন্য এক নয়। কারও বাড়ি বড় আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে পাওয়া আর্থিক সুবিধার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে।
বাড়ির মালিকেরা চাইলে এই ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নিয়ে বাড়ির সংস্কার, বড় ধরনের খরচ বা উচ্চ সুদের ঋণ একত্র করার মতো কাজে অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। তবে ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাড়িটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। লেন্ডিংট্রির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ঋণদাতারা বাড়ির মূল্যের একটি অংশ পর্যন্ত ধার দেওয়ার অনুমতি দেয়।
এদিকে বাড়ির মালিকেরা সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের এই বাড়তি সম্পদের একটি অংশ নগদে রূপান্তরও করছেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (ICE) জুন ২০২৬ মর্টগেজ মনিটর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ির মালিকদের ইকুইটি থেকে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ২০২১ সালের পর প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের তুলনায় ইকুইটি উত্তোলন ২ শতাংশ বেড়েছে এবং এর অর্ধেকের বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ, এসেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ঋণ বা সেকেন্ড-লিয়েনের মাধ্যমে।
অর্থাৎ মহামারির পর বাড়ির দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো বাড়ির মালিকের হাতে বড় অঙ্কের সম্পদ তৈরি হলেও, সেই সম্পদের পরিমাণ কোথায় বাড়ি রয়েছে তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। বিশেষ করে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি ইকুইটি ধরে রেখেছেন। বিপরীতে মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
লেন্ডিংট্রির এই গবেষণা অবশ্য পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব বাড়ির মালিকের সরাসরি জরিপ নয়; এটি তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এই পরিসংখ্যানকে ওই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট করা ইকুইটির মধ্যম মান হিসেবে দেখা উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের কুইন্সে গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন। দীর্ঘদিন ধরে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় বসবাস ও কাজের সুবাদে পরিচিত খোকনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর স্বজন, পরিচিতজন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর প্রকাশিত একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খোকন কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একাই বসবাস করতেন। প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাঁর দেশের বাড়ি মাগুরা জেলায়। জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে তিনি কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে নিয়মিত চলাফেরা করায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ। গত তিন দিন ধরে খোকন কর্মস্থলেও যাননি। সাধারণত নিয়মিত কাজে উপস্থিত থাকা একজন পরিচিত ব্যক্তির হঠাৎ অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে তাঁর পরিচিতজনেরা খোঁজ শুরু করেন। পরে তাঁর কিউ গার্ডেনসের বাসায়ও পুলিশ যায় বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, পুলিশ বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেও খোকনের সন্ধান পায়নি। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন, কোথায় থাকতে পারেন কিংবা তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। খোকনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রতিবেদনে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাগুরা জেলা সোসাইটির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের একটি প্রকাশ্য তালিকায় তাঁকে মাগুরা জেলা সোসাইটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতজন ও কমিউনিটির সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাঁর সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুজ্জামান বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে খোকনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কমিউনিটিতে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি হয়তো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে থাকতে পারেন। তবে আইসিইর হাতে তাঁকে আটক করা হয়েছে এমন কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত আশঙ্কা বা গুঞ্জনের মধ্যেই রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাঁর পরিচিতজনেরা কর্মস্থলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খোকনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এই পরিচিত বাংলাদেশির হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বজন ও কমিউনিটির মানুষ দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। এখন পর্যন্ত কাজী আজিজুল হক খোকনের নিখোঁজের কারণও স্পষ্ট নয়। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর আটক, অপহরণ বা অন্য কোনো ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়ে কোনো অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার না করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।
নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ
ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড প্রায় ১২ হাজার বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে একক কোনো শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ। মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পেন আমেরিকা’ (PEN America)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন “ব্যান্ড ইন দ্য ইউএসএ”-তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ১১ হাজার ৯৮২টি বই নিষিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে, যা ৭ হাজার ৩৭০টি আলাদা বই এবং চার হাজারের বেশি লেখক, চিত্রশিল্পী ও অনুবাদককে প্রভাবিত করেছে। ২০২১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৪ হাজার বই নিষিদ্ধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশটিতে বই নিষিদ্ধের প্রবণতা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ বছর সবচেয়ে বেশি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। রাজ্যটিতে ৮ হাজার ১০০টিরও বেশি বই লাইব্রেরি ও পাঠ্যসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মূলে রয়েছে সেখানকার বিতর্কিত ‘এসবি১৩’ (SB13) আইন। এর আগের তিন বছর এই তালিকার শীর্ষে ছিল ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ও অধিকারকর্মীদের চাপের মুখে এবার মোট ১১৪টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বই নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্কুল প্রশাসনগুলো এখন কোন বই বাতিল করা হবে তা নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত একাধিক বই স্ক্যান ও চিহ্নিত করার সুবিধার কারণেই নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা এতো নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিষিদ্ধের এই তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো শীর্ষে রয়েছেন প্রখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং; তার বই মোট ৩১২ বার বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একক বই হিসেবে সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ হয়েছে নেপালের এক কিশোরীকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রির বাস্তব কাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস ‘সোল্ড’। এছাড়া মার্গারেট অ্যাটউডের ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’, ধর্ষণের ট্রমা নিয়ে লেখা ‘স্পিক’ এবং মাদকাসক্তি নিয়ে রচিত ‘ক্র্যাঙ্ক’-এর মতো জনপ্রিয় বইগুলো বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। এমনকি ১৯ শতকের বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী উপন্যাস ‘জেন আয়ার’ এবং জাপানি মাঙ্গা সিরিজ ‘টোকিও ঘুল’-এর মতো জনপ্রিয় রচনাও বাদ পড়েনি। বর্ণবাদ, যৌনতা ও জেন্ডার পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো থাকার কারণেই মূলত এসব বই সরানো হচ্ছে, যার তীব্র সমালোচনা করে বাকস্বাধীনতাকামীরা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা ও জানার পরিধিকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।
নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির
নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে তিন সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তার নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, ৪১ বছর বয়সী এপ্রিল বারলো সেলিও নামের ওই নারীকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর পাইনভিলের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরদিন চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে এক ভয়ংকর বিষয় আবিষ্কার করেন—নিহত নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, কিন্তু তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানটি গায়েব! পরবর্তীতে তদন্তকারীরা সেলিওর বাড়িতে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে ভ্রূণের কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেন। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিমার্কাস কেনেথ জনসন-রাইট নামের এক দাগি আসামিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে আগে থেকেই সহিংস অপরাধের লম্বা রেকর্ড এবং বেশ কয়েকটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ প্রাথমিকভাবে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে এবং পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। অবশেষে হত্যাস্থল থেকে প্রায় আড়াইশ মাইল দূরে টেনেসির ক্লার্কসভিল এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে এই মামলার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারী বা তার অনাগত সন্তানকে ঠিক কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সন্দেহভাজনের সাথে নিহতের কী সম্পর্ক ছিল তা স্পষ্ট না করা হলেও, জনসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত হত্যার ধারাও রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতার একাধিক পরোয়ানা ছিল। এদিকে, নিহত সেলিওর তিন সন্তানের সহায়তার জন্য একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজ খুলেছেন তার বোন আমান্ডা ডি পাজ। শোকাহত বোন জানান, সেলিও অত্যন্ত স্নেহময়ী একজন মানুষ ছিলেন এবং ভালোবাসার মানুষদের জন্য তিনি সবকিছু করতে পারতেন। গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন জনসনকে বর্তমানে টেনেসির মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং তাকে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি
নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে