ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী
আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে।
ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreঅনথিভুক্ত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের কম ইন-স্টেট টিউশন দেওয়ার নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ডেলাওয়্যারে বসবাসকারী অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার টিউশন দিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও অন্য অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। এই ব্যবধান ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে সরকার। ১ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেসিডেন্সি নীতি এমন শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা দেয়, যারা ডেলাওয়্যারে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে নেই। অন্যদিকে ডেলাওয়্যারের বাইরের কোনো মার্কিন নাগরিক একই কম টিউশন রেট পান না। সরকারের অভিযোগ, এই নীতি ফেডারেল আইনের দুটি পৃথক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের মামলায় বলা হয়েছে, ৮ ইউএসসি ১৬২৩(এ) অনুযায়ী কোনো অঙ্গরাজ্য শুধুমাত্র বসবাসের ভিত্তিতে এমন কোনো পোস্টসেকেন্ডারি শিক্ষা সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দিতে পারে না, যদি সেই একই সুবিধা অন্য অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত না থাকে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিটি ৮ ইউএসসি ১৬২১(ডি)-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারে ডেলাওয়্যার রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর বার্ষিক টিউশন প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার। বিপরীতে নন-রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর টিউশন প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। অর্থাৎ বছরে পার্থক্য প্রায় ২৬ হাজার ৭৩০ ডলার। নন-রেসিডেন্টদের টিউশন রেসিডেন্টদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৭ গুণ বেশি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের দাবি, যোগ্য অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা রেসিডেন্ট হিসেবে কম টিউশন সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু ডেলাওয়্যারের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীরা একই সুবিধা পায় না। সরকার এই ব্যবস্থাকে ফেডারেল আইনের পরিপন্থী বলে আদালতের কাছে নীতিটির প্রয়োগ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে এমন একটি আদেশ চাওয়া হয়েছে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান ইন-স্টেট টিউশন নীতি কার্যকর করতে না পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন নতুন কোনো টিউশন নীতিও চালু না করতে বলা হয়েছে, যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধা দেবে যা একইভাবে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত নয়। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অভিযোগটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এখনই এর বেশি মন্তব্য করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এই মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের অংশ। জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৬টি মামলা করেছে তারা। টেক্সাস, কেনটাকি, ওকলাহোমা, নেব্রাস্কা, ইলিনয় ও কানসাসে একই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে আদালত ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষে আদেশ দিয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে। ডেলাওয়্যার মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ড বলেন, কংগ্রেস অনেক আগেই পরিষ্কার করেছে যে এমন কম টিউশন সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দেওয়া যাবে না, যা সব মার্কিন নাগরিকের জন্য সমভাবে উন্মুক্ত নয়। অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেটও বলেছেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এমন সুবিধা দিতে পারে না যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া হচ্ছে না। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং আদালত এখনো ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেনি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যগুলো মামলার অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত আইনি জবাব দেয়নি। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালত নির্ধারণ করবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন নীতি ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না এবং নীতিটি পরিবর্তন বা স্থগিত করতে হবে কি না।
ফোর্ট ওয়ার্থে তরুণী নিখোঁজ, পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধারের পর নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ
নিউ জার্সিতে পুলিশের ধাওয়া শেষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, শিশুসহ তিনজন হাসপাতালে ভর্তি
ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিডিওটি বাসে ফ্রিতে যাতায়াত, দেখাতে হবে আইডি কার্ড
বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে নতুন সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তা আসওয়ার রহমান। তাঁর নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্কভিত্তিক আমেরিবাংলা করপোরেশন আগামী ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম বেসরকারিভাবে পরিচালিত মার্কিন তুলার গুদাম চালুর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মিলগুলোকে প্রতিবার আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বাংলাদেশে মজুত থাকা তুলা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংগ্রহ করা যাবে। ৩২ বছর বয়সী আসওয়ার রহমান আমেরিবাংলা করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রহমান ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের বাংলাদেশের স্পিনিং, টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করা। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকার নির্ধারিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাছাকাছি একটি লিজ নেওয়া স্থাপনায় গুদামটির কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ টন তুলা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি চালান দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা রাখা হবে এবং স্থানীয় একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগের বড় সুবিধা হতে পারে আমদানির সময় কমে যাওয়া। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, সাধারণভাবে অর্ডার দেওয়ার পর আমদানি করা তুলা হাতে পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্থানীয় গুদামে আগে থেকেই তুলা মজুত থাকলে এই অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার বাজারও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন তুলা আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা তুলা বর্তমানে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, অনুকূল বাণিজ্য সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির বাজার বছরে ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দামের ক্ষেত্রেও সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রচলিত আমদানি ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে মার্কিন তুলার দাম বর্তমানে আনুমানিক ৮৫ সেন্ট প্রতি পাউন্ড বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রহমানের দাবি, কৃষক ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকারীদের কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ এবং স্থানীয় গুদাম ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় প্রতি পাউন্ডে প্রায় ১০ সেন্ট কমে তুলা সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রকৃত দাম বাজারদর, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশের এনভয় টেক্সটাইলস ইতোমধ্যে আমেরিবাংলার মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন তুলা সংগ্রহের এই পদ্ধতি পরীক্ষা করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি আগের বছর প্রায় ৬০ টন তুলা আমেরিবাংলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল। এনভয় টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে উভয় পক্ষের জন্য উপকারী বলে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তাও জানান, পরীক্ষামূলক আমদানিতে তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পেয়েছেন। গুদামের পাশাপাশি রহমানের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ কটনপোর্ট। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে চালু হওয়া এই ডিজিটাল তুলাবাজার বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি ৮২ টন ভার্জিনিয়ার তুলার প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। আমেরিবাংলার হিসাবে, বর্তমানে তারা প্রতি মাসে ১৬ কনটেইনার মার্কিন তুলা বাংলাদেশে সরবরাহ করছে। রহমানের প্রত্যাশা, আগামী বছর এই পরিমাণ মাসে ২৮০ কনটেইনার পর্যন্ত যেতে পারে। কটনপোর্টের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে তুলার উৎস শনাক্তকরণ ও সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও যুক্ত করতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রতিষ্ঠানটি ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে ‘অল আমেরিকান কটন’ নামে একটি সনদ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পখাতের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটির আইসোটোপ পরীক্ষার মাধ্যমে তুলার উৎস যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে। সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা ব্যবহার করা পোশাক ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মার্কিন বাণিজ্য সুবিধার আওতায় শুল্ক ছাড় বা কর সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে এসব সুবিধার হার ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট মার্কিন নীতি, আইন এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্ক হ্রাস কিংবা কাঁচামালের মূল্যের ১৮ শতাংশ হস্তান্তরযোগ্য করছাড়কে এখনই নিশ্চিত সুবিধা হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। নিউইয়র্ক সিটিতে ‘আমেরিবাংলা কটন ল্যাব’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০ জন উদীয়মান ফ্যাশন ডিজাইনারকে নির্বাচন করে সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা, সুতা ও কাপড় ব্যবহার করে বাংলাদেশে তাদের পোশাকের নিজস্ব সংগ্রহ তৈরি করতে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন সক্ষমতাকে একই সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। রহমানের আরও বড় লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে বর্তমান প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগে ভূমিকা রাখা। কটনপোর্ট, তুলার গুদাম, সনদ ব্যবস্থা এবং নিউইয়র্কের ডিজাইন উদ্যোগকে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে আমেরিবাংলা। স্থায়ী গুদাম তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউএস এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চাওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ ধরনের সহযোগিতা এখনো পরিকল্পনা ও যোগাযোগের পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। সেই বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক থেকে বাংলাদেশের কারখানা পর্যন্ত সরাসরি বাণিজ্যিক পথ তৈরি করার চেষ্টা আসওয়ার রহমানের উদ্যোগকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আগামী ১৮ নভেম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ারার গুদাম চালু হলে উদ্যোগটির বাস্তব কার্যকারিতা, তুলার দাম কতটা কমে এবং স্থানীয় মিলগুলো কত দ্রুত পণ্য হাতে পায়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের।চাইলে এটিকে আরও বেশি নিউজরুমধর্মী, আরও সহজ বাংলা বা আরও প্রোফাইলধর্মী করে দিতে পারি। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
দুই মাসের আন্দোলনেও রক্ষা হলো না গাছ, অ্যারিজোনায় কেটে ফেলা হলো ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মীদের কত বেতন দিতে হবে, সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্নে ধাক্কা, সম্ভাবনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এগিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো বয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ সপ্তাহে ৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পৌঁছাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো এই অর্থ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন এই টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং কারা এটি পাওয়ার যোগ্য? এই ৯০ ডলারের অর্থ মূলত মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০ মিলিয়নের বেশি মেডিকেয়ার সদস্যকে এই এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মেডিকেয়ারে থাকা সব বয়স্ক মানুষ এই অর্থ পাবেন না। প্রায় ৪ কোটি পার্ট বি সদস্য এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য নন। মেডিকেয়ার পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, বহির্বিভাগের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, ল্যাব পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যয় কভার করে। এর মাসিক প্রিমিয়াম আয় ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালে পার্ট বি প্রিমিয়ামে বছরে ২০০ ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। আগামী বছরও প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ৯০ ডলারের এই পেমেন্ট অনেকের জন্য কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের পুরোটা এটি সামাল দিতে পারবে না। কারা পাবেন এই ৯০ ডলার? সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যরা এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তাদের প্রিমিয়ামের খরচ মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে না এবং আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও দিতে হবে না। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা সদস্যরাও এই অর্থ পাবেন না। সিএমএসের হিসাবে, মোট ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন আমেরিকান এই পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ পার্ট বি-তে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৪ কোটি মানুষ বিভিন্ন কারণে এর বাইরে থাকছেন। যারা মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে আছেন, যাদের প্রিমিয়াম মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়, যারা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন না—তারা এই ৯০ ডলারের পেমেন্টের আওতায় পড়বেন না। কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে টাকা? যোগ্য অধিকাংশ সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০ ডলার পাবেন। সিএমএস জানিয়েছে, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ৮ অক্টোবরের আশপাশে এই অর্থ জমা হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে কিছু সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে বা জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদের সরাসরি ব্যাংক জমার ব্যবস্থা নেই, তারা ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে কাগজের চেক পাবেন। এসব চেক অক্টোবরের পরের দিকে ডাকযোগে পাঠানো হবে। চেকের সঙ্গে পেমেন্টটির উদ্দেশ্য উল্লেখ করা থাকবে। এই অর্থ আসছে কোথা থেকে? ৯০ ডলারের পেমেন্টের অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। কংগ্রেস ২০০৮ সালে এই তহবিল তৈরি করে অরিজিনাল মেডিকেয়ারের কার্যক্রম ও সেবা উন্নত করার জন্য। তহবিলে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম এই তহবিল থেকে সরাসরি মেডিকেয়ার সদস্যদের প্রিমিয়াম কমাতে অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে অতীতে তহবিলটি একেবারে ব্যবহার করা হয়নি—এমন নয়। কেএফএফের স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ল্যারি লেভিট জানিয়েছেন, আগের প্রশাসনগুলো সরাসরি এই ধরনের পেমেন্ট না দিলেও কংগ্রেস বিভিন্ন সময় অন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বাজেট সংক্রান্ত কাজে তহবিল থেকে অর্থ সরিয়েছে। ২০১০ সালে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের অর্থায়নেও প্রায় ২০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ৯০ ডলারের পেমেন্ট এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট পেমেন্টের কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে মেডিকেয়ার সদস্যরা ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে ফোন করে ৯০ ডলারের পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন। আর পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে। অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ৯০ ডলার জমা পড়লে সেটি কোনো ভুল বা অতিরিক্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নয়। যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যদের জন্য এটি অক্টোবর মাসের প্রিমিয়াম খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া এককালীন পেমেন্ট। তবে মেডিকেয়ারের ধরন, আয় এবং প্রিমিয়াম সহায়তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে সবাই এই অর্থ পাবেন না।
লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ও সবচেয়ে খারাপ শহর কোনগুলো, দেখুন তালিকায়