সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মাসে আয় ১০ লাখ ডলার, অসুস্থ মা-বাবাকে রাজকীয় জীবন উপহার দিলেন ২৩ বছরের তরুণী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২১:১৩
স্কাইলার মে। ছবি: সংগৃহীত
স্কাইলার মে। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের সময় মা-বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ভিন্ন এক পেশা বেছে নিয়েছিলেন স্কাইলার মে। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী এখন একজন জনপ্রিয় 'অ্যাডাল্ট স্টার' বা প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। বর্তমানে মাসে তার আয় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। বিপুল এই আয়ের একটি বড় অংশ তিনি পরম যত্নে খরচ করছেন তার মা-বাবার জন্য। বিলাসবহুল উপহার, গাড়ি এবং নতুন ব্যবসার মূলধন দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে মা-বাবাকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হাতখরচ দিচ্ছেন তিনি।

 

স্কাইলার জানিয়েছেন, তিনি বছরে তার মা-বাবাকে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ অর্থ দিয়ে থাকেন। তবে এটি তাদের পেছনে করা খরচের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বাবার নতুন সোলার ব্যবসার জন্য তিনি এককালীন ২ লাখ ডলার দিয়েছেন। পাশাপাশি মা-বাবার জন্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার মূল্যের রোলেক্স ঘড়ি কিনেছেন এবং তাদের গাড়ির বকেয়া ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন।

 

শুধু চলতি বছরেই মায়ের জন্য পাঁচটি ডিজাইনার পার্স কিনেছেন স্কাইলার। তিনি বলেন, “আমার মা-বাবা মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলারের মতো হাতখরচ পান। তারা কখনোই আমার কাছে এসে টাকা চাননি। এটি স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছিল, কারণ আমি জানতাম স্বাস্থ্য বীমার বিল পরিশোধ করতে তাদের বেশ কষ্ট হচ্ছিল।”

 

তিনি আরও বলেন, “তখন আমি ভাবলাম, ঠিক আছে, আমি প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট তৈরি শুরু করব এবং তাদের বীমার খরচ মেটাব। আমি তাদের বলেছিলাম চিন্তা করো না, আমি দেখছি। এরপর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি এমন হলো যে আমি বললাম বাবা, আমি চাই না তোমাকে আর অফিসে যেতে হোক, তাই আমি প্রতি মাসে তোমাকে এই পরিমাণ টাকা দেব।”

 

সাধারণ আমেরিকানদের চেয়ে চার গুণ বেশি মাসিক ভাতা পেলেও স্কাইলারের মা-বাবা কখনোই তার কাছে বিলাসবহুল জীবনযাপন বা কোনো কিছু কিনে দেওয়ার দাবি করেননি। স্কাইলার বলেন, “এখনও আমার মা-বাবা আমার কাছে কিছু প্রত্যাশা করেন না। তারা জানেন, যদি কখনও তাদের কিছুর প্রয়োজন হয়, আমি সেটা দেব। আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকলে আমি যে পেশাতেই থাকি না কেন, মা-বাবার যত্ন নিতাম।”

 

বাবার জন্য স্কাইলার প্রায় ৮০ হাজার ডলার মূল্যের দুটি রোলেক্স ঘড়ি কিনেছিলেন। এতে তার মা কিছুটা মন খারাপ করায়, মায়ের জন্যও তিনি প্রায় ৩০ হাজার ডলারের একটি ঘড়ি কিনে দেন। স্কাইলার বলেন, “আমি এখন মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছি। তাদের আগের সব গাড়ির ঋণও আমি শোধ করে দিয়েছি।”

 

তবে স্কাইলারের সবচেয়ে বড় অনুদান হলো তার বাবার সোলার ব্যবসার জন্য দেওয়া ২ লাখ ডলার। তিনি চাইলে তার বাবাকে সম্পূর্ণ বসিয়ে খাওয়াতে পারতেন, কিন্তু স্কাইলার চাননি তার বাবা পুরোপুরি কাজ ছেড়ে দিন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তার বাবাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়, যার ফলে মাঝে মাঝেই তিনি কয়েক দিন কাজ করতে পারেন না। কিন্তু স্কাইলার বিশ্বাস করেন, একটি ব্যবসা তার বাবাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।

 

স্কাইলার বলেন, “আমার বাবা একজন অসাধারণ বিক্রয়কর্মী। তিনি চাইলে একজন এস্কিমোর কাছেও বরফ বিক্রি করতে পারেন! আমি চেষ্টা করি তিনি যেন কাজ চালিয়ে যান। কারণ আমার মনে হয়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার যদি কোনো কারণ না থাকে, তবে তিনি হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন। তাই আমি তাকে সোলার ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করেছি। আমি চাই, তারা যখন সুস্থ বোধ করবেন কেবল তখনই কাজ করবেন, অসুস্থ শরীরে বাধ্য হয়ে নয়।”

 

স্কাইলারের মা 'লুপাস' নামক জটিল রোগে ভুগছেন। এই রোগের কারণে তিনি এক সপ্তাহ সুস্থ বোধ করলেও পরের সপ্তাহে হয়তো বিছানা থেকেই উঠতে পারেন না। অন্যদিকে বাবার নিয়মিত কেমোথেরাপির কারণে তাকে প্রতি দুই সপ্তাহের মধ্যে চার-পাঁচ দিন অসুস্থ থাকতে হয়।

 

অসুস্থ হওয়ার আগে স্কাইলারের মা-বাবা ছিলেন সফল উদ্যোক্তা। তাদের একাধিক ব্যবসা ছিল। স্কাইলার জানান, “তারা সবসময় আরামদায়ক জীবনযাপন করতেন। কিন্তু যখন তাদের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেল, তারা আর কাজ করতে পারলেন না এবং তাদের ব্যবসাগুলো ধসে পড়ল। আমি যখন হাইস্কুলে পড়ি, তখন প্রায় চার বছর আমরা চরম আর্থিক কষ্টে ভুগেছি। সেই কষ্ট না দেখলে হয়তো আমি কখনোই এই পেশায় আসতাম না।”

 

কৈশোরে মা-বাবার সেবা করার অভিজ্ঞতাই স্কাইলারকে দ্রুত পরিণত করেছে এবং পরিবারের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে। তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই তাদের যত্ন নিতাম। তারা অসুস্থ থাকলে আমি তাদের বিছানার পাশে বসে থাকতাম। ছোটবেলায় মা-বাবার দেখভাল করতে গিয়েই হয়তো আমি বয়সের চেয়ে বেশি পরিপক্ব হয়ে গেছি।”

 

নিজের ক্যারিয়ারে এই অক্লান্ত পরিশ্রমের মানসিকতা তিনি তার মা-বাবার কাছ থেকেই শিখেছেন বলে জানান স্কাইলার। তিনি বলেন, “মা-বাবাকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে দেখেই আমি পরিশ্রমী হয়েছি। তারা ভোরবেলা উঠে কাজ শুরু করতেন। ব্যবসা থাকলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে হয়। ছুটি বা জন্মদিনেও তারা কাজ করেছেন। তারাই আমাকে তৈরি করেছেন।”

 

বর্তমানে মা-বাবাকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারাই স্কাইলারের জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। তিনি বলেন, “আমার আসলে তাদের সাহায্য করার বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু আমি নিজের ইচ্ছাতেই করি। আমাকে একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য তারা অনেক কষ্ট করেছেন। এখন আমি শুধু তাদের সেই ঋণ একটু বড় পরিসরে শোধ করার চেষ্টা করছি।”


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন
ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলোর জন্য আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন ইরান যুদ্ধে নিহত বেশিরভাগ সেনার স্বজনরা। গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় সেনার পরিবারের মাত্র একজন সদস্য মঙ্গলবারের এই আয়োজনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   ভয়াবহ ওই হামলায় বেঁচে ফেরা সেনারা এর আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ওই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছিল।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৯ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ভিয়েতনামের যুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংঘাতে নিহত প্রায় ৪০ জন সেনাকে সম্মান জানাতে হোয়াইট হাউস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।   তবে কুয়েতে হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের কাছ থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় গোল্ড স্টার পরিবারগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। নিহত মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল এম. আমোরের স্বামী জোই আমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, হামলার আগে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং কেন ছয়জন সেনাকে প্রাণ হারাতে হলো, সে বিষয়ে তিনি এখন মার্কিন জনগণের কাছে স্বচ্ছতার দাবি জানাচ্ছেন।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জুনে তদন্ত শেষ হলেও সংবেদনশীল তথ্য বাদ দেওয়ার কাজ চলায় তারা এখনো পরিবারগুলোকে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।   স্বজনদের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পেছনে দেরিতে দাওয়াত পাওয়া এবং বর্তমান প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আমন্ত্রণপত্র পাঠানোয় অনেক পরিবার আর্থিকভাবে বা সময়মতো ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে পারেনি। অন্যদিকে, নিহত মেজর অ্যালেক্স ক্লিনার-এর স্ত্রী লিবি ক্লিনার জানান, দেরিতে দাওয়াত পাওয়ায় তিনি শিশুদের দেখাশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার সময় পাননি।   তবে তিনি এও স্পষ্ট করে বলেন যে, যে প্রশাসন সেনাদের জীবনের বিষয়ে এত খামখেয়ালি আচরণ করে, তিনি তাদের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহী নন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো ভ্রমণ’ এবং ‘তুচ্ছ বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা অনেক পরিবারের ক্ষোভের অন্যতম কারণ।   আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়েও পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা গেছে। নিহত চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট মারজানের স্ত্রী টিনা মারজান জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর সন্তানরা কোনো আমন্ত্রণ পাননি। যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, যারা আগে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেছিলেন, তাদের সাথে তারা নতুন করে যোগাযোগ করেনি।   অন্যদিকে, নিহত মেজর কোডি খোর্ক-এর মা ডোনা বুরহানস নিজেকে ট্রাম্পের সমর্থক দাবি করলেও, বারবার শোকের স্মৃতি মনে করাটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। সার্বিকভাবে, শহীদ সেনাদের সম্মান জানানোর এই আয়োজনটি শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব ও অবহেলার এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেই সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৮:১৬
কাজী আজিজুল হক খোকন

নিউইয়র্কে তিন দিন ধরে নিখোঁজ কাজী আজিজুল হক খোকন, উদ্বেগে পরিবার ও কমিউনিটি

নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন

নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী
ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী

ফ্লোরিডার নেপলসে টার্গেট স্টোরের সেলফ-চেকআউট ব্যবহার করে বারবার চুরির দায়ে নিজ কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী কিম্বার্লি ম্যাকডোনেল। টার্গেটে ১৮ বার কেনাকাটা করতে গিয়ে তিনি ১৫১টি পণ্যের বিল পরিশোধ করেননি, যার মোট মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৪৭২ ডলার। সম্প্রতি 'পুলিশ এনকাউন্টারস টিভি' নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে তার গ্রেপ্তারের বডি-ক্যামেরা ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর সেটি অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকডোনেল আড়াই ডলারের কোমল পানীয় থেকে শুরু করে প্রায় আটশ ডলারের ম্যাট্রেস পর্যন্ত চুরি করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সেলফ-চেকআউটে কিছু পণ্যের বারকোড স্ক্যান না করেই ইচ্ছা করে সেগুলো নিয়ে তার এসইউভিতে করে চলে যেতেন। এমনকি কোনো কোনো দিন চুরির সময় তার সাথে একটি শিশুও উপস্থিত ছিল।   টানা দুই মাস ধরে চলা এই ঘটনাগুলোর ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি গ্র্যান্ড থেফটের অভিযোগ আনা হয়। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, সাড়ে সাতশ থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের পণ্য চুরির অপরাধ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।   তবে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে। ম্যাকডোনেলকে তার কর্মস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করে। সহকর্মীদের সামনে যাতে তাকে লজ্জিত হতে না হয়, সেজন্য পুলিশ তাকে আড়ালে ডেকে নেয়। শুধু তাই নয়, তাকে অসুস্থ সন্তান ও স্বামীর সাথে ফোনে কথা বলার এবং পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।   এমনকি হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রেও তার সুবিধা বিবেচনা করে পুলিশ। তার শান্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের বিপরীতে পুলিশের এমন নমনীয়তা দেখে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। অনেকেই পুলিশের এই ‘ভিআইপি’ সেবার সমালোচনা করে একে লিমুজিন রাইডের সাথে তুলনা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে কেবলই পুলিশের পেশাদারিত্ব হিসেবে দেখছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৬:২৬
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও

নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির

নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির

নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত

নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত

নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক

নিউইয়র্ক শহরের মতো একটি ব্যস্ত নগরীতে সাবওয়েতে যাতায়াতের জন্য কত রাতকে 'অতিরিক্ত রাত' বলা যায়—এমন প্রশ্নে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। টিকটক ব্যবহারকারী বেকা তার এক ভিডিওতে জানতে চান, নিউইয়র্কে বসবাসকারী যাত্রীদের জন্য রাতে সাবওয়ে ব্যবহারের সর্বশেষ সময় কোনটি।   বেকা নিজে শনিবার মধ্যরাতের পর সাবওয়েতে যাতায়াত করাকে নিরাপদ মনে করেন। তিনি জানান, এলাকা, গন্তব্য এবং স্টেশন থেকে বাসার দূরত্বের মতো বিষয়গুলো রাতে সাবওয়েতে যাতায়াতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। যদিও মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এটি একটি অনিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।   এই বিতর্কে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের মতামত দিয়েছেন। একা যাতায়াতকারী অনেক নারীর মতে, রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সাবওয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে দলবেঁধে থাকলে যে কোনো সময়ই সাবওয়েতে ওঠা যায় বলে মনে করেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, ভিন্ন মতও রয়েছে।   একজন নারী মন্তব্য করেছেন যে, তিনি সাবওয়ের চেয়ে উবার বা অন্যান্য রাইড-শেয়ারিং চালকদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার ভয়ে বেশি থাকেন, তাই দিন বা রাতের যে কোনো সময় তিনি সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।   দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাসকারী এক বাসিন্দা তার অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, রাতে একা যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাগল বা ভবঘুরেদের চেয়েও সেইসব পুরুষদের বেশি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন যারা নির্জন পরিবেশে নারীদের একা পেয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। সাবওয়েতে নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে অনেকে রাত ১১টার পর ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়ানোর এবং সবসময় ট্রেনের মাঝখানের বগিতে অপারেটরের কাছাকাছি বসার পরামর্শ দিয়েছেন।   সামাজিক মাধ্যমের এই বিতর্কের পেছনে থাকা নিরাপত্তা শঙ্কাগুলোর বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ট্রানজিটে বছরে গড়ে দুটি খুনের ঘটনা ঘটলেও, ২০২০ সালের পর থেকে এই সংখ্যা বেড়ে গড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।   চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় সাবওয়েতে গুরুতর হামলার ঘটনা ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে 'জে (J) ট্রেন'-এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহেই এই ট্রেনে মেসিয়াস লোজানো নামের ৫৯ বছর বয়সী এক নির্মাণ শ্রমিক এক 'মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত' ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে নিহত হন, যা এই বছর সাবওয়ে সিস্টেমে ঘটা ষষ্ঠ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি

দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি

নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে

নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে

0 Comments